বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে জাপানের অভিনন্দন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে Government of Japan। একই সঙ্গে নির্বাচনে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে দেশটি।
ঢাকায় অবস্থিত জাপান দূতাবাসের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে জাপান। বিশেষভাবে বিএনপি ও এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাচনে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও মসৃণভাবে সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে জাপান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার আগ্রহের কথাও জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ খাতে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে জাপান তার সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখবে। অর্থনীতি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো ক্ষেত্রগুলোতে যৌথ কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
জাপান আশা প্রকাশ করেছে, নির্বাচনের পর বাংলাদেশে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।
/আশিক
অন্তর্বর্তী অধ্যায়ের শেষ: ইউনূস সরকারকে কীভাবে মনে রাখবে বাংলাদেশ
আগামী মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়েই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ঘিরে জনমনে যেমন স্বস্তি আছে, তেমনি অনেকে এই সরকারের বিদায়কেও স্বাগত জানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার একটি অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। শুরুতে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমর্থন নিয়ে দায়িত্ব নেয় এই সরকার। বহু মানুষ আশা করেছিলেন, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দুর্নীতি কমবে, প্রতিহিংসার রাজনীতি থামবে, অর্থনীতিতে গতি আসবে—এমন প্রত্যাশাই ছিল সাধারণ মানুষের।
কিন্তু গত ১৮ মাসে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে সমালোচকরা মনে করেন। তাঁদের দাবি, সরকার জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি; বরং রাজনৈতিক বিভাজন বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ড. ইউনূস নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অর্থপাচার ও শ্রম আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন মামলা দ্রুত প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি হওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার বাস্তবতায় এসব সিদ্ধান্ত জনমনে প্রশ্ন তোলে।
এই সময়ে গ্রামীণ ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ বকেয়া কর মওকুফ এবং ভবিষ্যৎ আয় করমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকে সরকারের অংশীদারি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো হয়। অনুমোদন পায় ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’। গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের মাধ্যমে শ্রমবাজারে কার্যক্রম বাড়ানো হয় এবং গ্রামীণ টেলিকম ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি পায়। ৭০০ কোটি টাকার সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল গ্রামীণ ট্রাস্টে হস্তান্তর নিয়েও বিতর্ক হয়। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার বা প্রতিযোগিতা ছাড়াই এই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে।
সরকারের একাধিক উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হয়নি বলে সমালোচনা আছে। উপদেষ্টাদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারের শেষ সময়ে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনাসহ কয়েকটি চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদেশি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্ত করে চুক্তি করা হয়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দেশ ত্যাগ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। গত ১৮ মাসে মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, নারী নির্যাতন ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা ও মানবাধিকার সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। একই সময়ে অজ্ঞাতনামা লাশের সংখ্যা বৃদ্ধি, হেফাজতে মৃত্যু এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাও আলোচনায় আসে।
সরকারের সময়জুড়ে বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মাজারে হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। নারীদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনাও আলোচনায় ছিল। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এক অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস নিজেই নারীদের ওপর হামলাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে সমালোচকদের মতে, কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি।
ঢালাও হত্যা মামলা ও বিভিন্ন পেশাজীবীকে আসামি করার অভিযোগও ছিল আলোচনায়। অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও ব্যাংক হিসাব জব্দের ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে। বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
অর্থনীতিতেও চাপ বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়ায়। টানা আট মাস মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে ছিল। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২১ শতাংশ ছাড়িয়েছে। পিপিআরসি বলছে, দারিদ্র্য ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে ২০২৫ নাগাদ খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে মোট ঋণের ৩৩ শতাংশের বেশি হয়েছে।
সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, উচ্চ সুদের হার ও বিনিয়োগে অনাগ্রহ বেসরকারি খাতকে চাপে ফেলে। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির অভিযোগে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা, শিক্ষক নিগ্রহ ও ক্লাস বন্ধ থাকার ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে—ভিসা জটিলতা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকেরা।
ক্রীড়াক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উগ্রবাদীদের হুমকিতে অনুষ্ঠান বাতিল ও শিল্পী হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে।
গণমাধ্যমের ওপর হামলা, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
দায়িত্ব নেওয়ার সময় ড. ইউনূস বলেছিলেন, বাংলাদেশ হবে একটি পরিবার এবং সমালোচনার সুযোগ থাকবে। তবে সমালোচকদের মতে, বাস্তবে সেই পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জুলাই আন্দোলনের পর সৃষ্ট সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি বলেও অনেকে মনে করেন। নতুন সরকারের সামনে তাই প্রত্যাশা—রাজনৈতিক স্থিতি, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা।
/আশিক
সিন্ডিকেট বনাম নতুন সরকার: জনমনে স্বস্তি ফেরানোই পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে বিশাল এই জয়ের আনন্দের মধ্যেই দলটির নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিভিন্ন বক্তব্যেও এই অর্থনীতি সচল করার বিষয়টি বারবার উঠে আসছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হলো বিগত সরকারের আমলে গড়ে ওঠা শক্তিশালী ব্যবসায়িক ও প্রশাসনিক সিন্ডিকেট।
ব্যবসায়ীদের মতে, বিগত ১৬ বছরে মুষ্টিমেয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট কেটেছে। শুধু পণ্যের বাজারই নয়, ব্যাংক খাত থেকেও বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিও নির্ধারিত হতো বিশেষ কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ইশারায়। এই সিন্ডিকেট ভাঙার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, হুট করে কোনো বড় গ্রুপের আমদানি বন্ধ করলে বাজার ধসে পড়তে পারে। তাই আমদানিকারকের সংখ্যা বাড়িয়ে সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন নতুন কোনো সিন্ডিকেট তৈরি না হয়।
ব্যাংক খাতের চিত্র আরও ভয়াবহ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে মোট ঋণের ৩৫ শতাংশের বেশি বা প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা এখন খেলাপি। অথচ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। বর্তমান এই খেলাপি ঋণের পাহাড় নতুন সরকারের জন্য এক বিশাল আর্থিক বোঝা। এর পাশাপাশি জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২৬ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে যাত্রা শুরু করতে হচ্ছে তারেক রহমানের সরকারকে।
রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও নতুন সরকারকে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ক্যাডার বৈষম্য নিয়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতার ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। ব্যবসায়িক সংগঠন ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান মনে করেন, অর্থনীতির এই দুঃসময় কাটাতে দক্ষ লোকের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়াটা অপরিহার্য। অর্থমন্ত্রী বা বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে এমন কাউকে বেছে নিতে হবে, যাঁর সক্ষমতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না। সব মিলিয়ে নির্বাচনের জয় উদযাপন শেষে এবার বিএনপির সামনে শুরু হচ্ছে এক কঠিন লড়াই—অর্থনীতির প্রতিটি ঘুণপোকা দূর করে দেশকে উন্নয়নের ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনা।
/আশিক
তারেক রহমানের শপথে ওম বিড়লা: বন্ধুত্বের নতুন বার্তা দিচ্ছে ভারত
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিতব্য নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেবেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই শপথ অনুষ্ঠানে ওম বিড়লার অংশগ্রহণ ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় ও স্থায়ী বন্ধুত্বের এক অনন্য প্রতিফলন।
ভারত সরকার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন নির্বাচিত সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে। ভারতের মতে, তারেক রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ জনগণের বিপুল সমর্থন লাভ করেছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সরকার ফেরাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে দিল্লি। ওম বিড়লার এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দুই দেশের নতুন বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের এক শক্তিশালী সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ১৭ ফেব্রুয়ারির এই হাইভোল্টেজ শপথ অনুষ্ঠানে ওম বিড়লার উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক বিশেষ বার্তা প্রদান করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: বাসস
নির্বাচনের মাধ্যমে আত্মমর্যাদা ফিরল পুলিশের: প্রেস সচিব
নির্বাচনের মাধ্যমে পুলিশ তার হারানো আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে পুলিশ অত্যন্ত ইতিবাচক এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন-পরবর্তী কোনো সহিংসতা বা বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার কোনো ঘটনা এবার ঘটেনি, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল উদাহরণ।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’র ব্যবহার হয়েছে এবং প্রধান উপদেষ্টা নিজে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বসে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি সরাসরি ১৭টি ভোটকেন্দ্রে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। সাংবাদিক বন্ধুদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, এবারের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি যেন তাঁরা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।
এদিকে, হাতিয়ায় সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে শফিকুল আলম জানান, সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়েও ব্রিফিংয়ে তথ্য দেওয়া হয়। তিনি জানান, শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত সকল দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নতুন সরকারের এই শুরুটা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
/শআ
রাষ্ট্রপতি নাকি সিইসি? শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটালেন আইন উপদেষ্টা
আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই শপথ পরিচালনা করতে পারেন বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেছেন।
আইন উপদেষ্টা আরও জানান, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। এবারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যে বড় পরিবর্তন আসছে। সাধারণত বঙ্গভবনে এই অনুষ্ঠান হলেও এবার তা অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় (সাউথ প্লাজা) বিকেল ৪টায়। বিএনপির পক্ষ থেকে এই বিশেষ অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন বলে এখন পর্যন্ত জানা গেছে।
মন্ত্রিসভার শপথের জন্য দক্ষিণ প্লাজাকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং ‘জুলাই সনদ’-এর মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সাক্ষী এই সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ। এ ছাড়া প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের বিষয়ে তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে কোনো বিদেশি প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রিত কি না, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই বলে উল্লেখ করেছেন।
/আশিক
আদালতের গ্রিন সিগনাল পেলেই ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: ইসি আনোয়ারুল
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশে কোনো ধরনের তড়িঘড়ি করেনি এবং আইনের মধ্য থেকেই সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়েই ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ফলাফল ঘোষণার পর ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে পুনর্বিবেচনার যে দাবি তোলা হয়েছে, সেটিকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসি আনোয়ারুল ইসলাম। তবে তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, কোনো অভিযোগকারীর আইনের দ্বারস্থ হতে কোনো বাধা নেই। যদি আদালত থেকে ভোট পুনর্গণনার কোনো নির্দেশনা আসে, তবে কমিশন সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি আরও যোগ করেন, এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন পুরোপুরি সফল হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
বক্তব্যের শেষ দিকে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এই নির্দিষ্ট আসনের ব্যাপারে কমিশন এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। পুরো বিষয়টি পর্যালোচনাধীন রয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী এমন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতাগুলো কমিশন কীভাবে সামলায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
/এনএ
রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
রমজান মাসে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক স্কুল খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের পূর্ব সিদ্ধান্ত স্থগিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে আগামী ৮ মার্চের পরিবর্তে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশের সকল মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে। মূলত রমজানের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ ছুটি নিশ্চিত করতেই এই কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ধারাবাহিক ধর্মীয় ছুটির কারণে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আগামীকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) খুলছে স্কুল, কলেজ, মাদরাসাসহ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নির্বাচন উপলক্ষে গত ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এরপর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি পড়ে। আজ রবিবার শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে স্কুল-কলেজের ছুটির তালিকা অনুযায়ী শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ফলে আজ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ক্লাস হয়নি। এর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই মাঘী পূর্ণিমা এবং ৪ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাতেও ছুটি ছিল।
বার্ষিক ছুটির তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৬৪ দিন ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৮ মার্চ থেকে পবিত্র রমজান শুরু হয়ে ঈদুল ফিতর, জুমাতুল বিদা এবং স্বাধীনতা দিবসসহ কয়েকটি ছুটি মিলিয়ে টানা ১৯ দিন স্কুল বন্ধ থাকার কথা ছিল। তবে হাইকোর্টের নতুন নির্দেশে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে এই ছুটি শুরু হচ্ছে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই। দীর্ঘ এই বিরতির পর আগামী ২৯ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবার নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।
শিক্ষাবর্ষের বাকি সময়ের ছুটির বিষয়ে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি মিলিয়ে এবার টানা ১২ দিনের বিরতি থাকবে। এই ছুটি চলবে ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত, যার মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপূজা, প্রবারণা পূর্ণিমা এবং ফাতেহা-ই-ইয়াজদহমে এক দিন করে ছুটি থাকবে। যথারীতি প্রতিষ্ঠানপ্রধানের হাতে সংরক্ষিত দুই দিনের ছুটি রাখা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন জাতীয়, আন্তর্জাতিক দিবস এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান উপলক্ষে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
/আশিক
নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ: ঢাকাকে বড় স্বীকৃতি দিল রাশিয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সামগ্রিক পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর ছিল বলে জানিয়েছে রাশিয়ান ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি)। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রুশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই পর্যবেক্ষণের কথা জানানো হয়। ১১-১২ ফেব্রুয়ারি কমিশনার পাভেল আন্দ্রেয়েভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে এই ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন।
রাশিয়ার পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিরা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের আটটি কেন্দ্রের ৪০টিরও বেশি ভোটকক্ষ পরিদর্শন করেন। ভোটগ্রহণ শুরুর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ব্যালট গণনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর এটি ছিল সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি নির্বাচন, যা ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে অনেক ভোটারকে সন্তানদের নিয়ে কেন্দ্রে আসতে দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছেন।
পর্যবেক্ষক দল আরও জানায়, বাংলাদেশের নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি ছিল অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা জাতীয় আইন মেনেই দায়িত্ব পালন করেছেন। ৯ লাখের বেশি পুলিশ ও সেনা সদস্যের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল নিশ্ছিদ্র, যা ভোটারদের মধ্যে ভরসা জুগিয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও তা সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেনি বলে তারা মন্তব্য করেন। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সাথে বৈঠকে পাভেল আন্দ্রেয়েভ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের রাশিয়ার স্টেট ডুমা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
/আশিক
এমপিদের বেতন-ভাতা কত জানেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এর মধ্য দিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে শপথ ও সংসদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের বেতন, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’ অনুযায়ী। এই আইন সময়ের সঙ্গে একাধিকবার সংশোধিত হয়েছে; সর্বশেষ বড় সংশোধন আনা হয় ২০১৬ সালে।
মাসিক বেতন ও ভাতা কাঠামো
বর্তমান বিধান অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্যের মূল মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা। নির্বাচনী এলাকা পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ১২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হয়। আপ্যায়ন বাবদ মাসে ৫ হাজার টাকা এবং পরিবহন খাতে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকে। এই পরিবহন ভাতার আওতায় জ্বালানি ব্যয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া অফিস পরিচালনা খরচ হিসেবে ১৫ হাজার টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ খরচের জন্য ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অর্থাৎ মূল বেতনের বাইরে দায়িত্ব পালনের বাস্তব খরচ মেটাতে পৃথক ভাতা নির্ধারিত রয়েছে।
যানবাহন ও ভ্রমণ সুবিধা
সংসদ সদস্যরা শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য করমুক্তভাবে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানির সুযোগ পান। পাঁচ বছরের দায়িত্বকাল পূর্ণ হলে একই সুবিধায় পুনরায় একটি গাড়ি আমদানির অনুমতি রয়েছে।
ভ্রমণ সংক্রান্ত সুবিধার মধ্যে বিমান, রেল বা নৌপথে যাতায়াত করলে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা প্রাপ্য। সড়কপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত হারে ভাতা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভ্রমণ ভাতা অথবা বিকল্প হিসেবে ট্রাভেল পাসের সুযোগ রয়েছে।
দৈনিক ভাতা ও অধিবেশন সুবিধা
দায়িত্বস্থলে অবস্থানকালে প্রতিদিন ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রযোজ্য। সংসদ অধিবেশন বা সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকলে দৈনিক ভাতা ৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ২০০ টাকা নির্ধারিত।
চিকিৎসা ও বীমা সুবিধা
সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসাভাতাও বরাদ্দ রয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার সরকারি বীমা প্রযোজ্য।
অতিরিক্ত সুবিধা
সংসদ সদস্যদের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ প্রদান করা হয় এবং মাসিক টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ ৭ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত ভাতাগুলো আয়করমুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, মূল বেতনের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের কার্যকরতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের জন্য একাধিক আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত রয়েছে। নতুন সংসদ গঠনের প্রেক্ষাপটে এসব সুবিধা নিয়ে জনমনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে জাপানের অভিনন্দন
- বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়ল দেশের স্বর্ণবাজারে: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- জন্মহার কমায় রোবটনির্ভর উৎপাদনে ঝুঁকছে চীন
- অন্তর্বর্তী অধ্যায়ের শেষ: ইউনূস সরকারকে কীভাবে মনে রাখবে বাংলাদেশ
- নির্বাচনের ফলাফল গণমাধ্যমে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে: জামায়াত আমির
- সিন্ডিকেট বনাম নতুন সরকার: জনমনে স্বস্তি ফেরানোই পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ
- বুধবার না কি বৃহস্পতিবার থেকে রোজা? সৌদিতে চাঁদ দেখা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বার্তা
- টাকার মান কত? দেখে নিন ১৬ ফেব্রুয়ারির বৈদেশিক মুদ্রার সর্বশেষ রেট
- সোমবার কেনাকাটায় সতর্কতা জরুরি, বহু মার্কেট বন্ধ আজ
- আজ বিকেলেই শুরু হচ্ছে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ: বাংলাদেশ থেকে কি দেখা যাবে?
- আজকের নামাজের সময়সূচি জানুন এক নজরে
- ড. সাইমুম পারভেজ ও বিএনপির ন্যারেটিভ রূপান্তর: ডিজিটাল রাজনীতির নতুন অধ্যায়
- দেড় বছরের সাধনা ও অধ্যবসায়ের ফল নিয়ে হাজির শায়খ আহমাদুল্লাহ
- খুলনায় খুলল আওয়ামী লীগ অফিস: জানাজানি হতেই রণক্ষেত্র শঙ্খ মার্কেট
- ড. ইউনূস বাংলাদেশে জালেম দের পুনর্বাসন করছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- চোখে দেখেন না, কিন্তু অন্তরে পুরো কোরআন: ১২ বছরের কিশোরীর অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব
- সাকিব-মাশরাফি কি নির্দোষ? হত্যার মামলা নিয়ে ইশরাক হোসেনের চাঞ্চল্যকর বক্তব্য
- শফিকুর রহমানের পর এবার নাহিদের বাসায় বিএনপি প্রধান
- শপথের আগে নয়া মেরুকরণ: শফিকুর রহমানের বাসায় বিএনপি প্রধান
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য তিতাসের বিশেষ সতর্কতা
- কলম্বোয় ফিরল হ্যান্ডশেক বিতর্ক: যুদ্ধের আগে দুই অধিনায়কের ঠান্ডা লড়াই
- তারেক রহমানের শপথে ওম বিড়লা: বন্ধুত্বের নতুন বার্তা দিচ্ছে ভারত
- কৃষক-শ্রমিকদের অসম্মান মানেই আমার বাবাকে অপমান: জামায়াত আমির
- মঞ্জুর দুর্গে জামায়াতের হানা: যে ভুলে কপাল পুড়ল বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর
- শপথের আগেই বড় বাধা: মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ইসিতে নাসীরুদ্দীন
- নির্বাচনের মাধ্যমে আত্মমর্যাদা ফিরল পুলিশের: প্রেস সচিব
- রাষ্ট্রপতি নাকি সিইসি? শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটালেন আইন উপদেষ্টা
- বয়ান বদলের রাজনীতি: বিএনপির নতুন কমিউনিকেশন স্থাপত্য ও আগামীর শাসনচিন্তা
- আদালতের গ্রিন সিগনাল পেলেই ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: ইসি আনোয়ারুল
- রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
- ১৫ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- নির্বাচনের পর শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, বিনিয়োগকারীর ভিড়
- নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ: ঢাকাকে বড় স্বীকৃতি দিল রাশিয়া
- আজকের মুদ্রার হার: ডলারের বিপরীতে টাকার মান কত? জেনে নিন বিনিময় হার
- কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে ইমরান খানকে
- ২৭ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে গুচ্ছের ভর্তিযুদ্ধ: প্রবেশপত্র সংগ্রহ করবেন যেভাবে
- কালিগঞ্জে শতবর্ষী মাদ্রাসার জমি জোরপূর্বক বিক্রয়ের অভিযোগ, দখলের পায়তারা
- বদলা নাকি দাপট? হাইভোল্টেজ ম্যাচে ৫টি ব্যক্তিগত দ্বৈরথ কাঁপাবে ক্রিকেটবিশ্ব
- সরকার গঠনের আগেই ঐক্যের বড় বার্তা: আজ শরিকদের মুখোমুখি তারেক রহমান
- ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ
- রমজানে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার গোপন মন্ত্র: পাতে রাখুন এই ৪ ধরনের খাবার
- ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ লড়াই: কেমন হতে পারে দুই দলের চূড়ান্ত একাদশ?
- লোপেরামাইড নাকি ঘরোয়া উপায়? ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী কিছু সমাধান
- সরাসরি গ্লিসারিন ব্যবহারেই বিপদ! ত্বকের সুরক্ষায় জানুন সঠিক নিয়ম
- হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা: দক্ষিণ লেবাননে তুমুল উত্তেজনা
- ব্যক্তিগত মুহূর্ত বেচবেন না বিজয়-রাশমিকা: মোটা অঙ্কের অফার নাকচ
- এমপিদের বেতন-ভাতা কত জানেন
- ২৩৩ মেট্রিক টন ইফতার নিয়ে প্রস্তুত শায়খ আহমাদুল্লাহ: এবার যুক্ত হচ্ছে বিশেষ উপহার
- আবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম, কী কারণ?
- ২০০৮–এর পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন: গণতন্ত্রের গুণগত মানের এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- স্বর্ণের বাজারে নতুন অস্থিরতা: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন চড়া দাম
- নির্বাচনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে লন্ডনে উদ্বেগ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- ১০ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- কালিগঞ্জের ফতেপুরে দখলমুক্ত হল দুই দোকান, মালিক পরিবারের হাতে চাবি
- ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের শুভ সূচনা: প্রথম কেন্দ্রের ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে
- এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান
- ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের দাপুটে সূচনা: প্রথম কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে লিড
- রুপা স্থির, তবে কেন অস্থির শুধু সোনা
- শেষ হলো ভোটযুদ্ধ: প্রচার শেষে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ মেলাচ্ছেন প্রার্থীরা
- ৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার








