পুরোনো আইফোন কেনার আগে সাবধান! সেটিংসের Genuine Part দেখেই ফ্রেশ ভাববেন না

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ২১:০৯:৪৫
পুরোনো আইফোন কেনার আগে সাবধান! সেটিংসের Genuine Part দেখেই ফ্রেশ ভাববেন না
ছবি : সংগৃহীত

পুরাতন বা ব্যবহৃত (ইউজড) আইফোন কেনার সময় সেটিংস অপশনে ‘Genuine Apple Part’ লেখা দেখা কিংবা ব্যাটারি হেলথ ৯০% বা ৯৫% থাকা মানেই আইফোনটি একদম ফ্রেশ—এমন ভাবার দিন শেষ। প্রযুক্তির উৎকর্ষের সাথে সাথে ব্যবহৃত আইফোনের বাজারে প্রতারণার কৌশলও এখন বহুগুণ আধুনিক ও উন্নত হয়েছে।

সাধারণ ক্রেতা তো বটেই, অনেক সময় প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞদের পক্ষেও খালি চোখে বা সাধারণ সেটিং দেখে এই নিখুঁত জালিয়াতি ধরা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে বিশেষ থার্ড-পার্টি হার্ডওয়্যার ডিভাইস এবং কাস্টম সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফোনের ভেতর এমন সব পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা আইফোনের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম (iOS) বা সেটিংসও সহজে সনাক্ত করতে পারে না।

তাই কোনো বিক্রেতাকে টাকা পরিশোধ করার আগে, বর্তমান বাজারের শীর্ষ ৫টি প্রযুক্তিগত জালিয়াতি এবং তা ধরার আধুনিক উপায়গুলো অবশ্যই জেনে নিন

পার্টস ও সার্ভিস হিস্ট্রি জালিয়াতি (Fake Genuine Parts)

অতীতে ক্রেতারা শুধু Settings > General > About থেকে "Parts and Service History" দেখেই নিশ্চিত হয়ে যেতেন যে ফোনের পার্টসগুলো আসল নাকি নকল। কিন্তু বর্তমানে ‘JC Programmer’-এর মতো অত্যাধুনিক থার্ড-পার্টি ডিভাইস ব্যবহার করে নকল ডিসপ্লে, ক্যামেরা বা ব্যাটারিতে আইফোনের অরিজিনাল পার্টসের সিরিয়াল নম্বরটি হুবহু কপি-পেস্ট (Write) করে দেওয়া হয়। ফলে ফোনটি আসল মাদারবোর্ডের সিরিয়াল রিড করে সেই নকল পার্টসটাকেও স্ক্রিনে "Genuine Apple Part" হিসেবে প্রদর্শন করে।

আধুনিক ধরার উপায়

শুধুমাত্র আইফোনের নিজস্ব সেটিংসের ওপর শতভাগ ভরসা করবেন না। ফোনটি কেনার সময় সম্ভব হলে একটি ল্যাপটপে 3uTools বা iMazing সফটওয়্যার ইনস্টল করে ডেটা ক্যাবলের মাধ্যমে ফোনটি কানেক্ট করুন এবং এর সম্পূর্ণ "Verification Report" চেক করুন। এটি মাদারবোর্ডের আসল সিরিয়াল নম্বরের সাথে প্রতিটি পার্টসের ফ্যাক্টরি সিরিয়াল মিলিয়ে নিখুঁত ও সত্য রিপোর্ট আপনার সামনে তুলে ধরবে।

ডুপ্লিকেট ডিসপ্লে ও ফেক ট্রু টোন (Fake True Tone)

আইফোনের অরিজিনাল ডিসপ্লে পরিবর্তন করা হলে সাধারণত এর ‘True Tone’ অপশনটি চিরতরে গায়েব হয়ে যায়। কিন্তু এখন অসাধু চক্র অরিজিনাল ডিসপ্লে চিপের ডেটা কপি করে ডুপ্লিকেট বা নকল ডিসপ্লেতেও ট্রু টোন অপশনটি অ্যাক্টিভেট করে রাখছে। এছাড়া আইফোন ১৩ প্রো বা তার পরবর্তী মডেলগুলোর ১২০ হার্জের (ProMotion) প্রিমিয়াম ডিসপ্লে বদলে ভেতরে সস্তা ৬০ হার্জের প্যানেল লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে।

আধুনিক ধরার উপায়

Control Center-এ গিয়ে ব্রাইটনেস বারটি চেপে ধরে শুধু True Tone অন-অফ হচ্ছে কি না তা দেখবেন না, বরং ডিসপ্লের ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল এবং স্ক্রিন স্ক্রল করার সময় এর মসৃণতা (Refresh Rate) গভীরভাবে খেয়াল করুন। ওলেড (OLED) ডিসপ্লের জায়গায় সস্তা এলসিডি (LCD) লাগানো হলে স্ক্রিনের চারপাশের বেজেল বা কালো বর্ডারটি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা মোটা দেখাবে।

ব্যাটারি হেলথ বুস্টিং (Battery Health Boosting)

ব্যবহৃত আইফোনের বাজারে ব্যাটারি হেলথ ৮০%-এর নিচে থাকলে সাধারণ ক্রেতারা সেই ফোন কিনতে চান না। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা বিশেষ হার্ডওয়্যার ডিভাইস দিয়ে ব্যাটারির আসল হেলথ (যা হয়তো বাস্তবে ৭৫%) বুস্ট করে সাময়িকভাবে ৯০% বা ৯৫% বানিয়ে দেয়। এই ফোন কেনার মাত্র কয়েকদিন পরেই ব্যাটারি হেলথ হুট করে ১০-১৫% পর্যন্ত ড্রপ করে।

আধুনিক ধরার উপায়

আইফোনের ব্যাটারির চার্জিং সাইকেল (Cycle Count) চেক করুন। যদি দেখেন ব্যাটারি হেলথ ৯৫%, কিন্তু চার্জিং সাইকেল ৭০০ বা ৮০০-এর ওপরে, তবে নিশ্চিত বুঝবেন ব্যাটারি হেলথ বুস্ট করা বা ফেক। আইফোন ১৫ বা তার পরবর্তী মডেলগুলোতে সরাসরি Settings > Battery- তেই সাইকেল কাউন্ট দেখা যায়। এর পূর্ববর্তী পুরোনো মডেলের সাইকেল কাউন্ট দেখতে ল্যাপটপে 3uTools ব্যবহার করুন।

ফিজিক্যাল ই-সিম রূপান্তর ও ক্যারিয়ার লক (Hardware Drilling)

আমেরিকা বা ইউরোপের অনেক আইফোন (বিশেষ করে আইফোন ১৪ ও তার পরবর্তী মডেলগুলো) শুধুমাত্র eSIM সমর্থিত হওয়ায় সেগুলোতে কোনো ফিজিক্যাল সিম স্লট থাকে না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই ফোনগুলোর বডি ড্রিল (কেটে) করে মাদারবোর্ডে সস্তা চাইনিজ সিম ট্রে বসিয়ে "ফিজিক্যাল সিম সমর্থিত" বলে বিক্রি করছে, যা ফোনের মাদারবোর্ডের স্থায়ী ক্ষতি করে। পাশাপাশি এগুলো ক্যারিয়ার লকড (Carrier Locked) বা চোরাই ফোন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আধুনিক ধরার উপায়

Settings > General > About-এ গিয়ে Carrier Lock অপশনটি দেখুন। সেখানে অবশ্যই "No SIM restrictions" লেখা থাকতে হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট অপারেটরের নাম থাকে, তবে সেই ফোনে বাংলাদেশের সিম চলবে না। এছাড়া ফোনের মডেল নম্বরের প্রথম অক্ষরটি খেয়াল করুন—

'M' মানে রিটেল (অফিসিয়াল নতুন কেনা ডিভাইস)

'F' মানে অ্যাপল কর্তৃক রিফারবিশড (Refurbished) ডিভাইস

'N' মানে অফিসিয়াল রিপ্লেসমেন্ট (Replacement) ডিভাইস।

ফেস আইডি ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সিল নষ্ট

ফেস আইডি (Face ID) বা টাচ আইডি নষ্ট থাকলে সেই আইফোনের বাজারমূল্য ও কার্যকারিতা অর্ধেক হয়ে যায়। অনেক সময় মাদারবোর্ডের সূক্ষ্ম কাজের কারণে বা ফোনে পানি ঢোকার ফলে ফেস আইডি চিরতরে ডেড হয়ে যায়। এছাড়া ফোন একবার যেকোনো কারণে খোলা হলে এর ভেতরের ওয়াটারপ্রুফ গাম বা সিলটি নষ্ট হয়ে যায়।

আধুনিক ধরার উপায়

ফেস আইডি নতুন করে সেটআপ করে শতভাগ পরীক্ষা করার পাশাপাশি ফোনের সিম ট্রে-টি পুরোপুরি খুলুন। এরপর স্লটের ফাঁকা অংশ দিয়ে মুখের সাহায্যে ভেতরে হালকা ফু দিয়ে বাতাস দেওয়ার চেষ্টা করুন। যদি দেখেন বাতাস সহজেই ভেতরে চলে যাচ্ছে এবং কোনো বাধা পাচ্ছে না, তবে বুঝবেন ফোনটি আগে খোলা হয়েছিল এবং এর ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স গাম বা সিলটি আর অক্ষত নেই।

টাকা দেওয়ার আগে চূড়ান্ত দুটি ধাপ (মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট)

ওপরের সবগুলো বিষয় যদি আপনার কাছে ঠিকঠাক মনে হয়, তাহলে বিক্রেতার হাতে টাকা তুলে দেওয়ার ঠিক আগে নিচের দুটি শেষ ধাপ অবশ্যই সম্পন্ন করুন—

ধাপ ১ (ফ্যাক্টরি রিসেট ও অ্যাক্টিভেশন)

বিক্রেতার সামনেই ফোনটি Settings > General > Transfer or Reset iPhone থেকে Erase All Content and Settings দিয়ে সম্পূর্ণ ফ্যাক্টরি রিসেট দিন। এরপর আপনার নিজের সচল সিম কার্ডটি ফোনে ঢুকিয়ে এবং ওয়াই-ফাই কানেক্ট করে ফোনটি স্ক্রিন গাইডলাইন অনুযায়ী নতুন করে চালু (Activate) করুন। ফোনটি যদি সফটওয়্যার দিয়ে বাইপাস করা থাকে বা আইক্লাউড লক (iCloud Lock) থাকে, তবে এই ধাপে এসে আটকে যাবে এবং জালিয়াতি ধরা পড়বে।

ধাপ ২ (আইএমইআই ব্ল্যাকলিস্ট চেক)

ফোনের ডায়াল প্যাডে *#06# চেপে IMEI নম্বরটি সংগ্রহ করুন। এটি অ্যাপলের অফিশিয়াল সাইটে (checkcoverage.apple.com) চেক করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যেকোনো ‘Blacklist Checker’ বা ‘IMEI Info’ ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখে নিন ফোনটি আন্তর্জাতিকভাবে চুরি হওয়া, হারিয়ে যাওয়া বা কোনো অপরাধের কারণে ব্লকড করা কি না।

/আশিক


১০০ মিটারের স্প্রিন্টে অভাবনীয় কীর্তি: রোবটের দৌড়ে বিশ্ব তোলপাড়

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ২১:২৯:৪৪
১০০ মিটারের স্প্রিন্টে অভাবনীয় কীর্তি: রোবটের দৌড়ে বিশ্ব তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

মানুষের শারীরিক গতির সক্ষমতাকে রোবট ছাড়িয়ে যেতে পারে কি না, সেই বিতর্ক নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে চীনের তৈরি মানবসদৃশ রোবট ‘তিয়ানগং আল্ট্রা’। বেইজিংয়ে চলমান ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস’-এর লার্জ-সাইজ ক্যাটাগরির সেমিফাইনালে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে মাত্র ৮.৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে বিস্ময়কর এক নতুন রেকর্ড গড়েছে এটি।

এর মাধ্যমে উদ্বোধনী দিনে নিজের গড়া ৯.৩৯ সেকেন্ডের রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি রোবটটি কিংবদন্তি স্প্রিন্টার উসাইন বোল্টের ২০০৯ সালের মানব বিশ্বরেকর্ড ৯.৫৮ সেকেন্ডকেও ০.৭২ সেকেন্ডের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে।

বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের উদ্ভাবিত তিয়ানগং আল্ট্রার এমন গতি আসরটির প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ৬৬৬টি দলের দুই সহস্রাধিক রোবট ফুটবল, নৃত্য এবং শিল্প কারখানার কাজসহ মোট ৫১টি ভিন্ন ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

তবে দ্রুততম মানবকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এই ঐতিহাসিক দৌড় শেষেই ঘটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। ফিনিশ লাইন অতিক্রমের পর অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে রোবটটি সামনে থাকা একটি পুরু ম্যাটে সজোরে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং এর ভেতরের অংশে আগুন ধরে যায়। এমনকি অন্য একটি সেমিফাইনাল হিটে অংশ নেওয়া আরেকটি রোবট দৌড়ের মাঝপথেই ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এর আগে আসরের উদ্বোধনী দিনেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দৌড় উপহার দেয় তিয়ানগং। শুরুতে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তের গতিতে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনারের রোবট ‘লাইটনিং’কে পরাস্ত করে এটি। ওই হিটে লাইটনিং ৯.৪৭ সেকেন্ড সময় নেয়, যা বোল্টের বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও কম; যদিও এর আগের একটি ট্রায়ালে লাইটনিংয়ের টাইমিং ছিল ৯.৩২ সেকেন্ড।

তিয়ানগংয়ের উন্নতির গ্রাফটি অত্যন্ত লক্ষণীয়, কারণ গত বছর প্রথম আসরে একই ইভেন্টে এটি সময় নিয়েছিল ২১.৫০ সেকেন্ড এবং হিউম্যানয়েড হাফ-ম্যারাথনে ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় নিয়ে শীর্ষস্থান পেয়েছিল। এছাড়া ১০০ মিটারের বাইরে ৪০০ মিটারে ৩৮.১৫ সেকেন্ড, ১৫০০ মিটারে ২ মিনিট ২১.৬৪ সেকেন্ড এবং হাইজাম্পে ২.৮৮ মিটারের মতো মানুষের একাধিক বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি রয়েছে এর ঝুলিতে।

চীনের কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল, ক্লাউড জায়ান্ট বাইদু এবং শাওমির রোবটিক্স ইউনিটের যৌথ অংশীদারিত্বে এই উদ্ভাবনী কেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মোটর এবং আধুনিক সেন্সর প্রযুক্তির সমন্বয়ে এমন হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি করে দেশের উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও সেবা খাতে কার্যকরভাবে যুক্ত করাই চীনের মূল লক্ষ্য। এই প্রযুক্তি খাতকে বেইজিং ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও কৌশলগত শিল্প হিসেবে মূল্যায়ন করছে।

তথ্য সূত্র : এনবিসি নিউজ।


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমা: যেসব বিষয়ে নির্ভরতা বিপজ্জনক

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ১৯:৪২:৫২
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমা: যেসব বিষয়ে নির্ভরতা বিপজ্জনক
ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা, দাপ্তরিক কাজ, তথ্য অনুসন্ধান কিংবা নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে এটি নিয়মিত সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তবে দৈনন্দিন জীবনের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি এর অতিরিক্ত ব্যবহার নানা ধরনের ঝুঁকি ও জটিলতাও তৈরি করছে। বিশেষ করে কিছু অতি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এআইয়ের ওপর অন্ধ নির্ভরতা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। এমন অন্তত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যেখানে এআই ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা প্রয়োজন।

শারীরিক অসুস্থতা বা রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে কখনোই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শকে চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গের ভিত্তিতে এআই হয়তো কিছু প্রাথমিক তথ্য দিতে পারে, তবে যথাযথ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য সর্বদা পেশাদার চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। একইভাবে মানসিক চাপ, হতাশা কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যের গভীর কোনো সমস্যায় এআইয়ের ওপর নির্ভর করা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে; এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সরাসরি সহায়তা নেওয়া আবশ্যক।

অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা বা যেকোনো তাৎক্ষণিক জরুরি মুহূর্তে এআইয়ের কাছে সমাধান না খুঁজে স্থানীয় জরুরি উদ্ধারকারী সেবা ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নির্দেশনা মেনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ, ঋণ গ্রহণ, আয়কর পরিশোধ কিংবা ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনার মতো জটিল বিষয়ে এআইয়ের হিসাব বা মতামতকে চূড়ান্ত ধরা অনুচিত। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সনদপ্রাপ্ত অর্থনীতি বা অর্থ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের সুরক্ষার স্বার্থে পাসওয়ার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, পরিচয়পত্র কিংবা অফিসের অতি গোপনীয় নথি কখনোই এআই প্ল্যাটফর্মে দেওয়া ঠিক নয়। পাশাপাশি যেকোনো প্রকার বেআইনি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ছক আঁকা কিংবা বাস্তবায়নে এআইয়ের সহায়তা নেওয়া আইনত দণ্ডনীয়, কেননা প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হলেও আইন লঙ্ঘনের দায় থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

শিক্ষা ক্ষেত্রে অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষার খাতায় এআইয়ের মাধ্যমে প্রস্তুত করা উত্তর নিজের নামে জমা দেওয়া শিক্ষার্থীদের নিজস্ব মেধা বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিমালারও চরম লঙ্ঘন। অন্যদিকে চলমান তাৎক্ষণিক ঘটনা বা ব্রেকিং নিউজের ক্ষেত্রে এআইয়ের তথ্যের ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যাবে না; এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য মূলধারার নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও প্রকৃত উৎস থেকে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

অনেকেই জুয়ায় নিশ্চিত জয়ের উপায় জানতে এআইয়ের দ্বারস্থ হন, যা একেবারেই অর্থহীন এবং এর ওপর ভিত্তি করে বাজি ধরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া উইল বা সম্পত্তির বণ্টননামা এবং চুক্তিপত্রের মতো সংবেদনশীল ও আইনগত গুরুত্বপূর্ণ নথি তৈরিতে এআইয়ের খসড়া সরাসরি ব্যবহার করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এতে দেশের প্রচলিত আইনের জটিল ফাঁকফোকর থেকে যেতে পারে। সর্বশেষ ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ডিপফেক কনটেন্ট তৈরি করা মারাত্মক আইনি অপরাধ ও অনৈতিক কাজ, যা বিশেষ করে পরিচিত মুখ বা তারকাদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সংবেদনশীল।

সার্বিকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিঃসন্দেহে একটি কার্যকরী ও শক্তিশালী সহায়ক মাধ্যম, কিন্তু এটি কখনোই অভিজ্ঞ চিকিৎসক, আইনজীবী, আর্থিক বিশ্লেষক বা মানুষের নিজস্ব বিচার-বিবেচনার বিকল্প হতে পারে না। তাই সংবেদনশীল প্রতিটি পদক্ষেপে তথ্য যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট পেশাদারদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

/আশিক


ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ২১:৪০:২২
ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন
ছবি : সংগৃহীত

ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীর সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছে ‘ম্যাডর‍্যাক্স’ নামে একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। গোষ্ঠীটির দাবি, এসব সিভি দেশের চাকরির প্ল্যাটফর্ম বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ব্যবহারকারীদের তথ্য তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ফাঁস হয়েছে—এমন অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বিডিজবস।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ‘ডার্ক ফোরামস ডট আর ইউ’ নামের একটি ওয়েবসাইটে ৬০ লাখ চাকরিপ্রার্থীর সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে ‘ম্যাডর‍্যাক্স’ পরিচয়ধারী গোষ্ঠীটি। বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়, এসব তথ্য বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে নেওয়া হয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা, ই-মেইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

হ্যাকার গোষ্ঠীটির পোস্ট অনুযায়ী, এসব সিভির একটি কপির জন্য দাম চাওয়া হয়েছে এক হাজার মার্কিন ডলার। সর্বোচ্চ পাঁচজন ক্রেতার কাছে তথ্যগুলো বিক্রি করা হবে বলেও বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে পেটিএম, ওয়াইজ, পেইউ এবং বাইন্যান্সের নাম দেওয়া হয়েছে।

নিজেদের দাবির পক্ষে ১৪৮টি সিভির নমুনাও প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীটি। প্রকাশিত এসব সিভি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ নথিই পুরোনো। বিশেষ করে ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সর্বশেষ হালনাগাদ করা সিভির সংখ্যা বেশি।

প্রকাশিত ১৪৮টি সিভির মধ্যে দুজনের সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলেছেন। তারা দুজনই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তাদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে তারা বিডিজবসে নিজেদের সিভি আপলোড করেছিলেন।

সম্ভাব্য এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, একজন ব্যক্তির নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্মজীবনের তথ্য এক জায়গায় পাওয়া গেলে তার বিস্তারিত ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, এসব তথ্য ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে ফিশিং, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, পরিচয় জালিয়াতি কিংবা আর্থিক প্রতারণার মতো বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ চালানো সম্ভব। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের এমন সম্ভাব্য ফাঁসকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন তিনি।

তবে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে ফাঁস হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে বিডিজবস। তথ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল কারা দেখতে পারবেন এবং কারা পারবেন না, সে বিষয়েও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে।

ফাহিম মাশরুর জানান, বিডিজবসে নিবন্ধিত লক্ষাধিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য দেখতে পারে। তবে এসব তথ্য কেবল নিজেদের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে তাদের।

তিনি আরও বলেন, কোনো নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করলে এবং বিষয়টি বিডিজবসের নজরে আনা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: প্রথম আলো


আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন প্রযুক্তি: সক্ষমতা বৃদ্ধির তথ্য জানাল বিএনপি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১৯:৩১:৫৫
আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন প্রযুক্তি: সক্ষমতা বৃদ্ধির তথ্য জানাল বিএনপি
ছবি : সংগৃহীত

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত ‘গ্রাউন্ড মাস্টার ৪০০’ (Ground Master 403M) রাডার এবং নতুন এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে দেশের আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। রবিবার (২৩ আগস্ট) দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রকাশিত বার্তায় উল্লেখ করা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপিত এই অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থার ফলে ঢাকা-কেন্দ্রিক প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার এবং বঙ্গোপসাগরীয় আকাশসীমায় সর্বোচ্চ ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়োজাহাজের অবস্থান রিয়েল-টাইমে অর্থাৎ তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নতুন এই রাডার ও এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কার্যকর হওয়ার ফলে দেশের আকাশসীমা নজরদারি আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল ও আধুনিক রূপ পাবে। একই সঙ্গে আকাশপথে উড়োজাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা, সামগ্রিক আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং বিমান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় জোরদার হবে।

উন্নত এই প্রযুক্তির সুবাদে আকাশসীমায় চলাচলকারী যেকোনো উড়োজাহাজের গতিবিধি ও অবস্থান মুহূর্তেই সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত ও ট্র্যাক করা সম্ভব হবে বলেও দলটির ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে।

তবে নতুন রাডারটি ঠিক কবে থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হয়েছে এবং এই প্রকল্পের বিস্তারিত কারিগরি রূপরেখা সম্পর্কে বিএনপির ওই বার্তায় বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

/আশিক


ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আসছে বড় পরিবর্তন

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ২০:২২:২০
ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আসছে বড় পরিবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য পাবলিক ভিউ গণনার নিয়মে একটি বড় পরিবর্তন আসছে। প্ল্যাটফর্মটিতে এখন থেকে কোনো ভিডিও চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা একটি ভিউ হিসেবে গণনা করা হবে। আগামী ২৪ আগস্ট থেকে ভিডিও ও সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ ভিডিওর ক্ষেত্রে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে বুধবার অফিশিয়াল ব্লগ পোস্টে নিশ্চিত করেছে ইউটিউব।

পূর্বে কোনো ভিডিওর ক্ষেত্রে ভিউ গণনার জন্য দর্শককে অন্তত ৩০ সেকেন্ড সেটি চালু রাখতে হতো। নতুন নিয়মে ভিডিওর প্রথম ফ্রেম চালু হওয়ামাত্রই ভিউ যুক্ত হবে। এর ফলে কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রকাশিত ভিডিওতে সামগ্রিক ভিউ সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক দ্রুত বাড়লেও শুধু এই সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ভিডিওর প্রকৃত দর্শকপ্রিয়তা বা আকর্ষণ যাচাই করা কিছুটা কঠিন হতে পারে।

ইউটিউবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ভিডিওর জন্য ভিউ গণনার আলাদা পদ্ধতি থাকায় নির্মাতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছিল। দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার সব ফরম্যাটকে একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় এনে বিভ্রান্তি দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছর শর্টস ভিডিওর ক্ষেত্রেও চালু হওয়ামাত্র ভিউ গণনার এই নিয়ম চালু করা হয়েছিল।

তবে ভিডিওর পুরনো পরিমাপ ব্যবস্থা একেবারে বাতিল করা হচ্ছে না। নির্মাতারা তাঁদের ইউটিউব অ্যানালিটিকসে ‘এনগেজড ভিউস’ অপশনের মাধ্যমে ভিডিও চালুর সংখ্যা এবং নির্দিষ্ট সময় ধরে দর্শকরা কতক্ষণ দেখেছেন—এ দুটি তথ্যই আলাদাভাবে দেখতে পাবেন।

নতুন এই নিয়মের কারণে নির্মাতাদের আয় কিংবা ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের নীতিমালায় কোনো প্রভাব পড়বে না। ইউটিউব স্পষ্ট করেছে যে পাবলিক ভিউ বেড়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে কনটেন্ট নির্মাতার আয়ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। শর্টসের আয়ের জন্য ‘এনগেজড শর্টস ভিউস’ এবং সাধারণ ভিডিওর ক্ষেত্রে ‘এনগেজড ওয়াচ আওয়ার্স’ আগের মতোই মূল মানদণ্ড হিসেবে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, প্ল্যাটফর্মটিতে বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন থেকে আয়ের যোগ্যতা অর্জনে ওয়াচ আওয়ার ও শর্টস ভিউয়ের শর্ত ২০২৭ সাল থেকে আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইউটিউব।

/আশিক


চালকহীন পরিবহনে টেসলার নতুন পদক্ষেপ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৯:৪০:০৯
চালকহীন পরিবহনে টেসলার নতুন পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

স্টিয়ারিং হুইল ও প্যাডেলবিহীন সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘সাইবারক্যাব’ চালকহীন বাণিজ্যিক পরিষেবায় যুক্ত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলা। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনফরমেশন’-এর প্রতিবেদন ও টেসলার রোবোট্যাক্সি বিভাগের সাম্প্রতিক ইঙ্গিত অনুযায়ী, চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে দুই আসনবিশিষ্ট এই রোবোট্যাক্সির যাত্রা শুরু হতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা না এলেও, প্রাথমিক পর্যায়ে এটি টেসলার নিজস্ব কর্মীদের ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে পরীক্ষা চালানো হবে এবং পরবর্তীতে তা অস্টিনের মূল রোবোট্যাক্সি নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বয়ংক্রিয় যাত্রী পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই সাইবারক্যাব প্রচলিত গাড়ির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এতে কোনো স্টিয়ারিং হুইল বা প্যাডেল নেই এবং পুরো চলাচল ব্যবস্থাটি টেসলার উন্নত ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং’ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে ফ্লোরিডার মায়ামি, অরল্যান্ডো ও ট্যাম্পা এবং টেক্সাসের অস্টিন, ডালাস ও হিউস্টনে টেসলা তাদের ‘মডেল ওয়াই’ গাড়ি দিয়ে সীমিত পরিসরে রোবোট্যাক্সি সেবা পরিচালনা করছে। সেই প্রেক্ষাপটে সাইবারক্যাবের সংযোজন স্বায়ত্তশাসিত যানবাহন খাতে একটি বড় প্রযুক্তিগত মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে বাণিজ্যিকভাবে সাইবারক্যাব চালু করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইনি অনুমোদন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্টিয়ারিং হুইল ছাড়া গাড়ি দিয়ে বাণিজ্যিক যাত্রীসেবা পরিচালনার সাধারণ অনুমতি নেই, যার জন্য বিশেষ সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। ভবিষ্যতে ব্যাপক উৎপাদনের পরিকল্পনায় থাকা এই বিশেষ যানটির আইনি বাধা দূর করে সফল পরিচালনা টেসলার সার্বিক স্বায়ত্তশাসিত পরিবহন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: ম্যাশেবল


দুপুরের আকাশে জ্বলজ্বল করবে তারা: বিরল সূর্যগ্রহণে রেকর্ড গড়বে লুক্সর

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৯:৪৭:০৯
দুপুরের আকাশে জ্বলজ্বল করবে তারা: বিরল সূর্যগ্রহণে রেকর্ড গড়বে লুক্সর
ছবি : সংগৃহীত

প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য পরিচিত মিশরের ঐতিহাসিক শহর লুক্সর ২০২৭ সালের ২ আগস্ট সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘ ও বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্যমতে, ওই দিন পূর্ণগ্রহণের সর্বোচ্চ স্থায়িত্বকাল হবে প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড—যা ২১১৪ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর আকাশে দেখা যাওয়া দীর্ঘতম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথটি আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু হয়ে স্পেন, জিব্রাল্টার, মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিশর, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও সোমালিয়ার ওপর দিয়ে ভারত মহাসাগরে গিয়ে শেষ হবে। প্রায় ২৫৯ কিলোমিটার প্রশস্ত এই পথের মধ্যে কাডিজ, ট্যাঙ্গিয়ার, বেনগাজি এবং জেদ্দার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো থাকলেও নীল নদের তীরে অবস্থিত কিংস ও কুইন্স ভ্যালির কারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পর্যটকদের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে লুক্সর।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, প্রায় সাড়ে ছয় মিনিটের দীর্ঘ অন্ধকারের কারণে দুপুরের আকাশে খালি চোখে বিভিন্ন উজ্জ্বল তারা ও গ্রহ স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আগস্ট মাসে লুক্সরের আকাশ মেঘমুক্ত থাকা পর্যবেক্ষণের জন্য দারুণ সুযোগ হলেও মরুভূমির ধুলা ও ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা ক্যামেরা ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

লুক্সরে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে পূর্ণগ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় দেখা যাবে। এই বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের বিপুল চাপ তৈরি হওয়ায় সেখানকার অধিকাংশ হোটেল এরই মধ্যে বুক হয়ে গেছে। এদিকে রাজধানী কায়রোতে সূর্যের প্রায় ৯৪ শতাংশ ঢাকা পড়বে। এই মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণে মিশরের ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড জিওফিজিকস তাদের কোটামিয়া অবজারভেটরির ৫০ টনের টেলিস্কোপ প্রস্তুত রাখাসহ ব্যাপক বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিকল্পনা নিয়েছে।

সূত্র: সিএনএন


সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টের পারফরম্যান্স জানাবে গুগল সার্চ কনসোল

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ২০:১৪:৩০
সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টের পারফরম্যান্স জানাবে গুগল সার্চ কনসোল
ছবি : সংগৃহীত

ওয়েবসাইটের পাশাপাশি এখন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কনটেন্ট গুগল সার্চে কেমন পারফর্ম করছে, তা সরাসরি জানা যাবে গুগল সার্চ কনসোল (Google Search Console) থেকে। সার্চ কনসোলে যুক্ত হওয়া নতুন ‘প্ল্যাটফর্ম প্রোপার্টিজ’ (Platform Properties) ফিচারের মাধ্যমে এই ডেটা ট্র্যাক করার সুযোগ মিলবে।

নতুন এই সুবিধার আওতায় ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং এক্স (সাবেক টুইটার)–এই চারটি প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের চ্যানেল বা অ্যাকাউন্ট সার্চ কনসোলে আলাদা প্রোপার্টি হিসেবে যুক্ত করা যাবে। এর ফলে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা ভিডিও গুগল সার্চে কতবার প্রদর্শিত হয়েছে (ইমপ্রেশন), কতজন ব্যবহারকারী সেখানে ক্লিক করেছেন এবং ঠিক কোন সার্চ কোয়েরির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কনটেন্টটি খুঁজে পেয়েছেন—তার সুনির্দিষ্ট মেট্রিকস জানা সম্ভব হবে।

গুগল ২০২৬ সালের ৭ জুলাই এই ফিচারটির প্রাথমিক ঘোষণা দেওয়ার পর ২৯ জুলাই এটি বিশ্বব্যাপী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও মিডিয়া আউটলেটগুলোর জন্য উন্মুক্ত করে। এর ফলে সোশ্যাল কনটেন্টের ওপর গুগলের সার্চ ট্রাফিক এবং ভিজিবিলিটি আরও নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করার সুবিধা তৈরি হলো।

/আশিক


বদলে যাচ্ছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম: আসছে একগুচ্ছ বড় পরিবর্তন

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৯:৪৫:১৯
বদলে যাচ্ছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম: আসছে একগুচ্ছ বড় পরিবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা মামলা এবার জুরি ট্রায়ালের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক ইভন গনজালেস রজার্সের এজলাসে এই ঐতিহাসিক মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হতে চলেছে। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের শিশু সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে দায়েরকৃত এ মামলায় বাদীপক্ষ মেটার বিরুদ্ধে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি জরিমানা দাবি করেছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর সামগ্রিক পরিচালনা পদ্ধতিতে আমূল সংস্কার আনার দাবি জানানো হয়েছে।

মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম ও ফিচারগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা অপ্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণদের দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে আটকে রেখে মারাত্মক আসক্তি তৈরি করে। অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে প্ল্যাটফর্মগুলোতে লাইক গণনা ব্যবস্থা বাতিল, ইনফিনিট স্ক্রোল বন্ধ, ভিডিওর অটো-প্লেব্যাক অপসারণ, অবাস্তব ইমেজ ফিল্টার নিষিদ্ধ, একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা বন্ধ এবং নির্ধারিত সময় পর মুছে যাওয়া ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজের মতো সুবিধা বাতিলের দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মেটা কর্তৃপক্ষ অবশ্য বরাবরই এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে আসছে। তাদের দাবি, তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক সুরক্ষায় তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং আদালতে নিজস্ব অবস্থান দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করবে।

এর আগে সম্প্রতি নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত মেটাকে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করার পাশাপাশি জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর প্রতিষ্ঠান হিসেবেও অভিহিত করেছিল। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ৩০টি অঙ্গরাজ্যের এই সমন্বিত মামলায় মেটা হেরে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পরিচালনার কাঠামোয় বড় ধরনের স্থায়ী পরিবর্তন আসবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: