বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি

মাহির তালুকদার
মাহির তালুকদার
বাহরাইন প্রতিনিধি
মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ০৮:৫৫:২০
বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী মানামায় স্থানীয় একটি হোটেলে মোহাম্মদ আক্তার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে যৌথ সঞ্চালনা করেন, সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুন্সী,ও জিয়াউল হক।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাহরাইন কেন্দ্রীয় বিএনপির' সভাপতি ফয়সাল মাহমুদ চৌধুরী, গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহরাইন কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আকবর হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহরাইন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা সাবের আহমেদ, প্রধান বক্তা বাহরাইন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলাউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোকবুল হোসেন মুকুল, আনোয়ার হোসেন, নাজমুল হাসান সোহাগ, আহসান উল্লাহ,সম্রাট নজরুল ইসলাম সিদ্দিকী,মানামা মহানগর বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা মোবারক রজব,উপদেষ্টা হারুনর রশীদ,

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল জলিল, মোহাম্মদ সোলাইমান, মোহাম্মদ মাসুদ, সাইদুর রহমান সহ অনেকে,,

অনুষ্ঠানে নতুন কমিটি হস্তান্তর করা হয়, শেষে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া সহ দেশ ও জাতির কল্যাণে মোনাজাত করা হয়।


ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি মিসাইল: নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে লাল ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৯:০৫:৪২
ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি মিসাইল: নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে লাল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে এক হৃদয়বিদারক ও পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমুজাগানের মিনাব সিটিতে একটি প্রাক-প্রাথমিক মহিলা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে অন্তত ৫১ জন স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শুরুতে পাঁচজন এবং পরে ২৪ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৫১-তে দাঁড়িয়েছে। কোমলমতি শিশুদের এই গণমৃত্যু পুরো ইরানজুড়ে শোকের ছায়া এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এই নারকীয় হামলার পরপরই ইরান তার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত শুরু করেছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ছে। ইরানের দাবি, তাদের এই প্রতিশোধমূলক হামলা ‘শত্রু’র আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তেহরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতিমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও আঘাত হানতে শুরু করেছে, যা এই সংঘাতকে একটি অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইতোমধ্যে ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় আরব আমিরাতে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মিনাব সিটির স্কুলে শিশুদের ওপর এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান সরকার। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বেসামরিক স্থাপনা ও শিশুদের ওপর এ ধরণের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হানার পরিকল্পনা করেছিল। তবে মিনাব সিটির এই নিথর শিশুদের সারি পুরো বিশ্বের সামনে যুদ্ধের এক বীভৎস রূপ ফুটিয়ে তুলেছে।

সূত্র: আলজাজিরা।


ইসরায়েল-আমিরাতের পর এবার সৌদিতে বিস্ফোরণ

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৭:২৬:২০
ইসরায়েল-আমিরাতের পর এবার সৌদিতে বিস্ফোরণ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল ইসরায়েল-ইরানে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এক বিধ্বংসী আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত ও আরব আমিরাতের পর এবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার জবাবে ইরান প্রথম দফার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করার পর থেকেই পুরো আরব অঞ্চলের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। তেহরানের দাবি, তাদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতিমধ্যে উত্তর ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ভেদ করে সরাসরি আঘাত হেনেছে, যার ফলে সেখানে বিকট বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপের দিকে মোড় নিয়েছে বাহরাইনে। দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দপ্তর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। হামলার আগে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এছাড়া দুবাই, আবুধাবি ও কুয়েতেও দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর আসছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সাফ জানিয়েছে, ‘শত্রু’র আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতেই তারা এই অপারেশন শুরু করেছে। অন্যদিকে, কাতার তাদের আকাশসীমায় অন্তত একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

এর আগে শনিবার সকালে তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকাসহ কেরমানশাহ, তাবরিজ ও ইসফাহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ একে ‘পূর্বনির্ধারিত হামলা’ বলে অভিহিত করে দাবি করেন যে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা তেহরানে বোমা বর্ষণ শুরু করেছে। কিন্তু ইরানের পাল্টা মরণকামড়ে এখন সৌদি আরব ও আমিরাতের মতো দেশগুলোও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে এখন কেবল ক্ষেপণাস্ত্র আর যুদ্ধবিমানের গর্জন শোনা যাচ্ছে, যা এক মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


নিশানা এবার খোদ আমেরিকা: বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে বড় হামলা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৬:২৬:৪২
নিশানা এবার খোদ আমেরিকা: বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে বড় হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পঞ্চম নৌবহরের’ (US 5th Fleet) সদর দপ্তরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত এই মার্কিন ঘাঁটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটার পাশাপাশি আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘শত্রু’র আগ্রাসনের জবাবে তারা প্রথম দফার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে।

একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, কাতারের আকাশসীমায় ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর দেশটির ‘প্যাট্রিয়ট’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সেটি সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনাই এখন তাঁদের লক্ষ্যবস্তু এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে এখন আর কোনো ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা নেই।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) একটি বিশেষ বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ‘বাশারাত আল-ফাতহ’ (বিজয়ের সুসংবাদ) নামক অভিযানের মাধ্যমে তাঁরা ইসরায়েলের অধিকৃত ভূখণ্ডের দিকে বড় ধরণের আক্রমণ শুরু করেছে। তেহরানের দাবি, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতেই এই প্রতিশোধমূলক হামলা। এদিকে, আবুধাবি ও দুবাইতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দেওয়ার দাবি করেছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধবিমান আর ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জনে প্রকম্পিত। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ঘাঁটিতে এই সরাসরি আক্রমণ পরিস্থিতিকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

/আশিক


ইসরায়েলে আকাশ থেকে নামছে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি! সাইরেনের শব্দে কাঁপছে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৬:১৭:২২
ইসরায়েলে আকাশ থেকে নামছে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি! সাইরেনের শব্দে কাঁপছে ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ এখন পূর্ণাঙ্গ ও সরাসরি এক ভয়াবহ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে আল জাজিরার বরাতে জানানো হয়েছে যে, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এসব ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর সারা দেশজুড়ে বিপদ সংকেত বা সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী বর্তমানে আকাশে এই হুমকি প্রতিহত করার কাজ করছে এবং বেশ কিছু স্থানে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। হোম ফ্রন্ট কমান্ডের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

এর কিছু সময় আগেই ইরানজুড়ে বড় ধরনের এক অস্থিরতা তৈরি হয় যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, হামলার খবর পেয়েই আয়াতুল্লাহ খামেনি তেহরান ত্যাগ করে একটি অত্যন্ত গোপন ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তেহরানসহ এর আশপাশের এলাকাগুলোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এই প্রথমবার কোনো হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ও সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা এই সংঘাতের মাত্রা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ইরানের সাথে আর কোনো কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা নেই। যদিও সম্প্রতি আলোচনার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে কোনো সমাধান না হওয়ায় সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছে মিত্রবাহিনী। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার সব চেষ্টাই ব্যর্থ মনে হচ্ছে। যুদ্ধের তীব্রতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরণের ধসের পূর্বাভাস দিচ্ছে বিশ্লেষকরা। পুরো বিশ্ব এখন দমবন্ধ করা উত্তেজনায় অপেক্ষা করছে—তেহরান কি আরও বড় কোনো প্রতিশোধ নেবে, নাকি এটি কেবল ধ্বংসের শুরু?

/আশিক


ইরানে সরাসরি হামলা চালাল ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহ দামামা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১২:৪৩:০৯
ইরানে সরাসরি হামলা চালাল ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহ দামামা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক চরম উত্তেজনার দিকে মোড় নিয়েছে। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে ইরান অভিমুখে একটি ‘প্রতিরোধমূলক হামলা’ (Pre-emptive Strike) শুরু করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক জরুরি বিবৃতিতে এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো হামলার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসরাইল আগেভাগেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এই অতর্কিত হামলার ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধের রূপ নিতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পরপরই ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পুরো দেশজুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির ফলে বেসামরিক নাগরিকদের চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের ভূখণ্ড ও নাগরিকদের রক্ষা করতে তারা যেকোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করবে না।

এই হামলার ব্যাপ্তি কতটুকু বা ইরানে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন সংঘাত এক ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারেও বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে; তেহরান কি পাল্টা আঘাত হানবে নাকি কূটনৈতিক পথে হাঁটবে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।

সূত্র: বিবিসি


জেন-জি’র মিছিলে উত্তাল তেহরান: স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগানে কাঁপছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১০:০২:১৭
জেন-জি’র মিছিলে উত্তাল তেহরান: স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগানে কাঁপছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্মের ‘জেন-জি’ বিক্ষোভ। রাজধানী তেহরানে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথে নেমে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করেছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এবং হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে এই নতুন দফার আন্দোলন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তেহরানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় এখন এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পূর্ব শাহ আমলের পতাকা হাতে নিয়ে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে দিচ্ছেন।

আর্থিক দুরবস্থা ও আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতির জেরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পুরোপুরি সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত এক মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই গণআন্দোলনে নিহতের সংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি হতে পারে, যাদের বেশিরভাগই সাধারণ বিক্ষোভকারী। যদিও ইরান সরকার ৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে, তবে তাদের দাবি—বিদেশি উসকানিতে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ রুখতে গিয়েই এই সহিংসতা হয়েছে।

বিক্ষোভের পাল্টায় গতকাল তেহরানের বিভিন্ন স্থানে সরকার সমর্থিত তরুণ-তরুণীরাও মিছিল-সমাবেশ করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি সংঘাতময় করে তুলেছে। বিশেষ করে শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়সহ তিনটি বড় বিদ্যাপীঠের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বসন্তের এই সময়ে তরুণ প্রজন্মের নতুন এই জাগরণ তেহরানের বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাইরের দেশগুলোর চাপ আর অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে ইরান এখন এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

/আশিক


সমুদ্র থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১২:১৫:২৩
সমুদ্র থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম উত্তেজনার আবহেই সামরিক শক্তিতে বড় ধরণের অগ্রগতির জানান দিল ইরান। প্রথমবারের মতো সমুদ্রভিত্তিক দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ‘সায়াদ-৩জি’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে দেশটি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী পরিচালিত ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ শীর্ষক এক বৃহৎ নৌ মহড়ার অংশ হিসেবে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মহড়াকালে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘শহিদ সায়াদ শিরাজি’ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি মূলত ইরানের স্থলভিত্তিক সায়াদ-৩ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নৌ সংস্করণ, যা এই প্রথমবারের মতো সমুদ্রে কার্যকরভাবে ব্যবহার করল তেহরান।

আইআরজিসির নৌবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে তাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সায়াদ-৩জি ক্ষেপণাস্ত্রটি সোজাসুজি উৎক্ষেপণযোগ্য (ভার্টিক্যাল লঞ্চ) এবং এর কার্যকর পাল্লা বা রেঞ্জ প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালীতে শুরু হওয়া এই বিশেষ ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ মহড়াটি টানা তিন দিন ধরে চলে।

এই মহড়ার মাধ্যমে ইরান সমুদ্রভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তাদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার জানান দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘শহিদ সোলাইমানি’ শ্রেণির সামরিক জাহাজগুলোর জন্য একটি দুর্ভেদ্য আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা যেকোনো আকাশপথের আক্রমণ প্রতিহতে সক্ষম।

উল্লেখ্য যে, সায়াদ-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের আদি বা স্থলভিত্তিক সংস্করণটি প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর। সেই প্রাথমিক সংস্করণের কার্যকর পাল্লা ছিল ১২০ কিলোমিটার। বর্তমানে নৌ সংস্করণে এর সক্ষমতা আরও ৩০ কিলোমিটার বৃদ্ধি করে ১৫০ কিলোমিটারে উন্নীত করা হয়েছে, যা সমুদ্রে ইরানের নৌবাহিনীর কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

পশ্চিমের দেশগুলোর অবরোধ ও চাপের মুখেও ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এই ধরণের মহড়া তেহরানের সামরিক প্রভাব বিস্তারের বড় একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

/আশিক


তাঁবুতে ইফতার ও স্বজন হারানোর হাহাকার: ধ্বংসস্তূপের মাঝে গাজার রমজান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৯:৩২:৪৬
তাঁবুতে ইফতার ও স্বজন হারানোর হাহাকার: ধ্বংসস্তূপের মাঝে গাজার রমজান
পবিত্র রমজান মাস পালন করছেন গাজার ফিলিস্তিনিরা

বিশ্বের দেড়শ কোটির বেশি মুসলমানের মতো পবিত্র রমজান মাস পালন করছেন গাজার ফিলিস্তিনিরাও। তবে টানা যুদ্ধ, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং স্বজন হারানোর বেদনার মধ্যেই এ বছরের রমজান তাদের কাছে ভিন্ন এক বাস্তবতা নিয়ে এসেছে—শোকের মাঝেও আশা ধরে রাখার সংগ্রাম। গাজার বর্তমান রমজানের এই চিত্র নিয়ে সম্প্রতি পিবিএস নিউজ আওয়ার এক বিশেষ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। যেখানে উঠে এসেছে গাজাবাসীর যাপিত জীবনের এক ট্র্যাজিক ও সাহসী প্রতিচ্ছবি।

গাজার পুরনো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক আল-জাওইয়া মার্কেটে এখন ঝুলছে রঙিন ফানুস। ৭০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই বাজারের একটি অংশ ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তবুও সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই খেজুর, জলপাই ও রমজানের সাজসজ্জার সামগ্রী নিয়ে আবারও জমে উঠেছে বাজার। যদিও গত অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, কিন্তু স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে এরপরও সেখানে শত শত ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এই শোকের আবহেই গাজাবাসী রমজানকে বরণ করে নিয়েছে।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ইনাস ওমর বলেন, ধ্বংস আর যুদ্ধের মাঝেও তারা বাজারের প্রাণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। বিদ্যুৎ সংকট ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই রমজানের প্রয়োজনীয় সাজসজ্জা বা ইফতার সামগ্রী কিনতে পারছেন না। দোকানি লুয়াই আল-জামাসি জানান, পণ্য আমদানি সীমিত থাকায় ফানুসের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আচার বিক্রি করা সাঈদ আল-সাক্কা অত্যন্ত আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা হাসি ফেরানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু রমজান এখন ক্ষতির স্বাদ নিয়ে আসে। পরিবারের অনেক সদস্য, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের হারিয়ে ফেলেছি।’

বাসস্থানের ভয়াবহ সংকট গাজার রমজানকে আরও করুণ করে তুলেছে। যেসব পরিবার একসময় বহু কক্ষের আধুনিক ঘরে জমকালো ইফতার আয়োজন করত, তারা এখন বাস করছে ত্রাণশিবিরের ঘিঞ্জি তাঁবুতে। বাস্তুচ্যুত আমাল আল-সামরি জানান, যুদ্ধের আগে রমজান ছিল আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার একটি আনন্দময় সময়, আর এখন জীবন এক বড় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। তবে এই চরম সংকটেও শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলস কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। তারা রঙিন সাজসজ্জা আর ছোট ছোট আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের জন্য কিছুটা আনন্দের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

স্বেচ্ছাসেবক আবদুলরহমান আবু জাহল বলেন, ‘গাজার শিশুদের টিকে থাকাই এখন এক ধরনের বড় সাফল্য। আমরা চাই তারা অন্তত রমজানে একটু আনন্দ করুক আর নতুন দিনের স্বপ্ন দেখুক।’ ধ্বংসস্তূপের মাঝেও প্রতিদিন সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হচ্ছে গাজাবাসীর রোজা। প্রতিফলন আর সংযমের এই পবিত্র মাসটি এ বছর গাজাবাসীর কাছে কেবল ইবাদত নয়, বরং ধৈর্য ও অদম্য সাহসে টিকে থাকার এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সূত্র: পিবিএস নিউজ আওয়ার


হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ১০:০৬:৫৫
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা চললেও রণক্ষেত্রে এক বিরল ও শক্তিমত্তার মহড়া দেখাল ইরান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় তেহরান। কাকতালীয়ভাবে ঠিক একই সময়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানি দূতের বাসভবনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এক পরোক্ষ আলোচনায় বসেছিলেন। বিশ্ববাজারে তেলের মোট সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয় বিধায় ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূর্বনির্ধারিত সামরিক মহড়ার স্বার্থে কয়েক ঘণ্টার জন্য এই প্রণালি বন্ধ রাখা হয়। মহড়া চলাকালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সরাসরি তাজা ক্ষেপণাস্ত্র বা লাইভ মিসাইল নিক্ষেপ করে তাদের সক্ষমতার জানান দেয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, আশির দশকের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ বন্ধ করার মতো কঠোর ও দুঃসাহসী ঘোষণা দিল ইরান। মূলত আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সংহত করতেই তেহরান এই কৌশল গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামরিক এই উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বলেন, বিশ্বের শক্তিশালী সেনাবাহিনীগুলোও মাঝে মাঝে এমন চরম আঘাত বা ‘চড়’ খেতে পারে যে, তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করে খামেনি আরও যোগ করেন, বিশাল যুদ্ধজাহাজের চেয়েও বড় বিপদ হলো সেই সব আধুনিক অস্ত্র, যা নিমেষেই জাহাজকে ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাঁর এই মন্তব্যকে সরাসরি মার্কিন রণতরীগুলোর প্রতি প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশারদগণ।

তবে রণক্ষেত্রের এই মারমুখী অবস্থানের বিপরীতে কিছুটা নমনীয় ও আশাবাদী সুর শোনা গেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কণ্ঠে। জেনেভায় জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর জন্য এখন একটি নতুন সুযোগ বা ‘জানালা’ উন্মোচিত হয়েছে। তিনি আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও এটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেকোনো ধরনের বহিঃশত্রুর আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরান সামরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আলোচনা ইতিবাচক মোড় নিয়েছে। তবে তিনি এটিও পরিষ্কার করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা ইরান এখনো মেনে নিতে দ্বিধাবোধ করছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার সীমা নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে ওই অঞ্চলে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক বিশাল সামরিক বহর তৈরি হয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হলেও আলোচনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এখন বিশ্ববাসীর নজর আগামী দুই সপ্তাহের দিকে, যখন ইরান এই অচলাবস্থা নিরসনে তাদের বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

/আশিক

সূত্র: এপি।

পাঠকের মতামত: