ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ, বদলে যাবে সমীকরণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৭:৫৯:০৭
ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ, বদলে যাবে সমীকরণ
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, আর জোট হিসেবে তাদের প্রাপ্ত ভোট ৫১ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ২২৭ আসনে প্রার্থী দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের মোট ভোট ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াত জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অর্জন করেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট। বাকি অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ দলের ভোট ১ শতাংশের নিচে সীমাবদ্ধ থাকে।

গত তিন সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ১৯৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ০ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এ ফলাফল দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোটার জুলাই সনদের পক্ষে মত দিয়েছেন। এর ফলে ভোটের অনুপাতে ১০০ আসনের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, অন্তত ১ শতাংশ ভোট পাওয়া দলগুলো উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব পাবে। সেই হিসাবে সম্ভাব্য বণ্টনে বিএনপি পেতে পারে ৫৬টি, জামায়াত ৩৬টি, এনসিপি ৩টি, ইসলামী আন্দোলন ৩টি এবং খেলাফত মজলিস ২টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট এই গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।

তবে বিএনপি জানিয়েছে, তারা নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় এবং ভোটের অনুপাতের পরিবর্তে সংসদে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে মত দিয়ে বলেছেন, গণভোটে জনগণ সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিয়েছে, ফলে বিকল্প ব্যাখ্যার সুযোগ নেই।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, গণভোটের রায়ে অন্তত ৩৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় তৈরি হয়েছে। তবে যেসব প্রস্তাবে বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা নেই।

-রাফসান


বিদায় নিলেন উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৭:৫৭:১২
বিদায় নিলেন উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন
ছবি : সংগৃহীত

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি বিদায় নেন।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদ আল সিয়ামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে বিদায় জানান।

বিদায়ের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে তৌহিদ হোসেন বলেন, তিনি পুরোনো জীবনে ফিরে যাবেন এবং লেখালেখিতে সময় দেবেন। তিনি বলেন, “আমি পুরোনো জীবনে ফিরে যাব। কিছু লেখালেখি করব। সেই সুবাদে আবারও আপনাদের সঙ্গে কথাবার্তা হতে পারে। ভালোমন্দ মিলিয়ে দেড় বছর কেটে গেল।”

এরপর মন্ত্রণালয়ের বাইরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

দেড় বছরের দায়িত্ব পালন শেষে তার এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।


প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বিএনপির পছন্দে নির্ধারণ হবে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৪:৩১:৩৮
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বিএনপির পছন্দে নির্ধারণ হবে
ছবি: সংগৃহীত

নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে সম্ভাব্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আবাসন প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদিলুর রহমান খান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৩৭টি সরকারি বাসা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজধানীর মিন্টু রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি ও গুলশান এলাকায় এসব বাসা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও কয়েকটি বাসা প্রস্তুতের কাজও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। শপথ অনুষ্ঠানের সময়ের মধ্যেই সব আবাসন প্রস্তুত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপি যেভাবে চাইবে, সেভাবেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ আবাসন নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় পছন্দ ও প্রটোকল বিবেচনায় রাখা হবে।

উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের মূল্যায়নও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১৮ মাস জনগণের স্বার্থে কাজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের শাসনব্যবস্থার পর দেশকে একটি নতুন প্রশাসনিক গতিতে আনাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকার প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

দুর্নীতি ইস্যুতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওই সংস্থার মূল্যায়ন সম্পর্কে তাদের কাছেই জানতে হবে। তাঁর মতে, জনগণের আলোচনায় যে চিত্র উঠে আসে, তা সবসময় টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে পুরোপুরি মিল নাও খেতে পারে। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি জানান, বিভিন্ন খাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি দৃশ্যমান হলেও কিছু সংস্কার এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেসব কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

-রফিক


নতুন মন্ত্রীদের জন্য ৩৭টি সরকারি বাসা ও ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৪:২৩:৫৪
নতুন মন্ত্রীদের জন্য ৩৭টি সরকারি বাসা ও ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত 
ছবি: সংগৃহীত

নতুন মন্ত্রিসভার শপথকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন বলে জানিয়েছেন আদিলুর রহমান, যিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সম্ভাব্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের আবাসনের জন্য ৩৭টি সরকারি বাসা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি যানবাহন অধিদফতরকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাড়ি প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। গতকাল রাজধানীর আবদুল গণি রোডে অবস্থিত সরকারি যানবাহন অধিদফতরের মিলনায়তনে দেখা যায়, মোট ৫০টি গাড়ি পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা যে গাড়িগুলো ব্যবহার করছিলেন, সেগুলোর একটি অংশ ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্র জানায়, বর্তমান উপদেষ্টাদের মধ্যে ১০ থেকে ১২ জন তাঁদের ব্যবহৃত গাড়ি জমা দিয়েছেন। সম্ভাব্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সংখ্যার চেয়েও বেশি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে শপথ-পরবর্তী দায়িত্ব গ্রহণে কোনো বিলম্ব না হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে যতসংখ্যক গাড়ির চাহিদা জানানো হয়েছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

যদিও আবাসন ও যানবাহন প্রস্তুত, তবে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় ১২ ফেব্রুয়ারি এবং দুই যুগ পর দলটি সরকার গঠনের সুযোগ পাচ্ছে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে। দলীয় ঘোষণায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

-রফিক


বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে জাপানের অভিনন্দন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১১:২০:৫৮
বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে জাপানের অভিনন্দন
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে Government of Japan। একই সঙ্গে নির্বাচনে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে দেশটি।

ঢাকায় অবস্থিত জাপান দূতাবাসের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে জাপান। বিশেষভাবে বিএনপি ও এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাচনে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও মসৃণভাবে সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে জাপান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার আগ্রহের কথাও জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ খাতে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে জাপান তার সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখবে। অর্থনীতি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো ক্ষেত্রগুলোতে যৌথ কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

জাপান আশা প্রকাশ করেছে, নির্বাচনের পর বাংলাদেশে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

/আশিক


অন্তর্বর্তী অধ্যায়ের শেষ: ইউনূস সরকারকে কীভাবে মনে রাখবে বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ০৯:৫৮:৪৩
অন্তর্বর্তী অধ্যায়ের শেষ: ইউনূস সরকারকে কীভাবে মনে রাখবে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

আগামী মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়েই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ঘিরে জনমনে যেমন স্বস্তি আছে, তেমনি অনেকে এই সরকারের বিদায়কেও স্বাগত জানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার একটি অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। শুরুতে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমর্থন নিয়ে দায়িত্ব নেয় এই সরকার। বহু মানুষ আশা করেছিলেন, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দুর্নীতি কমবে, প্রতিহিংসার রাজনীতি থামবে, অর্থনীতিতে গতি আসবে—এমন প্রত্যাশাই ছিল সাধারণ মানুষের।

কিন্তু গত ১৮ মাসে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে সমালোচকরা মনে করেন। তাঁদের দাবি, সরকার জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি; বরং রাজনৈতিক বিভাজন বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ড. ইউনূস নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অর্থপাচার ও শ্রম আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন মামলা দ্রুত প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি হওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার বাস্তবতায় এসব সিদ্ধান্ত জনমনে প্রশ্ন তোলে।

এই সময়ে গ্রামীণ ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ বকেয়া কর মওকুফ এবং ভবিষ্যৎ আয় করমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকে সরকারের অংশীদারি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো হয়। অনুমোদন পায় ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’। গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের মাধ্যমে শ্রমবাজারে কার্যক্রম বাড়ানো হয় এবং গ্রামীণ টেলিকম ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি পায়। ৭০০ কোটি টাকার সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল গ্রামীণ ট্রাস্টে হস্তান্তর নিয়েও বিতর্ক হয়। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার বা প্রতিযোগিতা ছাড়াই এই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে।

সরকারের একাধিক উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হয়নি বলে সমালোচনা আছে। উপদেষ্টাদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারের শেষ সময়ে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনাসহ কয়েকটি চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদেশি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্ত করে চুক্তি করা হয়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দেশ ত্যাগ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। গত ১৮ মাসে মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, নারী নির্যাতন ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা ও মানবাধিকার সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। একই সময়ে অজ্ঞাতনামা লাশের সংখ্যা বৃদ্ধি, হেফাজতে মৃত্যু এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাও আলোচনায় আসে।

সরকারের সময়জুড়ে বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মাজারে হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। নারীদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনাও আলোচনায় ছিল। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এক অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস নিজেই নারীদের ওপর হামলাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে সমালোচকদের মতে, কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি।

ঢালাও হত্যা মামলা ও বিভিন্ন পেশাজীবীকে আসামি করার অভিযোগও ছিল আলোচনায়। অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও ব্যাংক হিসাব জব্দের ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে। বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

অর্থনীতিতেও চাপ বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়ায়। টানা আট মাস মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে ছিল। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২১ শতাংশ ছাড়িয়েছে। পিপিআরসি বলছে, দারিদ্র্য ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে ২০২৫ নাগাদ খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে মোট ঋণের ৩৩ শতাংশের বেশি হয়েছে।

সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, উচ্চ সুদের হার ও বিনিয়োগে অনাগ্রহ বেসরকারি খাতকে চাপে ফেলে। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির অভিযোগে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা, শিক্ষক নিগ্রহ ও ক্লাস বন্ধ থাকার ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে—ভিসা জটিলতা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকেরা।

ক্রীড়াক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উগ্রবাদীদের হুমকিতে অনুষ্ঠান বাতিল ও শিল্পী হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে।

গণমাধ্যমের ওপর হামলা, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

দায়িত্ব নেওয়ার সময় ড. ইউনূস বলেছিলেন, বাংলাদেশ হবে একটি পরিবার এবং সমালোচনার সুযোগ থাকবে। তবে সমালোচকদের মতে, বাস্তবে সেই পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জুলাই আন্দোলনের পর সৃষ্ট সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি বলেও অনেকে মনে করেন। নতুন সরকারের সামনে তাই প্রত্যাশা—রাজনৈতিক স্থিতি, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা।

/আশিক


সিন্ডিকেট বনাম নতুন সরকার: জনমনে স্বস্তি ফেরানোই পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ০৯:৪০:৫০
সিন্ডিকেট বনাম নতুন সরকার: জনমনে স্বস্তি ফেরানোই পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে বিশাল এই জয়ের আনন্দের মধ্যেই দলটির নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিভিন্ন বক্তব্যেও এই অর্থনীতি সচল করার বিষয়টি বারবার উঠে আসছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হলো বিগত সরকারের আমলে গড়ে ওঠা শক্তিশালী ব্যবসায়িক ও প্রশাসনিক সিন্ডিকেট।

ব্যবসায়ীদের মতে, বিগত ১৬ বছরে মুষ্টিমেয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট কেটেছে। শুধু পণ্যের বাজারই নয়, ব্যাংক খাত থেকেও বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিও নির্ধারিত হতো বিশেষ কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ইশারায়। এই সিন্ডিকেট ভাঙার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, হুট করে কোনো বড় গ্রুপের আমদানি বন্ধ করলে বাজার ধসে পড়তে পারে। তাই আমদানিকারকের সংখ্যা বাড়িয়ে সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন নতুন কোনো সিন্ডিকেট তৈরি না হয়।

ব্যাংক খাতের চিত্র আরও ভয়াবহ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে মোট ঋণের ৩৫ শতাংশের বেশি বা প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা এখন খেলাপি। অথচ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। বর্তমান এই খেলাপি ঋণের পাহাড় নতুন সরকারের জন্য এক বিশাল আর্থিক বোঝা। এর পাশাপাশি জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২৬ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে যাত্রা শুরু করতে হচ্ছে তারেক রহমানের সরকারকে।

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও নতুন সরকারকে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ক্যাডার বৈষম্য নিয়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতার ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। ব্যবসায়িক সংগঠন ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান মনে করেন, অর্থনীতির এই দুঃসময় কাটাতে দক্ষ লোকের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়াটা অপরিহার্য। অর্থমন্ত্রী বা বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে এমন কাউকে বেছে নিতে হবে, যাঁর সক্ষমতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না। সব মিলিয়ে নির্বাচনের জয় উদযাপন শেষে এবার বিএনপির সামনে শুরু হচ্ছে এক কঠিন লড়াই—অর্থনীতির প্রতিটি ঘুণপোকা দূর করে দেশকে উন্নয়নের ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনা।

/আশিক


তারেক রহমানের শপথে ওম বিড়লা: বন্ধুত্বের নতুন বার্তা দিচ্ছে ভারত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৮:৫৯:৫৮
তারেক রহমানের শপথে ওম বিড়লা: বন্ধুত্বের নতুন বার্তা দিচ্ছে ভারত
ওম বিড়লা, লোকসভার স্পিকার, ভারত

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিতব্য নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেবেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই শপথ অনুষ্ঠানে ওম বিড়লার অংশগ্রহণ ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় ও স্থায়ী বন্ধুত্বের এক অনন্য প্রতিফলন।

ভারত সরকার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন নির্বাচিত সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে। ভারতের মতে, তারেক রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ জনগণের বিপুল সমর্থন লাভ করেছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সরকার ফেরাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে দিল্লি। ওম বিড়লার এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দুই দেশের নতুন বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের এক শক্তিশালী সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ১৭ ফেব্রুয়ারির এই হাইভোল্টেজ শপথ অনুষ্ঠানে ওম বিড়লার উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক বিশেষ বার্তা প্রদান করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: বাসস


নির্বাচনের মাধ্যমে আত্মমর্যাদা ফিরল পুলিশের: প্রেস সচিব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৭:৪৯:১৫
নির্বাচনের মাধ্যমে আত্মমর্যাদা ফিরল পুলিশের: প্রেস সচিব
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনের মাধ্যমে পুলিশ তার হারানো আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে পুলিশ অত্যন্ত ইতিবাচক এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন-পরবর্তী কোনো সহিংসতা বা বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার কোনো ঘটনা এবার ঘটেনি, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল উদাহরণ।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’র ব্যবহার হয়েছে এবং প্রধান উপদেষ্টা নিজে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বসে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি সরাসরি ১৭টি ভোটকেন্দ্রে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। সাংবাদিক বন্ধুদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, এবারের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি যেন তাঁরা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।

এদিকে, হাতিয়ায় সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে শফিকুল আলম জানান, সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়েও ব্রিফিংয়ে তথ্য দেওয়া হয়। তিনি জানান, শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত সকল দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নতুন সরকারের এই শুরুটা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

/শআ


রাষ্ট্রপতি নাকি সিইসি? শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটালেন আইন উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৭:৪২:১৭
রাষ্ট্রপতি নাকি সিইসি? শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটালেন আইন উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই শপথ পরিচালনা করতে পারেন বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেছেন।

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। এবারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যে বড় পরিবর্তন আসছে। সাধারণত বঙ্গভবনে এই অনুষ্ঠান হলেও এবার তা অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় (সাউথ প্লাজা) বিকেল ৪টায়। বিএনপির পক্ষ থেকে এই বিশেষ অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন বলে এখন পর্যন্ত জানা গেছে।

মন্ত্রিসভার শপথের জন্য দক্ষিণ প্লাজাকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং ‘জুলাই সনদ’-এর মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সাক্ষী এই সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ। এ ছাড়া প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের বিষয়ে তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে কোনো বিদেশি প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রিত কি না, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই বলে উল্লেখ করেছেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: