যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি, বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ০৭:৪৮:৪৪
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি, বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত, সামরিক উত্তেজনা এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহনকারী এই সমঝোতার কথা যৌথভাবে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত ঘোষণা সম্প্রচার করা হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) রাতে দেওয়া একাধিক বিবৃতিতে জানানো হয়, কয়েক মাসের নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ। সবাইকে অভিনন্দন। আমি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে উন্মুক্ত করার এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের অনুমোদন দিচ্ছি। বিশ্বের জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করুক, তেল প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।’

ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক মিনিট আগেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একই ধরনের বার্তা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে।

শাহবাজ শরিফ বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগত সম্মতিতে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কয়েকটি কারিগরি ও প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাস্তবায়ন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে চুক্তির আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ শুরু করেছে হোয়াইট হাউজ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষর করতে পারেন অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘এটি শান্তির এক নতুন অধ্যায়। হয়তো পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফিরতে সময় লাগবে, কিন্তু আজ আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ নিয়েছি।’

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিভাবাদি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে জানান, সমঝোতা স্মারকের খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং রোববার রাত থেকেই মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমিত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এই সংঘাতের পেছনের ইতিহাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

এপ্রিল মাসে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।

চুক্তি ঘোষণার দিনই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে ইসরাইল। দেশটির বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেখানে তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

এই হামলার কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘শান্তি চুক্তির এত কাছাকাছি অবস্থানে এসে এমন হামলা হওয়া উচিত হয়নি। এখন সব পক্ষের সংযম প্রদর্শন করা জরুরি।’

তবে এই বিষয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। ইরানে নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।

লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ৩৬ জন, ইসরাইলে ২০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ জন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা কার্যকর হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই বদলাবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ


৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ২১:৩৩:৩৫
৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই বিষয়ে নীতিগত সম্মতি এসেছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য স্টার'-এর এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর মিয়ানমার অবশেষে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, "প্রতিবেশী বা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এটি তারই প্রমাণ। আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে যেকোনো সংবেদনশীল সমস্যার সমাধান অত্যন্ত সতর্ক কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হয়।"

দেশটির চেন্নাহ এলাকায় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আনোয়ার ইব্রাহিম আরও স্পষ্ট করেন যে, মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কেউ জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া পুলিশ প্রধানকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি পূর্ববর্তী পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, "অনেকে আগে রোহিঙ্গাদের তৎক্ষণাৎ ফেরত পাঠানোর দাবি জানাতেন। কিন্তু মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার না করে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় তা সম্ভব হয়নি। ফলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তাদের সাময়িকভাবে রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম।"

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের স্থানীয় আইন ও নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, "এটি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। এখানে এসে অন্য দেশের কোনো নাগরিক বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে—তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।"

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রোহিঙ্গারা বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সূত্র : দ্য স্টার


মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ২০:০৪:৫০
মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে মার্কিন বাহিনীর গোলাবারুদ ও সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ।

বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা এই সতর্কবার্তার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক বিখ্যাত গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনেও একই ধরনের সামরিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকেই মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি—‘প্যাট্রিয়ট’ এবং ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্রের আন্তর্জাতিক মজুত আশঙ্কাজনক হারে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এই সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে আধুনিক অস্ত্রের এই চরম ঘাটতি মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সেনা সদস্য ও বিভিন্ন ঘাঁটির সুরক্ষাকে বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


কেশম দ্বীপে স্বজন হত্যার প্রতিশোধ: জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ আইআরজিসির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৮:১০:০১
কেশম দ্বীপে স্বজন হত্যার প্রতিশোধ: জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ আইআরজিসির
ছবি : সংগৃহীত

জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।

আইআরজিসির এক বিজ্ঞপ্তির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, কৌশলগত কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় এক পরিবারের তিন সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই জর্ডানের ওই বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

আইআরজিসি দাবি করেছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আল-আজরাক সামরিক ঘাঁটির মূল রানওয়ে ও প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। এই হামলায় ঘাঁটিতে থাকা তিনটি সর্বাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও তিনটি যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হামলায় কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তিবিদ নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করে ইরানি বাহিনী।

বিবৃতিতে কঠোর বার্তা দিয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট জানায়, নিরীহ পরিবার ও বেসামরিক মানুষদের ওপর হামলা চালিয়ে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী অবস্থান ধরে রাখতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম ভূখণ্ড থেকে শেষ মার্কিন সেনাকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত তাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ ও আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: আল জাজিরা


হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, মধ্যপ্রাচ্যকে কী বার্তা দিচ্ছে 'বাহরাইন শিল্ড'?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ২১:৫৪:৫০
হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, মধ্যপ্রাচ্যকে কী বার্তা দিচ্ছে 'বাহরাইন শিল্ড'?
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনে শুরু হয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর তিন দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া ‘বাহরাইন শিল্ড’। ২৮ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত আয়োজিত এই যৌথ মহড়ায় জোটভুক্ত ছয় দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং আয়োজক দেশ বাহরাইনের সশস্ত্র বাহিনী সরাসরি অংশ নিচ্ছে।

বাহরাইনের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধিয়াব বিন সাকর আল-নুয়াইমি মহড়া উদ্বোধনের পর এক বার্তায় জানান, যৌথ এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো জোটভুক্ত সামরিক দলগুলোর সমন্বিত যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়ানো, আন্তর্জাতিক অপারেশনাল কৌশলের দক্ষতা উন্নত করা এবং জিসিসি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় আরও জোরদার করা।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আল-নুয়াইমি বলেন, জিসিসি সদস্য দেশগুলোর এ ধরনের সক্রিয় অংশগ্রহণ মূলত একটি শক্তিশালী, স্বাবলম্বী ও যৌথ উপসাগরীয় সামরিক সক্ষমতারই প্রতিফলন। বাহরাইন শিল্ড মহড়াটি যেকোনো ধরনের আকস্মিক হামলা কিংবা শত্রুভাবাপন্ন তৎপরতা মোকাবিলায় জিসিসির ঐক্যবদ্ধ ও দ্রুত প্রতিরক্ষা দেয়াল গড়ে তুলতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রসীমায় বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মাঝে এই যৌথ আয়োজনকে উপসাগরীয় দেশগুলোর আত্মরক্ষা কৌশল ও নিরাপত্তা জোট শক্তিশালী করার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক হামলা, ভূপাতিত করল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ১৮:৩৮:০২
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক হামলা, ভূপাতিত করল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। একই সময়ে রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম ও বৈশ্বিক সতর্কবার্তা অমান্য করায় তিনটি বহুজাতিক তেলবাহী ট্যাংকার আটকে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করে ইরানি বাহিনী।

অন্যদিকে, জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে ইরান থেকে তাদের সীমান্ত ও আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির উন্নত সামরিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। বুধবার ভোরে এসব হামলা ব্যর্থ করে দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট আঘাতের লক্ষ্যবস্তু বা কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের পেছনে মূল সূত্রপাত ঘটে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে। সৌদি আরবের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন হামলা প্রতিরোধে রিয়াদ ও ওয়াশিংটন যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ও সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক যৌথ বার্তায় নিশ্চিত করে যে, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতেই ওই ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এই বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ইরাকের একক সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। তবে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে তেহরান সতর্ক বার্তা দিয়েছে যে, অহেতুক ইরানকে জড়িয়ে পদক্ষেপ নিলে অঞ্চলটিতে বড় ধরনের হিসাব-নিকাশের ভুল তৈরি হবে যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস


দুই যুদ্ধ একসূত্রে: ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত কি এখন মহাযুদ্ধে রূপ নিচ্ছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২২:০৫:৩২
দুই যুদ্ধ একসূত্রে: ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত কি এখন মহাযুদ্ধে রূপ নিচ্ছে?
ছবি : সংগৃহীত

কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি সামরিক সরঞ্জামবাহী জাহাজে ইউক্রেনের হামলার মাধ্যমে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২৫ জুলাই সংঘটিত এ হামলার পর তেহরান ও কিয়েভের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পরোক্ষ উত্তেজনা এবার সরাসরি সংঘাতে রূপ নেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

ইউক্রেনের সামরিক সূত্রের দাবি, আক্রান্ত জাহাজটি ইরান থেকে রাশিয়ায় সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে তেহরান এ দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে একটি সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ বলে দাবি করেছে। ঘটনায় এক নাবিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ইরানি কর্মকর্তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসা তেহরান এখন নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করতে পারে না।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর থেকে রাশিয়াকে ইরানের তৈরি দূরপাল্লার শাহেদ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা শুরু হয়। রুশ সেনাদের ইরানি ড্রোন ব্যবহারে সহায়তার জবাবে ইউক্রেনও নিজস্ব ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি উন্নত করে। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সমর্থনে ইউক্রেন প্রায় ২০০ জনের বেশি সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠায় এবং কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি জোরদার করে।

অন্যদিকে, কিয়েভের অভিযোগ—রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর গোয়েন্দা স্যাটেলাইট তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে, যা তেহরানের সামরিক পরিকল্পনায় সাহায্য করছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কাস্পিয়ান সাগরের এই হামলাকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, ইসরায়েলের উস্কানিতে ইউরোপকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়াতেই ইউক্রেন এ হামলা চালিয়েছে। এ নিয়ে তিনি রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং পাল্টা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এতদিন দুটি পৃথক আন্তর্জাতিক সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হলেও, কাস্পিয়ান সাগরে হামলার ফলে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট এখন একটি অভিন্ন ভূরাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হচ্ছে।

/আশিক


বৈঠকের আগেই চটলেন ট্রাম্প: তোপের মুখে নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২১:৫৫:৫৭
বৈঠকের আগেই চটলেন ট্রাম্প: তোপের মুখে নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পূর্বে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কিছু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কৌশল ও অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন।

সংবাদ মাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন অবস্থান তুলে ধরে জানানো হয়, ইরানের গোপন পারমাণবিক সাইট ও সামরিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে মার্কিন প্রশাসনকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তেহরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোনো স্থায়ী সমাধান না পৌঁছানো পর্যন্ত মার্কিন সামরিক সংপৃক্ততা ধরে রাখতেই তেল আবিবের পক্ষ থেকে এসব বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে এক অপ্রকাশ্য কূটনৈতিক আলোচনা চলার সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর মুহূর্তে মার্কিন-ইসরায়েল শীর্ষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের সাথে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বা নতুন আলোচনা ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে দেশটির বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে পুনরায় কঠোর আঘাত হানা হতে পারে।

এদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলি সরকার ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিলেও, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সংঘাত বা মার্কিন সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ একেবারেই সমর্থন করছে না। তবে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় দু'দেশের মধ্যে সামান্য নীতিনির্ধারণী মতপার্থক্য থাকলেও ওয়াশিংটন থেকে ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা যথারীতি অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের জন্য অহেতুক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ এড়াতে এবার হোয়াইট হাউসের বৈঠকে কিছুটা নমনীয় বা কৌশলী মনোভাব দেখাতে পারেন নেতানিয়াহু।

সূত্র: আল-জাজিরা।


চুক্তি না হলে ইরানের 'পিকেক্স মাউন্টেন' পরমাণু কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২০:১২:৩২
চুক্তি না হলে ইরানের 'পিকেক্স মাউন্টেন' পরমাণু কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে দেশটির অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপন ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্র ‘পিকেক্স মাউন্টেন’ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বেসামরিক অবকাঠামোয় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক হলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংঘাত এড়িয়ে চলা এবং দেশটির সাধারণ বিদ্যুৎকেন্দ্র বা যোগাযোগ অবকাঠামোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকাটাই তাঁর প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার।

ইরানের নাতানজ পরমাণু কমপ্লেক্সের নিকটবর্তী পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘পিকেক্স মাউন্টেন’ মূলত দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির অন্যতম সুরক্ষিত কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। কৌশলগত এই সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় আকারের সামরিক হামলা চালানো বা এটি অকার্যকর করে দেওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে পূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা সমান্তরালে বজায় রয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইরান যদি কার্যকর সমঝোতায় না আসে এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বজায় রাখে, তবে ওয়াশিংটন তাদের ওপর সামরিক চাপ ও হামলা আরো বিস্তৃত করতে কোনো দ্বিধা করবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা।


পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলাতে পারে, ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা ইসরায়েলের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ১৮:৪১:৩৪
পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলাতে পারে, ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা ইসরায়েলের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক হামলা পরিচালনার সুবিধার্থে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘাঁটির ব্যবহারের খবরের পাশাপাশি কাটজ একটি কড়া সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, ইসরায়েল পুনরায় কোনো আঘাতের শিকার হলে দেশটি তার সমস্ত শক্তি দিয়ে সর্বাত্মক পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

ইসরায়েলের ডানপন্থী সংবাদ মাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো, যদিও এই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে, তবে বর্তমানে ইরানিরা এই অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি দেশের ওপর আঘাত হানলেও কেবল ইসরায়েল রাষ্ট্রকে আপাতত স্পর্শ করছে না।

মার্কিন বিমান বাহিনীর কৌশলগত অবস্থান ও ইসরায়েলি ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, ইরানি কর্তৃপক্ষ ভালোভাবেই অবগত রয়েছে যে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো মূলত ইসরায়েলের সামরিক অবকাঠামো ও ঘাঁটি থেকেই ইরানের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করছে।

ভবিষ্যতের যুদ্ধকৌশল ও সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে কাটজ আরও উল্লেখ করেন, এর অর্থ এই নয় যে আগামী দিনে ঠিক কী ঘটতে যাচ্ছে তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব; কিন্তু এর স্পষ্ট বার্তা হলো যে কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসরায়েলি বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা সুনির্দিষ্ট করা আছে। তিনি ও তাঁদের প্রধানমন্ত্রী উভয়েই বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, যদি কোনোভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ চালানো হয়, তবে তাঁরা তাদের পূর্ণ সামরিক সামর্থ্য নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর পাল্টা আঘাত হানবেন।

সূত্র- ডন

পাঠকের মতামত: