ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে থাকছে যেসব ৯ বড় শর্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ০৭:৪৪:৪৩
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে থাকছে যেসব ৯ বড় শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতা তৈরির পথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্তকরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার মতো একাধিক বিষয় নিয়ে প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। যদিও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরানের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শর্ত নিশ্চিত করেননি।

সোমবার (১৫ জুন) ভোরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রথমবারের মতো ঘোষণা দেন যে, দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একাধিক পোস্ট দিয়ে বিষয়টি কার্যত নিশ্চিত করেন।

এরপর ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দেবে যে, ভবিষ্যতে তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। এছাড়া আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করার বিষয়টিও চুক্তির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সমঝোতায় আরও বলা হয়েছে, ধাপে ধাপে ইরান থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সরিয়ে নেওয়া হবে। পাশাপাশি ইরানের তত্ত্বাবধানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় চালু করা হবে।

চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো ইরানের পুনর্গঠন পরিকল্পনা। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সহায়তা প্যাকেজের মাধ্যমে ইরানের অবকাঠামো ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে অংশ নেবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বহু বছর ধরে বহাল থাকা ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টিও সমঝোতার আওতায় রয়েছে। এর বিনিময়ে তেহরান আবারও প্রতিশ্রুতি দেবে যে, তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করবে না এবং ইরানের ওপর অতিরিক্ত কোনো নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করবে না।

তবে মেহর নিউজ জানিয়েছে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনা শুরু হবে না। এর মধ্যে রয়েছে, ইরানের অবরুদ্ধ অর্থের একটি বড় অংশ মুক্ত করা, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা।

এদিকে ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তিকে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক বৈধতা দিতে সেটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ টোলমুক্ত করে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিয়েছেন এবং মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জ্বালানি সরবরাহ আবারও আগের ধারায় ফিরে আসবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে।

পরবর্তী এক পোস্টে ট্রাম্প এই সমঝোতাকে নিজের অন্যতম বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার আগের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।

তার ভাষায়, এই সমঝোতা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কই বদলাবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

তবে এই ঘোষণায় স্পষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে ইসরাইল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইসরাইলি ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বিবিসি


মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ২০:০৪:৫০
মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে মার্কিন বাহিনীর গোলাবারুদ ও সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ।

বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা এই সতর্কবার্তার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক বিখ্যাত গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনেও একই ধরনের সামরিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকেই মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি—‘প্যাট্রিয়ট’ এবং ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্রের আন্তর্জাতিক মজুত আশঙ্কাজনক হারে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এই সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে আধুনিক অস্ত্রের এই চরম ঘাটতি মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সেনা সদস্য ও বিভিন্ন ঘাঁটির সুরক্ষাকে বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


কেশম দ্বীপে স্বজন হত্যার প্রতিশোধ: জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ আইআরজিসির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৮:১০:০১
কেশম দ্বীপে স্বজন হত্যার প্রতিশোধ: জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ আইআরজিসির
ছবি : সংগৃহীত

জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।

আইআরজিসির এক বিজ্ঞপ্তির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, কৌশলগত কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় এক পরিবারের তিন সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই জর্ডানের ওই বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

আইআরজিসি দাবি করেছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আল-আজরাক সামরিক ঘাঁটির মূল রানওয়ে ও প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। এই হামলায় ঘাঁটিতে থাকা তিনটি সর্বাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও তিনটি যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হামলায় কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তিবিদ নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করে ইরানি বাহিনী।

বিবৃতিতে কঠোর বার্তা দিয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট জানায়, নিরীহ পরিবার ও বেসামরিক মানুষদের ওপর হামলা চালিয়ে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী অবস্থান ধরে রাখতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম ভূখণ্ড থেকে শেষ মার্কিন সেনাকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত তাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ ও আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: আল জাজিরা


হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, মধ্যপ্রাচ্যকে কী বার্তা দিচ্ছে 'বাহরাইন শিল্ড'?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ২১:৫৪:৫০
হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, মধ্যপ্রাচ্যকে কী বার্তা দিচ্ছে 'বাহরাইন শিল্ড'?
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনে শুরু হয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর তিন দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া ‘বাহরাইন শিল্ড’। ২৮ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত আয়োজিত এই যৌথ মহড়ায় জোটভুক্ত ছয় দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং আয়োজক দেশ বাহরাইনের সশস্ত্র বাহিনী সরাসরি অংশ নিচ্ছে।

বাহরাইনের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধিয়াব বিন সাকর আল-নুয়াইমি মহড়া উদ্বোধনের পর এক বার্তায় জানান, যৌথ এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো জোটভুক্ত সামরিক দলগুলোর সমন্বিত যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়ানো, আন্তর্জাতিক অপারেশনাল কৌশলের দক্ষতা উন্নত করা এবং জিসিসি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় আরও জোরদার করা।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আল-নুয়াইমি বলেন, জিসিসি সদস্য দেশগুলোর এ ধরনের সক্রিয় অংশগ্রহণ মূলত একটি শক্তিশালী, স্বাবলম্বী ও যৌথ উপসাগরীয় সামরিক সক্ষমতারই প্রতিফলন। বাহরাইন শিল্ড মহড়াটি যেকোনো ধরনের আকস্মিক হামলা কিংবা শত্রুভাবাপন্ন তৎপরতা মোকাবিলায় জিসিসির ঐক্যবদ্ধ ও দ্রুত প্রতিরক্ষা দেয়াল গড়ে তুলতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রসীমায় বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মাঝে এই যৌথ আয়োজনকে উপসাগরীয় দেশগুলোর আত্মরক্ষা কৌশল ও নিরাপত্তা জোট শক্তিশালী করার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক হামলা, ভূপাতিত করল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ১৮:৩৮:০২
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক হামলা, ভূপাতিত করল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। একই সময়ে রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম ও বৈশ্বিক সতর্কবার্তা অমান্য করায় তিনটি বহুজাতিক তেলবাহী ট্যাংকার আটকে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করে ইরানি বাহিনী।

অন্যদিকে, জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে ইরান থেকে তাদের সীমান্ত ও আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির উন্নত সামরিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। বুধবার ভোরে এসব হামলা ব্যর্থ করে দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট আঘাতের লক্ষ্যবস্তু বা কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের পেছনে মূল সূত্রপাত ঘটে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে। সৌদি আরবের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন হামলা প্রতিরোধে রিয়াদ ও ওয়াশিংটন যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ও সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক যৌথ বার্তায় নিশ্চিত করে যে, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতেই ওই ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এই বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ইরাকের একক সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। তবে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে তেহরান সতর্ক বার্তা দিয়েছে যে, অহেতুক ইরানকে জড়িয়ে পদক্ষেপ নিলে অঞ্চলটিতে বড় ধরনের হিসাব-নিকাশের ভুল তৈরি হবে যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস


দুই যুদ্ধ একসূত্রে: ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত কি এখন মহাযুদ্ধে রূপ নিচ্ছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২২:০৫:৩২
দুই যুদ্ধ একসূত্রে: ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত কি এখন মহাযুদ্ধে রূপ নিচ্ছে?
ছবি : সংগৃহীত

কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি সামরিক সরঞ্জামবাহী জাহাজে ইউক্রেনের হামলার মাধ্যমে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২৫ জুলাই সংঘটিত এ হামলার পর তেহরান ও কিয়েভের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পরোক্ষ উত্তেজনা এবার সরাসরি সংঘাতে রূপ নেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

ইউক্রেনের সামরিক সূত্রের দাবি, আক্রান্ত জাহাজটি ইরান থেকে রাশিয়ায় সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে তেহরান এ দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে একটি সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ বলে দাবি করেছে। ঘটনায় এক নাবিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ইরানি কর্মকর্তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসা তেহরান এখন নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করতে পারে না।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর থেকে রাশিয়াকে ইরানের তৈরি দূরপাল্লার শাহেদ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা শুরু হয়। রুশ সেনাদের ইরানি ড্রোন ব্যবহারে সহায়তার জবাবে ইউক্রেনও নিজস্ব ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি উন্নত করে। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সমর্থনে ইউক্রেন প্রায় ২০০ জনের বেশি সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠায় এবং কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি জোরদার করে।

অন্যদিকে, কিয়েভের অভিযোগ—রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর গোয়েন্দা স্যাটেলাইট তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে, যা তেহরানের সামরিক পরিকল্পনায় সাহায্য করছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কাস্পিয়ান সাগরের এই হামলাকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, ইসরায়েলের উস্কানিতে ইউরোপকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়াতেই ইউক্রেন এ হামলা চালিয়েছে। এ নিয়ে তিনি রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং পাল্টা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এতদিন দুটি পৃথক আন্তর্জাতিক সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হলেও, কাস্পিয়ান সাগরে হামলার ফলে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট এখন একটি অভিন্ন ভূরাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হচ্ছে।

/আশিক


বৈঠকের আগেই চটলেন ট্রাম্প: তোপের মুখে নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২১:৫৫:৫৭
বৈঠকের আগেই চটলেন ট্রাম্প: তোপের মুখে নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পূর্বে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কিছু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কৌশল ও অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন।

সংবাদ মাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন অবস্থান তুলে ধরে জানানো হয়, ইরানের গোপন পারমাণবিক সাইট ও সামরিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে মার্কিন প্রশাসনকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তেহরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোনো স্থায়ী সমাধান না পৌঁছানো পর্যন্ত মার্কিন সামরিক সংপৃক্ততা ধরে রাখতেই তেল আবিবের পক্ষ থেকে এসব বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে এক অপ্রকাশ্য কূটনৈতিক আলোচনা চলার সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর মুহূর্তে মার্কিন-ইসরায়েল শীর্ষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের সাথে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বা নতুন আলোচনা ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে দেশটির বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে পুনরায় কঠোর আঘাত হানা হতে পারে।

এদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলি সরকার ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিলেও, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সংঘাত বা মার্কিন সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ একেবারেই সমর্থন করছে না। তবে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় দু'দেশের মধ্যে সামান্য নীতিনির্ধারণী মতপার্থক্য থাকলেও ওয়াশিংটন থেকে ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা যথারীতি অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের জন্য অহেতুক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ এড়াতে এবার হোয়াইট হাউসের বৈঠকে কিছুটা নমনীয় বা কৌশলী মনোভাব দেখাতে পারেন নেতানিয়াহু।

সূত্র: আল-জাজিরা।


চুক্তি না হলে ইরানের 'পিকেক্স মাউন্টেন' পরমাণু কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২০:১২:৩২
চুক্তি না হলে ইরানের 'পিকেক্স মাউন্টেন' পরমাণু কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে দেশটির অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপন ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্র ‘পিকেক্স মাউন্টেন’ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বেসামরিক অবকাঠামোয় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক হলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংঘাত এড়িয়ে চলা এবং দেশটির সাধারণ বিদ্যুৎকেন্দ্র বা যোগাযোগ অবকাঠামোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকাটাই তাঁর প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার।

ইরানের নাতানজ পরমাণু কমপ্লেক্সের নিকটবর্তী পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘পিকেক্স মাউন্টেন’ মূলত দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির অন্যতম সুরক্ষিত কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। কৌশলগত এই সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় আকারের সামরিক হামলা চালানো বা এটি অকার্যকর করে দেওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে পূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা সমান্তরালে বজায় রয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইরান যদি কার্যকর সমঝোতায় না আসে এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বজায় রাখে, তবে ওয়াশিংটন তাদের ওপর সামরিক চাপ ও হামলা আরো বিস্তৃত করতে কোনো দ্বিধা করবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা।


পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলাতে পারে, ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা ইসরায়েলের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ১৮:৪১:৩৪
পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলাতে পারে, ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা ইসরায়েলের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক হামলা পরিচালনার সুবিধার্থে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘাঁটির ব্যবহারের খবরের পাশাপাশি কাটজ একটি কড়া সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, ইসরায়েল পুনরায় কোনো আঘাতের শিকার হলে দেশটি তার সমস্ত শক্তি দিয়ে সর্বাত্মক পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

ইসরায়েলের ডানপন্থী সংবাদ মাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো, যদিও এই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে, তবে বর্তমানে ইরানিরা এই অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি দেশের ওপর আঘাত হানলেও কেবল ইসরায়েল রাষ্ট্রকে আপাতত স্পর্শ করছে না।

মার্কিন বিমান বাহিনীর কৌশলগত অবস্থান ও ইসরায়েলি ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, ইরানি কর্তৃপক্ষ ভালোভাবেই অবগত রয়েছে যে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো মূলত ইসরায়েলের সামরিক অবকাঠামো ও ঘাঁটি থেকেই ইরানের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করছে।

ভবিষ্যতের যুদ্ধকৌশল ও সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে কাটজ আরও উল্লেখ করেন, এর অর্থ এই নয় যে আগামী দিনে ঠিক কী ঘটতে যাচ্ছে তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব; কিন্তু এর স্পষ্ট বার্তা হলো যে কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসরায়েলি বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা সুনির্দিষ্ট করা আছে। তিনি ও তাঁদের প্রধানমন্ত্রী উভয়েই বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, যদি কোনোভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ চালানো হয়, তবে তাঁরা তাদের পূর্ণ সামরিক সামর্থ্য নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর পাল্টা আঘাত হানবেন।

সূত্র- ডন


জাপানের ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ১৮:৩২:০৬
জাপানের ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

জাপানের দক্ষিণ প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো প্রিফেকচারে ৭.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সির তথ্যমতে, এই ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। শক্তিশালী এই প্রকম্পনে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন নাগরিক আহত হয়েছেন এবং একটি ভবন ধসে পড়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলে অন্তত ১ মিটার বা ৩.২৮ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের অতি দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ ও উচ্চ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার এবং সরকারি জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে নিশ্চিত করেছে যে, ইতোমধ্যে নির্ধারিত উচ্চতার কিছু সুনামি ঢেউ উপকূলে রেকর্ড করা হয়ে থাকতে পারে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানবজীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। শক্তিশালী এই কম্পনের পর তাৎক্ষণিকভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কোনো অস্বাভাবিকতা বা বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা যায়নি বলে পরমাণু নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে।

ভূমিকম্পের ব্যাপকতার কারণে কিউশু দ্বীপের কুমামোতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা এবং মিয়াজাকি প্রিফেকচারে সর্বোচ্চ জরুরি সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপান চারটি প্রধান টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে এবং প্যাসিফিক রিং অব ফায়ারের ওপর অবস্থিত হওয়ার কারণে প্রতি বছর শত শত ছোট-বড় ভূকম্পনের মুখোমুখি হয়।

সূত্র: এনডিটিভি।

পাঠকের মতামত: