বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় দরপতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৯:১৫:৫৫
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় দরপতন
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমে গেছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের স্থানীয় ছুটির কারণে লেনদেনের হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১.১ শতাংশ কমে ৪,৯৮৬.৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি (সিপিআই) সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর শুক্রবার যে স্বর্ণের মূল্য উল্লম্ফিত হয়েছিল, তার একটি অংশ আজ বাজার থেকে ফিরেছে। তিনি আরও বলেন, লেনদেন কম থাকায় এবং নতুন কোনো শক্তিশালী ইতিবাচক প্রভাব না থাকায় বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলেছেন, যা স্বর্ণের দামের চাপ বৃদ্ধি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টস ডে এবং চীনে চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে বাজার বন্ধ থাকাও এই হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ডিসেম্বরের ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় কম। অর্থনীতিবিদরা জানুয়ারিতে ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধির আশা করেছিলেন।

শিকাগো ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অস্টান গুলসবি বলেন, সুদের হার ভবিষ্যতে কমতে পারে, তবে পরিসেবাখাতে মূল্যস্ফীতি এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী ১৮ মার্চের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। চলতি বছরে মোট ৭৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমানোর সম্ভাবনা থাকলেও প্রথম দফা কমানোর সম্ভাবনা জুলাই মাসে।

এছাড়া, ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দেশটির দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

/আশিক


মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের এক সিদ্ধান্তেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে বড় ধসের শঙ্কা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ২০:১৩:২৪
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের এক সিদ্ধান্তেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে বড় ধসের শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ধারণার চেয়েও বড় আকারে কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক প্রভাবশালী বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান তাদের সাম্প্রতিক এক বিশেষ অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ যদি সুদের হার আরও বাড়িয়ে দেয়, তবে সোনা বা এই জাতীয় অনুৎপাদনশীল ধাতুর বাজারে বড় ধরনের ধস বা চাপ তৈরি হতে পারে। মূলত সুদের হার বেশি থাকলে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা সোনার চেয়ে অন্যান্য লাভজনক ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বেশি পছন্দ করেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে স্বর্ণবাজারে।

বিশ্বের প্রধান প্রধান খাতগুলো থেকে সোনার চাহিদা আশানুরূপ না হওয়ায় দাম বৃদ্ধির আগের লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেকটাই সরে এসেছে জেপি মরগান। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৩০০ ডলার এবং চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ৪ হাজার ৫০০ ডলার হতে পারে। অথচ গত ৯ জুনের এক পূর্বাভাসে ব্যাংকটি জানিয়েছিল, বছরের শেষ নাগাদ সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। নতুন মূল্যায়নে সেই অবস্থান থেকে তারা বড় অঙ্কে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে।

অবশ্য এই নেতিবাচক পূর্বাভাসের মধ্যেই শুক্রবার (৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৪ দশমিক ২১ ডলারে লেনদেন হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে ধাতুটির দাম সামগ্রিকভাবে ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সাময়িক ওঠানামা এবং নিকট অতীতে দাম কমার বড় ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার নিয়ে এখনও আশাবাদী জেপি মরগান। ব্যাংকটি জানিয়েছে, ২০২৭ সাল নাগাদ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার প্রবণতা এবং বাজারে বাস্তব চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই স্বর্ণবাজার আবারও বেশ শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেরও নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে জেপি মরগান। তাদের মতে, আগামী দিনগুলোতে প্রতি আউন্স রুপার গড় দাম ৬০ থেকে ৬৫ ডলার হতে পারে। এছাড়া ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্ল্যাটিনামের দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৮০০ ডলার এবং ২০২৭ সালে তা ১ হাজার ৯check৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ২০২৬ সাল নাগাদ আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

/আশিক


আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১০:০৮:১৮
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ মূল্য পুনর্নির্ধারণের পর শনিবারও দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন দরেই স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের ঊর্ধ্বগতি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার (পিওর গোল্ড ও পিওর সিলভার) দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ মূল্য। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।

গত ৩ জুলাই প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণ ও রুপার মূল্যবৃদ্ধির কারণে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই সংশোধিত দর কার্যকর হয় এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য বহাল থাকবে।

শুধু স্বর্ণ নয়, একইসঙ্গে রুপার দামও বৃদ্ধি করেছে বাজুস। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৩ টাকা।

সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই সরকার নির্ধারিত ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও ডিজাইনের ধরন অনুযায়ী মজুরি পৃথকভাবে প্রযোজ্য হবে। এছাড়া অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ বা পুরোনো স্বর্ণ-রুপা বিক্রির ক্ষেত্রে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালাই বহাল থাকবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র একদিন আগেও স্বর্ণের দাম ছিল তুলনামূলক কম। গত ২ জুলাই বাজুস ভরিপ্রতি ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছিল। এরপর আবারও নতুন সমন্বয়ের মাধ্যমে একদিনের ব্যবধানে আরও ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাম বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। একই সময়ে রুপার দামও ভরিতে ১১৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম মোট ৮৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩ বার দাম বেড়েছে, ৪২ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থাৎ চলতি বছরে প্রায় সমানসংখ্যকবার দাম ওঠানামা করলেও সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, রুপার দামও এ বছর ৫৩ বার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৬ বার মূল্য হ্রাস করা হয়েছে। ফলে রুপার বাজারেও অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

গত বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৯৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল। একই সময়ে রুপার দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ বার, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার কমেছিল।

-রফিক


আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৩ ০৯:৫৪:০৮
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণায় প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, যা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, কাঁচামালের মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নিয়মিতভাবে স্বর্ণের দর সমন্বয় করা হচ্ছে, যাতে বাজারে মূল্য নির্ধারণে ভারসাম্য বজায় থাকে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। একইভাবে ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন মূল্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণের রিজার্ভ বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মতো নানা কারণে স্থানীয় বাজারেও দামের প্রভাব পড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেলেই তার প্রতিফলন দেশের স্বর্ণবাজারেও দেখা যায়।

তবে বাজুস স্পষ্ট করেছে, ঘোষিত মূল্য শুধুমাত্র স্বর্ণের মৌলিক দাম। অলঙ্কার কেনার ক্ষেত্রে এর সঙ্গে কারিগরি মজুরি, নকশা ব্যয় এবং প্রযোজ্য অন্যান্য চার্জ যুক্ত হতে পারে। তবে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

-রফিক


সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে বড় ধাক্কা? জেনে নিন সঞ্চয়পত্রের নতুন নিয়ম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০২ ২০:১২:২৮
সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে বড় ধাক্কা? জেনে নিন সঞ্চয়পত্রের নতুন নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আর্থিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আগামী ছয় মাসের জন্য জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের পর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সঞ্চয় অধিদপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ ও মোট বিনিয়োগের পরিমাণ বিবেচনা করে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে শুরু করে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ বা মুনাফা পেয়ে থাকেন। বৃহস্পতিবার সরকারের নেওয়া সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে আগের মতোই সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ সুদ পাবেন, যা বিনিয়োগের মেয়াদ ও স্কিম অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হবে।

এর আগে, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সঞ্চয় অধিদপ্তর সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, যা চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। সেই স্থগিত হওয়া প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুন মেয়াদে সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা বা এর কম বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। কিন্তু সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় মাত্র চার দিন পর, অর্থাৎ ৪ জানুয়ারি সেই প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করা হয়। ফলে জানুয়ারি-জুন মেয়াদেও আগের হারেই সুদ বহাল থাকে এবং এখন জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের জন্যও তা অপরিবর্তিত রাখা হলো। বর্তমানে সরকার প্রতি ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের সুদহার পুনর্নির্ধারণ করে আসছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের সুদের হার

পরিবার সঞ্চয়পত্র

এই স্কিমে সর্বোচ্চ মুনাফার হার আগের মতোই ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ বহাল থাকছে। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে সুদের হার হবে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। উল্লেখ্য, সঞ্চয় স্কিমগুলোর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্রই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।

বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র

পাঁচ বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে সুদের হার আগের মতোই ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ থাকছে। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র: এই স্কিমে সাড়ে সাত লাখ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ হলে তা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডাকঘর সঞ্চয়পত্র

তিন বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বহাল থাকছে।

নিয়ম অনুযায়ী, একক বা যৌথভাবে সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে এক ধরনের সর্বোচ্চ সুদহার পাওয়া যায়, তবে বিনিয়োগের পরিমাণ সাড়ে সাত লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেলে সুদের হার কিছুটা কমে আসে। সরকার প্রতি ছয় মাস পরপর নতুন সুদহার ঘোষণা করলেও নিয়ম হলো—সুদহার যখনই বদলাুক না কেন, গ্রাহক যখন যে স্কিমে বিনিয়োগ করবেন, সেটির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনার সময়কার পুরোনো সুদহারই বহাল থাকবে।

/আশিক


স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০২ ১০:৩১:৫৯
স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। টানা দুই দফা মূল্যহ্রাসের পর এবার স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, যা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের প্রবণতা, কাঁচা স্বর্ণের আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে স্বর্ণালঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও প্রস্তুতপ্রণালীর ওপর নির্ভর করে মজুরি পৃথকভাবে যুক্ত হবে। এছাড়া প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ডের মূল্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় বাজারে নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন হচ্ছে।

চলতি বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটি স্বর্ণের দামের ৮৫তম সমন্বয়। এর মধ্যে ৪২ দফা দাম বৃদ্ধি, ৪২ দফা দাম হ্রাস এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৬ সালে স্বর্ণবাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যহ্রাস প্রায় সমান হারে ঘটেছে, যা বাজারের উচ্চ অস্থিরতারই প্রতিফলন।

-রাফসান


১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন: আরও সস্তা হলো সোনা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০১ ২০:০১:৪০
১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন: আরও সস্তা হলো সোনা
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্যে বড় ধরনের পতনের ধারা কোনোভাবেই থামছে না। ২০১৩ সালের পর অর্থাৎ গত ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক (কোয়ার্টারলি) দরপতনের রেকর্ড গড়ার পর, নতুন বছরের দ্বিতীয়ার্থের প্রথম দিনেও মূল্যবান এই ধাতুর দাম আরও হ্রাস পেয়েছে। মূলত মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ মুনাফা (ইয়েল্ড), আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন জোরালো আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে সোনার ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

বুধবার (১ জুলাই) এশিয়ার বাজারে লেনদেন চলাকালীন স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৭৪ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগামী আগস্টে ডেলিভারির অপেক্ষায় থাকা মার্কিন গোল্ড ফিউচারস ১.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮৭ ডলারে লেনদেন হতে দেখা যায়। বিশ্ববাজারে শুধু সোনাই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও আজ তীব্র নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে; যার ফলে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

এর আগে মঙ্গলবার লেনদেনের একপর্যায়ে স্পট গোল্ডের দাম আকস্মিক নেমে এসেছিল প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৪৩ ডলারে, যা গত বছরের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন রেকর্ড। একই সঙ্গে সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে টানা চতুর্থ মাসের মতো দরপতনের শিকার হলো সোনা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুনে শেষ হওয়া বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সোনার দাম সামগ্রিকভাবে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ২০১৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর এটিই সোনার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক দরপতনের ঘটনা।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ কিছুটা কমতে শুরু করায় এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি ও ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদবৃদ্ধির আগ্রাসী নীতির কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। যেহেতু সোনা এমন একটি অচল সম্পদ যেখান থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না, তাই বাজারে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়েন বিনিয়োগকারীরা, যার ফলে সোনার চাহিদা ও দাম একযোগে কমে যায়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্বল্পমেয়াদে এমন তীব্র চাপ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগের (সেফ হ্যাভেন) অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে সোনার চিরন্তন গুরুত্ব এখনও বিশ্ববাজারে অটুট রয়েছে।

/আশিক


স্বর্ণের পর এবার কমল রুপার দাম, প্রকাশ নতুন তালিকা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১২:৪৯:৩৪
স্বর্ণের পর এবার কমল রুপার দাম, প্রকাশ নতুন তালিকা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের মূল্যবান ধাতুর বাজারে স্বস্তির খবর এসেছে রুপার ক্রেতাদের জন্য। স্বর্ণের দাম সমন্বয়ের পর এবার রুপার মূল্যও কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৯১ টাকা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দর সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপা বা পিওর সিলভারের দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, স্থানীয় কাঁচামালের মূল্য এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাজুসের সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৪৯১ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ২৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৭৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও প্রস্তুতপ্রণালীর ওপর ভিত্তি করে মজুরি পৃথকভাবে নির্ধারিত হতে পারে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক মূল্য ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় কাঁচামালের দামের পরিবর্তনের কারণে স্বর্ণ ও রুপার বাজারে নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব মূল্যবান ধাতুর বাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৫১ বার রুপার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ২৫ দফা দাম বৃদ্ধি এবং ২৬ দফা দাম হ্রাস করা হয়েছে। অর্থাৎ, এ বছর রুপার বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যহ্রাস প্রায় সমান হারে ঘটেছে।

-রাফসান


স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১০:০২:২৪
স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের ওঠানামা এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের এক ভরির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা, যা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং মঙ্গলবারও একই দামে বিক্রি হচ্ছে।

সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, স্থানীয় কাঁচামালের মূল্য এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২,২৫,২৯০ টাকা, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২,১৫,১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১,৮৪,৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১,৫০,৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নতুন দর কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। একই সঙ্গে স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ওঠানামা করছে মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে আগ্রহ বৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে। এসব বিষয় স্থানীয় বাজারেও সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের স্বর্ণের দামে মোট ৮৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ দফা দাম বেড়েছে, ৪১ দফা কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয়ের কারণে মূল্য পরিবর্তন করা হয়েছে। ঘন ঘন এই মূল্য সমন্বয় দেশের স্বর্ণবাজারে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব কতটা দ্রুত প্রতিফলিত হচ্ছে, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

-রাফসান


আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ০৯:৪৯:৩১
আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাব এবার দেশের স্বর্ণবাজারেও স্পষ্টভাবে পড়েছে। স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণ ও রুপার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। গত শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দরেই স্বর্ণ বিক্রি করা হবে।

বাজুসের প্রকাশিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকায়। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও বিশুদ্ধ রুপার দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান মূল্য ওঠানামাও এ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, ঘোষিত এই বিক্রয়মূল্যের মধ্যে সরকারি নির্ধারিত ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ, ওজন এবং প্রস্তুতপ্রণালীর ওপর নির্ভর করে মেকিং চার্জ বা মজুরি অতিরিক্ত যোগ হতে পারে। সে কারণে গহনা কেনার সময় চূড়ান্ত মূল্য ঘোষিত স্বর্ণমূল্যের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ জুন বাজুস স্বর্ণের দাম কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল, যা আগের দামের তুলনায় ২ হাজার ২১৬ টাকা কম ছিল। তবে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে আবারও মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারেও।

চলতি বছর দেশের স্বর্ণবাজারে দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৮২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ বার দাম বৃদ্ধি, ৪০ বার দাম হ্রাস এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। ঘন ঘন এই মূল্য পরিবর্তন প্রমাণ করছে যে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের স্বর্ণবাজারও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা বিনিয়োগ বা বিয়ের মৌসুমকে সামনে রেখে স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের নিয়মিত বাজুসের সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুসরণ করাই হবে সবচেয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: