সুষ্ঠু ভোট হলে যেকোনো ফলাফল মেনে নেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ০৯:৪৪:৩১
সুষ্ঠু ভোট হলে যেকোনো ফলাফল মেনে নেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান 
ভোট দিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় অবস্থিত মনিপুর বয়েজ হাই স্কুল কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান করেন তিনি। ভোট দিয়ে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত অথচ আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, "দীর্ঘ অনেক বছর পর আজ ভোট দিতে পারলাম। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারাগারে বন্দি থাকার কারণে আমি নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আজ মহান আল্লাহ তায়ালা সেই সুযোগ করে দিয়েছেন।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচন কেবল শান্তিপূর্ণ ও সন্ত্রাসমুক্তই হবে না, বরং দেশ-বিদেশে সবার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য নজির স্থাপন করবে।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জামায়াত আমিরের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "ভোট যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তবে জনগণের রায়ে যে ফলাফলই আসুক না কেন, আমরা তা বিনাবাক্যে মেনে নেব। একইসাথে আমি জয়ী এবং পরাজিত—সব পক্ষকেই জনগণের এই রায়কে সম্মান জানিয়ে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।" ডা. শফিকুর রহমান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব সরকারের স্বপ্ন তুলে ধরে বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে, তা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের পকেট সরকার হবে না; বরং তা হবে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার। দেশের উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। সারাদেশে ২৯৯টি আসনে যে বিশাল ভোটগ্রহণ চলছে, সেখানে ৪২ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতিকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার পরামর্শ দিলেও বড় কোনো অনিয়ম বা জালিয়াতির ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। প্রায় ৯ লাখেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সহস্রাধিক ম্যাজিস্ট্রেটের নজরদারিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।


দাঁড়িয়ে দেখার দিন শেষ, এবার ভোট দিয়ে অধিকার বুঝে নেওয়ার পালা: মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ০৯:৪০:০৩
দাঁড়িয়ে দেখার দিন শেষ, এবার ভোট দিয়ে অধিকার বুঝে নেওয়ার পালা: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকালের সোনালি রোদে নিজের জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তাঁর কণ্ঠে ঝরে পড়েছে নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন। ফখরুল বলেন, "আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের জন্য এক শুভ সূচনার দিন। দীর্ঘকাল ধরে চলা দমন-পীড়ন, অনেক রক্তপাত আর অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ এই ভোট দেওয়ার পরিবেশ ফিরে পেয়েছি। ২৪-এর জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা, কৃষক ও শ্রমিকের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা যে নতুন দেশ পেয়েছি, সেই দেশের গণতন্ত্রের যাত্রা আজ থেকে আবার নতুন করে শুরু হলো।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই গণতান্ত্রিক পথ আগামী দিনে আরও মসৃণ হবে এবং মানুষের জীবন, রাজনীতি ও অর্থনীতিকে এক সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে জানান যে, আজকের এই দিনটির জন্য তাঁরা অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই পারে বাংলাদেশে রাজনীতির নতুন অধ্যায় উন্মোচন করতে। ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা অনেক সংগ্রাম করেছি এই দিনটির জন্য। আজ ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে আসছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।" তিনি আরও যোগ করেন যে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধার হবে। বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্য ঠাকুরগাঁওসহ সারাদেশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে, যারা দীর্ঘকাল পর একটি উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশের সাক্ষী হচ্ছেন।


 ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ০৯:০৯:১০
 ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মহা-ভোটের দিনে আজ সকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার এ কে এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ঢাকা-১১ আসনের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ভোট প্রদান শেষে কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় এক গণতান্ত্রিক ও সহনশীল মানসিকতার পরিচয় দেন। নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, "জনগণের রায় যেটাই হোক, আমরা তা হাসিমুখে মেনে নেব। আমাদের কাছে ব্যক্তিগত জয় বা পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় হলো দেশের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে এবং সুষ্ঠুভাবে তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভোটটি দিতে পারে।" তাঁর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নির্বাচনী মাঠে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে ১১ দলীয় জোটের সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, সারাদেশের ভোটারদের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে, তাতে ১১ দলীয় জোট এখন সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, যদি নির্বাচনের পরিবেশ শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ থাকে এবং ভোট গণনা স্বচ্ছ হয়, তবে তাঁর জোট বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে আসবে। তবে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে তিনি প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে এর আগে আইনি লড়াইও চালিয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, নাহিদ ইসলাম ড. কাইয়ুমের দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগে তাঁর প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেছিলেন। যদিও আদালত সেই শুনানি নির্বাচনের পর অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিয়েছেন, ফলে আজকের এই ব্যালট যুদ্ধে দুজনেই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন।

ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনটি (বাড্ডা-ভাটারা-রামপুরা) রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভোটারের এই আসনে আজ সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের দীর্ঘ সারি নির্দেশ করছে যে, তাঁরা তাঁদের আগামীর প্রতিনিধি নির্বাচনে অত্যন্ত সচেতন। এই আসনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম এবং এনসিপি’র নাহিদ ইসলামের মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই আসনের প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। নাহিদ ইসলাম আশা করছেন, এই প্রযুক্তিনির্ভর এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দিনশেষে জনগণের প্রকৃত ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটবে।


অসুস্থ রিজভীকে দেখতে হাসপাতালে তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ২১:৪৩:০৪
অসুস্থ রিজভীকে দেখতে হাসপাতালে তারেক রহমান
রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে গেছেন তারেক রহমান / ছবি : বিএনপির মিডিয়া সেল

নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে অসুস্থ দলীয় সহযোদ্ধার পাশে দাঁড়ালেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে গিয়েছেন তিনি। বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এই খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকেই জ্বর, ঠান্ডা ও তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন রিজভী।

রিজভীর ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারেক রহমান হাসপাতালে গিয়ে তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন। নির্বাচনের এই ব্যস্ত সময়েও দলীয় প্রধানের এমন পরিদর্শন কর্মীদের মধ্যে বড় আবেগ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।


এবার আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবো না, জালিয়াতি রুখে দেব: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ২১:০৬:৩৮
এবার আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবো না, জালিয়াতি রুখে দেব: আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ভোট কারচুপি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে জানান, অতীতের মতো এবার আর জালিয়াতি মুখ বুজে সহ্য করা হবে না। আসিফ মাহমুদ বলেন, "এবার আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবো না। কেউ যদি জাল ভোট দিতে আসে বা সিল মেরে ব্যালট নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।" তিনি শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, ১৪শ শহীদের রক্ত ও হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ দেশ এই নির্বাচনের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে তিনি দেশবাসীকে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, "ভোট যাকেই দিন, অবশ্যই কেন্দ্রে আসবেন। নিজের ভোট দেওয়ার পাশাপাশি অন্যের ভোটও যেন নিশ্চিত হয়, সেদিকে নজর রাখুন।" এনসিপি নেতা দাবি করেন, ১১ দলীয় জোট নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে আছে এবং এই জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়ে আসিফ মাহমুদ অত্যন্ত কড়া বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগে অনেক মিডিয়া হাউস পক্ষপাতিত্ব করেছে যাদের তখন ছাড় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এবারের নির্বাচনে যদি কোনো মিডিয়া অসততা বা পক্ষপাতের আশ্রয় নেয়, তবে নির্বাচনের পর তাদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি জানান, কাদের ভূমিকা কেমন তা নোট রাখা হচ্ছে এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে নিরপেক্ষ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনীর বলিষ্ঠ ভূমিকাকে তিনি সাধুবাদ জানান।


ভোটের বাধা রুখতে জনতার প্রতিরোধ গড়ার ডাক দিলেন জামায়াত নেতা জুবায়ের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৯:১২:১৪
ভোটের বাধা রুখতে জনতার প্রতিরোধ গড়ার ডাক দিলেন জামায়াত নেতা জুবায়ের
ব্রিফ করছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ যদি ভোটের পরিবেশ নষ্ট বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা দাঁতভাঙা জবাবের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। জুবায়ের অভিযোগ করেন যে, একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বারবার বিভিন্ন দিক থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা জনমনে উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।

বৈঠক শেষে দেওয়া বক্তব্যে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটকের ঘটনাটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগের দিন একজন শীর্ষ স্থানীয় নেতাকে এভাবে বিপুল নগদ টাকাসহ আটকের নাটক সাজানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি অবিলম্বে বেলাল উদ্দিন প্রধানকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার দাবি জানান এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। জুবায়েরের দাবি অনুযায়ী, জব্দকৃত অর্থ কোনোভাবেই নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের জন্য ছিল না, বরং তা ছিল সম্পূর্ণভাবে বেলাল উদ্দিনের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ।

একই সময়ে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কোনো তথ্য যেন ‘অপতথ্য’ হিসেবে প্রচারিত না হয় সেদিকে সতর্ক নজর রাখতে হবে। তিনি বলেন, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমেই কেবল একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, প্রশাসন বা কোনো গোষ্ঠী যদি নির্দিষ্ট কোনো দলের দিকে ঝুঁকে পড়ে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করার চেষ্টা করে, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না। জামায়াতে ইসলামী যেকোনো মূল্যে ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়া এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে রাজপথে সক্রিয় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


শীর্ষ আলেম-উলামাদের সমর্থনে আবেগাপ্লুত তারেক রহমান, জানালেন গভীর কৃতজ্ঞতা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৮:৫৮:৩৩
শীর্ষ আলেম-উলামাদের সমর্থনে আবেগাপ্লুত তারেক রহমান, জানালেন গভীর কৃতজ্ঞতা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে দেশের শীর্ষস্থানীয় পীর, মাশায়েখ এবং আলেম-উলামাদের পক্ষ থেকে বিএনপির প্রতি অভাবনীয় সমর্থনের জোয়ার আসায় গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদে দেশের নানা ঘরানার ইসলামী নেতৃবৃন্দের সমর্থনের খবর পাওয়ার পর তিনি এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান। তারেক রহমান মনে করেন, এই দুঃসময়ে আলেম সমাজের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান কেবল বিএনপিকে শক্তিশালী করবে না, বরং দেশের সাধারণ মানুষকেও সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দেবে।

বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, জাতির একটি ঐতিহাসিক ও ক্রান্তিলগ্নে দেশের শীর্ষ আলেম ওলামারা যে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন, তা জনগণকে তাদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সাহসী করে তুলবে। তিনি বিশ্বাস করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল হিসেবে বিএনপির বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, আলেম সমাজের এই স্পষ্ট বক্তব্য সেই মিথ্যার দেয়াল ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠায় করণীয় সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি দেশের সম্মানিত আলেম ওলামাদের এই অকুতোভয় সমর্থনকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে দেখছেন। তিনি ভবিষ্যতেও ইসলামী মূল্যবোধের আলোয় দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় পীর, মাশায়েখ, ইমাম ও খতিবদের অব্যাহত সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন। তারেক রহমান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, আলেম সমাজের এই আশীষ ও জনসমর্থন আগামীর একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত করবে।


বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদকে সমর্থন জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের জাবেরের পোস্ট

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৮:৪৫:৫৫
বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদকে সমর্থন জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের জাবেরের পোস্ট
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবের প্রতি বিশেষ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি এই সমর্থন ব্যক্ত করেন। জাবেরের এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আবদুল্লাহ আল জাবের তাঁর পোস্টে হাবিবুর রশিদ হাবিবের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি এবং এনসিপির প্রার্থী নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারীর কথাও উল্লেখ করেন। তিনি লিখেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে এঁদের জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু তা তিনি জানেন না এবং দল হিসেবেও তাঁদের অবস্থান ভিন্ন। তবে একটি বিশেষ কারণে তিনি এঁদের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট ও স্বতঃস্ফূর্ত। জাবেরের ভাষ্যমতে, এই প্রার্থীরা হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে অত্যন্ত সাহসী ও জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। তাঁরা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ক্ষমতায় গেলে হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করবেন। মূলত ইনসাফ কায়েমের এই দৃঢ় অঙ্গীকারই জাবেরকে তাঁদের প্রতি সমর্থন জানাতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

পোস্টে আবদুল্লাহ আল জাবের একটি নিরপেক্ষ ও সচেতন অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, "আমরা তাঁদের জন্য সরাসরি ভোট চাইছি না। আপনি অবশ্যই আপনার দৃষ্টিতে যাকে সবথেকে সৎ এবং যোগ্য মনে হবে তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।" তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করে দেন যে, যারা বা যে প্রার্থীরা হাদি ভাইয়ের হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার থাকবেন এবং ইনসাফের লড়াইয়ে অকুতোভয় ভূমিকা পালন করবেন, তাঁদের প্রতি ইনকিলাব মঞ্চ এবং তাঁর ব্যক্তিগত সীমাহীন ভালোবাসা ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন সবসময় থাকবে। তিনি মনে করেন, যুগ যুগ ধরে আজাদীর সন্তানরা এই জমিনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফ কায়েমের জন্য এভাবেই লড়াই চালিয়ে যাবে। জাবেরের এই বার্তাটি মূলত রাজনৈতিক আনুগত্যের চেয়েও বড় করে ইনসাফ ও ন্যায়ের আদর্শকে তুলে ধরেছে।


ইসলামী পোশাকের অপব্যবহার রুখুন: মাহদী আমিন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৭:৫৫:০৮
ইসলামী পোশাকের অপব্যবহার রুখুন: মাহদী আমিন
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বোরকা বা নেকাবের মতো ইসলামী পোশাক ব্যবহার করে জাল ভোট দেওয়ার অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বুধবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ বোরকা ও নেকাব তৈরির তথ্য তাদের কাছে এসেছে, যা নির্বাচনে অসাধু উদ্দেশ্যে ব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি করছে। মাহদী আমিন স্পষ্ট করে বলেন যে, বিএনপি ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল হিসেবে নারীর পর্দা ও আব্রুর প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল, তবে এই পবিত্র পোশাককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যদি পরিচয় গোপন করে কারচুপি করতে চায়, তবে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

পরিচয় নিশ্চিত করার পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ দিতে গিয়ে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, সন্দেহজনক ভোটারের ক্ষেত্রে এনআইডি বা হজের সময় ছবি তোলার মতো করে মুখমণ্ডলের প্রয়োজনীয় অংশ অনাবৃত করে পরিচয় যাচাই করতে হবে। তবে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে তিনি নারী প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার বা নারী এজেন্টের উপস্থিতিতে এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সমাজে নারীদের অধিকার ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং একইসাথে স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতেও সচেষ্ট।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আমির আটকের ঘটনাটি উল্লেখ করে বলেন, এটিকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলকে সহিংসতা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। দেশব্যাপী বিএনপির প্রতি যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, তাতে শামিল হয়ে আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে দ্রুত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, কারচুপি রুখে দিতে পারলে এই নির্বাচনে জনগণের আকাঙ্ক্ষার জয় হবে এবং গণতন্ত্র রক্ষার শক্তি হিসেবে বিএনপি এক অবিস্মরণীয় বিজয় ছিনিয়ে আনবে।


৫০ নয়, জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিনের ব্যাগে ছিল ৭৪ লাখ টাকা 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৭:৪২:১৮
৫০ নয়, জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিনের ব্যাগে ছিল ৭৪ লাখ টাকা 
ছবি: যুগান্তর

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের ব্যাগ তল্লাশি করে মোট ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাকা গণনার কাজ শেষ করার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এই সঠিক অঙ্কটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে উদ্ধারকৃত টাকার পরিমাণ ৫০ লাখ হতে পারে, কিন্তু পরবর্তীতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গণনা শেষে দেখা যায় সেখানে মোট ৭৪ লাখ টাকা ছিল। বেলাল উদ্দিন প্রধান পেশায় ঠাকুরগাঁওয়ের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগী অধ্যাপক এবং তিনি ওই জেলার পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে এত বড় অঙ্কের টাকা উদ্ধারের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বেলাল উদ্দিন ঢাকা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর গতিবিধি ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে। একপর্যায়ে তাঁর সাথে থাকা ব্যাগটি তল্লাশি করা হলে সেখানে স্তূপ করা নগদ টাকা পাওয়া যায়। বিমানবন্দরের ম্যানেজার জাকারিয়া গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ব্যাগ তল্লাশির সময় বেলাল উদ্দিন নিজেই সেখানে ৭৪ লাখ টাকা থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন। নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযানটি চালানো হয়েছে এবং সবার সামনেই ব্যাগটি খুলে টাকাগুলো জব্দ করা হয়েছে। আটকের পর জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কড়া পুলিশি পাহারায় চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে আটক অবস্থায় জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিন প্রধান দাবি করেছেন যে, উদ্ধারকৃত ৭৪ লাখ টাকা নির্বাচনের কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য নয়, বরং এটি তাঁর ব্যবসার টাকা। তিনি অভিযোগ করেন যে, জামায়াত নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এবং রাজনৈতিক অপপ্রচার চালাতেই একটি বিশেষ চক্র এই ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তাঁর ব্যক্তিত্ব ও পারিবারিক ঐতিহ্য সম্পর্কে ঠাকুরগাঁওয়ে খোঁজ নিলেই সব সত্য পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে নগদ টাকা পরিবহনের বৈধতা ও উৎস নিয়ে পুলিশ গভীর তদন্ত শুরু করেছে। সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানিয়েছেন, জব্দকৃত টাকা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত: