পুরোনো আইফোন কেনার আগে সাবধান! সেটিংসের Genuine Part দেখেই ফ্রেশ ভাববেন না

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ২১:০৯:৪৫
পুরোনো আইফোন কেনার আগে সাবধান! সেটিংসের Genuine Part দেখেই ফ্রেশ ভাববেন না
ছবি : সংগৃহীত

পুরাতন বা ব্যবহৃত (ইউজড) আইফোন কেনার সময় সেটিংস অপশনে ‘Genuine Apple Part’ লেখা দেখা কিংবা ব্যাটারি হেলথ ৯০% বা ৯৫% থাকা মানেই আইফোনটি একদম ফ্রেশ—এমন ভাবার দিন শেষ। প্রযুক্তির উৎকর্ষের সাথে সাথে ব্যবহৃত আইফোনের বাজারে প্রতারণার কৌশলও এখন বহুগুণ আধুনিক ও উন্নত হয়েছে।

সাধারণ ক্রেতা তো বটেই, অনেক সময় প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞদের পক্ষেও খালি চোখে বা সাধারণ সেটিং দেখে এই নিখুঁত জালিয়াতি ধরা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে বিশেষ থার্ড-পার্টি হার্ডওয়্যার ডিভাইস এবং কাস্টম সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফোনের ভেতর এমন সব পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা আইফোনের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম (iOS) বা সেটিংসও সহজে সনাক্ত করতে পারে না।

তাই কোনো বিক্রেতাকে টাকা পরিশোধ করার আগে, বর্তমান বাজারের শীর্ষ ৫টি প্রযুক্তিগত জালিয়াতি এবং তা ধরার আধুনিক উপায়গুলো অবশ্যই জেনে নিন

পার্টস ও সার্ভিস হিস্ট্রি জালিয়াতি (Fake Genuine Parts)

অতীতে ক্রেতারা শুধু Settings > General > About থেকে "Parts and Service History" দেখেই নিশ্চিত হয়ে যেতেন যে ফোনের পার্টসগুলো আসল নাকি নকল। কিন্তু বর্তমানে ‘JC Programmer’-এর মতো অত্যাধুনিক থার্ড-পার্টি ডিভাইস ব্যবহার করে নকল ডিসপ্লে, ক্যামেরা বা ব্যাটারিতে আইফোনের অরিজিনাল পার্টসের সিরিয়াল নম্বরটি হুবহু কপি-পেস্ট (Write) করে দেওয়া হয়। ফলে ফোনটি আসল মাদারবোর্ডের সিরিয়াল রিড করে সেই নকল পার্টসটাকেও স্ক্রিনে "Genuine Apple Part" হিসেবে প্রদর্শন করে।

আধুনিক ধরার উপায়

শুধুমাত্র আইফোনের নিজস্ব সেটিংসের ওপর শতভাগ ভরসা করবেন না। ফোনটি কেনার সময় সম্ভব হলে একটি ল্যাপটপে 3uTools বা iMazing সফটওয়্যার ইনস্টল করে ডেটা ক্যাবলের মাধ্যমে ফোনটি কানেক্ট করুন এবং এর সম্পূর্ণ "Verification Report" চেক করুন। এটি মাদারবোর্ডের আসল সিরিয়াল নম্বরের সাথে প্রতিটি পার্টসের ফ্যাক্টরি সিরিয়াল মিলিয়ে নিখুঁত ও সত্য রিপোর্ট আপনার সামনে তুলে ধরবে।

ডুপ্লিকেট ডিসপ্লে ও ফেক ট্রু টোন (Fake True Tone)

আইফোনের অরিজিনাল ডিসপ্লে পরিবর্তন করা হলে সাধারণত এর ‘True Tone’ অপশনটি চিরতরে গায়েব হয়ে যায়। কিন্তু এখন অসাধু চক্র অরিজিনাল ডিসপ্লে চিপের ডেটা কপি করে ডুপ্লিকেট বা নকল ডিসপ্লেতেও ট্রু টোন অপশনটি অ্যাক্টিভেট করে রাখছে। এছাড়া আইফোন ১৩ প্রো বা তার পরবর্তী মডেলগুলোর ১২০ হার্জের (ProMotion) প্রিমিয়াম ডিসপ্লে বদলে ভেতরে সস্তা ৬০ হার্জের প্যানেল লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে।

