মৃত্যুপুরী তেহরান: মহামারির চেয়েও ভয়ংকর নীরবতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৬ ১০:৫৭:২৭
মৃত্যুপুরী তেহরান: মহামারির চেয়েও ভয়ংকর নীরবতা
ছবি : সংগৃহীত

তেহরান এখন মৃত শহর। মহামারির দিনের মতোই ফাঁকা। ভিপিএনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রবেশ করা এক নাগরিক এ তথ্য বিবিসিকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যস্ততম এলাকা ইরানশাহর স্ট্রিটে বেশির ভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে।

ওই বাসিন্দা বলেন, ‘এটা একটা অদ্ভুত অনুভূতি– কিছু দিক দিয়ে মহামারির দিনের মতোই। সবাই ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করছে। তারা জানে না, পরবর্তী সময় কী হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে আমরা জানি, আজ হোক কাল হোক, এটা শেষ হবে। জীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘ছবি ও ভিডিও তোলা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ইরানশাহর রাস্তার একটি স্ন্যাপশট তিনি শেয়ার করেছেন। এটি সেই একই জায়গা, যেখানে কয়েক মাস আগে একটি রক ব্যান্ড গান গেয়ে ভাইরাল হয়েছিল। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার শিল্পীদের সংগীত পরিবেশন নিষিদ্ধ করে।’

আরেকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিবিসিকে জানান, তিনি পাঁচ দিন পর তাঁর বাড়ি ছেড়ে তেহরানের নাফত স্ট্রিট দিয়ে হেঁটেছেন। এটি একটি আবাসিক এলাকা। গত সোমবার রাতে এক্সপিডিয়েন্সি ডিসকার্নমেন্ট কাউন্সিলের প্রশাসনিক ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সড়কে নিরাপত্তা বাহিনী কাছাকাছি চেক পয়েন্ট স্থাপন করেছে। সৌভাগ্যবশত তারা তাঁকে থামায়নি। কাছের ইরানশাহর স্ট্রিট ছিল সম্পূর্ণরূপে মৃত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রদেশে ব্যাপক সংখ্যক বিস্ফোরণ ঘটেছে। যুদ্ধের ষষ্ঠ দিন বৃহস্পতিবার ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইসরায়েলের দিকে। গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ইরানে এক হাজার ৪৫ জনসহ বিভিন্ন দেশে এক হাজার ৩৩৮ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান রোধের প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে ৫৩-৪৭ ভোটে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি দেখবে। তেহরানে শুধু মৃত্যু ও ধ্বংস দৃশ্যমান হবে। ইরান তার নাগরিকদের পানি ও জ্বালানি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা বাড়িয়েছে ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩৪৮ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইরানে ১৭৫ স্কুলছাত্রীসহ এক হাজার ২৩০ জন। ইসরায়েলে ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭-এ। এ ছাড়া বাহরাইনে একজন, কুয়েতে দুই কুয়েতি সেনাসহ তিনজন, ওমানে একজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ছয় সদস্য, সিরিয়ায় চারজন এবং ইরাকে ১১ মিলিশিয়াসহ ১৩ জন। ইরানে হামলায় সমর্থন দেওয়ায় ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। তেহরানের নেতৃত্ব এখন পুরোপুরি বিপর্যস্ত। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা এখন অনেক শক্তিশালী অবস্থানে আছি এবং ইরানের নেতৃত্ব দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। যারা সেখানে নেতা হতে চাচ্ছেন, দেখা যাচ্ছে তাদের সবারই মৃত্যু হচ্ছে।’

ইরানের রাজধানী তেহরানে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও ব্যাপক হামলা হয়েছে। তেহরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাঝেমধ্যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। কেবল রাজধানী নয়, দেশের অন্যান্য শহর থেকেও সামরিক সদরদপ্তর ও রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে একই ধরনের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে এবং ছয় হাজারের বেশি মানুষ আহত।

বৃহস্পতিবার আজারবাইজানে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ইরান এ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উত্তর উপসাগরে একটি ট্যাঙ্কারে হামলা করার দাবি করেছে ইরান। ট্যাঙ্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের বলে উল্লেখ করেছে তেহরান। তুরস্কের আকাশসীমায় ঠেকিয়ে দেওয়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের ঘটনার ব্যাপারেও ইরান অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইরাক সীমান্তে ‘কুর্দি সন্ত্রাসী’দের উপস্থিতির ব্যাপারে বাগদাদকে সতর্ক করেছেন। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমার বাইরে ইরানি নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ডুবিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নৃশংসতা ঘটিয়েছে। এ জন্য তাদের অনুশোচনা করতে হবে। তবে ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি বলেছেন, জীবন ও নিরাপত্তার ক্ষতি করে সামরিক উত্তেজনার অংশ হওয়া আমাদের উচিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ইরানে দুই হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে দেশটির শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। লেভিট বলেন, এই অভিযানের ফলে ইরানের আকাশসীমার সর্বত্র এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। লেভিট জানান, অভিযানে ইরানের ২০টি নৌযান ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা উপকূলে ডুবিয়ে দেওয়া একটি সাবমেরিনও রয়েছে।

ইরানের পাল্টা হামলা অব্যাহত এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ১৭ ও ১৮তম দফার হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, তারা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশটির বেশ কিছু উন্নত রাডার সিস্টেমকে সফলভাবে নিশানা করেছে। এ ছাড়া কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আরিফজানে মার্কিন বাহিনীর ওপর আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরান গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলকে নিশানা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর জেরে লাখো ইসরায়েলি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে বাধ্য হন। তবে ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থার বরাত দিয়ে এএফপি বলছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। জেরুজালেমেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণার পর নৌরুট এড়িয়ে চলছে পণ্যবাহী জাহাজ। ইসরায়েলে ইরানি হামলার খবর দিয়েছে বিবিসি। তেল আবিব ও জেরুজালেমে হামলার সতর্কতা হিসেবে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। আকাশ হামলা প্রতিহত করার সময় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।

আলজাজিরা জানায়, কাতার, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বাহরাইন প্রতিরক্ষা বাহিনী ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ৭৫টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২৩টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে এএফপি। এখানকার মার্কিন দূতাবাসের কাছের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে কাতার।

আইআরজিসির নৌবাহিনী গতকাল সকালে উত্তর উপসাগরে একটি মার্কিন ট্যাঙ্কারে আঘাত করেছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এ অঞ্চলে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের অবশ্যই আঘাত করা হবে। আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আমরা আগেই বলেছিলাম, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে ইরানের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, কুয়েত উপকূলে একটি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ঘটেছে। সব ক্রু নিরাপদে আছেন।

মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী এখন পর্যন্ত ইরানের ১০৫টি বেসামরিক স্থানে আক্রমণ করেছে। ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে তারা ইরানে এক হাজার ৩৩২টি আক্রমণ রেকর্ড করেছে। এগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ১০৫টি বেসামরিক স্থানে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি চিকিৎসাকেন্দ্র ও সাতটি রেড ক্রিসেন্ট ভবন অন্তর্ভুক্ত। ইরানের ১৭৪টি শহরে হামলা হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় এক পরিবারের চার সদস্যসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। ইরানের কোমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় হামলা করেছে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গতকাল ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন আটজন। দেশটিতে তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। ৩২০টির বেশি স্থানে হামলা হয়েছে। যুদ্ধের সময় ৩০০টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ১১ হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, ইরানের জনগণকে ইচ্ছা করে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিন হাজার ৬০০টির বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন ওড়াউড়ি করছে দুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি বাগ্‌যুদ্ধও চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল এক্স পোস্টে বলেছেন, ইরানের কার্যকর হামলায় যুক্তরাষ্ট্র বেদনাদায়ক ক্ষতি ভোগ করেছে। ওয়াশিংটনের ‘কোনো প্রস্থান পরিকল্পনা নেই’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গালিবাফ বলেন, ইরান আগ্রাসন পরিচালনাকারীদের শেষ শাস্তি না দেখা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। এর আগে বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সেক্রেটারি পিট হেগসেথ ইরানের নেতাদের ‘অহংকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ এ লড়াই চালিয়ে যাব।’ অন্যদিকে ইরানি জেনারেল কিওমারস হায়দারি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ইরান তার লক্ষ্য অর্জন না করা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর আঘাত না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পরিত্যাগ করবে না।

আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাখচিভান এক্সক্লেভের একটি বিমানবন্দরে দুই ড্রোন আঘাত হেনেছে। বিবৃতিতে এ হামলার জন্য ইরানকে ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, আজারবাইজান তেহরানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে। মন্ত্রণালয় জানায়, একটি ড্রোন ইরান সীমান্তের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে পড়ে। আরেকটি পড়ে নিকটবর্তী গ্রামের একটি স্কুল ভবনের কাছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই ড্রোন হামলার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আজারবাইজান।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, চলমান যুদ্ধের সময় রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র পাঠানোর জন্য কোনো অনুরোধ পায়নি। মস্কো ইরানকে অস্ত্রসহ বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে কোনো অনুরোধ আসেনি। অবশ্য ইরান ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে।রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে আরব দেশগুলোকে যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচিকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর ইউরোপীয় দেশগুলো সেখানে যুদ্ধসরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটো সংসদকে জানিয়েছেন, আগামী দিনে দ্বীপটিকে রক্ষা করার জন্য ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাদ্রিদ একটি ফ্রিগেট পাঠাবে। ফ্রান্সও এতে যুক্ত হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ অর্থনীতির ক্ষতি করছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটা শেষ করা উচিত।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ ঘোষণা দিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘সামরিক সরঞ্জাম’ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। যুক্তরাজ্য আরও চারটি টাইফুন জেট পাঠাচ্ছে কাতারে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ ঘোষণা দেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সতর্কতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলাফল তাদের ভোগ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি ছিল। ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার এক্স পোস্টে আব্বাস আরাঘচি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে খারাপ নজির স্থাপন করেছে, তার জন্য তারা তীব্র অনুশোচনা করবে। বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ‘আইআরআইএস দিনা’ নামের ইরানি যুদ্ধজাহাজে সাবমেরিন থেকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে জাহাজটি ডুবে যায়।শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ঘটনায় তারা ৮৭ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ৩২ জনকে। জাহাজটিতে ১৮০ জনের মতো আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ। তিনি বলেন, ইরানের হুমকির কারণে সেখানে বিপুল সংখ্যক নাবিক আটকা পড়েছেন। ফলে ওই অঞ্চলে নৌ-বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে বিভিন্ন প্রমোদতরীর আরও প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারে মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেবেন ট্রাম্প।

উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টির (পিএকে) কর্মকর্তা খলিল নাদিরি জানান, তাদের বাহিনী সুলাইমানিয়া প্রদেশে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। তারা প্রস্তুত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুর্দি বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়কে সমর্থন করেছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘কুর্দিরা উদ্যোগ নিতে চায়; আমি এর পক্ষে।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে অন্তত ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ সংখ্যার মধ্যে গত কয়েক দিনে তেহরান থেকে পালিয়ে যাওয়া আনুমানিক ১ লাখ মানুষ, লেবাননে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া ৮৪ হাজারেরও বেশি এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আসা যে কোনো হামলা থেকে জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রক্ষা করার জন্য ন্যাটো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের বৈঠকের পর ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এ কথা জানান।

/আশিক


দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের রহস্যময় কাঠামো: হঠাৎ দেখা দিয়ে উধাও, তুঙ্গে উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ২০:৩৭:২৭
দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের রহস্যময় কাঠামো: হঠাৎ দেখা দিয়ে উধাও, তুঙ্গে উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরের ভূকৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলয় হিসেবে পরিচিত ‘দক্ষিণ চীন সাগর’। এই সাগরের অন্যতম বিরোধপূর্ণ অঞ্চল ‘স্কারবোরো শোল’-এ সম্প্রতি রহস্যময় একটি কাঠামোর আকস্মিক উপস্থিতি এবং পরপরই তা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে তীব্র আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে এই প্রবালপ্রাচীরের লেগুন প্রবেশমুখে একটি সন্দেহজনক ভাসমান ভেলা বা বয়া সদৃশ বস্তুর অস্তিত্ব ধরা পড়ে, যা চীনের গোপন সামরিক বা কৌশলগত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যানটর’ এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘সিলাইট’-এর বিশেষজ্ঞরা গত ২৭, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের স্যাটেলাইট ডাটা বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, স্কারবোরো শোলের লেগুনের প্রবেশপথের কাছে দেখা যাওয়া বস্তুটি কোনো সাময়িক আলোক প্রতিফলন ছিল না, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট স্থায়ী বা আধা-স্থায়ী কাঠামো ছিল।

এমনকি ২৭ ও ২৯ মে তোলা ছবিতে দেখা যায়, ওই বস্তুটি লেগুনের মুখ আংশিকভাবে আটকে রেখে একটি কৃত্রিম বাধার সৃষ্টি করেছিল। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ১ জুন তোলা পরবর্তী স্যাটেলাইট ছবিতে ওই কাঠামোর আর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক নজরদারির কারণে চীন সেটি দ্রুত সরিয়ে নিয়েছে অথবা অন্যত্র স্থানান্তর করেছে। বরাবরের মতোই এই স্পর্শকাতর বিষয়ে বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা ম্যানিলার চীনা দূতাবাস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এদিকে এই রহস্যময় কাঠামোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ফিলিপাইন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি এই বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পান এবং বর্তমানে তা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসেও এই প্রবেশমুখে প্রায় ৩৫২ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান কৃত্রিম প্রতিবন্ধক স্থাপন করেছিল চীনা কোস্টগার্ড, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল লেগুনে অন্য দেশের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা।

দীর্ঘদিনের এই বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটি চীনে ‘হুয়াংইয়ান দাও’ এবং ফিলিপাইনে ‘বাজো দে মাসিনলোক’ নামে পরিচিত। সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদ, সম্ভাব্য তেল-গ্যাস খনি এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় ২০১২ সাল থেকে প্রবালপ্রাচীরটি কার্যত জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে চীন। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত চীনের এই অবরোধকে ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’ বলে রায় দিলেও বেইজিং তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে সাগরের সিংহভাগের ওপর নিজেদের একক দাবি বজায় রেখেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ফিলিপাইন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামুদ্রিক মহড়ার পর এই অঞ্চলে চীনের টহল আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই ধরনের রহস্যময় কর্মকাণ্ড এবং গোপন বাধার রাজনীতি দক্ষিণ চীন সাগরে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের কূটনৈতিক বা সামরিক সংঘাতের আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক


কাগজে-কলমে চুক্তি হলেও যুদ্ধবিরতি মানছে না ইসরাইল, লেবাননে ব্যাপক হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১৯:৫৩:৪৫
কাগজে-কলমে চুক্তি হলেও যুদ্ধবিরতি মানছে না ইসরাইল, লেবাননে ব্যাপক হামলা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মধ্যস্থতায় লেবাননের সাথে বহুল আলোচিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও নির্দিষ্ট কিছু এলাকার ক্ষেত্রে তা একেবারেই মানবে না ইসরায়েল। দখলদার দেশটির সেনাবাহিনী সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের চলমান নৃশংস সামরিক অভিযান কোনো বিরতি ছাড়াই অব্যাহত থাকবে। সৌদি আরবভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘সৌদি গেজেট’-এর এক প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। ইসরায়েলের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে সম্পূর্ণভাবে তাড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এই সামরিক আগ্রাসন চলতেই থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদ্রাই দাবি করেছেন, দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এবং সেনারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে উপর্যুপরি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি ওই অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দাদের জাহরানি নদীর দক্ষিণে ভ্রমণ বা যাতায়াত না করার কঠোর নির্দেশ দেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যে বা যারাই এখন দক্ষিণে যাবে, তাদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়বে।’ অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ স্পষ্ট করেছেন যে, বৈরুতের সঙ্গে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি ‘শর্তসাপেক্ষ’ এবং এর স্থায়িত্ব নির্ভর করছে দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সম্পূর্ণ অপসারণের ওপর।

বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতির খাতা-কলমে ঘোষণার পরও দক্ষিণ লেবাননের আকাশে প্রতনিয়ত ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে উড়ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, লেবাননের ঐতিহাসিক টাইর শহরের ওপর দিয়ে অত্যন্ত নিচু দিয়ে ইসরায়েলি ড্রোন উড়তে দেখা গেছে এবং একই সময়ে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণ চালানো হয়েছে।

লেবাননের বেকা উপত্যকার সোহমোর শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। একইভাবে তথাকথিত যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে টেল আল-আকারেবসহ আরও কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে। এছাড়া হাদ্দাথা, টিবনিন, হারিস এবং হারিনসহ দক্ষিণ লেবাননের একাধিক শহরের ওপর নতুন করে একের পর এক হামলা চালানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ দেশটির বাস্তুচ্যুত সাধারণ জনগণকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও এখনই দক্ষিণাঞ্চলে নিজ নিজ ঘরবাড়িতে না ফেরার জন্য আকুল আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর ফেলে যাওয়া অসংখ্য অবিস্ফোরিত বোমা, মাইন ও চলমান আকাশ হামলার কারণে দক্ষিণের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক।

উল্লেখ্য, এই আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তেও হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননের কানতারা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের একটি ক্যাম্পে ব্যাপক রকেট হামলা চালায় এবং কৌশলগত বিউফোর্ট দুর্গের কাছে সফল ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে, যা মূলত এই চুক্তির ভঙ্গুরতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

/আশিক


ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতি মানে একটু আস্তে গুলি চালানো: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১২:৪০:২৯
ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতি মানে একটু আস্তে গুলি চালানো: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ইরানের কাছে ‘যুদ্ধবিরতি’ শব্দটির সংজ্ঞা ও অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন নেতা ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, তেহরানের কাছে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা চুক্তির মানে হলো যখন আপনি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা ‘ধীরগতিতে বা পরিমিত মাত্রায় গুলি চালাচ্ছেন’।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিকতম সময়ে হওয়া এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই যুদ্ধবিরতিকে তিনি কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এই বিচিত্র মন্তব্য করেন। হাস্যোজ্জ্বল মুখে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ওটা বিশ্বের সম্পূর্ণ আলাদা একটি অংশ এবং ওই অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি মানেই হলো যখন আপনি কিছুটা পরিমিতভাবে গুলি চালাচ্ছেন, এটা খুব একটা খারাপ নয়।

ট্রাম্পের মতে, সেখানে একটি যুদ্ধবিরতির অর্থ পৃথিবীর অন্য যেকোনো প্রান্তের চেয়ে অনেক বেশি আলাদা। তবে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর এই সর্বাধিনায়ক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এত কিছুর পরও চলতি ‘সপ্তাহান্তের মধ্যেই’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একটি বড় ধরনের স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এক টেবিলে বসতে পারে। যদিও ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও বক্তব্যের কারণে বর্তমানে তিনি দেশের অভ্যন্তরে নিজস্ব political মিত্র এবং আন্তর্জাতিক শত্রু উভয় পক্ষের কাছ থেকেই তীব্র সতর্কবার্তা ও সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন।

মূলত ট্রাম্প এই ইরান যুদ্ধটিকে একটি সংক্ষিপ্ত সামরিক অভিযান হিসেবে শুরু করলেও তা এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অনির্দিষ্টকালের জটিল সংঘাতে রূপ নিয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকেরা চলমান সংঘাতের যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানোর জন্য এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে একটি খসড়া চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলেন, যা বাস্তবায়নে ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু ট্রাম্প সেই খসড়া চুক্তিতে কিছু অনির্দিষ্ট পরিবর্তনের দাবি তোলায় চুক্তিটি ঝুলে যায় এবং ইরানের কর্মকর্তারাও ট্রাম্পের এই নতুন শর্তের সামনে মাথা নোয়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গত ৭ এপ্রিল মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘ ৩৮ দিনের ভয়াবহ বোমাবর্ষণের পর একটি ১৪ দিনের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া উপর্যুপরি পাল্টাপাল্টি হামলা সেই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটিকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার গভীর আশঙ্কা তৈরি করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি


মুকেশ আম্বানিকে টপকে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী টিকটকের ঝ্যাং ইমিং

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১২:১৩:১৮
মুকেশ আম্বানিকে টপকে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী টিকটকের ঝ্যাং ইমিং
ছবি : সংগৃহীত

ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ঝ্যাং ইমিং এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থানে উঠে এসেছেন। বাইটড্যান্সের বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে কোম্পানিটির দ্রুত অগ্রগতির ফলে তিনি ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি ও রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিকেও ছাড়িয়ে গেছেন।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঝ্যাং ইমিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৯২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর ফলে তিনি শুধু এশিয়ার দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তিই নন, চীনের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থানও আরও শক্তিশালী করেছেন। ২০১৯ সালে ব্লুমবার্গ প্রথমবারের মতো ঝ্যাং ইমিংয়ের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করে। সে সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৩ বিলিয়ন ডলার। এরপর মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ সাত গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রযুক্তি খাতের দ্রুত উত্থান এবং বাইটড্যান্সের ক্রমবর্ধমান সাফল্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মুকেশ আম্বানির সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৮৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা তাকে এশিয়ার তৃতীয় ধনী ব্যক্তির স্থানে নামিয়ে এনেছে। তবে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হিসেবে নিজের অবস্থান শক্তভাবে ধরে রেখেছেন ভারতের আরেক ধনকুবের গৌতম আদানি। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ১১৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

ঝ্যাং ইমিংয়ের সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে টিকটকের বৈশ্বিক সাফল্যের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বাইটড্যান্সের নিজস্ব তৈরি এআই চ্যাটবট ‘ডৌবাও’। বর্তমানে চীনে এই প্ল্যাটফর্মের মাসিক ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩০ কোটিরও বেশি, যা এটিকে দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবটে পরিণত করেছে।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে। বাইটড্যান্স তাদের মার্কিন ব্যবসার একটি কৌশলগত অংশ মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর করে। এর ফলে কোম্পানিটির মূল্যায়নে ঝুঁকির হার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয় এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বাড়ে। ব্ল্যাকরক, ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস ও টি. রো প্রাইস গ্রুপসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নতুন মূল্যায়নের ভিত্তিতে ঝ্যাং ইমিংয়ের সম্পদ এক ধাক্কায় ২৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে।

বেইজিংভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। চীনের এআই বাজারে নিজেদের একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মার্কিন শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর হওয়ায় বাইটড্যান্সের প্রকৃত বাজার মূল্যায়ন আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে।

/আশিক


ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ০০৭: জেমস বন্ড সেজে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১১:৪৮:৩৭
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ০০৭: জেমস বন্ড সেজে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ নিজেকে নিয়ে তৈরি একটি আলোচিত মিম শেয়ার করে বিশ্বজুড়ে নতুন কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। এবার তিনি ব্রিটিশ সিক্রেট এজেন্ট জেমস বন্ডের আইকনিক আদলে নেটিজেনদের মাঝে হাজির হয়েছেন এবং নিজেকে পৃথিবীর ‘সবচেয়ে বড় আকর্ষণ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। নিজের ব্যক্তিগত ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প তাঁর তরুণ বয়সের একটি পুরোনো ছবি পোস্ট করেন, যেখানে কাঠের প্যানেলযুক্ত একটি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছবির নিচে জেমস বন্ডের বিখ্যাত কোডনেমের অনুকরণে লেখা ছিল ‘ট্রাম্প ০০৭’।

অবশ্য নিজেকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও জনপ্রিয় বৈশ্বিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তুলনা করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। অতীতেও তিনি কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এলভিস প্রিসলি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার উইনস্টন চার্চিল, মাদার তেরেসা এবং সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়ে খোদ যিশু খ্রিষ্টের সঙ্গেও নিজের অবয়বের তুলনা টেনেছিলেন। কাকতালীয়ভাবে, জেমস বন্ড সিরিজের জন্য বর্তমানে সম্পূর্ণ নতুন মুখ খুঁজছে বিশ্বখ্যাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন এমজিএম এবং অভিনেতা ড্যানিয়েল ক্রেইগের উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য স্টুডিওটি আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন আহ্বান করেছে।

এই প্রতিষ্ঠানের মালিক জেফ বেজোসকে ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে গত মে মাসে হোয়াইট হাউসের সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকেও মজার ছলে টাক্সিডো পরা ট্রাম্পকে সাইলেন্সার লাগানো পিস্তল হাতে ‘বন্ড’ রূপে দেখিয়ে একটি বিশেষ মিম পোস্ট করা হয়েছিল, যার কোণায় লেখা ছিল তাঁর বিখ্যাত নির্বাচনী স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’।

জেমস বন্ডের পরবর্তী মূল চরিত্রে রূপালি পর্দায় কে অভিনয় করবেন তা নিয়ে হলিউডপাড়ায় এখনো জোর গুঞ্জন ও আলোচনা চলছে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন অ্যারন টেইলর-জনসন, টম হল্যান্ড ও জ্যাকব এলর্ডির মতো জনপ্রিয় অভিনেতারা। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ অভিনেতা ড্যানিয়েল ক্রেইগ সর্বশেষ ২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নো টাইম টু ডাই’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বন্ড চরিত্রে নিজের দীর্ঘ যাত্রার ইতি টানেন।

ট্রুথ সোশ্যালে জেমস বন্ডের এই মিম শেয়ার করার পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কয়েকটি ছবিও পোস্ট করেছেন যা নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একটি ছবিতে বিশাল জনসমাবেশের সামনে নিজেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখিয়ে ক্যাপশনে তিনি নিজেকে ‘দ্য গ্রেটেস্ট অ্যাট্র্যাকশন’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করেই ২০১২ সালে প্রয়াত বিশ্বখ্যাত পপ তারকা হুইটনি হিউস্টনের সঙ্গে নিজের একটি পুরোনো ছবিও শেয়ার করেন।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট


আমি না থাকলে আজকের ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকতো না: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১৯:৫৭:০১
আমি না থাকলে আজকের ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকতো না: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেছেন, তাঁর জোরালো ভূমিকা ও সঠিক পদক্ষেপ না থাকলে বর্তমান বিশ্বে ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রটির কোনো অস্তিত্বই থাকত না। সাম্প্রতিক এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি নিয়ে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ট্রাম্প একই সাথে জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কেমন হবে, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁকে ইরান ইস্যুতে কোনো ধরনের যুদ্ধে জড়াতে প্ররোচিত বা প্রভাবিত করেছেন—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই প্রসঙ্গে নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু তাঁকে কোনো ফাঁদে ফেলেননি, বরং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যা যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার ছিল, তা তিনি নিজেই গ্রহণ করেছিলেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কারণেই তিনি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, কারণ ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্যই হওয়া উচিত ছিল তেহরানকে যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া না হয়।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে একহাত নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তাঁর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে যেসব নেতিবাচক কথাবার্তা বা অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার সবটুকুই ডেমোক্র্যাটদের নোংরা রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন নিয়ে তাঁর এই উদ্বেগ যে দীর্ঘদিনের, সেটির প্রমাণ দিতে গিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁর প্রথম মেয়াদের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালেই তিনি ওবামা প্রশাসনের আমলে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের যুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের সক্ষমতা সরাসরি ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক মহাবিপদ সংকেত। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেলে ইরান সম্ভবত তাদের প্রথম আঘাতটি ইসরায়েলের ওপরই হানত।

তবে পুরো সাক্ষাৎকারে তাঁর করা সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্যটি ছিল, “আমাকে ছাড়া এখন আর ইসরায়েল থাকত না।” মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে যখন নতুন করে নানা হিসাব-নিকাশ ও আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এমন দাবি বিশ্বজুড়ে বিতর্কের নতুন ঝড় তুলেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যের আহ্বান আমিরাতের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১৭:৪৬:১২
ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যের আহ্বান আমিরাতের
ছবি : সংগৃহীত

কুয়েত ও বাহরাইনের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী ও অবিচল ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ আঞ্চলিক সংহতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই আহ্বান জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গারগাশ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাষ্ট্রকে এই ধরনের বৈরি হামলা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে এককভাবে ফেলে রাখা সমীচীন হবে না। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর অন্তর্ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। জিসিসি ভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ একই সূত্রে গাঁথা হওয়ায় যেকোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক আগ্রাসনকে পুরো অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা আবশ্যক।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই শীর্ষ কূটনৈতিক কর্মকর্তার মন্তব্যটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের পক্ষ থেকে চালানো একটি কথিত প্রতিশোধমূলক হামলার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের ওই হামলায় কুয়েতের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে বিমান ওঠানামাও স্থগিত রাখা হয়।

সূত্র: গলফ নিউজ


ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ: শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে বসছে অতিরিক্ত শুল্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১১:৪২:২০
ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ: শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে বসছে অতিরিক্ত শুল্ক
ছবি : সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর বাণিজ্য নীতিমালার অংশ হিসেবে এবার বড় ধরনের বড় ধাক্কার মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ (ফোর্সড লেবার) ইস্যুতে ৬০টি দেশের সব ধরনের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) অফিসিয়ালি এই নতুন খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করেছে। ইউএসটিআরের দাবি, তালিকাভুক্ত এই ৬০টি দেশ তাদের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রম বা শ্রম শোষণ রোধে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কম মূল্যে প্রবেশ করে মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে তীব্র বাধা সৃষ্টি করছে এবং মার্কিন শ্রমিকদের জন্য এক চরম অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছে।

ইউএসটিআরের প্রস্তাবিত খসড়া তালিকা অনুযায়ী, শাস্তিমূলক শুল্কের হার নির্ধারণে দেশগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। এই তালিকার অন্য দেশগুলো হলো—কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া এবং তাইওয়ান। অন্যদিকে, তালিকার বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত শুল্কের হার আরও চড়া, যা প্রায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার এই কঠোর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের মার্কিন বাজারে প্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ব্যর্থ হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর কারণে মার্কিন দেশীয় শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে এক বিশাল অসাম্য ও অন্যায্য প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।

মার্কিন স্বার্থ রক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ জরুরি।” তবে মার্কিন পোশাক আমদানিকারকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়ে ইউএসটিআর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের ক্ষেত্রে সীমিত কোটায় কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের একটি বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাবও খসড়াতে রাখা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিশদ রূপরেখা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত কৌশলগত মনে করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প প্রশাসনের এর আগে আরোপিত বেশ কিছু সাময়িক শুল্কের আইনি মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হতে যাচ্ছে। তার ওপর সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত একাধিক শুল্ক আদেশকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়।

ফলে সুপ্রিম কোর্টের সেই ধাক্কা সামাল দিতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে এবার সম্পূর্ণ নতুন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে শুল্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, যার প্রথম কোপটি পড়ল শ্রম ইস্যুতে দুর্বল অবস্থানে থাকা দেশগুলোর ওপর। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প এমনিতেই মার্কিন বাজারে মন্দার মুখোমুখি, তার ওপর নতুন করে এই ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

/আশিক


কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মেগা ড্রোন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১০:২১:১৪
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মেগা ড্রোন হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে। ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে (Qeshm Island) আকস্মিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার তীব্র জবাব দিতে গিয়ে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থ লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ বুধবার (৩ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে দুপক্ষের সামরিক সূত্রের বরাতে এই বিপজ্জনক সংঘাতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কেশম দ্বীপে মার্কিন আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক জবাব হিসেবে তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ লক্ষ্য করে একযোগে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

পাল্টা হামলার সত্যতা স্বীকার করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা একটি নতুন ড্রোন বহর কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালায়। তবে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি ড্রোনগুলো প্রতিহত করায় সেই হামলাটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।

এর আগে আজ বুধবার ভোরে সেন্টকম এক জরুরি বার্তায় জানায়, তারা ইরানের কেশম দ্বীপে একটি ইরানি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে ‘আত্মরক্ষামূলক’ বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ওই বিশেষ স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জাহাজে ড্রোন হামলার পরিচালনার কাজে ব্যবহার করছিল ইরান।

এদিকে ইরানের এই পাল্টা হামলার পর কুয়েত এবং বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিমান হামলার তীব্র সতর্কসংকেত (এয়ার রেইড সাইরেন) বেজে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। পুরো অঞ্চল জুড়ে এখন চরম যুদ্ধ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কেশম শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেকোনো বিদেশি আগ্রাসন ও হামলা মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এবার যদি পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও নজিরবিহীন প্রতিশোধ নেবে ইরান।

/আশিক

পাঠকের মতামত: