ডি-বক্স থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল, জাইমা রহমানের ফুটবল খেলার ভিডিও ভাইরাল!

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ২১:৫০:২৭
ডি-বক্স থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল, জাইমা রহমানের ফুটবল খেলার ভিডিও ভাইরাল!
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ফুটবল প্রতিভা, নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দারুণ সক্ষমতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে রীতিমতো মুগ্ধতা তৈরি করেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাইমা রহমানের ফুটবল খেলার একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁর চমৎকার ফুটবল শৈলী ও দৃষ্টিনন্দন গোলের দৃশ্য ফুটে উঠেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ইতিপূর্বে জাইমার ক্রীড়াসুলভ মনোভাব ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের কিছু অজানা তথ্য সামনে এনেছিলেন।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, গোলবারের সামনে ডি-বক্সের কাছাকাছি অবস্থানে থাকা এক নারী ফুটবলারের কাছ থেকে বল পান জাইমা রহমান। এরপর অত্যন্ত পেশাদার ও চমৎকার দক্ষতায় বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত পাস আদান-প্রদানের মাধ্যমে রক্ষণভাগ ভেঙে সামনে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ বোকা বানিয়ে বাঁ পায়ের এক জোরালো ও দর্শনীয় শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই জাইমার ফুটবল দক্ষতা এবং খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার প্রশংসা করছেন এবং ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ফুটবল মাঠের এই নৈপুণ্যের পাশাপাশি দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ক্রীড়া কাঠামোর উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিতে আজ সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে সাভারের শিমুলিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) পরিদর্শন করেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। দিনব্যাপী সেখানে অবস্থানকালে তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ইনডোর ও আউটডোর ক্রীড়া ভেন্যু ঘুরে দেখেন, তরুণ অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং বিকেএসপির ক্রীড়াবিদদের পরিবেশিত বিশেষ প্রদর্শনী উপভোগ করেন।

অন্যদিকে, দীর্ঘ চার বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের জমজমাট আসর। বিশ্বকাপ ঘিরে যখন গোটা দুনিয়া ফুটবল উন্মাদনায় মত্ত, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের পছন্দের দল সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন জাইমা রহমান। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক একদিন আগে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক স্টোরিতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘আপনারা কি রেডি?’

স্টোরিটি প্রকাশের পর ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে জাইমার ফুটবল দল নির্বাচন নিয়ে নতুন কৌতূহল ও জল্পনা শুরু হয়। নেটিজেনদের একাংশের প্রবল ধারণা, জাইমা রহমান ব্রাজিল ফুটবল দলের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক। বিশেষ করে ব্রাজিলের ছবি ও ল্যাটিন ফুটবল ঘরানার সংগীত ব্যবহারের বিষয়টি এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

অনেকের মতে, জাইমা রহমানের এই স্টোরিটিকে বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিল সমর্থকদের প্রতি একটি বিশেষ শুভকামনা ও উৎসাহের বার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে। উল্লেখ্য, হেক্সা মিশনের লক্ষ্যে মাঠে নামা ব্রাজিল অবশ্য নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগির মাধ্যমে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে। বর্তমানে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান রাজনীতি ও পেশার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, সাইবার নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক বিষয়ে বেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

/আশিক


এই বিশ্বকাপেই সব সমালোচকদের মুখ বন্ধ করবে ভিনি: কিংবদন্তি রবের্তো কার্লোস

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ২১:৩৩:৩০
এই বিশ্বকাপেই সব সমালোচকদের মুখ বন্ধ করবে ভিনি: কিংবদন্তি রবের্তো কার্লোস
ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি রবের্তো কার্লোস। গ্রাফিক্স: ইত্তেফাক

স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সিতে বিশ্ব ফুটবলের যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য এক চরম ত্রাস ও আতঙ্কের নাম ভিনিসিউস জুনিয়র। তবে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সেই চেনা ও বিধ্বংসী ভিনিসিউসকে ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ-সবুজ জার্সিতে নামলেই যেন সম্পূর্ণ অচেনা ও ছন্দহীন মনে হয়।

জাতীয় দলের হয়ে বড় বড় টুর্নামেন্টে নিজের নামের প্রতি বিন্দুমাত্র সুবিচার করতে না পারায় প্রায়শই ফুটবলপ্রেমী ও কড়া সমালোচকদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় এই তারকা ফরোয়ার্ডকে। তবে চলমান বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হেক্সা মিশন চলাকালীন এই সমালোচনার আবহ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন দলটির সাবেক বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি লেফট-ব্যাক রবের্তো কার্লোস। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, চলমান বিশ্বকাপেই বিশ্বমঞ্চে সমালোচকদের মুখ চিরতরে বন্ধ করে দিয়ে ভিনিসিউস নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যম ইএসপিএন-কে (ESPN) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রবের্তো কার্লোস বলেন, ভিনির মতো বিশ্বমানের একজন খেলোয়াড়কে ফুটবলের মাঠে সবসময়ই নানাবিধ কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে; কারণ পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সে সমালোচনার পাশাপাশি কোটি ভক্তের প্রশংসাও সমানতালে পাবে। তাকে সবার আগে মনস্তাত্ত্বিকভাবে এটি বুঝতে হবে যে—সে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে সফল ও বড় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের সেরা জাতীয় দল ব্রাজিলের আক্রমণভাগের প্রতিনিধিত্ব করছে।

বর্তমানে ২৫ বছর বয়সি ভিনিসিউস জুনিয়রের কাঁধেই মূলত সেলেসাওদের দীর্ঘদিনের অধরা হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের সবচেয়ে বড় ও গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে। কার্লোস মনে করেন, এই বিপুল প্রত্যাশার চাপকে ভিনির কোনোভাবেই এড়িয়ে না গিয়ে বরং ইতিবাচকভাবে উপভোগ করা উচিত। সাবেক এই তারকা ডিফেন্ডার তরুণ ভিনিকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ভিনিসিউসকে অত্যন্ত শান্ত মস্তিস্কে এই জাতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হবে এবং হাসিমুখে মেনে নিতে হবে যে সে বর্তমানে এই তরুণ ব্রাজিল দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ও নেতা। তাই মাঠের বাইরের সমালোচনা কিংবা দলের ভেতরের মূল দায়িত্ব—কোনোটি থেকেই তার মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার বা পালিয়ে যাওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।

চলমান মেগা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শুরুটা খুব একটা আশানুরূপ বা নিখুঁত হয়নি। আফ্রিকার শক্তিশালী দেশ মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা প্রথম ম্যাচে সেলেসাওদের হয়ে একমাত্র স্বস্তির গোলটি এসেছিল এই ভিনিসিউসের পা থেকেই। যদিও ম্যাচজুড়ে তার পায়ের জাদুতে কিছু আক্রমণাত্মক ঝলক দেখা গেছে, তবুও সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা রিয়ালের সেই বিধ্বংসী ভিনিসিউসকে ব্রাজিলের জার্সিতে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। রবের্তো কার্লোস অবশ্য ভিনির ভেতরের সুপ্ত সামর্থ্য নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দিহান নন। তিনি শতভাগ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, "আমি পুরোপুরি নিশ্চিত যে, এই বিশ্বকাপ চলার মাঝেই ভিনি মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বকে প্রমাণ করবে সে আসলে কে এবং পায়ে বল নিয়ে সে কী ধরনের ফুটবল জাদু দেখাতে পারে।"

কার্লোস তাঁর সাক্ষাৎকারে আরও প্রকাশ করেন যে, রিয়াল মাদ্রিদ ও সেলেসাওদের এই প্রধান ভরসার সাথে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে নিয়মিত যোগাযোগ ও কথা হয়। তিনি বলেন, ভিনি এই মুহূর্তে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চিত এবং মানসিকভাবে আত্মবিশ্বাসী। আমি নিয়মিত তার খোঁজখবর নিই এবং তার সঙ্গে খেলা নিয়ে পরামর্শ দিই। বিশ্বমঞ্চে শিরোপা জেতার এই কঠিন লড়াইয়ে এই তরুণ ব্রাজিল দলের প্রধান ভরসা ভিনিসিউস জুনিয়রকেই আমি বিশ্বের সমস্ত শুভকামনা জানাই।

/আশিক


সব হিসাব কষে এক দলের নাম জানাল ৪টি শীর্ষ এআই, চমকে গেছে ফুটবল বিশ্ব!

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ২১:২৮:০৮
সব হিসাব কষে এক দলের নাম জানাল ৪টি শীর্ষ এআই, চমকে গেছে ফুটবল বিশ্ব!
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ চার বছরের পরম প্রতীক্ষা শেষে বিশ্বজুড়ে আবারও গমগম করে উঠেছে ফিফা বিশ্বকাপের তুমুল উন্মাদনা। তবে মাঠের লড়াই পুরোদমে জমে ওঠার আগেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শুরু হয়ে গিয়েছে কম্পিউটার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চুলচেরা সব ভবিষ্যদ্বাণী। বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি হেভিওয়েট ও ট্রফিপ্রত্যাশী পরাশক্তি দল তাদের প্রথম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামেনি, যার মধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং ইউরোপসেরা স্পেন। এবারের বর্ধিত ৪৮ দলের মেগা বিশ্বকাপে একাধিক দলের খেতাব জয়ের সমীকরণ উঁকি দিলেও, শেষ পর্যন্ত আগামী ১৯ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ফাইনালে কার মুখে শেষ হাসি ফুটবে, তা নিয়ে এখনই চলছে তুমুল জল্পনা-কল্পনা।

বিশ্বকাপের ট্রফি কার ঘরে যাচ্ছে—এই একই প্রশ্ন করা হয়েছিল বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চারটি এআই চ্যাটবটকে, যার মধ্যে রয়েছে চ্যাটজিপিটি, ক্লদ এআই, গুগল জেমিনি এবং মাইক্রোসফট কো-পাইলট। সবাইকে একদম একই প্রম্পট দিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "কে জিতবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬?"। অত্যন্ত চমকপ্রদ বিষয় হলো, ডেটা এবং পরিসংখ্যানের জটিল সমীকরণ বিশ্লেষণ করে চারটি চ্যাটবটই একদম একসুরে একই দলের নাম বেছে নিয়েছে; আর সেই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলটি হলো স্পেন। পাশাপাশি প্রতিটি এআই প্রযুক্তির চোখেই রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় ফেভারিট দল হিসেবে উঠে এসেছে ফ্রান্সের নাম।

বিশ্বখ্যাত চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি তার গাণিতিক মূল্যায়নে জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও পরিসংখ্যানের নিখুঁত বিচারে এই মুহূর্তে যদি কোনো নির্দিষ্ট একটি দলকে ট্রফির প্রধান দাবিদার হিসেবে বেছে নিতে হয়, তবে সেই ফেভারিট দলটি নিঃসন্দেহে স্পেন। চ্যাটজিপিটির সুরেই সুর মিলিয়ে গুগল জেমিনি জানিয়েছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক ফুটবল পরিসংখ্যানের গ্রাফে অন্য সব দলের চেয়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে স্পেন, আর তাদের একদম ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স।

একই ধারায় প্রথম দুই চ্যাটবটের ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে হুবহু মিলে গেছে ক্লদ এআই-এর বিশ্লেষণও। ক্লদ জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জেতার গাণিতিক সম্ভাবনা স্পেনেরই সবচেয়ে বেশি এবং তারা শক্তির বিচারে ফ্রান্সের চেয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে রয়েছে। ৪৮ দলের এই বিশাল মহাযজ্ঞে স্পেনের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ থাকার মূল কারণ হিসেবে তারা দলটির তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামালসহ একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলারের স্কোয়াড গভীরতাকে উল্লেখ করেছে। তবে চ্যাটবটটি মনে করিয়ে দিয়েছে যে, টুর্নামেন্ট যেহেতু সবেমাত্র শুরু হয়েছে, তাই ফুটবলের মাঠে অনেক অনিশ্চয়তা ও রোমাঞ্চ এখনো বাকি রয়েছে।

অন্যদিকে মাইক্রোসফটের কো-পাইলটও এই ভবিষ্যদ্বাণীতে পূর্ণ সায় দিয়ে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বেটিং মার্কেট, আধুনিক ডেটা মডেল এবং ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের সামগ্রিক বিচারে নির্দিষ্ট কোনো দলকে শতভাগ নিশ্চিত বলা না গেলেও, স্পেনের ট্রফি জেতার সম্ভাবনা প্রায় ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ, যা টুর্নামেন্টের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে সর্বোচ্চ। এর পেছনে দলটির সাম্প্রতিক ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আত্মবিশ্বাস বড় ভূমিকা রাখছে।

প্রযুক্তির জগতের এই সম্মিলিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, এআই-এর দুনিয়ায় বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে বাকিদের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে রয়েছে স্প্যানিশ আর্মাডারা। তবে মহাজাগতিক এই খাতা-কলমের হিসাব মাঠে কতটা সত্যি প্রমাণিত হয়, তা দেখার জন্য ফুটবল বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কারণ ভবিষ্যদ্বাণীর শীর্ষে থাকা লামিন ইয়ামালদের স্পেন এখনো বিশ্বমঞ্চের মূল লড়াইয়ে পা রাখেনি। আজ সোমবার রাতেই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামছে ইউরোপ সেরারা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ আফ্রিকার আনকোরা দল কেপ ভার্দে। এখন দেখার বিষয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানির মতো বিশাল ও দাপুটে জয় দিয়ে স্পেন তাদের এই এআই-স্বীকৃত ফেভারিট মিশন শুরু করতে পারে কিনা।

/আশিক


মরক্কোর সাথে ড্রয়ে ব্রাজিলের হোঁচট, তবে আর্জেন্টিনার উদাহরণ টেনে আশাবাদী কাকা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৮:৩৬:২৯
মরক্কোর সাথে ড্রয়ে ব্রাজিলের হোঁচট, তবে আর্জেন্টিনার উদাহরণ টেনে আশাবাদী কাকা
ছবি : সংগৃহীত

২০০২ সালের পর দীর্ঘ খরা কাটিয়ে হেক্সা মিশনের লক্ষ্যে বিশ্বমঞ্চে যাত্রা শুরু করতেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল। মাঠের খেলায় চরম সমন্বয়হীনতা আর তালগোল পাকানো ফুটবল উপহার দিয়ে আফ্রিকার দেশ মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে সেলেসাওরা। প্রথম ম্যাচেই ভক্তদের এমন হতাশার বৃত্তে বন্দি করলেও, এখনই ব্রাজিলের আশা ছেড়ে দেওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না দলটির সাবেক ব্যালন ডি'অর জয়ী মহাতারকা কাকা।

মরক্কো ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ে সেলেসাওদের মাঝে কোনো ছন্দ, একাগ্রতা কিংবা দলগত মানসিকতার স্পষ্ট অভাব লক্ষ্য করা গেছে। তার ওপর দলের মূল তারকা নেইমার জুনিয়র এখনো সম্পূর্ণ ফিট নন—ভবিষ্যতে তিনি ফিরলেও কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন, তা নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। কাকার পুরো যুক্তিটি দাঁড়িয়ে আছে কোচ কার্লো আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা এবং গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণের ওপর। তবে কাকার এই আশাবাদ কতটা বাস্তবসম্মত আর এর দুর্বল জায়গাগুলো কোথায়, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

কাকার যুক্তির দুর্বলতা ও অন্ধবিন্দু (Blind Spots)

কাকা যুক্তি দিয়েছেন যে আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরেও বিশ্বকাপ জিতেছিল। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসে এটি একটি বিরল ব্যতিক্রম। আর্জেন্টিনা দলে তখন লিওনেল মেসির মতো একজন সম্পূর্ণ ফিট এবং অতিমানবীয় ফর্মে থাকা নেতা ছিলেন, যার চারপাশে পুরো দল এক সুতোয় গাঁথা ছিল। বর্তমান ব্রাজিল দলে নেইমারের চোট এবং ফর্মের যে অবস্থা, তাতে তাঁর ওপর ভর করে 'আর্জেন্টাইন রূপকথা'র পুনরাবৃত্তি আশা করা এক প্রকার অন্ধবিশ্বাস।

ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদ বা এসি মিলানের হয়ে আনচেলত্তির সাফল্য আকাশচুম্বী হলেও, আন্তর্জাতিক ফুটবল বা বিশ্বকাপের মতো সংক্ষিপ্ত ও উচ্চ চাপের টুর্নামেন্টে জাতীয় দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁর একদমই নতুন। ক্লাব ফুটবলের মতো এখানে প্রতিদিন খেলোয়াড়দের ভুলত্রুটি শুধরে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় তিনি পাবেন না।

মরক্কো ম্যাচে ব্রাজিলের মূল সমস্যা কোচের কৌশল ছিল না, ছিল খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ছন্দহীনতা এবং পাসিংয়ের দুর্বলতা। নেইমারের অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে বল সেশনের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা রাতারাতি কোনো জাদুমন্ত্রে ঠিক করা সম্ভব নয়।

/আশিক


সুইডেন থেকে স্পেন, আজ জমজমাট বিশ্বকাপ সূচি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ০৮:২১:৪১
সুইডেন থেকে স্পেন, আজ জমজমাট বিশ্বকাপ সূচি
ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তাপ দিন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা। সোমবার (১৫ জুন) থেকে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল পর্যন্ত বিশ্বকাপে অনুষ্ঠিত হবে মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের কয়েকটি শক্তিশালী দল মাঠে নামায় দিনটি হতে যাচ্ছে ফুটবল সমর্থকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়।

দিনের সূচনা হবে সুইডেন ও তিউনিসিয়ার লড়াই দিয়ে। এরপর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নামবে স্পেন, বেলজিয়াম, সৌদি আরব, উরুগুয়ে, ইরান ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলগুলো। ফলে সকাল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত টিভি পর্দায় জমে উঠবে ফুটবল মহারণ।

বিশেষ করে ইউরোপীয় শক্তি স্পেনের ম্যাচ ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তুলনামূলক কম পরিচিত দল কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামলেও কোনো ধরনের আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চাইবে না স্প্যানিশরা। নকআউট পর্বের আগে নিজেদের ছন্দ ধরে রাখাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

অন্যদিকে বেলজিয়ামের সামনে অপেক্ষা করছে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মিসর। অভিজ্ঞতা ও তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামলেও মিসরের গতি ও আক্রমণভাগ বেলজিয়ামের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সৌদি আরব ও উরুগুয়ের ম্যাচটিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী দল উরুগুয়ে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে চাইবে, অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক উন্নতি করা সৌদি আরব বড় অঘটন ঘটানোর স্বপ্ন দেখছে।

দিনের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইরান ও নিউজিল্যান্ড। এশিয়া ও ওশেনিয়ার দুই প্রতিনিধির এই লড়াইয়ে গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের লক্ষ্য থাকবে উভয় দলের।

বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য সুখবর হলো, প্রতিটি ম্যাচই সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বিটিভি, টি-স্পোর্টস এবং সময় টেলিভিশনে। ফলে ঘরে বসেই পুরো ফুটবল উৎসব উপভোগ করতে পারবেন সমর্থকরা।

আজকের বিশ্বকাপ সূচি

সুইডেন বনাম তিউনিসিয়া

সকাল ৮:০০টা

স্পেন বনাম কেপ ভার্দে

রাত ১০:০০টা

বেলজিয়াম বনাম মিসর

রাত ১:০০টা

সৌদি আরব বনাম উরুগুয়ে

আগামীকাল ভোর ৪:০০টা

ইরান বনাম নিউজিল্যান্ড

আগামীকাল সকাল ৭:০০টা

সরাসরি সম্প্রচার: বিটিভি, টি-স্পোর্টস ও সময় টেলিভিশন

বিশ্বকাপ আয়োজকদের তথ্যমতে, এবারের আসরে ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। মোট ১০৪টি ম্যাচ নিয়ে প্রায় ৪০ দিনের এই টুর্নামেন্ট ইতোমধ্যেই বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

-রাফসান


গত দুই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ব্যর্থতা ভুলে আজ নতুন মিশন শুরু করছে জার্মানরা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ২১:৫৯:৩৮
গত দুই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ব্যর্থতা ভুলে আজ নতুন মিশন শুরু করছে জার্মানরা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অভিষেক করতে যাচ্ছে মাত্র ১ লাখ ৮৫ হাজার জনসংখ্যার দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে নিজেদের নাম লেখাতে যাচ্ছে তারা, যা বিশ্ব ফুটবলে এক অনন্য নজির ও রেকর্ড সৃষ্টি করবে।

অবশ্য বিগত দুটি বিশ্বকাপে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হওয়া জার্মানির জন্য কুরাসাওকে একেবারেই হালকা প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বের খেলায় কুরাসাও টানা ১০টি ম্যাচে সম্পূর্ণ অপরাজিত থাকার এক দুর্দান্ত কৃতিত্ব দেখিয়েছে। এছাড়া দলটির বর্তমান স্কোয়াডে নেদারল্যান্ডসের ঘরোয়া ফুটবলে বেড়ে ওঠা এবং প্রশিক্ষণ পাওয়া বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছেন, যাঁরা মাঠে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বা দখলে রাখতে বেশ পারদর্শী।

গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটির চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের খেলাধুলাভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ তাদের নিজস্ব বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সম্পূর্ণ কম্পিউটারনির্ভর গাণিতিক ভবিষ্যদ্বাণী ব্যবস্থা ‘অ্যালগো’র সহায়তা নিয়েছে। অ্যাথলেটিকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সেই মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে, কুরাসাওয়ের সাম্প্রতিক সাফল্য ও শক্তির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেই বলা যায়—তাদের মোকাবিলা করা চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির জন্য মাঠের লড়াইয়ে খুব বড় কোনো চ্যালেঞ্জ বা জটিলতার সৃষ্টি করবে না।

বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে। খেলাটির ভবিষ্যৎ ধারণা করতে গিয়ে দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, আজকের এই ম্যাচে দর্শকেরা মাঠের লড়াইয়ে ‘অনেক গোল’ দেখতে পেতে পারেন। তবে কুরাসাও যদি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় কোনো অলৌকিক অঘটন ঘটাতে না পারে, তাহলে পুরো ম্যাচটি সম্পূর্ণ একপেশে হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিসংখ্যানের বরাতে অ্যাথলেটিক আরও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, জার্মানি সামগ্রিকভাবে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সফল ও ঐতিহ্যবাহী একটি দল। তারা এ পর্যন্ত রেকর্ড চারবার বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলেছে এবং আরও চারবার রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তবে ফুটবল ইতিহাসের এই অন্যতম পরাশক্তি দলটির সাম্প্রতিক অতীত একেবারেই সুখকর নয়; কারণ বিগত টানা দুটি বিশ্বকাপের আসরেই তারা গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পার হতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল।

চলমান জার্মান স্কোয়াডের অন্যতম সেরা দুই চালিকাশক্তি ও প্লেমেকার ফ্লোরিয়ান ভির্টজ এবং জামাল মুসিয়ালা। অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে এই দুই তারকার সাম্প্রতিক মৌসুমটি খুব একটা ভালো কাটেনি। তবে জাতীয় দলের আক্রমণভাগে তাদের সঙ্গে কাই হাভার্টজের মতো তারকা ফুটবলার যুক্ত থাকায় এই শক্তিশালী ফরওয়ার্ড লাইনআপের ওপর ভর করেই জার্মানি আজকের ম্যাচ থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

চূড়ান্ত মূল্যায়নে দ্য অ্যাথলেটিকের নিজস্ব ফুটবল বিশ্লেষক, আমন্ত্রিত অতিথি বিশেষজ্ঞ এবং কম্পিউটারনির্ভর আধুনিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থা ‘অ্যালগো’—সব পক্ষের সম্মিলিত ভবিষ্যদ্বাণী ও হিসাব-নিকাশ এটিই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আজকের এই উদ্বোধনী ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে জার্মানিই।

/আশিক


পুরনো ছন্দে ফিরেছেন মেসি, আলজেরিয়া ম্যাচের আগে উৎকণ্ঠা কাটল ভক্তদের

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ২০:৩২:৪৫
পুরনো ছন্দে ফিরেছেন মেসি, আলজেরিয়া ম্যাচের আগে উৎকণ্ঠা কাটল ভক্তদের
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের শিবিরে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়ে অবশেষে পুরোদমে দলীয় অনুশীলন শুরু করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মাঠে তাঁর সাবলীল মুভমেন্ট ও অনুশীলন দেখে স্পষ্ট মনে হচ্ছে, তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও ফিট হয়ে উঠেছেন। মাত্র কয়েক দিন আগেও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ভোগার কারণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মেসি ভক্তদের মধ্যে যে গভীর দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল, প্রিয় তারকাকে মাঠে ফিরে পেয়ে তা অনেকটাই কেটে গেছে।

আমেরিকান ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে একটি ঘরোয়া ম্যাচ খেলতে গিয়ে মূলত হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। এই চোটের কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার পর শুরুর দিকে আর্জেন্টিনার মূল দলের সঙ্গে মাঠের অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। চোট কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন চিকিৎসকদের পরামর্শে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে ব্যক্তিগত জিম ও শারীরিক অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

চোট থেকে ফিরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে বদলি বা সাবস্টিটিউট খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে একটি চমৎকার গোলও করেন তিনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মেসি নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন যে, তিনি আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন এবং মাঠে খেলতে গিয়ে তাঁর কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা হচ্ছে না। দলের বর্তমান অনুশীলনেও মেসির সেই কথার বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেছে এবং প্রিয় আঙিনায় তাকে একদম পুরনো ছন্দে ড্রিবলিং ও শট নিতে দেখা গেছে।

রবিবার কানসাস সিটি এফসির ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনার মূল স্কোয়াডের সঙ্গেই একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোদমে কঠোর অনুশীলন করেছেন মহাতারকা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অনুশীলনে মেসিকে দেখে বিন্দুমাত্র বোঝার উপায় ছিল না যে তিনি কোনো প্রকার শারীরিক অস্বস্তি বা চোটের ধকল সামলাচ্ছেন। অনুশীলন সেশনজুড়ে তাকে সতীর্থদের সঙ্গে বেশ হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত মেজাজে দেখা গেছে।

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গ্রুপে প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে আলজেরিয়া, জর্ডান ও অস্ট্রেলিয়া। আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা। এরপর আগামী ২২ জুন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে অস্ট্রেলিয়া এবং ২৮ জুন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জর্ডানের বিরুদ্ধে গ্রুপের বাকি দুটি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবেন মেসি-ডি মারিয়ারা। আরও এক বার ফুটবলের বৈশ্বিক ট্রফি নিজেদের করে নেওয়ার চাক্ষুষ লক্ষ্যে মাঠে নামছে আলবিসেলেস্তেরা, আর সেই বিশ্বজয়ের অভিযানে স্বাভাবিকভাবেই আরও এক বার পুরো দল ও দেশের মানুষ লিওনেল মেসির জাদুকরী পায়ের ওপরেই সর্বোচ্চ ভরসা রাখছে।

/আশিক


অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ হাতছাড়া বাংলাদেশের

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৯:৫৩:২৬
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ হাতছাড়া বাংলাদেশের
ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার এক ঐতিহাসিক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত তা হাতছাড়া করল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শেষ ওভারের শ্বাসরুদ্ধকর ও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর ম্যাচটি জিতে নিয়েছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।

তবে এই ম্যাচে হেরে গেলেও প্রথম দুই ওয়ানডেতে টানা জয় পাওয়ায় আগেই সিরিজ জয়ের অনন্য ইতিহাস নিশ্চিত করে রেখেছিল টাইগাররা। ওয়ানডে ক্রিকেটে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজের মাধ্যমে দীর্ঘ ২১ বছর পর দ্বিতীয় কোনো ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সিরিজ নিজেদের করে নেওয়ার এক নতুন নজির গড়েছে বাংলাদেশ।

রোববার (১৪ জুন) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের প্রথম ওভারেই বড় ধাক্কা খায় টাইগাররা; আগের ম্যাচে ৪২ রান করা ওপেনার সৌম্য সরকার আজ মাত্র ২ রান করেই সাজঘরে ফিরে যান। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৫১ রানের একটি জুটি গড়ে বিদায় নেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, আউট হওয়ার আগে তিনি ১৯ রান করেন। তবে অধিনায়ক শান্তও আজ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, ৫০ বল মোকাবিলা করে মাত্র ২৪ রান করে তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

দলীয় ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশ কিছুটা বিপদে, তখন দলের হাল ধরেন লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটসম্যান ১০৯ বলে ৯৫ রানের একটি চমৎকার ও দায়িত্বশীল জুটি গড়েন। তবে দলীয় ১৫৩ রানে লিটন কুমার দাস দুর্ভাগ্যবশত রিটায়ার্ডহার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। মাঠ ছাড়ার আগে তিনি ৭৮ বল খেলে চারটি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে ৫৮ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলেন।

লিটন বিদায় নেওয়ার পর তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত মিলে দলের রানের চাকা সচল রাখেন এবং ৮১ বলে ৯০ রানের আরও একটি দারুণ জুটি উপহার দেন। দলীয় ২৪৬ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তাওহীদ হৃদয় আউট হন, তবে তার আগে ৮৮ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ৫১ বলে ৫টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৪ রান।

২৭৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে বেশ আক্রমণাত্মক ও উড়ন্ত সূচনা করে ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। উদ্বোধনী জুটিতে দ্রুত ৪০ রান সংগ্রহ করার পর মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে সফরকারীরা। বাংলাদেশ দলের পেসার শরীফুল ইসলামের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ২১ রান করে মাঠ ছাড়েন ওজি ওপেনার জশ ইংলিস।

এরপর ওয়ান ডাউনে ব্যাটিং করতে নামা ম্যাট রেনশ নিজের ফেস করা দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে বিদায় নেন। দলের রান যখন ৭০, তখন জাতীয় দলের তারকা অলরাউন্ডার সৌম্য সরকারের নেওয়া অবিশ্বাস্য সুন্দর এক ক্যাচে সাজঘরে ফিরে যান অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারি; তিনি ১৬ বলে মাত্র ৮ রান করতে সক্ষম হন।

চতুর্থ উইকেটে ওপেনার কুপার কনোলির সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মার্নাস লাবুশেন। এই দুই ব্যাটসম্যান ৭৭ বলে ৬৪ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়েন। দলীয় ১৩৪ রানে লাবুশেন ৪৫ বলে ২৩ রান করে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলে এই জুটি ভাঙে। এরপর পঞ্চম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে নতুন জুটি গড়ে দলকে জয়ের একদম কাছাকাছি নিয়ে যান ওপেনার কুপার কনোলি, যিনি শুরু থেকেই এক প্রান্ত আগলে রেখে অজিদের ইনিংস টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার মাত্র ৩ বল বাকি থাকতে ৯ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া এবং ১ উইকেটের এই রুদ্ধশ্বাস জয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে নিজেদের রক্ষা করে তারা।

/আশিক


বিশ্বকাপ দেখবেন কোথায়? জেনে নিন সব মাধ্যম

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১২:৩১:১৯
বিশ্বকাপ দেখবেন কোথায়? জেনে নিন সব মাধ্যম
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে উন্মাদনা। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগাল, ফ্রান্স, জার্মানি কিংবা স্বাগতিক দেশগুলোর সমর্থকদের মধ্যে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই প্রিয় দলের পতাকা টাঙানো, জার্সি সংগ্রহ এবং খেলা দেখার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অনেক দর্শকের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো দেশের দর্শকরা সরাসরি দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে এবং একাধিক প্ল্যাটফর্মে ম্যাচ দেখার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, দর্শকরা শুধু টেলিভিশনে নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও সরাসরি ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন। ফলে ঘরে, কর্মস্থলে কিংবা ভ্রমণের মধ্যেও স্মার্টফোন ও অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করে খেলা দেখা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো সম্প্রচার করছে। রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচারমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দর্শকরাও খেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের জনপ্রিয় ক্রীড়া চ্যানেল টি-স্পোর্টসও বিশ্বকাপের ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

এ ছাড়া আরও কয়েকটি বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম নির্ধারিত ম্যাচ সম্প্রচার করায় দর্শকদের জন্য বিকল্প সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে কেবল টিভি সংযোগ থাকা দর্শকদের ম্যাচ উপভোগে খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বাংলালিংকের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করছেন। সহজ ব্যবহার, তুলনামূলক কম খরচ এবং লাইভ স্ট্রিমিং সুবিধার কারণে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

একইভাবে গ্রামীণফোনের ডিজিটাল সেবা বায়োস্কোপও বিশ্বকাপ সম্প্রচারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে বায়োস্কোপ একটি পরিচিত নাম এবং বিশ্বকাপ উপলক্ষে এর ব্যবহারও বেড়েছে।

মোবাইলভিত্তিক ডিজিটাল বিনোদন প্ল্যাটফর্ম মাই রবি অ্যাপও বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সুযোগ দিয়েছে। ফলে দেশের তিন বৃহৎ মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকরা নিজ নিজ ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে খেলা উপভোগ করতে পারছেন।

অন্যদিকে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনও বিশ্বকাপ সম্প্রচারের তালিকায় রয়েছে। উচ্চ রেজোলিউশনের ভিডিও, স্মার্ট টিভি সমর্থন এবং স্থিতিশীল স্ট্রিমিং সুবিধার কারণে অনেক দর্শক এই প্ল্যাটফর্মকেও বেছে নিচ্ছেন।

বিশ্বকাপ মানেই তারকাদের মহারণ। লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহামসহ বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের কোটি কোটি সমর্থক। বিশেষ করে মেসি ও রোনালদোর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ উপস্থিতি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ এবার আরও বেশি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ফ্যান গ্রুপ, ফুটবল কমিউনিটি এবং ক্রীড়াভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন চলছে দলীয় শক্তি, সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন এবং তারকা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা।

প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে অনেক দর্শক বিভিন্ন থার্ড-পার্টি অ্যাপ বা অননুমোদিত ওয়েবসাইট থেকেও খেলা দেখার চেষ্টা করেন। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এসব প্ল্যাটফর্মে ম্যালওয়্যার, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং কপিরাইট জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে। তাই অনুমোদিত সম্প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য উপায়।

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আসরটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এই টুর্নামেন্টে। যৌথভাবে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ।

-রাফসান


দানিলোর স্বীকারোক্তি: ‘প্রথমার্ধে আমরা খুবই বাজে খেলেছি’

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১২:১৭:৫৫
দানিলোর স্বীকারোক্তি: ‘প্রথমার্ধে আমরা খুবই বাজে খেলেছি’
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ও অধিনায়ক দানিলো। ফাইল ছবি।

বিশ্বকাপ মিশনের শুরুটা প্রত্যাশামতো হলো না ব্রাজিলের। হারেনি, তবে জিততেও পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়লেও ম্যাচ শেষে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির চেয়ে অস্বস্তিই বেশি স্পষ্ট ছিল। বিশেষ করে প্রথমার্ধে দলের অগোছালো পারফরম্যান্স নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার দানিলো।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কোর সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবলের সামনে বেশ চাপে পড়ে ব্রাজিল। বল দখল, পজিশনিং, রক্ষণভাগের সমন্বয় এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, কোনো জায়গাতেই শুরুতে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি সেলেসাওদের। তারই সুযোগ নিয়ে ম্যাচের ২১ মিনিটে এগিয়ে যায় মরক্কো। গোল হজমের পর কিছুটা জেগে ওঠে ব্রাজিল। ১১ মিনিট পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সমতা ফেরালেও প্রথমার্ধের সামগ্রিক পারফরম্যান্স ব্রাজিলের মানের সঙ্গে যায়নি।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে দানিলো অকপটে স্বীকার করেন, প্রথমার্ধে ব্রাজিল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক নিচে ছিল। তার ভাষায়, “প্রথমার্ধে আমরা খুবই বাজে খেলেছি। মাঠে আমাদের অবস্থান, টেকনিক, ট্যাকটিক্স—কোনো দিক থেকেই আমরা ভালো ছিলাম না।” ৮০তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা এই মিডফিল্ডার মনে করেন, প্রথম ৪৫ মিনিটে ব্রাজিলের ভুলগুলো এতটাই স্পষ্ট ছিল যে আরও গোল হজম করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না।

দানিলোর মতে, ম্যাচের শুরুতে ব্রাজিল মানসিক চাপ সামলাতে পারেনি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ, বড় প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দ্রুত ছন্দ খুঁজে না পাওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের মধ্যে অস্থিরতা দেখা যায়। তিনি বলেন, “আমরা খুবই স্নায়ুচাপে ছিলাম, উদ্বিগ্নও ছিলাম। ফলে নিজেদের ভুলের কারণেই বারবার বিপদে পড়েছি। ভাগ্যিস, প্রথমার্ধে আরও বেশি গোল হজম করে পিছিয়ে পড়িনি।”

তবে দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা বদলে যায় ব্রাজিলের চেহারা। বিরতির পর কৌশলগত পরিবর্তন, বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং মাঝমাঠে তুলনামূলক স্থিতি ফেরার কারণে ম্যাচে ধীরে ধীরে ফিরে আসে তারা। মরক্কোর রক্ষণভাগকে চাপে রাখার মতো কিছু সুযোগও তৈরি করে ব্রাজিল। যদিও শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোল আদায় করতে পারেনি দরিভাল জুনিয়রের দল।

দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্সকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন দানিলো। তার মতে, ম্যাচের প্রথমার্ধ হতাশাজনক হলেও বিরতির পর দলের প্রতিক্রিয়া পরের ম্যাচগুলোর আগে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে। তিনি বলেন, “পরের অংশে আমরা বল দখলে রাখতে পেরেছি, সুযোগও তৈরি করেছি। এসবই পরের ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস জোগাবে।”

অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোও স্বীকার করেছেন, ব্রাজিল বিশ্বকাপে ‘স্বপ্নের মতো শুরু’ পায়নি। তবে তিনি মরক্কোর শক্তিমত্তাকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের কাসেমিরো বলেন, “আমরা জানতাম ম্যাচটি কঠিন হবে। তাদের খেলোয়াড়েরা বেশ মানসম্পন্ন। আমরা সব সময় জয় দিয়ে শুরু করতে চাই, কিন্তু এই ম্যাচটা ছিল দুর্দান্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। ম্যাচটা স্বপ্নের মতো শুরু ছিল না।”

মরক্কোর বিপক্ষে এই ড্র ব্রাজিলের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। দলটির আক্রমণভাগে ব্যক্তিগত প্রতিভা থাকলেও মাঝমাঠ ও রক্ষণে সমন্বয়ের ঘাটতি চোখে পড়েছে। প্রথমার্ধে মরক্কো যে চাপ তৈরি করেছিল, তা সামলাতে গিয়ে ব্রাজিলকে বেশ নড়বড়ে দেখিয়েছে। বিশেষ করে দ্রুত পাসিং, প্রেসিং এবং ট্রানজিশনে মরক্কোর গতির সঙ্গে তাল মেলাতে কিছুটা সমস্যায় পড়েছিল ব্রাজিল।

অন্যদিকে মরক্কোর জন্য এই ড্র আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো ফল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা মরক্কো আবারও দেখাল, বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তারা কেবল রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে না; বরং সুযোগ পেলেই আক্রমণে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সামর্থ্য রাখে।

ব্রাজিলের সামনে এখন দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রথম ম্যাচে ড্র অস্বাভাবিক কিছু নয়, তবে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা দ্রুত সমাধান করতে হবে কোচিং স্টাফকে। বিশেষ করে প্রথমার্ধের মানসিক চাপ, পজিশনিং দুর্বলতা এবং রক্ষণভাগের অস্থিরতা পরের ম্যাচের আগে বড় চিন্তার বিষয়।

ব্রাজিল তাদের পরের ম্যাচ খেলবে ২০ জুন বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ছয়টায়। প্রতিপক্ষ হাইতি। কাগজে-কলমে হাইতি তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হলেও মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর ব্রাজিল নিশ্চয়ই কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছে না। জয়ের ধারায় ফিরতে হলে সেলেসাওদের শুধু ফল নয়, পারফরম্যান্সেও স্পষ্ট উন্নতি দেখাতে হবে।

মরক্কোর বিপক্ষে ড্র তাই ব্রাজিলের জন্য ব্যর্থতা না হলেও স্বস্তির ফলও নয়। বরং এটি একটি সতর্কবার্তা, বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু তারকা ফুটবলার যথেষ্ট নয়; দরকার মানসিক দৃঢ়তা, কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং পুরো ম্যাচজুড়ে ধারাবাহিকতা।

পাঠকের মতামত: