ডায়াবেটিস থেকে পাইলস নিরাময়ে জাদুকরী লজ্জাবতী গাছের ব্যবহার

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৪ ২১:২৫:০৭
ডায়াবেটিস থেকে পাইলস নিরাময়ে জাদুকরী লজ্জাবতী গাছের ব্যবহার

উদ্ভিদটিকে মিমোসা বা কোনো কোনো অঞ্চলে স্থানীয় ভাষায় জাদুকরী উদ্ভিদ বা টাচ মি নটও বলা হয়। স্পর্শ করলেই নুয়ে পড়া এই গাছটি অনেকের কাছে কেবল খেলার বস্তু মনে হলেও আয়ুর্বেদে লজ্জাবতী গাছের নানা উপকারিতার কথা বিস্তারিত বর্ণনা করা রয়েছে। এই গাছটি আঘাত পেটের পীড়া ও পাইলসসহ নানা জটিল রোগে ঔষধি রূপে ব্যবহার করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে লজ্জাবতী এমন একটি উদ্ভিদ যা সব ঋতুতেই পাওয়া যায় এবং একে চিরহরিৎ উদ্ভিদও বলা হয়। এই গাছ গ্রামাঞ্চলে যেকোনো স্থানে বা শহরাঞ্চলে ছোট ছোট খাল বিল ইত্যাদির চারপাশে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয়। এর অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে যেমন লজ্জাবতী পাতা পেটে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এবং ডায়রিয়া কমাতে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে লজ্জাবতী গাছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা রোগীর শরীরের ইনসুলিন নিঃসরণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুখবর। এছাড়া যাদের মৃগীরোগ রয়েছে তারাও এই গাছ থেকে উপকার পেতে পারেন। এই গাছের পাতায় প্রদাহ বিরোধী গুণ রয়েছে যা ব্যথা বা ক্ষত উপশমে সাহায্য করে। শরীরের কোথাও আঘাত লাগলে বা কোনো অংশ ফুলে গেলে এই পাতার রস লাগালে ফোলা ভাব কমার পাশাপাশি আরামও পাওয়া যায়। লজ্জাবতী গাছের মূলের পেস্ট বা এর বীজ গুঁড়া করে লাগালেও ফোলাভাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

যাদের পাইলসের মতো কষ্টদায়ক সমস্যা রয়েছে তারা লজ্জাবতী পাতা পিষে তার রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে উপকার পাবেন বলে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। বর্তমানে অনেকেরই অ্যালোপেশিয়া বা অস্বাভাবিক চুল পড়ার সমস্যা রয়েছে। এই অবস্থায় রোগীর বয়সের বিচার না করেই চুল ঝরে পড়তে থাকে। লজ্জাবতী এই রোগের চিকিৎসাতেও সমান সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর মূলের ক্বাথ বানিয়ে পান করলেও নানা উপকার পাওয়া যায়। বিশেষ করে যাদের পেটে পাথরের সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে লজ্জাবতীর শিকড় সকাল ও সন্ধ্যায় পিষে রস বের করে পান করলে পেটে পাথরের সমস্যা দূর হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

সূত্র : নিউজ ১৮


পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি? ডায়েটে রাখুন বিশেষ প্রোটিন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ২১:২২:২১
পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি? ডায়েটে রাখুন বিশেষ প্রোটিন
ছবি : সংগৃহীত

পাকস্থলী ও অন্ত্রের সুস্থতার ওপর আমাদের সামগ্রিক শরীরিক সুস্থতা অনেকাংশেই নির্ভরশীল। হজম প্রক্রিয়ায় সামান্য বিচ্যুতি ঘটলে পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা ডায়রিয়ার মতো কষ্টদায়ক উপসর্গগুলো দেখা দেয়। পুষ্টিবিদদের মতে, এই ধরণের সমস্যা থেকে দীর্ঘমেয়াদী মুক্তি পেতে সঠিক ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে যাদের নিয়মিত হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য প্রোটিন নির্বাচনে সতর্কতা এবং সঠিক খাবার গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়ক ৬টি প্রোটিন উৎস

নানা ধরণের গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা উন্নত করে হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। নিচে এই জাতীয় ৬টি গুরুত্বপূর্ণ খাবারের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো

ঘোল (Buttermilk): ঘোলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সরাসরি কাজ করে। নিয়মিত ঘোল পান করলে তা পাকস্থলীকে শীতল রাখে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাছ ও ওমেগা-৩: সামুদ্রিক মাছ প্রোটিনের এক উৎকৃষ্ট উৎস। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছে বিদ্যমান ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অন্ত্রের দেয়ালের স্বাস্থ্য উন্নত করতে এবং ভালো হজম প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

দই ও প্রোবায়োটিক: দইকে হজমের জন্য অন্যতম সেরা খাবার হিসেবে গণ্য করা হয়। এতে থাকা প্রচুর প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং প্রোটিনের ভালো উৎস হওয়ায় এটি দ্রুত হজমে সহায়তা করে।

তাজা পনির (Paneer): যারা নিরামিষাশী তাঁদের জন্য পনির প্রোটিনের একটি বড় উৎস। তাজা পনির খেলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত হয় এবং এটি নিয়মিত খেলে পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি বা অম্লভাব কমাতে বিশেষ সাহায্য করে।

ডিমের সঠিক ব্যবহার: ডিমে উচ্চমাত্রার প্রোটিন থাকে যা শরীরের জন্য অপরিহার্য। তবে হজমের সুবিধার্থে ডিম অবশ্যই ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া উচিত। সঠিক উপায়ে রান্না করা ডিম শরীর দ্রুত গ্রহণ করতে পারে, যা হজমক্রিয়াকে সহজতর করে।

অঙ্কুরিত মুগ ডাল: অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় অঙ্কুরিত ডাল বা মুগ খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও প্রোটিন থাকে যা পরিপাক নালীর কাজ সচল রাখে। স্বাদ বাড়াতে এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে লবণ, লেবু এবং সামান্য মসলা দিয়ে এটি নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, হজমের সমস্যা কেবল ওষুধের মাধ্যমে নয়, বরং দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব। অন্ত্রকে সুস্থ রাখতে এবং বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এই প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারগুলো আপনার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে।


নিমের ছোঁয়ায় উজ্জ্বল ত্বক; ঘরোয়া উপায়েই মিলবে দাগহীন লাবণ্য

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ২১:১৪:১৩
নিমের ছোঁয়ায় উজ্জ্বল ত্বক; ঘরোয়া উপায়েই মিলবে দাগহীন লাবণ্য
ছবি : সংগৃহীত

ভেষজ চিকিৎসার ইতিহাসে নিম পাতা একটি অতি পরিচিত নাম। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় যুগ যুগ ধরে নানা রোগের চিকিৎসায় এর ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে কেবল শারীরিক সুস্থতা নয়, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধানেও নিম পাতার কার্যকারিতা অতুলনীয়। আধুনিক রূপচর্চা বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে রাসায়নিক প্রসাধনীর চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদানের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, আর সেখানে নিম পাতা রয়েছে তালিকার শীর্ষে।

মুখের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ব্রণ এবং এর ফলে সৃষ্ট জেদি কালো দাগ। নিম পাতায় রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ত্বকের জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে। নিয়মিত নিম পাতার পেস্ট ব্যবহারে ত্বকের প্রদাহ কমে এবং ব্রণ দ্রুত শুকিয়ে যায়। এটি ত্বকের গভীরে গিয়ে ময়লা পরিষ্কার করে এবং মুখকে উজ্জ্বল করে তোলে।

অনেকেই মুখের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব নিয়ে সমস্যায় ভোগেন, যা পরবর্তীতে ব্ল্যাকহেডস বা ব্রণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিম পাতা ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। এটি সব ধরণের ত্বকের জন্যই নিরাপদ। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য নিমের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণাবলী এক ধরণের প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

রোদে পোড়া দাগ কিংবা পিগমেন্টেশনের কারণে অনেকেরই গায়ের রঙ অসম হয়ে যায়। নিয়মিত নিমের ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের মেলানিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা পিগমেন্টেশন কমিয়ে একটি প্রাকৃতিক ও সুন্দর স্কিন টোন পেতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে এবং ত্বককে করে তোলে মসৃণ।

নিম পাতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর শীতল প্রভাব। ত্বকের বিভিন্ন ধরণের এলার্জি, লালচে ভাব কিংবা চুলকানি দূর করতে এটি দারুণ কাজ করে। অ্যালার্জিজনিত অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে নিমের রস বা পাতার ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই সমাদৃত।

বয়সের ছাপ বা বলিরেখা দূর করতে নিম পাতার কোনো বিকল্প নেই। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা ফ্রি-র‍্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ফলে ত্বকের চামড়া কুঁচকে যাওয়া রোধ হয় এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ত্বকের তারুণ্য ও সজীবতা বজায় থাকে।

পরিশেষে বলা যায়, কৃত্রিম প্রসাধনীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে বাঁচতে এবং স্বল্প খরচে ত্বকের স্থায়ী সমাধান পেতে নিম পাতা হতে পারে আপনার সেরা বন্ধু। প্রাকৃতিক উপায়ে নিজের যত্ন নেওয়ার এই সহজ পদ্ধতিটি সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের নিশ্চয়তা দেয়।


ভুল থেকেই কি আসে সাফল্য? ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তরের ১২ উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১০:৫৯:১৫
ভুল থেকেই কি আসে সাফল্য? ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তরের ১২ উপায়
ছবি : সংগৃহীত

জীবনচলার পথে একই সমান্তরালে সবাই হাঁটলেও কেউ দ্রুত সফল হন, আবার কেউ বারবার হোঁচট খান। এই হোঁচট খাওয়া বা ব্যর্থতা অনেক সময় মানুষের মনে গভীর হতাশার জন্ম দেয়। তবে মনোবিজ্ঞানী ও সফল ব্যক্তিত্বদের মতে, ব্যর্থতা কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, বরং এটি নিজেকে আরও শাণিত করার একটি প্রক্রিয়া। যারা ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারেন, তাঁদের চিন্তাভাবনা ও অভ্যাসে সাধারণ মানুষের চেয়ে কিছু মৌলিক পার্থক্য থাকে। মানসিক স্থিতি বজায় রেখে কীভাবে ব্যর্থতাকে সাফল্যের সিঁড়িতে পরিণত করা যায়, সে বিষয়ে ১২টি বিশেষ অভ্যাসের কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

১. ভুলকে নিজের পরিচয় না বানানো

ব্যর্থতাকে সফল মানুষেরা স্রেফ একটি ঘটনা হিসেবে দেখেন, নিজের সত্তা বা পরিচয় হিসেবে নয়। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ র‍্যাশেল ক্যাসাডা লোহম্যানের মতে, প্রতিটি ভুলই একটি নতুন শেখার সুযোগ। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন বা ব্যক্তিগত ব্যর্থতা সাময়িক একটি নিম্নচক্র মাত্র। তারা বিশ্বাস করেন, ধৈর্য ধরলে এই পরিস্থিতি অবশ্যই বদলাবে।

২. সৃজনশীলতায় আনন্দ খুঁজে পাওয়া

যেকোনো ক্ষতির পর হাত গুটিয়ে বসে না থেকে তারা নতুন কিছু গড়ার চেষ্টা করেন। নিজের জন্য ভালো কিছু তৈরি করার এই যে আকুলতা, এটিই তাঁদের আত্মবিশ্বাসের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়ায়। ভুলের ধ্বংসস্তূপের ওপরই তারা ভবিষ্যতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

৩. পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়া

অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে তারা বর্তমানের সঙ্গে মানিয়ে নিতে জানেন। মনোবিজ্ঞানের শিক্ষাবিদ কেন্ড্রা চেরির মতে, মানসিকভাবে নমনীয় মানুষেরা নতুন পরিস্থিতিতে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। খোলা মনের কারণে তারা নেতিবাচক চিন্তা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

৪. বিরতি নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া

ব্যর্থতার পরপরই তারা নতুন কোনো লক্ষ্য অর্জনে অন্ধের মতো দৌড়াতে শুরু করেন না। বরং কিছুটা বিরতি নিয়ে নিজের মন ও পরিবেশ পরিষ্কার করেন। স্বল্প মেয়াদী ভ্রমণ বা একান্ত সময় কাটানো তাঁদের চিন্তাভাবনাকে স্বচ্ছ করে এবং পরবর্তী যুদ্ধের জন্য নতুন শক্তি জোগায়।

৫. ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে হাঁটা

ব্যর্থতা তাঁদের শেখায় পূর্বের ঝুঁকিটি কি বেশি ছিল না কি কম। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা লক্ষ্যগুলো নতুন করে সাজান। ছোট কিংবা বড়—যেকোনো পরিবর্তনই যেন জীবনের উন্নতির দিকে যায়, সেই লক্ষ্যেই তারা অবিচল থাকেন।

৬. বাস্তবতার নিরিখে নিজেকে বিশ্লেষণ করা

তারা নিজেদের ‘বাস্তবতার আয়নায়’ দেখেন। কেন ভুল হয়েছিল, কোথায় সাফল্যের সম্ভাবনা ছিল—এসব বিষয় তারা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন। নিজেদের দক্ষতা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে নতুন করে চিহ্নিত করে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

৭. অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও মেন্টরশিপ গ্রহণ

সাফল্যের পথে একাকী লড়াই না করে তারা এমন মানুষদের সাহায্য নেন যারা আগে একই ধরণের পথ পাড়ি দিয়েছেন। একজন অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ তাঁদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেতে সাহায্য করে এবং কার্যকর সমাধানের পথ দেখায়।

৮. প্রয়োজনীয় সম্পদের সমন্বয় ঘটানো

ব্যর্থতা অনেক সময় সম্পদের ঘাটতি বুঝিয়ে দেয়। তাই নতুন উদ্যোগ শুরুর আগে তারা প্রয়োজনীয় যোগাযোগ বৃদ্ধি করেন এবং নতুন উপকরণ বা পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। তারা জানেন, সঠিক প্রস্তুতিই অর্ধেক সাফল্য।

৯. অটল আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা

নিজের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস হারানো মানেই পরাজয় মেনে নেওয়া। লেখক লুইস হাউসের মতে, আত্মবিশ্বাসই সব কিছুর ভিত্তি। যারা ব্যর্থতাকে শক্তিতে বদলান, তারা নিজেদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন না, বরং প্রতিকূলতাকে জয়ের জেদ বাড়িয়ে দেন।

১০. অন্যের মতামতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দেওয়া

মানুষ কী ভাবছে বা সমাজ কী বলবে—এই চিন্তায় তারা নিজেদের আটকে রাখেন না। তারা জানেন ব্যর্থতা কোনো লজ্জার বিষয় নয়। এটি কেবল একটি সাময়িক অবস্থা, যা স্থায়ী কোনো পরিচয় বহন করে না।

১১. নতুন ও ইতিবাচক মানুষের সান্নিধ্য

ব্যর্থতার গ্লানি কাটাতে তারা নতুন বন্ধু বা ইতিবাচক দলের সাথে পরিচিত হন। ইতিবাচক মানুষের সঙ্গ মানসিক শক্তি বাড়ায় এবং সাফল্যের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। নতুন পরিবেশ তাঁদের নতুন করে ভাবতে শেখায়।

১২. গভীর আত্মবিশ্লেষণে সময় দেওয়া

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা থেকে শেখার জন্য নিজেকে প্রশ্ন করা অত্যন্ত জরুরি। সফল মানুষেরা আত্মবিশ্লেষণে সময় দেন এবং জীবনের বড় স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেন না। বরং নতুন ধারণা নিয়ে প্রতিবার আরও দৃঢ়ভাবে ফিরে আসেন।

ব্যর্থতাকে সাফল্যের সিঁড়িতে রূপান্তর করা সহজ কোনো কাজ নয়। তবে যারা লেগে থাকতে জানেন এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে নতুন করে ভাবতে পারেন, তাঁদের কাছে প্রতিটি ব্যর্থতাই হয়ে ওঠে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার একটি নতুন ধাপ।


গ্যাস সংকটে ত্রাতা ইলেকট্রিক চুলা; ইনডাকশন না ইনফ্রারেড, কোনটি সেরা?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ২১:২৬:২৮
গ্যাস সংকটে ত্রাতা ইলেকট্রিক চুলা; ইনডাকশন না ইনফ্রারেড, কোনটি সেরা?
ছবি : সংগৃহীত

দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও রান্নাবান্নার চিরচেনা দৃশ্য বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে গ্যাস সিলিন্ডার বা লাইনের গ্যাসের অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে গৃহিণীদের বড় ভরসা হয়ে উঠেছে আধুনিক ইলেকট্রিক চুলা। বর্তমানে বাজারে ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড—এই দুই ধরনের ইলেকট্রিক চুলার আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। যদিও দূর থেকে দেখতে এই দুই ধরনের চুলা প্রায় একই রকম মনে হয়, কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এদের তাপ উৎপাদনের প্রক্রিয়া, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার ক্ষমতা এবং ব্যবহারের সুবিধায় ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। সঠিক চুলাটি বেছে না নিতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিলের বোঝা ও ব্যবহারের অসুবিধায় পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা।

ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার প্রধান পার্থক্য মূলত এদের তাপ উৎপাদনের মূলনীতি বা বিজ্ঞানের মধ্যে নিহিত। ইনডাকশন চুলা কাজ করে মূলত ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইনডাকশন’ বা তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ প্রক্রিয়ায়। এই চুলার ভেতরে থাকা কপার কয়েল একটি উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, যা সরাসরি রান্নার পাত্রের ভেতরের অণুগুলোকে উত্তপ্ত করে তোলে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ায় চুলার ওপরের গ্লাসটি নিজে গরম হয় না, বরং সরাসরি পাত্রের তলা গরম হয়ে রান্না সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, ইনফ্রারেড চুলা কাজ করে ‘ইনফ্রারেড রেডিয়েশন’ বা অবলোহিত বিকিরণের মাধ্যমে। এর ভেতরে থাকা রেজিস্ট্যান্স কয়েল বা হ্যালোজেন ল্যাম্প প্রথমে নিজে অত্যন্ত উত্তপ্ত হয় এবং সেখান থেকে বিকিরিত রশ্মি গ্লাস টপ পেরিয়ে রান্নার পাত্রে তাপ সরবরাহ করে।

ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এই দুই চুলার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি হয় রান্নার পাত্র নির্বাচনের সময়। ইনডাকশন চুলা যেহেতু চৌম্বক ক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল, তাই এতে কেবল লোহা বা ফেরোম্যাগনেটিক স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। সাধারণ অ্যালুমিনিয়াম, তামা বা কাচের পাত্র এই চুলায় কাজ করবে না। তবে ইনফ্রারেড চুলার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা অনেকটা স্বাধীন। এটি তাপ বিকিরণের মাধ্যমে কাজ করায় এতে অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল, তামা, কাচ এমনকি মাটির পাত্রেও রান্না করা সম্ভব। যাদের বাড়িতে বৈচিত্র্যময় রান্নার পাত্রের সংগ্রহ রয়েছে, তাদের কাছে ইনফ্রারেড চুলা বেশি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও কার্যকারিতার প্রশ্নে আবার পাল্লা ভারি ইনডাকশন চুলার দিকেই। গবেষণায় দেখা গেছে, ইনডাকশন চুলার তাপীয় কার্যকারিতা প্রায় ৯০ শতাংশ। যেহেতু এখানে তাপ সরাসরি পাত্রের ভেতরে উৎপন্ন হয়, তাই পরিবেশে তাপ অপচয় হওয়ার সুযোগ খুবই কম থাকে। অন্যদিকে, ইনফ্রারেড চুলায় কয়েল থেকে গ্লাস এবং গ্লাস থেকে পাত্রে তাপ পৌঁছানোর সময় অনেকটা তাপ আশেপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে নষ্ট হয়। এর ফলে এর কার্যকারিতা গড়ে ৭০ শতাংশের আশেপাশে থাকে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিলের সাশ্রয় চিন্তা করলে ইনডাকশন চুলাই বিজ্ঞানসম্মতভাবে বেশি লাভজনক।

নিরাপত্তা ও বহুমুখী ব্যবহারের দিক থেকেও এই দুই চুলার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আলাদা। নিরাপত্তার দিক থেকে ইনডাকশন চুলা অনেক এগিয়ে, কারণ রান্না শেষ করার সাথে সাথেই এর উপরিভাগ দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়, ফলে দুর্ঘটনাবশত হাত পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। আবার ইনফ্রারেড চুলার গ্লাস টপ রান্নার পরও বেশ কিছুক্ষণ গরম থাকে, যা অনেক সময় বিপজ্জনক হতে পারে। তবে ইনফ্রারেড চুলার একটি বিশেষ সুবিধা হলো এতে সরাসরি রুটি সেঁকা বা মাংস ঝলসানোর মতো কাজ করা যায়, যা ইনডাকশন চুলায় সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা নিরাপত্তার সাথে বিদ্যুৎ সাশ্রয়কে অগ্রাধিকার দিতে চান, তাদের জন্য ইনডাকশন চুলা সেরা সমাধান। তবে যারা সব ধরনের পাত্রে রান্নার স্বাধীনতা চান, তাদের জন্য ইনফ্রারেড চুলাই হতে পারে কার্যকর বিকল্প।


ইসবগুল না কি চিয়া সিড? ফাইবারের ঘাটতি মেটাতে কোনটি বেশি কার্যকর?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১১:০৫:৫৭
ইসবগুল না কি চিয়া সিড? ফাইবারের ঘাটতি মেটাতে কোনটি বেশি কার্যকর?
ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক জীবনযাত্রায় সুস্থ থাকার জন্য ডায়েটে ফাইবারের গুরুত্ব এখন সর্বজনস্বীকৃত। বিশেষ করে হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানে ইসবগুল (সাইলিয়াম হাস্ক) এবং চিয়া সিড বর্তমানে মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। যদিও এই দুটি উপাদানই প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত, তবে এদের কাজের ধরণ এবং পুষ্টিগত গঠনে রয়েছে এক বিশাল বৈচিত্র্য। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ইসবগুল মূলত দ্রবণীয় ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস। এটি পানির সংস্পর্শে আসা মাত্র তা শোষণ করে জেলির মতো আকার ধারণ করে এবং অন্ত্রের ভেতরে থাকা মলকে নরম করে দ্রুত শরীর থেকে বের করে দিতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, চিয়া সিডকে বলা হয় পুষ্টির পাওয়ার হাউস, যার প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ গ্রাম ফাইবার থাকলেও তার সিংহভাগই অর্থাৎ ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই হলো অদ্রবণীয় ফাইবার। এই অদ্রবণীয় ফাইবার মলের আকার বাড়াতে এবং মল নিষ্কাশন প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার ক্ষেত্রে এই দুটির প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন। ইসবগুল যেহেতু মলকে নরম করে, তাই এটি দ্রুত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে। অন্যদিকে, চিয়া সিড নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস বজায় রাখতে সাহায্য করলেও এটি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে কিংবা পর্যাপ্ত পানি পান না করলে উল্টো কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ইসবগুলের ভূমিকা অনবদ্য। এটি এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে এবং ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে কার্যকর। উচ্চ রক্তচাপে ভোগা ব্যক্তিদের জন্যও ইসবগুল একটি নিরাপদ এবং কার্যকরী বিকল্প। যদিও চিয়া সিড লিপিড প্রোফাইল উন্নত করতে এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক, তবে এর কার্যকারিতা অনেকাংশেই এটি খাওয়ার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ইসবগুল ও চিয়া সিড—উভয়ই বেশ জনপ্রিয়। এই দুটি উপাদানই পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়, যার ফলে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা কমে আসে এবং পরোক্ষভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে পুষ্টিগুণের সূক্ষ্ম বিচারে চিয়া সিড অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। ইসবগুল যেখানে মূলত ফাইবার এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের জন্য জনপ্রিয় এবং এতে ক্যালোরির পরিমাণও বেশ কম, সেখানে চিয়া সিড কেবল ফাইবারই দেয় না বরং এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ভাণ্ডার। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে চিয়া সিডের পুষ্টিগুণ অপরিহার্য।

একজন ব্যক্তির জন্য কোন ফাইবারটি সেরা হবে তা নির্ভর করে তাঁর শরীরের বর্তমান অবস্থা এবং লক্ষ্যের ওপর। যদি কারও প্রধান লক্ষ্য হয় রক্তচাপ ও শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত কোলেস্টেরল কমানো, তবে তাঁর জন্য ইসবগুল হবে সেরা পছন্দ। আবার কেউ যদি ওজন কমানোর পাশাপাশি ত্বক উজ্জ্বল রাখা, শরীরে ওমেগা-৩-এর যোগান দেওয়া এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চান, তবে তাঁর জন্য চিয়া সিড একটি উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে। পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দেন যে, যেকোনো ফাইবার জাতীয় খাবার গ্রহণের সময় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা আবশ্যক, অন্যথায় তা হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। সুতরাং, আপনার শরীরের সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ফাইবারের উৎস নির্বাচন করাই হবে সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ।


এলপিজি সংকটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ; রান্নায় গ্যাস বাঁচানোর উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ২১:১২:১৬
এলপিজি সংকটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ; রান্নায় গ্যাস বাঁচানোর উপায়
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমানে দেশের জ্বালানি বাজারে বিশেষ করে এলপিজি বা সিলিন্ডার গ্যাসের দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। অনেক এলাকায় চাহিদামত গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি এই সংকটের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সিলিন্ডার প্রতি অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো আর্থিকভাবে নাজেহাল হয়ে পড়ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারের এই অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় কেবল প্রশাসনিক নজরদারি যথেষ্ট নয়, বরং ভোক্তাদের নিজেদের রান্নার প্রক্রিয়া এবং চুলা ব্যবহারের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি। কিছু সাধারণ নিয়ম ও বৈজ্ঞানিক কৌশল মেনে চললে রান্নার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব, যা বর্তমান বাজারে টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে।

সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সতর্কতার জায়গা হলো ক্রয়কালীন সজাগ দৃষ্টি রাখা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সিলিন্ডারে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম গ্যাস থাকে, যা একজন সাধারণ ভোক্তার জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই গ্যাস কেনার সময় অবশ্যই ওজন যাচাই করে নেওয়া উচিত। ডেলিভারি গ্রহণের সময় ওজন মাপার যন্ত্র ব্যবহার করে সঠিক মাত্রা নিশ্চিত না হয়ে সিলিন্ডার কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রান্নার সময় আগুনের তাপ বা আঁচে নিয়ন্ত্রণ রাখা গ্যাস সাশ্রয়ের অন্যতম প্রধান শর্ত। উচ্চ তাপে রান্না করলে গ্যাসের অপচয় যেমন বাড়ে, তেমনই খাবারের প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণও নষ্ট হয়ে যায়। তাই মাঝারি বা কম আঁচে রান্না করলে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি খাবারের মানও অটুট থাকে।

রান্নার সময় পাত্র ঢেকে রাখার অভ্যাসটিও অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে প্রমাণিত হয়েছে। ঢাকনা দিয়ে রান্না করলে ভেতরের বাষ্প আটকে থাকে এবং খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়, যা সরাসরি গ্যাসের খরচ কমিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ হাঁড়ির পরিবর্তে প্রেসার কুকার ব্যবহার করতে পারলে সময় ও জ্বালানি উভয়ই সাশ্রয় করা সম্ভব। এছাড়া রান্নার আগে প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে চাল, ডাল বা বিভিন্ন ধরণের দানাশস্য রান্নার কয়েক ঘণ্টা আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সেগুলো দ্রুত নরম হয় এবং সেদ্ধ হতে খুব কম সময় নেয়। এটি কেবল গ্যাসের খরচই কমায় না, বরং রান্নার সময়কেও সংক্ষিপ্ত করে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে চুলা বা বার্নারের সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণও গ্যাস সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা রাখে। বার্নারে ময়লা জমলে গ্যাসের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং আগুন নীল না হয়ে হলদেটে হয়ে যায়, যা অপচয়ের লক্ষণ। তাই নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার রাখা এবং সঠিক আকারের বার্নারে সঠিক পাত্র ব্যবহার করা জরুরি। রান্না শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে প্রয়োজনীয় সমস্ত উপকরণ হাতের কাছে গুছিয়ে রাখা এবং গ্যাস জ্বালিয়ে উপকরণ খোঁজার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভেজা পাত্র সরাসরি চুলায় না দেওয়া; কারণ পাত্রের পানি শুকাতে গিয়েও কিছুটা মূল্যবান গ্যাস নষ্ট হয়। শুকনো কড়াই বা হাঁড়ি চুলায় বসালে সময় ও গ্যাস উভয়ই বাঁচানো সম্ভব। এই ধরণের ছোট ছোট সচেতনতা বর্তমানের অস্থির বাজার পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোকে বড় ধরণের আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি দিতে পারে।


গুড়ে মিশছে চিনি ও ক্ষতিকর রং; ভেজাল এড়িয়ে চলবেন যেভাবে

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ২১:০৩:৪৪
গুড়ে মিশছে চিনি ও ক্ষতিকর রং; ভেজাল এড়িয়ে চলবেন যেভাবে
ছবি : সংগৃহীত

শীতের আগমনের সাথে সাথেই গ্রামবাংলার জনপদে বয়ে চলে খেজুরের রসের এক মিষ্টি আমেজ এবং বাতাসে ভেসে আসে খেজুরের গুড়ের সেই চিরাচরিত সুগন্ধ। বাঙালি সংস্কৃতিতে শীতকালীন পিঠা, পায়েস কিংবা তালের পিঠার স্বাদ যেন এই গুড় ছাড়া অপূর্ণ থেকে যায়। তবে খেজুরের গুড় কেবল স্বাদের জন্যই নয়, বরং এর আকাশচুম্বী পুষ্টিগুণের কারণে এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত। পুষ্টিবিদদের মতে, এই গুড়ে প্রচুর পরিমাণে লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, সেলেনিয়াম এবং পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করে। সাধারণত শীতের সকালে সংগৃহীত খেজুর গাছের টাটকা রস বড় পাত্রে দীর্ঘ সময় জ্বাল দিয়ে ঘন করার মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী গুড় তৈরি করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে খাঁটি গুড়ের জায়গা দখল করে নিচ্ছে ক্ষতিকর ভেজাল মিশ্রিত গুড়।

এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে রসের সাথে প্রচুর পরিমাণে চিনি, ফিটকিরি এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে কৃত্রিম রাসায়নিক রং মিশিয়ে বাজারে ভেজাল গুড় সরবরাহ করছে। এই ধরণের কৃত্রিম গুড়ে প্রকৃত গুড়ের সেই স্বাভাবিক ঘ্রাণ বা স্বাদ থাকে না, বরং তা মানবদেহের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভেজাল গুড় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ভোক্তাদের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, খাঁটি খেজুরের গুড় সাধারণত গাঢ় বাদামি বা কালচে লালচে রঙের হয়ে থাকে। বিশেষ করে পাটালির ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, আসল গুড় কিছুটা নরম হয় এবং ভাঙলে এর ভেতরে এক ধরণের হালকা রসাল ভাব লক্ষ্য করা যায়। খাঁটি গুড় হাতে নিলে তা অতিরিক্ত চকচকে লাগে না এবং এর স্বাদ হয় একদম স্বাভাবিক মিষ্টি, যা মুখে দিলে শরীরে এক ধরণের প্রাকৃতিক উষ্ণতা তৈরি করে।

অন্যদিকে, বাজারে পাওয়া যাওয়া ভেজাল বা মিশ্রিত গুড় চেনার কিছু স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে যা সাধারণ চোখেই ধরা সম্ভব। এই ধরণের গুড় দেখতে অস্বাভাবিকভাবে চকচকে এবং এর পাটালি অত্যন্ত শক্ত থাকে। অনেক ক্ষেত্রে গুড়ের রং হয় ফ্যাকাশে বা সাদাটে ধরনের, যা কৃত্রিম রং ও ফিটকিরির ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। যদি গুড়ের স্বাদ নোনতা বা তিতা লাগে, তবে ধরে নিতে হবে এতে লবণ বা ফিটকিরি মেশানো হয়েছে। এছাড়া গুড়ের ভেতরে যদি স্ফটিকের মতো ছোট ছোট দানা দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে মিষ্টতা বাড়ানোর জন্য এতে প্রচুর পরিমাণে সাধারণ চিনি মেশানো হয়েছে। শীতের মৌসুমে সুস্থ থাকতে এবং পিঠা-পুলির আসল স্বাদ উপভোগ করতে ভোক্তাদের কেবল কম দাম বা উজ্জ্বল রঙের ওপর নির্ভর না করে গন্ধ, স্বাদ ও গঠন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে গুড় কেনা উচিত। সঠিক সচেতনতাই পারে এই ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উপাদানটিকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর রাখতে।


খাঁটি না কি বিষ? সরিষার তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ৫টি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১১:৩৭:১২
খাঁটি না কি বিষ? সরিষার তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ৫টি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
ছবি : সংগৃহীত

বাঙালি ভোজনরসিকদের রসনা বিলাসে সরিষার তেলের ঝাঁঝালো সুগন্ধ এবং স্বাদ এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। মাছ ভাজা থেকে শুরু করে আলু সেদ্ধ কিংবা শীতের দুপুরের ভর্তা—সবকিছুতেই সরিষার তেলের উপস্থিতি যেন খাবারের স্বাদকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারের এই অন্যতম প্রধান ভোজ্যতেলের বিশুদ্ধতা নিয়ে তৈরি হয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে সস্তা পাম তেল, মিনারেল অয়েল এমনকি মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর ‘আর্জিমন’ বা শিয়ালকাঁটার তেল মিশিয়ে বাজারে সরিষার তেলের সরবরাহ বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভেজাল তেল নিয়মিত গ্রহণের ফলে হৃদরোগ, স্থায়ী অন্ধত্ব এবং ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা ঘরে বসেই তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন যা অনুসরণ করলে বাজার থেকে কেনা তেলের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

সরিষার তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকরী একটি পদ্ধতি হলো ‘ফ্রিজিং টেস্ট’। একটি ছোট কাঁচের বাটি বা বোতলে সামান্য পরিমাণ তেল নিয়ে সেটি ফ্রিজারে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য রেখে দিলে তেলের গুণমান বোঝা যায়। খাঁটি সরিষার তেল কখনোই হিমাঙ্কের নিচে তরল অবস্থা হারায় না বা জমে যায় না; অন্যদিকে তেলের ওপরের অংশে যদি সাদা আস্তরণ দেখা যায় বা তেলটি ঘনীভূত হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে এতে পাম তেল বা অন্য কোনো সস্তা তেলের মিশ্রণ রয়েছে। এছাড়া হাতের তালুতে ঘষেও তেলের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। অল্প পরিমাণ তেল হাতের তালুতে নিয়ে ভালো করে ঘষলে যদি খাঁটি তেলের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ পাওয়া যায় এবং তালুতে কোনো কৃত্রিম রঙের দাগ না লাগে, তবে তা ব্যবহারের জন্য নিরাপদ। যদি ঘষার পর কোনো অপ্রাকৃতিক রাসায়নিক গন্ধ বা রঙের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তবে নিশ্চিত হতে হবে যে এতে কৃত্রিম সুগন্ধি বা বিষাক্ত রঙ মেশানো হয়েছে।

রাসায়নিক পরীক্ষার মধ্যে ‘নাইট্রিক এসিড পরীক্ষা’ সবচেয়ে নির্ভুল ফলাফল প্রদান করে। একটি কাঁচের পাত্রে সামান্য তেলের সাথে কয়েক ফোঁটা নাইট্রিক এসিড যোগ করলে যদি তেলের রঙের কোনো পরিবর্তন না হয়, তবে সেটি বিশুদ্ধ। কিন্তু মিশ্রণটি যদি লাল বা কমলা রঙ ধারণ করে, তবে তাতে বিষাক্ত আর্জিমন তেলের উপস্থিতি প্রমাণিত হয় যা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকিস্বরূপ। রান্নার সময় কড়াইতে তেলের আচরণের ওপর লক্ষ্য রাখলেও ভেজাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। খাঁটি সরিষার তেল কড়াইতে দেওয়ার সাথে সাথে ধোঁয়া ছাড়ে না এবং এর ঝাঁঝালো গন্ধ চোখ ও নাকে এক ধরণের জ্বালা ধরায়। যদি তেল গরম হতেই সাদাটে ধোঁয়া বের হয় এবং কোনো ঝাঁঝ অনুভূত না হয়, তবে সেই তেলে ভেজালের সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া তেলের রঙের গভীরতা দেখেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন; কারণ খাঁটি তেল সাধারণত গাঢ় সোনালি বা লালচে হলুদ হয়ে থাকে, যেখানে খুব হালকা হলুদ রঙের স্বচ্ছ তেল মিনারেল অয়েলের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। তাই সুস্থ থাকতে খোলা তেলের পরিবর্তে সর্বদা স্বীকৃত ‘অ্যাগমার্ক’ চিহ্নযুক্ত বোতলজাত তেল কেনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস


অবহেলিত মুলার আকাশচুম্বী গুণ: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় কেন এটি অপরিহার্য?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১১:১৮:১৯
অবহেলিত মুলার আকাশচুম্বী গুণ: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় কেন এটি অপরিহার্য?
ছবি : সংগৃহীত

শীতকালীন সবজির তালিকায় মুলার কদর অনেকের কাছে কিছুটা কম মনে হলেও এর স্বাস্থ্যগত উপযোগিতা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বিস্ময়কর অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বাদে কিছুটা তিতা বা ঝাঁঝালো হওয়ার কারণে অনেকে এটি এড়িয়ে চললেও রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে মুলা এক অনন্য প্রাকৃতিক দাওয়াই। হজমশক্তি বৃদ্ধি করা থেকে শুরু করে ত্বকের উজ্জ্বলতা রক্ষা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই সবজিটি জাদুর মতো কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে শীতের এই সময়ে যখন শরীরে রোগব্যাধির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, তখন সহজলভ্য এই সবজিটি কেন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি, তা নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক মতামত পাওয়া গেছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি হওয়ার কারণে মুলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে শরীরের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের তথ্য অনুযায়ী, খাবারের আগে মুলা গ্রহণ করলে শরীরে পিত্ত উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা গৃহীত খাদ্য দ্রুত হজমে সরাসরি সহায়তা করে। শুধু হজম নয়, প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং রাফানিন নামক উপাদানের উপস্থিতির কারণে এটি শরীরের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, যা সাধারণ ঠান্ডা এবং ফ্লু জাতীয় সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এছাড়া রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এর বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে; কারণ মুলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অত্যন্ত কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এক আদর্শ খাবার হিসেবে গণ্য হয়।

দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশেষ করে লিভার ও কিডনি পরিষ্কার রাখতে মুলার রস বা এর ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে প্রাকৃতিক ডিটক্স হিসেবে কাজ করে। মুলার উপকারিতা কেবল অভ্যন্তরীণ সুস্থতাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শরীরের বাহ্যিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতেও এটি সমানভাবে পারদর্শী। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে এবং ব্রণের সমস্যা কমিয়ে ত্বকে এক ধরণের প্রাকৃতিক আভা তৈরি করে। এছাড়া বর্তমান সময়ে অনেকের মধ্যে দেখা দেওয়া হাড়ের প্রদাহ বা বাতের ব্যথা কমাতেও মুলা সক্রিয় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

তবে সবকিছুর মতো মুলার ব্যবহারেও কিছু নির্দিষ্ট সতর্কতা মেনে চলা আবশ্যক। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা মুলা খেলে হজমে ব্যাঘাত ঘটে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মুলা গ্রহণ করা অনুচিত হতে পারে। এছাড়া খাদ্য সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলাও জরুরি; যেমন দুধ বা মাছের সাথে মুলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মূলত সঠিক নিয়ম ও পরিমিতিবোধ বজায় রেখে শীতকালীন এই সবজিটি খাদ্যতালিকায় যুক্ত করলে খুব সহজেই একটি নিরোগ ও সতেজ শরীর বজায় রাখা সম্ভব।

পাঠকের মতামত: