জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মূল আয়োজক হচ্ছে পাকিস্তান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৮:১১:৩৭
জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মূল আয়োজক হচ্ছে পাকিস্তান
ছবি : সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক বা হোস্ট হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান। দীর্ঘ তিন মাসব্যাপী চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের এই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন খোদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

সোমবার (১৫ জুন) পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে (পার্লামেন্ট) দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ নীতিদীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধ ও বৈরিতার অবসান ঘটাতে অবশেষে তিন পক্ষের নিবিড় আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) জেনেভায় এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

জাতীয় পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে আরও উল্লেখ করেন, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই বিশ্ব ঐতিহাসিক চুক্তির মূল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি জেনেভায় অনুষ্ঠিত হলেও আল্লাহর অশেষ রহমতে পুরো আন্তর্জাতিক আয়োজনটির মূল ব্যবস্থাপক ও আয়োজক হিসেবে থাকবে পাকিস্তান। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর এমন নীতিগত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর বৈশ্বিক রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির অঙ্গনে এক নতুন আশার আলো ও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

এর আগে একই দিন ভোররাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক জরুরি পোস্টে দাবি করেন, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তিটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পোস্টের ঠিক কিছুক্ষণ আগেই এই বিশ্ব শান্তি আলোচনার মূল প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ নিজেও দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের চূড়ান্ত সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতির কথা আন্তর্জাতিক মহলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের চরম বৈরি ও উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কে নিমজ্জিত থাকা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি যদি মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বিশ্ব রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে এক অভাবনীয় ও ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে সক্ষম হবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে যা বলছে চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১২:০২:০৯
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে যা বলছে চীন
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উদীয়মান যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে আলোচনায় ফিরে আসার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করছে।

সোমবার (১৫ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাত শুরুর পর থেকেই চীন ধারাবাহিকভাবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, সামরিক উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক এই সমঝোতা বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে চুক্তিকে স্বাগত জানালেও চীন এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হতে চায় না। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং একাধিক প্রযুক্তিগত, কৌশলগত ও রাজনৈতিক বিষয় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তী ৬০ দিন ধরে বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকে সংকট সমাধানের সূচনা হিসেবে দেখা হলেও একে এখনই স্থায়ী সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বেইজিং এই সমঝোতাকে সম্ভাবনাময় সূচনা হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক কৌশলে কোনো পরিবর্তন আনছে না। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার যে পরিকল্পনা চীনের রয়েছে, তা অপরিবর্তিত থাকবে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীন বহু বছর ধরেই বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা, নতুন বাণিজ্য করিডোর এবং বহুমুখী জ্বালানি উৎস তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়ে আসছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক স্থিতিশীলতা ফিরলেও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি দেশটি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান বেইজিংয়ের বাস্তববাদী কূটনৈতিক নীতির প্রতিফলন। একদিকে তারা শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন করছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিজেদের কৌশলগত অবস্থানও ধরে রাখছে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় প্রায় ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায়।

এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা কমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

-রফিক


প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে অর্থ ছাড় নয়: যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১১:৪১:৩৭
প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে অর্থ ছাড় নয়: যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উদীয়মান শান্তি সমঝোতা ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তেহরান তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত কোনো জব্দ সম্পদ, আর্থিক সুবিধা কিংবা অর্থনৈতিক প্রণোদনা ছাড় দেওয়া হবে না। মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে ‘কাজের বিনিময়ে সুবিধা’ বা অ্যাকশন ফর অ্যাকশন নীতির ওপর। অর্থাৎ, ইরান চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করলে তবেই ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। তার আগে কোনো ধরনের আর্থিক ছাড় বা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এবার এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে প্রতিটি সুবিধা নির্ভর করবে যাচাইযোগ্য অগ্রগতির ওপর। শুধু প্রতিশ্রুতি বা মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই সমঝোতাকে ভবিষ্যতের বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো নতুন আলোচনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে তা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার পথ তৈরি করা।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ৬০ দিনের আলোচনা পর্ব উভয় পক্ষের জন্যই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা এবং সামরিক উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তার মতে, সরাসরি সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে নতুন কূটনৈতিক পরিবেশ গড়ে উঠলে পারমাণবিক ইস্যুতেও অগ্রগতি সম্ভব হবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বাড়তে পারে।

এর আগে রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা যুদ্ধের অবসান, অবরোধ শিথিল এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেন।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন হয়েছে।’

এর কিছুক্ষণ আগেই মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, দুই পক্ষ ভোরে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে।

-রাফসান


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি, বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ০৭:৪৮:৪৪
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি, বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত, সামরিক উত্তেজনা এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহনকারী এই সমঝোতার কথা যৌথভাবে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত ঘোষণা সম্প্রচার করা হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) রাতে দেওয়া একাধিক বিবৃতিতে জানানো হয়, কয়েক মাসের নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ। সবাইকে অভিনন্দন। আমি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে উন্মুক্ত করার এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের অনুমোদন দিচ্ছি। বিশ্বের জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করুক, তেল প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।’

ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক মিনিট আগেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একই ধরনের বার্তা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে।

শাহবাজ শরিফ বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগত সম্মতিতে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কয়েকটি কারিগরি ও প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাস্তবায়ন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে চুক্তির আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ শুরু করেছে হোয়াইট হাউজ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষর করতে পারেন অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘এটি শান্তির এক নতুন অধ্যায়। হয়তো পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফিরতে সময় লাগবে, কিন্তু আজ আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ নিয়েছি।’

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিভাবাদি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে জানান, সমঝোতা স্মারকের খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং রোববার রাত থেকেই মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমিত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এই সংঘাতের পেছনের ইতিহাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

এপ্রিল মাসে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।

চুক্তি ঘোষণার দিনই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে ইসরাইল। দেশটির বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেখানে তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

এই হামলার কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘শান্তি চুক্তির এত কাছাকাছি অবস্থানে এসে এমন হামলা হওয়া উচিত হয়নি। এখন সব পক্ষের সংযম প্রদর্শন করা জরুরি।’

তবে এই বিষয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। ইরানে নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।

লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ৩৬ জন, ইসরাইলে ২০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ জন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা কার্যকর হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই বদলাবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে থাকছে যেসব ৯ বড় শর্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ০৭:৪৪:৪৩
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে থাকছে যেসব ৯ বড় শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতা তৈরির পথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্তকরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার মতো একাধিক বিষয় নিয়ে প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। যদিও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরানের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শর্ত নিশ্চিত করেননি।

সোমবার (১৫ জুন) ভোরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রথমবারের মতো ঘোষণা দেন যে, দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একাধিক পোস্ট দিয়ে বিষয়টি কার্যত নিশ্চিত করেন।

এরপর ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দেবে যে, ভবিষ্যতে তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। এছাড়া আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করার বিষয়টিও চুক্তির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সমঝোতায় আরও বলা হয়েছে, ধাপে ধাপে ইরান থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সরিয়ে নেওয়া হবে। পাশাপাশি ইরানের তত্ত্বাবধানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় চালু করা হবে।

চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো ইরানের পুনর্গঠন পরিকল্পনা। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সহায়তা প্যাকেজের মাধ্যমে ইরানের অবকাঠামো ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে অংশ নেবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বহু বছর ধরে বহাল থাকা ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টিও সমঝোতার আওতায় রয়েছে। এর বিনিময়ে তেহরান আবারও প্রতিশ্রুতি দেবে যে, তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করবে না এবং ইরানের ওপর অতিরিক্ত কোনো নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করবে না।

তবে মেহর নিউজ জানিয়েছে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনা শুরু হবে না। এর মধ্যে রয়েছে, ইরানের অবরুদ্ধ অর্থের একটি বড় অংশ মুক্ত করা, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা।

এদিকে ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তিকে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক বৈধতা দিতে সেটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ টোলমুক্ত করে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিয়েছেন এবং মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জ্বালানি সরবরাহ আবারও আগের ধারায় ফিরে আসবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে।

পরবর্তী এক পোস্টে ট্রাম্প এই সমঝোতাকে নিজের অন্যতম বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার আগের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।

তার ভাষায়, এই সমঝোতা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কই বদলাবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

তবে এই ঘোষণায় স্পষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে ইসরাইল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইসরাইলি ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বিবিসি


ইরান চুক্তিতে বিলম্ব, ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প; নিশানায় নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ০৭:৩৮:১০
ইরান চুক্তিতে বিলম্ব, ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প; নিশানায় নেতানিয়াহু
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল আলোচিত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনায় সেই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আশা প্রকাশ করলেও স্পষ্ট করে বলেছেন, এই হামলার কারণে চুক্তি বাস্তবায়ন কয়েক ঘণ্টার জন্য পিছিয়ে গেছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে ঘটে যাওয়া এই সামরিক পদক্ষেপে ট্রাম্প গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করছেন, এমন সংবেদনশীল মুহূর্তে হামলা চালানো পুরো কূটনৈতিক অগ্রগতিকে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তার ভাষায়, সবকিছু সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তের সামরিক পদক্ষেপের কারণে পুরো প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বিলম্বিত হয়েছে। তবে তিনি এখনো আশাবাদী যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এমন হামলা চালানোর কোনো যৌক্তিকতা তিনি খুঁজে পাননি। তিনি এটিকে অপ্রয়োজনীয় এবং কূটনৈতিকভাবে ক্ষতিকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। এমনকি তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী বৈরুতে নতুন করে আঘাত হানে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পরই ওয়াশিংটনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক আলোচনা এখন একইসঙ্গে চলমান থাকায় যেকোনো একতরফা পদক্ষেপ পুরো প্রক্রিয়াকে ভেঙে দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যুতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এখন বড় নির্ধারক হয়ে উঠেছে।

এদিকে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবানন সংকটকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, শুধু পারমাণবিক বা দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নয়, বরং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানও আলোচনার অংশ হতে হবে।

ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, লেবাননে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান ছাড়া কোনো একতরফা সমঝোতায় তারা আগ্রহী নয়। তাদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সূত্র: বাসস


ইসরায়েলজুড়ে চরম আতঙ্ক, ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আইডিএফ-এর যুদ্ধপ্রস্তুতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ২১:৪৮:১৮
ইসরায়েলজুড়ে চরম আতঙ্ক, ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আইডিএফ-এর যুদ্ধপ্রস্তুতি
ছবি : এপি

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালানোর জের ধরে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সরাসরি ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। পূর্ববর্তী সব হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ইসরায়েল এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈরুতে হামলার পর আইডিএফ চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির তাঁর সংশ্লিষ্ট সব ফিল্ড কমান্ডারের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন। সামরিক বাহিনীর বর্তমান গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান যেকোনো মুহূর্তে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডের দিকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে যাচ্ছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আইডিএফ সম্ভাব্য সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ও পাল্টা আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ সতর্কতাবস্থা বজায় রেখেছে এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের দিকে যেকোনো ধরনের বহিরাগত গোলাবর্ষণ বা হামলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে পর্যালোচনার পর আইডিএফ-এর হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশব্যাপী বেসামরিক নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, দেশজুড়ে যেকোনো ধরনের জনসমাগম সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে লেবানন সীমান্তবর্তী উত্তর অঞ্চলের জন্য পূর্বের কঠোর নির্দেশিকাই বহাল রাখা হয়েছে; যা অনুযায়ী সেখানে খোলা জায়গায় সর্বোচ্চ ১০০ জন এবং ঘরের ভেতরে ৪০০ জনের বেশি মানুষ একত্রে সমবেত হতে পারবেন না। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও আপাতত দেশের সব স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সই হওয়ার জোর গুঞ্জন ও জোরালো সম্ভাবনার মাঝেই বৈরুতের শহরতলিতে এই বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। রবিবারের এই হামলায় বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহেও ইসরায়েল যখন বৈরুতের শহরতলিতে একই ধরনের হামলা চালিয়েছিল, তখন ইরান তার দেওয়া পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরাসরি ইসরায়েলের মাটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সেই সময় ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিসহ বেশ কিছু সামরিক অবকাঠামোতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছিল।

এদিকে বৈরুতে রবিবারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, ভবিষ্যতে লেবাননের কোনো অংশে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর আর কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো উচিত হবে না। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প লেখেন, বৈরুতের ওপর রোববারের এই হামলাটি কোনোভাবেই হওয়া উচিত ছিল না; বিশেষ করে এমন একটি অত্যন্ত বিশেষ ও ঐতিহাসিক দিনে যখন ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির একেবারেই দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। তবে এদিন সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি চূড়ান্তভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর বিবৃতিতে আরও বলেন, যেকোনো ধরনের বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অবশ্যই আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার আছে। কিন্তু হিজবুল্লাহর যে হামলার জবাব দিতে গিয়ে ইসরায়েল বৈরুতে এই বড় ধরনের বিমান হামলা চালাল, হিজবুল্লাহর সেই পূর্ববর্তী হামলাটি ছিল অত্যন্ত ছোট ও অর্থহীন; যাতে কেউ আহত বা নিহতও হয়নি। তাই এমন একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি প্রক্রিয়াটি ব্যাহত করা ইসরায়েলের কোনোভাবেই উচিত হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতকে মূল লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইসরায়েল প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি বাড়াবাড়ি ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে।

/আশিক


ইরানের ৪ প্রধান ব্যাংকে সাইবার হামলা, ব্যাহত ডিজিটাল সেবা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৯:৩৫:৫০
ইরানের ৪ প্রধান ব্যাংকে সাইবার হামলা, ব্যাহত ডিজিটাল সেবা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের অন্তত চারটি শীর্ষস্থানীয় প্রধান ব্যাংকে সীমিত পরিসরে একটি বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। এই সুনির্দিষ্ট সাইবার আক্রমণের কারণে সাময়িকভাবে ব্যাংকগুলোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন ও ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হলেও সাধারণ গ্রাহকদের কোনো গোপনীয় তথ্য চুরি বা খোয়া যায়নি বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদ। রোববার (১৪ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করেছে।

ইরানের ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হ্যাকাররা মূলত ব্যাংকগুলোর একটি অভ্যন্তরীণ যৌথ যোগাযোগ অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক সিস্টেমকে লক্ষ্য করে এই সাইবার হামলাটি পরিচালনা করে। সাইবার হামলার শিকার হওয়া ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে দেশটির শীর্ষ চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান—ব্যাংক মেল্লি, ব্যাংক তেজারত, ব্যাংক সাদোরাত এবং এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব ইরান।

নেটওয়ার্কে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সাইবার আক্রমণের বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় আইটি ও কারিগরি দলগুলো দ্রুত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যার ফলে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হলেও সাময়িকভাবে কিছু ব্যাংকিং পরিষেবা ও অনলাইন লেনদেন সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ বা ব্যাহত হয়ে পড়ে।

তবে ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদের ওই বিবৃতিতে দেশের গ্রাহকদের পূর্ণ আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে যে, এই সুনির্দিষ্ট হামলার মাধ্যমে হ্যাকাররা ব্যাংকে থাকা গ্রাহকদের কোনো ব্যক্তিগত, আর্থিক বা অত্যন্ত আকর্ষণীয় গোপনীয় তথ্যে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার (অ্যাক্সেস) পায়নি। এমনকি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কোনো ধরনের তথ্য মুছে ফেলা বা পরিবর্তন করাও হ্যাকারদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর সার্বিক অনলাইন কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য কারিগরি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চালানো হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স।


কাতার-পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৮:৩৯:৪১
কাতার-পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে তেহরান সফর করেছেন কাতারের বিশেষ মধ্যস্থতাকারীরা। রবিবার (১৪ জুন) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কর্মরত দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপি এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট ওই দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান ও মার্কিন প্রশাসন চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার একটি চুক্তির একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। এই চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করতেই কাতারের মধ্যস্থতাকারী দলটির এই জরুরি তেহরান সফর। কৌশলগত কারণে গণমাধ্যমের সাথে সরাসরি কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরান অবশেষে এমন একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটানো দীর্ঘমেয়াদি এই সংঘাতের অবসান ঘটাবে এবং অবরুদ্ধ থাকা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করে দেবে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ শনিবার এক যৌথ বাণীতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি রবিবারই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মুহূর্তেই হরমুজ প্রণালি সব ধরনের আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইতিবাচক আশা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তিটি কোনো ধরনের সশরীরে উপস্থিতির জমকালো অনুষ্ঠান ছাড়াই সম্পূর্ণ আধুনিক ও ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সুনির্দিষ্ট সময় বা এটি ঠিক কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বলে তারা জানিয়েছেন। তাঁদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য চুক্তিটি কার্যকর হলে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সবচেয়ে জটিল ও সংবেদনশীল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান করতে সক্ষম হবে।

কর্মকর্তারা এই যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা পরিচালনায় পাকিস্তানের দীর্ঘ এক মাসব্যাপী পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা বর্ণনা করেছেন। তাঁরা জানান, এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষকে মূল আলোচনা কক্ষে টিকিয়ে রাখতে এবং আলোচনার টেবিল ছেড়ে চলে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের তীব্র সংগ্রাম করতে হয়েছে। এমনকি এই প্রক্রিয়াকালীন একাধিকবার আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার মতো চরম পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচিত তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির প্রাথমিক খসড়া থেকে এটি প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি শক্তি বা আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করার যে মূল লক্ষ্য ছিল, তা পূরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তিতে এই বিতর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান কীভাবে করা হবে, বা এগুলো আদৌ মূল সমঝোতার অংশ হিসেবে থাকবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি।

এদিকে আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি থেকে বিপজ্জনক মাইন অপসারণের প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে সদস্য দেশগুলোর সাথে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই জলপথটি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং রাসায়নিক সারের মতো অতি প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। এটি কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিমধ্যে বড় ধরনের মন্দা ও ধাক্কা লেগেছে।

উল্লেখ্য, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলতি সপ্তাহের শুরুতে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের পরেই এই চুক্তির নাটকীয় অগ্রগতি সামনে এলো। সাম্প্রতিক ওই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনাটি পূর্ববর্তী ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে আবারও একটি পুরোদস্তুর ও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার তীব্র হুমকি সৃষ্টি করেছিল। এর আগে গত ৭ এপ্রিল থেকে অঞ্চলটিতে একটি অত্যন্ত নাজুক ও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

/আশিক


‘এটা শান্তি নয়, আত্মসমর্পণ’—ট্রাম্পকে নিশানা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১২:১৭:৪০
‘এটা শান্তি নয়, আত্মসমর্পণ’—ট্রাম্পকে নিশানা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতা নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধী ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এর কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাবে এবং দীর্ঘদিনের সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনার পথ তৈরি করবে। তবে বিরোধীরা মনে করছেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করছে, তা স্পষ্ট নয়।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের সমাপ্তির কথা বলছেন, তবে অতীত অভিজ্ঞতা মানুষকে সতর্ক থাকতে বাধ্য করছে। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও বহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার অনেকগুলো শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

শিফ আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সাধারণ জনগণ নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছে। তার ভাষায়, যুদ্ধ ও পররাষ্ট্রনীতির বড় বড় ঘোষণা দেওয়া হলেও জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো কিংবা অর্থনৈতিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল আসেনি।

অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেসম্যান সেথ মল্টন সম্ভাব্য চুক্তিটির আরও কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি এটিকে ‘কূটনৈতিক বিজয়’ নয়, বরং ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে মল্টন বলেন, দীর্ঘ সংঘাত, বিপুল সামরিক ব্যয় এবং প্রাণহানির পর এমন একটি সমঝোতা সামনে এসেছে, যা যুদ্ধের আগের অবস্থার কাছাকাছি পরিস্থিতিই ফিরিয়ে আনছে। তার প্রশ্ন, যদি শেষ পর্যন্ত আগের অবস্থায় ফিরে যেতেই হয়, তাহলে এত বড় মূল্য দেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়?

মল্টনের দাবি অনুযায়ী, এই সংঘাতের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং বহু মার্কিন সেনা ও নাগরিক এর মূল্য দিয়েছেন। ফলে শুধু যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা হ্রাসকে সাফল্য হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি আড়াল হয়ে যাবে।

ডেমোক্র্যাট নেতাদের মতে, কোনো চুক্তির সফলতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু তাৎক্ষণিক শান্তি নয়, বরং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং কৌশলগত লাভ-ক্ষতির বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থান এবং নিষেধাজ্ঞা নীতির ভবিষ্যৎ সবকিছুই এই চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ধারণ করবে। ফলে সমঝোতার প্রকৃত মূল্যায়ন এখনই করা কঠিন।

ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মহল অবশ্য দাবি করছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা কমাতে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটানো সামরিক সমাধানের চেয়ে বেশি কার্যকর এবং ব্যয় সাশ্রয়ী।

তবে সমালোচকরা পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন, যদি চুক্তির বিনিময়ে ইরান বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা পেয়ে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত জনসম্মুখে প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: