মৃত্যুপুরী তেহরান: মহামারির চেয়েও ভয়ংকর নীরবতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৬ ১০:৫৭:২৭
মৃত্যুপুরী তেহরান: মহামারির চেয়েও ভয়ংকর নীরবতা
ছবি : সংগৃহীত

তেহরান এখন মৃত শহর। মহামারির দিনের মতোই ফাঁকা। ভিপিএনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রবেশ করা এক নাগরিক এ তথ্য বিবিসিকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যস্ততম এলাকা ইরানশাহর স্ট্রিটে বেশির ভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে।

ওই বাসিন্দা বলেন, ‘এটা একটা অদ্ভুত অনুভূতি– কিছু দিক দিয়ে মহামারির দিনের মতোই। সবাই ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করছে। তারা জানে না, পরবর্তী সময় কী হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে আমরা জানি, আজ হোক কাল হোক, এটা শেষ হবে। জীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘ছবি ও ভিডিও তোলা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ইরানশাহর রাস্তার একটি স্ন্যাপশট তিনি শেয়ার করেছেন। এটি সেই একই জায়গা, যেখানে কয়েক মাস আগে একটি রক ব্যান্ড গান গেয়ে ভাইরাল হয়েছিল। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার শিল্পীদের সংগীত পরিবেশন নিষিদ্ধ করে।’

আরেকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিবিসিকে জানান, তিনি পাঁচ দিন পর তাঁর বাড়ি ছেড়ে তেহরানের নাফত স্ট্রিট দিয়ে হেঁটেছেন। এটি একটি আবাসিক এলাকা। গত সোমবার রাতে এক্সপিডিয়েন্সি ডিসকার্নমেন্ট কাউন্সিলের প্রশাসনিক ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সড়কে নিরাপত্তা বাহিনী কাছাকাছি চেক পয়েন্ট স্থাপন করেছে। সৌভাগ্যবশত তারা তাঁকে থামায়নি। কাছের ইরানশাহর স্ট্রিট ছিল সম্পূর্ণরূপে মৃত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রদেশে ব্যাপক সংখ্যক বিস্ফোরণ ঘটেছে। যুদ্ধের ষষ্ঠ দিন বৃহস্পতিবার ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইসরায়েলের দিকে। গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ইরানে এক হাজার ৪৫ জনসহ বিভিন্ন দেশে এক হাজার ৩৩৮ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান রোধের প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে ৫৩-৪৭ ভোটে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি দেখবে। তেহরানে শুধু মৃত্যু ও ধ্বংস দৃশ্যমান হবে। ইরান তার নাগরিকদের পানি ও জ্বালানি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা বাড়িয়েছে ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩৪৮ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইরানে ১৭৫ স্কুলছাত্রীসহ এক হাজার ২৩০ জন। ইসরায়েলে ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭-এ। এ ছাড়া বাহরাইনে একজন, কুয়েতে দুই কুয়েতি সেনাসহ তিনজন, ওমানে একজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ছয় সদস্য, সিরিয়ায় চারজন এবং ইরাকে ১১ মিলিশিয়াসহ ১৩ জন। ইরানে হামলায় সমর্থন দেওয়ায় ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। তেহরানের নেতৃত্ব এখন পুরোপুরি বিপর্যস্ত। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা এখন অনেক শক্তিশালী অবস্থানে আছি এবং ইরানের নেতৃত্ব দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। যারা সেখানে নেতা হতে চাচ্ছেন, দেখা যাচ্ছে তাদের সবারই মৃত্যু হচ্ছে।’

ইরানের রাজধানী তেহরানে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও ব্যাপক হামলা হয়েছে। তেহরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাঝেমধ্যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। কেবল রাজধানী নয়, দেশের অন্যান্য শহর থেকেও সামরিক সদরদপ্তর ও রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে একই ধরনের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে এবং ছয় হাজারের বেশি মানুষ আহত।

বৃহস্পতিবার আজারবাইজানে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ইরান এ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উত্তর উপসাগরে একটি ট্যাঙ্কারে হামলা করার দাবি করেছে ইরান। ট্যাঙ্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের বলে উল্লেখ করেছে তেহরান। তুরস্কের আকাশসীমায় ঠেকিয়ে দেওয়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের ঘটনার ব্যাপারেও ইরান অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইরাক সীমান্তে ‘কুর্দি সন্ত্রাসী’দের উপস্থিতির ব্যাপারে বাগদাদকে সতর্ক করেছেন। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমার বাইরে ইরানি নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ডুবিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নৃশংসতা ঘটিয়েছে। এ জন্য তাদের অনুশোচনা করতে হবে। তবে ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি বলেছেন, জীবন ও নিরাপত্তার ক্ষতি করে সামরিক উত্তেজনার অংশ হওয়া আমাদের উচিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ইরানে দুই হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে দেশটির শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। লেভিট বলেন, এই অভিযানের ফলে ইরানের আকাশসীমার সর্বত্র এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। লেভিট জানান, অভিযানে ইরানের ২০টি নৌযান ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা উপকূলে ডুবিয়ে দেওয়া একটি সাবমেরিনও রয়েছে।

ইরানের পাল্টা হামলা অব্যাহত এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ১৭ ও ১৮তম দফার হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, তারা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশটির বেশ কিছু উন্নত রাডার সিস্টেমকে সফলভাবে নিশানা করেছে। এ ছাড়া কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আরিফজানে মার্কিন বাহিনীর ওপর আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরান গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলকে নিশানা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর জেরে লাখো ইসরায়েলি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে বাধ্য হন। তবে ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থার বরাত দিয়ে এএফপি বলছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। জেরুজালেমেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণার পর নৌরুট এড়িয়ে চলছে পণ্যবাহী জাহাজ। ইসরায়েলে ইরানি হামলার খবর দিয়েছে বিবিসি। তেল আবিব ও জেরুজালেমে হামলার সতর্কতা হিসেবে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। আকাশ হামলা প্রতিহত করার সময় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।

আলজাজিরা জানায়, কাতার, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বাহরাইন প্রতিরক্ষা বাহিনী ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ৭৫টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২৩টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে এএফপি। এখানকার মার্কিন দূতাবাসের কাছের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে কাতার।

আইআরজিসির নৌবাহিনী গতকাল সকালে উত্তর উপসাগরে একটি মার্কিন ট্যাঙ্কারে আঘাত করেছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এ অঞ্চলে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের অবশ্যই আঘাত করা হবে। আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আমরা আগেই বলেছিলাম, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে ইরানের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, কুয়েত উপকূলে একটি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ঘটেছে। সব ক্রু নিরাপদে আছেন।

মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী এখন পর্যন্ত ইরানের ১০৫টি বেসামরিক স্থানে আক্রমণ করেছে। ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে তারা ইরানে এক হাজার ৩৩২টি আক্রমণ রেকর্ড করেছে। এগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ১০৫টি বেসামরিক স্থানে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি চিকিৎসাকেন্দ্র ও সাতটি রেড ক্রিসেন্ট ভবন অন্তর্ভুক্ত। ইরানের ১৭৪টি শহরে হামলা হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় এক পরিবারের চার সদস্যসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। ইরানের কোমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় হামলা করেছে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গতকাল ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন আটজন। দেশটিতে তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। ৩২০টির বেশি স্থানে হামলা হয়েছে। যুদ্ধের সময় ৩০০টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ১১ হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, ইরানের জনগণকে ইচ্ছা করে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিন হাজার ৬০০টির বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন ওড়াউড়ি করছে দুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি বাগ্‌যুদ্ধও চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল এক্স পোস্টে বলেছেন, ইরানের কার্যকর হামলায় যুক্তরাষ্ট্র বেদনাদায়ক ক্ষতি ভোগ করেছে। ওয়াশিংটনের ‘কোনো প্রস্থান পরিকল্পনা নেই’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গালিবাফ বলেন, ইরান আগ্রাসন পরিচালনাকারীদের শেষ শাস্তি না দেখা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। এর আগে বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সেক্রেটারি পিট হেগসেথ ইরানের নেতাদের ‘অহংকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ এ লড়াই চালিয়ে যাব।’ অন্যদিকে ইরানি জেনারেল কিওমারস হায়দারি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ইরান তার লক্ষ্য অর্জন না করা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর আঘাত না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পরিত্যাগ করবে না।

আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাখচিভান এক্সক্লেভের একটি বিমানবন্দরে দুই ড্রোন আঘাত হেনেছে। বিবৃতিতে এ হামলার জন্য ইরানকে ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, আজারবাইজান তেহরানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে। মন্ত্রণালয় জানায়, একটি ড্রোন ইরান সীমান্তের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে পড়ে। আরেকটি পড়ে নিকটবর্তী গ্রামের একটি স্কুল ভবনের কাছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই ড্রোন হামলার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আজারবাইজান।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, চলমান যুদ্ধের সময় রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র পাঠানোর জন্য কোনো অনুরোধ পায়নি। মস্কো ইরানকে অস্ত্রসহ বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে কোনো অনুরোধ আসেনি। অবশ্য ইরান ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে।রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে আরব দেশগুলোকে যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচিকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর ইউরোপীয় দেশগুলো সেখানে যুদ্ধসরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটো সংসদকে জানিয়েছেন, আগামী দিনে দ্বীপটিকে রক্ষা করার জন্য ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাদ্রিদ একটি ফ্রিগেট পাঠাবে। ফ্রান্সও এতে যুক্ত হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ অর্থনীতির ক্ষতি করছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটা শেষ করা উচিত।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ ঘোষণা দিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘সামরিক সরঞ্জাম’ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। যুক্তরাজ্য আরও চারটি টাইফুন জেট পাঠাচ্ছে কাতারে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ ঘোষণা দেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সতর্কতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলাফল তাদের ভোগ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি ছিল। ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার এক্স পোস্টে আব্বাস আরাঘচি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে খারাপ নজির স্থাপন করেছে, তার জন্য তারা তীব্র অনুশোচনা করবে। বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ‘আইআরআইএস দিনা’ নামের ইরানি যুদ্ধজাহাজে সাবমেরিন থেকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে জাহাজটি ডুবে যায়।শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ঘটনায় তারা ৮৭ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ৩২ জনকে। জাহাজটিতে ১৮০ জনের মতো আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ। তিনি বলেন, ইরানের হুমকির কারণে সেখানে বিপুল সংখ্যক নাবিক আটকা পড়েছেন। ফলে ওই অঞ্চলে নৌ-বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে বিভিন্ন প্রমোদতরীর আরও প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারে মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেবেন ট্রাম্প।

উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টির (পিএকে) কর্মকর্তা খলিল নাদিরি জানান, তাদের বাহিনী সুলাইমানিয়া প্রদেশে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। তারা প্রস্তুত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুর্দি বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়কে সমর্থন করেছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘কুর্দিরা উদ্যোগ নিতে চায়; আমি এর পক্ষে।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে অন্তত ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ সংখ্যার মধ্যে গত কয়েক দিনে তেহরান থেকে পালিয়ে যাওয়া আনুমানিক ১ লাখ মানুষ, লেবাননে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া ৮৪ হাজারেরও বেশি এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আসা যে কোনো হামলা থেকে জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রক্ষা করার জন্য ন্যাটো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের বৈঠকের পর ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এ কথা জানান।

/আশিক


এফবিআই ড্রোন হ্যাকের দাবি, বিশ্বকাপকে ঘিরে সাইবার হুমকি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ১২:০৩:৪২
এফবিআই ড্রোন হ্যাকের দাবি, বিশ্বকাপকে ঘিরে সাইবার হুমকি
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের আবহের মধ্যেই নতুন এক সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ইরান-সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত একটি হ্যাকার গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর ড্রোন ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি তথ্যের অ্যাক্সেস ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তারা পরোক্ষ হুমকিও দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, উগ্রপন্থী ও সাইবার গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘হান্দালা’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী নিজেদের বিবৃতিতে দাবি করেছে যে তারা কয়েক মাস ধরে এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোন থেকে সংগৃহীত তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।

গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, এসব ড্রোনে অত্যাধুনিক মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং যানবাহনের নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা যুক্ত ছিল। তাদের ভাষ্যমতে, ড্রোনগুলো সন্ত্রাসবিরোধী নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো এবং তারা এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগৃহীত ছবি ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তথ্য দেখতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত বিবৃতিতে হান্দালা সতর্কতামূলক ভাষায় উল্লেখ করেছে যে আয়োজকরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা যতই জোরদার করুক না কেন, আকাশপথের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে ড্রোন প্রযুক্তি এখন সর্বত্র উপস্থিত এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

তবে হ্যাকারদের এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। সংস্থাটি বলছে, হান্দালা যে ভিডিও ও ছবিগুলো প্রকাশ করেছে তার কিছু উপাদান আগেই জনসমক্ষে ব্যবহৃত হয়েছিল। বিশেষ করে একটি ভিডিও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রচারণামূলক উপস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

সাইটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভিডিওটির একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের একটি পুলিশ বিভাগের টর্নেডো-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত প্রযুক্তির ডেমোনস্ট্রেশন ছিল। ফলে হান্দালার প্রকাশিত সব উপকরণ যে এফবিআইয়ের হ্যাক হওয়া ড্রোন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, সে দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। আয়োজক শহর ও স্টেডিয়ামগুলোর আশপাশে এফবিআই, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ফেডারেল সংস্থাগুলো উন্নত ড্রোন নজরদারি ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে স্টেডিয়াম এলাকা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানস্থলের আকাশসীমায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়নও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক ক্রীড়া আসরগুলোতে ড্রোন-ভিত্তিক হুমকি মোকাবিলা এখন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কারণ ছোট আকারের ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠেছে।

এই ঘটনার পেছনে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং তেহরানকে কেন্দ্র করে সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্ভাব্য ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলা সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তখন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলোতে সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে।

হান্দালা নামটি এর আগেও আলোচনায় এসেছে। গত মার্চে গোষ্ঠীটি দাবি করেছিল যে তারা এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছে। পরে অনলাইনে কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য প্রকাশ করা হয়, যদিও সেসব দাবির পূর্ণ সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ছিল।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ এই গোষ্ঠীকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। হান্দালার সদস্যদের শনাক্ত করতে সহায়ক তথ্য দিলে সর্বোচ্চ এক কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র গোষ্ঠীটিকে সম্ভাব্য সাইবার হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

-রাফসান


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়ায় কী আছে? জানালেন কূটনীতিক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১৯:২২:২০
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়ায় কী আছে? জানালেন কূটনীতিক
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটাতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তির খসড়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ চুক্তির খসড়ার মৌলিক বিষয়গুলোতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনার কাঠামো তৈরির বিষয়গুলোকে চুক্তির কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত খসড়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে ৬০ দিনের বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়েও চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, ইরান কোনো ধরনের অতিরিক্ত ট্রানজিট ফি বা শুল্ক ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট পুনরায় উন্মুক্ত করবে। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালীটি স্বাভাবিকভাবে চালু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে, স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক শিপিং খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন বন্দর ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তির বাস্তবায়ন অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে শিথিল করার বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

পারমাণবিক কর্মসূচি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ দূর করার লক্ষ্যও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন প্রতিশ্রুতি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলার বিষয়গুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পরবর্তী পর্যায়ে পৃথক ও বিস্তৃত আলোচনা চালানো হবে।

কূটনৈতিক মহলে আলোচিত আরেকটি বিষয় হলো সম্ভাব্য চুক্তির নাম। সূত্র অনুযায়ী, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এগিয়ে চলা এই সমঝোতা চূড়ান্ত হলে এর নাম হতে পারে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’। আলোচনায় দুই দেশের সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এমন নাম বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে চুক্তির সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি—বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি তহবিল মুক্ত করা—খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ ছাড়ের দাবি জানিয়ে আসছিল তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, জ্বালানি পরিবহন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে নিবিড় আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা কাছাকাছি এসেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছে এবং খুব শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইউরোপে সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।

আরেক কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্যমতে, সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকায় জেনেভাকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভেন্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে অপরদিকে ইরান এখনো সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চুক্তি নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে তার অনেকটাই ‘জল্পনা-কল্পনা’ এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটছে না।

সূত্র : সিএনএন


বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১৯:১৬:৪৮
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের মহাকাশ প্রযুক্তি খাতে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি (আইপিও) থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের খবর আন্তর্জাতিক আর্থিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার বা ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, যা ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শেয়ার ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্পেসএক্সের শেয়ার প্রতি মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দামে প্রায় ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের মূলধন সংগ্রহ করা হয়। এর ফলে মহাকাশ অনুসন্ধান, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং বাণিজ্যিক মহাকাশ পরিবহন খাতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি ও মহাকাশ কোম্পানিগুলোর কাতারে উঠে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিটির অবস্থান বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে আরও শক্তিশালী হতে পারে।

‘এসপিসিএক্স’ প্রতীকে নাসডাকে লেনদেন শুরু হলে স্পেসএক্স বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অন্যতম হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এবং মহাকাশ পরিবহন খাতে কোম্পানিটির বিস্তৃত কার্যক্রম বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

আইপিও-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির পরও কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ দৃঢ়ভাবে ইলন মাস্কের হাতেই থাকবে। তার কাছে প্রায় ৮৪ কোটি ৯৫ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার এবং ৫৫৭ কোটির বেশি ক্লাস-বি শেয়ার থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে কোম্পানির ভোটিং ক্ষমতার প্রায় ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

বাজারমূল্যের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন শেয়ারের মূল্য প্রায় ৮৬৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে তার অন্যান্য ব্যবসা বিশেষ করে Tesla, xAI এবং X-এ থাকা সম্পদের মূল্য যোগ করলে তাকে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রিলিয়নিয়ার উপাধি কেবল ব্যক্তিগত সম্পদের প্রতীক নয়; এটি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দ্রুত বিস্তারেরও একটি প্রতিফলন। গত এক দশকে মহাকাশ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে যে বিপ্লব ঘটেছে, ইলন মাস্ক তার অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী।

স্পেসএক্স বর্তমানে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি, স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক এবং গভীর মহাকাশ অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশকে বাণিজ্যিক মহাকাশ অর্থনীতির আকার কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যেখানে স্পেসএক্সের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

-রাফসান


জেডি ভ্যান্সের সফর জল্পনা, বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির সম্ভাবনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১৪:২০:০৩
জেডি ভ্যান্সের সফর জল্পনা, বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির সম্ভাবনা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের পর এবার নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মার্কিন বিমানবাহিনীর চারটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান ইউরোপের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এসব বিমানে বহন করা সরঞ্জাম মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সম্ভাব্য জেনেভা সফর এবং একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন রয়েছে, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন একটি কাঠামোগত সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে, যা শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নেও নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী বর্তমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য সম্প্রসারণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি বিস্তৃত ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য আলোচনা কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সফল হলে বহু বছর ধরে চলা পারমাণবিক অচলাবস্থা নিরসনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

খসড়া প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দ্রুত উন্মুক্ত করা হবে এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত ট্রানজিট ফি ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ের বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত এবং পারমাণবিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দূর করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পারমাণবিক কর্মসূচির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আরও একটি পৃথক ও বিস্তারিত চুক্তি প্রয়োজন হবে।

সমঝোতা বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে শিথিল করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে সীমিত ছাড় দেওয়া হতে পারে, যা ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষ কাজ করছে।

তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরানের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক মহলে চুক্তির অধিকাংশ বিষয় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হলেও সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চূড়ান্ত সম্মতি এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

এই পুরো আলোচনায় কাতার ও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। দুই দেশই দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় সক্রিয় ছিল। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করলে সমঝোতার নাম হতে পারে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’, যা দক্ষিণ এশীয় কূটনীতির জন্যও একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানিয়েছেন, চুক্তির ভাষা ও মূল কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া এটিকে চূড়ান্ত চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

-রাফসান


ট্রাম্পের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১১:০৭:৩৬
ট্রাম্পের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতার দাবি করার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়নি এবং এ ধরনের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরকে ‘ভিত্তিহীন’, ‘অকালপক্ব’ এবং ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখনো এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি, যেখান থেকে চূড়ান্ত সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া সম্ভব।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে জানা গেছে, বাঘেই মনে করেন আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি পরিস্থিতিকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তিনি বলেন, সংলাপের বিভিন্ন ধাপ এখনো চলমান এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

তবে আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি—এমনটিও বলছে না তেহরান। আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, আলোচনার খসড়ার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। অর্থাৎ সংলাপ প্রক্রিয়া থেমে নেই, বরং বিভিন্ন বিষয়ে খুঁটিনাটি পর্যায়ে আলোচনা এগোচ্ছে।

একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে ওয়াশিংটন বারবার তাদের অবস্থান বদলেছে, যা সমঝোতা প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান নিজের মৌলিক নীতি ও কৌশলগত স্বার্থ থেকে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

বাঘেই জোর দিয়ে বলেন, ইরানের নির্ধারিত ‘লাল রেখা’ বা জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট মৌলিক অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে। পারমাণবিক কর্মসূচি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্বার্থের প্রশ্নে তেহরান কোনো আপসের পথে হাঁটবে না।

আলোচনার পেছনে আঞ্চলিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন ইরানি মুখপাত্র। তাঁর মতে, কাতার ও পাকিস্তান বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা এবং উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করছে। এই দুই দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আলোচনার অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলেও ইরানের ধারণা।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত একটি টেলি-র‍্যালিতে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের কার্যত অবসান ঘটেছে এবং তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে বিরত রাখা এবং সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে একটি সফল সমঝোতা হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার পথে রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য এবং ইরানের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। ওয়াশিংটন যেখানে সমঝোতার কথা বলছে, তেহরান সেখানে আলোচনা চলমান থাকার কথা জানাচ্ছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

-রফিক


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামল? নতুন ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১০:৫৪:৩৪
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামল? নতুন ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন এক দাবি সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কার্যত শেষ হয়েছে এবং তেহরান ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না—এমন একটি সমঝোতায় দুই পক্ষ পৌঁছেছে।

সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত এক টেলি-র‍্যালিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এমন একটি সমঝোতা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে সরে আসতে সম্মত হয়েছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে ছিল। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার প্রশ্নে ওয়াশিংটন কোনো ধরনের ছাড় দেয়নি এবং শেষ পর্যন্ত তাদের অবস্থানই সফল হয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, দুই দেশের মধ্যে একটি ‘চমৎকার চুক্তি’ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, এই সমঝোতার ফলে শুধু পারমাণবিক ইস্যুই নয়, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনাও প্রশমিত হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলগুলো থেকে ধীরে ধীরে মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করবে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যা চেয়েছিল, প্রায় সবকিছুই পেয়েছে এবং সমঝোতার প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তেহরান চুক্তি, যুদ্ধের সমাপ্তি কিংবা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই অবিশ্বাস, নিষেধাজ্ঞা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবদ্ধ। ফলে এত বড় ধরনের সমঝোতা হয়ে থাকলে সেটি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, বৈশ্বিক কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে ঘিরে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে নতুন করে বৃহৎ আকারের সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

-রফিক


আজ রাতেই ইরানে 'খুব কঠোর' হামলার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৯:৫৭:০৮
আজ রাতেই ইরানে 'খুব কঠোর' হামলার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সামরিক সংঘাতের পারদ এক ধাক্কায় সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে দিয়ে এবার সরাসরি ইরান দখলের প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী আজ রাতেই ইরানের ওপর ‘খুব কঠোরভাবে’ বিধ্বংসী সামরিক আঘাত হানবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত দেশটির সব গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস অবকাঠামো সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বুটের নিচে নিয়ে আসা তথা দখল ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।

নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভবিষ্যতের কোনো এক সুবিধাজনক সময়ে ইরানের প্রধান খনিজ হাব ‘খার্গ দ্বীপ’ (Kharg Island) সহ অন্যান্য সব তেল ও জ্বালানি স্থাপনার ওপর ওয়াশিংটন তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ ফ্ল্যাশ নিউজে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চরম যুদ্ধংদেহী বার্তার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ওই পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ টেনে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে যেভাবে ভেনেজুয়েলাকে কোণঠাসা করেছিল, ঠিক একই কায়দায় এবার ইরানের তেল ও গ্যাস বাজারের ওপরও হোয়াইট হাউজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও খবরদারি প্রতিষ্ঠা করা হতে পারে।

ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেন, গত কয়েকদিনের মার্কিন নিখুঁত হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর (IRGC) প্রতিরোধ গড়ার সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই খার্গ দ্বীপটি মূলত ইরানের মোট তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান ও সবচেয়ে বড় কৌশলগত কেন্দ্র, যেখান থেকে দেশটির উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগ বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি করা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সরাসরি ভূখণ্ড দখলের চরম উসকানিমূলক মন্তব্য ঘিরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক প্রলয়ংকরী ও দীর্ঘস্থায়ী মহাযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। তবে ট্রাম্পের এই আজ রাতেই হামলার আলটিমেটামের বিপরীতে তেহরান বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা সামরিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

/আশিক


বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সমন্বিত মেগা অপারেশন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৯:৪৫:৪৪
বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সমন্বিত মেগা অপারেশন
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম যুদ্ধাবস্থার মাঝেই এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক প্রলয়ংকরী ও বিধ্বংসী সামরিক পাল্টা আঘাত হানার আনুষ্ঠানিক দাবি করেছে ইরানের শীর্ষ সামরিক বাহিনী ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ (IRGC)। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা জর্ডানের ভূখণ্ডে অত্যন্ত গোপনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘আল-আজরাক’ (Al-Azraq) বিমান ঘাঁটিতে একযোগে ১২টি শক্তিশালী দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে চালানো বেআইনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সরাসরি ও মোক্ষম জবাব হিসেবে এই মেগা হামলা চালানো হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ সামরিক বিবৃতিতে আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে যে, তাদের নিখুঁত ব্যালেস্টিক মিসাইল আঘাতে ওই মার্কিন ঘাঁটিটির ইতিহাসের অন্যতম ব্যাপক ও মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় জানায়, তাদের বিমান ও মহাকাশ বাহিনী অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ওই বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহিনীর সর্বাধুনিক এফ-৩৫ (F-35), এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, “সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীর” গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং একটি প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্রে সরাসরি আঘাত হেনেছে।

ক্ষেপণাস্ত্রের প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ঘাঁটির বিভিন্ন রানওয়ে, বাঙ্কার ও স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি সেখানে পার্ক করে রাখা বিপুল সংখ্যক মার্কিন যুদ্ধবিমানও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। আইআরজিসি মার্কিন প্রশাসনকে চরম হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের “অপতৎপরতা” ও আগ্রাসন যদি লোহিত সাগর বা পারস্য উপসাগরে অব্যাহত থাকে, তবে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে তেহরানের এই সামরিক অভিযানও লাগাতারভাবে চলতে থাকবে।

এদিকে, ইরানের সামরিক নীতি নির্ধারণী সর্বোচ্চ সংস্থা ‘খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর’ আজ বৃহস্পতিবার অপর এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া জানানো অব্যাহত রাখবে। বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসনের পিছু হটার ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে হামলা বন্ধ করার আকস্মিক ঘোষণা দিয়েছেন, তা আসলে মার্কিন দয়া নয়; বরং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী ও বিধ্বংসী পাল্টা জবাবের সরাসরি ফল।

এর মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে আরও একটি চরম ও লজ্জাজনক পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে।” ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক অপারেশনাল কমান্ড ইউনিটও স্পষ্ট করেছে যে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যেকোনো স্তরে গিয়ে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়তে দেশের সব বাহিনী সদা প্রস্তুত রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে আইআরজিসি এবং ইরানি মূল সেনাবাহিনী (Artesh) জানায়, তারা গভীর রাতে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন সমন্বিত ও যৌথ প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা—যার মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন বিপুল কৌশলগত সম্পদ ও যুদ্ধজাহাজও অন্তর্ভুক্ত।

আইআরজিসি জানায়, তাদের মহাকাশ বাহিনী ও নৌবাহিনী যৌথভাবে দুটি ধাপে এই নিখুঁত অপারেশন পরিচালনা করেছে, যা ছিল মূলত ইরানের মূল ভূখণ্ডের উপকূলীয় ঘাঁটি, সেবা ইউনিট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোস্ট এবং বন্দর আব্বাস বিমানবন্দর এলাকায় মার্কিন বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার সমানুপাতিক জবাব। অন্যদিকে, ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ অত্যন্ত গর্বের সাথে দাবি করেছে, বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত ‘পঞ্চম নৌবহরের’ (5th Fleet) প্রধান সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে তারা একটি সফল ও বিধ্বংসী ড্রোন অভিযান সম্পন্ন করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই চরম সামরিক প্রতিক্রিয়া মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে চালানো আগ্রাসনের পর আছড়ে পড়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, আমেরিকার এই আকস্মিক হামলাটি ছিল গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির এক সুস্পষ্ট ও চরম লঙ্ঘন।

পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে (Fox News) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের ওপর হামলার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, সর্বশেষ এই অভিযানে মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে একযোগে মোট ৪৯টি দূরপাল্লার ‘টমাহক’ (Tomahawk) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দুই পারমাণবিক ও সামরিক শক্তির এই মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও প্রলয়ংকরী আঞ্চলিক যুদ্ধের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

সূত্র: প্রেস টিভি


মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি, ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১১:১৩:১৫
মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি, ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবার উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত পাল্টা অভিযান চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

আইআরজিসি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। ইরানের দাবি, এই অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার আক্রমণ ব্যবস্থা এবং আত্মঘাতী ড্রোন একযোগে ব্যবহার করা হয়েছে।

তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটি। আইআরজিসি দাবি করেছে, ইরানবিরোধী সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিতে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি, আল-আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থানরত কয়েকটি উন্নতমানের যুদ্ধবিমান হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে এফ-১৫, এফ-১৬ এবং পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দাবি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জর্ডান সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগও হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য দেয়নি।

জর্ডানের পাশাপাশি কুয়েতেও মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুয়েতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও অপারেশনাল অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কৌশলগত অংশীদার বাহরাইনও এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন পঞ্চম নৌবহর দীর্ঘদিন ধরে পারস্য উপসাগর, আরব সাগর ও লোহিত সাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। ফলে এই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে সেটি কেবল সামরিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলায় নৌঘাঁটির বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সামরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন অধ্যায় সূচিত করতে পারে। কারণ অতীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও একযোগে একাধিক দেশে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি খুব কমই দেখা গেছে।

তেহরান বলছে, তাদের এই অভিযান ছিল প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া। ইরানের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন বাহিনী দেশটির অভ্যন্তরে সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। সেই হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, ইরানের ভূখণ্ড, সামরিক স্থাপনা বা জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার জবাব আরও কঠোর হবে। একইসঙ্গে তারা দাবি করেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজন হলে আরও বিস্তৃত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: