বাজেটে স্বস্তি ও চাপ দুটোই, কোন পণ্যে কী পরিবর্তন?

দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বাজেট বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার পর এটি প্রথম বাজেট হওয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে এর গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই বৃহৎ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে ব্যয় ও আয়ের ব্যবধানের কারণে বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণ, উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা এবং অন্যান্য উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেটে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিছু স্বস্তির খবরও থাকতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় ৬০টি পণ্যে কর ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা কিংবা কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সব খাতে স্বস্তি মিলছে না। নির্মাণ খাতের জন্য নতুন বাজেট কিছুটা চাপের কারণ হতে পারে। আবাসন শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল এমএস রড ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর ও ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাজারে রডের দাম বাড়বে এবং নতুন বাড়ি বা অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে।
তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে সরকার। সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত ফিল্টার তৈরির কাঁচামালের ওপর ৩০০ শতাংশ এবং নিকোটিনের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। পাশাপাশি নিকোটিন পাউচের ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা করা হতে পারে। একই সঙ্গে সিগারেটের প্রতিটি প্যাকেটে কিউআর কোড সংযোজন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে কর ফাঁকি ও অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।
দেশীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যালকোহল বা মদের ক্ষেত্রেও করের বোঝা বাড়তে পারে। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি লিটার অ্যালকোহলের ওপর ৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের সুপারিশ রয়েছে। ফলে মদের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন।
আমদানি নির্ভর বিলাসী খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও নতুন করনীতি আসতে পারে। উচ্চমূল্যের বিভিন্ন খাদ্যপণ্য এবং নতুন করে ১০টি পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি করা উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার যুক্তিতে কাজুবাদাম আমদানির ওপর শুল্কও বড় ধরনের বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে ৫ শতাংশ শুল্ক থাকলেও তা একলাফে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার আলোচনা চলছে। সরকারের ধারণা, এতে দেশীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবেন এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হবেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। করছাড়, নতুন বিনিয়োগ উদ্যোগ, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব সংস্কারের মধ্য দিয়ে সরকার একদিকে যেমন প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে চায়, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার চেষ্টাও অব্যাহত রাখবে।
-রাফসান
ঐতিহাসিক দলিল ও আলোকচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত রাষ্ট্রপতি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র প্রত্যক্ষ করে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, ফ্যাসিবাদের নাগপাশ ছিন্ন করে জাতি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে বটে, তবে এর জন্য চুকানো মূল্য ছিল অপরিসীম।
রাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও পঙ্গুত্ববরণকারী আহতদের ত্যাগের ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হবে না। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি সচিব এবং জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা।
সাধারণ দর্শনার্থীর মতো প্রবেশ টিকিট কেটে জাদুঘরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর তিনি ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ নামের বিশেষ পদচারণ পথ ধরে মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের বিভিন্ন ঐতিহাসিক বাঁক প্রত্যক্ষ করেন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের দুঃশাসনের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে নির্মিত শহীদ স্মারক এবং কুখ্যাত ‘আয়নাঘর’-এর প্রতিরূপ ঘুরে দেখেন তিনি। অভ্যুত্থানের শহীদ ও ত্যাগীদের অমর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে জাদুঘর চত্বরে একটি বৃক্ষরোপণ করেন রাষ্ট্রপ্রধান। একই সাথে তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহের নারকীয় হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের নির্মম অভিযান, গুমের ঘটনা ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের নানাবিধ ঐতিহাসিক প্রমাণাদি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
প্রদর্শনীতে সংরক্ষিত শহীদদের ব্যক্তিগত চিঠি, স্মারক এবং আন্দোলন-সংগ্রামের উত্তাল মুহূর্তগুলোর চিত্র দেখার সময় তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হন। পরবর্তীতে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে জুলাই অভ্যুত্থানভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র চলাকালে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি। পরিদর্শন সমাপ্ত করে মন্তব্য বইয়ে স্বাক্ষরকালে রাষ্ট্রপতি লেখেন, এই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়পরায়ণ, শোষণহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই সমকালীন প্রধান কর্তব্য। আগামী প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এই জাদুঘরের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি দেশে আর কোনোদিন যেন এমন বর্বর হত্যাযজ্ঞ ফিরে না আসে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার তাগিদ দেন।
শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ছাত্র-জনতার নিঃস্বার্থ রক্তদান বাংলাদেশের ন্যায়বিচার ও মুক্তির ইতিহাসে এক অবিনাশী অধ্যায় হয়ে থাকবে। শহীদ ও আহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি জাতি এই বীরত্বকে আজীবন কৃতজ্ঞতায় স্মরণে রাখবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতির সামনে প্রদর্শনী ও ঐতিহাসিক নথির বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।
/আশিক
প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির ৯টি মূল কারণ জাতীয় সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বারবার বৃদ্ধির পেছনে সুনির্দিষ্ট একাধিক কাঠামোগত কারণ রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে অবহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্প অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং কেনাকাটা বা ক্রয় প্রক্রিয়ার ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান নানা দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী জটিলতার জন্ম দেয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের সময়সীমা ও আর্থিক ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বর্তমান সরকারের নজরে আসার পরই তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ও বাড়তি ব্যয়ের পেছনে থাকা মূল কারণগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চিহ্নিত সমস্যাগুলোর বিশদ বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্বল সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি, শুরুতেই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের সঠিক হিসাব না থাকা, অনুপযুক্ত প্রকল্প এলাকা নির্বাচন, জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং সেবা সংযোগ বা ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
এছাড়া সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় নেওয়া, যথাসময়ে প্রকল্প পরিচালক বা পিডি নিয়োগ না দেওয়া, তদারকি ও নজরদারির ঘাটতি এবং অর্থায়ন পরিকল্পনা ও বাজেটের মধ্যে সামঞ্জস্যের অভাবকেও প্রধান নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জটিল এই সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু আধুনিক ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
/আশিক
ব্যাংক খাতের সাবেক শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধান
নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের আর্থিক খাতের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রকে পরিণত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ মেয়াদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গভীর যোগাযোগ ও শীর্ষ পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে তিনি বছরের পর বছর ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) শীর্ষ পদটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
এই প্রভাবকে ব্যবহার করে তিনি দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এক ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও তহবিলের নামে অন্যান্য ব্যাংকের ওপর চাঁদা আদায়ের চাপ তৈরির অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে, যার কারণে সংশ্লিষ্ট মহলে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে। এই অঘোষিত ক্ষমতার জোরেই তিনি দেশের ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণের জালে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন, যার সিংহভাগ দেশে উৎপাদনশীল খাতে না রেখে অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে পাচার করে গড়ে তুলেছেন আন্তর্জাতিক সম্পদের সাম্রাজ্য।
অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের এই বিপুল বিস্তার খতিয়ে দেখতে গিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যুক্তরাজ্য, হংকং এবং ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত স্বায়ত্তশাসিত আইল অব ম্যান ও জার্সি দ্বীপপুঞ্জে নজরুলের বিপুল আর্থিক সাম্রাজ্যের সুনির্দিষ্ট সন্ধান পেয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাটির অনুসন্ধান অনুযায়ী, আমদানি-রপ্তানির ভুয়া লেনদেন, ওভার-ইনভয়েসিং ও আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বাণিজ্যের আড়ালে এবং বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে এই অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়।
টাকা সরানোর এই অবিশ্বাস্য কৌশলের কারণে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের চোখে তিনি ছিলেন এক 'ম্যাজিক মাস্টার'। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জার্সি দ্বীপের বিখ্যাত ইউবিএস ব্যাংকে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলামের প্রকৃত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড'-এর হিসাবে থাকা প্রায় ৫৩ লাখ পাউন্ড (৫ দশমিক ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড) আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অর্থ যাতে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া না যায়, সে লক্ষ্যে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এই অ্যাকাউন্ট ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ জব্দের আনুষ্ঠানিক আদেশ দেন।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০১৯ সালের মে মাসে আইল অব ম্যানের ঠিকানায় 'ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড' প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং একই বছরের অক্টোবরে জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে হিসাব খুলে পাচার করা বিপুল অর্থ জমা রাখা শুরু হয়। ব্যাংকঋণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এই অর্থ সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছিল। অন্যদিকে দেশের ব্যাংকগুলোতে নজরুলের প্রতারণার জাল ছিল সমান বিস্তৃত। নাসা গ্রুপের বিভিন্ন পোশাক কারখানা ও সুতা তৈরির প্রতিষ্ঠানের নামে এক ব্যাংকের ঋণ দিয়ে আরেক ব্যাংকের দায় শোধ এবং বিশেষ বিবেচনায় নিয়মবহির্ভূত ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিলের কৌশল চালিয়ে গেছেন তিনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনেও এসব অনিয়মের সত্যতা মেলে, যার মধ্যে শুধু একটি ব্যাংক থেকেই নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার প্রমাণ রয়েছে, যার প্রায় ৯৯৮ কোটি টাকাই দেওয়া হয়েছিল অনৈতিক বিশেষ সুবিধায়। দেশীয় ব্যাংকগুলোকে ফাঁকা করে বিদেশে একাধিক কাগুজে কোম্পানি খুলে ব্যবসা পরিচালনা, রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ এবং সম্পদ অর্জনের এই পুরো নেটওয়ার্ক এখন দুদকের আইনি জালে আটকা পড়তে শুরু করেছে।
/আশিক
প্রত্যর্পণে দেশে ফেরা মাত্রই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে: শামা ওবায়েদ
বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ভারত থেকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো মাত্রই বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের আওতায় তাঁকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হবে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ দলটির বহু নেতাকর্মী, যাঁদের অনেকেই ইতোমধ্যে দেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত, বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করে তাঁদের ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে এবং নয়াদিল্লির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে এটি একটি সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়া, যা তাদের বিচার বিভাগীয় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যকে গুরুত্বহীন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিদেশে বসে কী বলছেন তা সরকারের কাছে কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ামাত্রই তাঁকে সরাসরি গ্রেফতার করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় কারাবন্দি করা হবে, যা স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় থেকেও ইতোমধ্যে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এদিকে ‘মক্কা প্যাক্ট’ নামের বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এটি মূলত একটি নিরাপত্তাকেন্দ্রিক বহুপাক্ষিক ফোরাম। বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ফলে যেকোনো নতুন বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক জোটে যুক্ত হওয়ার পূর্বে তা দেশের জনগণের স্বার্থরক্ষা এবং জাতীয় কল্যাণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। এই মূল্যায়ন সম্পন্ন করার উপযুক্ত সময় এলে সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাসময়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরবে।
পাশাপাশি মানবপাচার রোধে নেওয়া সরকারের প্রশাসনিক তৎপরতা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি স্বতন্ত্র ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করা হয়েছে। বিদেশগামী কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং অভিবাসন খাতের নানামুখী সংকট নিরসনে এই শাখা নিবিড়ভাবে কাজ করবে। অতি সম্প্রতি মানবপাচারের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা মাদারীপুরসহ দেশের ১৪টি জেলাকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাচারকারী ও মানবপাচার চক্রের নেটওয়ার্ক কেবল দেশে নয় বরং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
/আশিক
র্যাব অতীত, নতুন স্বচ্ছতায় আসছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে নতুন বাহিনী হিসেবে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। প্রয়োজনীয় সংশোধনী যুক্ত করে বিলটি দ্রুততম সময়ে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, প্রস্তাবিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’-এর প্রতিটি ধারা ও উপধারা নিয়ে বৈঠকে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করা হয়। বিস্তারিত আলোচনার পর প্রয়োজনীয় পরিমার্জন সাপেক্ষে খসড়া বিলটি জাতীয় সংসদে তোলার বিষয়ে কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠকে অতীতের বিভিন্ন বাস্তবতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উল্লেখ করা হয়, অতীতে র্যাবসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থে ব্যাপকভাবে অপব্যবহারের শিকার হতে হয়েছে।
তবে কমিটির সদস্যরা অভিমত প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত অপব্যবহারের কারণে কোনো কাঠামোগত বাহিনীকে পুরোপুরি অবলুপ্ত করে দেওয়া সঠিক বা স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। এর পরিবর্তে বাহিনীর বিদ্যমান অবকাঠামো, আধুনিক সাজসরঞ্জাম এবং দক্ষ জনবলের অভিজ্ঞতাকে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানোই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। একই সঙ্গে নতুন করে গঠিত বা পুনর্গঠিত এই বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে কঠোর পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং বাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও আইনি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলের ডাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লংমার্চ কর্মসূচি চলাকালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হয় বৈঠকে। দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে কর্মসূচি নির্বিঘ্ন রাখায় সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ জানায় সংসদীয় কমিটি। দেশে একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আবহ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন ইতিবাচক ভূমিকার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানানো হয়।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত উক্ত বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল বাতেন। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সেবা সংস্থাগুলোর প্রধান এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
হয়রানি করে কোনো কর আদায় নয়, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা অর্থমন্ত্রীর
ব্যবসায়ীদের কোনো প্রকার হয়রানি বা অসুবিধায় না ফেলে করদাতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করেছেন, স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন কোনো কর আরোপ কিংবা রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া সরকার চাপিয়ে দেবে না। করদাতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু, কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব করব্যবস্থা গড়ে তোলাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে এনবিআর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক যৌথ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভ্যাট রিটার্ন প্রতি মাসের পরিবর্তে দ্বিমাসিক বা এক মাস অন্তর দাখিলের পূর্বের নিয়ম ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে অর্থমন্ত্রী জানান, রাজস্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে সব অংশীজনের সঙ্গেই আলোচনা চলছে। এর পাশাপাশি করদাতাদের অনিষ্পন্ন রাজস্ব বিরোধ ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আলোচনা চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই মাসের রাজস্ব আহরণ এবং টানা তিন মাসের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল নিয়ে যে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে দ্রুত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ব্যবসায়ী মহলের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি অনেকটাই ব্যবসায়ীদের দেওয়া করের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাঁদের বৈধ ও স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা তৈরি করা হবে না। ব্যবসায়ীদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হয়রানিমুক্ত ও আস্থার পরিবেশ বজায় রেখে রাজস্ব আহরণ পরিচালনা করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায় ২২ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে সংবাদকর্মীরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অর্থমন্ত্রী সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।
/আশিক
ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তৎপর দূতাবাস, সংসদে জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাস প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জাতীয় সংসদকে অবহিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই কূটনৈতিক তৎপরতার কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংসদে উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের একজন যোদ্ধার ওপর আঘাত মূলত দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপরই আঘাতের শামিল। তিনি জানান, গত সোমবার ইতালির ভেনিস শহরে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, তাঁর ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও তাঁদের সন্তানের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও বিতাড়িত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আকস্মিক হামলা চালায়।
ঘটনার পরপরই নেওয়া প্রশাসনিক উদ্যোগ তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার সকালেই পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে বিশদ কথা হয়েছে। ইতালির স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে এবং ভুক্তভোগী বাঁধনকে সর্বোচ্চ আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ইতালির স্থানীয় পুলিশ এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সার্বক্ষণিকভাবে অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তাঁকে যাবতীয় সহায়তা দিচ্ছে। অভিনেত্রী বাঁধন স্থানীয় পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এই অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ দূতাবাস অত্যন্ত গুরুত্ব ও কঠোরতার সঙ্গে পুরো বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে উপস্থাপন করবে।
/আশিক
শেখ হাসিনার আসতে হবে না, আমরা ধরে আনতে চাই: তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর ও অনড় বলে স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে নিজ ইচ্ছায় ফিরতে হবে না, বরং সরকার তাঁকে আইনগতভাবে আটক করে ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার দাবিকে ভারত সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের সঙ্গে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে স্পষ্ট শর্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা আইনের দৃষ্টিতে একজন চিহ্নিত ও পলাতক অপরাধী এবং তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। এমনকি প্রধান কৌঁসুলির বরাত দিয়ে তিনি জানান, রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করার আইনগত সময়সীমাও ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে। ফলে তাঁর জন্য সর্বোচ্চ সাজাই অপেক্ষমাণ এবং সরকার তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করতে ফিরিয়ে আনবে।
ভারতে অবস্থানকালে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেওয়া সাক্ষাৎকার ও সংবাদ সম্মেলনের ঘটনায় গভীর অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাহেদ উর রহমান। বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের পূর্ব পর্যন্ত ভারত সরকার তাঁকে এমন প্রকাশ্য তৎপরতা থেকে বিরত রাখবে—এটাই ছিল প্রত্যাশা। ভারতে তাঁর বর্তমান আইনি মর্যাদা কী এবং তিনি এমন রাজনৈতিক বা গণমাধ্যমভিত্তিক অধিকার ভোগ করতে পারেন কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্টতা নেই। এই পরিস্থিতি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য মোটেই ইতিবাচক নয় এবং ঢাকা তাঁর প্রত্যর্পণের দাবিতে কোনো কৌশল নয়, বরং শতভাগ আন্তরিক অবস্থান বজায় রেখেছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসনে অন্তত প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়া বন্ধ রাখা উচিত ছিল। এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারকে প্রশ্ন করার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই স্পর্শকাতর বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষকে কতটা বিক্ষুব্ধ ও বিরক্ত করছে তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। একদিকে সহযোগিতার ইতিবাচক বার্তা দেওয়া এবং অন্যদিকে এমন আচরণ বজায় রাখা দুই দেশের মাঝে প্রয়োজনীয় আস্থার পরিবেশ তৈরির পরিপন্থী। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার দুই বছরেরও বেশি সময় পর শেখ হাসিনা সম্প্রতি আগামী ডিসেম্বরে দেশে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন।
/আশিক
অটোরিকশার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বার্তা
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে ডিজিটাল নিবন্ধন, কিউআর কোড ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার আওতায় এনে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, অটোরিকশা ব্যবস্থাপনায় ইতিমধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় প্রতিটি যানকে ডিজিটাল নিবন্ধনে নিয়ে আসা হবে এবং যুক্ত করা হবে কিউআর কোড ও সার্বক্ষণিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, যার ফলে একটি বৈধ নম্বর জালিয়াতি করে একাধিক অটোরিকশা চালানোর কোনো সুযোগ থাকবে না।
সোমবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধির আওতায় সরকারি দলের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তৈরি নীতিমালায় চালকদের জীবিকা ও কর্মসংস্থান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। একই সাথে সড়কের নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এসব যানবাহনকে একটি নিয়মতান্ত্রিক নজরদারির ভেতরে আনা হবে। বিশেষ করে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির বদলে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে নীতিমালায় সুস্পষ্ট ও কঠোর বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
দেশে বর্তমানে ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারের ব্যাপক বিস্তারের তথ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার সচল রয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। অথচ এগুলোর বিপরীতে সরকারের অনুমোদিত বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। কেবল রাজধানীতেই প্রায় ৪৮ হাজার অনুমোদনহীন ও অবৈধ চার্জিং স্টেশন গড়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে প্রতিবছর সরকারের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), ডেসকো ও ডিপিডিসি যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে নিয়মিত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে।
গত এক দশকে অটোরিকশা ও ইজিবাইক গ্রামীণ ও শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাশ্রয়ী ভাড়ার এই বাহন চালক, গ্যারেজকর্মী, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎ সেবাদাতাদের বড় একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। তবে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই বাহনের লাগামহীন বৃদ্ধি বিদ্যুৎ বণ্টন, ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও সড়কের নিরাপত্তার ওপর বড় হুমকি তৈরি করেছে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে সংঘটিত ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ হাজার ১১ জন। এর মধ্যে মোট দুর্ঘটনার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ ঘটনার সঙ্গেই অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল।
এর আগে আলোচনার সূত্রপাত করে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু জানান, রাজধানীর ১৭টি ট্রাফিক সিগন্যালে স্থাপিত ৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নজরদারি ক্যামেরার কল্যাণে লালবাতি অমান্য, অনিয়মিত লেন বদল কিংবা মাত্রাতিরিক্ত গতির মতো অপরাধ অনেকটাই কমেছে। তবে কোনো ধরনের নম্বর প্লেট না থাকার কারণে অটোরিকশার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের চিত্র এআই ক্যামেরায় ধরা পড়লেও চালকদের শনাক্ত করে জরিমানা কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, স্বল্প ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে যানটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায় এটি বন্ধ না করে ড্রাইভিং লাইসেন্স, চালকের সঠিক প্রশিক্ষণ ও নম্বর প্লেট নিশ্চিত করা উচিত। পরবর্তীতে সম্পূরক প্রশ্নে তিনি অটোরিকশা জব্দ বা ডাম্পিংয়ের বদলে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের সুযোগ, সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক চার্জিং অবকাঠামো নির্মাণ, বিআরটিএর প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন এবং সুনির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক চলাচলের রূপরেখা প্রস্তাব করেন।
উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধান সড়কগুলো অটোরিকশামুক্ত রাখতে নিয়মিত পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। প্রাথমিক সফলতার পর তেজগাঁও ও রমনা বিভাগে আরও ২০০টি আধুনিক এআই ক্যামেরা বসানোর কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে, যা পরবর্তীতে পুরো শহরে বিস্তৃত করা হবে। সরকার কোনোভাবেই জীবিকার উৎস বন্ধ না করে বরং ডিজিটাল নিবন্ধনের মাধ্যমে একটি নিয়মনিষ্ঠ কাঠামোর প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জাতীয় অর্থনীতি, সড়কের সুরক্ষা, পরিবেশ এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে খুব দ্রুতই এই নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু হবে।
সূত্র: বাসস
পাঠকের মতামত:
- ঐতিহাসিক দলিল ও আলোকচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত রাষ্ট্রপতি
- প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির ৯টি মূল কারণ জাতীয় সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী
- ব্যাংক খাতের সাবেক শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধান
- আন্তর্জাতিক চাপে পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বের বড় সিদ্ধান্ত
- রোনালদোকে ছাড়া ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের তালিকা ঘোষণা
- প্রত্যর্পণে দেশে ফেরা মাত্রই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে: শামা ওবায়েদ
- রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের বিষয়ে যা জানাল নয়াদিল্লি
- র্যাব অতীত, নতুন স্বচ্ছতায় আসছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি
- ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজে বড় ছাড়: প্যাকেজ-১ ও ২-এ যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে
- বল হাতে আলো ছড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি তারকার নতুন মাইলফলক
- নিজের জীবনের অজানা অধ্যায় প্রকাশ্যে আনলেন ব্ল্যাকপিংকের তারকা
- ব্যালন দ’রের সেরা গোলরক্ষকের সংক্ষিপ্ত তালিকায় বিশ্বকাপের নায়ক ভজিনিয়া ও সিমন
- ব্যালন দ’রের সেরা গোলরক্ষকের সংক্ষিপ্ত তালিকায় বিশ্বকাপের নায়ক ভজিনিয়া ও সিমন
- হয়রানি করে কোনো কর আদায় নয়, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা অর্থমন্ত্রীর
- বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম
- শরতের শুরুতেই কুয়াশার চাদরে উত্তরাঞ্চল: নামছে আগাম শীত, বাড়ছে নিউমোনিয়া
- সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে মধ্যরাতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
- ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য: ইসরায়েলে রাজনৈতিক তোলপাড়
- ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তৎপর দূতাবাস, সংসদে জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- অন্তর্বর্তী আমলের চেয়েও খারাপ দিকে যাচ্ছে দেশ, রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: চরমোনাই পীর
- শেখ হাসিনার আসতে হবে না, আমরা ধরে আনতে চাই: তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
- শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিতে শহীদ পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস আলম
- অটোরিকশার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বার্তা
- সাইকেলে ছয় দেশ পাড়ি দিয়ে হজ পালনের উদ্দেশ্যে নরসিংদীর সজিবের যাত্রা
- ক্যালেন্ডারের সংখ্যা নাকি মনের অনুভূতি: বার্ধক্যের আসল পরিচয় আসলে কী?
- ঢাকার দুই সিটির লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ: মাঠে নামছে তরুণ নেতৃত্ব
- ১২ মাসের গড় হিসাবে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী
- জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা ও ভবিষ্যৎ এআই: মানব মূল্যবোধ রক্ষা কতটা কঠিন?
- অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তির পেছনে যেসব অজানা কারণ
- এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের সূচি প্রকাশ, পদক জয়ের অভিযানে বাংলাদেশ
- যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর বিল দিচ্ছে পুরো বিশ্ব: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- যানজট কমাতে রাজধানীতে ফের কার্যকর হচ্ছে বিকল্প নৌপরিবহন
- সংসদে ডা. শফিকুর রহমানের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দোয়া
- ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রিতে খামেনির নাম যেভাবে সামনে এল
- মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যের প্রভাবে চাপে মূল্যবান ধাতুর বাজার
- দেশে শেখ হাসিনার নামে কত টাকার সম্পদ, জানা গেল হিসাব
- যানজট কমাতে নৌপথে আসছে নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী: ভারতীয় হাইকমিশনার
- বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতাকে স্পিকারের ধন্যবাদ
- আইপিএলের ধাক্কা এড়াতে পিএসএলের সূচিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
- ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে রেখে আইসিসির বহুজাতিক সিরিজের পরিকল্পনা
- সন্তান ফ্ল্যাটে যাবে আর বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে এটা মেনে নেওয়া যায় না: রুমিন ফারহানা
- ৩ ইরানি ট্যাংকারে আঘাতের পর মার্কিন ড্রোন জাহাজে হামলার দাবি তেহরানের
- লংমার্চে পথচারীদের ভোগান্তি: দেশবাসীর কাছে জামায়াত জোটের দুঃখ প্রকাশ
- আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: আই২৪ নিউজে নেতানিয়াহুর দম্ভোক্তি
- আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতি টানলেও ক্লাবে নতুন কীর্তি মহাতারকার
- ছেঁড়া-ফাটা টাকা বদল স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ: সংসদে অর্থমন্ত্রী
- ‘সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার সমাজ চাই’: মির্জা ফখরুল
- আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর লংড্রাইভ: রাশেদ খাঁনের দাবি
- ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন
- টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
- ক্রিকেটের নতুন বিশ্বমঞ্চের দায়িত্ব পেল ভারত
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- হতাশাজনক হারে এশিয়ান কাপ বাছাই থেকে বিদায় নিশ্চিত বাংলাদেশের
- অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
- প্রযুক্তিপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড় চমক আনতে পারে অ্যাপল
- লন্ডনের ইলফোর্ডে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান
- ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: পার্থ
- দীর্ঘ বিরতির পর সংসদে ফিরে আবেগাপ্লুত শীর্ষ নেতা
- ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি
- তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ
- লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান
- লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
- ‘জি এম তো নাই’: স্পিকারের রসিকতায় সংসদে হাসির রোল








