মার্চের আকাশে গ্রহের মেলা! ৩১ মার্চ পর্যন্ত মহাজাগতিক থিয়েটার দেখবে বাংলাদেশ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৯:২৯:৩৩
মার্চের আকাশে গ্রহের মেলা! ৩১ মার্চ পর্যন্ত মহাজাগতিক থিয়েটার দেখবে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

মার্চের শেষার্ধে বাংলাদেশের আকাশ এক অনন্য মহাজাগতিক মঞ্চে রূপ নিতে যাচ্ছে। দিনের তপ্ত রোদ শেষে সন্ধ্যার আকাশ যখন স্বচ্ছ ও নির্মল হয়ে ওঠে, তখনই চোখ মেললে ধরা দিচ্ছে বিস্ময়কর সব জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্য। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেখা যাবে গ্রহের মেলা, চাঁদের লুকোচুরি আর উজ্জ্বল নক্ষত্রপুঞ্জের উপস্থিতি; সব মিলিয়ে এক মহাজাগতিক থিয়েটার।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এই সময়ের পাঁচটি উল্লেখযোগ্য মহাজাগতিক দৃশ্য

ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া 'প্ল্যানেট প্যারেড' মার্চের শেষ ভাগেও অব্যাহত থাকবে, তবে গ্রহগুলোর অবস্থানে আসবে নতুন বিন্যাস। ১৬ মার্চের পর সূর্যাস্তের ঠিক পরেই পশ্চিম আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিচ্ছে শুক্র গ্রহ। সন্ধ্যাতারা হিসেবে পরিচিত এই গ্রহের খুব কাছেই অবস্থান করছে বুধ গ্রহ। সাধারণত সূর্যের কাছাকাছি থাকায় বুধ দেখা কঠিন হলেও মার্চে এটি গোধূলি বেলায় ঢাকার আকাশেও স্পষ্ট দেখা যাবে। এদিকে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি মাঝ আকাশে নিজের আধিপত্য বজায় রাখবে। টেলিস্কোপে এর চারটি বড় উপগ্রহ 'গ্যালিলিয়ান মুন' দেখার সুযোগ মিলবে। অন্যদিকে শনি গ্রহ ভোরের আকাশে সূর্যোদয়ের আগে পূর্ব দিগন্তে উদিত হবে, যা দেখার জন্য মার্চের শেষ সপ্তাহই আদর্শ সময়।

২০ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে দেখা যাবে আকাশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য। এ সময়ে চাঁদের সরু ফালি একে একে বিভিন্ন গ্রহের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে। ২০ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে 'ক্রিসেন্ট মুন' শুক্র ও বুধের খুব কাছাকাছি থাকবে। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে এই দৃশ্য এমন মনে হবে যেন চাঁদ আর শুক্র একে অপরকে আলিঙ্গন করছে। ২৫ মার্চ চাঁদ চলে আসবে বৃহস্পতির কাছে, যা আলোকদূষণমুক্ত আকাশে খালি চোখেই উপভোগ করা যাবে।

আগামী ২০ মার্চ ২০২৬ পালিত হবে বসন্তকালীন বিষুব। এদিন সূর্য ঠিক পূর্ব দিকে উদিত হবে এবং পশ্চিমে অস্ত যাবে, ফলে দিন ও রাত প্রায় সমান হবে। বাংলাদেশ বিষুবরেখার কাছাকাছি হওয়ায় এ পরিবর্তনের প্রভাব এখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি ঋতু পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং বসন্তের পূর্ণতার প্রতীক।

মার্চের শেষ দিকে রাত ১০টার পর আকাশের ঠিক ওপরে দেখা যাবে কালপুরুষ নক্ষত্রপুঞ্জ, যার তিনটি তারার সারি বা 'বেল্ট' সহজেই চেনা যায়। কালপুরুষের নিচে দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে জ্বলজ্বল করবে আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র লুব্ধক (সাইরাস)। অন্যদিকে উত্তর আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডলও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। শহরের বাইরে খোলা আকাশে গেলে মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গার হালকা সাদা আভাও চোখে পড়তে পারে।

৩১ মার্চ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা ৩০ মিনিট গ্রহ দেখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। খালি চোখে শুক্র ও বৃহস্পতি দেখা গেলেও শনির বলয় বা ইউরেনাসের আভা দেখতে হলে অন্তত ১০×৫০ ক্ষমতার একটি বাইনোকুলার প্রয়োজন হবে। এই মার্চের আকাশ তাই শুধু রাতের সৌন্দর্য নয়, বরং প্রকৃতি ও মহাকাশের এক অনন্য সংলাপ।

সূত্র : দ্য স্কাই লাইভ, স্কাইম্যাপ অনলাইন


চ্যাটজিপিটি কি অপরাধ শেখায়? সাম্প্রতিক বিতর্ক ও আসল সত্য জেনে নিন

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১২:৩৭:১৮
চ্যাটজিপিটি কি অপরাধ শেখায়? সাম্প্রতিক বিতর্ক ও আসল সত্য জেনে নিন
ছবি : সংগৃহীত

চ্যাটজিপিটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় প্রযুক্তি টুল হলেও এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু অলঙ্ঘনীয় সুরক্ষা দেয়াল। বিশেষ করে অপরাধ ও সহিংসতা সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নে চ্যাটজিপিটি সরাসরি উত্তর দিতে অস্বীকার করে।

যেসব তথ্য সরাসরি মানুষের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি করতে পারে, সেই ধরনের কোনো নির্দেশনা এই এআই থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিল এমন খবর আসার পর সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রশ্ন জেগেছে যে, এআই কি তবে অপরাধেও সাহায্য করছে? বাস্তবতা হলো, চ্যাটজিপিটির প্রোগ্রামিং এমনভাবে করা হয়েছে যাতে এটি অস্ত্র তৈরি, বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার বা আত্মহানির মতো বিপজ্জনক বিষয়ে কোনো তথ্য প্রদান না করে। বরং এমন কোনো ইনপুট পেলে এটি ব্যবহারকারীকে সতর্কতা বা পেশাদার সহায়তার পরামর্শ দেয়।

নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ‘প্রাইভেসি’র ক্ষেত্রেও চ্যাটজিপিটি অত্যন্ত কঠোর। এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ফোন নম্বর, ঠিকানা, ব্যাংক তথ্য কিংবা পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল ডেটা শেয়ার করে না। একইভাবে ভুয়া খবর তৈরি, কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজানো কিংবা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এমন কনটেন্ট তৈরিতেও এটি সহযোগিতা করে না। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশল বা অপপ্রচারমূলক বার্তা তৈরির বিষয়ে চ্যাটজিপিটির ওপর বিধি-নিষেধ রয়েছে।

মূলত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই সীমাবদ্ধতাগুলো তৈরি করা হয়েছে। তবে অনেক সময় ব্যবহারকারীরা ঘুরিয়ে প্রশ্ন করে সাধারণ তথ্য সংগ্রহ করে সেটিকে অপরাধমূলক কাজে অপব্যবহার করতে পারে। এক্ষেত্রে টুলটির চেয়ে ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্যই বেশি দায়ী। তাই প্রযুক্তির এই যুগে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি পরিবার ও শিশুদের ব্যবহারের ওপরও সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি।

সূত্র: মিডিয়াম, চ্যাটজিপিটি পলিসি


মহাবিশ্বের পঞ্চম শক্তির সন্ধান! সৌরজগতেই মিলতে পারে রহস্যময় নতুন বলের খোঁজ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ২১:৫১:৪৮
মহাবিশ্বের পঞ্চম শক্তির সন্ধান! সৌরজগতেই মিলতে পারে রহস্যময় নতুন বলের খোঁজ
ছবি : সংগৃহীত

মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের সামনে এখন এক নতুন দিগন্ত। পরিচিত চারটি প্রাকৃতিক শক্তির বাইরেও মহাবিশ্বে থাকতে পারে এক রহস্যময় ‘পঞ্চম বল’ (Fifth Force)। নাসা ও হাঙ্গেরির বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই শক্তির অস্তিত্বের প্রমাণ হয়তো আমাদের নিজেদের সৌরজগতেই লুকিয়ে আছে।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে মহাবিশ্বের সবকিছুকে চারটি মৌলিক বল—মহাকর্ষ, তড়িৎচুম্বকত্ব, শক্তিশালী পারমাণবিক বল ও দুর্বল পারমাণবিক বল—দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। তবে ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জির মতো জটিল রহস্যগুলো এই চারটি বল দিয়ে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী স্লাভা জি তুরিশেভ মনে করেন, সৌরজগতের ভেতরে সূক্ষ্ম ও আধুনিক পরীক্ষা চালালে এই পঞ্চম বলের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া ২০১৫ সালে হাঙ্গেরির গবেষণায় পাওয়া ‘প্রোটোফোবিক এক্স বোসন’ কণা এবং সাম্প্রতিক মিউন (Muon) কণার অস্বাভাবিক আচরণ বিজ্ঞানীদের এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

গবেষকদের মতে, মহাবিশ্বের প্রসারণ এবং গ্যালাক্সিগুলো কেন নির্দিষ্ট কাঠামোতে আটকে থাকে—তার সঠিক উত্তর মিলতে পারে এই পঞ্চম বলের মাধ্যমে। তাই এখন দূরের গ্যালাক্সির পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা আমাদের আপন সৌরজগতকেই এই রহস্যভেদের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

/আশিক


যেসব ফোনে চিরতরে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ: মেটা কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৯:৫৮:২৬
যেসব ফোনে চিরতরে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ: মেটা কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

পুরনো স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধরণের দুঃসংবাদ দিল জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা। প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মেটা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ১০ বা ১২ বছরের পুরনো লাখ লাখ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আর হোয়াটসঅ্যাপ কাজ করবে না। মূলত পুরনো অপারেটিং সিস্টেমগুলোতে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও উন্নত নিরাপত্তা ফিচার চালানো সম্ভব নয় বলেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেটা।

মেটার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যান্ড্রয়েড ৬-এর আগের সব অপারেটিং সিস্টেমে হোয়াটসঅ্যাপের সাপোর্ট পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষ করে যারা এখনও অ্যান্ড্রয়েড ৫ বা ৫.১ ভার্সন চালিত ফোন ব্যবহার করছেন, তারা এই তালিকায় সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। ৮ সেপ্টেম্বরের পর এসব ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ অকেজো হয়ে পড়বে, ফলে চ্যাট হিস্ট্রি বা মিডিয়া ফাইল হারানোর বড় ঝুঁকি তৈরি হবে। মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে তারা অ্যাপে যেসব অত্যাধুনিক ফিচার ও এআই প্রযুক্তি যুক্ত করছে, তা চালানোর জন্য উন্নত হার্ডওয়্যার ও নতুন ভার্সনের সফটওয়্যার প্রয়োজন, যা পুরনো মডেলে দেওয়া সম্ভব নয়।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, যারা এখনও পুরনো ফোন ব্যবহার করছেন তারা যেন সময় শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় চ্যাট ব্যাকআপ নিয়ে নতুন কোনো ডিভাইসে শিফট করে ফেলেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে পুরনো ফোনগুলো থেকে ডেটা রিকভার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে ৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড ৬ বা তার পরবর্তী আধুনিক ভার্সনগুলোতে নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা যাবে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


১০ হাজার সূর্যের শক্তি এক ব্ল্যাক হোলে! মহাকাশে ‘সিগনাস এক্স-১’-এর তাণ্ডব

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ২১:৪৭:৪৭
১০ হাজার সূর্যের শক্তি এক ব্ল্যাক হোলে! মহাকাশে ‘সিগনাস এক্স-১’-এর তাণ্ডব

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রায় ছয় দশক আগে আবিষ্কৃত এক রহস্যময় দানব এবার তার শক্তির নতুন রূপ দেখাল। পৃথিবীর প্রথম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়া ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর ‘সিগনাস এক্স-১’ মহাকাশে যে কণার ধারা (জেট) ছুড়ছে, তার তেজ প্রায় ১০ হাজার সূর্যের মিলিত শক্তির সমান। সম্প্রতি কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ সাময়িকীতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন।

১৯৬৪ সালে যখন এটি প্রথম শনাক্ত হয়, তখন বিজ্ঞানীরা ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব নিয়েই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। কিন্তু বর্তমান গবেষণায় দেখা গেছে, এই ব্ল্যাক হোল থেকে নিঃসৃত জেটগুলো আলোর গতির প্রায় অর্ধেক—অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটছে। গবেষক ডক্টর স্টিভ প্রাবুর মতে, একটি ব্ল্যাক হোলে যে পরিমাণ পদার্থ প্রবেশ করে, তার প্রায় ১০ শতাংশ শক্তি এই জেটের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে। এই শক্তিশালী জেটগুলো লক্ষ লক্ষ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে এবং এদের উজ্জ্বলতা এতই তীব্র যে কণাগুলো আলোর গতির কাছাকাছি পৌঁছে প্রচণ্ড শক্তি বিকিরণ করে, যা আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বেরই বাস্তব প্রতিফলন।

পৃথিবী থেকে প্রায় ৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই কৃষ্ণগহ্বরটি আমাদের সূর্যের তুলনায় প্রায় ২১ গুণ ভারী। এটি ‘এইচডিই ২২৬৮৬৮’ নামক একটি বিশালাকার নক্ষত্রের সঙ্গে জোড়ায় অবস্থান করে এবং প্রতি ৫.৬ দিনে একবার সেই নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে। বিশ্বজুড়ে সংযুক্ত শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, নক্ষত্র থেকে আসা বাতাসের প্রবাহ এই জেটগুলোকে ঝরনার পানির মতো বাঁকিয়ে দিচ্ছে, যা থেকে এর গতির অবিশ্বাস্য প্রভাব পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে। ব্ল্যাক হোলের শক্তির এই নতুন সমীকরণ মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

/আশিক


আপনার ফোনে কি এই অ্যাপগুলো আছে? মুহূর্তেই খালি হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট!

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১০:৩৬:৫৩
আপনার ফোনে কি এই অ্যাপগুলো আছে? মুহূর্তেই খালি হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট!
ছবি : সংগৃহীত

স্মার্টফোন এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, অসাবধানতাবশত ইনস্টল করা কিছু অ্যাপ আপনার জন্য কাল হতে পারে। সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা গুগল প্লে-স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে এমন কিছু ক্ষতিকর অ্যাপের সন্ধান পেয়েছেন, যা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মুহূর্তেই খালি করে দিতে পারে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে ‘ডার্ক সোর্ড’ (DarkSword) নামক একটি নতুন ম্যালওয়্যার বিশ্বজুড়ে আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।

যেসব অ্যাপে লুকিয়ে আছে বিপদ

তদন্তে দেখা গেছে, হ্যাকাররা মূলত সাধারণ এবং নিরীহ কিছু অ্যাপের আড়ালে ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শীর্ষে আছে ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাপ। যেমন—‘সেক্স ক্রিপ্টোকারেন্সি’ বা মেটামাস্ক-এর নকল ভার্সন। এগুলো দেখতে সাধারণ লেনদেন অ্যাপের মতো হলেও আপনার অজান্তেই ফোনের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে তুলে দেয়। এছাড়া টিকটকের নকল সংস্করণ ব্যবহারকারীদের ওটিপি (OTP) ও ব্যাংকিং পাসওয়ার্ড চুরির প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।

ফটো ফিল্টার ও স্টিকার অ্যাপ নিয়ে সতর্কতা

আমরা অনেকেই শখের বসে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ স্টিকার মেকার বা আর্ট ফিল্টার অ্যাপ ব্যবহার করি। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অ্যাপের মাধ্যমে ফোনের গ্যালারি, ব্যক্তিগত ভিডিও এবং লোকেশন বেহাত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। এমনকি স্মার্ট কিউআর ক্রিয়েটর এবং জিপিএস ফাইন্ডার অ্যাপ ব্যবহার করেও হ্যাকাররা আপনার দৈনন্দিন চলাফেরার ওপর নজরদারি করতে পারে।

সুরক্ষায় আপনার করণীয়

সাইবার দুনিয়ায় নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে কেবল সচেতনতাই সেরা ঢাল। কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার আগে অবশ্যই তার ডেভেলপার এবং রিভিউ যাচাই করে নিন। একটি সাধারণ ক্যালকুলেটর বা স্টিকার অ্যাপ যদি আপনার মাইক্রোফোন, কন্টাক্ট লিস্ট বা লোকেশনের পারমিশন চায়, তবে বুঝবেন ডাল মে কুছ কালা হ্যায়! ফোনের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে যাওয়ার আগেই সন্দেহভাজন এসব অ্যাপ দ্রুত মুছে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তিবিদরা।

/আশিক


পৃথিবীর বাইরে কি তবে প্রাণ ছিল? মঙ্গলের প্রাচীন পাথরে বিরল অণুর সন্ধান

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ২১:৫০:০৯
পৃথিবীর বাইরে কি তবে প্রাণ ছিল? মঙ্গলের প্রাচীন পাথরে বিরল অণুর সন্ধান
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলের বুকে কি সত্যিই প্রাণের অস্তিত্ব ছিল? মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোভার ‘কিউরিওসিটি’র পাঠানো সাম্প্রতিক তথ্য এই রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লাল গ্রহের মাটি খুঁড়ে এমন কিছু বিরল জৈব অণুর সন্ধান পাওয়া গেছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।

বিশেষ করে ‘নাইট্রোজেন হেটেরোসাইকেল’ নামক অণুর উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কার্বন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত এই অণুটি মূলত ডিএনএ এবং আরএনএ তৈরির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ, পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশে যেসব রাসায়নিক উপাদান অপরিহার্য, ঠিক তেমন উপাদানই এখন মঙ্গলের প্রাচীন পাথরে খুঁজে পাওয়া গেল।

২০২০ সালে মঙ্গলের ‘মাউন্ট শার্প’ অঞ্চলের ‘মেরি অ্যানিং ৩’ নামক একটি শিলাখণ্ড থেকে এই নমুনা সংগ্রহ করেছিল কিউরিওসিটি। দীর্ঘ কয়েক বছরের ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণের পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, ওই পাথরে জীবনের অস্তিত্ব রক্ষাকারী জৈব উপাদান রয়েছে। গবেষকদের মতে, কোটি কোটি বছর আগে এই অঞ্চলে হ্রদ এবং নদীর প্রবাহ ছিল, যা প্রাণের উপযোগী পরিবেশের জন্য আদর্শ। তবে নাসা এখনই একে জীবনের অকাট্য প্রমাণ বলতে নারাজ।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এই অণুগুলো যেমন জৈবিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হতে পারে, তেমনি আগ্নেয়গিরি বা অন্য কোনো ভূতাত্ত্বিক কারণেও সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। তবে প্রাচীন মঙ্গলে প্রাণ ধারণের মতো সঠিক রসায়ন যে বিদ্যমান ছিল, তা এখন প্রমাণিত।

মিশন প্রজেক্ট সায়েন্টিস্ট অশ্বিন ভাসাবাদা এই আবিষ্কারকে কিউরিওসিটি দলের জন্য একটি বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এটি মঙ্গলে প্রাচীন প্রাণের বসতি থাকার সম্ভাবনাকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে মঙ্গলের পাথরে ‘লেপার্ড স্পট’ বা চিতা বাঘের গায়ের মতো ছাপ পাওয়া গিয়েছিল, যা প্রাণের অস্তিত্বের আরেকটি জোরালো সংকেত।

এছাড়া এবারের নমুনায় ‘বেনজোথিওফিন’ নামক সালফারযুক্ত যৌগের উপস্থিতিও মিলেছে। নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের সফলতার রেশ না কাটতেই মঙ্গলের এই নতুন তথ্য মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক যোগ করল। বিজ্ঞানীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই উপাদানগুলো উল্কাপাতের মাধ্যমে এসেছে নাকি লাল গ্রহের বুকেই একদিন প্রাণের মেলা বসেছিল।

সূত্র: স্কাই নিউজ


পৃথিবী: প্রাণ, পানি আর রহস্যের গল্প

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১৬:৫১:৫৬
পৃথিবী: প্রাণ, পানি আর রহস্যের গল্প
ছবি: সংগৃহীত

সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ পৃথিবী শুধু আরেকটি গ্রহ নয়; এ পর্যন্ত জানা মহাবিশ্বে এটি একমাত্র স্থান যেখানে জীবনের অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত। সূর্য থেকে এর অবস্থান, উপযুক্ত তাপমাত্রা, তরল পানির উপস্থিতি, সুরক্ষামূলক বায়ুমণ্ডল এবং শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীকে অন্য সব পরিচিত গ্রহ থেকে আলাদা করেছে। মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে নীল, সাদা ও বাদামি রঙের এক জীবন্ত গোলক হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু এর এই সুন্দর বাহ্যিক রূপের আড়ালে আছে জটিল ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক প্রক্রিয়ার এক দীর্ঘ ইতিহাস।

সূর্য থেকে দূরত্বই জীবনধারণের প্রথম শর্ত

পৃথিবীর সূর্য থেকে গড় দূরত্ব প্রায় ১৪৯.৬ মিলিয়ন কিলোমিটার। এই দূরত্ব এমন এক অঞ্চলে পড়ে, যাকে প্রায়ই “habitable zone” বা জীবনোপযোগী অঞ্চল বলা হয়। এখানে তাপমাত্রা এমন যে পানি দীর্ঘ সময় ধরে তরল অবস্থায় থাকতে পারে। পৃথিবী সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় প্রায় ৩৬৫.২৫ দিন, আর নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে লাগে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট। এই ঘূর্ণন ও পরিক্রমণের সমন্বয়ই দিন-রাত ও ঋতুচক্র সৃষ্টি করেছে।

পৃথিবীর অক্ষ প্রায় ২৩.৪৪ ডিগ্রি কাত হয়ে আছে। এই সামান্য হেলানই ঋতুর জন্ম দিয়েছে। বছরের এক অংশে উত্তর গোলার্ধ বেশি আলো ও তাপ পায়, অন্য অংশে দক্ষিণ গোলার্ধ। ফলে জলবায়ু একঘেয়ে থাকে না; বরং পরিবর্তনশীল থাকে, যা জীববৈচিত্র্যের বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছে।

পৃথিবী কেন নীল দেখায়

মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে সবচেয়ে বেশি নীল দেখায়, কারণ এর পৃষ্ঠের প্রায় ৭১ শতাংশই পানি দ্বারা আচ্ছাদিত। মহাসাগর, সাগর, উপসাগর ও অন্যান্য জলভাগ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীকে এক অনন্য চেহারা দিয়েছে। এই জলমণ্ডল শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, জীবনের ভিত্তিও বটে। পৃথিবীর মোট পানির প্রায় ৯৭ শতাংশ লবণাক্ত, যা মহাসাগরে রয়েছে। অবশিষ্ট অল্প অংশের বেশিরভাগই বরফ বা ভূগর্ভস্থ পানি; নদী, হ্রদ ও বায়ুমণ্ডলে থাকা পানির পরিমাণ খুবই কম হলেও জীবনচক্রে তার গুরুত্ব অপরিসীম।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল: জীবনের ঢাল

পৃথিবীর চারপাশে তুলনামূলক পাতলা কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর একটি বায়ুমণ্ডল রয়েছে। এতে প্রায় ৭৮ শতাংশ নাইট্রোজেন, ২১ শতাংশ অক্সিজেন এবং অল্প পরিমাণে আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয়বাষ্প ও অন্যান্য গ্যাস আছে। এই বায়ুমণ্ডল পৃথিবীকে বহু বিপদ থেকে রক্ষা করে। এটি ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বড় অংশ আটকে দেয়, মহাজাগতিক ছোট কণাকে পুড়িয়ে ফেলে, তাপমাত্রাকে একটি সহনীয় সীমায় ধরে রাখে এবং আবহাওয়া ও জলচক্র পরিচালনা করে।

বায়ুমণ্ডলটি আবার বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। ট্রপোস্ফিয়ারে আবহাওয়া তৈরি হয়, স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি আটকে দেয়, আর উপরের স্তরগুলোতে আয়নিত কণার উপস্থিতি অরোরা বা মেরুপ্রভা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এই পুরো কাঠামো পৃথিবীর জীবমণ্ডলকে টিকিয়ে রাখতে অপরিহার্য।

অক্সিজেনভরা বায়ুমণ্ডল আসলে জীবনেরই সৃষ্টি

আজকের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে যে বিপুল পরিমাণ মুক্ত অক্সিজেন রয়েছে, তা আদিকাল থেকেই ছিল না। প্রাচীন পৃথিবীতে অক্সিজেন ছিল খুবই কম। পরে আলোকসংশ্লেষী জীব, বিশেষত সায়ানোব্যাকটেরিয়া, দীর্ঘ সময় ধরে অক্সিজেন উৎপাদন করতে করতে বায়ুমণ্ডলকে বদলে দেয়। অর্থাৎ পৃথিবীতে জীবন শুধু বায়ুমণ্ডলের ওপর নির্ভর করেনি, বরং বায়ুমণ্ডলকেও গঠন করেছে। অক্সিজেনের এই উত্থানই জটিল প্রাণীর বিকাশের পথ খুলে দেয়।

পৃথিবীর জলচক্র: এক অবিরাম পুনর্জন্ম

পৃথিবীর জীবনধারণে জলচক্রের ভূমিকা মৌলিক। সূর্যের তাপে মহাসাগরের পানি বাষ্পীভূত হয়, বায়ুমণ্ডলে উঠে মেঘ তৈরি করে, পরে বৃষ্টি বা তুষার হয়ে স্থলে পড়ে। এই পানি নদী হয়ে আবার সাগরে ফিরে যায়, কিছু অংশ মাটির নিচে সঞ্চিত হয়, কিছু অংশ উদ্ভিদ ব্যবহার করে এবং কিছু আবার বাষ্প হয়ে আকাশে ওঠে। এই অবিরাম চক্র শুধু পানির পুনর্বণ্টনই করে না, বরং আবহাওয়া, মাটি গঠন, শিলার ক্ষয়, নদীর গতিপথ এবং কৃষির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

পৃথিবীর ভেতরে আছে স্তরবিন্যাসিত এক জগৎ

পৃথিবী বাইরে থেকে দৃঢ় গোলক মনে হলেও এর অভ্যন্তরীণ গঠন বহুস্তরবিশিষ্ট। সবচেয়ে বাইরে আছে ভূত্বক, এর নিচে ম্যান্টল, আর কেন্দ্রে কোর। মহাদেশীয় ভূত্বক তুলনামূলক পুরু এবং মূলত গ্রানাইটজাত শিলায় গঠিত, আর মহাসাগরীয় ভূত্বক পাতলা ও প্রধানত ব্যাসল্টিক।

ম্যান্টল পৃথিবীর আয়তনের সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে। এটি কঠিন হলেও ভূতাত্ত্বিক দীর্ঘসময়ে ধীরে ধীরে প্রবাহমান পদার্থের মতো আচরণ করে। আরও গভীরে রয়েছে কোর, যার বাইরের অংশ তরল ধাতব এবং ভেতরের অংশ কঠিন। পৃথিবীর মোট লোহার বড় অংশ এই কোরে কেন্দ্রীভূত।

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র: অদৃশ্য রক্ষাকবচ

পৃথিবীর তরল বাইরের কোরে বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতুর গতিশীলতা থেকে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। এই ক্ষেত্র মহাশূন্যে একটি বিশাল ম্যাগনেটোস্ফিয়ার সৃষ্টি করে, যা সূর্য থেকে আসা চার্জিত কণার বড় অংশকে প্রতিরোধ করে। যদি এই চৌম্বক ক্ষেত্র না থাকত, তবে সৌরবায়ু ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলকে ক্ষয় করে দিতে পারত, যেমনটা সম্ভবত মঙ্গলে ঘটেছে।

এই চৌম্বক ক্ষেত্রই ভ্যান অ্যালেন রেডিয়েশন বেল্ট তৈরি করেছে এবং মেরু অঞ্চলে মেরুপ্রভার মতো চমৎকার দৃশ্যের জন্ম দেয়। যদিও এই ক্ষেত্র স্থির নয়; পৃথিবীর ইতিহাসে বহুবার এর মেরুতা বদলেছে। অর্থাৎ উত্তর চৌম্বক মেরু দক্ষিণে, আর দক্ষিণ উত্তর দিকে সরে গেছে। এই উল্টোপাল্টা পরিবর্তন এখনো ভূ-চৌম্বক গবেষণার বড় বিষয়।

প্লেট টেকটোনিক্স: পৃথিবীর জীবন্ত ভূতত্ত্ব

পৃথিবীর সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো এর প্লেট টেকটোনিক্স। পৃথিবীর বহিরাবরণ একটানা নয়; এটি বড় বড় কঠিন প্লেটে বিভক্ত। এই প্লেটগুলো ধীরে ধীরে সরে যায়, কোথাও একে অন্যের থেকে দূরে সরে নতুন ভূত্বক তৈরি করে, কোথাও মুখোমুখি ধাক্কা খেয়ে পর্বতমালা তোলে, আবার কোথাও পাশাপাশি সরে গিয়ে ভূমিকম্প সৃষ্টি করে।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমুদ্রতল তৈরি ও ধ্বংস হয়, মহাদেশ সরে যায়, আগ্নেয়গিরি জন্ম নেয়, ভূমিকম্প হয় এবং দীর্ঘ সময়ে পৃথিবীর চেহারা বদলে যায়। হিমালয়, আন্দিজ, আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যমহাসাগরীয় রিজ, প্রশান্ত মহাসাগরের অগ্নিবলয় সবই এই প্লেট গতির ফল।

কেন শুধু পৃথিবীতেই পূর্ণাঙ্গ প্লেট টেকটোনিক্স

সৌরজগতের শিলা গ্রহগুলোর মধ্যে পৃথিবীতেই দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যাপক প্লেট টেকটোনিক্স সবচেয়ে সক্রিয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর পেছনে পৃথিবীর আকার, অভ্যন্তরীণ তাপ, এবং বিশেষ করে পানির উপস্থিতি বড় ভূমিকা রেখেছে। পানি শিলাকে তুলনামূলক নরম করে এবং ভূত্বককে সাবডাকশনে সহায়তা করে। শুক্রের মতো গ্রহে পানি হারিয়ে যাওয়ায় সেই ধরনের সক্রিয় প্লেট প্রক্রিয়া গড়ে ওঠেনি।

পৃথিবীর জন্ম: তারকা ধূলি থেকে প্রাণের গ্রহ

পৃথিবীর জন্ম হয়েছিল প্রায় ৪.৫৬ বিলিয়ন বছর আগে, যখন সৌরজগত গঠনের সময় সূর্যকে ঘিরে থাকা গ্যাস-ধূলির চাকতি থেকে ধীরে ধীরে কঠিন পদার্থ জমাট বেঁধে বড় হতে থাকে। ছোট কণা থেকে বড় পাথুরে টুকরা, সেখান থেকে গ্রহাণু-আকারের বস্তু, এবং শেষে সংঘর্ষ ও সংযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর মতো গ্রহ তৈরি হয়।

শুরুর পৃথিবী ছিল অনেক বেশি উত্তপ্ত। গ্রহ গঠনের সময় সংঘর্ষ, রেডিওঅ্যাকটিভ ক্ষয় এবং ভেতরের ধাতব পদার্থ নিচে ডুবে গিয়ে কোর গঠন করার ফলে বিপুল তাপ উৎপন্ন হয়। ধারণা করা হয়, পৃথিবীর ইতিহাসের একেবারে শুরুর দিকে মঙ্গলের আকারের একটি বস্তু পৃথিবীতে আঘাত করে, আর সেই সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষ থেকেই চাঁদের জন্ম হয়।

পৃথিবী ও চাঁদের সম্পর্ক

চাঁদ শুধু রাতের সৌন্দর্য নয়; পৃথিবীর ইতিহাসে তার ভূমিকা অসাধারণ। চাঁদের মহাকর্ষ সমুদ্রজোয়ার-ভাটা সৃষ্টি করে, পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীরে ধীরে কমায়, আর অক্ষের স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখে। পৃথিবীর ঘূর্ণন আজ ২৪ ঘণ্টার কাছাকাছি হলেও প্রাচীন পৃথিবীতে দিন আরও ছোট ছিল। জোয়ার-ভাটার প্রভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিন দীর্ঘ হয়েছে, আর চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

প্রাচীন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল, পানি ও ভূত্বকের উত্থান

প্রথম দিকে পৃথিবীতে এখনকার মতো বায়ুমণ্ডল ছিল না। আগ্নেয়গিরির গ্যাস নির্গমন এবং অভ্যন্তরীণ পদার্থের বহিঃপ্রবাহের মাধ্যমে প্রাথমিক বায়ুমণ্ডল তৈরি হয়। পানিও খুব প্রাচীনকালেই পৃথিবীতে উপস্থিত ছিল বলে ধারণা পাওয়া যায়। ৪.৩ বিলিয়ন বছরেরও আগে তরল পানির উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে কিছু প্রাচীন জিরকন কণার বিশ্লেষণ থেকে। এর মানে, পৃথিবীর পৃষ্ঠ খুব দ্রুত ঠান্ডা হয়ে পানি ধারণের সক্ষমতা অর্জন করেছিল।

পৃথিবী কেন এখনো বাসযোগ্য

পৃথিবীর বাসযোগ্যতার পেছনে একক কোনো কারণ নেই; বরং বহু প্রক্রিয়ার সূক্ষ্ম ভারসাম্য কাজ করছে। সঠিক দূরত্ব, তরল পানি, কার্বনচক্র, প্লেট টেকটোনিক্স, উপযুক্ত বায়ুমণ্ডল, চৌম্বক ক্ষেত্র, মাঝারি মহাকর্ষ, এবং জীবমণ্ডলের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া মিলেই এই বাসযোগ্যতা বজায় রেখেছে। একদিকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গ্রিনহাউস প্রভাব তৈরি করে তাপ ধরে রাখে, অন্যদিকে সমুদ্র, শিলা, জীব ও বায়ুমণ্ডল একসঙ্গে কাজ করে জলবায়ুকে সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত হতে দেয় না।

পৃথিবীর জলবায়ু স্থির নয়

যদিও পৃথিবী জীবনোপযোগী, এর জলবায়ু কখনোই পুরোপুরি স্থির ছিল না। অতীতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, গ্রহাণুর আঘাত, কক্ষপথের পরিবর্তন, অক্ষের দোলন, বায়ুমণ্ডলীয় গ্যাসের ওঠানামা—সব মিলিয়ে কখনো বরফযুগ, কখনো উষ্ণ যুগ এসেছে। বর্তমানে মানুষের কর্মকাণ্ড, বিশেষত জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো ও বনধ্বংসের কারণে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার চরমতা এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ বাড়ছে।

পৃথিবীর ভবিষ্যৎও চিরস্থায়ী নয়

পৃথিবী আজ বাসযোগ্য হলেও এটি চিরকাল এমন থাকবে না। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, দূর ভবিষ্যতে সূর্যের উজ্জ্বলতা বাড়তে থাকলে পৃথিবীর জলবায়ু আরও উষ্ণ হতে পারে। কোটি কোটি বছরের স্কেলে এই পরিবর্তন এতটাই গভীর হতে পারে যে তরল পানি টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। অর্থাৎ পৃথিবীর বর্তমান বাসযোগ্য অবস্থা মহাজাগতিক সময়ের হিসাবে এক বিশেষ জানালা, যা চিরন্তন নয়।

কেন পৃথিবী অধ্যয়ন এত গুরুত্বপূর্ণ

পৃথিবীকে বোঝা মানে শুধু নিজের গ্রহকে জানা নয়; বরং পুরো গ্রহবিজ্ঞান, জলবায়ুবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও মহাজাগতিক বিবর্তনকে বোঝা। পৃথিবীর গঠন, বায়ুমণ্ডল, চৌম্বক ক্ষেত্র, পানি, জীবমণ্ডল ও প্লেট টেকটোনিক্স আমাদের দেখায় কীভাবে একটি গ্রহ গতিশীল, বিবর্তনশীল এবং প্রাণবান হতে পারে। একই সঙ্গে এটি আমাদের সতর্কও করে যে, এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য নষ্ট হলে পরিবেশ কত দ্রুত বিপজ্জনক দিকে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, পৃথিবী শুধু আমাদের বাসস্থান নয়; এটি মহাবিশ্বে জটিলতা, বিবর্তন এবং জীবনের এক বিরল উদাহরণ। এর ভেতরে আছে উত্তপ্ত ধাতব কেন্দ্র, ওপরের দিকে আছে চলমান শিলাস্তর, চারপাশে আছে সুরক্ষাকারী বায়ুমণ্ডল, আর পৃষ্ঠে আছে পানি, বন, মরুভূমি, বরফ, পর্বত ও জীবনের অসংখ্য রূপ। এই সবকিছুর মিলিত রূপই পৃথিবীকে করেছে আমাদের জানা মহাবিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান গ্রহ।

সূত্র: ব্রিটানিকা


এক ক্লিকেই ভ্যানিশ হবে শর্টস ফিড: ইউটিউবের ধামাকা আপডেট!

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১২:২৮:০৯
এক ক্লিকেই ভ্যানিশ হবে শর্টস ফিড: ইউটিউবের ধামাকা আপডেট!
ছবি : সংগৃহীত

ইউটিউব প্রেমীদের জন্য এক বড় সুখবর! দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ইউটিউব তাদের প্ল্যাটফর্মে এমন একটি ফিচার যুক্ত করেছে, যার মাধ্যমে আপনি চাইলে আপনার ফিড থেকে শর্ট-ভিডিও বা 'শর্টস' (Shorts) পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারবেন। নতুন এই আপডেটে 'শর্টস ফিড লিমিট' (Shorts Feed Limit) সরাসরি ০ মিনিটে সেট করার সুবিধা চালু হয়েছে। এর ফলে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করার সময় অযথা শর্টস স্ক্রল করে সময় নষ্ট হওয়ার ভয় আর থাকবে না।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট-এর তথ্যমতে, গত বছরের অক্টোবরে এই ফিচারটি সীমিত পরিসরে চালু করা হলেও তখন সর্বনিম্ন সময়সীমা ছিল ১৫ মিনিট। অর্থাৎ ১৫ মিনিট দেখার পর ব্যবহারকারীকে বিরতি নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিত ইউটিউব। কিন্তু এবার ব্যবহারকারীদের ফিডব্যাক মাথায় রেখে ইউটিউব সরাসরি '০ মিনিট' অপশনটি যুক্ত করেছে। শুরুতে এটি শুধুমাত্র 'প্যারেন্টাল কন্ট্রোল' বা অভিভাবকদের জন্য থাকলেও, এখন এটি বিশ্বের সকল সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

তবে ইউটিউব একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে যে, এই সেটিংস অন করলে আপনার শর্টস ফিডে অটোমেটিক স্ক্রলিং বন্ধ হয়ে যাবে। তবে সার্চ রেজাল্ট বা নির্দিষ্ট কোনো লিঙ্কে ক্লিক করলে ব্যক্তি বিশেষে কিছু শর্টস স্ক্রিনে দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অ্যাপে ‘স্ক্রোলিং ইজ পজড’ (Scrolling is paused) লেখা একটি নোটিফিকেশন দেখতে পাবেন।

যেভাবে বন্ধ করবেন ইউটিউব শর্টস

আপনার সময় বাঁচাতে এবং শর্টস থেকে দূরে থাকতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন

১. আপনার মোবাইলের YouTube অ্যাপটি ওপেন করুন।

২. Settings (সেটিংস) অপশনে যান।

৩. সেখান থেকে Time Management (টাইম ম্যানেজমেন্ট) সিলেক্ট করুন।

৪. এবার Daily Limit থেকে Shorts Feed Limit অপশনে ক্লিক করুন।

৫. এখানে ড্রপডাউন মেনু থেকে ০ মিনিট (0 Minutes) সিলেক্ট করে দিন।

এ ছাড়াও আপনি চাইলে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা পর্যন্ত আপনার প্রতিদিনের শর্টস দেখার সময়সীমা নিজের পছন্দমতো নির্ধারণ করে নিতে পারবেন।

সূত্র: এনগ্যাজেট


শুক্র গ্রহ: সৌরজগতের সবচেয়ে রহস্যময় উজ্জ্বল গ্রহ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১২:১৪:৩৫
শুক্র গ্রহ: সৌরজগতের সবচেয়ে রহস্যময় উজ্জ্বল গ্রহ
ছবি: সংগৃহীত

সৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ শুক্র বহু শতাব্দী ধরে মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্র। আকাশে সূর্যোদয়ের আগে বা সূর্যাস্তের পরে যখন এটি দেখা দেয়, তখন অন্য সব গ্রহের তুলনায় বেশি উজ্জ্বল বলে সহজেই নজর কাড়ে। এতটাই দীপ্তিমান যে প্রাচীন সভ্যতাগুলো এটিকে কখনও সকালের তারা, কখনও সন্ধ্যার তারা হিসেবে আলাদা নামেও চিনত। ব্যাবিলনীয়রা একে দেবী ইশতারের সঙ্গে মিলিয়েছিল, গ্রিকরা সকালের আকাশে দেখলে এক নাম, সন্ধ্যার আকাশে দেখলে আরেক নাম ব্যবহার করত। পরে রোমান প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী ভেনাসের নাম থেকেই এর আধুনিক নামের প্রচলন হয়।

শুক্রকে দীর্ঘদিন “পৃথিবীর যমজ” বলা হয়েছে। কারণ আকার, ভর, ঘনত্ব এবং অভ্যন্তরীণ গঠনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর সঙ্গে খুবই মিল রাখে। কিন্তু আধুনিক মহাকাশযান, রাডার পর্যবেক্ষণ এবং বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ দেখিয়েছে, বাহ্যিক মিল থাকলেও বাস্তবে শুক্র পৃথিবীর সম্পূর্ণ বিপরীত এক জগৎ। এটি অস্বাভাবিক গরম, অত্যন্ত চাপপূর্ণ, শুষ্ক, বিষাক্ত এবং বসবাসের জন্য প্রায় অকল্পনীয় রকম প্রতিকূল।

কেন শুক্রকে এত উজ্জ্বল দেখা যায়

শুক্র পৃথিবীর তুলনায় সূর্যের কাছে, তাই এটি সবসময় সূর্যের কাছাকাছি আকাশেই অবস্থান করে। এর মানে, গভীর রাতের আকাশে শুক্রকে দেখা যায় না। শুধু ভোরের আগে বা সন্ধ্যার কিছু পর এটি দেখা যায়। কিন্তু সে সময় এটিই হয়ে ওঠে আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল গ্রহ। এর কারণ শুধু সূর্যের কাছাকাছি হওয়া নয়, বরং এর ঘন মেঘস্তর সূর্যের আলোয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ প্রতিফলিত করে। ফলে শুক্র দূর থেকে যেন হলুদাভ সাদা এক দীপ্তিমান মুক্তোর মতো জ্বলজ্বল করে।

আকারে পৃথিবীর কাছাকাছি, কিন্তু পরিবেশে ভয়ংকর

শুক্রের গড় ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,০৫১.৮ কিলোমিটার, যা পৃথিবীর প্রায় ৯৫ শতাংশ। এর ভর পৃথিবীর প্রায় ৮১.৫ শতাংশ। ঘনত্বও পৃথিবীর কাছাকাছি। এ কারণে বহু বিজ্ঞানী মনে করেন, শুক্র ও পৃথিবী সম্ভবত একই ধরনের শিলা ও ধাতব উপাদান থেকে গঠিত হয়েছিল। পৃষ্ঠীয় মহাকর্ষও পৃথিবীর কাছাকাছি, অর্থাৎ কোনো মানুষ যদি শুক্রের মাটিতে দাঁড়াতে পারত, তবে সে পৃথিবীর ওজনের প্রায় ৯০ শতাংশের মতো ওজন অনুভব করত।

কিন্তু এই সাদৃশ্য এখানেই শেষ। শুক্রের বায়ুমণ্ডল মূলত কার্বন ডাই-অক্সাইডে ভরা, যার পরিমাণ ৯৬ শতাংশেরও বেশি। সঙ্গে আছে নাইট্রোজেন, সালফার ডাই-অক্সাইড, অল্প জলীয়বাষ্প এবং আরও কিছু গ্যাসের চিহ্ন। পৃষ্ঠে বায়ুচাপ পৃথিবীর প্রায় ৯৫ গুণ। অর্থাৎ পৃথিবীর সমুদ্রের প্রায় ১ কিলোমিটার গভীরে যে চাপ পাওয়া যায়, শুক্রের পৃষ্ঠে সেই ধরনের চাপ স্বাভাবিক।

শুক্রে তাপমাত্রা এত বেশি কেন

শুক্রের গড় পৃষ্ঠতল তাপমাত্রা প্রায় ৭৩৭ কেলভিন, অর্থাৎ প্রায় ৪৬৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি এতটাই বেশি যে সীসা বা দস্তার মতো ধাতুও সেখানে গলে যেতে পারে। মজার বিষয় হলো, শুক্র সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ নয়, তবু সৌরজগতের সবচেয়ে গরম গ্রহ। এর কারণ হলো ভয়াবহ গ্রিনহাউস প্রভাব।

শুক্রের ঘন কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডল এবং পুরু মেঘস্তর সূর্যের আলোকে ভেতরে ঢুকতে দিলেও তাপকে সহজে বাইরে বের হতে দেয় না। ফলে তাপ আটকে থেকে নিচের বায়ুমণ্ডল ও পৃষ্ঠকে ক্রমাগত উত্তপ্ত করে। পৃথিবীতে গ্রিনহাউস গ্যাস জলবায়ুকে প্রভাবিত করে, কিন্তু শুক্রে এই প্রক্রিয়া এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুক্রের অধ্যয়ন পৃথিবীর ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রেও বড় শিক্ষা দিতে পারে।

মেঘ আছে, কিন্তু সেগুলো জীবনের নয়, অ্যাসিডের

শুক্রকে টেলিস্কোপে দেখলে মসৃণ, উজ্জ্বল ও প্রায় বৈশিষ্ট্যহীন মনে হয়। কারণ এর পুরো গ্রহটি পুরু মেঘে ঢাকা। এই মেঘ সাধারণ জলকণার নয়, বরং বেশিরভাগই ঘন সালফিউরিক অ্যাসিডের ক্ষুদ্র কণায় গঠিত। মেঘস্তর প্রায় ৪৮ কিলোমিটার থেকে ৬৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। আরও ওপরে ও নিচেও আছে কুয়াশার স্তর।

এই মেঘগুলো স্থির নয়। অতিবেগুনি আলোতে এগুলোতে গাঢ় দাগ, সর্পিল নকশা এবং বিশাল ভি-আকৃতির ব্যান্ড দেখা যায়। শুক্রের মেঘস্তর মাত্র চার দিনে পুরো গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে ফেলে, যদিও গ্রহটির নিজস্ব ঘূর্ণন অত্যন্ত ধীর। এ ঘটনাকে বলা হয় “সুপাররোটেশন”, যা এখনো গ্রহবিজ্ঞানের বড় রহস্যগুলোর একটি।

শুক্রে দিন আর বছর, দুটোই অদ্ভুত

শুক্রের আরেকটি বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো এর ঘূর্ণন। অধিকাংশ গ্রহ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে, কিন্তু শুক্র ঘোরে উল্টো দিকে। অর্থাৎ যদি কেউ শুক্রের মাটিতে দাঁড়িয়ে সূর্য দেখতে পারত, তবে সে সূর্যকে পশ্চিম দিক থেকে উঠতে এবং পূর্ব দিকে অস্ত যেতে দেখত।

আরও অদ্ভুত হলো, শুক্র নিজের অক্ষের ওপর একবার ঘুরতে সময় নেয় প্রায় ২৪৩ পৃথিবী দিন, কিন্তু সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ২২৪.৭ পৃথিবী দিন। অর্থাৎ শুক্রে একটি নাক্ষত্রিক দিন তার এক বছরের চেয়েও বড়। তবে সৌরদিনের হিসাবে সূর্যোদয় থেকে পরের সূর্যোদয় পর্যন্ত সময় হয় প্রায় ১১৬.৮ পৃথিবী দিন।

বুধের মতো নয়, শুক্রে ঋতুও প্রায় নেই

শুক্রের অক্ষ ঝুঁকে আছে খুব সামান্য, প্রায় ৩ ডিগ্রি। ফলে পৃথিবীর মতো উল্লেখযোগ্য ঋতু পরিবর্তন সেখানে ঘটে না। অর্থাৎ গ্রীষ্ম, শীত, বসন্ত বা শরৎের মতো মৌসুমি রূপান্তর শুক্রে প্রায় অনুপস্থিত।

শুক্রে কোনো চাঁদ নেই

শুক্রের কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ নেই। পৃথিবীর মতো বড় চাঁদও নেই, আবার মঙ্গলের মতো ছোট উপগ্রহও নেই। সৌরজগতের বড় গ্রহগুলোর মধ্যে শুক্র ও বুধই একমাত্র যাদের কোনো পরিচিত চাঁদ নেই।

শুক্রের পৃষ্ঠতল: আগ্নেয়গিরি, সমভূমি ও বিকৃত ভূখণ্ড

শুক্রের পৃষ্ঠ দীর্ঘদিন চোখের আড়ালে ছিল, কারণ ঘন মেঘস্তর দৃশ্যমান আলোকে বাধা দেয়। পরে রাডার মানচিত্রায়ন, বিশেষ করে ম্যাগেলান মহাকাশযানের তথ্য থেকে বোঝা যায়, এর পৃষ্ঠ অনেকাংশে আগ্নেয়গিরির লাভায় গঠিত বিশাল সমতলভূমি দিয়ে ঢাকা। কোথাও কোথাও আছে বিশাল উচ্চভূমি, পর্বতশ্রেণি, রিফট, করোনা, টেসেরা এবং ঢালু আগ্নেয়গিরি।

উত্তর গোলার্ধে ইশতার টেরা এবং নিরক্ষরেখার কাছে আফ্রোদিতি টেরা নামে মহাদেশ-আকৃতির দুই বিশাল উচ্চভূমি রয়েছে। ইশতার টেরার মধ্যে লাক্ষ্মী প্ল্যানাম নামে একটি উচ্চ মালভূমি আছে, যাকে কেউ কেউ পৃথিবীর তিব্বত মালভূমির সঙ্গে তুলনা করেন। এর পূর্ব পাশে রয়েছে ম্যাক্সওয়েল মন্টেস, যা শুক্রের সবচেয়ে উঁচু পর্বতশ্রেণি।

শুক্রের বহু স্থানে আগ্নেয়গিরির প্রমাণও স্পষ্ট। ঢালু আগ্নেয়গিরি, লাভার দীর্ঘ সর্পিল খাল, ক্যালডেরা, ‘প্যানকেক ডোম’ নামে অদ্ভুত গোলাকার আগ্নেয়গঠন সবই সেখানে পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুক্র অতীতে ব্যাপক আগ্নেয় ক্রিয়ায় সক্রিয় ছিল, এবং সম্ভবত এখনও কোথাও কোথাও আগ্নেয়গিরি সক্রিয় রয়েছে।

সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ইঙ্গিতও মিলেছে

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার Venus Express মিশন এবং পরবর্তী গবেষণায় শুক্রে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির সম্ভাব্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। বায়ুমণ্ডলে সালফার ডাই-অক্সাইডের পরিমাণের হঠাৎ বৃদ্ধি, কিছু অঞ্চলে তাপীয় পরিবর্তন এবং ১৯৯১ সালের রাডার চিত্র তুলনা করে ২০২৩ সালে শনাক্ত কিছু পরিবর্তন বিজ্ঞানীদের এই ধারণাকে শক্তিশালী করেছে যে, শুক্র এখনও ভূতাত্ত্বিকভাবে পুরোপুরি মৃত নয়।

শুক্রে টেকটোনিক ক্রিয়া আছে, কিন্তু পৃথিবীর মতো প্লেট টেকটোনিক্স নেই

পৃথিবীর ভূত্বকে প্লেট টেকটোনিক্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুক্রে এখনো সেই ধরনের প্লেট টেকটোনিক্সের স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। সেখানে ভূমির বিকৃতি, রিফট, পর্বতবেল্ট, করোনা এবং টেসেরা থাকলেও সেগুলো প্রধানত উল্লম্বভাবে ম্যান্টলের ওঠানামা, উত্তোলন ও নিমজ্জনের প্রভাব বলে মনে করা হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুক্রের উচ্চ তাপমাত্রা তার লিথোস্ফিয়ারকে এমনভাবে প্রভাবিত করেছে যে, পৃথিবীর মতো সাবডাকশন প্রক্রিয়া সহজে গড়ে ওঠেনি।

তবে শুক্রের পৃষ্ঠে গহ্বরের বণ্টন দেখে অনেকে ধারণা করেন, তুলনামূলক অল্প সময় আগে পুরো গ্রহ জুড়ে বড় ধরনের “resurfacing” বা নতুন করে পৃষ্ঠ গঠন হয়েছে। অর্থাৎ অনেক পুরোনো ভূখণ্ড একসময় লাভা ও ভূতাত্ত্বিক ক্রিয়ায় ঢাকা পড়ে নতুন চেহারা পেয়েছে।

শুক্রে উল্কাপাতের চিহ্নও আছে, কিন্তু ছোট গর্ত নেই কেন

শুক্রের পৃষ্ঠে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে তৈরি বহু গহ্বর আছে। কিন্তু ছোট আকারের গহ্বর প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ শুক্রের অত্যন্ত ঘন বায়ুমণ্ডল ছোট উল্কাখণ্ডকে পৃষ্ঠে পৌঁছানোর আগেই ভেঙে ফেলে বা পুড়িয়ে দেয়। ফলে কেবল তুলনামূলক বড় উল্কাপিণ্ডই মাটিতে আঘাত করতে পারে। এ কারণে শুক্রের ছোট ক্রেটারের সংখ্যা খুব কম।

শুক্রে চৌম্বক ক্ষেত্র নেই বললেই চলে

পৃথিবীর মতো শুক্রের নিজস্ব শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র নেই। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা কয়েকটি সম্ভাবনার কথা বলেন: খুব ধীর ঘূর্ণন, কোরে যথেষ্ট গতিশীল তরল প্রবাহের অনুপস্থিতি, অথবা কোরের ভিন্ন অবস্থা। ফলে সূর্যবায়ুর সঙ্গে শুক্রের বায়ুমণ্ডলের সরাসরি মিথস্ক্রিয়া বেশি হয়।

এই মিথস্ক্রিয়ার কারণে শুক্র ধীরে ধীরে তার উপরের বায়ুমণ্ডল থেকে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন হারিয়েছে। অনেক গবেষক মনে করেন, শুক্রে একসময় বেশি পানি থাকতে পারে, কিন্তু এই দীর্ঘমেয়াদি বায়ুমণ্ডল ক্ষয়ের প্রক্রিয়ায় তা হারিয়ে গেছে।

শুক্রে কি একসময় পানি ছিল

শুক্র বর্তমানে শুষ্ক, দহনজ্বলা, জলহীন এক গ্রহ। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, সবসময় কি এমনই ছিল? কিছু বৈজ্ঞানিক মডেল ইঙ্গিত দেয় যে, অতীতে শুক্রে তরল পানি থাকতে পারে। যদি তা সত্যি হয়, তবে পরবর্তীতে অনিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস প্রভাব, বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তন এবং সৌরবায়ুর কারণে সেই পানি উবে গিয়ে মহাকাশে হারিয়ে গেছে। এ প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর এখনও মেলেনি, তবে এটাই শুক্র গবেষণার সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি।

শুক্র গবেষণায় মহাকাশযানের দীর্ঘ ইতিহাস

শুক্র ছিল অন্য কোনো গ্রহের মধ্যে প্রথম যাকে কাছ থেকে মহাকাশযান পর্যবেক্ষণ করে। ১৯৬২ সালে Mariner 2 প্রথম সফলভাবে শুক্রের পাশ দিয়ে উড়ে তথ্য পাঠায়। পরে Mariner 5, Mariner 10, Pioneer Venus, সোভিয়েত Venera মিশন, Vega মিশন, Galileo, Magellan, Cassini, Venus Express এবং Akatsuki শুক্র সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বাড়িয়েছে।

বিশেষভাবে সোভিয়েত Venera মিশনগুলো প্রথম শুক্রপৃষ্ঠে অবতরণ করে ছবি পাঠায়। ১৯৮২ সালে Venera 13 যে রঙিন ছবি পাঠিয়েছিল, তাতে দেখা যায় পাথুরে, সমতল, হলুদ-কমলা আলোয় ভরা এক ভিন্ন জগৎ। অন্যদিকে Magellan মিশন পুরো গ্রহের প্রায় ৯৮ শতাংশ পৃষ্ঠ উচ্চ রেজোলিউশনে রাডারে মানচিত্রায়ন করে শুক্র গবেষণায় বিপ্লব ঘটায়।

সামনে আসছে নতুন মিশন

শুক্র নিয়ে আগ্রহ আবারও দ্রুত বাড়ছে। আগামী দশকগুলোতে একাধিক নতুন মিশন পরিকল্পিত। ভারতের শুক্রযান, নাসার DAVINCI ও VERITAS, ইউরোপের EnVision মিশন, এমনকি ভবিষ্যতে শুক্রের ওপরের বায়ুমণ্ডলে মানুষের জন্য এয়ারশিপ-ভিত্তিক অনুসন্ধান ধারণাও আলোচনা হচ্ছে। কারণ, প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় শুক্রের বায়ুমণ্ডলে চাপ ও তাপমাত্রা পৃথিবীর কাছাকাছি, যা গবেষণার জন্য আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।

কেন শুক্র গবেষণা এত গুরুত্বপূর্ণ

শুক্রকে শুধু একটি গ্রহ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ, জলবায়ু বিপর্যয় এবং গ্রহের বিবর্তন বোঝার এক জীবন্ত ল্যাবরেটরি। একই ধরনের আকার ও উপাদান থেকে গঠিত দুটি গ্রহ কীভাবে এত ভিন্ন পথে গেল, সেই প্রশ্ন বিজ্ঞানীদের গভীরভাবে ভাবায়। পৃথিবী যদি কখনও অনিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস প্রভাবের দিকে এগোয়, তবে শুক্র তার ভয়াবহ উদাহরণ।

সব মিলিয়ে শুক্র একদিকে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের তুলনামূলক বড় গ্রহ, অন্যদিকে সবচেয়ে প্রতিকূল এবং রহস্যময় শিলা গ্রহগুলোর একটি। এর উজ্জ্বল মুখচ্ছবির আড়ালে লুকিয়ে আছে আগুনঝরা পৃষ্ঠ, অ্যাসিডের মেঘ, দমবন্ধ করা চাপ, ধীর উল্টো ঘূর্ণন এবং এক হারিয়ে যাওয়া সম্ভাব্য অতীতের গল্প। তাই শুক্রকে যত বেশি জানা যাবে, ততই বোঝা যাবে শুধু আরেকটি গ্রহ নয়, বরং আমাদের নিজের পৃথিবীকেও।

সূত্র: ব্রিটানিকা

পাঠকের মতামত: