ইরান চুক্তিতে বিলম্ব, ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প; নিশানায় নেতানিয়াহু

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল আলোচিত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনায় সেই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আশা প্রকাশ করলেও স্পষ্ট করে বলেছেন, এই হামলার কারণে চুক্তি বাস্তবায়ন কয়েক ঘণ্টার জন্য পিছিয়ে গেছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে ঘটে যাওয়া এই সামরিক পদক্ষেপে ট্রাম্প গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করছেন, এমন সংবেদনশীল মুহূর্তে হামলা চালানো পুরো কূটনৈতিক অগ্রগতিকে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তার ভাষায়, সবকিছু সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তের সামরিক পদক্ষেপের কারণে পুরো প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বিলম্বিত হয়েছে। তবে তিনি এখনো আশাবাদী যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এমন হামলা চালানোর কোনো যৌক্তিকতা তিনি খুঁজে পাননি। তিনি এটিকে অপ্রয়োজনীয় এবং কূটনৈতিকভাবে ক্ষতিকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। এমনকি তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী বৈরুতে নতুন করে আঘাত হানে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পরই ওয়াশিংটনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক আলোচনা এখন একইসঙ্গে চলমান থাকায় যেকোনো একতরফা পদক্ষেপ পুরো প্রক্রিয়াকে ভেঙে দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যুতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এখন বড় নির্ধারক হয়ে উঠেছে।
এদিকে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবানন সংকটকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, শুধু পারমাণবিক বা দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নয়, বরং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানও আলোচনার অংশ হতে হবে।
ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, লেবাননে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান ছাড়া কোনো একতরফা সমঝোতায় তারা আগ্রহী নয়। তাদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সূত্র: বাসস
বাব আল-মান্দেবে হুথিদের থাবা ও হরমুজে ইরানের কড়া শর্ত: মহায়ুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য?
লোহিত সাগরের কৌশলগত পয়েন্ট বাব আল-মান্দেব ও পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সামরিক বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে, অন্যদিকে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষযে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের একটি প্রাথমিক সমঝোতা তৈরি হয়েছে। তবে এই চুক্তির অধীনে এখনই নৌপথটি খুলে দেওয়া হচ্ছে না। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’-এর বরাতে জানা গেছে, প্রণালীটি পুনরায় চালু হওয়া না-হওয়া সম্পূর্ণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।
ইরান-ওমান সমঝোতা ও কড়া শর্ত
ইরানের সমঝোতা প্রতিনিধিদলের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ওমানের সাথে এই বোঝাপড়ার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর তেহরানের একক সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে যেকোনো নৌযানকে বাধ্যতামূলকভাবে ইরানের তৈরি প্রটোকল বা নীতিমালা মেনে চলাচল করতে হবে। ওয়াশিংটন যে দক্ষিণাঞ্চলীয় রুটটি উন্মুক্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল, সেই পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। সোমবার ওমানে উপসাগরীয় উপকূলীয় দেশসমূহ ও ইরাকের সাথে ইরানের বৈঠকে বসার কথা থাকলেও, এটি মূলত ইরান ও ওমানের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা। অন্যান্য দেশগুলোকে কেবল নতুন ট্রানজিট প্রটোকল সম্পর্কে অবহিত করার জন্যই ডাকা হয়েছে।
বাব আল-মান্দেবে হুথিদের দাপট ও মানবিক বিপর্যয়
ইয়েমেনের মোখা বন্দর ও লোহিত সাগর উপকূলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে চলে যাওয়ায় সৌদি সীমান্ত এলাকায় সংঘাত আরও জোরদার হয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের জাজান প্রদেশের আল-তুয়াল এলাকায় হুথিদের প্রজেক্টাইল হামলায় দুজন আহত হন এবং বেশ কিছু অবকাঠামো ধ্বংস হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব তাদের প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করেছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী লোহিত সাগর উপকূল থেকে পিছু হটলেও তারা মারিব এলাকায় পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য সুলতান আল-আরাদা। ভয়াবহ এই লড়াইয়ের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১,৪০০ শরণার্থী সমুদ্রপথে জিবুতিতে পালিয়ে গেছে এবং গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ।
‘মক্কা চুক্তি’ ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি
এমতাবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটন যেন হস্তক্ষেপ না করে, তার জন্য হুথিরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানিয়েছে। অন্যদিকে হুথিরা গাজায় কাসাম ব্রিগেডের কমান্ডার নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করে প্রতিরোধ জোরদারের ডাক দিয়েছে। সৌদি জ্বালানি খাত ও আন্তর্জাতিক নৌপথে ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা সমঝোতা বা ‘মক্কা চুক্তি’ সক্রিয় করার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে আঞ্চলিক এই যুদ্ধ একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক সামরিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর: ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং একতরফা বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা প্রত্যাহারের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী একপাক্ষিক চাপ বা চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করতে হবে। অবাধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্মুক্ত অর্থনৈতিক ও পারস্পরিক আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার তাগিদ দেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিধ্বংসী সামরিক সংঘাত নিয়েও সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং তা পুরো বৈশ্বিক ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং সাধারণ নিরপরাধ মানুষের জীবনকে নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শীর্ষ এই বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ সদস্যদেশগুলোর শীর্ষ নেতারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। স্বাগতিক দেশ হিসেবে সম্মেলনের সূচনালগ্নে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভূরাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সব দেশকে এক সুতোয় বাঁধার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সূত্র: এএফপি
বাব আল-মান্দেব প্রণালি দখল করল হুথিরা
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী আন্তর্জাতিক এই নৌপথ হুথিদের দখলে চলে যাওয়ায় বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।
বিশ্বের প্রধান তেল সরবরাহকারী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের এই ধমনি রুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক তীব্র ধাক্কা লেগেছে। সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে লোহিত সাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সর্বাত্মক সামরিক সংঘাত ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
/আশিক
লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রণালি ঘিরে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সার্বিক সংকট মোকাবিলায় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি সামরিক সহায়তার আহ্বান জানালেও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান বিস্তৃত সংঘাতের কারণে এই মুহূর্তে সরাসরি সেনা অভিযানে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়; তবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখবে পেন্টাগন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ইতিমধ্যে মার্কিন সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রতিনিধিদল রিয়াদ সফর করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে গণমাধ্যম জানিয়েছে, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকার হলেও ওয়াশিংটন চায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরব নিজেই নেতৃত্ব দিক। তবে হুথিদের ওপর সরাসরি হামলা চালালে তেহরান সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিশোধমূলক সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন তীব্র আশঙ্কার কারণে রিয়াদ একটি যৌথ আন্তর্জাতিক জোট গঠন ও মার্কিন নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করতে চাইছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ না নিলেও প্রয়োজনে তাদের সহায়তাব্যতীত একাই হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে সৌদি আরব।
২০১৪ সালে শুরু হওয়া ইয়েমেন গৃহযুদ্ধ ও ২০১৫ সালে রাজধানী সানা হুথিদের দখলে যাওয়ার পর সৌদি জোটের সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়েছিল, ২০২২ সালের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর তা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হুথিদের এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুটে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে পুরো অঞ্চল আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে।
/আশিক
ইরান-আমিরাত দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য: বড় জয় দিল্লির
ভারতের নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরুর প্রাক্কালে সদস্যদেশগুলো একটি অভিন্ন যৌথ ঘোষণাপত্রের বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক ‘ব্রিকস নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’ প্রকাশ করা হবে। রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ঘোষণাপত্রে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ তীব্র নিন্দা জানানো এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে ‘সংলাপ ও কূটনীতিকে’ একমাত্র সমাধানের পথ হিসেবে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনের যৌথ ঘোষণার ভাষা নির্ধারণ নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল, বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিন্ন অবস্থানের কারণে সমঝোতা কঠিন রূপ নিয়েছিল। যুদ্ধের প্রভাবে গত আগস্টে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে আবুধাবি, পাশাপাশি আমিরাতি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছিল।
এমনকি মে মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এ দুই দেশের অনড় অবস্থানের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এবারের সম্মেলনের আগে কয়েক দিনের টানা কূটনৈতিক দরকষাকষির পর এমন একটি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা হয়েছে, যা তেহরান ও আবুধাবি—উভয় পক্ষই গ্রহণ করেছে। সদস্যদেশগুলোর এই অমিল দূর করে অভিন্ন অবস্থানে নিয়ে আসাকে সভাপতি হিসেবে ভারতের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্বকারী এই জোট বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও ডব্লিউটিওর মতো পশ্চিমা-প্রভাবিত প্রতিষ্ঠানে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি আরও জোরালো করতে চাইছে।
এবারের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। শীর্ষ বৈঠকের স্বাগতিক হিসেবে ভারত বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও জ্বালানি সরবরাহের সুরক্ষার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য এবং ব্রিকস অংশীদারদের মধ্যে একটি কার্যকর কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
সূত্র- এনডিটিভি ও রয়টার্স
দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে প্রতিবেশী দেশে সফরে যাচ্ছেন পরাশক্তির শীর্ষ নেতা
কয়েক দিনের কূটনৈতিক ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস জোটের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চীন ও ভারত উভয় দেশের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাতের পর বেইজিং ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। সেই তিক্ত সংঘাতের দীর্ঘ সাত বছর পর এটিই হতে যাচ্ছে শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। এর আগে ২০১৯ সালে তামিলনাড়ুর মামাল্লাপুরমে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে সর্বশেষ ভারত সফর করেছিলেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের নানামুখী জটিলতা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার পটভূমিতে বেইজিং-নয়াদিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য বরফ গলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারতীয় বাজারে চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় ইলেকট্রনিকস ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাণিজ্যিক লেনদেন পুনরায় সচল হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে কিরগিজস্তানে এক আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিং এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে একমত হন যে উভয় দেশ ‘প্রতিযোগী নয়, বরং একে অপরের অংশীদার’। তবে আধুনিক ও সংবেদনশীল প্রযুক্তির বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের অভ্যন্তরীণ কড়া নজরদারি বহাল থাকলেও দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য গত বছর রেকর্ড ১৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে এবং চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে তা আরও ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স
ইরান যুদ্ধ কবে থামবে, দিনক্ষণ নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আগামী নভেম্বরে এই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই সংঘাতের ইতি ঘটবে এবং এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসে রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তেহরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে মার্কিন চাপের মুখে ইরান আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না, ফলে নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধের অবসান ঘটবে। পরবর্তীতে টেক্সাসের মঞ্চেও একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তিনি জানান, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার স্বার্থে স্বল্পমেয়াদে এই অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যৌক্তিক।
যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করবে। তবে দাম সাধারণের নাগালের ভেতর পৌঁছাতে সামান্য সময় লাগতে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেন। সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাবে গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম তিন দফায় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। উপসাগরীয় তেলক্ষেত্রে অচলাবস্থা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সামরিক বাধার কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। বুধবারও অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে স্পর্শ করে, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো নিশানা করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন নিক্ষেপ শুরু করলে যুদ্ধ আঞ্চলিক রূপ নেয়।
সংঘাত শুরুর প্রাক্কালে এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু প্রায় সাত মাস পেরিয়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ওয়াশিংটনের ভেতরে তাঁর ওপর রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে খোদ রিপাবলিকান শিবিরের কট্টরপন্থী অংশের বড় একটি পক্ষ এখন এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ দ্রুত থামানোর পক্ষে জোর দিচ্ছে। চলমান এই যুদ্ধ অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি ডিজেলের দাম রেকর্ড মাত্রায় নিয়ে গেছে, যা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার পুনরায় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এদিকে নির্বাচনের পটভূমিতে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তেহরান নির্বাচনে এমন একটি শক্তিকে জয়ী দেখতে চায় যারা মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নমনীয় হবে এবং তাদের পারমাণবিক শক্তি অর্জনে ছাড় দেবে।
যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি, তবে তাঁর এই তির্যক মন্তব্য মূলত ডেমোক্র্যাট শিবিরের বিরুদ্ধেই অভিযোগ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তেহরান অবশ্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সর্বদাই শান্তিপূর্ণ দাবি করে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণ যখন তুঙ্গে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ রাজনৈতিক সমীকরণ ছাপিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রধান চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে।
সূত্র: বিবিসি।
পর্যটকদের জন্য বিশাল সুখবর: শিগগিরই আসছে মধ্যপ্রাচ্যের একীভূত ভিসা
মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে ভ্রমণের প্রক্রিয়া সহজ করতে শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’। ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে প্রণীত এই একক ভিসার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা একটিমাত্র ভিসা ব্যবহার করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউইয়ের বরাতে সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড হিস্ট্রি ডায়ালগ ২০২৬’-এর বিশেষ অধিবেশনে এই ভিসা চালুর বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন জিসিসি মহাসচিব। তিনি জানান, একীভূত এই ভিসা ব্যবস্থা খুব দ্রুতই আলোর মুখ দেখবে এবং বর্তমানে এটি বাস্তবায়নের কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করছে। তবে এই ভিসা ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, এর ফি কত নির্ধারণ করা হবে কিংবা আবেদনের প্রক্রিয়া ও মেয়াদের বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
একক উপসাগরীয় পর্যটন ভিসার এই উদ্যোগটি গত কয়েক বছর ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পর্যটনমন্ত্রীরা সর্বসম্মতভাবে এই প্রস্তাব অনুমোদন করেন এবং পরের মাসেই তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মাররি জানিয়েছিলেন, আঞ্চলিক সংহতি জোরদার এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে একটি অখণ্ড পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিশ্বের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পর্যটন ভিসার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর নাগরিকদের নিজস্ব যাতায়াত আরও সহজ করতে ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেল’ নামক আরেকটি প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন আল-বুদাইউই। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মধ্যে এই ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা ফ্লাইটে ওঠার আগেই ইলেকট্রনিক সংযোগ ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে একবারেই অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তাদের আর কোনো তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে না। তবে জিসিসি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, একক স্থানে ভ্রমণ প্রক্রিয়াটি মূলত উপসাগরীয় নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য, আর একীভূত পর্যটন ভিসাটি শুধুমাত্র বিদেশি পর্যটকদের অবাধ চলাচলের সুবিধা দেওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে।
/আশিক
জাতীয় সংসদে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা উপস্থাপন
দেশে বিদ্যমান জ্বালানি সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারী ও বহুমুখী একগুচ্ছ নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই রূপরেখার আওতায় ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে মোট ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ২ডি ও ৩ডি সাইসমিক জরিপ পরিচালনা এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর ও অগভীর সমুদ্রাঞ্চলের মোট ২৬টি ব্লকে জোরালো হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের এসব জ্বালানি কৌশল তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে দেশের অভ্যন্তরে আকৃষ্ট করতে স্থলভাগের জন্য আধুনিক ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ প্রণয়নের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমানে দেশে কার্যকর থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে গড়ে দৈনিক ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্রমবর্ধমান ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে আরও একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি বৃহৎ আকারের স্থলভিত্তিক বা ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, কুতুবজোমের নতুন টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে এবং মাতারবাড়ীর স্থলভিত্তিক টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর পাশাপাশি দেশের শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে গ্যাস সঞ্চালন ও সরবরাহ নেটওয়ার্কে নতুন বৈচিত্র্য আনার কথা জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে একটি নতুন ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
একই সাথে ভোলা দ্বীপের প্রাকৃতিক গ্যাসকে কম্প্রেসড বা এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডের শিল্পকারখানায় দ্রুত সরবরাহের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ সাপেক্ষে অর্থনৈতিক অঞ্চল, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পপার্কগুলোতে কারখানা স্থাপনকারী শিল্পোদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- বাব আল-মান্দেবে হুথিদের থাবা ও হরমুজে ইরানের কড়া শর্ত: মহায়ুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য?
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর: ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
- কোনো নাগরিক যেন আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে ব্যবস্থা করেছি: আইনমন্ত্রী
- হজের জন্য বাংলাদেশি পাসপোর্টের কদর তুঙ্গে, দ্রুত সেবার দাবি যুক্তরাজ্যে
- সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রতিস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের
- কালিগঞ্জে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রস্তুতি সভা
- বুকের ব্যথাই শেষ কথা নয়: হার্ট অ্যাটাকের এই লক্ষণগুলো জানেন কি?
- আমদানি ঘাটতির মুখে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি
- নিজের হাতে ভোট থাকলে কাকে দিতেন ব্যালন ডি’অর? জানালেন ডেম্বেলে
- বাব আল-মান্দেব প্রণালি দখল করল হুথিরা
- ডিসেম্বরে না ফিরলে শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে
- কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের দেশ নয় বাংলাদেশ, ২০ কোটির মানুষের: বিরোধীদলীয় হুইপ
- লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রণালি ঘিরে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা
- দুর্গাপূজায় ইলিশ চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিল ভারতের আমদানিকারকরা
- ইরান-আমিরাত দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য: বড় জয় দিল্লির
- টানা দরপতনের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল ১ শতাংশের বেশি
- শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ ও গুমের নির্দেশদাতা: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
- ‘আসুন এবার দেশ ও রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ইন্টারনেট বা ডেটা ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের ৫টি সহজ উপায়
- দেশে শ্রমশক্তি ও কর্মসংস্থানের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ
- যুক্তরাজ্যের এনফিল্ডে জমজমাট ব্রিটিশ বাংলাদেশি কাপ ও কমিউনিটি ডে অনুষ্ঠিত
- পালিয়ে গিয়েও সমাজকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন হাসিনা: ডা. শফিকুর রহমান
- লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হলে বিএনপিই সবার আগে করত: তারেক রহমান
- দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে প্রতিবেশী দেশে সফরে যাচ্ছেন পরাশক্তির শীর্ষ নেতা
- বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়েই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে র্যাবের মতো শক্তিশালী ফোর্স অপরিহার্য: লুৎফুজ্জামান বাবর
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীনের মুদ্রা নীতি: ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের নতুন দর
- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে মিশ্র প্রবণতা, নজর মার্কিন মূল্যস্ফীতিতে
- ব্যালন ডি’অর ইয়ামালেরই প্রাপ্য: ফেইনুর্ড জয়ের পর বললেন হান্সি ফ্লিক
- ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের কর দাবি নিয়ে হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা
- বক্তব্যের পর আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: সংসদে বিস্ফোরক রুমিন
- ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা, মুসলিম ঐক্যের ডাক দিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- জুলাই বিপ্লবের ভঙ্গুর দশা কাটিয়ে পূর্ণ শক্তিতে ফিরছে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরান যুদ্ধ কবে থামবে, দিনক্ষণ নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প
- নাম বদলিয়ে নতুন বাহিনী গঠন বিশ্ব সম্প্রদায় মেনে নেবে না: জামায়াত আমির
- সংসদ সদস্যদের নম্বর হ্যাক করে টাকার দাবি: অধিবেশনে সতর্ক করলেন চিফ হুইপ
- তিন অভিষিক্ত নিয়েও কাজ হলো না, ইংল্যান্ডের পেস তোপে বিধ্বস্ত পাকিস্তান
- ডিএমপির সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতি মামলায় দুদকের বড় পদক্ষেপ
- মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি: সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ রুমিন ফারহানার
- গ্যাস-বিদ্যুৎ বাদ দিয়ে সরকার আশির দশকে ফিরতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম
- পর্যটকদের জন্য বিশাল সুখবর: শিগগিরই আসছে মধ্যপ্রাচ্যের একীভূত ভিসা
- জামায়াতকে ছাড়া একাই লড়বে এনসিপি: ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন
- কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
- কালীগঞ্জে কুশুলিয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম বাবুর গণসংযোগ
- কৃষিমন্ত্রীর মায়ের জানাজা বুধবার বেলা দুইটায় বিজয়পুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে
- এসএসসি পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ কাল, জানা যাবে ৩টি উপায়ে
- ওষুধ বা সিরাম নয়, খাদ্যাভ্যাসে এই পাঁচ খাবারেই মিটবে চুল পড়ার সমস্যা
- মহানগরের উড়াল সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার টেকসই সমাধানের রূপরেখা
- আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের পর নতুন নেতা বেছে নিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা
- জাতীয় সংসদে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা উপস্থাপন
- ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে রেখে আইসিসির বহুজাতিক সিরিজের পরিকল্পনা
- ওয়াশিংটনকে ‘যন্ত্রণাদায়ক জবাবের’ নতুন হুঁশিয়ারি শীর্ষ নেতার
- যানজট কমাতে নৌপথে আসছে নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা
- অটোরিকশার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বার্তা
- বাংলাদেশ ব্যাংক এখন চাঁদের মতো, দেখা যায় কিন্তু যাওয়া যায় না: এমপি মনিরুল
- শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিতে শহীদ পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস আলম
- সাইকেলে ছয় দেশ পাড়ি দিয়ে হজ পালনের উদ্দেশ্যে নরসিংদীর সজিবের যাত্রা
- ৩ ইরানি ট্যাংকারে আঘাতের পর মার্কিন ড্রোন জাহাজে হামলার দাবি তেহরানের
- সন্তান ফ্ল্যাটে যাবে আর বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে এটা মেনে নেওয়া যায় না: রুমিন ফারহানা
- মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যের প্রভাবে চাপে মূল্যবান ধাতুর বাজার
- ঢাকার দুই সিটির লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ: মাঠে নামছে তরুণ নেতৃত্ব
- অস্ত্রের ঘাটতির তথ্য ফাঁস: পেন্টাগনের ৫০ শীর্ষ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা
- ‘সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার সমাজ চাই’: মির্জা ফখরুল
- অন্তর্বর্তী আমলের চেয়েও খারাপ দিকে যাচ্ছে দেশ, রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: চরমোনাই পীর
- এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের সূচি প্রকাশ, পদক জয়ের অভিযানে বাংলাদেশ








