আমেরিকার কড়া হুমকি: ট্রাম্পের বক্তব্যের পর দোটানায় মোদি সরকার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ২০ ১২:০৮:২৯
আমেরিকার কড়া হুমকি: ট্রাম্পের বক্তব্যের পর দোটানায় মোদি সরকার
ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশটি যদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ না করে, তবে ভারতীয় পণ্যের ওপর ‘ব্যাপক শুল্ক’ আরোপ করা হবে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিয়ে এখনো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার কোনো মন্তব্য করেনি।

সোমবার (২০ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

ব্যক্তিগত আশ্বাসের দাবি ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করবে।

ট্রাম্পের ভাষ্য:

“তিনি আমাকে বলেছেন, ‘আমি রাশিয়ান তেল নিয়ে আর কিছু করছি না’। কিন্তু যদি তারা (ভারত) এটা চালিয়ে যায়, তাহলে তাদের বিশাল শুল্ক দিতে হবে।”

শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার চাপ

রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখছে এমন দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এ ধরনের বাণিজ্য রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ চালাতে পরোক্ষভাবে অর্থায়ন করছে।

শুল্ক বৃদ্ধি: ইতোমধ্যেই ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক অনেক বেড়েছে। এ বছরের আগস্টে ট্রাম্প শুল্কহার বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছেন, যা টেক্সটাইল থেকে শুরু করে ওষুধ পর্যন্ত বিস্তৃত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

সতর্কতা: ট্রাম্প বারবার জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ না করলে এসব শুল্ক বজায় থাকবে বা আরও বাড়ানো হবে।

চলতি মাসের শুরুতেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে বলেছেন—ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এ বক্তব্য নিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।


মসজিদ-গির্জা কিছুই বাদ যাচ্ছে না! সব ধর্ম অবমাননা করে প্রশ্নের মুখে ইসরায়েলি সেনারা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১১:৫৬:০৮
মসজিদ-গির্জা কিছুই বাদ যাচ্ছে না! সব ধর্ম অবমাননা করে প্রশ্নের মুখে ইসরায়েলি সেনারা
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের খ্রিস্টান অধ্যুষিত ডেবেল শহরে যিশু খ্রিস্টের একটি পবিত্র মূর্তি হাতুড়ি দিয়ে ভাঙার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলি এক সেনার এই ধৃষ্টতাপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও ভাইরালের পর আইডিএফ (IDF) এবং ইসরায়েলি সমাজের নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একজন সেনার ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভেতরে শিকড় গেঁড়ে বসা উগ্রবাদ ও শৃঙ্খলার চরম অভাবের একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে প্রচার করলেও, আইডিএফ সদস্যদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড সেই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক খ্রিস্টান জায়নিস্ট এবং ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই ছবি ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অনেক খ্রিস্টান গোষ্ঠী এখন প্রকাশ্যেই অভিযোগ করছে যে, ইসরায়েলিরা খ্রিস্টানদের প্রতি গভীর ঘৃণা পোষণ করে এবং ফিলিস্তিনিরাই আসলে তাদের প্রকৃত মিত্র। এই একটি ছবি ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূর্তিটি যখন ভাঙা হচ্ছিল, তখন সেখানে আরও অনেক সেনা এবং একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, উপস্থিত কেউ তাকে বাধা দেয়নি। এর আগেও গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে কুরআন শরীফ পোড়ানো, গির্জার ভেতরে ব্যঙ্গাত্মক বিয়ের আয়োজন করা এবং বন্দীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল।

আইডিএফ কর্তৃপক্ষ এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ সেনাদের মধ্যে ‘অপরাধ করে পার পাওয়ার’ এক ধরনের প্রবণতা বা ইনডেমনিটি তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘বিস্ময়কর ও দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করলেও বিশেষজ্ঞরা একে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ। কারণ, গত কয়েক বছরে ইসরায়েলের ভেতরেও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের ওপর হামলা, থুতু নিক্ষেপ এবং খ্রিস্টান কবরস্থান ভাঙচুরের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

গত বছর গাজার একমাত্র ক্যাথলিক গির্জায় ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলায় তিনজনের মৃত্যু এবং পাদ্রি গ্যাব্রিয়েল রোমানিল্লির আহত হওয়া নিয়ে ভ্যাটিকানসহ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

ইসরায়েলি সাংবাদিক লাজার বারম্যানের মতে, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে ইসরায়েল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়ে ক্রমশ উগ্র ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চরমপন্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আইডিএফ যদি দ্রুত এই নৈতিক অবক্ষয় রোধ করতে না পারে এবং এই সেনার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করে, তবে তা কেবল লেবানন বা গাজা নয়, খোদ ইসরায়েলের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল


অবরোধে ধ্বংস হচ্ছে ইরান, জয় আমাদেরই: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১১:৪৪:০৪
অবরোধে ধ্বংস হচ্ছে ইরান, জয় আমাদেরই: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। আগামীকাল বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) দুই দেশের মধ্যকার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চললেও দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা শুরু হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে ঘোর সংশয়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বিস্ফোরক পোস্টের মাধ্যমে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে না। তাঁর দাবি, এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই মার্কিন অবরোধ ‘ইরানকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে’ এবং এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘বড় ব্যবধানে’ জয়ী হচ্ছে। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইরান সম্প্রতি বিভিন্ন জাহাজে গুলি চালিয়ে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির ‘পূর্ণাঙ্গ লঙ্ঘন’ করেছে।

এদিকে, পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ইরান এখনো তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ না তোলা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি খুলবে না। এর আগে গত রোববার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ করার ভিডিও প্রকাশ করে, যাকে ইরান ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ ও যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। সেন্টকমের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে তারা ২৭টি জাহাজকে ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।

ইসলামাবাদে আলোচনার পরিবেশ তৈরির জন্য বড় বড় হোটেল খালি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান পুলিশ। তবে মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনো ওয়াশিংটন ছাড়েননি। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন তারা মঙ্গলবারই রওনা হতে পারেন। পাকিস্তান সরকার আত্মবিশ্বাসী যে তারা ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারবে, তবে তেহরান এখন পর্যন্ত ‘কোনো পরিকল্পনা নেই’ বলেই অনড় অবস্থানে রয়েছে।

/আশিক


ইসরায়েলি প্রভাবের খবর নাকচ! ইরানের বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১১:২৪:০২
ইসরায়েলি প্রভাবের খবর নাকচ! ইরানের বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বা ইসরায়েল সরকার তাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে প্ররোচিত করছে—এমন দীর্ঘদিনের জল্পনা ও সংবাদমাধ্যমের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইসরায়েল তাকে কখনোই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রভাবিত করেনি।

ট্রাম্পের এই দাবি এমন এক সময়ে আসলো যখন ওমান সাগরে জাহাজ জব্দ ও ড্রোন হামলা নিয়ে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা তুঙ্গে। ট্রাম্প জানান, ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখার বিষয়ে তিনি আরও কঠোর হয়েছেন ঠিকই, তবে যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এই মর্মে একটি সমঝোতার দিকে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে। এমনকি প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক উপকরণ নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ভূমিকার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যকে স্রেফ ‘রাজনৈতিক চাল’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, ফাঁকা বুলিতে নয় বরং হরমুজ প্রণালিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ইরানের অবস্থান নির্ভর করবে বাস্তব পরিস্থিতির ওপর। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ইসরায়েলের দ্বারা প্রভাবিত নন।

সূত্র : শাফাক নিউজ


আজই কি তবে বিশ্বশান্তির দিন? ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ২১:৩৮:২০
আজই কি তবে বিশ্বশান্তির দিন? ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ টানাপোড়েন আর উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে তিনি দাবি করেছেন, আজ সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। তুর্কি সংবাদসংস্থা আনাদোলু এবং বিবিসির প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদ পৌঁছাবেন। এই দলে গতবারের আলোচনার কারিগর স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনারও রয়েছেন। মূলত যুদ্ধ বন্ধ এবং দ্বিতীয় দফার আলোচনার চূড়ান্ত রূপ দিতেই এই সফর।

এদিকে, এই মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিক মার্কিন সি-১৭ গ্লোবমাস্টার উড়োজাহাজ সেখানে অবতরণ করেছে, যা উন্নত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও সাঁজোয়া যান নিয়ে এসেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নিরপেক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সূত্র: আনাদুলো


এক গ্রাম ইউরেনিয়ামও বিদেশে যাবে না: যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া জবাব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ২০:১২:০০
এক গ্রাম ইউরেনিয়ামও বিদেশে যাবে না: যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া জবাব
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। গ্রাফিক্স: ইত্তেফাক

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার আগেই নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা জানান দিল তেহরান। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করবে না।

ইসমাইল বাঘাই অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, অতীতের কোনো আলোচনাতেও ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। তিনি ইরানের এই পারমাণবিক অর্জনকে ‘জাতীয় মর্যাদা ও সম্পদ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইউরেনিয়াম মজুত রক্ষা করা ইরানি নাগরিকদের জীবনের মতোই মূল্যবান। বাঘাইয়ের মতে, এই প্রযুক্তি দীর্ঘদিনের দেশীয় বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টার ফল এবং এটি সম্পূর্ণভাবে ইরানিদের নিজস্ব অর্জন।

ইউরেনিয়াম কার্যক্রম বন্ধের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়ে মুখপাত্র জানান, যদি এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ না হতো, তবে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো ইরানকে সীমিত করার জন্য এত চাপ সৃষ্টি করত না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা দেশের ভেতরেই সংরক্ষণ করবে এবং এই ইস্যুতে কোনো দেশের সঙ্গেই আপস করার প্রশ্নই ওঠে না। ট্রাম্পের ‘ধ্বংসের হুমকি’র মুখে ইরানের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

/আশিক


ট্রাম্পের সঙ্গে আসিম মুনির, পেজেশকিয়ানের সঙ্গে শেহবাজ: ইসলামাবাদে চরম নাটকীয়তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৯:৪৮:৩৪
ট্রাম্পের সঙ্গে আসিম মুনির, পেজেশকিয়ানের সঙ্গে শেহবাজ: ইসলামাবাদে চরম নাটকীয়তা
ইসলামাবাদে আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন পাকিস্তানের নেতারা। কোলাজ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা যখন খাদের কিনারে, তখন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা টেলিফোনে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এই সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র মতে, জেনারেল আসিম মুনির ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাফ জানিয়েছেন যে, ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা নৌ-অবরোধই আলোচনার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জবাবে ট্রাম্প বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানি প্রেসিডেন্টকে ইসলামাবাদে প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানালে মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ইরান কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না।

এদিকে ওমান সাগরে ইরানি কন্টেইনার জাহাজ ‘টোসকা’ (তুসকা) মার্কিন বাহিনী কর্তৃক জব্দ করার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যায় মার্কিন প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ পৌঁছানোর কথা থাকলেও, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তেহরান এখনো আলোচনার টেবিলে বসার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

/আশিক


চীন থেকে আসা জাহাজ কেন আটকাল আমেরিকা? কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল বেইজিং

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৮:০০:৩৮
চীন থেকে আসা জাহাজ কেন আটকাল আমেরিকা? কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল বেইজিং
ছবি : সংগৃহীত

ওমান সাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘টোসকা’ জব্দের ঘটনায় এবার সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন বাহিনীর জাহাজ জব্দের পাল্টা জবাব হিসেবে সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে ড্রোন হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিকে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। সোমবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিও জিয়াকুন যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণকে ‘জোরপূর্বক আটক’ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি সাফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং এর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা সবার স্বার্থের বিষয়। চীন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা না বাড়িয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ওমান সাগরে নৌ-অবরোধ কার্যকর করার সময় ইরানি কার্গো জাহাজটিকে ছয় ঘণ্টা ধরে বারবার সতর্ক করা হলেও তারা তা মানেনি। ফলে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার থেকে ৫ ইঞ্চি এমকে ৪৫ গান দিয়ে গুলি চালিয়ে জাহাজের ইঞ্জিন রুম অচল করে দেওয়া হয় এবং পরে মেরিন সেনারা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

বর্তমানে জাহাজটি মার্কিন হেফাজতে রয়েছে। ইরান আগেই হুমকি দিয়েছিল যে, চীন থেকে আসা তাদের এই শান্তিপূর্ণ জাহাজে হামলার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

/আশিক


২১ ঘণ্টার ব্যর্থ মিশন কি এবার সফল হবে? ট্রাম্পের দূতদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১১:৩৩:৩৭
২১ ঘণ্টার ব্যর্থ মিশন কি এবার সফল হবে? ট্রাম্পের দূতদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ শান্তি আলোচনা। এ নিয়ে গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস এবং বিবিসি নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সই এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, তাঁর বিশেষ প্রতিনিধিরা আজ সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন, ভ্যান্সের সঙ্গে এই দলে থাকছেন ট্রাম্পের প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। উল্লেখ্য যে, কুশনার ও উইটকফ প্রথম দফার ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনাতেও অংশ নিয়েছিলেন।

তবে এই সফর ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ায় যখন ট্রাম্প এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, নিরাপত্তার কারণে জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে যাচ্ছেন না। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হোয়াইট হাউস ভ্যান্সের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করায় আলোচনার গুরুত্ব কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, তেহরান এখনো এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকলে তারা আলোচনার টেবিলে ফিরবে না। পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে দুই দেশের অনড় অবস্থানের কারণে এবারের বৈঠকটি বিশ্বশান্তির জন্য অত্যন্ত নির্ণায়ক হতে যাচ্ছে।

/আশিক


ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়া হবে: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১১:২৪:৩৭
ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়া হবে: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ইরানকে নিজের চিরচেনা ‘আগ্রাসী’ ভঙ্গিতে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকার প্রস্তাবিত নতুন শান্তিচুক্তিতে সই না করলে ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের করা পারমাণবিক চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “সেটি ছিল আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে চুক্তি। ওবামা ইরানের কাছে নতিস্বীকার করেছিলেন, কিন্তু আমি সেই ভুল দ্বিতীয়বার করব না।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, তেহরান যদি এই চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে পুরো দেশ ‘উড়িয়ে দেওয়া’ হবে। শুধু তাই নয়, ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

ট্রাম্পের মতে, এই স্থাপনাগুলো ধসিয়ে দেওয়া মার্কিন বাহিনীর জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক দশকে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা করতে সাহস পাননি, সেই ‘কঠিন পদক্ষেপ’ নেওয়াই এখন তাঁর লক্ষ্য। ট্রাম্পের এই ‘সব বা কিছুই না’ (All or Nothing) নীতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে এক অনিশ্চিত ধ্বংসের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

ফক্স নিউজ

পাঠকের মতামত: