মৃত্যুপুরী তেহরান: মহামারির চেয়েও ভয়ংকর নীরবতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৬ ১০:৫৭:২৭
মৃত্যুপুরী তেহরান: মহামারির চেয়েও ভয়ংকর নীরবতা
ছবি : সংগৃহীত

তেহরান এখন মৃত শহর। মহামারির দিনের মতোই ফাঁকা। ভিপিএনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রবেশ করা এক নাগরিক এ তথ্য বিবিসিকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যস্ততম এলাকা ইরানশাহর স্ট্রিটে বেশির ভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে।

ওই বাসিন্দা বলেন, ‘এটা একটা অদ্ভুত অনুভূতি– কিছু দিক দিয়ে মহামারির দিনের মতোই। সবাই ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করছে। তারা জানে না, পরবর্তী সময় কী হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে আমরা জানি, আজ হোক কাল হোক, এটা শেষ হবে। জীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘ছবি ও ভিডিও তোলা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ইরানশাহর রাস্তার একটি স্ন্যাপশট তিনি শেয়ার করেছেন। এটি সেই একই জায়গা, যেখানে কয়েক মাস আগে একটি রক ব্যান্ড গান গেয়ে ভাইরাল হয়েছিল। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার শিল্পীদের সংগীত পরিবেশন নিষিদ্ধ করে।’

আরেকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিবিসিকে জানান, তিনি পাঁচ দিন পর তাঁর বাড়ি ছেড়ে তেহরানের নাফত স্ট্রিট দিয়ে হেঁটেছেন। এটি একটি আবাসিক এলাকা। গত সোমবার রাতে এক্সপিডিয়েন্সি ডিসকার্নমেন্ট কাউন্সিলের প্রশাসনিক ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সড়কে নিরাপত্তা বাহিনী কাছাকাছি চেক পয়েন্ট স্থাপন করেছে। সৌভাগ্যবশত তারা তাঁকে থামায়নি। কাছের ইরানশাহর স্ট্রিট ছিল সম্পূর্ণরূপে মৃত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রদেশে ব্যাপক সংখ্যক বিস্ফোরণ ঘটেছে। যুদ্ধের ষষ্ঠ দিন বৃহস্পতিবার ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইসরায়েলের দিকে। গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ইরানে এক হাজার ৪৫ জনসহ বিভিন্ন দেশে এক হাজার ৩৩৮ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান রোধের প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে ৫৩-৪৭ ভোটে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি দেখবে। তেহরানে শুধু মৃত্যু ও ধ্বংস দৃশ্যমান হবে। ইরান তার নাগরিকদের পানি ও জ্বালানি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা বাড়িয়েছে ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩৪৮ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইরানে ১৭৫ স্কুলছাত্রীসহ এক হাজার ২৩০ জন। ইসরায়েলে ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭-এ। এ ছাড়া বাহরাইনে একজন, কুয়েতে দুই কুয়েতি সেনাসহ তিনজন, ওমানে একজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ছয় সদস্য, সিরিয়ায় চারজন এবং ইরাকে ১১ মিলিশিয়াসহ ১৩ জন। ইরানে হামলায় সমর্থন দেওয়ায় ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। তেহরানের নেতৃত্ব এখন পুরোপুরি বিপর্যস্ত। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা এখন অনেক শক্তিশালী অবস্থানে আছি এবং ইরানের নেতৃত্ব দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। যারা সেখানে নেতা হতে চাচ্ছেন, দেখা যাচ্ছে তাদের সবারই মৃত্যু হচ্ছে।’

ইরানের রাজধানী তেহরানে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও ব্যাপক হামলা হয়েছে। তেহরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাঝেমধ্যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। কেবল রাজধানী নয়, দেশের অন্যান্য শহর থেকেও সামরিক সদরদপ্তর ও রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে একই ধরনের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে এবং ছয় হাজারের বেশি মানুষ আহত।

বৃহস্পতিবার আজারবাইজানে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ইরান এ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উত্তর উপসাগরে একটি ট্যাঙ্কারে হামলা করার দাবি করেছে ইরান। ট্যাঙ্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের বলে উল্লেখ করেছে তেহরান। তুরস্কের আকাশসীমায় ঠেকিয়ে দেওয়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের ঘটনার ব্যাপারেও ইরান অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইরাক সীমান্তে ‘কুর্দি সন্ত্রাসী’দের উপস্থিতির ব্যাপারে বাগদাদকে সতর্ক করেছেন। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমার বাইরে ইরানি নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ডুবিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নৃশংসতা ঘটিয়েছে। এ জন্য তাদের অনুশোচনা করতে হবে। তবে ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি বলেছেন, জীবন ও নিরাপত্তার ক্ষতি করে সামরিক উত্তেজনার অংশ হওয়া আমাদের উচিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ইরানে দুই হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে দেশটির শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। লেভিট বলেন, এই অভিযানের ফলে ইরানের আকাশসীমার সর্বত্র এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। লেভিট জানান, অভিযানে ইরানের ২০টি নৌযান ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা উপকূলে ডুবিয়ে দেওয়া একটি সাবমেরিনও রয়েছে।

ইরানের পাল্টা হামলা অব্যাহত এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ১৭ ও ১৮তম দফার হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, তারা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশটির বেশ কিছু উন্নত রাডার সিস্টেমকে সফলভাবে নিশানা করেছে। এ ছাড়া কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আরিফজানে মার্কিন বাহিনীর ওপর আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরান গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলকে নিশানা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর জেরে লাখো ইসরায়েলি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে বাধ্য হন। তবে ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থার বরাত দিয়ে এএফপি বলছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। জেরুজালেমেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণার পর নৌরুট এড়িয়ে চলছে পণ্যবাহী জাহাজ। ইসরায়েলে ইরানি হামলার খবর দিয়েছে বিবিসি। তেল আবিব ও জেরুজালেমে হামলার সতর্কতা হিসেবে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। আকাশ হামলা প্রতিহত করার সময় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।

আলজাজিরা জানায়, কাতার, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বাহরাইন প্রতিরক্ষা বাহিনী ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ৭৫টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২৩টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে এএফপি। এখানকার মার্কিন দূতাবাসের কাছের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে কাতার।

আইআরজিসির নৌবাহিনী গতকাল সকালে উত্তর উপসাগরে একটি মার্কিন ট্যাঙ্কারে আঘাত করেছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এ অঞ্চলে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের অবশ্যই আঘাত করা হবে। আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আমরা আগেই বলেছিলাম, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে ইরানের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, কুয়েত উপকূলে একটি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ঘটেছে। সব ক্রু নিরাপদে আছেন।

মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী এখন পর্যন্ত ইরানের ১০৫টি বেসামরিক স্থানে আক্রমণ করেছে। ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে তারা ইরানে এক হাজার ৩৩২টি আক্রমণ রেকর্ড করেছে। এগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ১০৫টি বেসামরিক স্থানে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি চিকিৎসাকেন্দ্র ও সাতটি রেড ক্রিসেন্ট ভবন অন্তর্ভুক্ত। ইরানের ১৭৪টি শহরে হামলা হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় এক পরিবারের চার সদস্যসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। ইরানের কোমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় হামলা করেছে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গতকাল ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন আটজন। দেশটিতে তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। ৩২০টির বেশি স্থানে হামলা হয়েছে। যুদ্ধের সময় ৩০০টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ১১ হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, ইরানের জনগণকে ইচ্ছা করে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিন হাজার ৬০০টির বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন ওড়াউড়ি করছে দুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি বাগ্‌যুদ্ধও চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল এক্স পোস্টে বলেছেন, ইরানের কার্যকর হামলায় যুক্তরাষ্ট্র বেদনাদায়ক ক্ষতি ভোগ করেছে। ওয়াশিংটনের ‘কোনো প্রস্থান পরিকল্পনা নেই’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গালিবাফ বলেন, ইরান আগ্রাসন পরিচালনাকারীদের শেষ শাস্তি না দেখা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। এর আগে বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সেক্রেটারি পিট হেগসেথ ইরানের নেতাদের ‘অহংকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ এ লড়াই চালিয়ে যাব।’ অন্যদিকে ইরানি জেনারেল কিওমারস হায়দারি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ইরান তার লক্ষ্য অর্জন না করা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর আঘাত না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পরিত্যাগ করবে না।

আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাখচিভান এক্সক্লেভের একটি বিমানবন্দরে দুই ড্রোন আঘাত হেনেছে। বিবৃতিতে এ হামলার জন্য ইরানকে ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, আজারবাইজান তেহরানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে। মন্ত্রণালয় জানায়, একটি ড্রোন ইরান সীমান্তের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে পড়ে। আরেকটি পড়ে নিকটবর্তী গ্রামের একটি স্কুল ভবনের কাছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই ড্রোন হামলার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আজারবাইজান।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, চলমান যুদ্ধের সময় রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র পাঠানোর জন্য কোনো অনুরোধ পায়নি। মস্কো ইরানকে অস্ত্রসহ বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে কোনো অনুরোধ আসেনি। অবশ্য ইরান ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে।রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে আরব দেশগুলোকে যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচিকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর ইউরোপীয় দেশগুলো সেখানে যুদ্ধসরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটো সংসদকে জানিয়েছেন, আগামী দিনে দ্বীপটিকে রক্ষা করার জন্য ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাদ্রিদ একটি ফ্রিগেট পাঠাবে। ফ্রান্সও এতে যুক্ত হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ অর্থনীতির ক্ষতি করছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটা শেষ করা উচিত।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ ঘোষণা দিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘সামরিক সরঞ্জাম’ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। যুক্তরাজ্য আরও চারটি টাইফুন জেট পাঠাচ্ছে কাতারে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ ঘোষণা দেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সতর্কতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলাফল তাদের ভোগ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি ছিল। ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার এক্স পোস্টে আব্বাস আরাঘচি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে খারাপ নজির স্থাপন করেছে, তার জন্য তারা তীব্র অনুশোচনা করবে। বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ‘আইআরআইএস দিনা’ নামের ইরানি যুদ্ধজাহাজে সাবমেরিন থেকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে জাহাজটি ডুবে যায়।শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ঘটনায় তারা ৮৭ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ৩২ জনকে। জাহাজটিতে ১৮০ জনের মতো আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ। তিনি বলেন, ইরানের হুমকির কারণে সেখানে বিপুল সংখ্যক নাবিক আটকা পড়েছেন। ফলে ওই অঞ্চলে নৌ-বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে বিভিন্ন প্রমোদতরীর আরও প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারে মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেবেন ট্রাম্প।

উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টির (পিএকে) কর্মকর্তা খলিল নাদিরি জানান, তাদের বাহিনী সুলাইমানিয়া প্রদেশে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। তারা প্রস্তুত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুর্দি বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়কে সমর্থন করেছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘কুর্দিরা উদ্যোগ নিতে চায়; আমি এর পক্ষে।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে অন্তত ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ সংখ্যার মধ্যে গত কয়েক দিনে তেহরান থেকে পালিয়ে যাওয়া আনুমানিক ১ লাখ মানুষ, লেবাননে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া ৮৪ হাজারেরও বেশি এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আসা যে কোনো হামলা থেকে জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রক্ষা করার জন্য ন্যাটো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের বৈঠকের পর ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এ কথা জানান।

/আশিক


বিক্ষোভ দমন ও নিষেধাজ্ঞা: বিতর্ক সঙ্গী করেই ইরানের সামরিক কমান্ডে আহমদ বাহিদি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৬ ১০:৩৮:২৪
বিক্ষোভ দমন ও নিষেধাজ্ঞা: বিতর্ক সঙ্গী করেই ইরানের সামরিক কমান্ডে আহমদ বাহিদি
ছবি : সংগৃহীত

রানের সামরিক কাঠামোর অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী পদ হলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রধান। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ বাহিদি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্যেই তিনি এ দায়িত্ব নেন, যা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের শুরুতে হামলায় ইরানের অনেক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আইআরজিসির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরও রয়েছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই নিহত হন। তার আগে আইআরজিসি প্রধান ছিলেন হুসাইন সালামী, যিনি ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।

এর আগেও আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্ব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সংস্থাটির কুদস ফোর্সের দীর্ঘদিনের কমান্ডার কাশেম সুলেমানী ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন। ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গঠিত আইআরজিসির শুরুর দিক থেকেই যুক্ত ছিলেন আহমদ বাহিদি। ১৯৮০–এর দশকে তিনি গোয়েন্দা ও সামরিক দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি আইআরজিসির কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব দেন। পরে ওই দায়িত্ব পান সোলাইমানি।

যুদ্ধ শুরুর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনী তাকে আইআরজিসির উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। যুদ্ধের প্রথম দিন হামলায় খামেনি নিহত হন বলে জানা যায়। বাহিদি প্রকাশ্যেই ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইসলামী বিপ্লবকে রক্ষা করা বিশ্বের অন্যতম বড় গুণ।’

বাহিদি শুধু সামরিক কর্মকর্তা নন; তিনি রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আহমেদিনেজাদ সরকারের সময় তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। পরে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ও প্রশাসনিক উভয়ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ হওয়ায় যুদ্ধকালীন সময়ে আইআরজিসির নেতৃত্ব দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তবে বাহিদির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও রয়েছে। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ইন্টারপোল ‘রেড নোটিশ’ জারি করেছিল। ওই হামলায় ৮৫ জন নিহত হন। ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটি ভিত্তিহীন। এ ছাড়া ২০২২ সালে মাশা আমিনীর মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় বাহিদির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের মধ্যে ইরানের অনেক শীর্ষ নেতা ও অভিজ্ঞ কমান্ডার নিহত হওয়ায় আইআরজিসিকে নতুন করে সংগঠিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কিছু সামরিক ইউনিট এখন অনেকটাই স্বতন্ত্রভাবে কাজ করছে। ফলে সমন্বয় বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে আইআরজিসির বিকেন্দ্রীভূত কাঠামো সমন্বয় করে যুদ্ধ পরিচালনা করাই হবে আহমদ বাহিদির প্রধান দায়িত্ব। তারা বলছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা অনেকটাই নির্ভর করছে আইআরজিসির সক্ষমতার ওপর।

/আশিক


হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘মহামন্দা’ ও মুদ্রাস্ফীতির কালো মেঘ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৬ ১০:১৯:২৩
হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘মহামন্দা’ ও মুদ্রাস্ফীতির কালো মেঘ
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের শুরু থেকেই বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি যে দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা রীতিমতো নজিরবিহীন। গত কয়েক দশকে বিশ্বায়ন যেভাবে দেশগুলোর অর্থনীতিকে একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট সেই ভিত্তিমূল্যেই আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক মহাবিপর্যয়ের সংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট যে, যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ কতটা সচল থাকে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের মানুষের জীবনযাত্রার মান।

এই সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের আকাশচুম্বী দাম। ইরান সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ এবং এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহের একটি বড় অংশ এই সরু পথটি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের প্রভাবে গত কয়েক দিনে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৮৩-৮৪ ডলারে উঠে গেছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবিরতা ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়বে। ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ব যখন মাত্র ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই এই নতুন সংকট সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো, যারা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তারা এখন থেকেই জরুরি অবস্থা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা যদি অবিলম্বে প্রশমিত না হয়, তবে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১৫০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল ও গ্যাস যাতায়াত করে, তার বিকল্প কোনো পথ নেই। ইরানের পক্ষ থেকে এই নৌপথটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির পর আন্তর্জাতিক বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা ঝুঁকি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছানো মানে হলো বিশ্বজুড়ে পরিবহন খরচ, কৃষি উৎপাদন এবং শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়া। ব্লুমবার্গের এক অর্থনৈতিক মডেলে দেখা গেছে, তেলের সরবরাহ মাত্র ১ শতাংশ কমলেই দাম ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সেই হিসাবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হলে তেলের দাম বর্তমানের তুলনায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এটি শুধু তেলের দামেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্লাস্টিক, সার এবং গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়বে। উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে এক গভীর অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ধাবিত করতে পারে।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এর মাধ্যমেই বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। বর্তমান যুদ্ধে শুধু ইরান নয়, সৌদি আরব ও কাতারও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার এবং কাতারের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কাতার থেকে আসা এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলো যেমন ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়া চরম জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে।

২০২২ সালের মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এই নতুন যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে দাম বৃদ্ধির এক নতুন ঢেউ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দাম চড়া ছিল, এখন যুদ্ধের প্রভাবে তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো, যারা রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের সন্ধানে ছিল, তারা এখন নতুন করে জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন এক কঠিন দ্বিধায়— মুদ্রাস্ফীতি কমাতে সুদের হার বাড়াবে নাকি অর্থনীতিকে মন্দা থেকে বাঁচাতে সুদের হার কমাবে?

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের দেশগুলো এই সংকটে বিশেষভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ব্রিটেনের মতো দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও জ্বালানির একটি বড় অংশ আমদানি করে। হরমুজ প্রণালি এবং বাব-আল-মান্দেব প্রণালির অস্থিরতা সরাসরি তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। স্পট মার্কেটে গ্যাসের দাম গত কয়েক দিনে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের হিটিং খরচ এবং বিদ্যুতের বিল জুলাই নাগাদ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রেও এই দেশগুলো এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, যা বর্তমানে সংকটের মুখে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ বিশ্বকে একটি কঠোর বার্তা দিয়েছে—শুধু খনিজ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা যে কোনো সময় জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে পারে। গ্রিনপিসসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন এখন দেশগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আরও দ্রুত ঝুঁকে পড়ার আহ্বান জানাচ্ছে। ইউরোপ এরই মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে ১০ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করছে ক্লিন এনার্জি খাতে। দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ হয়তো বিশ্বকে সৌর ও বায়ু শক্তির মতো বিকল্প উৎসের দিকে ঠেলে দেবে, কিন্তু স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষকে এক কঠিন অর্থনৈতিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

পরিশেষে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ না হয়ে কয়েক মাস দীর্ঘায়িত হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি যে গভীর খাদে পড়বে, তা থেকে উত্তরণ সহজ হবে না। এমন পরিস্থিতিতে শান্তি স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বিশ্বনেতাদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। সূত্র: ব্লুমবার্গ, টাইম ও গার্ডিয়ান।

/আশিক


ইউরোপের রণপ্রস্তুতি ও শ্রীলঙ্কা সীমান্তে উত্তেজনা: ৬ষ্ঠ দিনে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের নতুন মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ১৯:০০:০২
ইউরোপের রণপ্রস্তুতি ও শ্রীলঙ্কা সীমান্তে উত্তেজনা: ৬ষ্ঠ দিনে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের নতুন মোড়
সাগরে স্পেনের মাঝারি আকারের যুদ্ধজাহাজ ‘ক্রিস্তোবাল কোলোন’। ছবি: এএফপি

দিনে দিনে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত অন্যান্য এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ছে। বুধবার মার্কিন সাবমেরিন হামলার পর শ্রীলঙ্কায় বৃহস্পতিবার নতুন করে আরেকটি ইরানি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি দেখা গেছে। একদিন আগেও স্পেন যুদ্ধকে ‘না’ বললেও আজ তারা সাইপ্রাসে মাঝারি রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি ও অস্ট্রেলিয়া।

গত পাঁচদিনের মতো ইসরায়েল, ইরান ও লেবাননে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত আছে। নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে আজারবাইজানে। যুদ্ধের ষষ্ঠদিনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো;

একটি ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ সাইপ্রাস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় একদিন আগেও যুদ্ধ না চাওয়ার ঘোষণা দেওয়া স্পেন সাইপ্রাসে নিজেদের সবচেয়ে উন্নত ফ্রিগেট (মাঝারি রণতরী) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ক্রিস্তোবাল কোলোন’ নামের যুদ্ধজাহাজটি ফরাসি বিমানবাহী রণতরী চার্লস দো গল এবং গ্রিসের নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষা দেবে। প্রয়োজনে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ করবে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হেলির সাইপ্রাস সফর করার কথা আছে।

অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর দেশ উপসাগরীয় দেশগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেবে। আর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, জরুরি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। দেশটির গণমাধ্যম এসবিএস নিউজ জানিয়েছে, এর মধ্যে সামরিক বিমানও আছে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে ইরান আবারও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিপরীতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানজুড়ে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের শাসকদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের নতুন হামলা শুরু করেছে। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম ও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে তেহরানে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইরান জানিয়েছে, তারা ইরাকি কুর্দিস্তানে কুর্দি বাহিনীর একটি সদরদপ্তরে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এ হামলায় নির্বাসিত ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধিরা। আর লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় এক জ্যেষ্ঠ হামাস কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির বেদ্দাওয়িতে ড্রোন হামলায় ওয়াসিম আতাল্লাহ আল-আলি ও তাঁর স্ত্রী নিহত হন। এই শিবিরটি ত্রিপলি শহরের কাছে অবস্থিত।

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটিতে বৃহস্পতিবার ভোরে বিমান হামলা হয়েছে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এদিকে ড্রোন হামলায় দুজন আহত হওয়ার পর ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আজারবাইজান। হামলা হয়েছে দেশটির বিচ্ছিন্ন অঞ্চল নাখচিভানের একটি বিমানবন্দর ও স্কুলের কাছে। বাকুর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলার জবাব দেওয়া হবে।

কাতারের রাজধানী দোহার আকাশে বৃহস্পতিবার আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সেখানে অবস্থানরত সাংবাদিকরা কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখেছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তাদের বাহিনী কাজ করছে। ইরানি হামলার আশঙ্কায় মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা পারস্য উপসাগরের উত্তরে একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি এএফপি।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, কুয়েত উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজের কাছে বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে। এরপর সেখানে তেল ছড়িয়ে পড়ে। জাহাজটির ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর একটি ছোট নৌযান এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা গেছে।

মার্কিন সাবমেরিন হামলার পর আরেকটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ শ্রীলঙ্কার আঞ্চলিক জলসীমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যমবিষয়ক মন্ত্রী নালিন্দা জয়তিসা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় যুদ্ধজাহাজটি বর্তমানে শ্রীলঙ্কার জলসীমার বাইরে অবস্থান করছে।

জাহাজটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি জয়তিসা। তবে সরকারি সূত্রগুলো এএফপিকে জানিয়েছে, দ্বিতীয় জাহাজটিতে শতাধিক নাবিক আছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে বুধবারের মতো এ জাহাজটিও সাবমেরিন হামলার শিকার হবে।

বুধবারের সাবমেরিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, শ্রীলঙ্কার কাছে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘নৃশংস’ কাজ করেছে। এমন ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে একদিন অনুশোচনা করতে হবে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘চোখ অন্ধ’ করে দিয়েছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ১৬:৩৩:১৫
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘চোখ অন্ধ’ করে দিয়েছে ইরান
‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’-এর ১৭তম ধাপ সম্পন্ন করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’-এর ১৭তম ধাপ সম্পন্ন করেছে। এ অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।

বুধবার (৪ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই অভিযানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার জায়নিস্ট শাসনের চোখ অন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খবর জানিয়েছে প্রেস টিভির।

আইআরজিসির দাবি, অভিযানে সাতটির বেশি অত্যাধুনিক রাডার ধ্বংস করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা নজরদারির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপিত ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইসরাইলের যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আঘাত হানা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে দখলকৃত অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে এবং সেখানে বসবাসকারী ইসরাইলি নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হচ্ছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ‘সন্ত্রাসী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধারাবাহিক ও নিয়ন্ত্রিত প্রতিশোধের প্রমাণ।’

সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, আগামী দিনগুলোতে হামলা আরও তীব্র ও বিস্তৃত হতে পারে। এ পর্যন্ত অভিযানে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আইআরজিসি জানায়, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যেতেল আবিব ও জেরুজালেম ছাড়াও কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো রয়েছে।

বাহিনীটি আরও দাবি করেছে, ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারেও হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি ছিল ‘শক্তিশালী ও কৌশলগত আঘাত।’

একই দিনে আইআরজিসি জানায়, তারা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় ডাটা সেন্টার’-এও গুরুত্বপূর্ণ হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের একটি ডাটা সেন্টারের কথা উল্লেখ করা হয়। তাদের দাবি, এসব কেন্দ্র শত্রুপক্ষের সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে সহায়তা করছিল।

উল্লেখ্য, অ্যামাজনের আঞ্চলিক কার্যালয় ২০১৯ সালে বাহরাইনে চালু হয়। এটি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোসহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ক্লাউড সেবা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

তবে আইআরজিসির এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো স্বাধীন যাচাই বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ভয়াবহ বিস্তার: বিস্ফোরণে কাঁপল কাতার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ১৬:২২:৩২
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ভয়াবহ বিস্তার: বিস্ফোরণে কাঁপল কাতার
ছবি : সংগৃহীত

বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে কাতারের রাজধানী দোহা। দেশটিতে আবারও হামলা চালিয়েছে ইরান। এর ফলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। রাজধানী দোহার আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাতারের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয়ভাবে আকাশে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে আটকে দিতে সক্রিয় হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, দোহার আকাশে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক গোষ্ঠীর ওপর হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশ ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর ১৯তম দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই অভিযানে ইরানবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে ঠিক কোন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পরিকল্পনা করছিল এমন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে তাদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলের সুলাইমানিয়া প্রদেশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আরাবাত, জারকুইজ ও সুরদাশ এলাকার কাছে অন্তত চারটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানি কুর্দি সশস্ত্র সংগঠন কমালার সদর দপ্তর।

/আশিক


মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ১২:৫৩:০৭
মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আবারও ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে এ হামলা শুরু হয়। এর আগে মার্কিন সাবমেরিন এক ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পুরো অঞ্চলের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।

ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের শহরে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে এসেছে এবং তেল আবিব ও জেরুজালেমে সাইরেন বাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে, ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবোল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

সংঘর্ষের কারণে ইরানে ১,০৪৫-এর বেশি, লেবাননে ৭০-এর বেশি এবং ইসরায়েলে ১১ জন নিহত হয়েছেন। ছয় মার্কিন সেনাও নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণকারীরা আটকা পড়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোও সতর্ক অবস্থানে এসেছে। কাতারে মার্কিন দূতাবাসের আশেপাশের মানুষকে সরানো হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যুদ্ধবিমান দেখা গেছে এবং কুয়েতের উপকূলে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেট বলেছেন, সাবমেরিন থেকে ডুবানো ইরানি যুদ্ধজাহাজের ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৮৭ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ইরানের ভবন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত লক্ষ্যবস্তু এবং পারামিলিটারি বাহিনী লক্ষ্য করে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে।

/আশিক


সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ইরানে কুর্দিদের অনুপ্রবেশ: তেহরান পতনের লক্ষ্যে শুরু হলো মহাযুদ্ধ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ১১:৩৮:০৬
সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ইরানে কুর্দিদের অনুপ্রবেশ: তেহরান পতনের লক্ষ্যে শুরু হলো মহাযুদ্ধ
কুর্দি যোদ্ধা। ছবি সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত (৫ মার্চ) ষষ্ঠ দিনে গড়েছে। এরইমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে লড়তে যোগ দিয়েছে মার্কিন মদদপুষ্ট কুর্দি যোদ্ধারা। ইতোমধ্যে কুর্দি যোদ্ধারা ইরানের সীমান্ত অতিক্রম করেছে। তারা দেশটির বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর জেরুজালেম পোস্ট ও ফক্স নিউজের।

জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ইরাক-ইরান সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে পরিচালিত ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলো তেহরানে স্থল অভিযানে অংশ নিয়েছে। এই গোষ্ঠীর হাজার হাজার যোদ্ধা।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কুর্দি যোদ্ধারা ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। তারা ইরানি বাহিনীকে চাপে ফেলতে এবং ইরানজুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য এই প্রস্তুতি নেয়।

জেনিফার গ্রিফিন নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে নিশ্চিত করেছেন যে কয়েক হাজার কুর্দি যোদ্ধা ইরানে ক্রস-বর্ডার স্থল হামলা শুরু করেছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কুর্দি যোদ্ধারা ইরানের বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করেছে। তবে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে বিদ্রোহীদের সশস্ত্র করছে না। তবে তিনি জানান, মার্কিন সরকারের অন্যান্য অংশও এতে জড়িত থাকতে পারে।

এ ছাড়া হোয়াইট হাউজে দেশটির প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট, ট্রাম্প প্রশাসন কুর্দি যোদ্ধাদের অস্ত্র দিতে সম্মত হয়েছে- এমন রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেন। তবে তিনি বলেছেন, আমি এই ব্যাপারে মন্তব্য করতে পারি যে প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে অনেক পার্টনার, মিত্র এবং নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ট্রাম্প উত্তর ইরাকে আমাদের ঘাঁটি সম্পর্কে কুর্দি নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে ট্রাম্প কোনো পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছেন বলে রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে তা পুরোপুরি মিথ্যা এবং এমনটি লেখা উচিত নয়।

/আশিক


কুয়েত উপকূলে বিস্ফোরণে চুরমার তেলবাহী জাহাজ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ০৯:২৪:০১
কুয়েত উপকূলে বিস্ফোরণে চুরমার তেলবাহী জাহাজ
ছবি : সংগৃহীত

কুয়েতের উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ মার্চ) গভীর রাতে কুয়েতের মুবারক আল-কাবীর এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে নোঙর করা অবস্থায় জাহাজটিতে এই হামলা চালানো হয়। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএমটিও) এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

ইউকেএমটিও-এর বিবৃতি অনুযায়ী, ট্যাঙ্কারটির ক্যাপ্টেন জাহাজের বাম পাশে (পোর্ট সাইড) একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন এবং একটি ছোট নৌযানকে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখেন। বিস্ফোরণের ফলে জাহাজের একটি কার্গো ট্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, এই তেল নিঃসরণের ফলে পারস্য উপসাগরের পরিবেশে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

বিস্ফোরণের পর জাহাজটিতে পানি ঢুকতে শুরু করলেও কোনো অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়নি। জাহাজে থাকা সকল ক্রু সদস্য নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ড্রোনের আঘাতে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি দেশটির জলসীমার বাইরে মুবারক আল-কাবীর বন্দর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনাটি ঘটল।

/আশিক


ইরানের মিসাইল কি ফুরিয়ে আসছে? পশ্চিমা গোয়েন্দাদের বিস্ফোরক দাবি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ০৯:১৬:৩৮
ইরানের মিসাইল কি ফুরিয়ে আসছে? পশ্চিমা গোয়েন্দাদের বিস্ফোরক দাবি
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত আজ ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। তেহরানের দফায় দফায় মিসাইল হামলার পাল্টা জবাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রও তাদের আক্রমণ তীব্রতর করেছে। তবে যুদ্ধের এই ডামাডোলের মধ্যেই পশ্চিমা গোয়েন্দারা এক বিস্ফোরক দাবি তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, ইরান যে হারে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, তাতে করে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের ভাণ্ডার শূন্য হয়ে যেতে পারে।

বুধবার (৪ মার্চ) বেশ কয়েকজন পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ইরান বর্তমানে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার শেষ প্রান্তে অবস্থান করছে। বার্তাসংস্থা এপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী অত্যন্ত সফলভাবে ইরানের মিসাইল লঞ্চারগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। ফলে ইরান থেকে আগের তুলনায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরিমাণ অনেকটাই কমে এসেছে। যদিও ওই কর্মকর্তার ধারণা, ইরান কৌশলগত কারণে তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র শেষ সময়ের জন্য জমিয়ে রাখতে পারে।

অন্যদিকে, আরেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর হাতে থাকা ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরক্ষা মিসাইলও ফুরিয়ে আসছে। এ কারণে ওই অঞ্চলের দেশগুলোকে এখন থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিরক্ষা মিসাইল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নতুন করে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা ইরানে হামলার পরিধি আরও বাড়াচ্ছে। এবারের মূল লক্ষ্যবস্তু হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, রকেট লঞ্চার এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের অবস্থান। মধ্যপ্রাচ্যের এই রণক্ষেত্র এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: