তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন যারা

দীর্ঘ ১৮ বছরের রাজনৈতিক প্রতিক্ষা আর জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আজ এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো বাংলাদেশে। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিকেল ঠিক ৪টায় সুসজ্জিত মঞ্চে তিনি যখন শপথ বাক্য পাঠ করছিলেন, তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ১৭ বছরের নির্বাসন আর দীর্ঘ সংগ্রামের পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত পরিবার ও কয়েক’শ দেশি-বিদেশি অতিথিদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শপথ গ্রহণ শেষে তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির সাথে করমর্দন করেন এবং প্রধান নির্বাহী হিসেবে সংশ্লিষ্ট নথিতে স্বাক্ষর করেন। এই শপথের মধ্য দিয়ে দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে প্রবেশ করলো।
প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পর শুরু হয় মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের শপথ গ্রহণ পর্ব। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে মোট ৪৯ জন সদস্য নিয়ে, যার মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি একে একে তাঁদের নাম ঘোষণা করেন। এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীণ রাজনীতিকদের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের সাথে সম্পৃক্ত তরুণ ও আলোচিত নেতাদের অন্তর্ভুক্তি ছিল চোখে পড়ার মতো। পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদের (বীর বিক্রম) মতো হেভিওয়েট নেতারা। তালিকায় আরও রয়েছেন আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও মিজানুর রহমান মিনু। এছাড়াও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন খলিলুর রহমান ও মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। এই অভিজ্ঞ দলটি মূলত নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক সংস্কারের মূল কারিগর হিসেবে কাজ করবেন।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ২৪ জনের তালিকায় তারুণ্যের জয়গান দেখা গেছে। জুলাই বিপ্লবের পরিচিত মুখ নুরুল হক নুর, জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং ববি হাজ্জাজের মতো নেতাদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের নজির দেখিয়েছেন তারেক রহমান। এছাড়াও ইশরাক হোসেন, শামা ওবায়েদ ইসলাম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মতো তরুণ নেতৃত্বও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন।
অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, শরিফুল আলম, কায়সার কামাল ও ফরহাদ হোসেন আজাদ। এই মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আমিনুল হক। নতুন এই সরকারে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক উত্তরণকে এক ভিন্ন মর্যাদা দিয়েছে। আজ রাতেই দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই বিশাল মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাঁদের নিজ নিজ দপ্তরের দায়িত্বভার বুঝে নেবেন।
/আশিক
সালাহউদ্দিন আহমদ ও মির্জা ফখরুল পাচ্ছেন যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ বিকেলে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন।
এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় বণ্টনের মাধ্যমে দলটি প্রশাসনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ খাতে অভিজ্ঞ নেতাদের দায়িত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় স্থায়ী কমিটির একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে এ দায়িত্ব দেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজকের শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিএনপি চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গঠিত এই মন্ত্রিসভা দেশের নীতিনির্ধারণে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
-রফিক
তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগোবে দেশ: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে বলে তারা আশাবাদী। তিনি এই মুহূর্তকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গণতান্ত্রিক কাঠামোর অবক্ষয় এবং সংসদকে অকার্যকর করে রাখার প্রেক্ষাপটের পর জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদ গঠিত হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জনের ভিত্তিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পরিবর্তন জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের ফল। তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে একটি নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, দলের সংসদ সদস্যরা ডিউটি-ফ্রি গাড়ি গ্রহণ করবেন না এবং সরকারের কাছ থেকে কোনো প্লট বরাদ্দ নেবেন না। জনআস্থা ও স্বচ্ছতার বার্তা দিতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। শপথের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে নেতৃত্বের প্রথম দিকের সিদ্ধান্ত ও নীতিনির্ধারণের দিকে, যা আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
-রফিক
নতুন মন্ত্রিসভায় শপথের আমন্ত্রণ পেলেন যাঁরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠান শেষে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়েছে। বিকেলেই তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিপরিষদ ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পরই সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐ বৈঠকে উপস্থিত এমপিরা একযোগে তারেক রহমানের নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করেন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হন।
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক নেতা। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সালাউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, আরিফুল হক, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, জহির উদ্দিন স্বপন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এহসানুল হক মিলন, শরীফুল আলম ও মীর শাহে আলম এদের অনেকেই ইতোমধ্যে মন্ত্রিত্বের বিষয়ে ফোন পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। একই কোটায় হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন এবং সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হকের নামও আলোচনায় রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন জাকারিয়া তাহের সুমন, এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল থেকেও প্রতিনিধিত্ব থাকতে পারে বলে জানা গেছে। জোনায়েদ সাকী ও নুরুল হক নুরের নাম মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সব মিলিয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদের আকার ৫০ সদস্য পর্যন্ত হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
সংসদীয় দলের বৈঠকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ডিউটি-ফ্রি গাড়ি গ্রহণ করবেন না এবং সরকারিভাবে কোনো প্লট বরাদ্দ নেবেন না এমন নীতিগত অবস্থান ঘোষণা করা হয়েছে। দলীয় নেতাদের মতে, স্বচ্ছতা ও জনআস্থার বার্তা দিতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
-রফিক
সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেবে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে শপথ গ্রহণ করলেও এখনই 'সংবিধান সংস্কার পরিষদে'র সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দলের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির কেউ শপথ নেয়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সংবিধানে এ ধরনের পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো বিধান বা প্রক্রিয়া এখনো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া বিএনপির কোনো সদস্য এই পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিতও হননি বলে তিনি জানান।
সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় অনুযায়ী যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হয়, তবে সেটিকে প্রথমে সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে এই পরিষদের সদস্যদের কে বা কারা শপথ বাক্য পাঠ করাবেন, সেই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান তৈরি করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো শপথে তারা অংশ নেবেন না এবং বিএনপি সব সময় সংবিধান মেনেই রাজনীতি করে আসছে।
উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যা দলটির জন্য ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণের এক অনন্য মাইলফলক।
নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের দায়িত্ব নেওয়া প্রায় নিশ্চিত। একদিকে নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় এবং অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে দেশের সংসদীয় রাজনীতি এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে বিএনপির এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৭টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। নবনির্বাচিত এই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ প্রায় নিশ্চিত। সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে জোটের শীর্ষ নেতারা এখন গুরুত্বপূর্ণ পদবন্টন এবং দেশে প্রথমবারের মতো ‘ছায়া সংসদ’ গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছেন।
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জোটের শরিক এনসিপি ৬টি এবং খেলাফত মজলিস ৩টি আসন পেয়েছে। সব মিলিয়ে জোটের ঝুলিতে রয়েছে ৭৭টি আসন। এর বাইরে ইসলামী আন্দোলনের একজন এবং সাতজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যও বিরোধী দলের সারিতে বসবেন বলে জানা গেছে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদে পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। তিনি দলটির সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে। অন্যদিকে, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, আসন সংখ্যায় বড় ব্যবধান থাকলেও জোটের শরিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় পদে দায়িত্ব দিয়ে একীভূত নেতৃত্বের নজির গড়তে চায় দলটি। তবে জোটের অন্দরে কিছু ভিন্নমতও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এনসিপির একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ের পর জোট থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র অবস্থান নেওয়ার জন্য দলের ভেতরে কিছুটা চাপ রয়েছে। তবে বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে জোট বজায় রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। কোনো কারণে এনসিপি জোটে না থাকলে জামায়াত তাদের নির্বাচিত তিন নায়েবে আমিরের মধ্য থেকে একজনকে উপনেতা নির্বাচিত করতে পারে। এই তালিকায় আছেন রাজশাহী-৫ থেকে নির্বাচিত অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কুমিল্লা-১১-এর ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবু তাহের এবং রংপুর-২-এর এটিএম আজহারুল ইসলাম।
সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও হুইপ পদ নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। চিফ হুইপ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। এছাড়া হুইপ পদে কুমিল্লা-৪ থেকে নির্বাচিত এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর নাম আলোচনায় রয়েছে। চট্টগ্রামের প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান চৌধুরী এবং সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলামকেও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন।
এই সংসদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হতে যাচ্ছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ (Shadow Cabinet) গঠনের প্রস্তাবনা। যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার সংসদীয় ব্যবস্থার আদলে এই ছায়া সরকার গঠিত হবে, যা বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে প্রথম। এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের একেকজন সদস্য নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর নজর রাখবেন এবং সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে গঠনমূলক বিকল্প প্রস্তাব পেশ করবেন। এই উদ্ভাবনী ধারণাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।
/আশিক
একই পরিবারের তিন সরকার প্রধান: বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল নজির
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ও অনন্য নজির স্থাপন করে আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আজই তিনি দেশের পরবর্তী সরকার প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।
তারেক রহমানের এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার পরিবারে যুক্ত হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক রেকর্ড। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমসেবে কেউ সরকার প্র একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিধানের পদে আসীন হচ্ছেন। এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি রাজনৈতিক পরিবারের তিন সদস্যের পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ পদে আরোহণের এমন ঘটনা এ দেশে এর আগে আর কখনও ঘটেনি।
বিএনপির দাপ্তরিক তথ্যানুসারে, ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ এস এম সায়েমের পদত্যাগের পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি নিজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন। জিয়াউর রহমানের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি এবার নিয়ে মোট চারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দলের হাল ধরেন তার সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়া।
বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসার আগে ছিলেন একজন সাধারণ গৃহিণী। স্বামীর মৃত্যুর পর দল ও দেশের চরম সংকটে তিনি রাজপথে নেমে আসেন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্যিয়তা অর্জন করেন। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তীতে তিনি আরও দুই দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কোনোটিতেই পরাজিত না হওয়ার এক অনন্য ব্যক্তিগত রেকর্ডও রয়েছে তার ঝুলিতে।
উল্লেখ্য যে, গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। আজ শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাবা ও মায়ের উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে যাচ্ছেন।
/আশিক
সংসদীয় রাজনীতির নবযুগের অপেক্ষায় দেশ: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদীয় রাজনীতির এক নতুন অধ্যায় নিয়ে দেশবাসীকে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আগামী দিনের সংসদীয় রাজনীতি এবং জনগণের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের আমির উল্লেখ করেন যে, গত জুলাই অভ্যুত্থানের সেই আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথাকে ধারণ করেই দেশের রাজনীতি এক নতুন পথে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। তিনি লেখেন, জুলাই অভ্যুত্থানের লাল রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আগামীকাল থেকে সংসদীয় রাজনীতির যে নবযুগের সূচনা হতে যাচ্ছে, তার স্বরূপ দেখার জন্য সমগ্র জাতি গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে। তার এই বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে।
এ সময় ডা. শফিকুর রহমান সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের জন্য সাধারণ দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানান। তিনি মনে করেন, জনগণের এই অংশগ্রহণ আসলে তাদের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের একটি বড় ধাপ। আমিরের মতে, এবারের লড়াই মূলত জনগণের লুণ্ঠিত ভোটাধিকার এবং মৌলিক অধিকারগুলো ফিরিয়ে আনার লড়াই।
নিজের বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশের সব স্তরের মানুষকে দেশ গড়ার কাজে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি তার পোস্টে দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, "চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ।" তার এই আহ্বান নতুন বাংলাদেশের পুনর্গঠনে সব পক্ষকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/আশিক
বগুড়া-৬ আসন ত্যাগ করলেন তারেক রহমান
বগুড়া-৬ আসনটি ছাড়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসাথে বগুড়া–৬ ও ঢাকা–১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকা–১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ সোমবার বিকেলে জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ত্যাগ করেছেন এবং ঢাকা-১৭ আসন বজায় রেখেছেন। নির্বাচন কমিশন তার এ সংক্রান্ত চিঠি গ্রহণ করেছে।
নির্বাচন আইন অনুযায়ী একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ তিনটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে বিজয়ী হলে তিনি কেবল একটি আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন। বাকি আসনগুলো খালি হয়, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
/আশিক
বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বয়সে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দলটির নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।
নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে এভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৬০ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিতে যাওয়ায় তারেক রহমান দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সে তুলনায় তার এই অভিষেক একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।
স্বাধীনতার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ দায়িত্ব নেন ৪৬ বছর বয়সে। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রধানমন্ত্রী হন ৫২ বছর বয়সে। নব্বইয়ের দশকে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন ৪৬ বছর বয়সে। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন ৪৯ বছর বয়সে।
বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমান দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবরণ ও নির্বাসনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছেন, যা তাকে এক ভিন্ন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে প্রস্তুত করেছে। তারা মনে করছেন, এই দীর্ঘ সময় তাকে রাজনৈতিকভাবে আরও পরিণত করেছে।
নির্বাচনের পর দেশের পুঁজিবাজার ও আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন নতুন সরকারের দিকে। বিশেষ করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষায় তার নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হবে—সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
পাঠকের মতামত:
- তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন যারা
- ‘সেলফি’ ভবিষ্যদ্বাণী মিলল বাস্তবের সঙ্গে
- প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান
- সালাহউদ্দিন আহমদ ও মির্জা ফখরুল পাচ্ছেন যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন
- ১৭ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ার
- ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ গেইনার কারা
- বেতনের বাইরে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের কী কী সুবিধা
- তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগোবে দেশ: মির্জা ফখরুল
- নতুন মন্ত্রিসভায় শপথের আমন্ত্রণ পেলেন যাঁরা
- পুরানো দপ্তরেই ফিরছেন মির্জা আব্বাস: অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখলো নতুন সরকার
- যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল
- অর্থনীতির সংস্কারে অভিজ্ঞ আমীর খসরুর ওপর ভরসা রাখলো বিএনপি
- তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
- সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেবে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমেদ
- ৭ পাক সেনাকে আটক করে বিএলএ-র মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি
- দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন
- ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা
- রমজানের প্রস্তুতি: এক মাসের বাজার নিশ্চিন্তে গুছিয়ে রাখার উপায়
- শপথের প্রস্তুতিতে এমপিদের সংসদে আগমন
- সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান
- আবহাওয়া আপডেট: যেমন থাকবে রাজধানী
- অগ্নিমূল্য স্বর্ণের বাজার, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়লো ২২১৬ টাকা
- হাতে-পায়ে জ্বালাপোড়া কেন হয় জানুন কারণ
- সারা দেশে আজ থেকে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি; জেনে নিন নির্দিষ্ট পণ্যের দাম
- আজ কেনাকাটায় যাওয়ার আগে জেনে নিন রাজধানীর বন্ধ মার্কেটের তালিকা
- একই পরিবারের তিন সরকার প্রধান: বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল নজির
- অধীনতার চুক্তি করে বিদায় নিচ্ছেন ড. ইউনূস: আনু মুহাম্মদ
- আজ বিকেল থেকে দীর্ঘ সূর্যগ্রহণ, দৃশ্যমান হবে যেসব দেশে
- ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ আজ
- ফুটবল-ক্রিকেটে জমজমাট ক্রীড়া সূচি
- আজ টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- বৈশ্বিক বাণিজ্যে টাকার বিনিময় হার আপডেট
- ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের অংশবিশেষ
- নামাজ ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত সময় জানুন আজ
- প্রাথমিকে রোজার ছুটি নিয়ে নতুন তথ্য জানাল অধিদপ্তর
- ভিসা ছাড়াই ৩৭ দেশে ভ্রমণ সুবিধা বাংলাদেশিদের
- আজ নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন যিনি
- শপথ ঘিরে ঢাকায় বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা
- মঙ্গলবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে এসেছি: প্রধান উপদেষ্টা
- দেশে আবার ভূমিকম্প অনুভূত
- সংসদীয় রাজনীতির নবযুগের অপেক্ষায় দেশ: জামায়াত আমির
- রাষ্ট্র সংস্কারের দলিলে চূড়ান্ত সই: নতুন সূর্যের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
- বিভেদ ভুলে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার শপথ নিলেন কালিগঞ্জের বিএনপি নেতারা
- মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের শক্তিশালী প্রমাণ পেল নাসা
- ব্রণমুক্ত ত্বক পেতে ঘরোয়া ৪টি সহজ টিপস
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় দরপতন
- মুসলিমদের জন্য রমজান মাসের সূচনা: চাঁদ দেখার নিয়ম ও তারিখ
- বগুড়া-৬ আসন ত্যাগ করলেন তারেক রহমান
- আবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম, কী কারণ?
- ২০০৮–এর পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন: গণতন্ত্রের গুণগত মানের এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- নির্বাচনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে লন্ডনে উদ্বেগ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
- বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়ল দেশের স্বর্ণবাজারে: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- অগ্নিমূল্য স্বর্ণের বাজার, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়লো ২২১৬ টাকা
- এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান
- ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের শুভ সূচনা: প্রথম কেন্দ্রের ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে
- কালিগঞ্জের ফতেপুরে দখলমুক্ত হল দুই দোকান, মালিক পরিবারের হাতে চাবি
- রুপা স্থির, তবে কেন অস্থির শুধু সোনা
- ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের দাপুটে সূচনা: প্রথম কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে লিড
- প্রাথমিকে রোজার ছুটি নিয়ে নতুন তথ্য জানাল অধিদপ্তর