আধুনিক ধরার উপায়

Control Center-এ গিয়ে ব্রাইটনেস বারটি চেপে ধরে শুধু True Tone অন-অফ হচ্ছে কি না তা দেখবেন না, বরং ডিসপ্লের ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল এবং স্ক্রিন স্ক্রল করার সময় এর মসৃণতা (Refresh Rate) গভীরভাবে খেয়াল করুন। ওলেড (OLED) ডিসপ্লের জায়গায় সস্তা এলসিডি (LCD) লাগানো হলে স্ক্রিনের চারপাশের বেজেল বা কালো বর্ডারটি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা মোটা দেখাবে।

ব্যাটারি হেলথ বুস্টিং (Battery Health Boosting)

ব্যবহৃত আইফোনের বাজারে ব্যাটারি হেলথ ৮০%-এর নিচে থাকলে সাধারণ ক্রেতারা সেই ফোন কিনতে চান না। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা বিশেষ হার্ডওয়্যার ডিভাইস দিয়ে ব্যাটারির আসল হেলথ (যা হয়তো বাস্তবে ৭৫%) বুস্ট করে সাময়িকভাবে ৯০% বা ৯৫% বানিয়ে দেয়। এই ফোন কেনার মাত্র কয়েকদিন পরেই ব্যাটারি হেলথ হুট করে ১০-১৫% পর্যন্ত ড্রপ করে।

আধুনিক ধরার উপায়

আইফোনের ব্যাটারির চার্জিং সাইকেল (Cycle Count) চেক করুন। যদি দেখেন ব্যাটারি হেলথ ৯৫%, কিন্তু চার্জিং সাইকেল ৭০০ বা ৮০০-এর ওপরে, তবে নিশ্চিত বুঝবেন ব্যাটারি হেলথ বুস্ট করা বা ফেক। আইফোন ১৫ বা তার পরবর্তী মডেলগুলোতে সরাসরি Settings > Battery- তেই সাইকেল কাউন্ট দেখা যায়। এর পূর্ববর্তী পুরোনো মডেলের সাইকেল কাউন্ট দেখতে ল্যাপটপে 3uTools ব্যবহার করুন।

ফিজিক্যাল ই-সিম রূপান্তর ও ক্যারিয়ার লক (Hardware Drilling)

আমেরিকা বা ইউরোপের অনেক আইফোন (বিশেষ করে আইফোন ১৪ ও তার পরবর্তী মডেলগুলো) শুধুমাত্র eSIM সমর্থিত হওয়ায় সেগুলোতে কোনো ফিজিক্যাল সিম স্লট থাকে না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই ফোনগুলোর বডি ড্রিল (কেটে) করে মাদারবোর্ডে সস্তা চাইনিজ সিম ট্রে বসিয়ে "ফিজিক্যাল সিম সমর্থিত" বলে বিক্রি করছে, যা ফোনের মাদারবোর্ডের স্থায়ী ক্ষতি করে। পাশাপাশি এগুলো ক্যারিয়ার লকড (Carrier Locked) বা চোরাই ফোন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আধুনিক ধরার উপায়

Settings > General > About-এ গিয়ে Carrier Lock অপশনটি দেখুন। সেখানে অবশ্যই "No SIM restrictions" লেখা থাকতে হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট অপারেটরের নাম থাকে, তবে সেই ফোনে বাংলাদেশের সিম চলবে না। এছাড়া ফোনের মডেল নম্বরের প্রথম অক্ষরটি খেয়াল করুন—

'M' মানে রিটেল (অফিসিয়াল নতুন কেনা ডিভাইস)

'F' মানে অ্যাপল কর্তৃক রিফারবিশড (Refurbished) ডিভাইস

'N' মানে অফিসিয়াল রিপ্লেসমেন্ট (Replacement) ডিভাইস।

ফেস আইডি ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সিল নষ্ট

ফেস আইডি (Face ID) বা টাচ আইডি নষ্ট থাকলে সেই আইফোনের বাজারমূল্য ও কার্যকারিতা অর্ধেক হয়ে যায়। অনেক সময় মাদারবোর্ডের সূক্ষ্ম কাজের কারণে বা ফোনে পানি ঢোকার ফলে ফেস আইডি চিরতরে ডেড হয়ে যায়। এছাড়া ফোন একবার যেকোনো কারণে খোলা হলে এর ভেতরের ওয়াটারপ্রুফ গাম বা সিলটি নষ্ট হয়ে যায়।

আধুনিক ধরার উপায়

ফেস আইডি নতুন করে সেটআপ করে শতভাগ পরীক্ষা করার পাশাপাশি ফোনের সিম ট্রে-টি পুরোপুরি খুলুন। এরপর স্লটের ফাঁকা অংশ দিয়ে মুখের সাহায্যে ভেতরে হালকা ফু দিয়ে বাতাস দেওয়ার চেষ্টা করুন। যদি দেখেন বাতাস সহজেই ভেতরে চলে যাচ্ছে এবং কোনো বাধা পাচ্ছে না, তবে বুঝবেন ফোনটি আগে খোলা হয়েছিল এবং এর ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স গাম বা সিলটি আর অক্ষত নেই।

টাকা দেওয়ার আগে চূড়ান্ত দুটি ধাপ (মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট)

ওপরের সবগুলো বিষয় যদি আপনার কাছে ঠিকঠাক মনে হয়, তাহলে বিক্রেতার হাতে টাকা তুলে দেওয়ার ঠিক আগে নিচের দুটি শেষ ধাপ অবশ্যই সম্পন্ন করুন—

ধাপ ১ (ফ্যাক্টরি রিসেট ও অ্যাক্টিভেশন)

বিক্রেতার সামনেই ফোনটি Settings > General > Transfer or Reset iPhone থেকে Erase All Content and Settings দিয়ে সম্পূর্ণ ফ্যাক্টরি রিসেট দিন। এরপর আপনার নিজের সচল সিম কার্ডটি ফোনে ঢুকিয়ে এবং ওয়াই-ফাই কানেক্ট করে ফোনটি স্ক্রিন গাইডলাইন অনুযায়ী নতুন করে চালু (Activate) করুন। ফোনটি যদি সফটওয়্যার দিয়ে বাইপাস করা থাকে বা আইক্লাউড লক (iCloud Lock) থাকে, তবে এই ধাপে এসে আটকে যাবে এবং জালিয়াতি ধরা পড়বে।

ধাপ ২ (আইএমইআই ব্ল্যাকলিস্ট চেক)

ফোনের ডায়াল প্যাডে *#06# চেপে IMEI নম্বরটি সংগ্রহ করুন। এটি অ্যাপলের অফিশিয়াল সাইটে (checkcoverage.apple.com) চেক করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যেকোনো ‘Blacklist Checker’ বা ‘IMEI Info’ ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখে নিন ফোনটি আন্তর্জাতিকভাবে চুরি হওয়া, হারিয়ে যাওয়া বা কোনো অপরাধের কারণে ব্লকড করা কি না।

/আশিক


চাঁদে এবার চীনের রোবট সেনা: যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে হিউম্যানয়েড প্রযুক্তির চমক

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ১২:৫৮:৪৬
চাঁদে এবার চীনের রোবট সেনা: যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে হিউম্যানয়েড প্রযুক্তির চমক
ছবি : সংগৃহীত

চাঁদ জয়ের দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলতে এবার এক অনন্য হিউম্যানয়েড রোবট উন্মোচন করেছে চীন। হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিজ্ঞানীদের তৈরি এই রোবটটি মূলত ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর চীনা মহাপরিকল্পনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ২০২৯ সালের ‘চাং-ই-৮’ অভিযানে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বহন ও স্থাপনের জটিল কাজগুলো সম্পন্ন করবে।

প্রায় ১০০ কেজি ওজনের এই রোবটটির উপরের অংশ মানুষের মতো হলেও নিচের অংশে রয়েছে চার চাকার বিশেষ মডিউল, যা সৌরশক্তিতে চলবে। এটি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সম্পন্ন, যার ফলে রোবটটি নিজে থেকেই বস্তু শনাক্ত করতে এবং সেটির গতিবিধি অনুসরণ করতে পারবে। কাজের শুরুতেই নিজের পরিকল্পনা নিজে সাজানোর সক্ষমতা থাকায় এটি চাঁদের বন্ধুর পরিবেশে নভোচারীদের আগেই যন্ত্রপাতি সাজিয়ে রাখার কাজ করবে।

মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাসা তাদের ‘আর্টেমিস ফোর’ অভিযানের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য নিলেও কারিগরি জটিলতা ও স্পেস এক্স-এর স্টারশিপ প্রজেক্টের ধীরগতি যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে দিচ্ছে। নাসার সাবেক প্রশাসক জিম ব্রাইডেনস্টাইনও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত অগ্রগতি না হলে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের পেছনে পড়ে যেতে পারে। চীনের এই রোবট প্রযুক্তি সেই সংকেতই দিচ্ছে।

/আশিক


কেন দ্রুত গরম হয়ে যাচ্ছে আপনার শখের আইফোন? ভুলেও যে কাজগুলো করবেন না

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১২:০১:১৯
কেন দ্রুত গরম হয়ে যাচ্ছে আপনার শখের আইফোন? ভুলেও যে কাজগুলো করবেন না
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে আইফোন কেবল উচ্চবিত্তের শৌখিন সামগ্রী নয়, বরং সহজলভ্যতার কারণে অনেক সাধারণ ব্যবহারকারীর হাতেও এই ডিভাইসটি দেখা যাচ্ছে। তবে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে আইফোন ব্যবহারকারীদের একটি বড় দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিভাইসের অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া বা ওভারহিটিং সমস্যা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই কৌতুক করে ফোন ঠান্ডা করতে ফ্রিজে রাখার পরামর্শ দিলেও, বাস্তবে এমন কাজ ফোনের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে। মূলত অতিরিক্ত তাপমাত্রা ফোনের কার্যক্ষমতা বা পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয় এবং ব্যাটারি স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আইফোন অতিরিক্ত গরম হওয়ার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। সরাসরি সূর্যের আলো বা তীব্র রোদে দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার করলে এর তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ফোনে চার্জ থাকা অবস্থায় একটানা গেম খেলা বা ভারী কোনো অ্যাপ ব্যবহার করলে প্রসেসরের ওপর চাপ পড়ে, যা ডিভাইসটিকে উত্তপ্ত করে তোলে। পাশাপাশি ফোনে একসঙ্গে ব্লুটুথ, জিপিএস, ওয়াইফাই এবং উচ্চ গ্রাফিক্সের গেম বা অ্যাপ চালু থাকলেও হিটিং সমস্যা প্রকট হতে পারে। মূলত ডিভাইসের হার্ডওয়্যার যখন অতিরিক্ত প্রসেসিং ক্ষমতা ব্যবহার করে, তখনই তাপ উৎপন্ন হয়।

ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, ডিভাইসটি উত্তপ্ত অনুভূত হলে দ্রুত সেটিকে সরাসরি রোদের আড়াল করে কোনো ঠান্ডা বা ছায়াযুক্ত স্থানে সরিয়ে রাখুন। ফোনের সাথে যদি খুব মোটা বা ভারী কোনো কাভার ব্যবহার করেন, তবে সেটি খুলে ফেলুন; কারণ ভারী কাভার ফোনের অভ্যন্তরীণ তাপ বের হতে বাধা দেয়। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপগুলো বন্ধ করে দিন এবং প্রয়োজনে 'লো পাওয়ার মোড' চালু করুন, যা ফোনের প্রসেসিং গতি কমিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

তবে ফোন ঠান্ডা করার ক্ষেত্রে কিছু প্রচলিত ভুল পদ্ধতি এড়িয়ে চলা একান্ত প্রয়োজন। ফোন কখনোই ফ্রিজে রাখা বা পানিতে ভেজানো যাবে না; এতে ডিভাইসের ভেতরে জলীয় বাষ্প জমে সার্কিট নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া ফোন গরম থাকা অবস্থায় সরাসরি চার্জে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ চার্জিং প্রক্রিয়া নিজেই তাপ উৎপন্ন করে যা বিপদজনক হতে পারে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং সচেতনতাই পারে আপনার মূল্যবান আইফোনটিকে ওভারহিটিং সমস্যা থেকে সুরক্ষিত রাখতে।

/আশিক


স্ক্রিন আসক্তিতে বাড়ছে মানসিক অস্থিরতা: সুস্থ থাকতে আজই বদলান এই অভ্যাস

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ২১:৩২:৩৭
স্ক্রিন আসক্তিতে বাড়ছে মানসিক অস্থিরতা: সুস্থ থাকতে আজই বদলান এই অভ্যাস
ছবি : সংগৃহীত

সকালের শুরুটা এখন অনেকের জন্য একই—ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই হাতে ফোন, তারপর মেসেজ, নোটিফিকেশন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তহীন স্ক্রল। দিন শেষে এর পরিণাম চোখ জ্বালা, মাথা ভার আর অকারণ অস্থিরতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা বর্তমানে সম্ভব না হলেও, সচেতন অভ্যাসের মাধ্যমে এই ডিজিটাল ক্লান্তি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

১. দিনের শুরু হোক প্রযুক্তিহীন

ঘুম থেকে উঠেই ফোন ধরার অভ্যাসটি আজই ত্যাগ করুন। দিনের প্রথম এক ঘণ্টা নিজের জন্য রাখুন। হালকা ব্যায়াম, জানালার আলো উপভোগ করা বা এক কাপ চা দিয়ে দিন শুরু করলে মন শান্ত থাকে এবং কর্মস্পৃহা বাড়ে।

২. ২০-২০-২০ নিয়ম ও কাজের বিরতি

দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্কে চাপ পড়ে। তাই প্রতি ৩০–৪০ মিনিট পর কয়েক মিনিটের বিরতি নিন। চোখের চিকিৎসকদের মতে, প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকলে চোখের পেশি শিথিল হয়।

৩. নোটিফিকেশনের দাসত্ব থেকে মুক্তি

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। বারবার ফোন চেক করার প্রবণতা কমলে মনোযোগ বাড়ে এবং অকারণ মানসিক চাপ কমে যায়। ফোনকে আপনার নিয়ন্ত্রণে রাখুন, আপনি ফোনের নিয়ন্ত্রণে যাবেন না।

৪. ডিজিটাল ডিটক্স ও ঘুম

ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ বন্ধ করে দিন। স্ক্রিনের নীল আলো বা 'ব্লু লাইট' মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে ঘুমের মান নষ্ট করে। এর বদলে বই পড়ার অভ্যাস শরীর ও মনকে গভীর ঘুমের জন্য প্রস্তুত করবে।

৫. অফলাইন সংযোগের গুরুত্ব

অনলাইনের ভার্চুয়াল জগতের বাইরেও একটি সুন্দর জীবন আছে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই বাস্তব সংযোগগুলোই প্রকৃত প্রশান্তি এনে দেয়।

৬. ডিভাইসমুক্ত এলাকা (No-Device Zone)

শোবার ঘর বা ডাইনিং টেবিলের মতো নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ করুন। এটি জীবনে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য তৈরি করবে এবং ডিজিটাল আসক্তি কমাতে সাহায্য করবে। সচেতন ব্যবহারই পারে আমাদের জীবনকে আরও সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলতে।

/আশিক


অ্যাপ নামালেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাফ! সাইবার দস্যুদের নতুন কৌশলে দিশেহারা মানুষ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১৭:১৯:৩৮
অ্যাপ নামালেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাফ! সাইবার দস্যুদের নতুন কৌশলে দিশেহারা মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

ডিজিটাল নিরাপত্তার চরম সংকটে সাধারণ মানুষ। গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ইউনিট জানিয়েছে, হ্যাকাররা এখন ‘রিমোট কন্ট্রোল’ ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে মানুষের ফোনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে। প্রতারকরা সাধারণত ফোনে একটি আকর্ষণীয় এসএমএস বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে বিশেষ কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করতে প্ররোচনা দেয়।

ওই অ্যাপটি ফোনে ইনস্টল করার সাথে সাথেই ফোনের স্ক্রিন কালো বা ‘ব্ল্যাক’ হয়ে যায়। ব্যবহারকারী কোনো বাটন চেপে ফোনটি সচল করতে পারেন না, আর ঠিক এই সুযোগেই হ্যাকাররা ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে ওটিপি (OTP) ও পাসওয়ার্ড হাতিয়ে টাকা সরিয়ে নিচ্ছে।

অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে ‘এনবি’ নামের একটি অ্যাপ ডাউনলোড করেছিলেন পিংকি নামের এক নারী। অ্যাপটি ইনস্টল করার পরপরই তার ফোন হ্যাং হয়ে স্ক্রিন ব্ল্যাক হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ফোনে মেসেজ আসে যে, তার অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক লাখ টাকা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হয়েছে।

একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সৌম্য কান্তি দাশ। তিনি জানান, তার স্কাই ব্যাংকিং অ্যাপে ঢোকার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ফোন ব্ল্যাক হয়ে যায় এবং স্ক্রিনে ‘সিস্টেম আপডেটিং’ লেখা দেখায়। কোনো বাটন কাজ না করায় তিনি কিছুই করতে পারেননি, আর এই সময়ের মধ্যেই তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ লাখ টাকা ট্রান্সফার করে নেয় হ্যাকাররা।

ডিএমপির সাইবার ইউনিটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানান, হ্যাকাররা এমনভাবে ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে যে, ব্যাংকিং সিস্টেমে মনে হয় ব্যবহারকারী নিজেই লেনদেন করছেন। তদন্তে দেখা গেছে, এই চুরির টাকা দেশের বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে ঘুরে প্রতারক চক্রের অন্য অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে।

পুলিশের ধারণা, এই শক্তিশালী হ্যাকিং চক্রের কার্যক্রম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে চীন পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। চক্রটিকে শনাক্ত করতে সাইবার ইউনিট বর্তমানে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

সাইবার বিশেষজ্ঞ মুশফিকুর রহমান সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোনো অপরিচিত ওয়েবসাইট বা থার্ড পার্টি সোর্স থেকে কখনোই অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিত নয়। বিশেষ করে যারা ফোনে নিয়মিত ব্যাংকিং লেনদেন করেন, তাদের ফোনে কোনো ধরনের ‘ফ্রি গেম’ বা ‘ফ্রি অ্যাপ’ না রাখাই ভালো। যদি ভুলবশত কোনো সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক হয়ে যায় বা স্ক্রিন ব্ল্যাক হতে শুরু করে, তবে বিলম্ব না করে দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ (ওয়াইফাই বা ডেটা) বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর


৫ মিনিটে ইন্টারনেটের স্পিড দ্বিগুণ করার উপায়: রাউটার রাখুন সঠিক জায়গায়

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১২:৫০:৪০
৫ মিনিটে ইন্টারনেটের স্পিড দ্বিগুণ করার উপায়: রাউটার রাখুন সঠিক জায়গায়
ছবি : সংগৃহীত

দামী ইন্টারনেট প্যাকেজ বা হাই-কনফিগারেশনের রাউটার কিনলেই ইন্টারনেটের গতি ভালো পাওয়া যাবে—এমন ধারণা সবসময় সঠিক নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাউটার বসানোর জায়গাটিই এখানে মূল ফ্যাক্টর। ওয়াইফাই সিগন্যাল মূলত রেডিও ওয়েভ, যা চোখে দেখা না গেলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় বাধাগ্রস্ত হয়। দূরত্ব, দেয়াল, আসবাবপত্র বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের কারণে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে পড়ে, যা আপনার ব্রাউজিং বা গেমিং এক্সপেরিয়েন্সকে ধীর করে দেয়।

যেসব জায়গায় রাউটার রাখা ইন্টারনেটের জন্য ‘বিষ’

১. টিভির পেছনে বা খুব কাছে

স্মার্ট টিভির ধাতব অংশ ওয়াইফাই সিগন্যালকে শুষে নেয়। টিভির পাশে বা পেছনে রাউটার রাখলে সিগন্যাল ড্রপ হওয়া প্রায় নিশ্চিত।

২. বন্ধ আলমারি বা ড্রয়ারের ভেতর

ঘরের সৌন্দর্য রক্ষায় আমরা অনেকেই রাউটারকে ক্যাবিনেট বা আলমারির ভেতর লুকিয়ে রাখি। এতে সিগন্যাল ঠিকমতো ছড়াতে পারে না।

৩. অন্য তলায় বা মেঝেতে

ওয়াইফাই সিগন্যাল সাধারণত ওপর থেকে নিচে ছড়ায়। তাই মেঝেতে বা কার্পেটের ওপর রাউটার রাখলে এর অর্ধেক সিগন্যাল মেঝেই শুষে নেয়।

৪. অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পাশে

ওভেন, মাইক্রোওয়েভ বা ব্লুটুথ ডিভাইস যেসব ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে, তা ওয়াইফাই সিগন্যালে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়।

সিগন্যাল শক্তিশালী করার গোপন কৌশল

রাউটার রাখার আদর্শ জায়গা হলো ঘরের একদম মাঝখানের কোনো একটি উঁচু এবং খোলা জায়গা। বিশেষজ্ঞরা রাউটারকে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় ফুট উচ্চতায় কোনো সেলফে রাখার পরামর্শ দেন। জানালা বা দরজার খুব কাছে রাউটার রাখবেন না, কারণ এতে সিগন্যাল ঘরের বাইরে চলে যায়। আর যদি রাউটারে একাধিক অ্যান্টেনা থাকে, তবে সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিকে (একটি সোজা, অন্যটি কাত করে) মুখ করে রাখলে ঘরের কোণায় কোণায় সমানভাবে ইন্টারনেট পৌঁছাবে।

সূত্র: জিও নিউজ


চ্যাটজিপিটি কি অপরাধ শেখায়? সাম্প্রতিক বিতর্ক ও আসল সত্য জেনে নিন

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১২:৩৭:১৮
চ্যাটজিপিটি কি অপরাধ শেখায়? সাম্প্রতিক বিতর্ক ও আসল সত্য জেনে নিন
ছবি : সংগৃহীত

চ্যাটজিপিটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় প্রযুক্তি টুল হলেও এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু অলঙ্ঘনীয় সুরক্ষা দেয়াল। বিশেষ করে অপরাধ ও সহিংসতা সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নে চ্যাটজিপিটি সরাসরি উত্তর দিতে অস্বীকার করে।

যেসব তথ্য সরাসরি মানুষের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি করতে পারে, সেই ধরনের কোনো নির্দেশনা এই এআই থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিল এমন খবর আসার পর সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রশ্ন জেগেছে যে, এআই কি তবে অপরাধেও সাহায্য করছে? বাস্তবতা হলো, চ্যাটজিপিটির প্রোগ্রামিং এমনভাবে করা হয়েছে যাতে এটি অস্ত্র তৈরি, বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার বা আত্মহানির মতো বিপজ্জনক বিষয়ে কোনো তথ্য প্রদান না করে। বরং এমন কোনো ইনপুট পেলে এটি ব্যবহারকারীকে সতর্কতা বা পেশাদার সহায়তার পরামর্শ দেয়।

নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ‘প্রাইভেসি’র ক্ষেত্রেও চ্যাটজিপিটি অত্যন্ত কঠোর। এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ফোন নম্বর, ঠিকানা, ব্যাংক তথ্য কিংবা পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল ডেটা শেয়ার করে না। একইভাবে ভুয়া খবর তৈরি, কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজানো কিংবা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এমন কনটেন্ট তৈরিতেও এটি সহযোগিতা করে না। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশল বা অপপ্রচারমূলক বার্তা তৈরির বিষয়ে চ্যাটজিপিটির ওপর বিধি-নিষেধ রয়েছে।

মূলত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই সীমাবদ্ধতাগুলো তৈরি করা হয়েছে। তবে অনেক সময় ব্যবহারকারীরা ঘুরিয়ে প্রশ্ন করে সাধারণ তথ্য সংগ্রহ করে সেটিকে অপরাধমূলক কাজে অপব্যবহার করতে পারে। এক্ষেত্রে টুলটির চেয়ে ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্যই বেশি দায়ী। তাই প্রযুক্তির এই যুগে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি পরিবার ও শিশুদের ব্যবহারের ওপরও সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি।

সূত্র: মিডিয়াম, চ্যাটজিপিটি পলিসি


মহাবিশ্বের পঞ্চম শক্তির সন্ধান! সৌরজগতেই মিলতে পারে রহস্যময় নতুন বলের খোঁজ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ২১:৫১:৪৮
মহাবিশ্বের পঞ্চম শক্তির সন্ধান! সৌরজগতেই মিলতে পারে রহস্যময় নতুন বলের খোঁজ
ছবি : সংগৃহীত

মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের সামনে এখন এক নতুন দিগন্ত। পরিচিত চারটি প্রাকৃতিক শক্তির বাইরেও মহাবিশ্বে থাকতে পারে এক রহস্যময় ‘পঞ্চম বল’ (Fifth Force)। নাসা ও হাঙ্গেরির বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই শক্তির অস্তিত্বের প্রমাণ হয়তো আমাদের নিজেদের সৌরজগতেই লুকিয়ে আছে।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে মহাবিশ্বের সবকিছুকে চারটি মৌলিক বল—মহাকর্ষ, তড়িৎচুম্বকত্ব, শক্তিশালী পারমাণবিক বল ও দুর্বল পারমাণবিক বল—দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। তবে ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জির মতো জটিল রহস্যগুলো এই চারটি বল দিয়ে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী স্লাভা জি তুরিশেভ মনে করেন, সৌরজগতের ভেতরে সূক্ষ্ম ও আধুনিক পরীক্ষা চালালে এই পঞ্চম বলের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া ২০১৫ সালে হাঙ্গেরির গবেষণায় পাওয়া ‘প্রোটোফোবিক এক্স বোসন’ কণা এবং সাম্প্রতিক মিউন (Muon) কণার অস্বাভাবিক আচরণ বিজ্ঞানীদের এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

গবেষকদের মতে, মহাবিশ্বের প্রসারণ এবং গ্যালাক্সিগুলো কেন নির্দিষ্ট কাঠামোতে আটকে থাকে—তার সঠিক উত্তর মিলতে পারে এই পঞ্চম বলের মাধ্যমে। তাই এখন দূরের গ্যালাক্সির পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা আমাদের আপন সৌরজগতকেই এই রহস্যভেদের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

/আশিক


যেসব ফোনে চিরতরে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ: মেটা কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৯:৫৮:২৬
যেসব ফোনে চিরতরে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ: মেটা কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

পুরনো স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধরণের দুঃসংবাদ দিল জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা। প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মেটা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ১০ বা ১২ বছরের পুরনো লাখ লাখ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আর হোয়াটসঅ্যাপ কাজ করবে না। মূলত পুরনো অপারেটিং সিস্টেমগুলোতে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও উন্নত নিরাপত্তা ফিচার চালানো সম্ভব নয় বলেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেটা।

মেটার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যান্ড্রয়েড ৬-এর আগের সব অপারেটিং সিস্টেমে হোয়াটসঅ্যাপের সাপোর্ট পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষ করে যারা এখনও অ্যান্ড্রয়েড ৫ বা ৫.১ ভার্সন চালিত ফোন ব্যবহার করছেন, তারা এই তালিকায় সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। ৮ সেপ্টেম্বরের পর এসব ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ অকেজো হয়ে পড়বে, ফলে চ্যাট হিস্ট্রি বা মিডিয়া ফাইল হারানোর বড় ঝুঁকি তৈরি হবে। মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে তারা অ্যাপে যেসব অত্যাধুনিক ফিচার ও এআই প্রযুক্তি যুক্ত করছে, তা চালানোর জন্য উন্নত হার্ডওয়্যার ও নতুন ভার্সনের সফটওয়্যার প্রয়োজন, যা পুরনো মডেলে দেওয়া সম্ভব নয়।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, যারা এখনও পুরনো ফোন ব্যবহার করছেন তারা যেন সময় শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় চ্যাট ব্যাকআপ নিয়ে নতুন কোনো ডিভাইসে শিফট করে ফেলেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে পুরনো ফোনগুলো থেকে ডেটা রিকভার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে ৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড ৬ বা তার পরবর্তী আধুনিক ভার্সনগুলোতে নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা যাবে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


১০ হাজার সূর্যের শক্তি এক ব্ল্যাক হোলে! মহাকাশে ‘সিগনাস এক্স-১’-এর তাণ্ডব

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ২১:৪৭:৪৭
১০ হাজার সূর্যের শক্তি এক ব্ল্যাক হোলে! মহাকাশে ‘সিগনাস এক্স-১’-এর তাণ্ডব

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রায় ছয় দশক আগে আবিষ্কৃত এক রহস্যময় দানব এবার তার শক্তির নতুন রূপ দেখাল। পৃথিবীর প্রথম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়া ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর ‘সিগনাস এক্স-১’ মহাকাশে যে কণার ধারা (জেট) ছুড়ছে, তার তেজ প্রায় ১০ হাজার সূর্যের মিলিত শক্তির সমান। সম্প্রতি কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ সাময়িকীতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন।

১৯৬৪ সালে যখন এটি প্রথম শনাক্ত হয়, তখন বিজ্ঞানীরা ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব নিয়েই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। কিন্তু বর্তমান গবেষণায় দেখা গেছে, এই ব্ল্যাক হোল থেকে নিঃসৃত জেটগুলো আলোর গতির প্রায় অর্ধেক—অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটছে। গবেষক ডক্টর স্টিভ প্রাবুর মতে, একটি ব্ল্যাক হোলে যে পরিমাণ পদার্থ প্রবেশ করে, তার প্রায় ১০ শতাংশ শক্তি এই জেটের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে। এই শক্তিশালী জেটগুলো লক্ষ লক্ষ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে এবং এদের উজ্জ্বলতা এতই তীব্র যে কণাগুলো আলোর গতির কাছাকাছি পৌঁছে প্রচণ্ড শক্তি বিকিরণ করে, যা আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বেরই বাস্তব প্রতিফলন।

পৃথিবী থেকে প্রায় ৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই কৃষ্ণগহ্বরটি আমাদের সূর্যের তুলনায় প্রায় ২১ গুণ ভারী। এটি ‘এইচডিই ২২৬৮৬৮’ নামক একটি বিশালাকার নক্ষত্রের সঙ্গে জোড়ায় অবস্থান করে এবং প্রতি ৫.৬ দিনে একবার সেই নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে। বিশ্বজুড়ে সংযুক্ত শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, নক্ষত্র থেকে আসা বাতাসের প্রবাহ এই জেটগুলোকে ঝরনার পানির মতো বাঁকিয়ে দিচ্ছে, যা থেকে এর গতির অবিশ্বাস্য প্রভাব পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে। ব্ল্যাক হোলের শক্তির এই নতুন সমীকরণ মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

/আশিক

পাঠকের মতামত: