চীনের দেওয়া সহায়তা হাইজ্যাক করা হয়েছে! চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জামায়াত আমিরের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১২:১৯:৫৩
চীনের দেওয়া সহায়তা হাইজ্যাক করা হয়েছে! চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জামায়াত আমিরের
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, বিরোধী দল হিসেবে জনগণের কল্যাণে কাজ করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে তাঁর দল। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় দুস্থ ও অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে 'ঈদ উপহার' হিসেবে ফুড প্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বৈদেশিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “দেশের ঘাড়ে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ চাপিয়ে দেওয়া হলে আমরা তা বরদাশত করব না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অতীতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য চীনের দেওয়া সহায়তাগুলো ‘হাইজ্যাক’ বা আত্মসাৎ করা হয়েছিল। তবে আগামীতে চীন বা অন্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সহায়তা যেন সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে জামায়াত আমির জানান, দেশের মানুষের প্রয়োজনে এবং কৃষকদের স্বার্থে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর দল যেকোনো ধরনের সাহসী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দল কেবল রাজপথেই নয়, বরং সামাজিক সেবামূলক কাজের মাধ্যমেও পাশে থাকবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।

/আশিক


সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১৫:০৮:৫৭
সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
জাতীয় সংসদের নেতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে বক্তব্য রাখছেন।

জাতীয় সংসদের নেতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে একটি দীর্ঘ, আবেগঘন ও নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি গণতন্ত্র, শহীদদের আত্মত্যাগ, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি সংকট, নারী উন্নয়ন, সংসদীয় সহযোগিতা, অর্থনীতি, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাঠকদের সুবিধার্থে বক্তব্যটি ভাষাগতভাবে পরিমার্জিত করে সাজিয়ে হুবহু উপস্থাপন করা হলো।

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।

প্রথমেই আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আজ আমাদেরকে এই তৌফিক দিয়েছেন যে, আমরা একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনের ভিত্তিতে এই জাতীয় সংসদে বসতে পেরেছি।

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে প্রায় এক মাস ২৫ দিন ধরে এই সংসদ পরিচালিত হয়েছে। এই সময়জুড়ে আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে আলোচনা করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

মাননীয় স্পিকার,

বক্তব্যের শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদকে। আমি স্মরণ করতে চাই ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। আমি স্মরণ করতে চাই ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে নির্মমভাবে নিহত মানুষদের। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাদের শহীদের মর্যাদা দান করেন। আমি স্মরণ করতে চাই ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এই দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সকল মানুষকে। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একইসঙ্গে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই সেই সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের, যারা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে থেকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও আহত হয়েছেন।

মাননীয় স্পিকার,

আজকের এই সংসদের দিকে সমগ্র বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর যেখানেই একজন বাংলাদেশি আছেন, তারাও এই সংসদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে গভীর প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছেন। এই সংসদের প্রায় প্রতিটি সদস্য তাদের বক্তব্যের শুরুতে বিভিন্ন সময়ের শহীদদের স্মরণ করেছেন। আমরা ভবিষ্যতেও তাদের স্মরণ করব। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধুই কি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেই শহীদদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? অবশ্যই নয়। যারা জীবন দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের একটি স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে, অন্যের স্বাধীনতাকে সম্মান করে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে। তাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ তার যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, মর্যাদার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে।

মাননীয় স্পিকার,

বিরোধীদলীয় নেতা যথার্থভাবেই কৃষকের কথা বলেছেন। আমরাও দেশের বিভিন্ন নির্বাচনে গ্রামে গিয়েছি, কৃষকের কাছে গিয়েছি, কৃষাণীর কাছে গিয়েছি। আমরা জানি আমাদের কৃষকদের বাস্তব অবস্থা কী। আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, কৃষকদের এই সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যেই আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে “কৃষক কার্ড”-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে সরকার গঠন করার পর আমরা দ্রুততার সঙ্গে সেই কাজ শুরু করেছি। আমরা কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছি। শুধু ধানচাষি নয়, মৎস্যচাষি, গবাদিপশুপালকসহ সব ধরনের কৃষকের কাছে আমরা ধীরে ধীরে পৌঁছাতে চাই।

মাননীয় স্পিকার,

বিরোধীদলীয় নেতা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। আমিও চাই না, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা এভাবেই থাকুক। রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন আমাকে বিদেশে থাকতে হয়েছে। ব্রিটেনে থাকাকালে আমি সেখানকার স্কুলগুলো দেখেছি। ছোট ছোট বাচ্চারা সুন্দর পোশাক পরে, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে স্কুলে যাচ্ছে। তখন আমার মনে হতো, আহা, আমার দেশের স্কুলগুলোও যদি এমন হতো! আজ আল্লাহর রহমতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আমরা হাঁটছি। এই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস এবং জুতার ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই, বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু মর্যাদার সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাক।

মাননীয় স্পিকার,

আমি নিজেও এই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছি। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যেও পড়েছিলাম। তাই আমি চাই, আমাদের সন্তানরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করুক।

মাননীয় স্পিকার,

বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও এসেছে। দেশের মানুষ কষ্ট পেয়েছে। আমি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে একমত যে, এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে সমাধান বের করা সম্ভব। সেই কারণেই আমরা যৌথভাবে একটি কমিটি গঠন করেছি। আমি বিশ্বাস করি, আমরা একসঙ্গে বসে এই সমস্যার সমাধান বের করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।

মাননীয় স্পিকার,

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের পিছিয়ে রেখে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি সরকার মেয়েদের শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিল। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে। যেসব মেয়ে ভালো ফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে ইনশাআল্লাহ। শুধু শিক্ষাই নয়, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাও জরুরি। সেই লক্ষ্যেই আমরা “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচি চালু করেছি। এই কার্ডের মাধ্যমে যে অর্থ দেওয়া হবে, সেটিকে আমরা ব্যয় নয়; বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। কারণ, এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

মাননীয় স্পিকার,

বিরোধীদলীয় নেতা তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছেন। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে বিষয়গুলো দেখার নির্দেশনা দিয়েছি। চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটার পরও আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। কারণ, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার।

মাননীয় স্পিকার,

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণে কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে আগেই নির্দেশনা দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য। আমাদের প্রথম দায়িত্ব জনগণের পাশে দাঁড়ানো। এই কারণেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর খাল খনন কর্মসূচি আমরা আবারও শুরু করেছি। এই কর্মসূচি শুধু সেচের জন্য নয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যদি আমরা কাজ শুরু করি, এর সুফল পেতে হয়তো ২০ বছর সময় লাগবে। কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই কাজ শুরু করতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

আমরা শিক্ষা খাতে বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করেছি। স্বাস্থ্য খাতেও জিডিপির একটি বড় অংশ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এক। আমাদের উদ্দেশ্য এক। আমাদের গন্তব্য এক। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষ। আমাদের উদ্দেশ্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আমাদের গন্তব্য একটি আত্মনির্ভরশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ।

মাননীয় স্পিকার,

গণতান্ত্রিক সংসদে মতভেদ থাকবে। “এগ্রি টু ডিসএগ্রি” গণতন্ত্রের স্বীকৃত নীতি। যে বিষয়গুলোতে মতভেদ আছে, আমরা বিরোধী দলের সঙ্গে বসব, আলোচনা করব এবং দেশের স্বার্থে সমাধান বের করব। আমি আবারও পরিষ্কার করে বলতে চাই, ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে বিরোধী দলকে দেওয়া আমাদের প্রস্তাব এখনো বহাল আছে। আমরা চাই, এই সংসদ সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হোক।

মাননীয় স্পিকার,

বাংলাদেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে তাদের সমস্যার সমাধান বেশি চায়। একজন বেকার যুবক চাকরি চায়। একজন মা তার অসুস্থ সন্তানের জন্য ওষুধ চায়। একজন কৃষক তার ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষতিপূরণ চায়। শুধু ঐতিহাসিক বিতর্ক দিয়ে তাদের কষ্ট দূর হবে না।

মাননীয় স্পিকার,

এই চেয়ারে বসে আমি প্রতিনিয়ত অনুভব করি, এটি আরামের চেয়ার নয়। এটি দায়িত্বের চেয়ার। এই চেয়ার আমাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়:

“You have to take the right decision, not the popular decision.”

আমাদের পপুলার সিদ্ধান্ত নয়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

আগামী অধিবেশনে আমরা আলোচনা করতে চাই, কীভাবে দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যায়, কীভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়, কীভাবে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেবা নিশ্চিত করা যায়। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকর সংসদ নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। সুতরাং আমরা বিতর্ক করব, আলোচনা করব, কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। আপনি ব্যর্থ হলে আমি ব্যর্থ। আমি ব্যর্থ হলে আপনি ব্যর্থ। আর আমরা ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে। আমরা কেউই ব্যর্থ বাংলাদেশ দেখতে চাই না। কারণ, এই সংসদ দাঁড়িয়ে আছে হাজারো শহীদের রক্তের ওপর।

মাননীয় স্পিকার,

আমি আবারও পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা ও সহযোগিতার জন্য সরকার সবসময় প্রস্তুত। আমরা একসঙ্গে এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

পরিশেষে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপনাকে, মাননীয় ডেপুটি স্পিকারকে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের, বিরোধীদলীয় নেতা ও সদস্যদের, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, চিকিৎসক, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, গণপূর্ত, বিদ্যুৎ বিভাগ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে।

আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর তারা দেশকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সবশেষে আমি সকল সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি:

আসুন, আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি।দেশ ও জনগণের প্রত্যাশার সর্বোচ্চ সম্মান করি।কারণ, দেশ ও জনগণ থাকলেই আমরা আছি।

সবচেয়ে আগে বাংলাদেশ।সবচেয়ে আগে দেশের জনগণ।সবচেয়ে আগে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।

ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।

আসসালামু আলাইকুম।"


সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে জামায়াত আমিরের আবেগঘন বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১৪:৩৮:৪৪
সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে জামায়াত আমিরের আবেগঘন বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডাঃ শফিকুল ইসলাম।

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, ডাঃ শফিকুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে একটি দীর্ঘ, আবেগঘন ও আলোচিত বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, চাঁদাবাজি, পররাষ্ট্রনীতি, বিচারহীনতা, সামাজিক অবক্ষয় এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। পাঠকদের সুবিধার্থে বক্তব্যটি ভাষাগতভাবে পরিমার্জিত করে সাজিয়ে হুবহু উপস্থাপন করা হলো।

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিহিল কারীম, ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া আহলি বাইতিহি আজমাঈন।

মাননীয় স্পিকার,

১২ মার্চ শুরু হওয়া এই সংসদ অধিবেশন নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক অধিবেশন। আমি আবারও আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এই অধিবেশনের প্রাণসত্তা হিসেবে, এই অধিবেশনের চেয়ার ও স্পিকার হিসেবে আপনি অত্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আজকের এই গ্যালারির দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বাংলাদেশ। শুধু দেশের ভেতরে থাকা মানুষ নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সকল বাংলাদেশিও আজ এই সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা এটিকে তাদের প্রত্যাশার একটি ঠিকানা হিসেবে দেখতে চায়।

দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই অধিবেশনে আমরা সবাই বিপুল প্রত্যাশা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছি। সরকারি দল ও বিরোধী দলসহ সবাই ধৈর্য ও আগ্রহের সঙ্গে এই অধিবেশনকে সফল করার চেষ্টা করেছেন। এজন্য আমি সবাইকে অভিনন্দন জানাই। একইসঙ্গে অত্যন্ত খোলামেলাভাবে সবাই সবার মত প্রকাশের ন্যূনতম সুযোগ পেয়েছেন। এজন্য আমি মহান আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করি।

মাননীয় স্পিকার,

আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আমার সম্মানিত কৃষক পিতাকে। তিনি ছিলেন গ্রামের একেবারেই সাধারণ একজন কৃষক। আমি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাইনি। আমি এমন একটি পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেছি, যেখানে মানুষের অভুক্ত থাকার সংগ্রাম আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমি দেখেছি, চৈত্র মাস আর কার্তিক মাস এলে মানুষের মধ্যে কী ভয়াবহ হাহাকার নেমে আসত। তখন মানুষ অগ্রিম তাদের শ্রম বিক্রি করে দিত। ধান কাটার মৌসুমে একজন মানুষ যদি ১২ টাকা মজুরিতে কাজ করতেন, তাহলে পেটের ক্ষুধার কারণে তিনি পাঁচ টাকায়ও অগ্রিম শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হতেন।

আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশ হাঁটি হাঁটি পা পা করে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ করেছে। তবে এটাও সত্য, যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তারা যদি সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করতেন, তাহলে ৫৪ বছরের এই দেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যেত। ক্ষমতায় গেলে অনেকেই ফেরেশতার মতো আচরণ করেন। অন্যের দোষ, অন্যের দুর্নীতি খুব সহজে দেখতে পান, কিন্তু নিজের দুর্বলতা দেখতে পান না।একজন মেহমানের গল্প মনে পড়ে গেল। তিনি খেতে বসেছেন কিন্তু হাত দিচ্ছেন না। গৃহকর্তা জিজ্ঞেস করলেন, “খাচ্ছেন না কেন?” তিনি বললেন, “কী দিয়ে খাব? শুধু ভাত দিয়েছেন।” গৃহকর্তা বললেন, “আপনি তো একটু আগে বললেন, ‘এই ধুর!’ কাকে বললেন?” তিনি বললেন, “ওইদিকে একটা পবিত্র ঘরে কুকুর ঢুকছিল, আমি এখান থেকে তাড়িয়ে দিলাম।” তখন বলা হলো, “বাহ! আপনি চার হাজার মাইল দূরের কুকুর দেখতে পেলেন, কিন্তু ভাতের নিচের তরকারি দেখতে পেলেন না!” আমাদের অবস্থাও অনেক সময় এমন হয়। আমরা অনেক দূরের সমস্যা দেখি, কিন্তু নিজের দুর্বলতা দেখি না। অন্যের দোষের তালিকা তৈরি করা খুব সহজ। কিন্তু মানুষ তখনই মহৎ হয়, যখন সে নিজের ভুল খুঁজে বেড়ায়।

মাননীয় স্পিকার,

আমি মাঝে মাঝে কনফিউশনে পড়ে যাই। আমি কি সত্যিই মহান জাতীয় সংসদে বসে আছি, নাকি স্বপ্ন দেখছি? ১২ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই অধিবেশনের অধিকাংশ সময়জুড়ে ইতিহাস চর্চা হয়েছে। ইতিহাস চর্চা খারাপ কিছু নয়। চলতে হলে অতীত জানতে হয়, অতীতকে ধারণ করতে হয় এবং অতীতের ভুল থেকেও শিক্ষা নিতে হয়। কিন্তু মানুষ আমাদের এখানে পাঠিয়েছে শুধু ইতিহাস বলার জন্য নয়।

আমরা যখন নির্বাচনের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছি, তখন শিশু থেকে বৃদ্ধ, শ্রমিক থেকে কৃষক, ছাত্র থেকে শিক্ষক, সবার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। একটি শিশু যেন আমাদের দিকে তাকিয়ে নীরবে প্রশ্ন করেছে, “আমি কি নিরাপদে স্কুলে যেতে পারব? নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারব? আমি কি আমার মেধা বিকাশের সুযোগ পাব?”একজন শ্রমিক বলেছেন, “আমি আমার শ্রমের ন্যায্য মজুরি পাই না। মর্যাদা তো স্বপ্নের বিষয়।”ছাত্ররা প্রশ্ন করেছে, “আমরা কি অস্ত্রের ঝনঝনানি মুক্ত একটি পবিত্র শিক্ষাঙ্গন পাব, যেখানে শিক্ষক হবেন পিতার মতো, সহপাঠীরা ভাই-বোনের মতো?”চা শ্রমিকরা বলেছেন, “আমরা কি ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা পাব?”জেলেরা বলেছেন, “জল, জাল যার, জলা তার’ শুধু স্লোগান হয়েই রয়ে গেছে।”কৃষকরা বলেছেন, “ফসল ফলিয়েও উৎপাদন খরচ তুলতে পারি না। সার, বীজ, কীটনাশকের দাম আকাশচুম্বী। মাঠে ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া পণ্য রাজধানীতে গিয়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়।”

মাননীয় স্পিকার,

তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ আমি কাছ থেকে দেখেছি। ওই অঞ্চলের মানুষ যেন জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছে। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট। প্রতিবছর হাজার হাজার ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তিস্তা মহাপরিকল্পনার গল্প শুনতে শুনতে মানুষ ক্লান্ত। তারা এখন আর গল্প শুনতে চায় না, তারা দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায়। আমরা নির্বাচনের সময় বলেছিলাম, সুযোগ পেলে তিস্তা নদীতে প্রথম কোদালটি আমরাই চালাব। আমি আজও সেই কথায় অটল আছি। কারো চোখ রাঙানিকে আমরা ভয় করব না। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত সরকারের পাশে থাকবে, যদি সরকার সাহসী পদক্ষেপ নেয়।

মাননীয় স্পিকার,

আমি যে আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে এসেছি, সেখানে নানা অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। ইব্রাহিমপুর বাজার এলাকায় ভয়াবহ যানজট নিরসনে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ১০০ ফুট রাস্তা বাস্তবায়ন জরুরি। উত্তর কাফরুলের সরু রাস্তা প্রশস্ত করা প্রয়োজন। বহু রাস্তা বছরের পর বছর ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। ইব্রাহিমপুর ও উত্তর কাফরলের রাস্তাগুলোর মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। এগুলোর কারণে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত এগুলো সরানো দরকার। মিরপুর-১০ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে বেগুনবাড়ি খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খালের গভীরতা বৃদ্ধি জরুরি। মণিপুর-শেওড়াপাড়ার পুরনো সরু স্যুয়ারেজ পাইপ পরিবর্তন করতে হবে। পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মানুষ শুধু বলছে, “আমাদের বাঁচার জন্য এক ফোঁটা পানি দিন।”

মাননীয় স্পিকার,

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষ আতঙ্কে আছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না। সে যদি আমার দলেরও হয়, তার হাতেও হ্যান্ডকাফ পড়তে হবে। এই সংসদ থেকে আমরা শপথ নিই, যেকোনো মূল্যে চাঁদাবাজদের নির্মূল করব ইনশাআল্লাহ। আমরা আর দেখতে চাই না, কোনো শিক্ষার্থী দা কিংবা গুলির আঘাতে প্রাণ হারাচ্ছে। আমরা চাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সন্ত্রাসমুক্ত হোক। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা অত্যন্ত করুণ। হাজার শয্যার হাসপাতালে ৩৭০০ রোগী ভর্তি থাকে। এটি চলতে পারে না।

মাননীয় স্পিকার,

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান রেখেই বলছি, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়; মেধা ও কমিটমেন্টের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। আমরা একটি মেরিটোক্রেটিক রাষ্ট্র দেখতে চাই। জ্বালানি সংকট দেশের মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। তবে আমরা স্বীকার করি, এটি শুধু সরকারের তৈরি সংকট নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। কিন্তু মানুষ আশ্বস্ত হয়েছে যখন দেখেছে সরকারি দল ও বিরোধী দল একসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও আমরা স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান চাই। আমরা সবসময় বলে এসেছি, “সবার আগে বাংলাদেশ।” আমাদের সীমাহীন বন্ধুর প্রয়োজন আছে, কিন্তু কোনো প্রভুর প্রয়োজন নেই।

মাননীয় স্পিকার,

ফ্যাসিস্ট আমলে যত খুন, গুম, নির্যাতন, ধর্ষণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, তার প্রতিটি ঘটনার বিচার হতে হবে। জাতি এখন বিচারের অঙ্গনে একটি সবুজ পতাকা দেখতে চায়। ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হলে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। “লেট আস এগ্রি টু ডিসএগ্রি।” আমি আমার মত দেব, আপনি আপনার মত দেবেন। আমরা একে অপরকে সম্মান করব।আমরা প্রথম দিনই বলেছি, ভালো কাজে সহযোগিতা করব, ভুল দেখলে প্রতিবাদ করব।

মাননীয় স্পিকার,

ইতিহাসকে মনে রাখা ভালো, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া ভালো। কিন্তু ইতিহাস নিয়েই পড়ে থাকলে আমরা নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারব না। আমার কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ভালো কিছু বলে থাকলে আল্লাহ যেন আগে আমাকে তা আমল করার তৌফিক দেন।

আরেকটি কথা না বললেই নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে নিয়ে যারা অশ্লীল আচরণ করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমারও দুইটি মেয়ে সন্তান আছে। তাঁর মেয়ের অসম্মান মানে আমাদের মেয়েদের অসম্মান। এই নোংরা ধারা বন্ধ হওয়া উচিত। প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। আমরা ২০ কোটি মানুষের নিরাপত্তা চাই।

সবশেষে, এই অধিবেশন সফল করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মিডিয়ার কর্মী, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমি মাননীয় স্পিকারের কাছে অনুরোধ করব, ভালোবাসা ও সম্মানের নিদর্শন হিসেবে তাদের এক মাসের সমপরিমাণ বেতনের ইনসেনটিভ দেওয়া হোক।

মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ।আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।


সংসদে নাহিদ ইসলামের জ্বালাময়ী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১১:৩৮:০২
সংসদে নাহিদ ইসলামের জ্বালাময়ী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

এনসিপি প্রধান ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ জনাব নাহিদ ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে এক আলোচিত ও জ্বালাময়ী বক্তব্য প্রদান করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি, রাষ্ট্রপতি ইস্যু, ১৯৭২ সালের সংবিধান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, কৃষক সংকট ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ সমসাময়িক নানা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন।

পাঠকদের সুবিধার্থে তার পুরো বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ।

মাননীয় স্পিকার, বক্তব্য ভেবেছিলাম শুরু করব অন্য বিষয় নিয়ে। কিন্তু আজকের অধিবেশনের দিনের আলোচনায় আমাদেরকে আরো বেশি অবাক করলেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী। ফলে অর্থ সেক্টরের কিছু কথা, কিছু বক্তব্য দিয়ে আলোচনা শুরু করছি।

আমরা যখনই ব্যাংকিং খাত, অর্থ সেক্টরের আর্থিক খাতের কথা আসে, মাননীয় অর্থমন্ত্রী একটা বাক্যই বারবার বলেন যে বিএনপির সময়ে এরকম কোনো রেকর্ড নাই, যে আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। উনি কিছুক্ষণ আগে অস্বীকার করলেন যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটা রাজনৈতিক নিয়োগ। তাদের দলের নির্বাচন কমিটির সদস্য। এবং তিনি এটা অস্বীকার করলেন।

আমি মাননীয় স্পিকার টিআইবির একটা তথ্য আপনাদেরকে দিচ্ছি। বর্তমান সরকারি দলের যারা নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের ৫৯.৪১ শতাংশ ঋণগ্রস্ত। যার বেশিরভাগ হচ্ছে সরকারি দলের সংসদ সদস্য। ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। এদের অধিকাংশই ঋণ খেলাপি ছিলেন নির্বাচনের আগে। কিছু টাকা ঋণ দিয়ে পুনঃতফসিল করে নিয়েছেন।

এবং বর্তমান যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, তার স্পেশালিটি কী? তার স্পেশালিটি হচ্ছে এই ঋণ পুনঃতফসিল করা। এটাতে তিনি এক্সপার্ট। ফলে তাকে বাংলাদেশের বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কেন দেওয়া হয়েছে, এটা খুব পরিষ্কার মাননীয় স্পিকার। এই যে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ, সেই ঋণগুলো যাতে পুনঃতফসিল করতে পারে, সেই সুযোগ-সুবিধাটা করে দেওয়ার জন্যই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দেওয়া হয়েছে। ফলে জাতির সামনে এই জিনিসগুলো পরিষ্কার হয়েছে। এখন সামনের আর্থিক খাতে আরো আরো নিয়োগ তারা কী বিবেচনায় দিবেন, এজন্য আমরা তাদের উপর আর আস্থা রাখতে পারছি না।

মাননীয় স্পিকার,

রাষ্ট্রপতির উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। এবং সেই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, যেই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন, তাকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এইখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার। প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কিছু কুকীর্তির কথা মাননীয় স্পিকার হাউজের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর হচ্ছে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনশিট দেওয়া। তিন নম্বর, ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেওয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনো মেনে নিচ্ছে, মাননীয় স্পিকার। আরেকটি ঘটনা বলি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্যাঙ্গারু আদালতের নির্দেশে এই শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের “জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১” করা হয়েছিল। এই প্রতিবেদন অনুসারে বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে দায়ী করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে কয়েক হাজার হিন্দুকে তারা হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ এই রিপোর্ট দেশে-বিদেশে ফেরি করে নিজেদের ক্ষমতায় থাকাটাকে পাকাপোক্ত করেছিল।

মাননীয় স্পিকার,

এই রাষ্ট্রপতি চুপ্পু এস আলমের হাতে ইসলামী ব্যাংক তুলে দেওয়ার কারিগর। দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছিল। এবং জুলাই গণহত্যার সময় তার ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা, সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। একটা আলোচনা কয়েকবার এসেছে যে রাষ্ট্রপতির অধীনে কেন শপথ নিয়েছি। এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কথাই বলা হয়েছে, কারণ আমি এখানে শপথ নিয়েছিলাম। তো মাননীয় স্পিকার, সেই সময়ের প্রেক্ষাপট আর এখনকার প্রেক্ষাপট কি এক? জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে, ৫ই আগস্টের পরে, আমাদের সামনে দুইটা অপশন ছিল। আমরা বলেছিলাম জাতীয় সরকার করতে হবে। সেই জাতীয় সরকারের প্রস্তাব বিএনপি নাকচ করে দিয়েছে। আমাদের সামনে আরেকটা অপশন ছিল ক্ষমতা আর্মির হাতে তুলে দেওয়া। যদি আমরা সেই দিকে আগাতাম, আজকে তারা এখানে বসতে পারতেন কিনা, সেটা সন্দেহ আছে। দেশের স্বার্থে, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা সেই সময় সরকারে গিয়েছিলাম। আমরা শপথ নিয়েছিলাম। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুব স্পষ্টভাবে ২৪ সালে এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। সেই সময় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলে রাষ্ট্রপতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বিএনপি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর সাহেব নিজেই কথা বলেছিলেন। এখন তো একটা নির্বাচিত সরকার, মাননীয় স্পিকার। এখন তো চাইলেই বিএনপি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি বিএনপিতে সেই ধরনের যোগ্য, আস্থাভাজন ব্যক্তি নিশ্চয়ই রয়েছে। এবং সরকার দলের সদস্যরা অনেকে গৌরবের সাথে বলেছেন যে যেই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিরোধিতা করেছেন, সেই রাষ্ট্রপতি এখন জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করছে।

মাননীয় স্পিকার, গাধাকে দিয়ে আপনি হাল চাষ করিয়ে এটার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নাই। এটা আপনাদের দেউলিয়া সরকারের দেউলিয়াত্ব, যে সরকার এখনো রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারছে না।

মাননীয় স্পিকার,

এই অধিবেশনের পুরোটা সময় জুড়ে আমরা সংস্কার, গণভোট, জুলাই সনদ, ৭২ সংবিধান নিয়ে অনেক কথা বলেছি। এবং একটা বিষয় আমার কাছে খুবই অদ্ভুত লেগেছে। কিছু কিছু মাননীয় সংসদ সদস্য ৭২-এর সংবিধানকে ৭১-এর সাথে মিলিয়েছেন। আমার জানা নেই তারা কোন বিবেচনা থেকে এটি মিলিয়েছেন। এটা তো সবসময় আওয়ামী লীগ মিলিয়েছে। তারা ৭২-এর সংবিধানকে ৭১-এর ফসল হিসেবে, ৭১-এর চেতনার সাথে মিলিয়েছে। ৭২-এর মূলনীতিকে ৭১-এর মূলনীতি বলে প্রচার করেছে। আমরা তো সেটার বিরোধিতা করেছি সবসময়। বিএনপির বহু নেতাও এটার বিরোধিতা করেছে। ৭২-এর সংবিধানের সমালোচনা কিন্তু ১৯৭২ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল। গত ১৬ বছর এই সমালোচনা আরো তৈরি হয়েছে। ৭২ সংবিধানের সমালোচনা মোটাদাগে তিনটি।

প্রথমত, এই সংবিধান স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রণয়ন করে নাই। যারা ৭০-এর নির্বাচনে আইয়ুব খানের এলএফও-এর অধীনে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনা করার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল, তারাই এই সংবিধান রচনা করেছিল।

দ্বিতীয়ত, এই ৭২ সংবিধান ইনহেরেন্টলি একটা আনডেমোক্রেটিক কনস্টিটিউশন। একজন ব্যক্তির হাতে সকল ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছিল। শেখ মুজিবকে সামনে রেখে এই সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল। সংসদ, নির্বাহী বিভাগ, এমনকি বিচার বিভাগের ক্ষমতাও নানা কায়দায় তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ফলে স্বৈরতন্ত্রের বীজ কিন্তু সেই ৭২-এর সংবিধান থেকেই শুরু হয়েছিল। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই সংবিধান মুজিববাদী আদর্শ দ্বারা রচিত হয়েছিল।

৭১-এর আদর্শ কিন্তু চার নীতি ছিল না। ৭১-এর আদর্শ ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার। ৭২-এর সংবিধানে এসে বলা হলো জাতীয়তাবাদ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র। এটার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। আজকে বিএনপি তার ফান্ডামেন্টাল জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে কিনা, সেটাই প্রশ্ন। শুধু জামায়াতে ইসলামী ৭২-এর বিরোধিতা করেছে বলে কি বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের পজিশনে চলে গেছে? ৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছেন বদরুদ্দিন উমর, মাওলানা ভাসানী, কমরেড মোজাফফর আহমেদ, শত শত মুক্তিযোদ্ধা। ফলে এই ৭২-এর সংবিধান বাতিল করার একটা সুযোগ আমাদের এসেছিল ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। জিয়াউর রহমানের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমরা সেই সময়ে সেই অপরচুনিটি মিস করেছি। আমরা একটা গণপরিষদ দিয়ে নতুন সংবিধান করতে পারি নাই। এবং সেই অপরচুনিটি আমরা ২০২৪ সালেও মিস করেছি।

৫ই আগস্টের পরে যখন সংস্কারের আলোচনা আসলো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমরা বলেছিলাম আমরা নতুন সংবিধান চাই, সংবিধান পুনর্লিখন চাই। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। ফলে ৫ই আগস্টের পর থেকে রাস্তা দুটি আলাদা হয়ে গিয়েছিল। তখন আমরা একটা মধ্যপন্থায় আসলাম, যে আমরা সংস্কারে আসি। সেই জায়গা থেকে সংস্কার কমিশন, ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হলো। এখন সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের কথা গণভোটে বলা হলো। এখন বিএনপি সেই জায়গা থেকেও সরে গিয়েছে। এখন বিএনপি যদি সেই জায়গা থেকে সরে যায়, আমাদেরকে পূর্বের জায়গায় ফেরত যেতে হবে। সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি আমাদেরকেও জানাতে হবে। জুলাই সনদ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমরা যেদিন জাতীয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর হয়েছিল, সেদিন সেই অনুষ্ঠানে যাইনি। পরে আমরা সেখানে আমাদের কমেন্ট দিয়ে এসেছিলাম। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এত কষ্টের ফসলটাকে “নোট অব ডিসেন্ট” দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে।

যেদিন জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হয়, সেদিন সেই সনদের মেজর সংস্কারগুলোর পাশেই একটা নোট লেখা হয়েছে যে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচন ইশতেহারে উল্লেখ করলে এবং জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। তাহলে যেই দল নির্বাচনে জয়ী হবে, তারা তাদের ইশতেহার অনুযায়ী সবকিছু করবে। এটার জন্য ঐকমত্যের কোনো প্রয়োজন হয় না। আপনি যদি নির্বাচনে জিতে আপনার ইশতেহারই বাস্তবায়ন করেন, তাহলে আপনার সাথে আমার কিসের ঐকমত্য? এবং সেই নোটগুলো কিভাবে লেখানো হয়েছে, কিভাবে চাপ প্রয়োগ করে ঐকমত্য কমিশনকে বাধ্য করা হয়েছে, সেটা এখন বলার সময় এসেছে। ফলে জুলাই জাতীয় সনদকে আমরা সেই সময় এক্সেপ্ট করতে পারি নাই। এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষাকে ধার করে আমি বলতে চাই, জুলাই জাতীয় সনদকে বিএনপি এক অন্তহীন প্রতারণার দলিলে পরিণত করেছে।

৭২-এর সংবিধানকে আওয়ামী লীগ দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছিল, আর জুলাই জাতীয় সনদকে বিএনপি দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছে। এরপরে আসলো গণভোট। গণভোটের আদেশ নিয়ে সমালোচনা আছে। আমরাও বলেছি রাষ্ট্রপতি এই ধরনের অর্ডার দিতে পারে কিনা। কিন্তু সবাই মিলে তো এই গণভোটে অংশগ্রহণ করলাম। বিএনপির বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন নিজেও সংস্কারের পক্ষে প্রচারণা করেছেন। তাহলে নির্বাচনের আগেই এটা পরিষ্কার করা উচিত ছিল যে তারা এই গণভোট মানে না। ফলে জুলাই গণভোট হচ্ছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং গণরায়।

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই সেই সময় বলেছিলেন, গণরায় হচ্ছে সার্বভৌম ক্ষমতা। জনগণের রায় সবাইকে মেনে নিতে হবে। ফলে আমরা মনে করি গণভোট অনুসারে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ অতি দ্রুত গঠন করা উচিত। আমরা তো অনেকদূর সরে এসেছি। নতুন সংবিধানের জায়গা থেকে সরে আসতে আসতে এখন খুবই সামান্য কিছু দাবি এসেছে। একটা উচ্চকক্ষ হবে ভোটের অনুপাতে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে। নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এই দাবিগুলো আমরা আসমান থেকে নিয়ে আসিনি। গত ১৬ বছর ধরে এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির ৩১ দফাতেও ছিল।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে এখনো উদ্বেগ আছে। আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া অনেক বিচারক এখনো রয়েছেন। কিন্তু তারপরও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল করেছেন। বলছেন ভালো আইন আনবেন। ভালো আইন যতক্ষণ না আনছেন, ততক্ষণ সমালোচনা সহ্য করতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

এই অধিবেশনে আরেকটি বিষয় বারবার এসেছে, সেটা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান। মুক্তিযুদ্ধকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা মনে করি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নতুন রূপ তৈরি হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের নবায়ন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই। আমরা বারবার বলেছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি ধারাবাহিকতা। মুক্তিযুদ্ধে আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদার কথা বলেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বলেছি বৈষম্যবিরোধী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের কথা। কোথায় পার্থক্য?

কোন ঘটনা বড়, কোন ঘটনা ছোট—এটা অহেতুক তর্ক। আমরা কেউ বলি নাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে বড়। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ফাউন্ডেশন। এটার ব্যাপারে আমরা আনকমপ্রমাইজেবল। কিন্তু বারবার এই তুলনা টেনে এনে মুক্তিযুদ্ধকেও ছোট করা হচ্ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেও ছোট করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধন করা হলো। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা থেকে মুজিব বাহিনীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই মুজিব বাহিনীর মাধ্যমে হাজার হাজার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল। মুজিব বাহিনীর রোল কী ছিল, সেটা এখানে অনেকেই জানেন। তারা পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নাই। বরং দেশে ঢুকে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য পক্ষগুলোকে হত্যা করেছিল। ফলে মুজিব বাহিনী কোনো মুক্তিযোদ্ধা না।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের রাজনীতি গত ৫০ বছর ধরে হয়েছে। আমরা এখনো এই সমাধান করতে পারিনি কেন? জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছর পরেও সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ আর বিপক্ষ বলে ভাগ থাকবে, এটা আমরা প্রত্যাশা করি না। ইতিহাসের এই বিতর্ক আমাদের সমাধান করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো দেশের ষড়যন্ত্র না, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের নাম করে দেশে যে লুটপাট ও ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে, সেটাও ভুলে যাওয়া যাবে না।

মাননীয় স্পিকার,

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সকলের অংশগ্রহণে হয়েছিল। বিএনপি অবশ্যই ছিল। আমাদের সাথেই ছিল। তবে একটা জায়গায় ফারাক আছে। এই গণঅভ্যুত্থান কোনো দলীয় আন্দোলন নয়। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে এই গণঅভ্যুত্থানের পার্থক্য রয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নেতৃত্বে নয়, সামনে-পিছনে ছিল। সামনে ছিল সাধারণ জনগণ, ছাত্ররা। ফলে সেই হিসেবেই এই গণঅভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। আমাকে ডিজিএফআই, ডিবি, এসবি—বাংলাদেশের এমন কোনো গোয়েন্দা সংস্থা নাই যারা আমাকে ইন্টারোগেশন করেনি, টর্চার করেনি। একটা কথা বারবার বলানোর চেষ্টা করেছিল, “এই আন্দোলন বিএনপি-জামাতের আন্দোলন, আগুন লাগিয়েছে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা।” শেষ পর্যন্ত আমরা বাধ্য হয়েছি আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিতে। কিন্তু কখনো এই কথা বলিনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আমরা কখনো অস্বীকার করি নাই। কিন্তু এই গণঅভ্যুত্থান কোনো দলীয় আন্দোলন নয়।

এখন যদি বলা হয় “অমুকের নেতৃত্বে এই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে”, তাহলে যারা সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছে, তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমরা একসাথেই করেছিলাম।

আমি দুইটা কোটেশন বলতে চাই। ৭ই আগস্ট নয়াপল্টনের সমাবেশে জনাব তারেক রহমান বলেছিলেন:

“১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের আন্দোলন আর ২০২৪-এর আন্দোলন হলো সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন। এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রতিটি ছাত্র-জনতা আজ থেকে নতুন দিনের মুক্তিযোদ্ধা।”

৬ই আগস্ট বঙ্গভবনে আলোচনা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন:

“ছাত্রজনতা বুকের রক্ত দিয়ে আমাদের নতুন এক সকাল উপহার দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হলো। এই স্বাধীনতা আমাদের রক্ত দিয়ে রক্ষা করতে হবে।”

আমরাও বলি, রক্ত দিয়ে রক্ষা করতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

আমাকে একটু সময় বাড়িয়ে দিবেন। আমি আশা করব সরকারি দলের কোটা থেকে আরো ১০ মিনিট পাব।

মাননীয় স্পিকার,

আমরা ভারত এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। এই সরকার আসার পরে একটা জিনিস বারবার আসছে, ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন। কিন্তু কোন ভিত্তিতে? ভারত ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশকে করদ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য হেন কোনো চেষ্টা নেই যে করে নাই। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এখনো হচ্ছে। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাচ্ছি না। নতুন করে যেটা হচ্ছে, বিভিন্ন মানুষকে বাংলাদেশি বলে সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে দুই মাসে ৪০০০ মানুষকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে ভারত, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনুযায়ী। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে ৩০ লাখ জীবিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের অধিকাংশ মুসলিম ও মতুয়া সম্প্রদায়ের।

এনআরসি-সিএএ করে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশি বলে বিতাড়িত করা হচ্ছে। গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে ভারত সমর্থন দিয়েছে। এখনো জুলাইয়ের গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও অন্যরা ভারতে আশ্রিত। ফলে এই বিষয়গুলো নিয়ে সরকার ভারতের সাথে কী কথা বলেছে, সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা ভারতের সাথে মর্যাদা ও সাম্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই।

মাননীয় স্পিকার,

দুর্নীতি নিয়ে অনেক কথা হয়। আমি কিছু সংখ্যা বলছি: ১৭০০ কোটি টাকা, ৭৬৫ কোটি টাকা, ৬৭৯ কোটি টাকা, ৬২১ কোটি টাকা, ২০১ কোটি টাকা, ১৮২ কোটি টাকা, ৯৭ কোটি টাকা। এগুলো আমাদের সংসদ সদস্যদের ঋণের পরিমাণ। এবার নাম বললাম না। পরের সেশনে নাম ধরেই কথা বলব। এগুলো ফ্যাক্ট।

এখন প্রশ্ন, এই ঋণগুলো কবে জনগণ ফেরত পাবে? গত ১৬ বছরের দুর্নীতির বিচার তারা কিভাবে করবে? আরো ভালো হয় যদি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগগুলোরও স্বচ্ছ তদন্ত হয়। যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের নাম জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা হোক।

মাননীয় স্পিকার,

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কিছু বলি। দুই মাসে বিএনপির হাতে খুন হয়েছে ৩১ জন। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। চাঁদাবাজির খবর এসেছে ৮৩টি। হামলার ঘটনা এসেছে ১৫৪টি। কোনোটিতেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শাহবাগ থানার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ছাত্রদল মারধর করেছে। এখনো মামলা নেয়নি। থানার ভিতরে ঢুকে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর হামলা করা হয়েছে।

মাজার হামলা নিয়েও কিছু বলতে চাই। কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা করে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। আমরা কোনো ধর্মীয় বিতর্কে যাব না। কিন্তু রুল অব ল’ নিয়ে কথা বলব। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।

জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকারের বক্তব্যেও সমন্বয় নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন জঙ্গিবাদ নেই। আবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলছেন জঙ্গি আছে। তবে একটা জিনিস পরিষ্কার, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। কিন্তু অতীতের মতো “ওয়ার অন টেরর”-এর নামে যেন কোনো নাটক না হয়, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

আমাদের দেশের প্রধান জনগোষ্ঠী কৃষক। সরকার কৃষি কার্ড দিচ্ছে, এজন্য সাধুবাদ জানাই। কিন্তু গত বছরের দামে এবারও ধান কেনা হচ্ছে। অথচ ডিজেল, সার, বীজ, শ্রমিক মজুরি—সবকিছুর খরচ বেড়েছে। ফলে কৃষক লোকসানে পড়ছে। জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রীকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্রিফিং দিতে শুনিনি। আমরা আশা করি সরকার নিয়মিতভাবে জনগণকে জানাবে বিচার কতদূর এগোচ্ছে। শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া সুবিধাগুলো অব্যাহত থাকবে, আরো বাড়বে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল কর্মসংস্থানের দাবিতে। ফলে আমরা আশা করি কর্মসংস্থানের সুরাহা হবে। আর্থিক খাতে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে, বিনিয়োগ আনতে হবে, চাকরিতে স্বজনপ্রীতি বন্ধ করতে হবে। সরকার এখন বলে দিচ্ছে বিরোধী দল কিভাবে কথা বলবে, কিভাবে বিরোধিতা করবে। বিরোধী দল সরকারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বিরোধিতা করবে না।

জনগণ ঠিক করবে বিরোধী দলকে কতটুকু সমর্থন দেবে। আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি, খালেদা জিয়া গ্রেফতার হন। তার পরের দিন আমার বাবা রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হন। আমার মা আমাকে নিয়ে থানায়, কোর্টে, কারাগারে ঘুরেছেন। আমি জানি, বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের একই অভিজ্ঞতা।

সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মনে হয়েছে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকে কাজ করেছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। আমি আমার এলাকা নিয়ে শেষ করব।

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবেশী। ঢাকা-১৭-এর প্রতিবেশী ঢাকা-১১। সংসদে সরকার দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যেমন বৈষম্য, ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১১-এর মধ্যেও একই বৈষম্য। আমি আশা করব এই বৈষম্য দূর হবে। ঢাকা-১১ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম হটস্পট ছিল। রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা এলাকার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার ছাত্ররা ফ্যাসিস্টদের প্রতিহত করেছিল।

আমি হয়তো সমালোচনা করব, ভুলও হতে পারে। কিন্তু আমার এলাকার প্রতি যেন কোনো বৈষম্য না হয়। উন্নয়ন হলেই চলবে। আমার ক্রেডিট লাগবে না।

সবশেষে বলতে চাই, এই প্রথম অধিবেশনে আমি অনেক হতাশ হয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম গিয়ে যেমন হলের সিস্টেম দেখে হতাশ হয়েছিলাম, তেমনি এই সংসদেও হতাশ হয়েছি। সরকারি দলের সদস্যরা যেভাবে স্তুতি করেছে, যেভাবে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদকে বাতিল করেছে, যেভাবে গণভোটকে অস্বীকার করেছে—এগুলো হতাশাজনক।

তবে আমি আশা করি, এই হতাশা দ্রুতই শেষ হবে। আমরা জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।

মাননীয় স্পিকার আপনাকে ধন্যবাদ। এই হাউজের সকলকে ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১৭:২৫:৫১
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অবিলম্বে অপসারণ এবং তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে জাতীয় সংসদে এক বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।

নাহিদ ইসলাম স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, ফ্যাসিবাদের দোসর এবং বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকা বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। ডেপুটি স্পিকার ব‌্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ড এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করা হয়।

নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রপতির পূর্ববর্তী বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু যখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ছিলেন, তখন তাঁকে তিনটি বিশেষ ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম ছিল খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শাস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষ্কৃতি দেওয়া এবং শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো বাতিল করা।

এ সময় তিনি ২০০১ সালের সংখ্যালঘু নির্যাতনের জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বেই ২৬ হাজার বিএনপি নেতাকর্মীকে দায়ী করে একটি সাজানো প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল, যা ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক মহলে ফায়দা লুটেছিল।

নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন যে, এই রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংকের দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসানোর জন্য দায়ী এবং জুলাই গণহত্যার সময় তিনি ফ্যাসিবাদের সরাসরি সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। ছাত্র সমাজ গণঅভ্যুত্থানের পরপরই তাঁর অপসারণ চেয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে তাঁকে টিকিয়ে রাখা হলেও এখন নির্বাচিত সরকারের আমলে কেন তাঁকে পরিবর্তন করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন।

বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে ‘দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ এবং মিথ্যুক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নাহিদ ইসলাম সংসদকে জানান যে, এই গণহত্যার দোসরের বঙ্গভবনে অবস্থান করা বাংলাদেশের জন্য চরম দুর্ভাগ্যের বিষয়। তিনি অবিলম্বে রাষ্ট্রপতিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

/আশিক


মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করি না, ধারণ করি: শামা ওবায়েদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১৭:৫৯:০৬
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করি না, ধারণ করি: শামা ওবায়েদ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে এক বিশেষ প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, সংসদে বর্তমানে যারা রয়েছেন, তারা কেউ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করেন না বরং তা হৃদয়ে ধারণ করেন। তিনি প্রস্তাব করেন যে, সংসদের ভেতরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে তাদের নামের আগে 'বীর মুক্তিযোদ্ধা' শব্দটি ব্যবহার করা উচিত, যাতে নতুন প্রজন্ম তাদের অবদান সম্পর্কে জানতে পারে।

শামা ওবায়েদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সংসদে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলেও অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। সংসদের ভেতরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে এই সম্মানসূচক পদবি ব্যবহার শুরু করলে সংসদের বাইরেও এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষও মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান দিতে উৎসাহিত হবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে ব্যবসা করার মানসিকতা বর্তমান সংসদ সদস্যদের নেই, বরং তারা এই চেতনাকে লালন করেই দেশ গঠনে কাজ করছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। স্পিকার বলেন, ইতিমধ্যে সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংজ্ঞায় কেবল যারা সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন তাদেরই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে এবং বাকিরা 'মুক্তিযোদ্ধা সহায়ক' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তিনি জানান যে, সংসদে বর্তমানে কতজন সদস্য সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন তা তাঁর সঠিক জানা নেই। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, যদি নিশ্চিত হওয়া যায় কোনো সদস্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞার মধ্যে পড়েন, তবে তাকে যথাযথভাবে উল্লেখ করার চেষ্টা করা হবে।

উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে 'বীর' শব্দটি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই বিধান বাতিলের একটি প্রস্তাবনা এসেছিল। বর্তমানে সংসদে শামা ওবায়েদের এই নতুন প্রস্তাবনা মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় স্বীকৃতির প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


আমরা কি হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করেছি? রাজাকারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি : পার্থ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ২১:৪০:২৭
আমরা কি হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করেছি? রাজাকারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি : পার্থ
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দাঁড়িয়ে নিজের চিরচেনা তপ্ত মেজাজে বক্তব্য দিলেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে তাঁর স্পষ্ট ও আপসহীন অবস্থান সংসদ কক্ষের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে অত্যন্ত কড়া বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার বা অবমাননা করে বাংলাদেশে রাজনীতির কোনো স্থান নেই।

ব্যারিস্টার পার্থ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশকে হিন্দু-মুসলমানে ভাগ করা যাবে না। আমেরিকা-রাশিয়ায় ভাগ করা যাবে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যখন বলতে হবে, তখন প্রশ্ন জাগে—আমরা কার সঙ্গে যুদ্ধ করেছি? মুক্তিবাহিনী কি হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল? না, আমরা রাজাকারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি।” মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে পার্থ বলেন, “আমি একটা পরিষ্কার কথা বলে দিতে চাই—জুলাইকে অস্বীকার করে বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নাই। জুলাইয়ের আন্দোলনকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করা যাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত এই গণহত্যার বিচার না হচ্ছে, ততক্ষণ এই দলের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।”

উল্লেখ্য, এদিন দুপুরে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে চরম হট্টগোল সৃষ্টি হয়। ফজলুর রহমান দাবি করেছিলেন, “মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না।” এর প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি কোন দল করব বা কোন আদর্শ অনুসরণ করব, সেটি কি উনাকে জিজ্ঞেস করে করা লাগবে? এটি আমার নাগরিক অধিকার এবং সংবিধানে এর পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। আমার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা গুরুতর অপরাধ।”

ব্যারিস্টার পার্থের এই জোরালো বক্তব্য সংসদে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

/আশিক


সংসদে ডা. শফিকের হুঙ্কার: ‘দল করতে কি উনার অনুমতি লাগবে?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৯:১৫:৪৭
সংসদে ডা. শফিকের হুঙ্কার: ‘দল করতে কি উনার অনুমতি লাগবে?
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে নজিরবিহীন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ফজলুর রহমান দাবি করেছিলেন যে, “মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না।” তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

জবাবে জামায়াত আমির অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য বয়সে আমার বড়, যুদ্ধে তাঁর অবদান নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের ওপর হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি সরাসরি আমার আইডেন্টিটি (পরিচয়) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যা একটি গুরুতর অপরাধ। আমি কোন দল করব, কোন আদর্শ অনুসরণ করব—সেটির ওপর হস্তক্ষেপ করার ন্যূনতম অধিকার রাষ্ট্র বা সংবিধান কাউকে দেয়নি।”

ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ফজলুর রহমান তাঁর আদর্শ সিলেকশন নিয়ে কথা বলে বাড়তি অপরাধ করেছেন। তিনি এই অংশটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে ‘এক্সপাঞ্জ’ বা বাদ দেওয়ার দাবি জানান। তিনি আরও যোগ করেন, “সাধারণত যুক্তি যখন ফুরিয়ে যায়, মাথা তখন গরম হয়ে যায়। একটা প্রবাদ আছে—রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। আমরা সবাই মিলে হারতে চাই না, জিততে চাই।”

সবশেষে জামায়াত আমির সংসদ সদস্যদের ঠান্ডা মাথায় যুক্তি ও সত্যনির্ভর কথা বলার আহ্বান জানান, যাতে সংসদ ও রাজনীতির প্রতি দেশবাসীর আস্থা তৈরি হয়। এর আগে ফজলুর রহমান সংসদে বলেছিলেন যে, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করলে তিনি ‘দ্বিগুণ অপরাধ’ করছেন। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে অধিবেশনজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।

/আশিক


ফেসবুকে হাসনাত আব্দুল্লাহর ‘লাল কার্ড’: কী বার্তা দিতে চাইলেন এনসিপি নেতা?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ২২:০৮:৫১
ফেসবুকে হাসনাত আব্দুল্লাহর ‘লাল কার্ড’: কী বার্তা দিতে চাইলেন এনসিপি নেতা?
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি রহস্যময় ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) দিবাগত রাতে দেওয়া মাত্র দুই শব্দের এই পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।

নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেছেন— ‘লাল কার্ড।’

নিটোল এই পোস্টটিতে তিনি কাউকে সরাসরি মেনশন না করলেও, এটি কাকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা এই 'লাল কার্ড'-এর নানা ধরণের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। কেউ মনে করছেন এটি বর্তমান রাজনৈতিক কোনো পরিস্থিতির বহিঃপ্রকাশ, আবার কেউ মনে করছেন এটি প্রতিপক্ষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি হুঁশিয়ারি। পোস্টটির নিচে হাজার হাজার মন্তব্য ও রিয়েকশন জমা পড়ছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক উত্তাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

/আশিক


সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ফিরলেন নুসরাত তাবাসসুম: বড় ধাক্কা খেল ইসি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৮:১৭:০০
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ফিরলেন নুসরাত তাবাসসুম: বড় ধাক্কা খেল ইসি
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বড় জয় পেলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে তাঁর দাখিল করা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।

গত ২২ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত থাকলেও নুসরাত তাবাসসুম তাঁর মনোনয়নপত্রটি ৪টা ১৯ মিনিটে জমা দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের মাত্র ১৯ মিনিট বিলম্ব হওয়ায় নির্বাচন কমিশন তাঁর মনোনয়নপত্রটি বাতিল করে দিয়েছিল। ইসির এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন এনসিপি নেত্রী। আদালত শুনানি শেষে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ায় আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণের পথ এখন সুগম হলো।

উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে গত ২২ এপ্রিল ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ইসির কঠোর অবস্থানের কারণে প্রাথমিকভাবে নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা বাতিলের তালিকায় থাকলেও আদালতের এই আদেশের ফলে তিনি এখন নির্বাচনের মূল লড়াইয়ে ফিরতে পারছেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: