মৃত্যুপুরী তেহরান: মহামারির চেয়েও ভয়ংকর নীরবতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৬ ১০:৫৭:২৭
মৃত্যুপুরী তেহরান: মহামারির চেয়েও ভয়ংকর নীরবতা
ছবি : সংগৃহীত

তেহরান এখন মৃত শহর। মহামারির দিনের মতোই ফাঁকা। ভিপিএনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রবেশ করা এক নাগরিক এ তথ্য বিবিসিকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যস্ততম এলাকা ইরানশাহর স্ট্রিটে বেশির ভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে।

ওই বাসিন্দা বলেন, ‘এটা একটা অদ্ভুত অনুভূতি– কিছু দিক দিয়ে মহামারির দিনের মতোই। সবাই ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করছে। তারা জানে না, পরবর্তী সময় কী হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে আমরা জানি, আজ হোক কাল হোক, এটা শেষ হবে। জীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘ছবি ও ভিডিও তোলা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ইরানশাহর রাস্তার একটি স্ন্যাপশট তিনি শেয়ার করেছেন। এটি সেই একই জায়গা, যেখানে কয়েক মাস আগে একটি রক ব্যান্ড গান গেয়ে ভাইরাল হয়েছিল। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার শিল্পীদের সংগীত পরিবেশন নিষিদ্ধ করে।’

আরেকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিবিসিকে জানান, তিনি পাঁচ দিন পর তাঁর বাড়ি ছেড়ে তেহরানের নাফত স্ট্রিট দিয়ে হেঁটেছেন। এটি একটি আবাসিক এলাকা। গত সোমবার রাতে এক্সপিডিয়েন্সি ডিসকার্নমেন্ট কাউন্সিলের প্রশাসনিক ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সড়কে নিরাপত্তা বাহিনী কাছাকাছি চেক পয়েন্ট স্থাপন করেছে। সৌভাগ্যবশত তারা তাঁকে থামায়নি। কাছের ইরানশাহর স্ট্রিট ছিল সম্পূর্ণরূপে মৃত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রদেশে ব্যাপক সংখ্যক বিস্ফোরণ ঘটেছে। যুদ্ধের ষষ্ঠ দিন বৃহস্পতিবার ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইসরায়েলের দিকে। গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ইরানে এক হাজার ৪৫ জনসহ বিভিন্ন দেশে এক হাজার ৩৩৮ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান রোধের প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে ৫৩-৪৭ ভোটে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি দেখবে। তেহরানে শুধু মৃত্যু ও ধ্বংস দৃশ্যমান হবে। ইরান তার নাগরিকদের পানি ও জ্বালানি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা বাড়িয়েছে ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩৪৮ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইরানে ১৭৫ স্কুলছাত্রীসহ এক হাজার ২৩০ জন। ইসরায়েলে ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭-এ। এ ছাড়া বাহরাইনে একজন, কুয়েতে দুই কুয়েতি সেনাসহ তিনজন, ওমানে একজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ছয় সদস্য, সিরিয়ায় চারজন এবং ইরাকে ১১ মিলিশিয়াসহ ১৩ জন। ইরানে হামলায় সমর্থন দেওয়ায় ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। তেহরানের নেতৃত্ব এখন পুরোপুরি বিপর্যস্ত। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা এখন অনেক শক্তিশালী অবস্থানে আছি এবং ইরানের নেতৃত্ব দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। যারা সেখানে নেতা হতে চাচ্ছেন, দেখা যাচ্ছে তাদের সবারই মৃত্যু হচ্ছে।’

ইরানের রাজধানী তেহরানে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও ব্যাপক হামলা হয়েছে। তেহরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাঝেমধ্যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। কেবল রাজধানী নয়, দেশের অন্যান্য শহর থেকেও সামরিক সদরদপ্তর ও রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে একই ধরনের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে এবং ছয় হাজারের বেশি মানুষ আহত।

বৃহস্পতিবার আজারবাইজানে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ইরান এ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উত্তর উপসাগরে একটি ট্যাঙ্কারে হামলা করার দাবি করেছে ইরান। ট্যাঙ্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের বলে উল্লেখ করেছে তেহরান। তুরস্কের আকাশসীমায় ঠেকিয়ে দেওয়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের ঘটনার ব্যাপারেও ইরান অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইরাক সীমান্তে ‘কুর্দি সন্ত্রাসী’দের উপস্থিতির ব্যাপারে বাগদাদকে সতর্ক করেছেন। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমার বাইরে ইরানি নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ডুবিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নৃশংসতা ঘটিয়েছে। এ জন্য তাদের অনুশোচনা করতে হবে। তবে ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি বলেছেন, জীবন ও নিরাপত্তার ক্ষতি করে সামরিক উত্তেজনার অংশ হওয়া আমাদের উচিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ইরানে দুই হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে দেশটির শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। লেভিট বলেন, এই অভিযানের ফলে ইরানের আকাশসীমার সর্বত্র এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। লেভিট জানান, অভিযানে ইরানের ২০টি নৌযান ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা উপকূলে ডুবিয়ে দেওয়া একটি সাবমেরিনও রয়েছে।

ইরানের পাল্টা হামলা অব্যাহত এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ১৭ ও ১৮তম দফার হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, তারা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশটির বেশ কিছু উন্নত রাডার সিস্টেমকে সফলভাবে নিশানা করেছে। এ ছাড়া কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আরিফজানে মার্কিন বাহিনীর ওপর আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরান গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলকে নিশানা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর জেরে লাখো ইসরায়েলি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে বাধ্য হন। তবে ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থার বরাত দিয়ে এএফপি বলছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। জেরুজালেমেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণার পর নৌরুট এড়িয়ে চলছে পণ্যবাহী জাহাজ। ইসরায়েলে ইরানি হামলার খবর দিয়েছে বিবিসি। তেল আবিব ও জেরুজালেমে হামলার সতর্কতা হিসেবে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। আকাশ হামলা প্রতিহত করার সময় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।

আলজাজিরা জানায়, কাতার, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বাহরাইন প্রতিরক্ষা বাহিনী ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ৭৫টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২৩টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে এএফপি। এখানকার মার্কিন দূতাবাসের কাছের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে কাতার।

আইআরজিসির নৌবাহিনী গতকাল সকালে উত্তর উপসাগরে একটি মার্কিন ট্যাঙ্কারে আঘাত করেছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এ অঞ্চলে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের অবশ্যই আঘাত করা হবে। আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আমরা আগেই বলেছিলাম, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে ইরানের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, কুয়েত উপকূলে একটি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ঘটেছে। সব ক্রু নিরাপদে আছেন।

মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী এখন পর্যন্ত ইরানের ১০৫টি বেসামরিক স্থানে আক্রমণ করেছে। ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে তারা ইরানে এক হাজার ৩৩২টি আক্রমণ রেকর্ড করেছে। এগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ১০৫টি বেসামরিক স্থানে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি চিকিৎসাকেন্দ্র ও সাতটি রেড ক্রিসেন্ট ভবন অন্তর্ভুক্ত। ইরানের ১৭৪টি শহরে হামলা হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় এক পরিবারের চার সদস্যসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। ইরানের কোমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় হামলা করেছে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গতকাল ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন আটজন। দেশটিতে তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। ৩২০টির বেশি স্থানে হামলা হয়েছে। যুদ্ধের সময় ৩০০টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ১১ হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, ইরানের জনগণকে ইচ্ছা করে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিন হাজার ৬০০টির বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন ওড়াউড়ি করছে দুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি বাগ্‌যুদ্ধও চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল এক্স পোস্টে বলেছেন, ইরানের কার্যকর হামলায় যুক্তরাষ্ট্র বেদনাদায়ক ক্ষতি ভোগ করেছে। ওয়াশিংটনের ‘কোনো প্রস্থান পরিকল্পনা নেই’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গালিবাফ বলেন, ইরান আগ্রাসন পরিচালনাকারীদের শেষ শাস্তি না দেখা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। এর আগে বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সেক্রেটারি পিট হেগসেথ ইরানের নেতাদের ‘অহংকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ এ লড়াই চালিয়ে যাব।’ অন্যদিকে ইরানি জেনারেল কিওমারস হায়দারি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ইরান তার লক্ষ্য অর্জন না করা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর আঘাত না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পরিত্যাগ করবে না।

আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাখচিভান এক্সক্লেভের একটি বিমানবন্দরে দুই ড্রোন আঘাত হেনেছে। বিবৃতিতে এ হামলার জন্য ইরানকে ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, আজারবাইজান তেহরানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে। মন্ত্রণালয় জানায়, একটি ড্রোন ইরান সীমান্তের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে পড়ে। আরেকটি পড়ে নিকটবর্তী গ্রামের একটি স্কুল ভবনের কাছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই ড্রোন হামলার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আজারবাইজান।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, চলমান যুদ্ধের সময় রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র পাঠানোর জন্য কোনো অনুরোধ পায়নি। মস্কো ইরানকে অস্ত্রসহ বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে কোনো অনুরোধ আসেনি। অবশ্য ইরান ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে।রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে আরব দেশগুলোকে যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচিকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর ইউরোপীয় দেশগুলো সেখানে যুদ্ধসরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটো সংসদকে জানিয়েছেন, আগামী দিনে দ্বীপটিকে রক্ষা করার জন্য ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাদ্রিদ একটি ফ্রিগেট পাঠাবে। ফ্রান্সও এতে যুক্ত হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ অর্থনীতির ক্ষতি করছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটা শেষ করা উচিত।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ ঘোষণা দিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘সামরিক সরঞ্জাম’ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। যুক্তরাজ্য আরও চারটি টাইফুন জেট পাঠাচ্ছে কাতারে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ ঘোষণা দেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সতর্কতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলাফল তাদের ভোগ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি ছিল। ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার এক্স পোস্টে আব্বাস আরাঘচি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে খারাপ নজির স্থাপন করেছে, তার জন্য তারা তীব্র অনুশোচনা করবে। বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ‘আইআরআইএস দিনা’ নামের ইরানি যুদ্ধজাহাজে সাবমেরিন থেকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে জাহাজটি ডুবে যায়।শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ঘটনায় তারা ৮৭ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ৩২ জনকে। জাহাজটিতে ১৮০ জনের মতো আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ। তিনি বলেন, ইরানের হুমকির কারণে সেখানে বিপুল সংখ্যক নাবিক আটকা পড়েছেন। ফলে ওই অঞ্চলে নৌ-বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে বিভিন্ন প্রমোদতরীর আরও প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারে মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেবেন ট্রাম্প।

উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টির (পিএকে) কর্মকর্তা খলিল নাদিরি জানান, তাদের বাহিনী সুলাইমানিয়া প্রদেশে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। তারা প্রস্তুত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুর্দি বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়কে সমর্থন করেছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘কুর্দিরা উদ্যোগ নিতে চায়; আমি এর পক্ষে।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে অন্তত ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ সংখ্যার মধ্যে গত কয়েক দিনে তেহরান থেকে পালিয়ে যাওয়া আনুমানিক ১ লাখ মানুষ, লেবাননে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া ৮৪ হাজারেরও বেশি এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আসা যে কোনো হামলা থেকে জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রক্ষা করার জন্য ন্যাটো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের বৈঠকের পর ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এ কথা জানান।

/আশিক


গভীর সংকটে চীনের বাজার, বড় পতনের মুখে শেয়ারমূল্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ২০:৫৩:১৪
গভীর সংকটে চীনের বাজার, বড় পতনের মুখে শেয়ারমূল্য
ছবি : সংগৃহীত

চীনের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। গত মে মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে দেশটির শেয়ারবাজারের মোট বাজারমূল্য কমেছে প্রায় সাড়ে তিন ট্রিলিয়ন ডলার। গত সপ্তাহে বিক্রির চাপ তীব্র হওয়ায় মূল ভূখণ্ডের বেঞ্চমার্ক সূচক সিএসআই ৩০০ বিয়ার মার্কেটে প্রবেশ করেছে। একই সময়ে হংকংয়ের প্রযুক্তি খাতের সূচক হ্যাং সেং টেক ইনডেক্সও দুই বছর আগে বেইজিংয়ের ঘোষিত অর্থনৈতিক প্রণোদনার পর অর্জিত প্রায় সব মুনাফা হারানোর দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

দ্য জাপান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী ভোগব্যয় সংকোচন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে ব্যাংক, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা, আবাসন খাত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

বাজারের এই দরপতনের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির মুনাফার পূর্বাভাস কমে যাওয়া। এমএসসিআই চায়না সূচকভুক্ত কোম্পানিগুলোর ২০২৬ সালের সম্মিলিত মুনাফার পূর্বাভাস মার্চের শেষ দিক থেকে চার শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, চীনের ইন্টারনেট জায়ান্টদের আধিপত্য থাকা হ্যাং সেং টেক ইনডেক্সের কোম্পানিগুলোর মুনাফার পূর্বাভাস কমেছে ১৩ শতাংশেরও বেশি। বিশেষ করে ই-কমার্স খাতে চলা তীব্র মূল্যযুদ্ধ কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফার সম্ভাবনাকে দুর্বল করে তুলছে।

যেসকল কোম্পানি ইতোমধ্যে তাদের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে, এমএসসিআই চায়না সূচকভুক্ত সেসব প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বিশ্লেষকদের সম্মিলিত পূর্বাভাসের তুলনায় গড়ে নয় শতাংশ কম এসেছে। সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, গত দুই বছরের মধ্যে কোনো প্রান্তিকে পূর্বাভাসের তুলনায় এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম নেতিবাচক ব্যবধান হতে পারে। এর প্রভাব পড়েছে বড় বড় কোম্পানির ওপরও; যেমন—ব্যাটারি নির্মাতা সিএটিএল বিশ্লেষকদের মুনাফার পূর্বাভাস পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। চায়না মোবাইলের চলতি বছরের প্রথম নয় মাসের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) নিট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আট শতাংশ কমেছে। এছাড়া বাজারে দাম কমে যাওয়ায় লিথিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গানফেং লিথিয়াম গ্রুপও প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

মুনাফার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হওয়ায় কিছু কোম্পানি শেয়ারবাজার থেকে নতুন অর্থ সংগ্রহের পথ বেছে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিং অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করেছে। নতুন শেয়ার ইস্যু বা বিক্রির এই পদক্ষেপে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের মালিকানার অনুপাত কমে যেতে পারে, যা তাদের বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এদিকে, চীনের মূল ভূখণ্ডের শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মার্জিন লেনদেনের পরিমাণও এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, মার্জিন লেনদেনে বিনিয়োগকারীরা ধার করা অর্থ দিয়ে শেয়ার কেনেন। এই ধরনের লেনদেন কমে যাওয়া বাজারে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা দুর্বল হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

শেয়ারবাজারের এই পতন ঠেকাতে চীনা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে রাষ্ট্র-সমর্থিত বিভিন্ন বিনিয়োগ তহবিল ব্যবহার করছে। বাজার স্থিতিশীল করতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে এসব তহবিলের মাধ্যমে শেয়ার কেনা হচ্ছে। তবে অর্থনীতিতে চাপ থাকা সত্ত্বেও বড় আকারের নতুন প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে চীন সরকার। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চার দশমিক পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথম নয় মাসে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকায় বেইজিংয়ের সামনে ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার সুযোগ রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো প্রণোদনা ঘোষণা না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার নীতিতেই অটল রয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও ভোগব্যয়ের দুর্বলতা, কোম্পানিগুলোর মধ্যকার মূল্যযুদ্ধ এবং মুনাফার পূর্বাভাস কমে যাওয়া বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ দিন দিন বাড়িয়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে এসব সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চীনের শেয়ারবাজারের অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

তথ্যসূত্র : ইউএ.নিউজ


ইসরায়েল ভোটের প্রাক্কালে মস্কোয় পেজেশকিয়ানের কূটনৈতিক চাল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ২০:৪৪:২২
ইসরায়েল ভোটের প্রাক্কালে মস্কোয় পেজেশকিয়ানের কূটনৈতিক চাল
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আসন্ন রাশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের নির্বাচনের ঠিক আগের দিন তার এই মস্কো যাত্রা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সোমবার সন্ধ্যায় মস্কোর উদ্দেশে রওনা দিয়ে মঙ্গলবার গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের (জিইসিএফ) অষ্টম সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

সফরকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন পেজেশকিয়ান। দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ নিয়ে তাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নের বর্তমান অগ্রগতিও পর্যালোচনা করবেন দুই নেতা। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যু নিয়েও শীর্ষ এই বৈঠকে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা মতবিনিময় করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষ্যমতে, বিশ্বের বড় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে পরামর্শ এবং অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ। তেল ও গ্যাস খাতে তেহরান ও মস্কোর দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক ইতিহাস রয়েছে এবং এই সফরে ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও প্রতিনিধিদলে অংশ নিচ্ছেন। সফর শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।

রাশিয়ার রাজধানীতে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে একটি অভিন্ন গ্যাসবাজার প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধকালীন নাশকতা থেকে জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে সুরক্ষিত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেবে ইরান। দেশটির ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী হামিদ বোভার্দ মস্কো যাত্রার আগে জানিয়েছেন যে, জিইসিএফের সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত গ্যাস বিষয়ে তেহরানের আলোচনা চলমান রয়েছে। যৌথভাবে জ্বালানি খাতের উন্নয়ন এবং গ্যাস বিনিময় চুক্তির পরিধি বৃদ্ধিই রাশিয়া ও ইরানের জ্বালানি সহযোগিতার মূল কেন্দ্রবিন্দু। সম্মেলনে ইরান নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকও করবে।

উল্লেখ্য, গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরাম বা জিইসিএফ বিশ্বের ১২টি প্রধান গ্যাস উৎপাদনকারী দেশের একটি আন্তসরকারি সংস্থা, যার সদস্য হিসেবে রয়েছে ইরান, রাশিয়া ও কাতার। ২০০১ সালে তেহরানে এই ফোরাম গঠনের প্রস্তাব উত্থাপিত হওয়ার পর ২০০৮ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে নীতিগত সমন্বয় সাধন, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পশ্চিমা বাজারের অস্থিরতা কিংবা যেকোনো ধরনের একতরফা চাপ থেকে রপ্তানিকারক দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সূত্র : প্রেস টিভি


ইসরায়েলে ২৬তম নেসেট নির্বাচনে মঙ্গলবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন নাগরিকরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৯:৫১:০২
ইসরায়েলে ২৬তম নেসেট নির্বাচনে মঙ্গলবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন নাগরিকরা
ছবি : সংগৃহীত

গাজায় যুদ্ধ ও লেবানন সংকটের পটভূমিতে আগামীকাল মঙ্গলবার ২৬তম নেসেট (পার্লামেন্ট) নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছেন ইসরায়েলিরা। দেশটির ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দুর্নীতির বিচার চলা সত্ত্বেও আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তাঁর কট্টর ডানপন্থী জোটের সঙ্গে ইহুদি নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোটের তীব্র লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

১২০ সদস্যবিশিষ্ট নেসেটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন, তবে জনমত জরিপ অনুযায়ী কোনো পক্ষই এককভাবে এই ম্যাজিক ফিগার পাবে না। ফলস্বরূপ, ভোটগ্রহণ শেষে দলগুলোকে জোট গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় দেওয়া হবে এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো হতে পারে। ইসরায়েলের প্রায় ৭৩ লাখ নিবন্ধিত ভোটার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

৭ অক্টোবরের নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা, অতি-কট্টর ইহুদিদের সামরিক জোটে ছাড়, বিচারব্যবস্থার বিতর্কিত সংস্কার, যুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু। ২০১৯ সালের পর দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এটি ষষ্ঠ নির্বাচন হলেও, গত ৩৮ বছরের মধ্যে এই প্রথম নেসেটের পূর্ণ মেয়াদ শেষে ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণী এই নির্বাচনের নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

/আশিক


ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছে তিন দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৯:৩৭:১৪
ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছে তিন দেশ
ছবি : সংগৃহীত

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ যৌথ বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপসচিব আলী বাঘেরি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরের সময় এই যৌথ বৈঠকের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে ইরান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, মক্কা চুক্তির সদস্য দেশগুলোর এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এমন এক সময়ে তেহরানে বৈঠকটি করছেন, যখন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার মুখে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এক নতুন মোড় নিয়েছে। এর আগে অক্টোবরের শুরুর দিকে রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতেই এই উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

/আশিক


আলোচনার আড়ালে শর্ত চাপাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তেহরানের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন ইসমাইল বাঘাইয়ের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৮:২৬:১৯
আলোচনার আড়ালে শর্ত চাপাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তেহরানের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন ইসমাইল বাঘাইয়ের
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলে তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন আলোচনার কথা বললেও মূলত একতরফা শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই অভিযোগ করেন। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর বরাত দিয়ে ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর মার্কিন হামলার ঠিক আগেও ওয়াশিংটন আলোচনার পক্ষে কথা বলেছিল উল্লেখ করে তেহরান প্রশ্ন তুলেছে যে, এই দ্বিমুখী আচরণের মধ্যে কোনো সততা খোঁজে পাওয়া যায় কি না। এছাড়া ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্ধভাবে অনুসরণ করার জন্য যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির তীব্র সমালোচনা করেন বাঘাই।

সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেনি বা অর্জনের চেষ্টাও করেনি। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে তেহরান আন্তরিকভাবে সই করলেও ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে তা থেকে সরে আসে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। ইসরায়েলের প্রভাবেই মার্কিন প্রশাসন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা খোঁজার চেষ্টা করছে বলে তাঁর দাবি। এছাড়া কাতারে বিমান হামলায় নিহত তিন ইরানি পাইলটের বিষয়ে কাতারকে কড়া বার্তা দিয়ে বাঘাই জানান, তাদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা নথি না দেওয়া পর্যন্ত হামলার শিকার দেশের ওপরই সম্পূর্ণ দায় বর্তাবে এবং বিষয়টি নিয়ে কারিগরি ও আইনি আলোচনা চলছে।

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন ও সামরিক হুমকির বিষয়ে বাঘাই মন্তব্য করেন যে, ইসরায়েলি রাজনীতিকরা অপরাধের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন এবং কে ক্ষমতায় এল তাতে তেহরানের কিছু আসে যায় না। তবে আঞ্চলিক কূটনীতির অংশ হিসেবে কাতারি প্রতিনিধিদলের তেহরান সফর এবং চলমান সংঘাতের বার্তা বিনিময়ের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি, গ্যাস রপ্তানিকারক দেশের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে সোমবার রাতেই রুশ সফরে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, যেখানে জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। এছাড়া পাকিস্তান ও ইরাকের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বাগদাদের ওপর মার্কিন চাপের বিষয়ে তেহরান তার কঠোর সতর্কতা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

/আশিক


বাদাম বিক্রেতা থেকে ব্রাজিলের শ্রমিক নেতা ও সফল প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৮:১১:০০
বাদাম বিক্রেতা থেকে ব্রাজিলের শ্রমিক নেতা ও সফল প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা
ছবি : সংগৃহীত

দারিদ্র্য ও চরম প্রতিকূলতাকে জয় করে শ্রমিক আন্দোলন থেকে ব্রাজিলের রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছানো লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা দেশটির রাজনীতিতে এক অনন্য ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন। ১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া লুলা শৈশবে বাদাম বিক্রি ও কৈশোরে কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেছেন এবং এক দুর্ঘটনায় নিজের একটি আঙুলও হারিয়েছেন। ১৯৭৫ সালে ধাতব শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় এবং ১৯৮০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ব্রাজিলের প্রথম বড় সমাজতান্ত্রিক দল ‘ওয়ার্কার্স পার্টি’ বা পিটি। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে তিনি ‘বোলসা ফ্যামিলিয়া’র মতো যুগান্তকারী সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে লাখো দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন।

জীবনের পথপরিক্রমায় দুর্নীতির অভিযোগে কারাবাসের মতো বড় ধাক্কা আসলেও হাল ছাড়েননি এই বর্ষীয়ান নেতা। ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দণ্ড বাতিল হওয়ার পর ২০২২ সালে তিনি তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন। সর্বশেষ গত রবিবার অনুষ্ঠিত নাটকীয় নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে ৮০ বছর বয়সী এই বামপন্থী নেতা ঐতিহাসিকভাবে চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুননির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনায় ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি এই জয় নিশ্চিত করেন, যা ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে প্রথম ধাপে দ্বিতীয় হয়েও পরবর্তীতে বিজয়ী হওয়ার প্রথম রেকর্ড গড়েছে।

সূত্র: বিবিসি


ইরানের ‘জানফাদা’ কর্মসূচি: সাধারণ নাগরিকদের অস্ত্র চালনায় উদ্বুদ্ধ করার নেপথ্য কারণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২০:৩৫:২২
ইরানের ‘জানফাদা’ কর্মসূচি: সাধারণ নাগরিকদের অস্ত্র চালনায় উদ্বুদ্ধ করার নেপথ্য কারণ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হওয়ার প্রেক্ষাপটে বেসামরিক নাগরিকদের অস্ত্র পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচিটিতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সম্ভাব্য হুমকি সফলভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘জানফাদা’ বা ‘যারা জীবন উৎসর্গ করেন’ নামক এই প্রতিরক্ষা কর্মসূচিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার চরম পর্যায়ে গত মার্চ মাসের শেষ দিকে চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে ইরানের বিস্তীর্ণ এলাক জুড়ে এই কর্মসূচিটির কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেশের সাধারণ নারী ও পুরুষ উভয়কেই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নেওয়ার জন্য উন্মুক্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে।

যদিও এই প্রশিক্ষণে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তবুও দেশের সর্বস্তরের সব বয়সের মানুষের জন্যই এটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যে কোনো মুহূর্তে নতুন করে সর্বাত্মক সংঘাত শুরু হতে পারে—এমন গভীর আশঙ্কার মাঝেই তেহরান কর্তৃপক্ষ এই বেসামরিক সামরিক প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমকে আরও জোরদার ও বিস্তৃত করে চলেছে।

/আশিক


আল-খলিলে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত অভিযান, বাস্তুচ্যুত দেড় হাজার ফিলিস্তিনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২০:১৯:১২
আল-খলিলে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত অভিযান, বাস্তুচ্যুত দেড় হাজার ফিলিস্তিনি
ছবি : সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-খলিল শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান ভয়াবহ অভিযানে প্রায় ২৫০টি পরিবারের দেড় হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরও আড়াই হাজার ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আল-খলিল পৌরসভার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মূলত দেইর বাহা ও আল-জিলদা এলাকার ৫০০ পরিবারের মধ্যে এই উচ্ছেদ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী ইতিমধ্যে উচ্ছেদের শিকার বাড়িগুলো চিহ্নিত করেছে এবং যেসব পরিবার এখনও বাড়ি ছাড়েনি, তাদের নিজেদের কোনো যানবাহন ব্যবহার না করেই অবিলম্বে বসতি ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ ধরিয়ে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-খলিলের গভর্নর খালেদ দুদিন জানান, এই আকস্মিক ও বর্বর অভিযানে দুইশটিরও বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। তিনি ইসরায়েলের এই দমনপীড়ন বন্ধ করতে দ্রুত জরুরি আন্তর্জাতিক ও আইনি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এছাড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবারই গভর্নরেট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গোত্রীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে একটি বিশেষ সংকট ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয় শনিবার এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আল-খলিলের বিভিন্ন অঞ্চলে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি বৃদ্ধি এবং আবাসিক এলাকা ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা মূলত ১৯৪৮ সালের ঐতিহাসিক ‘নাকবা’র পুনরাবৃত্তি এবং পরিকল্পিত জাতিগত নিধনের স্পষ্ট প্রচেষ্টা।

ইসরায়েলের এই জবরদস্তিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে ফিলিস্তিনের সব দূতাবাস ও মিশনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে আল-খলিলের ফার্শ আল-হাওয়া এলাকায় ভবন ও বাণিজ্যিক দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া, ঘরে ঘরে তল্লাশি এবং অন্তত ১৩ জন ফিলিস্তিনিকে আটকের মতো ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি শহর, গ্রাম এবং শরণার্থীশিবিরগুলোর সমস্ত প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বাড়িঘর হারিয়ে বহু অসহায় পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে। মূলত অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর যাতায়াত পথ নিরাপদ ও সুদৃঢ় করতেই দখলদার বাহিনী এখন স্থানীয় বিভিন্ন ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা জানিয়েছে যে ২০২২ সালের শেষ দিকে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তারা ১০৪টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে এবং পুরো পশ্চিম তীরজুড়ে ১৬০টি কৃষিভিত্তিক বসতি-চৌকি গড়ে তুলেছে। ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমিতে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পাশাপাশি তাদের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও গবাদিপশু ধ্বংসের ঘটনাও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক ঐতিহাসিক রায়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের উপস্থিতি সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করে তা অবিলম্বে অবসানের নির্দেশ দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও বসতি সম্প্রসারণের এই তৎপরতা ফিলিস্তিনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে নস্যাৎ করে দিচ্ছে।

আল-খলিলের এই নৃশংস অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। সংস্থাটির মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ একে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের পরিকল্পিত উচ্ছেদ নীতির অংশ হিসেবে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, আল-খলিল ও আশপাশের অঞ্চলের জনতাত্ত্বিক ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বদলে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই চক্রান্ত চালানো হচ্ছে। নির্বিচারে ভবন ধ্বংস ও গণহারে মানুষ উচ্ছেদের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং জেনেভা কনভেনশনের চরম লঙ্ঘন। এছাড়া ইব্রাহিমি মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং তা বন্ধ রাখার মতো ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের চক্রান্তেরও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ওআইসি।

পার্সটুডে


ইরানের পরমাণু অস্ত্র ইসরায়েলের অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেবে: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২০:০৬:৩৪
ইরানের পরমাণু অস্ত্র ইসরায়েলের অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেবে: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিষয়টি ইসরায়েলের জন্য চূড়ান্ত অস্তিত্বগত হুমকি তৈরি করবে বলে জোরালো সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আসন্ন নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণ সংক্রান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি একটি প্রতীকী ছবিও প্রকাশ করেন। টাইমস অব ইসরায়েলের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানের সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় ব্যর্থ বা অক্ষম কোনো নেতাকে নির্বাচন করা হলে ইসরায়েলি জনসাধারণ ‘দ্বিতীয় হলোকাস্টের’ চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ডানপন্থী রাজনৈতিক ভাষ্যকার ইউভাল ব্লুমবার্গের বক্তব্য তুলে ধরে নেতানিয়াহু তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে ইসরায়েল বর্তমানে অত্যন্ত বাস্তব ও প্রত্যক্ষ অস্তিত্বগত সংকটের মুখোমুখি রয়েছে। তার মতে, তেহরান যদি শেষ পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হয়ে ওঠে, তবে দেশের অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ বা রাজনৈতিক বিতর্কই আর কোনো গুরুত্ব বহন করবে না। মধ্য ইসরায়েলে যদি দুটি পারমাণবিক বোমা আঘাত হানে, তবে এই ধরনের অর্থহীন বিতর্ক নিয়ে কারোরই মাথা ব্যথা থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টে আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান ক্ষমতাকালেই কেবল ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কার্যকর সুযোগ রয়েছে। এই ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইসরায়েলিদের কখনো ক্ষমা করবে না বলে তিনি সতর্ক করে দেন। ইরানকে কঠোরহস্তে মোকাবিলার যোগ্য একমাত্র নেতা হিসেবে নিজেকে ভোটারদের সামনে তুলে ধরার অংশ হিসেবেই তিনি এই তীব্র ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

পাঠকের মতামত: