প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ চালু

বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কার্যক্রম ও নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জনগণকে নিয়মিত অবহিত করতে একটি অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ চালু করা হয়েছে। নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসেই বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়।
‘PMO Bangladesh – প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ নামের এই পেজের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, কর্মসূচি, নীতিগত ঘোষণা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পেজটির প্রোফাইল ছবিতে রাখা হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক প্রতিকৃতি।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং গুজব বা বিভ্রান্তি প্রতিরোধে সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডিজিটাল যুগের চাহিদা বিবেচনায় নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে এই পেজকে একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামোয় ডিজিটাল গভর্ন্যান্স এখন অপরিহার্য উপাদান। সরকারি সিদ্ধান্ত ও নীতিগত অগ্রগতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক আপডেট জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার হবে।
সরকারি সূত্র আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ভিডিও বার্তা, লাইভ ব্রিফিং এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ঘোষণা এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রচার করা হতে পারে। নাগরিকদের পেজটি অনুসরণ করে সর্বশেষ সরকারি আপডেট জানার আহ্বান জানানো হয়েছে।
-রাফসান
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠক দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের নীতিগত কার্যক্রমের সূচনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে সরকারের চলমান প্রশাসনিক কার্যক্রম, ঘোষিত অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হয়।http://sottonews.com/article_photo/mon-trii.jpg
বৈঠকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি মূল্যায়নের পাশাপাশি সময়মতো প্রকল্প সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় উপস্থিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী সার্বিক সমন্বয় নিশ্চিত করে ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
-রফিক
আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, কী বার্তা দেবেন তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক টেলিভিশন ভাষণ, যা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
সরকারি তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে একযোগে ভাষণটি সম্প্রচার করা হবে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের পাশাপাশি বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও ভাষণটি সরাসরি দেখানো হবে বলে জানা গেছে।
নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর সরকারের নীতি-অগ্রাধিকার, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বক্তব্য রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
-রফিক
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো ছাড় নয়: জামায়াত আমির
জুলাই বিপ্লবের চেতনা এবং এর অর্জিত লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা বা আপস সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি প্রতীকী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন না করা হলে কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং এই আন্দোলন থেকে উঠে আসা আকাঙ্ক্ষা পূরণে তাঁর দল বদ্ধপরিকর।
রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেমনভাবে পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে মানুষের মন প্রফুল্ল থাকে, তেমনি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব স্তরে জমে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির আবর্জনা দূর করতে হবে। বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরুর প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, গতকাল সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভা হিসেবে তাঁরা দুটো বড় শপথ নিয়েছেন এবং সেই শপথের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের মানুষের সেবা করা। পরিচ্ছন্ন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করাই তাঁদের মূল রাজনৈতিক অভিপ্ৰায়।
জামায়াত আমির জুলাই বিপ্লবের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতার সেই রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান না ঘটলে বর্তমানের এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব সফল না হলে আজ তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারতেন না এবং তিনিও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বসার সুযোগ পেতেন না। এই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় জাতীয় সংসদে জুলাইয়ের সেই অদম্য চেতনা এবং ছাত্র-জনতার দাবিগুলো বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জনগণের ম্যান্ডেট ও বিপ্লবের অঙ্গীকার রক্ষা করাই এখন নতুন সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
/আশিক
লক্ষ্মীপুরের ঘরের ছেলে এখন সরকারের মন্ত্রী: এ্যানির কাঁধে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ভার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হওয়ার পর নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং সাবেক ছাত্রনেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। নব্বইয়ের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির এই পর্যায়ে তাঁর এই উত্তরণকে তাঁর দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও এলাকার সাধারণ মানুষ।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় আশির দশকে। ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান লক্ষ্মীপুরে মূসার খাল খনন কর্মসূচিতে এলে সেই কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্কুলজীবনেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি তিনি ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্য থেকে শুরু করে ১৯৮৯ সালে জিয়াউর রহমান হল ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৯০ সালে তিনি সর্বোচ্চ ভোটে ডাকসুর সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তিনবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ডাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে তিনি ডাকসুর ভারপ্রাপ্ত ভিপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে ছাত্র রাজনীতিতে নিজের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বাক্ষর রাখেন।
জাতীয় রাজনীতিতেও এ্যানির পদচারণা বেশ দীর্ঘ ও সফল। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর ১৯৯৯ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শিক্ষা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেন। এরপর ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি দ্বিতীয়বারের মতো একই আসন থেকে বিজয়ী হন। সংসদে নিজের মেধার পরিচয় দিয়ে তিনি ২০১৩ সালে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের (ভারপ্রাপ্ত) মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে দলের প্রচার সম্পাদকের পাশাপাশি বর্তমানে তিনি বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব ও লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (APPG) এর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন এবং ২০১০ সালে এই গ্রুপের হয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সভায় বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫ ভোট পেয়ে তাঁর আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রেজাউল করিম পেয়েছিলেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৯ ভোট। দীর্ঘ ১৮ বছর পর নির্বাচিত সরকারে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুরসহ সারাদেশে বিএনপি সমর্থকদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।
/আশিক
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বিশাল চমক: বাদ পড়লেন একঝাঁক জ্যেষ্ঠ নেতা
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনকাল শেষে আজ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বাংলাদেশে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই নতুন সরকারে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আরও ৪৯ জন, যার মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিসহ বিদেশি মেহমান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হন।
তারেক রহমানের এই নতুন মন্ত্রিসভায় এক বড় ধরনের চমক লক্ষ্য করা গেছে। এবারের মন্ত্রিসভায় অনেক তরুণ ও প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে (এমপি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগামীর নেতৃত্ব তৈরিতে দলের এক বিশেষ কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে নতুন এই প্রশাসনে চমক যেমন ছিল, তেমনি ছিল বড় ধরনের অনুপস্থিতিও। দীর্ঘ সময় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকা বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। এই তালিকায় রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির হেভিওয়েট সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান। এছাড়া আমানউল্লাহ আমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুও নতুন এই সরকারের অংশ হননি।
মন্ত্রিপরিষদে স্থান না পাওয়া এই জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে অনেকেই অতীতে বিএনপি সরকারের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছিলেন। তবে নজরুল ইসলাম খান, শামসুজ্জামান দুদু এবং রুহুল কবির রিজভী কখনোই সরকারের কোনো মন্ত্রী পদে আসীন হননি। অভিজ্ঞ ও পোড়খাওয়া এসব নেতাকে মন্ত্রিসভার বাইরে রাখার বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষ ও অভিজ্ঞদের একটি অংশকে হয়তো দল পরিচালনা বা সংসদীয় অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। রাজপথের লড়াই থেকে উঠে আসা এই বিশাল রাজনৈতিক শক্তির মধ্য থেকে কাকে কোন দায়িত্বে রাখা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিশ্লেষণ অব্যাহত রয়েছে।
নবনির্বাচিত এই সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো রাষ্ট্র সংস্কার এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের সরব উপস্থিতি এবং বিদেশি নেতাদের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিকভাবে এই সরকারের গ্রহণযোগ্যতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আজ বিকেলে দক্ষিণ প্লাজার সেই আলো ঝলমলে পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের যুগে পদার্পণ করলো। এখন দেখার বিষয়, প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনের শক্তিকে সমন্বয় করে তারেক রহমানের এই মন্ত্রিসভা আগামীর বাংলাদেশকে কোন পথে নিয়ে যায়।
/আশিক
সেই ‘১০ নম্বর জার্সি’ পরে সংসদে শপথ নিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দিনগুলোতে রাজপথে বটল-গ্রিন রঙের সেই ‘১০ নম্বর জার্সি’ পরে যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, সেই স্মৃতিস্মারক গায়ে জড়িয়েই আজ পা রাখলেন জাতীয় সংসদে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টা ২০ মিনিটের পর জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তাঁর সঙ্গে দলটির নির্বাচিত আরও পাঁচজন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। সংসদীয় শপথ গ্রহণের পরপরই হাসনাত ও তাঁর দলের সদস্যরা নবগঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেন।
শপথ অনুষ্ঠানের পুরো সময়জুড়ে সবার দৃষ্টি ছিল হাসনাত আব্দুল্লাহর সেই আলোচিত জার্সিটির দিকে। বটল-গ্রিন রঙের এই জার্সিটির সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো এবং তাঁর নিজ বিভাগ ‘ইংলিশ’-এর নাম খোদাই করা রয়েছে। জার্সিটির পেছনে ইংরেজিতে বড় অক্ষরে লেখা আছে তাঁর নাম ‘HASNAT’ এবং নিচে শোভা পাচ্ছে ১০ নম্বর। জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে এই জার্সি পরিহিত অবস্থায় তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা ও নাগরিক সংলাপেও তাঁকে প্রায়শই এই পোশাকে দেখা গেছে। আজ সংসদের মতো সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থায় সেই সাধারণ জার্সি পরে শপথ নিয়ে তিনি এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন, যা জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও গণ-আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হন হাসনাত আব্দুল্লাহ। নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩টি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি-সমর্থিত গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিন, যিনি ট্রাক প্রতীকে লড়ে সংগ্রহ করেন ৪৯ হাজার ৮৮৫টি ভোট। নির্বাচনের পর থেকেই হাসনাত আব্দুল্লাহর সংসদে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। আজ রাজপথের সেই চিরচেনা জার্সিতে তাঁর সংসদ সদস্য হিসেবে অভিষেক হওয়ায় কুমিল্লাসহ দেশজুড়ে তাঁর অনুসারীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। জুলাইয়ের রাজপথ থেকে সংসদের গ্যালারিতে পৌঁছানো হাসনাত এখন দেশের সংবিধান সংস্কার ও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় কেমন ভূমিকা রাখেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সারা দেশ।
/আশিক
তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন যারা
দীর্ঘ ১৮ বছরের রাজনৈতিক প্রতিক্ষা আর জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আজ এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো বাংলাদেশে। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিকেল ঠিক ৪টায় সুসজ্জিত মঞ্চে তিনি যখন শপথ বাক্য পাঠ করছিলেন, তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ১৭ বছরের নির্বাসন আর দীর্ঘ সংগ্রামের পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত পরিবার ও কয়েক’শ দেশি-বিদেশি অতিথিদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শপথ গ্রহণ শেষে তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির সাথে করমর্দন করেন এবং প্রধান নির্বাহী হিসেবে সংশ্লিষ্ট নথিতে স্বাক্ষর করেন। এই শপথের মধ্য দিয়ে দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে প্রবেশ করলো।
প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পর শুরু হয় মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের শপথ গ্রহণ পর্ব। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে মোট ৪৯ জন সদস্য নিয়ে, যার মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি একে একে তাঁদের নাম ঘোষণা করেন। এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীণ রাজনীতিকদের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের সাথে সম্পৃক্ত তরুণ ও আলোচিত নেতাদের অন্তর্ভুক্তি ছিল চোখে পড়ার মতো। পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদের (বীর বিক্রম) মতো হেভিওয়েট নেতারা। তালিকায় আরও রয়েছেন আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও মিজানুর রহমান মিনু। এছাড়াও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন খলিলুর রহমান ও মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। এই অভিজ্ঞ দলটি মূলত নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক সংস্কারের মূল কারিগর হিসেবে কাজ করবেন।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ২৪ জনের তালিকায় তারুণ্যের জয়গান দেখা গেছে। জুলাই বিপ্লবের পরিচিত মুখ নুরুল হক নুর, জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং ববি হাজ্জাজের মতো নেতাদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের নজির দেখিয়েছেন তারেক রহমান। এছাড়াও ইশরাক হোসেন, শামা ওবায়েদ ইসলাম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মতো তরুণ নেতৃত্বও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন।
অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, শরিফুল আলম, কায়সার কামাল ও ফরহাদ হোসেন আজাদ। এই মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আমিনুল হক। নতুন এই সরকারে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক উত্তরণকে এক ভিন্ন মর্যাদা দিয়েছে। আজ রাতেই দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই বিশাল মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাঁদের নিজ নিজ দপ্তরের দায়িত্বভার বুঝে নেবেন।
/আশিক
সালাহউদ্দিন আহমদ ও মির্জা ফখরুল পাচ্ছেন যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ বিকেলে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন।
এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় বণ্টনের মাধ্যমে দলটি প্রশাসনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ খাতে অভিজ্ঞ নেতাদের দায়িত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় স্থায়ী কমিটির একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে এ দায়িত্ব দেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজকের শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিএনপি চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গঠিত এই মন্ত্রিসভা দেশের নীতিনির্ধারণে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
-রফিক
তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগোবে দেশ: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে বলে তারা আশাবাদী। তিনি এই মুহূর্তকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গণতান্ত্রিক কাঠামোর অবক্ষয় এবং সংসদকে অকার্যকর করে রাখার প্রেক্ষাপটের পর জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদ গঠিত হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জনের ভিত্তিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পরিবর্তন জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের ফল। তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে একটি নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, দলের সংসদ সদস্যরা ডিউটি-ফ্রি গাড়ি গ্রহণ করবেন না এবং সরকারের কাছ থেকে কোনো প্লট বরাদ্দ নেবেন না। জনআস্থা ও স্বচ্ছতার বার্তা দিতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। শপথের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে নেতৃত্বের প্রথম দিকের সিদ্ধান্ত ও নীতিনির্ধারণের দিকে, যা আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- বেসরকারি বিনিয়োগে ধস ও সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ: ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে বিদায়
- স্কুল-কলেজে আর চলবে না মনগড়া ফি: নতুন নীতিমালায় কড়া হুঁশিয়ারি
- সেহরি-ইফতার ও তারাবিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- চাকরির টাকায় সংসার না চললে ছেড়ে দিন, দুর্নীতির কোনো ক্ষমা নেই: আইনমন্ত্রী
- কুমিল্লার ইয়াছিনকে বড় পুরস্কার দিয়েছে বিএনপি
- ঐতিহ্যবাহী নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নলতা শরীফ ক্রিকেট একাডেমির নতুন কমিটি
- প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ চালু
- প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত
- ১৮ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ১৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, কী বার্তা দেবেন তারেক রহমান
- স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় বড় নিয়োগ, আবেদন চলছে
- রেমিট্যান্স পাঠাতে জানুন নতুন হার
- বঙ্গভবনে পরিবর্তনের হাওয়া: নতুন রাষ্ট্রপতির অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল
- সাভারে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- বন্ধ হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ
- বিশ্বজুড়ে হঠাৎ অচল ইউটিউব: ভিডিও দেখতে বিপাকে কোটি কোটি মানুষ
- ইফতারের ভুল খাদ্যাভ্যাস থেকে বাঁচতে পুষ্টিবিদদের বিশেষ পরামর্শ
- ইফতারে মৌসুমি ফলের জাদু: সুস্থ থাকতে পুষ্টিবিদদের বিশেষ পরামর্শ
- হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান
- ইতিহাসে প্রথম: অর্থ ও স্বরাষ্ট্রের মতো শীর্ষ দুই মন্ত্রণালয় পেল চট্টগ্রাম
- সুস্বাদু চায়ের রেসিপি: অতিরিক্ত পাতা বা ফোটানো চা ঠিক করার উপায়
- আকাশছোঁয়া স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি: আজ থেকেই দাম কমছে
- জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো ছাড় নয়: জামায়াত আমির
- আজ ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়: বিড়ম্বনা এড়াতে দেখে নিন তালিকা
- ঢাকায় আজকের গুরুত্বপূর্ণ সব কর্মসূচি
- বুধবারের শপিং গাইড: জেনে নিন আজ রাজধানীর কোন কোন মার্কেট বন্ধ
- ১৮ ফেব্রুয়ারির নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন আপনার এলাকার ওয়াক্ত
- ইরানে মার্কিন হামলা হলে পাশে থাকবে তালেবান
- তারেক রহমানের ঐতিহাসিক অভিষেক: ২০ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি
- বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনামে তারেক রহমান
- তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির চিঠি
- সৌদি আরবে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে: প্রথম রোজা বুধবার
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুখবর: রিজার্ভে বড় প্রবৃদ্ধি দেখছে বাংলাদেশ
- লক্ষ্মীপুরের ঘরের ছেলে এখন সরকারের মন্ত্রী: এ্যানির কাঁধে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ভার
- বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত: আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে স্বর্ণের হ্রাসকৃত মূল্য
- রাষ্ট্রপতির আলোচনায় ড. খন্দকার মোশাররফ কুমিল্লা ছেলে
- সাতক্ষীরা সদরে সংস্কার বরাদ্দে অনিয়ম: কাঠগড়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
- এলিয়েনরা কোনো কল্পনা নয়, বাস্তব: ওবামা
- তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বিশাল চমক: বাদ পড়লেন একঝাঁক জ্যেষ্ঠ নেতা
- এশিয়ার দুই দেশে রোজার ঘোষণা: চূড়ান্ত হলো পবিত্র রমজানের দিনক্ষণ
- সেই ‘১০ নম্বর জার্সি’ পরে সংসদে শপথ নিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
- রমজানে স্বস্তি: কালিগঞ্জে টিসিবির স্মার্ট কার্ডে পণ্য সরবরাহ,সাশ্রয়ী মূল্যে চাল-ডাল-তেল
- কুমিল্লায় প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুকে গলা কেটে হত্যা
- রমজানের আগে কুমিল্লার বাজার ঊর্ধ্বমুখী: বেগুন, কাঁচামরিচ ও লেবু বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিভাবক হলেন এহসানুল হক মিলন
- তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন যারা
- ‘সেলফি’ ভবিষ্যদ্বাণী মিলল বাস্তবের সঙ্গে
- প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান
- আবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম, কী কারণ?
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- নির্বাচনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে লন্ডনে উদ্বেগ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
- প্রাথমিকে রোজার ছুটি নিয়ে নতুন তথ্য জানাল অধিদপ্তর
- অগ্নিমূল্য স্বর্ণের বাজার, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়লো ২২১৬ টাকা
- বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়ল দেশের স্বর্ণবাজারে: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের শুভ সূচনা: প্রথম কেন্দ্রের ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে
- এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান
- রুপা স্থির, তবে কেন অস্থির শুধু সোনা
- কালিগঞ্জের ফতেপুরে দখলমুক্ত হল দুই দোকান, মালিক পরিবারের হাতে চাবি
- দাঁড়িয়ে দেখার দিন শেষ, এবার ভোট দিয়ে অধিকার বুঝে নেওয়ার পালা: মির্জা ফখরুল
- সুষ্ঠু ভোট হলে যেকোনো ফলাফল মেনে নেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
- ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের দাপুটে সূচনা: প্রথম কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে লিড








