ব্রণমুক্ত ত্বক পেতে ঘরোয়া ৪টি সহজ টিপস

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৯:৩৫:৫৬
ব্রণমুক্ত ত্বক পেতে ঘরোয়া ৪টি সহজ টিপস
ছবি : সংগৃহীত

তৈলাক্ত, সংবেদনশীল এবং ব্রণপ্রবণ ত্বকের সমস্যায় যারা দীর্ঘ সময় ধরে ভুগছেন, তাদের জন্য সারা বছরই গাল, চিবুক কিংবা কপালে ব্রণের উপদ্রব একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারের প্রচলিত বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করেও অনেক সময় আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। এই ধরনের ত্বকের সমস্যায় কৃত্রিম উপাদানের চেয়ে ভেষজ পদ্ধতির ওপর ভরসা রাখা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন এবং খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনলে ব্রণের এই জেদি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

প্রাকৃতিক উপায়ে ব্রণের প্রতিকারে হলুদ বাটা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। হলুদে বিদ্যমান অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের গভীর থেকে কাজ করে। এক টুকরো কাঁচা হলুদ বেটে তার সঙ্গে সামান্য মধু বা গোলাপ জল মিশিয়ে ব্রণের ওপর ব্যবহার করা যেতে পারে। ১৫ মিনিট রাখার পর ত্বক ধুয়ে ফেললে এটি ত্বকের প্রদাহ ও ফোলা ভাব কমিয়ে ব্রণের প্রকোপ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে। একইভাবে নিমপাতার ব্যবহারও প্রাচীনকাল থেকেই ত্বকের চিকিৎসায় জনপ্রিয়। নিমের শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ ত্বক থেকে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। এক মুঠো নিমপাতা ভালো করে বেটে ত্বকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে এটি কেবল ব্রণই সারায় না, বরং ত্বকের অন্যান্য সংক্রমণ রোধেও সহায়তা করে।

ব্রণ ও এর জেদি দাগ দূর করার আরেকটি সহজ এবং প্রাকৃতিক সমাধান হলো অ্যালোভেরা জেল। এই ভেষজ উপাদানে থাকা বিশেষ ‘হিলিং’ উপাদান ত্বকের যেকোনো ধরনের ক্ষত দ্রুত সারিয়ে তুলতে সক্ষম। অ্যালোভেরা জেল নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের আকার ছোট হয়ে আসে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় থাকে, যা ত্বককে সতেজ রাখে। পাশাপাশি ত্রিফলার ব্যবহারও ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। আমলকী, হরিতকি ও বহেরার এই সংমিশ্রণটি কেবল পেটের সমস্যার সমাধান দেয় না, বরং এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের সমস্যা কমাতেও সিদ্ধহস্ত। এক চা চামচ ত্রিফলা গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে মুখে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে আশাতীত ফল পাওয়া যায়।

তবে কেবল বাহ্যিক যত্নই ব্রণের সমস্যা দূর করার জন্য যথেষ্ট নয়, এর জন্য খাদ্যাভ্যাসেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা জরুরি। অতিরিক্ত মসলাদার, ভাজাপোড়া এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার রক্তে টক্সিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা সরাসরি ত্বকে ব্রণের রূপ নেয়। এর পরিবর্তে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল এবং দানাশস্য অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। বিশেষ করে শসা ও পুদিনার মতো ঠান্ডা প্রকৃতির খাবার ত্বকের সুস্থতায় সহায়ক। এছাড়া শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পানের কোনো বিকল্প নেই।

ত্বক পরিষ্কার রাখার বিষয়টিও ব্রণের চিকিৎসায় সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত দুইবার উপযুক্ত ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা উচিত। রাসায়নিক ক্লিনজারের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক উপাদানে আস্থা রাখা যেতে পারে। বেসন, হলুদ এবং দইয়ের মিশ্রণ একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে, যা ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করার পাশাপাশি ব্রণের বিস্তার রোধে সাহায্য করে। নিয়মিত এই ভেষজ পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে এবং জীবনযাত্রায় সচেতনতা আনলে দীর্ঘমেয়াদী ব্রণের সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

/আশিক


গরমে ঘামাচির জ্বালায় অতিষ্ঠ? জেনে নিন নিমিষেই মুক্তির ৯টি ঘরোয়া উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১১:৪৩:০৪
গরমে ঘামাচির জ্বালায় অতিষ্ঠ? জেনে নিন নিমিষেই মুক্তির ৯টি ঘরোয়া উপায়
ছবি : সংগৃহীত

গরম বাড়ার সাথে সাথেই ত্বকের অন্যতম যন্ত্রণদায়ক সমস্যা হিসেবে দেখা দেয় ঘামাচি, র‍্যাশ এবং চুলকানি। অতিরিক্ত গরমে ঘাম জমে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে এই সমস্যা তৈরি হয়, যা শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাইকেই অস্বস্তিতে ফেলে। বিশেষ করে ঘামাচির জায়গায় জামা-কাপড়ের ঘর্ষণ লাগলে জ্বালাপোড়া আরও বেড়ে যায়। এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া কিছু কার্যকর সমাধান মেনে চলতে পারেন:

ঘামাচি ও র‍্যাশ দূর করার ৯টি ঘরোয়া উপায়

১. একটি পরিষ্কার শুকনো কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ বেঁধে ঘামাচির ওপর ১০-১৫ মিনিট ধরে হালকা করে লাগান। এটি নতুন করে ঘাম বসতে দেবে না। দিনে ৩-৪ বার এটি করলে দ্রুত আরাম পাবেন।

২.নিম পাতা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক হিসেবে কাজ করে। নিম পাতার রসের সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগালে ঘামাচি ও চুলকানি দুই-ই কমে।

৩. বাইরে বের হন বা না হন, সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। ঘাম জমতে না দিলে ঘামাচির ভয় থাকে না।

৪. ঘামাচি তাড়াতে অ্যালোভেরা জেল জাদুর মতো কাজ করে। শুধু অ্যালোভেরার রস অথবা এর সঙ্গে সামান্য কাঁচা হলুদ মিশিয়ে লাগিয়ে রাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন। হলুদের অ্যান্টি-সেপটিক গুণ ত্বককে সুস্থ রাখবে।

৫. এক কাপ ঠান্ডা পানিতে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার কাপড় সেই পানিতে ভিজিয়ে ঘামাচির ওপর ১০-১৫ মিনিট আলতো করে মুছে নিন। এতে ত্বকের ঘাম বসে যাওয়া বন্ধ হবে।

৬. গরমে সবসময় হালকা রঙের সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। এতে ত্বকের সঙ্গে কাপড়ের ঘর্ষণ কম হবে এবং বাতাস চলাচলের ফলে ত্বক সুস্থ থাকবে।

৭. ঘামাচি হলে নখ দিয়ে চুলকানো এড়িয়ে চলুন। চুলকানি কমাতে অ্যালোভেরা, নিম পাতা বা পাতিলেবুর রস পানির সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করে ত্বকে লাগাতে পারেন।

৮. ঘামাচি হলে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার না করাই ভালো। পাউডার রোমকূপের মুখ বন্ধ করে দিয়ে সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

৯. শরীর ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল রাখুন।

/আশিক


ঘামের দুর্গন্ধ দূর করবেন কীভাবে, জানুন সহজ উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ০৮:২৯:৩৪
ঘামের দুর্গন্ধ দূর করবেন কীভাবে, জানুন সহজ উপায়
ছবি: সংগৃহীত

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘামের কারণে শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হওয়া একটি সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর সমস্যা, যা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্গন্ধের মূল কারণ ঘাম নিজে নয়; বরং ত্বকের ওপর থাকা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে ঘামের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলেই এই গন্ধ সৃষ্টি হয়।

দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এই সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়। নিয়মিত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে গোসল করলে ত্বকে থাকা জীবাণুর সংখ্যা কমে যায়, ফলে দুর্গন্ধের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। গোসলের পর শরীর সম্পূর্ণ শুকনো রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আর্দ্র পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য সহায়ক।

অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ও ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পার্থক্য বোঝা জরুরি। অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট মূলত ঘাম উৎপাদন কমায়, আর ডিওডোরেন্ট দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাই অতিরিক্ত ঘাম হলে অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট এবং সাধারণ দুর্গন্ধের ক্ষেত্রে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার কার্যকর হতে পারে।

পোশাক নির্বাচনও এই সমস্যার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সুতি, লিনেন বা সিল্কের মতো প্রাকৃতিক তন্তুর কাপড় বাতাস চলাচল সহজ করে এবং ঘাম দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। বিপরীতে সিন্থেটিক কাপড় ঘাম আটকে রেখে দুর্গন্ধ বাড়াতে পারে।

ঘরোয়া পদ্ধতিতেও ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। বেকিং সোডা ত্বকের আর্দ্রতা শোষণ করে এবং ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম কমাতে সহায়তা করে। লেবুর রস প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের পিএইচ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। একইভাবে ভিনেগার জীবাণু ধ্বংসে কার্যকর এবং নিমপাতা ত্বকের টক্সিন দূর করতে সহায়ক।

বগলের লোম পরিষ্কার রাখা দুর্গন্ধ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ লোমে ঘাম জমে ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার সহজ হয়। এছাড়া নিয়মিত পোশাক পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনে ভিনেগার বা বেকিং সোডা মিশ্রিত পানিতে কাপড় ভিজিয়ে ধোয়া দুর্গন্ধ দূর করতে কার্যকর।

খাদ্যাভ্যাসও শরীরের গন্ধে প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার, পেঁয়াজ, রসুন এবং লাল মাংস খাওয়ার ফলে শরীরের গন্ধ তীব্র হতে পারে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের টক্সিন বের করতে সহায়তা করে এবং দুর্গন্ধ কমায়।

তবে যদি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করার পরও সমস্যা থেকে যায়, তাহলে তা কোনো অন্তর্নিহিত শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সামগ্রিকভাবে, ঘামের দুর্গন্ধ একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য সমস্যা, যা সঠিক পরিচ্ছন্নতা, উপযুক্ত পোশাক নির্বাচন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনীয় যত্নের মাধ্যমে সহজেই কমানো সম্ভব।


মাথা ব্যথায় অস্থির? জেনে নিন হুটহাট যন্ত্রণা বাড়ার আসল কারণ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১২:৫৭:৪১
মাথা ব্যথায় অস্থির? জেনে নিন হুটহাট যন্ত্রণা বাড়ার আসল কারণ
ছবি : সংগৃহীত

মাথা ব্যথাকে আমরা অনেকেই সাধারণ সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যাই, কিন্তু এটি যখন অসহ্য হয়ে দাঁড়ায় তখন দৈনন্দিন কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনিয়মিত জীবনযাপন এবং ছোটখাটো কিছু অসতর্কতাই মূলত হুটহাট মাথার যন্ত্রণা বাড়িয়ে দেওয়ার পেছনে দায়ী।

তীব্র আলো, বিকট শব্দ কিংবা দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা মাথা ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে খালি পেটে থাকলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, যা সরাসরি মাথায় চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়া যাদের মাইগ্রেন বা সাইনাসের সমস্যা আছে, তাদের জন্য রোদ একটি বড় শত্রু। রোদে বের হলে বা পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। সর্দি বা কফ জমার ধাত থাকলেও মাথা ভার হয়ে ব্যথা হতে পারে।

মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে হলে কিছু নিয়ম মানা জরুরি। ব্যথা শুরু হলে কোনো শান্ত ও অন্ধকার ঘরে বিশ্রাম নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর। এছাড়া সময়মতো খাবার খাওয়া এবং বাইরে বের হওয়ার সময় রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। তবে মনে রাখবেন, ঘন ঘন মাথা ব্যথা হলে নিজে নিজে ব্যথানাশক ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

সূত্র : এবিপি


আপনার শিশু কি নিরাপদ? হামের প্রকোপ রুখতে এখনই যা করা জরুরি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১২:৫৪:০৩
আপনার শিশু কি নিরাপদ? হামের প্রকোপ রুখতে এখনই যা করা জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখন আর কেবল সাধারণ রোগ নেই, বরং এটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। মার্চ মাসেই অন্তত ২১ শিশুর মৃত্যু এবং ১০টি জেলায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত টিকাদানের ঘাটতি, শিশুদের পুষ্টিহীনতা এবং মাতৃদুগ্ধের অভাবের কারণে এই মরণঘাতী ভাইরাসের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

প্যারা-মিক্সোভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ানো এই রোগটি এতটাই সংক্রামক যে, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে একই ঘরে বসবাসকারী ৯০ শতাংশ মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন। হাঁচি-কাশি বা বাতাসের ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে এটি ছড়ায় এবং কোনো পৃষ্ঠে ভাইরাসটি দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। শরীরে প্রবেশের পর এটি দ্রুত ফুসফুস ও লিম্ফ নোড হয়ে এমনকি মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যের শরীরে রোগটি ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।

হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রথম ৩-৪ দিন শুষ্ক কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং তীব্র জ্বরের পাশাপাশি ক্লান্তি দেখা দেয়। এ সময় মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ বা ‘কোপলিক স্পট’ দেখা দিতে পারে, যা হামের প্রধান সংকেত। এরপর কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে লালচে-বাদামি ফুসকুড়ি পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত আইসোলেশনে বা আলাদা রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুষ্টিকর তরল খাবার নিশ্চিত করতে হবে। তবে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো সময়মতো টিকা নেওয়া। টিকাদানের হার কম এমন এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত মহামারি রূপ নিতে পারে, তাই শিশুদের সুরক্ষায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি সফল করা এখন সময়ের দাবি।

/আশিক


অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? মন ভালো করার ৫টি জাদুকরী কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১২:৫০:১০
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? মন ভালো করার ৫টি জাদুকরী কৌশল
ছবি : সংগৃহীত

মানসিক চাপ আর নেতিবাচক চিন্তা বর্তমান সময়ে আমাদের নিত্যসঙ্গী। অতিরিক্ত কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত নানা কারণে মন বিষণ্ণ হয়ে পড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে এই নেতিবাচক ভাবনার বৃত্তে আটকে থাকলে তা আমাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। সারাক্ষণ মাথায় ঘুরপাক খাওয়া এই দুশ্চিন্তা কমাতে এবং মনকে চনমনে রাখতে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর কৌশল দারুণ কাজে দিতে পারে।

মন খারাপের সময় নিজেকে গুটিয়ে না রেখে সক্রিয় রাখাটা সবচেয়ে জরুরি। অলস বসে থাকলে নেতিবাচক চিন্তাগুলো আরও জেঁকে বসে। তাই মন খারাপ হলে ঘরেই হালকা হাঁটাহাঁটি করা, ঘর গোছানো বা সামান্য ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ হয়, যা মনকে সতেজ করে। পাশাপাশি নিজের পছন্দের কাজ যেমন—গান শোনা, বই পড়া বা শখের কোনো কাজে ডুবে থাকলে মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায় এবং মনের ওপর চাপ কমে।

বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের নেতিবাচক চিন্তার অন্যতম বড় উৎস। অন্যের জীবনের চাকচিক্য দেখে নিজের সঙ্গে তুলনা করলে মন আরও খারাপ হতে পারে। তাই মন খারাপের সময় মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। পরিবর্তে বন্ধু বা পরিবারের বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে মনের কথা শেয়ার করলে মনের বোঝা অনেকটাই হালকা হয়। এছাড়া নিয়মিত দীর্ঘ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা 'ডিপ ব্রিদিং' করলে স্নায়ু শান্ত হয় এবং তাৎক্ষণিক দুশ্চিন্তা কমে। মনে রাখবেন, সমস্যা থেকে পালিয়ে নয়, বরং নিজেকে কিছুটা সময় দিয়ে এই ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমেই মনকে শক্ত করা সম্ভব।

/আশিক


তরুণদের হার্ট অ্যাটাক: রিপোর্টে সব স্বাভাবিক থাকলেও লুকিয়ে থাকতে পারে বড় বিপদ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ২০:১৩:৪২
তরুণদের হার্ট অ্যাটাক: রিপোর্টে সব স্বাভাবিক থাকলেও লুকিয়ে থাকতে পারে বড় বিপদ
ছবি : সংগৃহীত

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইদানীং হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে যা চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। অনেক সময় দেখা যায় যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা সুস্থ জীবনযাপন করছেন, তাদেরও লিপিড প্রোফাইল রিপোর্টে সবকিছু স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও অকালেই প্রাণ হারাতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, প্রচলিত এইচডিএল বা এলডিএল কোলেস্টেরলের বাইরেও শরীরে এক নীরব ঘাতক লুকিয়ে থাকতে পারে যার নাম লিপোপ্রোটিন। এটি মূলত এমন এক ধরনের কোলেস্টেরল যা নিঃশব্দে রক্তনালিতে চর্বি জমায় এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। এই উপাদানের সবচেয়ে ভয়ের দিক হলো এটি সম্পূর্ণ জিনগত বা বংশগত। অর্থাৎ খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন বা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেও এর মাত্রা খুব একটা কমানো সম্ভব হয় না। ফলে অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষও অজান্তে এই প্রাণঘাতী ঝুঁকির মধ্যে থেকে যান।

বিশেষজ্ঞদের মতে রক্তে লিপোপ্রোটিনের মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালিতে দ্রুত প্রদাহ সৃষ্টি হয় যা কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে যাদের পেটের মেদ, ডায়াবেটিস বা পরিবারে অল্প বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।

এমনকি সাধারণ এলডিএল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভেতরে ভেতরে রক্তনালির ক্ষতি চলতে পারে। যেহেতু লিপোপ্রোটিনের মাত্রা জন্মগতভাবে নির্ধারিত হয় এবং সারা জীবন প্রায় অপরিবর্তিত থাকে, তাই চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন জীবনে অন্তত একবার এই পরীক্ষাটি করা জরুরি। বিশেষ করে ১৮ বছর বয়সের মধ্যেই এটি পরীক্ষা করে নিলে ভবিষ্যতের বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

যদিও লিপোপ্রোটিনের মাত্রা সরাসরি কমানো কঠিন, তবে সঠিক সচেতনতার মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা সর্বনিম্ন রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার গ্রহণ এবং ধূমপান বা মদ্যপান থেকে দূরে থাকাই হলো এর প্রধান সুরক্ষা কবচ।

অনেক ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক সবসময় হুট করে ঘটে না বরং শরীর আগে থেকেই বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দেয় যা আমরা বুঝতে পারি না। লিপোপ্রোটিন ঠিক তেমনই এক অদৃশ্য ঝুঁকি যা একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই আগেভাগে ধরা সম্ভব। সঠিক সময়ে সচেতন হতে পারলে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে নিজেকে এবং প্রিয়জনকে বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন


স্ক্রিনের নেশায় চোখের বারোটা? ঘরোয়া উপায়ে ফেরান চোখের জ্যোতি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১২:১৩:০০
স্ক্রিনের নেশায় চোখের বারোটা? ঘরোয়া উপায়ে ফেরান চোখের জ্যোতি
ছবি : সংগৃহীত

ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন কিংবা টিভির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে বিনোদন—সবকিছুতেই স্ক্রিনের ওপর নির্ভরশীলতা চোখের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

এই ডিজিটাল আসক্তির কারণে অনেকেরই চোখ শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে, আবার কারো চোখের মণি ভারী হয়ে আসার মতো অস্বস্তি দেখা দিচ্ছে। এসব ছোটখাটো সমস্যা অবহেলা করলে ভবিষ্যতে বড় কোনো বিপদের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে ঘরোয়া কিছু সহজ কৌশলের মাধ্যমে চোখের এই ক্লান্তি দূর করে সতেজতা বজায় রাখা সম্ভব।

একটানা কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম সময় চোখের পাতা ফেলি। এর ফলে চোখের মণি ও চারপাশের পেশিতে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা, একটানা ড্রাইভিং বা অফিসে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার কারণে চোখের বিশ্রামের প্রয়োজন হয় সবচেয়ে বেশি।

চোখের এই ক্লান্তি কাটাতে কোল্ড কমপ্রেস বা শীতল স্পর্শ বেশ কার্যকর। এটি চোখের ফোলাভাব কমাতে দ্রুত আরাম দেয়। এর জন্য বাজার থেকে জেল প্যাক কিনে ব্যবহার করা যায় অথবা বাড়িতেই পাতলা পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে চিপে চোখ বন্ধ করে ৮ থেকে ১০ মিনিট চোখের ওপর দিয়ে রাখলে অনেক আরাম মেলে।

কাজের মাঝখানে যখনই চোখ ক্লান্ত লাগবে, তখনই হাতের তালুর সাহায্যে উষ্ণতা বা ভাপ দেওয়া যেতে পারে। দুই হাতের তালু একে অপরের সঙ্গে ঘষে হালকা গরম করে নিয়ে চোখ বন্ধ করে আলতোভাবে চোখের ওপর রাখলে পেশিগুলো শিথিল হতে শুরু করে। এছাড়া রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু প্রাকৃতিক উপাদানও চোখের যত্নে বেশ উপকারী।

যেমন, শসা কুচি বা গোল স্লাইস করে চোখের ওপর রাখলে জ্বালাপোড়া ও চোখের নিচের কালো দাগ কমে। ব্যবহৃত ঠান্ডা গ্রিন টি ব্যাগ বা টাটকা অ্যালোভেরা জেলও চোখের সতেজতা ফেরাতে দারুণ কাজ করে।

বিশেষজ্ঞরা চোখের সুরক্ষায় একটি বিশেষ সূত্রের কথা বলেন, যাকে বলা হয় ‘২০-২০-২০ নিয়ম’। এই নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ২০ মিনিট পর পর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ২০ ফুট দূরে থাকা কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে হবে। এতে চোখের ফোকাস করার পেশিগুলো প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায়। এসব পদ্ধতি চোখের সাধারণ ক্লান্তি কাটাতে সাহায্য করলেও, যদি চোখে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমস্যা বা তীব্র ব্যথা অনুভব হয়, তবে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

/আশিক


ত্বকের জাদুকরী পানীয় গোলাপজল: রূপচর্চায় এর ৩টি অজানা ব্যবহার

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১২:১৬:২৯
ত্বকের জাদুকরী পানীয় গোলাপজল: রূপচর্চায় এর ৩টি অজানা ব্যবহার
ছবি : সংগৃহীত

রূপচর্চায় গোলাপজল একটি অনন্য উপাদান, যা সব ধরনের ত্বকের জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর। বিশেষ করে গরমের দিনে ত্বকের জ্বালা ভাব কমাতে, আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং সতেজতা ফেরাতে এর জুড়ি নেই। একে ত্বকের 'পানীয়' বলা হয় কারণ এটি ত্বককে ভেতর থেকে প্রাণবন্ত করে তোলে। কেবল টোনার হিসেবেই নয়, ঘরোয়া রূপচর্চায় গোলাপজল ব্যবহারের আরও তিনটি দারুণ উপায় রয়েছে।

প্রথমত, গোলাপজল দিয়ে বরফ তৈরি করে ত্বকে ব্যবহার করা যায়।

বরফের ট্রে-তে গোলাপজল জমিয়ে সেই টুকরো মেকআপ করার আগে এক মিনিট মুখে ঘষে নিলে মেকআপ সহজে গলে যায় না এবং ত্বক উজ্জ্বল দেখায়।

দ্বিতীয়ত, এটি দিয়ে সহজেই ফেশিয়াল মিস্ট তৈরি সম্ভব। একটি স্প্রে বোতলে গোলাপজল ভরে ফ্রিজে রেখে দিলে রোদে পোড়া ত্বকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি মেলে।

এছাড়া চোখের ফোলা ভাব ও ক্লান্তি দূর করতে ঠান্ডা গোলাপজলে ভেজানো তুলো চোখের ওপর ৫ মিনিট রাখলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। নিয়মিত এই অভ্যাসে চোখের নিচের কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেলও কমে আসে।

/আশিক


যেসব লক্ষণে বুঝবেন শরীরে কমছে টেস্টোস্টেরন: অবহেলা করলেই মহাবিপদ!

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১২:১০:৫৬
যেসব লক্ষণে বুঝবেন শরীরে কমছে টেস্টোস্টেরন: অবহেলা করলেই মহাবিপদ!
ছবি : সংগৃহীত

পুরুষের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার মূল চাবিকাঠি হলো টেস্টোস্টেরন হরমোন। এটি কেবল যৌনস্বাস্থ্যের সঙ্গেই নয়, বরং পেশির শক্তি, হাড়ের গঠন, মেজাজ এবং স্মৃতিশক্তির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর থেকে এই হরমোনের মাত্রা প্রতি বছর গড়ে ১ শতাংশ করে কমতে শুরু করে। তবে আধুনিক জীবনযাত্রার চাপে অনেক সময় অল্প বয়সেই এই ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা অনেকেই সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান।

টেস্টোস্টেরন কমে গেলে শরীর বেশ কিছু সংকেত দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করা, কাজে মনোযোগের অভাব, খিটখিটে মেজাজ এবং যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করার পরেও পেশির শক্তি কমে আসা এবং পেটের চারপাশে মেদ জমা এই হরমোন হ্রাসের বড় লক্ষণ। এন্ডোক্রিনোলজিস্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘদিন এই সমস্যা বজায় থাকলে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান ও স্থূলতাকে এই হরমোন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাজারচলতি বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের বিষয়ে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ এগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং তা শরীরের জন্য উল্টো ক্ষতিকর হতে পারে। সঠিক সময়ে লক্ষণ চিনে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

/আশিক

পাঠকের মতামত: