বন্ধ হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ১১:৩০:৫৩
বন্ধ হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল পেজ থেকে একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে এই ঘোষণা প্রদান করা হয়। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ‘Chief Adviser GOB (Head of the Government)’ নামের এই পেজটি এখন থেকে আর সক্রিয় থাকবে না। গত ১৮ মাসের দীর্ঘ পরিক্রমায় সরকারের সব কার্যক্রম ও তথ্য প্রচারের প্রধান মাধ্যম ছিল এই পেজটি, যা এখন থেকে ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছে।

পেজটির বিদায়ী পোস্টে জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, গত দেড় বছর ধরে সাধারণ মানুষের অকুন্ঠ সমর্থন, আগ্রহ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ এই যাত্রাকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ ও গতিশীল করেছে। জনগণের পক্ষ থেকে আসা গঠনমূলক সমালোচনা ও সহযোগিতাকে সরকার অত্যন্ত সম্মানের সাথে গ্রহণ করেছে এবং এই পথচলায় যারা পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই ফেসবুক পেজটি খোলা হয়েছিল, যার বর্তমান অনুসারী সংখ্যা ৪৪ লাখেরও বেশি।

অন্তর্বর্তী সরকারের এই বিদায়ী বার্তার ঠিক আগের দিনই দেশে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের পরিচালনায় প্রথমে বিএনপি এবং পরে ১১ দলীয় জোটসহ অন্যান্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।

নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ফলে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সব দাপ্তরিক ও প্রচার কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার এই জনপ্রিয় পেজটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। গত ১৮ মাসের উত্তাল রাজনৈতিক সময় এবং সংস্কার প্রক্রিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ আপডেট এই পেজটির মাধ্যমেই দেশ ও বিদেশের মানুষের কাছে পৌঁছাত। নতুন সরকার গঠনের পর এখন থেকে সব সরকারি তথ্য ও আপডেট নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্ধারিত মাধ্যমগুলো থেকে প্রচার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


তারেক রহমানের ঐতিহাসিক অভিষেক: ২০ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ০৯:০২:৪৬
তারেক রহমানের ঐতিহাসিক অভিষেক: ২০ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি
ছবি : কালবেলা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গৌরবময় ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে ১৭তম প্রধানমন্ত্রী (ব্যক্তি হিসেবে ১১তম) হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষা এবং ১৭ বছরের কণ্টকাকীর্ণ রাজনৈতিক প্রবাস জীবন শেষে তাঁর নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক অভূতপূর্ব ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি। এর আগে সকালেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সাদা জামা ও কালো কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। এই অভিষেকের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের নারী নেতৃত্বের বলয় ভেঙে প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হলো। তাঁর নবগঠিত মন্ত্রিসভায় দেখা গেছে অভিজ্ঞ প্রবীণ এবং সম্ভাবনাময় তরুণ নেতৃত্বের এক চমৎকার ভারসাম্য। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার ৫০ জন সদস্যই গতকাল শপথ নিয়েছেন। তবে এই মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. খলিলুর রহমানকে, যাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার এই গঠনে একদিকে যেমন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো অভিজ্ঞরা রয়েছেন, তেমনি বাদ পড়েছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন বা ড. মঈন খানের মতো দীর্ঘদিনের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল বর্ণাঢ্য এবং আন্তর্জাতিক মানের। সংসদ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রীসহ ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, তিন বাহিনীর প্রধান এবং কূটনৈতিক কোরের সদস্যসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থলটি মুখরিত ছিল। তারেক রহমান তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সাথে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করলে উপস্থিত সুধীবৃন্দ দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর তারেক রহমান সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট দলিলে স্বাক্ষর করেন।

তারেক রহমানের এই মন্ত্রিসভার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর তারুণ্যনির্ভরতা। মন্ত্রিসভার মোট ৫০ জন সদস্যের মধ্যে ৪১ জনই এবারই প্রথম মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় থাকা ২৫ জনের মধ্যে ১৬ জনই নতুন মুখ। এই তালিকায় রয়েছেন অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, জহির উদ্দিন স্বপন এবং সাবেক ডাকসু নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির মতো পরিচিত মুখগুলো। অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ২৪ জনের সবাই প্রথমবারের মতো সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। এই নতুনদের তালিকায় বিশেষ চমক হিসেবে রয়েছেন ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত নুরুল হক নুর, জোনায়েদ সাকি এবং ববি হাজ্জাজের মতো আলোচিত ব্যক্তিরা। এছাড়া ইশরাক হোসেন ও শামা ওবায়েদের মতো তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী নেতারাও এই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।

অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ধারায় মন্ত্রিসভায় পুরোনো ৯ জন নেতা জায়গা পেয়েছেন যাঁরা এর আগে খালেদা জিয়ার সরকারে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০০১ সালে কৃষি ও বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সালাহউদ্দিন আহমদ যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া বীরবিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর আগে পানিসম্পদ ও পাটমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ও নিতাই রায় চৌধুরী এর আগে এরশাদ ও খালেদা জিয়া উভয়ের আমলেই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। চাঁদপুর থেকে নির্বাচিত আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর পূর্বের সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আবারও মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জনই এবার প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন, যা জাতীয় সংসদে এক ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব কাজী আবুল বাশারের মতো জ্যেষ্ঠ নেতারা এই নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং এই তারুণ্যনির্ভর মন্ত্রিসভা দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।

/আশিক


তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির চিঠি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ২১:৩৫:৩৩
তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির চিঠি
তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন ও উষ্ণ অধ্যায় সূচিত হলো। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের নতুন সরকারের ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে পাঠানো একটি বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা ও আমন্ত্রণপত্র তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নিজে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই ব্যক্তিগত চিঠিটি তুলে দেন। চিঠিতে নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাঁকে সুবিধাজনক দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার জমকালো শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় তিনি বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সেই বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে ওম বিড়লা চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি অত্যন্ত গঠনমূলক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো শুভকামনা সম্বলিত চিঠিটি তিনি হস্তান্তর করেছেন। চিঠিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠক সম্পর্কে ওম বিড়লা আরও জানান যে, ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও ঐতিহাসিক অংশীদারত্বকে আরও গভীর এবং সুসংহত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন উষ্ণ অভিনন্দন ও সফরের আমন্ত্রণ দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সাথে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিভাবক হলেন এহসানুল হক মিলন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৭:৪০:১৬
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিভাবক হলেন এহসানুল হক মিলন
আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হচ্ছে নতুন সরকারের। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়নের গুরুদায়িত্ব নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন চাঁদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আ ন ম এহসানুল হক মিলন। মঙ্গলবার সকালে বিএনপি এবং সচিবালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া আ ন ম এহসানুল হক মিলনের শিক্ষা খাতে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নকলমুক্ত পরীক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন করে ব্যাপক আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছিলেন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুর-১ আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় ফিরছেন। তাঁর এই নিযুক্তি দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যক্তিগত ও শিক্ষা জীবনে এহসানুল হক মিলন অত্যন্ত মেধাবী একজন ব্যক্তিত্ব। ১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুরের কচুয়ায় জন্মগ্রহণ করা এই নেতা ঢাকার শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক শেষ করে ১৯৮২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি ব্রুকলিন কলেজ ও বোরো অব ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে শিক্ষকতা করেছেন এবং ওষুধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কারিগরি শিক্ষার ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন, যা তাঁর কর্মক্ষেত্রে বিশেষ পাণ্ডিত্য যোগ করেছে।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৬:১৮:২৬
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের শপথ নেন। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর এটি ছিল তার নেতৃত্বে নতুন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সূচনা।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে প্রধানমন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শপথ অনুষ্ঠানের আগে দক্ষিণ প্লাজা ও সংসদ ভবন এলাকাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের সুযোগ পায়। সেই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণকে দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

-রাফসান


বেতনের বাইরে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের কী কী সুবিধা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৪:৫৫:৩৯
বেতনের বাইরে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের কী কী সুবিধা
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিপরিষদ। বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাঁরা যাচ্ছেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী তাঁদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে মন্ত্রীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জনমনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বেতন ও সুবিধা

২০১৬ সালে সংশোধিত ‘প্রধানমন্ত্রীর পারিশ্রমিক ও বিশেষাধিকার আইন’ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাসিক এক লাখ ১৫ হাজার টাকা বেতন পান। এর পাশাপাশি মাসে এক লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া এবং দৈনিক তিন হাজার টাকা ভাতা নির্ধারিত রয়েছে। তিনি একটি সরকারি বাসভবন পান, যার রক্ষণাবেক্ষণ, সজ্জা ও সকল ইউটিলিটি ব্যয় সরকার বহন করে।

মন্ত্রীর বেতন ও প্রাপ্য সুবিধা

‘মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পারিশ্রমিক ও বিশেষাধিকার আইন (সংশোধন), ২০১৬’ অনুযায়ী একজন মন্ত্রীর মাসিক বেতন এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা। এই বেতন করমুক্ত। ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতা ও চিফ হুইপও সমপরিমাণ বেতন পান।

মন্ত্রীদের দৈনিক ভাতা দুই হাজার টাকা এবং মাসিক নিয়ামক ভাতা ১০ হাজার টাকা। তাঁদের জন্য ১০ লাখ টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল নির্ধারিত আছে। মোবাইল ফোন কেনার জন্য এককালীন ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সার্বক্ষণিক সরকারি গাড়ি, ঢাকার বাইরে সফরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জিপ, সরকারি খরচে রেল ও বিদেশ ভ্রমণ সুবিধাও দেওয়া হয়।

মন্ত্রীদের জন্য বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসভবন বরাদ্দ থাকে। সেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও টেলিফোনসহ সব ব্যয় সরকার বহন করে। বাসায় সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকার আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়। সরকারি বাসায় না থাকলে বাড়িভাড়া বাবদ ৮০ হাজার টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সব বিল প্রদান করা হয়। বিমান ভ্রমণে আট লাখ টাকার বীমা সুবিধা এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রহরীও থাকেন।

প্রশাসনিক সহায়তার জন্য একজন উপ-সচিব পদমর্যাদার একান্ত সচিব, সহকারী সচিব পদমর্যাদার সহকারী একান্ত সচিব, আরও একজন সহকারী, দুইজন দশম গ্রেডের কর্মকর্তা এবং সহায়ক কর্মচারী নিয়োজিত থাকেন।

প্রতিমন্ত্রীর বেতন কাঠামো

প্রতিমন্ত্রীরা মাসিক ৯২ হাজার টাকা বেতন পান, যা করমুক্ত। তাঁদের দৈনিক ভাতা দেড় হাজার টাকা এবং মাসিক নিয়ামক ভাতা সাড়ে সাত হাজার টাকা। স্বেচ্ছাধীন তহবিল সাড়ে সাত লাখ টাকা নির্ধারিত। সরকারি বাসভবন বা বিকল্প হিসেবে ৭০ হাজার টাকা বাড়িভাড়া সুবিধা দেওয়া হয়। বাসভবনে সর্বোচ্চ চার লাখ টাকার আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়। প্রশাসনিক সহায়তা কাঠামো প্রায় মন্ত্রীর মতোই।

উপমন্ত্রীর বেতন ও সুযোগ

উপমন্ত্রীর মাসিক বেতন ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা, যা করমুক্ত। দৈনিক দেড় হাজার টাকা ভাতা এবং পাঁচ হাজার টাকা নিয়ামক ভাতা রয়েছে। স্বেচ্ছাধীন তহবিল সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। বাসভবন ও আসবাবপত্র সুবিধা প্রতিমন্ত্রীর সমপর্যায়ের। সহকারী সচিব পদমর্যাদার একান্ত সচিবসহ প্রয়োজনীয় কর্মী সহায়তা দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত সুবিধা

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁরা সংসদ সদস্য হিসেবেও বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা পান। সংসদীয় ভাতা, এলাকার উন্নয়ন বরাদ্দ ও অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা তাঁদের প্রাপ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, বেতন-ভাতার এই কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে দায়িত্বের গুরুত্ব ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বিবেচনায়। তবে জনস্বার্থে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই নতুন মন্ত্রিসভার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

-রাফসান


পুরানো দপ্তরেই ফিরছেন মির্জা আব্বাস: অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখলো নতুন সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১১:৫৬:৩৭
পুরানো দপ্তরেই ফিরছেন মির্জা আব্বাস: অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখলো নতুন সরকার
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে বিজয়ী হওয়ার পর পুনরায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিএনপির প্রভাবশালী স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর বিকেলেই তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

ঢাকার সাবেক এই সফল মেয়র ইতিপূর্বেও খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত মির্জা আব্বাস ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত। তিনি অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র থাকাকালীন নগরীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী থাকাকালে তার নেতৃত্বেই ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধিত হয়। দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনরায় নিজ দপ্তরে ফিরে আসার এই ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১১:৪৯:৩৬
যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর নতুন সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনরায় মন্ত্রিসভায় ফিরছেন প্রবীণ এই রাজনীতিক।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়া মির্জা ফখরুল এর আগে ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পেশাগত জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির মেধাবী ছাত্র ফখরুল শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের হাত ধরে পথচলা শুরু হলেও পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে জনপ্রতিনিধিত্ব শুরু করা এই নেতা ২০১১ সাল থেকে দলের মহাসচিবের (ভারপ্রাপ্ত ও পূর্ণ) দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দেশব্যাপী বিএনপির আন্দোলন ও নীতিনির্ধারণে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। এবার তিনি দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের গুরুদায়িত্ব নিয়ে মন্ত্রিসভায় প্রবেশ করছেন।

/আশিক


অর্থনীতির সংস্কারে অভিজ্ঞ আমীর খসরুর ওপর ভরসা রাখলো বিএনপি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১১:৪৩:২১
অর্থনীতির সংস্কারে অভিজ্ঞ আমীর খসরুর ওপর ভরসা রাখলো বিএনপি
আমীর খসরু। ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গঠিত হতে যাওয়া নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নির্ভরযোগ্য দলীয় ও প্রশাসনিক সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বের হাতেই দেশের অর্থনীতির হাল তুলে দিচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিকেলেই তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ নেবেন এবং তাকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ব্যবসায়িক জ্ঞানকে কাজে লাগাতে চায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার।

রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটি’র সদস্য এবং দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনীতির বাইরেও অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক খাতে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। তিনি নিজ উদ্যোগে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া আমীর খসরু চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি এবং দক্ষিণ এশিয়া এক্সচেঞ্জ ফেডারেশনের প্রথম সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি চট্টগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়ার অনারারি কনসাল, সোনালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্প বিভাগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবেও নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এছাড়া সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে থাকছে জামায়াতে ইসলামী, যারা জয় পেয়েছে ৬৮টি আসনে। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক


তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১১:৩৭:২৯
তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসন থেকে টানা ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ নতুন সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজনৈতিক অঙ্গনের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। দলীয় ও প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিকেলেই তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করবেন এবং তাকে গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি তার নির্বাচনী এলাকা মুরাদনগরসহ সারা দেশের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ কুমিল্লা-৩ আসনের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ইতিপূর্বে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া নিজ এলাকা মুরাদনগর থেকে তিনি মোট ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এক অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে তার শক্তিশালী জনভিত্তি এবং দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা তাকে মন্ত্রিসভার অন্যতম যোগ্য সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কায়কোবাদ বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তিনি মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ সোহেল পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৯৯ ভোট। বিপুল এই জনরায়ের মধ্য দিয়ে তিনি পুনরায় সংসদে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন এবং এখন দেশ পরিচালনার বৃহত্তর দায়িত্বে শামিল হতে যাচ্ছেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: