মাস শেষে বিল দেখে কপালে ভাঁজ? জেনে নিন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয়ের ৭টি ম্যাজিক টিপস!

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান দামের এই সময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল কমানো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো জনবহুল শহরগুলোতে যেখানে জীবনযাত্রার খরচ আকাশচুম্বী, সেখানে কিছু ছোট কিন্তু কার্যকর অভ্যাস আপনার মাসিক খরচ অনেকাংশেই কমিয়ে দিতে পারে। জীবনযাত্রায় সামান্য সচেতনতা ফিরিয়ে আনলে কীভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল সাশ্রয় করা সম্ভব, তার ৭টি কার্যকরী কৌশল নিচে আলোচনা করা হলো।
১. বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী অভ্যাস গড়ে তোলা
ঘর থেকে বের হওয়ার আগে লাইট, ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনারের সুইচ বন্ধ করার অভ্যাস করা সবচেয়ে প্রাথমিক পদক্ষেপ। দিনের বেলা যতটা সম্ভব জানালা খুলে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের চেষ্টা করুন। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টার সচেতনতা মাস শেষে আপনার বিলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
২. এনার্জি সেভিং বা এলইডি বাল্বের ব্যবহার
পুরনো ফিলামেন্ট বাল্ব বা সাধারণ টিউবলাইটের তুলনায় এলইডি (LED) বাল্ব ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এলইডি বাল্বগুলো সাধারণ বাল্বের চেয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। দীর্ঘস্থায়ী এবং সাশ্রয়ী হওয়ায় ঘরের সব লাইট পর্যায়ক্রমে এলইডিতে রূপান্তর করা উচিত।
৩. ফ্রিজ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার
ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা বা দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখলে ভেতরে ঠান্ডা বজায় রাখতে কম্প্রেসরকে বেশি কাজ করতে হয়, যা বিল বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া ফ্রিজে গরম খাবার সরাসরি রাখা থেকে বিরত থাকুন। টিভি, মাইক্রোওভেন বা কম্পিউটার ব্যবহার শেষে শুধু রিমোট দিয়ে বন্ধ না করে সরাসরি প্লাগ পয়েন্ট থেকে সুইচ বন্ধ করা ভালো, কারণ স্ট্যান্ডবাই মোডেও সামান্য বিদ্যুৎ খরচ হয়।
৪. এসির তাপমাত্রা ও রক্ষণাবেক্ষণ
গরমের দিনে এসি চালানোর সময় তাপমাত্রা সর্বদা ২৪ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করে রাখুন। এর ফলে কম্প্রেসরের ওপর চাপ কম পড়ে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। পাশাপাশি এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং বিদ্যুৎ বিল কম আসে।
৫. গ্যাসের চুলা ও আগুনের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার
রান্নার ক্ষেত্রে পাত্রের আকার অনুযায়ী আগুনের শিখা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ছোট পাত্রে অতিরিক্ত আগুন দিলে তা হাঁড়ির পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং গ্যাসের অপচয় হয়। এ ছাড়া রান্নার আগে সব মসলা ও সবজি গুছিয়ে নিয়ে চুলা জ্বালালে গ্যাস সাশ্রয় হয়। রান্না শেষে চুলা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা নিরাপত্তার জন্যও জরুরি।
৬. প্রেসার কুকার ও ঢাকনা ব্যবহার
ডাল বা মাংসের মতো শক্ত খাবার দ্রুত সেদ্ধ করার জন্য প্রেসার কুকার ব্যবহার করা সবচেয়ে সেরা উপায়। এটি রান্নার সময় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেয়, ফলে গ্যাস খরচও কমে। এ ছাড়া সাধারণ হাঁড়িতে রান্না করার সময় সব সময় ঢাকনা ব্যবহার করুন, এতে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়।
৭. নিয়মিত সার্ভিসিং ও সচেতনতা
বৈদ্যুতিক লাইনে কোনো লিকেজ বা পুরনো ওয়্যারিং থাকলে বিদ্যুৎ অপচয় বেশি হয়। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে ঘরের ওয়্যারিং পরীক্ষা করা উচিত। গ্যাস লাইনের লিকেজ রোধে নিয়মিত পরীক্ষা করা শুধু বিল নয়, জীবন রক্ষার জন্যও প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয় কেবল আপনার ব্যক্তিগত সঞ্চয় বাড়ায় না, এটি জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখে। এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করলে আপনি মাস শেষে সাশ্রয়ী ও নিশ্চিন্ত জীবন উপভোগ করতে পারবেন।
/আশিক
রোদে কালো হয়ে যাচ্ছে ত্বক? গোলাপ জলের এই ব্যবহারে ফিরবে হারানো উজ্জ্বলতা
তীব্র গরমে রোদে পোড়া ভাব, ত্বকের জ্বালাপোড়া এবং কালচে ছোপ দূর করতে গোলাপ জল এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। গ্রীষ্মের এই দিনগুলোতে ঘাম আর ধুলোবালির কারণে ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়, দেখা দেয় ব্রণ ও ফুসকুড়ির মতো সমস্যা। তবে নিয়মিত ও সঠিক নিয়মে গোলাপ জল ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
গরমকালে ত্বকের পিএইচ (pH) স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখতে গোলাপ জল অত্যন্ত কার্যকর। এটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল দূর করে এবং শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে দেয়। টোনার হিসেবে কটন প্যাডে গোলাপ জল নিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা দূর হয়। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে গোলাপ জলের সাথে ভিটামিন-ই ক্যাপসুলের নির্যাস মিশিয়ে মুখে মাখলে ত্বকের অকাল বার্ধক্য রোধ হয় এবং ত্বক কোমল থাকে।
বাইরে বের হলে রোদের তাপে ত্বকে যে জ্বালা ভাব বা অস্বস্তি হয়, তা দূর করতে গোলাপ জলকে 'ফেস মিস্ট' হিসেবে ব্যবহার করা যায়। একটি স্প্রে বোতলে গোলাপ জল এবং এক থেকে দুই ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে সাথে রাখুন। গরমে ত্বকে অস্বস্তি বোধ হলেই মুখে স্প্রে করে নিন, এতে তাৎক্ষণিক সতেজতা ফিরে আসবে। নিয়মিত এই ঘরোয়া যত্নে গরমের দিনেও আপনার ত্বক থাকবে সতেজ ও প্রাণবন্ত।
/আশিক
গরমে ঘামাচির যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ? জেনে নিন মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায়
তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে আমাদের ত্বকের সবথেকে বিরক্তিকর সমস্যা হলো ঘামাচি। সারাদিন রোদে চলাফেরা বা অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীরে লালচে র্যাশ ও তীব্র চুলকানি দেখা দেয়, যা শরীরকে একদম অস্থির করে তোলে। একবার ঘামাচি জেঁকে বসলে তা সহজে সারতে চায় না। তবে কিছু কার্যকর ঘরোয়া নিয়ম মেনে চললে এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
ঘামাচি দূর করার প্রথম শর্ত হলো ত্বকের লোমকূপ পরিষ্কার রাখা। অনেকেই ঘামাচি হলে প্রচুর পরিমাণে পাউডার ব্যবহার করেন, যা আসলে ত্বকের ঘাম নিঃসরণের ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দেয় এবং ঘামাচির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়।
তাই পাউডার এড়িয়ে চলাই ভালো। শরীর ঠান্ডা রাখতে দিনে অন্তত দুইবার গোসল করার অভ্যাস করতে হবে। পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিন্থেটিক বা মোটা কাপড় বাদ দিয়ে সুতির হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে, যাতে শরীরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।
চুলকানি কমাতে নখ ব্যবহার না করে আক্রান্ত স্থানে ক্যালামাইন লোশন লাগালে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। এছাড়া শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি, ডাবের পানি ও লেবুর শরবত পান করা জরুরি। মনে রাখবেন, শরীর যত হাইড্রেটেড থাকবে, ঘামাচির উপদ্রব ততটাই কম হবে। তাই এই গরমে রোদে কম বের হওয়ার চেষ্টা করুন এবং ত্বক পরিষ্কার রাখুন।
সূত্র : আনন্দবাজার
হিট স্ট্রোক ও চর্মরোগের হানা! দাবদাহে পোষা প্রাণীদের বাঁচাতে যা করবেন
তীব্র তাপপ্রবাহে মানুষের পাশাপাশি সমানভাবে ধুঁকছে অবলা প্রাণীরাও। বর্তমানে রাজধানীসহ সারা দেশে যে অসহ্য গরম পড়ছে, তাতে বাড়িতে পালা বিড়াল, কুকুর ও পাখিরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। এই সময়ে পোষা প্রাণীদের ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা, হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া ও জ্বরের মতো সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে কুকুরের নাক গরম ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক মলত্যাগের মতো লক্ষণগুলো দেখা দিলে মালিকদের দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
পশু চিকিৎসকদের মতে, এই গরমে পোষা প্রাণীদের মধ্যে চর্মরোগ বা ডার্মাটাইটিসের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা দিচ্ছে। এ বিষয়ে পশু চিকিৎসক ডা. আনিসুর রহমান পরামর্শ দিয়েছেন যে, পোষা প্রাণীকে সব সময় ঠান্ডা স্থানে রাখতে হবে এবং নিয়মিত গোসল করাতে হবে। এছাড়া যেসব প্রাণীর লোম বেশি, তাদের লোম ট্রিম বা ছোট করে দিলে তারা গরম থেকে অনেকটাই স্বস্তি পাবে।
বিড়াল ও কুকুরের ক্ষেত্রে দিনের বেলা বিশেষ করে প্রখর রোদে বাইরে বের করা একদম অনুচিত। পরিবর্তে ভোরবেলা বা সন্ধ্যার পর তাদের হাঁটাতে নিয়ে যাওয়া নিরাপদ। ঘরে সব সময় তাজা পানির ব্যবস্থা রাখা এবং বন্ধ গাড়িতে কখনোই তাদের না রাখা নিশ্চিত করতে হবে।
যাঁরা বাড়িতে পাখি পালন করেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও যত্নের ধরনে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। পাখির খাঁচায় পান করা ও গোসলের জন্য আলাদা আলাদা পাত্রের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। খাঁচার আশপাশে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের জন্য প্রয়োজনে ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে।
চিকিৎসকরা আরও সতর্ক করেছেন যে, যদি কোনো পোষা প্রাণী হঠাৎ খাওয়া বন্ধ করে দেয়, অতিরিক্ত ঝিমুনি দেখায় কিংবা মুখ দিয়ে ঘন লালা ঝরায়, তবে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একটু বাড়তি সচেতনতা ও সঠিক যত্নই পারে এই তীব্র গরমে আপনার প্রিয় সঙ্গীকে সুরক্ষিত রাখতে।
/আশিক
গরমে পানিশূন্যতা ও হিট স্ট্রোক এড়াতে যা করবেন: বিশেষজ্ঞদের জরুরি টোটকা
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে 'হিট স্ট্রোক'। বাইরে বের হলেই প্রচণ্ড গরমে শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে এবং পানিশূন্যতা তৈরি হচ্ছে, যা থেকে দেখা দিচ্ছে মাথাব্যথা ও চরম শারীরিক অস্বস্তি। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, হিট স্ট্রোক কেবল রোদে গেলেই হয়—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বদ্ধ, ভ্যাপসা গরম এবং আর্দ্র পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করলে ঘরের ভেতরে এমনকি রাতেও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, শরীরের তাপমাত্রা যখন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, তখনই হিট স্ট্রোকের পরিস্থিতি তৈরি হয়। শরীর যখন তার অতিরিক্ত তাপ বের করে দিতে পারে না, তখন রক্তনালি প্রসারিত হয়ে নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।
এর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড মাথা ঘোরা, বুকে চাপ অনুভব করা, হাত-পা অবসাদগ্রস্ত হয়ে যাওয়া এবং তীব্র মাথাব্যথা। অনেক ক্ষেত্রে রোগী ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যেতে পারেন এবং তাঁর রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার দ্রুত কমে যেতে পারে।
হিট স্ট্রোকের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে দ্রুত শীতল স্থানে সরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সম্ভব হলে তাঁকে দ্রুত এসির নিচে রাখতে হবে এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ভেজাতে হবে। পাশাপাশি পরনের কাপড় ঢিলা করে দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এই ঝুঁকি এড়াতে তীব্র রোদে, বিশেষ করে দুপুরের সময়টা বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
প্রয়োজনে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করতে হবে এবং শরীর ঢেকে রাখতে হবে। এছাড়া এসি থেকে বের হয়ে সরাসরি রোদে না গিয়ে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় অপেক্ষা করা উচিত যাতে শরীর বাইরের আবহের সাথে মানিয়ে নিতে পারে। সুস্থ থাকতে রোদে বের হলে সাথে সবসময় পানি রাখা এবং নিয়মিত ওআরএস বা স্যালাইন পান করা প্রয়োজন।
/আশিক
গরমে নীরব ঘাতক হিট স্ট্রোক, জানুন সতর্কতা
দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। প্রচণ্ড গরমে বাইরে বের হলেই শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে, দ্রুত কমে যাচ্ছে শরীরের পানির পরিমাণ। এর ফলে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্টের মতো নানা শারীরিক সমস্যা বাড়ছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে হিট স্ট্রোক, যা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই মনে করেন শুধু রোদের মধ্যে দীর্ঘসময় থাকলেই হিট স্ট্রোক হয়। বাস্তবে ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। বদ্ধ, গরম ও আর্দ্র পরিবেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এমনকি ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না থাকলেও ঝুঁকি তৈরি হয়। রাতের বেলাতেও অতিরিক্ত গরমে শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয়ে হিট স্ট্রোক হতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হিট স্ট্রোকের সময় শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি হয়ে যেতে পারে। শরীর থেকে পর্যাপ্ত তাপ বের হতে না পারায় রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এতে মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও কিডনির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, বুকে অস্বস্তি, মাথাব্যথা, শরীর কাঁপা, শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা এবং হাত-পায়ে শক্তি কমে যাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে রোগী দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না এবং হঠাৎ পড়ে যেতে পারেন। রক্তচাপ কমে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিট স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রোগীকে ঠান্ডা ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে নিতে হবে। সম্ভব হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে রাখতে হবে। শরীরে ঠান্ডা পানি ঢালা, ভেজা কাপড় ব্যবহার করা এবং আঁটসাঁট পোশাক ঢিলা করে দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কারণ দেরি হলে মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
চিকিৎসকরা আরও বলছেন, তীব্র রোদ বিশেষ করে দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে বাইরে যাওয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করা ভালো। শরীর ঢেকে রাখলে সরাসরি সূর্যের তাপ থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়।
এসি কক্ষ থেকে বের হয়েই হঠাৎ প্রচণ্ড রোদে না যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে ধীরে ধীরে বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নেওয়া নিরাপদ।
গরমে শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তৃষ্ণা লাগলেই নয়, নির্দিষ্ট বিরতিতে পানি পান করতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, ওরাল স্যালাইন বা ওআরএস শরীরের লবণ ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। দীর্ঘসময় রোদে কাজ করলে মাঝেমধ্যে ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নেওয়াও জরুরি।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে দেশে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব আরও বাড়তে পারে। ফলে হিট স্ট্রোক ও তাপজনিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
সকালে খালি পেটে মেথি পানি: আপনার শরীরের জন্য কেন এটি অমৃত?
রান্নাঘরের পরিচিত উপাদান মেথি যে কেবল রান্নার স্বাদ বাড়ায় তা নয়, এর প্রতিটি দানা যেন একেকটি ভেষজ ওষুধের আধার। বিশেষ করে গরমের এই সময়ে মেথি ভেজানো পানি শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে জাদুর মতো কাজ করে।
পুষ্টিবিদদের মতে, মেথিতে ভিটামিন কে, এ, বি-কমপ্লেক্সের পাশাপাশি পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো প্রচুর খনিজ উপাদান রয়েছে। সকালে খালি পেটে মেথি ভেজানো পানি খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরে ফাইবারের মাত্রা বাড়তে থাকে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করার পাশাপাশি হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
মেথি পানি পানের আরও একটি বড় সুবিধা হলো ওজন নিয়ন্ত্রণ। এটি পান করলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং আজেবাজে খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়, ফলে শরীর থেকে বাড়তি মেদ ঝরানো সহজ হয়। মেথি শরীরে ক্যানসারের টিস্যু বৃদ্ধি রুখতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
নিয়মিত এটি পানে ত্বকের ছোপ ছোপ কালো দাগ দূর হয় এবং ভেতর থেকে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। শুধু ত্বক নয়, চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং চুল পড়া রোধ করতেও মেথি পানি অতুলনীয়। প্রচণ্ড গরমে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং ক্লান্তি দূর করতে এই পানীয় প্রাকৃতিক কুলার হিসেবে কাজ করে।
উপকার পেতে হলে সঠিক নিয়মে মেথি খাওয়া জরুরি। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এক গ্লাস পানিতে এক চামচ মেথি সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে পানি ছেঁকে পান করা।
হাতে সময় কম থাকলে কুসুম গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখেও এটি খাওয়া যেতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন আধা কাপ মেথি পানি পান করাই স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট। নিয়মিত এই অভ্যাস জীবনযাত্রায় দারুণ ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
/আশিক
ত্বক ও চুলে অ্যালোভেরার অবিশ্বাস্য উপকারিতা
প্রাকৃতিক উপায়ে সৌন্দর্যচর্চার ইতিহাসে অ্যালোভেরা একটি বহুল ব্যবহৃত এবং গবেষণাভিত্তিক উপাদান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। মরুভূমি অঞ্চলে জন্ম নেওয়া এই রসালো উদ্ভিদটি শুধু ভেষজ চিকিৎসাতেই নয়, আধুনিক স্কিন কেয়ার ও হেয়ার কেয়ার শিল্পেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালোভেরার ভেতরে থাকা ভিটামিন, খনিজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, এনজাইম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বক ও চুলের নানা সমস্যায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালোভেরা জেলের প্রায় ৯৬ শতাংশই পানি। ফলে এটি ত্বকে গভীর আর্দ্রতা যোগ করলেও অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব তৈরি করে না। এ কারণেই শুষ্ক ত্বক থেকে শুরু করে তৈলাক্ত ত্বকের মানুষের কাছেও এটি সমান জনপ্রিয়। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় অ্যালোভেরা ত্বকে শীতল অনুভূতি এনে আরাম দেয়।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালোভেরায় থাকা গ্লাইকোপ্রোটিন ও পলিস্যাকারাইড উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এজন্য একজিমা, সোরিয়াসিস, ত্বকের জ্বালাপোড়া এবং রোদে পোড়া ত্বকে এটি ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকার কারণে ত্বকে লালচে ভাব, জ্বালা ও শুষ্কতা তৈরি হয়। অ্যালোভেরা সেই অস্বস্তি কিছুটা কমিয়ে ত্বককে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করতে পারে।
ব্রণের সমস্যায়ও অ্যালোভেরা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য প্রদাহজনিত ব্রণ কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে লালচে ও ফোলা ব্রণের ক্ষেত্রে এটি ত্বককে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, গুরুতর ব্রণ বা হরমোনজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে শুধু অ্যালোভেরা যথেষ্ট নয়, চিকিৎসকের পরামর্শও প্রয়োজন।
ত্বকের ক্ষত সারানো এবং দাগ হালকা করার ক্ষেত্রেও অ্যালোভেরার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। এতে থাকা ভিটামিন সি ও ই ত্বকের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে। ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়া, পোড়া দাগ কিংবা ব্রণের কালো দাগ কমানোর জন্য অনেকেই নিয়মিত অ্যালোভেরা ব্যবহার করেন। এছাড়া এটি ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়।
অ্যালোভেরাকে অনেকেই “ন্যাচারাল অ্যান্টি-এজিং জেল” বলেও অভিহিত করেন। কারণ এটি কোলাজেন ও ইলাস্টিন উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে, যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা ও শুষ্কতা বাড়ে। নিয়মিত অ্যালোভেরা ব্যবহারে ত্বক কিছুটা টানটান ও সতেজ দেখাতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
শুধু ত্বক নয়, চুল ও স্ক্যাল্পের যত্নেও অ্যালোভেরা অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে খুশকি, স্ক্যাল্পের চুলকানি এবং অতিরিক্ত তৈলাক্ততার সমস্যায় এটি কার্যকর হতে পারে। অ্যালোভেরা স্ক্যাল্পের মৃত কোষ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং চুলের গোড়ায় জমে থাকা অতিরিক্ত তেল ভেঙে ফেলে। ফলে স্ক্যাল্প তুলনামূলক পরিষ্কার ও সতেজ থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস বা খুশকিজনিত সমস্যায় অ্যালোভেরা আরাম দিতে পারে। এটি স্ক্যাল্পে আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং শুষ্কতা কমায়। ফলে খুশকির কারণে হওয়া চুলকানি ও অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
চুলের শক্তি বৃদ্ধি ও ভাঙন কমানোর ক্ষেত্রেও অ্যালোভেরার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এতে থাকা ভিটামিন এ, সি, ই এবং বি১২ চুলের ফলিকলকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে চুল তুলনামূলক মজবুত হয় এবং অতিরিক্ত ভেঙে পড়া কমতে পারে। যদিও এটি টাক সমস্যার সরাসরি সমাধান নয়, তবে চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।
বর্তমানে অনেক কসমেটিক ও বিউটি ব্র্যান্ড তাদের পণ্য তৈরিতে অ্যালোভেরা ব্যবহার করছে। ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার, সানবার্ন জেল, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার এবং হেয়ার মাস্কে অ্যালোভেরা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে।
ঘরোয়া উপায়ে ব্যবহার করতে চাইলে সরাসরি গাছের পাতা থেকে জেল বের করে ব্যবহার করা যায়। এটি মুখে, হাতে, ঘাড়ে বা স্ক্যাল্পে লাগানো যেতে পারে। অনেকে মধু, দই বা নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে হেয়ার মাস্ক হিসেবেও ব্যবহার করেন।
তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, সব ত্বকে অ্যালোভেরা সমানভাবে মানানসই নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জি, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে হাতে বা কবজির ভেতরের অংশে অল্প পরিমাণ লাগিয়ে পরীক্ষা করা উচিত।
খালি পেটে এক কোয়া রসুন: মহৌষধ নাকি কুসংস্কার? জেনে নিন আসল সত্য
সকালে খালি পেটে কাঁচা রসুন খাওয়া অনেকের কাছে অস্বস্তিকর মনে হলেও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে এর উপকারিতা অপরিসীম। রান্নায় ব্যবহৃত রসুনের চেয়ে কাঁচা রসুন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অনেক বেশি কার্যকর।
বিশেষ করে সকালে নাশতার আগে এটি খেলে রসুনের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ সরাসরি শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। গবেষকদের মতে, এটি শরীরের ভেতরে একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে যা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
যারা দীর্ঘকাল ধরে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য কাঁচা রসুন নিয়মিত সেবন করা বেশ উপকারী হতে পারে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি হার্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এছাড়া শরীরকে বিষমুক্ত বা ডি-টক্সিফাই করতে রসুনের জুড়ি নেই।
এটি যকৃত ও মূত্রাশয়ের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ডায়রিয়া বা গ্যাস্ট্রিক দূর করতে সহায়তা করে। এমনকি যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া ও হাঁপানির মতো শ্বাসকষ্টজনিত জটিল সমস্যায়ও এটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
তবে কাঁচা রসুন খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। যাদের রসুনে অ্যালার্জি রয়েছে কিংবা কাঁচা রসুন খেলে মাথাব্যথা, বমি বা অন্য কোনো শারীরিক অস্বস্তি দেখা দেয়, তাদের এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
এছাড়া রসুনের তীব্র গন্ধের কারণে অনেকে এটি খেতে চান না, তবে এর জাদুকরী স্বাস্থ্যগুণ বিবেচনায় এটি আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে। সুস্থ থাকতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত রসুনের সঠিক ব্যবহার আপনার জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
/আশিক
এক মাস আগেই সংকেত দেয় শরীর! স্ট্রোকের লক্ষণগুলো চিনে রাখুন
স্ট্রোক একটি প্রাণঘাতী সমস্যা হলেও অনেক সময় আমাদের শরীর এক মাস আগেই কিছু ছোট ছোট সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে। চিকিৎসকদের মতে, এই লক্ষণগুলো শুরুতে শনাক্ত করতে পারলে বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
স্ট্রোকের আগে শরীর যে সব সংকেত দেয়
১. হঠাৎ মাথা ঘোরা এবং শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা।
২. হাঁটার সময় বারবার হোঁচট খাওয়া বা পা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা।
৩. চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা অথবা কানে অস্বাভাবিক ভোঁ ভোঁ শব্দ শোনা।
৪. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া, যা সাধারণ ওষুধে সারে না এবং সাথে বমি ভাব থাকতে পারে।
৫. হাত বা পায়ের এক পাশে হঠাৎ দুর্বলতা বা অসাড়তা অনুভব করা।
মিনি স্ট্রোক: বড় বিপদের আগাম বার্তা
অনেক সময় স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কয়েক মিনিটের জন্য দেখা দিয়ে আবার নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘মিনি স্ট্রোক’। এটি মূলত ভবিষ্যতে বড় কোনো স্ট্রোকের স্পষ্ট সংকেত। এক্ষেত্রে মুখ, হাত বা পায়ের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা চোখের সামনে অন্ধকার দেখার মতো সমস্যা দেখা দেয়। লক্ষণগুলো সেরে গেলেও একে অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে।
স্ট্রোক প্রতিরোধে যা করবেন
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। এছাড়া লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা এবং ধূমপান বর্জন করার মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- নতুন শান্তি প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ইরান! যুদ্ধের মোড় ঘুরাতে তেহরানের নয়া ছক
- আমরা কি হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করেছি? রাজাকারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি : পার্থ
- রাডার এড়িয়ে গোপন যাত্রা! ২ মাস পর এলএনজি নিয়ে হরমুজ পার হলো বিশাল জাহাজ
- সারাদেশের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি
- ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটে সাবধান! জালিয়াত চক্র থেকে বাঁচার উপায় জানাল ব্যাংক
- ওপেক ছাড়ল সংযুক্ত আরব আমিরাত: সৌদি আরবের জন্য বড় ধাক্কা, উত্তাল তেলের বাজার!
- টানা ২ বার কমার রেকর্ড! স্বর্ণের বাজারে কী ঘটছে? জানাল বাজুস
- ভারতীয় ভিসায় বড় পরিবর্তন! ভোগান্তি কমাতে সংসদে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ১৬টি খাতে জাপানের দুয়ার উন্মুক্ত! ৩ লাখ জনশক্তি পাঠাতে মাস্টারপ্ল্যান সরকারের
- সংসদে ডা. শফিকের হুঙ্কার: ‘দল করতে কি উনার অনুমতি লাগবে?
- সংসদের উত্তেজনা থামালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ইতিহাস নিয়ে জাতিকে আর বিভক্ত করবেন না
- মাঝসমুদ্রে নাটকীয় অভিযান! ইরানের তেলের ট্যাংকার জব্দ করল মার্কিন নৌবাহিনী
- অর্থের অভাবে কেউ আর বিচারহীন থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী
- সংসদে রণক্ষেত্র! ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও জামায়াত’ ইস্যুতে ফজলুর রহমানের বিস্ফোরক মন্তব্য
- পরমাণু যুগে লাল-সবুজের বাংলাদেশ: রূপপুরে জ্বলে উঠল শক্তির নতুন বাতিঘর
- ২৮ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২৮ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৮ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সৌদি-দুবাইয়ে ভরিতে ৪০ হাজার টাকা কম! জানুন কেন বাংলাদেশের সাধারণ ক্রেতারা ঠকছেন
- হৃদরোগ আসার আগেই শরীর দেয় সংকেত: জেনে নিন রক্তনালির গোপন সংক্রামক
- ইতিহাসের ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!
- নিউজিল্যান্ডের পাহাড় ডিঙিয়ে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড
- টাকার মান কি বাড়ল না কমল? দেখে নিন ২৮ এপ্রিলের বৈদেশিক মুদ্রার রেট
- হুমকির মুখে বিশ্ব অর্থনীতি: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় রেকর্ড উচ্চতায় তেলের দাম
- অসুস্থতার খবর ভুয়া! ইরানের শীর্ষ নেতার সক্রিয়তার প্রমাণ দিলেন ভ্লাদিমির পুতিন
- আমেরিকাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি! অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী দাপিয়ে বেড়াল রাশিয়ার সুপারইয়াট
- সব বাধা জয় করে এলিট ক্লাবে বাংলাদেশ: আজ রূপপুরে ঐতিহাসিক জ্বালানি লোডিং
- ট্রাম্পের নাখোশ মেজাজ: ইরানের ৩ ধাপের শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করল না হোয়াইট হাউস
- ১৩ জেলায় কালবৈশাখীর হানা! দুপুরে ১টার মধ্যেই ধেয়ে আসছে প্রবল ঝড়
- আবারও সস্তা হলো সোনা: আজ থেকেই নতুন মূল্য কার্যকর
- ঘর থেকে বের হওয়ার আগে সাবধান! আজ মঙ্গলবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ
- জ্বালানি নিরাপত্তায় নয়া ইতিহাস: রূপপুর থেকে ৬০ বছর মিলবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ওয়াক্ত
- জাতীয় গ্রিডে আদানির বিদ্যুৎ: লোডশেডিং নিরসনে যোগ হলো ৯২৫ মেগাওয়াট
- ফেসবুকে হাসনাত আব্দুল্লাহর ‘লাল কার্ড’: কী বার্তা দিতে চাইলেন এনসিপি নেতা?
- পরমাণু বোমা নাকি শান্তি? ইরানের নতুন প্রস্তাবে বিপাকে হোয়াইট হাউস
- মহাবিশ্বের পঞ্চম শক্তির সন্ধান! সৌরজগতেই মিলতে পারে রহস্যময় নতুন বলের খোঁজ
- কালিগঞ্জে থানা সংস্কারের নামে চাঁদাবাজি: ওসির নির্দেশের দাবি কমিটির
- কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, জড়িত ৫ জন গ্রেফতার
- যেসব ফোনে চিরতরে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ: মেটা কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ
- বাফারিংয়ের দিন শেষ! সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেটের ঘোষণা বিটিআরসির
- মোবাইল গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর; কল ড্রপ ও নেটওয়ার্ক ভোগান্তি শেষ!
- পরমাণু যুগে বাংলাদেশ! রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের কাজ সফলভাবে শুরু
- ইরানের কাছে নতিস্বীকার করছে যুক্তরাষ্ট্র! জার্মান চ্যান্সেলরের বিস্ফোরক মন্তব্য
- শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন! জাতীয় সংসদে বড় বার্তা দিলেন মির্জা ফখরুল
- সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ফিরলেন নুসরাত তাবাসসুম: বড় ধাক্কা খেল ইসি
- কিউই বধের নতুন রেকর্ড! নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল টাইগাররা
- পারমাণবিক অস্ত্রই কি তবে ইরানের শেষ ঢাল? দ্য গার্ডিয়ানের বিস্ফোরক তথ্য
- জঙ্গি হামলার শঙ্কা: শাহজালালসহ দেশের ৮ বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি
- ২৭ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- সোনার বাজারে খুশির আমেজ; বাজুসের নতুন মূল্যে বড় ছাড়
- কালিগঞ্জ ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়! আদালতের নির্দেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম ডিজিটাল অসভ্যতা: গণতান্ত্রিক সংহতি রক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জ
- রেকর্ড দামের পর অবশেষে স্বস্তি: সোনার ভরিতে বড় ছাড় দিল বাজুস
- সোনার সাথে রুপার দামেও আগুন! আজ থেকে কার্যকর নতুন দর
- রেকর্ড দামের পর এবার কি কমছে স্বর্ণ? একনজরে আজকের বাজার দর
- আবারও সস্তা হলো সোনা: আজ থেকেই নতুন মূল্য কার্যকর
- আজ থেকেই আদানির বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমতে পারে লোডশেডিং
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ১ম টি-টোয়েন্টি: সময়সূচি ও সরাসরি দেখার উপায় একনজরে
- ধান-চালের নতুন দাম ঘোষণা সরকারের
- যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন শর্ত
- ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য বন্ধ হলো আমেরিকার দুয়ার: তালিকায় বাংলাদেশও
- ত্বক ও চুলে অ্যালোভেরার অবিশ্বাস্য উপকারিতা
- ঢাকার যে ১১ পাম্পে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ফুয়েল পাস
- তাপদাহের পর এবার ঝড়-বৃষ্টির বড় পূর্বাভাস








