ইরানে মার্কিন হামলা হলে পাশে থাকবে তালেবান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ০৯:০৮:২৬
ইরানে মার্কিন হামলা হলে পাশে থাকবে তালেবান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশ ইরানকে সহযোগিতার এক প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছে আফগানিস্তানের বর্তমান শাসক গোষ্ঠী তালেবান। তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সাম্প্রতিক এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কখনো ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালায়, তবে আফগান জনগণ ইরানের পাশে দাঁড়াবে এবং প্রয়োজনীয় সহমর্মিতা ও সম্ভাব্য সহযোগিতা প্রদান করবে। তবে এই সহযোগিতার বিষয়টি সরাসরি সামরিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মতো কি না, তা নিয়ে কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন তিনি। মুজাহিদ স্পষ্ট করেছেন যে, আফগানদের সহমর্মিতা থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে তালেবান যোদ্ধারা আগ বাড়িয়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হবে।

সাক্ষাৎকারে জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আরও উল্লেখ করেন যে, তালেবান সরকার মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখার পক্ষপাতি এবং তারা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় কোনো যুদ্ধ দেখতে চায় না। বরং ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিরসনে তারা কূটনৈতিক আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তালেবানের মতে, যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করে মুজাহিদ বলেন, গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সেই সময়ে ইরান অত্যন্ত সফলভাবে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে বলে তালেবান মনে করে। তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে যদি কখনো ইরানের ওপর কোনো বহিঃশত্রুর হামলা হয়, তবে ইরান আগের মতোই নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষা করতে সমর্থ হবে। তালেবানের এই মন্তব্যকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে ইরানের প্রতি এক ধরনের নৈতিক সমর্থন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে তালেবান ও ইরানের মধ্যে চরম মতাদর্শগত বিরোধ ও শত্রুতা থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকে পানি বণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং ইরানে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীদের মানবেতর জীবন ও তাদের প্রত্যাবাসন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিপরীতে তালেবানের এই নমনীয় অবস্থান ও সহযোগিতার ইঙ্গিত প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বাড়তে থাকা নতুন ও উন্নত সম্পর্কের এক শক্তিশালী প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

/আশিক


কুয়েতে ইরানের ড্রোন হামলা, জ্বলছে তেল কমপ্লেক্স

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ০৯:০৪:২৬
কুয়েতে ইরানের ড্রোন হামলা, জ্বলছে তেল কমপ্লেক্স
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, যখন ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ সুয়াইখ তেল সেক্টর কমপ্লেক্সে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে সংঘটিত এই হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলেছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সুয়াইখ অঞ্চলের এই কমপ্লেক্সে কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং তেল মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অবস্থিত। হামলার ফলে এসব স্থাপনার কিছু অংশে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

হামলার পরপরই জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে কুয়েতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাতে প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ড্রোন হামলা সরাসরি সরকারি অফিস কমপ্লেক্সেও আঘাত হেনেছে। এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতির একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন সামরিক ঘটনা নয়; বরং এটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতা। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে ইরান ধারাবাহিকভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

তেহরানের এই পাল্টা কৌশলের অংশ হিসেবে কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত জ্বালানি অবকাঠামো এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারেও সম্ভাব্য অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

-রফিক


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ‘বড় চমক’ দেবে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ০৮:৪৪:৪৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ‘বড় চমক’ দেবে ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান তার যুদ্ধ কৌশল নিয়ে নতুন করে শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে। দেশটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর তালিকা অনুসরণ করেই সামরিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ‘ফারস’ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে, তবে তার মন্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, ইরান দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সামরিক পরিকল্পনার মধ্যেই রয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য একটি ‘অপ্রত্যাশিত বড় চমক’ প্রস্তুত রয়েছে, যা অদূর ভবিষ্যতেই দৃশ্যমান হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই চমক যুদ্ধের গতিপথে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম হতে পারে।

ইরানি কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, দক্ষিণাঞ্চলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো সংঘাতের কৌশলগত ভারসাম্য তেহরানের পক্ষে নিয়ে আসতে পারে। এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি। তার মতে, ওয়াশিংটনের লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন যথাযথ নয় এবং এতে কাঙ্ক্ষিত ফল আসছে না। বিশেষ করে ইরানের অবকাঠামোতে হামলার হুমকি প্রসঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানকে ‘অবাস্তব’ ও ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ বলে উল্লেখ করেন।

তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া এবং কিছু সামরিক অভিযানে ব্যর্থতার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য আসছে, যা মূলত চাপের প্রতিফলন। এই ধরনের মন্তব্যকে তিনি কৌশলগত দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও অভিহিত করেন।

সূত্র: আল-জাজিরা


তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক! উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ২২:০৪:০০
তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক! উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিপর্যয় ঘটলে এর প্রভাব কেবল ইরানের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো বিশেষ করে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ভুক্ত দেশগুলোর রাজধানীগুলো সরাসরি প্রাণঘাতী ঝুঁকির মুখে পড়বে।

আরাগচি পশ্চিমাদের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে দাবি করেন, ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্র নিয়ে বিশ্ব যেভাবে সোচ্চার হয়েছিল, বুশেহরের ক্ষেত্রে তেমন কোনো বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে চারবার এই স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

যদিও ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। হামলার প্রকৃত উৎস এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা থাকলেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন।

/আশিক


ইরানকে দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে সোমবার: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ২১:৩০:০০
ইরানকে দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে সোমবার: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এক চরম এবং চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই সময়সীমা বা ডেডলাইন ঘোষণা করে তেহরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

ট্রাম্প ইরানকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তিনি এর আগে দেশটিকে একটি চুক্তিতে আসার অথবা গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি খুলে দেওয়ার জন্য যে ১০ দিনের সময় দিয়েছিলেন, তার আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি আছে। সময় শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের ওপর ভয়াবহ সামরিক আক্রমণ শুরু হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে দেওয়া সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিলেন। সেই হিসেবে সোমবারই হচ্ছে ট্রাম্পের দেওয়া চূড়ান্ত ডেডলাইন। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প এই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

ট্রাম্প তাঁর এই পোস্টে ‘গ্লোরি বি টু গড’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে নিজের অনড় মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এই আল্টিমেটামকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং এখন দেখার বিষয় হচ্ছে এই শেষ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তেহরান তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে কি না। অন্যথায় ওই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এখন তীব্র হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।


নিজের এলাকায় বোমা ফেলল ইসরায়েলি হেলিকপ্টার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ২০:২৪:২২
নিজের এলাকায় বোমা ফেলল ইসরায়েলি হেলিকপ্টার
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে যে, তাদের একটি সামরিক হেলিকপ্টার থেকে ভুলবশত উত্তর ইসরায়েলের একটি উন্মুক্ত জনহীন এলাকায় বোমা ফেলার ঘটনা ঘটেছে। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটে যখন হেলিকপ্টারটি নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আকাশে অবস্থান করছিল।

আইডিএফ দ্রুত এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, বোমাটি জনশূন্য এলাকায় পড়ায় এই ঘটনায় কোনো ধরনের হতাহত বা জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং বিশেষ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল পাঠিয়ে অবিস্ফোরিত বোমাটি নিরাপদে উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করে।

সামরিক কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে একটি যান্ত্রিক বা মানবিক "ভুল" হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বর্তমানে উত্তর ইসরায়েলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও এই ঘটনা সামরিক প্রস্তুতির সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


ইরান যুদ্ধে সাতটি যুদ্ধবিমান হারালো যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৫:৪৯:৩২
ইরান যুদ্ধে সাতটি যুদ্ধবিমান হারালো যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। সর্বশেষ দুইটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ার পর মোট হারানো মার্কিন বিমানের সংখ্যা অন্তত সাতটিতে পৌঁছেছে, যা সংঘাতের তীব্রতা ও জটিলতা সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, শুক্রবার পৃথক দুটি ঘটনায় একটি এফ-৩৫ এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। এর আগে সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে আরও পাঁচটি বিমান হারানোর ঘটনা ঘটেছে, যা ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।

২ মার্চ কুয়েতের আকাশে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ঘটনাটি ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজস্ব বাহিনীর ভুলবশত হামলার ফল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত, ওই ঘটনায় ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।

এরপর ১২ মার্চ ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয়জন মার্কিন বিমানকর্মীর মৃত্যু ঘটে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এটি শত্রুপক্ষের হামলার কারণে নয়; বরং অপারেশন চলাকালে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে দুর্ঘটনাজনিত সংঘর্ষের ফল।

২৭ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে ইরানের হামলায় একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান মাটিতেই ধ্বংস হয়ে যায়। একই হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনা আহত হন এবং একটি ট্যাঙ্কার বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এছাড়া একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ইরানের সম্ভাব্য হামলার কারণে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে, যা এই সংঘাতে আকাশযুদ্ধের ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধবিমানের এ ধরনের ধারাবাহিক ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধাক্কা। এটি শুধু সামরিক সক্ষমতার প্রশ্নই নয়, বরং আকাশ প্রতিরক্ষায় ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটা কার্যকর হয়ে উঠেছে, সেই বিতর্ককেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

সব মিলিয়ে, এই ক্ষয়ক্ষতি প্রমাণ করে যে বর্তমান সংঘাত শুধু স্থল বা সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আকাশপথেও একটি উচ্চমাত্রার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন


গোপনে চীন থেকে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির রাসায়নিক সরবরাহ, বিশ্লেষণে টেলিগ্রাফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৩:৪৩:১৪
গোপনে চীন থেকে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির রাসায়নিক সরবরাহ, বিশ্লেষণে টেলিগ্রাফ
ছবি: সংগৃহীত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা চালাতে থাকে, যার ফলে গোটা অঞ্চল ক্রমেই অস্থির হয়ে ওঠে।

এই সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুটটি অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে শুরু করে।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, চীন এই সংঘাতে পরোক্ষভাবে ইরানকে সহায়তা করছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনা বন্দর থেকে যাত্রা করা কয়েকটি জাহাজ ইরানে পৌঁছেছে, যেগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান বহন করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Telegraph-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অন্তত চারটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ দেশটির বন্দরে নোঙর করেছে এবং আরও একটি জাহাজ উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এসব জাহাজ চীনের ঝুহাই অঞ্চলের গাওলান বন্দর থেকে রওনা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব জাহাজে বহন করা সোডিয়াম পারক্লোরেট নামের রাসায়নিকটি কঠিন জ্বালানিভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সম্ভব, যা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতে ইরান দ্রুত ক্ষয়িষ্ণু ক্ষেপণাস্ত্র মজুত পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে এবং এই আমদানি সেই কৌশলেরই অংশ। CNN-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো অক্ষত রয়েছে, যা পূর্ববর্তী কিছু দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এতে বোঝা যায়, ইরানের সামরিক অবকাঠামো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বরং তারা বিকল্প ও ছড়িয়ে থাকা উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসব জাহাজ Islamic Republic of Iran Shipping Lines-এর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়াতে নানা কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা, ভুয়া গন্তব্য প্রদর্শন এবং নাম পরিবর্তনের মতো পদ্ধতি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সময়গত দিক থেকেও এই সরবরাহ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চলমান যুদ্ধে ইরান ব্যাপক হারে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে এবং তাদের মজুত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন কাঁচামাল আমদানি তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আরও কিছুদিন বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গোলবান’ ও ‘জাইরান’ নামের দুটি জাহাজের বহনক্ষমতা বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান অতিরিক্ত প্রায় ৭৮৫টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের মতো কাঁচামাল সংগ্রহ করেছে। এর ফলে তারা অন্তত আরও এক মাস প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।

চীনের ভূমিকা নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বেইজিং সরাসরি সামরিক সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, বিশ্লেষকদের মতে তারা বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে কৌশলগত সহায়তা অব্যাহত রাখছে।

তবে এই কৌশল চীনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ ভারসাম্যের বিষয়। কারণ, উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের বড় বিনিয়োগ রয়েছে, যা এই সংঘাতের কারণে হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার একটি জটিল সংকটে পরিণত হয়েছে।

সূত্র:দ্য টেলিগ্রাফ


হরমুজ প্রণালিতে নতুন পথ! ইরানের চোখ ফাঁকি দিয়ে পার হলো ভারতীয় জাহাজ?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১২:৫৬:২৩
হরমুজ প্রণালিতে নতুন পথ! ইরানের চোখ ফাঁকি দিয়ে পার হলো ভারতীয় জাহাজ?
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন আশার আলো জাগিয়ে এক বিকল্প ও নিরাপদ রুট ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছেছে ভারতীয় কার্গো জাহাজসহ মোট চারটি বিশালাকার বাণিজ্যিক জাহাজ। ওমানের আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জলসীমার ঝুঁকি এড়িয়ে এই জাহাজগুলো সফলভাবে প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে শনিবার (৪ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই নিরাপদ রুটটি ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের ভেতর দিয়ে গেছে, যা সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে লজিস্টিকস ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বহরে ছিল মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী তেলবাহী সুপার ট্যাংকার ‘হাবরুত’ ও ‘ধালকুট’, পানামা পতাকাবাহী এলএনজি জাহাজ ‘সোহর’ এবং ভারতীয় পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এমএসভি কিউবা এমএনভি ২১৮৩’।

এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলের কাছ দিয়ে ওমানের জলসীমানায় প্রবেশ করার পর মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) সিগন্যাল বন্ধ করে দেয় যাতে ইরানি রাডারে ধরা না পড়ে। পরবর্তীতে মাস্কাট উপকূল থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে সেগুলোকে পুনরায় শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ‘হাবরুত’ ও ‘ধালকুট’ জাহাজ দুটি যথাক্রমে সৌদি আরব ও আমিরাতের প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বহন করছিল। উল্লেখ্য যে, বিশ্বে মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে ইরানের হামলার ভয়ে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছিল।

অন্যদিকে, ইরানও তাদের নিজস্ব জলসীমার ভেতর দিয়ে কেশম ও লারাক দ্বীপের মাঝ দিয়ে একটি বিকল্প রুট চালু করেছে, তবে সেখানে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে বিশেষ অনুমতি এবং তেলের পরিমাণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শুল্ক দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিকল্প ওমানি রুটটি ব্যবহার সফল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকটের উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক


ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের করুণ দশা! এক সেনাকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১২:২৯:৩৮
ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের করুণ দশা! এক সেনাকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি
ছবি : সংগৃহীত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সংঘাত এখন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তেহরানের ওপর পশ্চিমা আগ্রাসনের জবাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যে পাল্টা আঘাত হানছে, তাকে সামরিক বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একবিংশ শতাব্দীর ‘ডুমসডে’ বা ধ্বংসের দিনের নমুনা হিসেবে অভিহিত করছেন। বিশেষ করে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) যুদ্ধের ৩৫তম দিনে মার্কিন বিমানবাহিনীর ওপর ইরান যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা গত কয়েক দশকের ইতিহাসে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে কলঙ্কজনক ও ক্ষয়ক্ষতিপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুই ডজন আকাশযান বিধ্বস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমান এবং স্থল সেনাদের সহায়তায় ব্যবহৃত একটি এ-১০ ওয়ার্টহগ (A-10 Warthog) ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা। এছাড়া ইরানের মধ্যাঞ্চলে বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ বিমানের পাইলটদের উদ্ধার করতে গিয়ে দুটি মার্কিন হেলিকপ্টারও ইরানি বাহিনীর সরাসরি হামলার মুখে পড়ে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, এই একদিনেই তারা একটি এফ-১৫ই ধ্বংস, একটি এফ-১৬-এ আঘাত, দুটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি হেলিকপ্টারে আঘাত এবং তিনটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনসহ বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল ভূপাতিত করেছে। এমনকি ইরাকের আকাশে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমান ও স্ট্রাটোট্যাঙ্কারগুলোকেও জরুরি সংকেত 'কোড ৭৭০০' প্রেরণ করতে দেখা গেছে, যা মার্কিন বাহিনীর চরম বিপর্যয়ের প্রমাণ দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে এই ক্ষয়ক্ষতি একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় ধাক্কা। এর আগে ১৯৪৪ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নরম্যান্ডি আক্রমণ কিংবা আফগান ও ইরাক যুদ্ধেও একদিনে এত বিপুল সংখ্যক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও আকাশযান হারানোর নজির খুব একটা নেই।

গত ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘মিনিটম্যান-৩’ আইসিবিএম বা ‘ডুমসডে মিসাইল’ পরীক্ষা করে যে শক্তির প্রদর্শন করতে চেয়েছিল, ইরান যেন ঠিক তার পাল্টা জবাব দিল রণক্ষেত্রে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এই পরিস্থিতি বিশ্বমঞ্চে এক চরম বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর অবস্থায় পরিণত হয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: