বাজেটে স্বস্তি ও চাপ দুটোই, কোন পণ্যে কী পরিবর্তন?

দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বাজেট বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার পর এটি প্রথম বাজেট হওয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে এর গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই বৃহৎ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে ব্যয় ও আয়ের ব্যবধানের কারণে বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণ, উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা এবং অন্যান্য উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেটে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিছু স্বস্তির খবরও থাকতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় ৬০টি পণ্যে কর ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা কিংবা কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সব খাতে স্বস্তি মিলছে না। নির্মাণ খাতের জন্য নতুন বাজেট কিছুটা চাপের কারণ হতে পারে। আবাসন শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল এমএস রড ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর ও ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাজারে রডের দাম বাড়বে এবং নতুন বাড়ি বা অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে।
তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে সরকার। সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত ফিল্টার তৈরির কাঁচামালের ওপর ৩০০ শতাংশ এবং নিকোটিনের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। পাশাপাশি নিকোটিন পাউচের ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা করা হতে পারে। একই সঙ্গে সিগারেটের প্রতিটি প্যাকেটে কিউআর কোড সংযোজন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে কর ফাঁকি ও অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।
দেশীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যালকোহল বা মদের ক্ষেত্রেও করের বোঝা বাড়তে পারে। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি লিটার অ্যালকোহলের ওপর ৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের সুপারিশ রয়েছে। ফলে মদের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন।
আমদানি নির্ভর বিলাসী খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও নতুন করনীতি আসতে পারে। উচ্চমূল্যের বিভিন্ন খাদ্যপণ্য এবং নতুন করে ১০টি পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি করা উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার যুক্তিতে কাজুবাদাম আমদানির ওপর শুল্কও বড় ধরনের বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে ৫ শতাংশ শুল্ক থাকলেও তা একলাফে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার আলোচনা চলছে। সরকারের ধারণা, এতে দেশীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবেন এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হবেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। করছাড়, নতুন বিনিয়োগ উদ্যোগ, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব সংস্কারের মধ্য দিয়ে সরকার একদিকে যেমন প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে চায়, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার চেষ্টাও অব্যাহত রাখবে।
-রাফসান
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটে কী থাকছে সাধারণের জন্য
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগ পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষার নতুন দিকনির্দেশনা নিয়ে আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। দুপুর ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন। সম্ভাব্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট শুধু দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটই নয়, বরং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা হিসেবেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার কৌশলগত ভিত্তি তৈরির উদ্যোগও এতে প্রতিফলিত হতে পারে।
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকা মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা সরকারের জন্য বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের ধীরগতির মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে না। ফলে বাজেটে শুধু লক্ষ্য নির্ধারণ নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
রাজস্ব আহরণেও রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, এনবিআর বহির্ভূত উৎস থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর-বহির্ভূত খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে এই উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং করজাল সম্প্রসারণ ছাড়া রাজস্ব প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ২২৫ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার পৃথক তহবিল বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ খাত, ফলে এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানো অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও এবারের বাজেট গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের আলোচিত নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা আসতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন পে-স্কেল নিয়ে তাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান ভাতা ও সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির আওতা এবং বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ বাজেটের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করাও এবারের বাজেটের অন্যতম অগ্রাধিকার। লাইসেন্স, অনুমোদন, নিবন্ধন ও করসংক্রান্ত জটিলতা কমাতে ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা একটি একক অনলাইন সেবা কেন্দ্র থেকে ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কার্যক্রম আরও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনলাইনে কর রিটার্ন দাখিল, সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত এবং কর বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির মতো আধুনিক সেবা চালুর প্রস্তাবও বাজেটে থাকতে পারে।
তবে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা। জ্বালানি, বিদ্যুৎ, সার এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী অর্থবছরের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধও সরকারের জন্য বড় চাপ হয়ে উঠছে। বাজেটে সম্ভাব্য ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং খাত, সঞ্চয়পত্র এবং বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকেই ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, বিনিয়োগের স্থবিরতা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, শিল্প খাতে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ সব মিলিয়ে জটিল বাস্তবতায় এবারের বাজেট ঘোষণা হচ্ছে। ফলে সরকারের জন্য একদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, অন্যদিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দুই লক্ষ্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি মনে করেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তাদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে না পারলে বাজেটের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলো অর্জন কঠিন হবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর আসছে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কয়েক বছর ধরে বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে নতুন পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা চলছিল। এখন সেই আলোচনার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যেতে পারে চলতি মাসেই।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের মধ্যেই নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন শুরু করা। এজন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রায় সব গ্রেডেই মূল বেতনে বড় ধরনের বৃদ্ধি আনার সুপারিশ করা হয়েছে। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করার চিন্তা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
সরকারি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে নিম্ন আয়ের কর্মচারী থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সবাই উপকৃত হবেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর যে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা কিছুটা লাঘব হতে পারে।
তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরো পে-স্কেল একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। প্রাথমিক আলোচনায় উঠে এসেছে, আগামী ১ জুলাই থেকে বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর করা হতে পারে। পরবর্তী দুই অর্থবছরে অবশিষ্ট অংশ সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার চিন্তা রয়েছে।
নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হচ্ছে পেনশনভোগীদের অন্তর্ভুক্তি। প্রায় ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই সুবিধার আওতায় আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যারা তুলনামূলক কম পেনশন পান, তাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেনশন বৃদ্ধির বিষয়ে আলাদা ব্যবস্থা রাখা হতে পারে।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় কিছু ক্ষেত্রে পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুযোগ রাখার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর ফলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ধারণায় সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় এবং শিক্ষাখরচ যেভাবে বেড়েছে, তাতে নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি এক ধাপেই কার্যকর করা প্রয়োজন। তাদের মতে, আংশিক বাস্তবায়ন করলে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ বলছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। এর ফলে বাজারে ভোগব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে, যা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। খুচরা বাজার, আবাসন, শিক্ষা ও সেবাখাতে এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বেতন বৃদ্ধি সরকারের ব্যয়ভারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি হয়ে উঠবে।
এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের আলোচনায় এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধি, পেনশন সুবিধা এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি।
-রাফসান
প্রথম বাজেটেই বড় চমক দিতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন লক্ষ্য সামনে রেখে আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট। প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন, যা হবে বর্তমান সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক রূপরেখা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়া।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তার মাধ্যমে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান।
প্রস্তাবিত বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ২২৫ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতকে আরও শক্তিশালী করতে ২ হাজার কোটি টাকার এসএমই তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই তহবিল নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও বাজেটে সুখবর থাকতে পারে। নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে কয়েক লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হতে পারেন।
স্বাস্থ্য খাতেও বড় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ২৫ লাখ নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার আওতায় আনতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও আধুনিক করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাও বাড়ানো হতে পারে নতুন বাজেটে। বিদ্যমান ভাতা ও সহায়তা কর্মসূচির বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বেশ কয়েকটি নতুন সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যআয়ের জনগোষ্ঠী কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রবাসী কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক বছরে বিদেশে প্রায় ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব থাকতে পারে এবারের বাজেটে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অর্থনৈতিক সূচকের ক্ষেত্রেও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়াতে পারে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকায়। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনে তা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুবসমাজকে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে এবং মাদক, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ থেকে দূরে রাখতে নতুন বাজেটে ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। সরকারের ধারণা, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে তরুণদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।
এবারের বাজেটের অন্যতম আলোচিত দিক হতে যাচ্ছে ব্যবসা পরিচালনা সহজীকরণ কর্মসূচি। ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স, অনুমোদন, নিবন্ধন ও কর-সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগবান্ধব নীতি, উদ্যোক্তা সহায়তা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পেতে পারে। তবে বাজেট বাস্তবায়নের দক্ষতা, রাজস্ব আহরণ সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার সফলতা নির্ধারণ করবে।
-রফিক
নতুন মাইলফলক, দেশের মাথাপিছু আয় ও জিডিপিতে নতুন রেকর্ড
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন মাইলফলক যুক্ত হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় প্রথমবারের মতো ৩ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০ মার্কিন ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা।
বুধবার (১০ জুন) প্রকাশিত বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারও ৫০০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা ডলারের হিসাবে ৫০১ বিলিয়ন ডলার।
আগের অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। ডলারপ্রতি ১২২ টাকা ১৪ পয়সা বিনিময় হার ধরে এ বছরের জিডিপির হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ফলে প্রবৃদ্ধির হারে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সেবা খাতে। এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং কৃষি খাতে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরের তুলনায় কৃষি ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ৩ হাজার ২০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৫১ মার্কিন ডলার।
তবে ইতিবাচক এই অগ্রগতির পাশাপাশি কিছু উদ্বেগের বিষয়ও তুলে ধরেছে বিবিএস। সংস্থাটির সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে উন্নীত হওয়া এবং মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত। তবে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকা এবং জিডিপির তুলনায় জাতীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার কিছুটা কমে যাওয়া সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
/আশিক
ইশতেহার বাস্তবায়নে ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী
বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের লাগামহীন দুর্নীতি ও অর্থপাচারের কারণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সুশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং সবার জন্য ব্যবসা-বান্ধব ও বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যে সরকার নানামুখী যুগান্তকারী মেগা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান। আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের চতুর্থ দিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের পৃথক দুটি প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এই তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দেশের প্রত্যেক ব্যবসায়ীর জন্য এমন সুবিধা তৈরি করা হবে, যেখানে তারা সুন্দরভাবে ব্যবসা করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন; আর সেই লক্ষ্য রেখেই আগামীকাল (১১ জুন) সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করা হতে যাচ্ছে।
সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বিগত শাসনব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, স্বৈরাচারের পতনের আগে থেকেই আমরা বিষয়টি দেখছিলাম এবং পতনের পর দেশের দাপ্তরিক নথিতে আরও পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি যে কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং বিদেশে অর্থপাচারের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হলে সবার আগে অর্থনৈতিক সুশৃঙ্খলা বা ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনতে হবে। এর পাশাপাশি দেশে ক্ষুদ্র ট্রেডার থেকে শুরু করে বড় শিল্পোদ্যোক্তা সবার জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ ব্যবসা-বান্ধব পরিস্থিতি গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ইতিমধ্যে ১৮০ দিনের, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের এবং আগামী ৫ বছরের জন্য মেগা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।
বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত বিবরণ সংসদে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর হতে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন লাইসেন্স অনলাইনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল উপায়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রদান করা হচ্ছে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের বিদ্যমান রপ্তানি নীতিকে আধুনিক ও হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ হালনাগাদকরণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যাতে বিদেশি বড় বিনিয়োগকারীরা খুব সহজে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব ধরনের অশুল্ক বাধা দূর করার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে দেশের বন্ডেড এবং নন-বন্ডেড সব উৎপাদনমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে এফওসি (ফ্রি অব চার্জ) ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগের আওতা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। এ civilisation ছাড়া আমদানিকারকদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সব আমদানিকারকদের জন্য মূল্যসীমা নির্বিশেষে কোনো ধরনের এলসি বা ঋণপত্র ছাড়াই সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে আমদানির এক অভূতপূর্ব সুযোগ রাখা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তি বাস্তবায়ন ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকারের মেগা কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে। ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই দর্শনে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দিতে নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া শুরু হয়েছে, যা পাইলটিং পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৩৬টি ইউনিটের ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে। কৃষকের ইউনিক ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিতকরণ ও সরাসরি ন্যায্যমূল্যে সরকারি কৃষি উপকরণ পৌঁছে দিতে গত ১৪ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হয়েছে, যা এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৮ জন কৃষককে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে নিয়োজিত কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে সরকার নতুন বাজেটে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এককালীন বরাদ্দ দিয়েছে, যার ফলে সারা দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন প্রান্তিক কৃষক সরাসরি ঋণমুক্ত ও উপকৃত হবেন।
ডিজিটাল চিকিৎসাসেবা ও ধর্মীয় খাতের উন্নয়নে প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ৫টি জেলায় (খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী) 'ই-হেলথ কার্ড' প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা উন্নত ইলেকট্রনিক পেশেন্ট রেফারেল ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকবে। এর পাশাপাশি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩৯6টি গির্জায় কর্মরত ইমাম, মোয়াজ্জিন ও পুরোহিতসহ ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
যুবসমাজ ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকার একযোগে ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে শূন্য পদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন লোক নিয়োগের চূড়ান্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ অসচ্ছল শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
একই সাথে ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ ইন্টারনেট সেবা চালু করা হবে। ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদেশগামীদের জন্য বিদ্যমান জামানতবিহীন ব্যাংক ঋণের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে এবং জাপানগামীদের ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।
প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে দেশে হাই-টেক ও সফটওয়্যার পার্কগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত ‘পেপ্যাল’ (PayPal) গেটওয়ে কার্যক্রম অবিলম্বে আরম্ভের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সারা দেশের শহর ও গ্রামের প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ বিঘা এবং প্রতিটি উপজেলায় ১০ বিঘা করে জমি অধিগ্রহণ করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ১২-১৪ বছরের শিশু-কিশোরদের জন্য ফুটবল, ক্রিকেটসহ ৮টি প্রধান খেলা অন্তর্ভুক্ত করে গত ২ মে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য প্রথমবার ‘ক্রীড়া ভাতা’ ও ‘ক্রীড়া কার্ড’ চালু করা হয়েছে, যার আওতায় এ পর্যন্ত ৩০০ জনকে নিয়মিত ভাতা এবং ৩২৫ জনকে বিশেষ ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশ রক্ষায় গত ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া মেগা খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় ৪টি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে সারা দেশে ৬৬৬টি খালের খননকাজ দ্রুত গতিতে চলছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৯৬৫.০৪ কিলোমিটার। আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল উদ্যোগের অংশ হিসেবে আসন্ন বর্ষা মৌসুমেই প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপণ করা হবে।
এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে পরিবেশবান্ধব রুফটপ সোলার ও নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে সরকার কাজ করছে, যেখানে দুর্নীতি এবং কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার কোনো স্থান নেই এবং জনগণের প্রতিটি আমানত রক্ষা করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনকল্যাণে নিয়োজিত করা হবে।
/আশিক
দুর্নীতি ও অর্থপাচারের ক্ষত দূর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই নতুন বাজেটের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের লাগামহীন দুর্নীতি ও অর্থপাচারের কারণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সুশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং সবার জন্য ব্যবসা-বান্ধব একটি বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যে সরকার নানামুখী যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান।
আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের চতুর্থ দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলমের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "প্রত্যেকের জন্য এমন সুবিধা তৈরি করা হবে, যেখানে তারা সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে পারেন এবং দেশের বেকার যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন; সেইভাবেই আমরা লক্ষ্য রেখে আগামীকালের (১১ জুন) বাজেটটি তৈরি করার চেষ্টা করছি।"
সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বিগত শাসনব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "স্বৈরাচারের পতনের আগে থেকেই আমরা বিষয়টি দেখছিলাম এবং পতনের পর দেশের দাপ্তরিক নথিতে আরও পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি যে কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং বিদেশে অর্থপাচারের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হলে সবার আগে অর্থনৈতিক সুশৃঙ্খলা বা ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনতে হবে। এর পাশাপাশি দেশে ক্ষুদ্র ট্রেডার থেকে শুরু করে বড় শিল্পোদ্যোক্তা বা ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট—সবার জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ ব্যবসা-বান্ধব পরিস্থিতি গড়ে তুলতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট আগামীকাল জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে।
এই বাজেটে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে শতভাগ সহজ করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দিয়ে বেশ কিছু বড় ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত বিবরণ সংসদে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এখন থেকে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর (CCIE) হতে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন লাইসেন্স বা প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল উপায়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রদান করা হচ্ছে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের বিদ্যমান রপ্তানি নীতিকে আধুনিক ও হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ হালনাগাদকরণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যাতে বিদেশি বড় বিনিয়োগকারীরা খুব সহজে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করতে পারেন।"
প্রধানমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব ধরনের অশুল্ক বাধা (Non-Tariff Barriers) দূর করার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের বন্ডেড এবং নন-বন্ডেড সব উৎপাদনমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে এফওসি (Free of Charge/Cost) ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগের আওতা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আমদানিকারকদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সব আমদানিকারকদের জন্য মূল্যসীমা নির্বিশেষে কোনো ধরনের এলসি (Latter of Credit) বা ঋণপত্র ছাড়াই সরাসরি চুক্তির (Agreement) মাধ্যমে আমদানির এক অভূতপূর্ব সুযোগ রাখা হচ্ছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) চুক্তি বাস্তবায়ন ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে দ্রুত, আধুনিক ও স্বচ্ছ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামীকালকের বাজেটে প্রতিফলিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
/আশিক
শান্তিরক্ষীদের সাফল্য বাংলাদেশের গর্ব: প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদানকে জাতীয় গৌরবের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সীমিত সম্পদ, কঠিন বাস্তবতা এবং নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে সম্মান ও আস্থা অর্জন করেছেন, তা দেশের জন্য এক অনন্য অর্জন। এই মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা এবং আরও সমৃদ্ধ করা সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কেবল একটি পেশাগত দায়িত্ব নয়, বরং এটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং বৈশ্বিক শান্তির প্রতি অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন। তিনি জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ সদস্য মিলিয়ে দুই লক্ষাধিক শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশে পরিচালিত প্রায় ৬৩টি জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে জাতিসংঘের অধীনে ৪ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। তারা নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। পাশাপাশি হাইতিতে নতুন একটি শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও চলছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের ভূমিকাকে বিশেষভাবে তুলে ধরে তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ এখন আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত একটি বিষয়। বর্তমানে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সাহস, নেতৃত্ব ও দক্ষতা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশকে আরও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।
সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাসের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান গভীরভাবে জড়িত। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাহিনীর সদস্যরা আন্তর্জাতিক পরিসরেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি বাহিনীর পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, ঐক্য এবং চেইন অব কমান্ডের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে এই মূল্যবোধ অটুট রাখতে হবে।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তিত বাস্তবতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চরিত্র ও চ্যালেঞ্জ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। প্রচলিত সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, তথ্যযুদ্ধ, ভুয়া প্রচারণা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা সংকট এখন বৈশ্বিক শান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। ফলে শান্তিরক্ষীদেরও আধুনিক প্রযুক্তি, কৌশল এবং নতুন ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি জানান, এই পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার পর্যায়ক্রমে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাহিনীগুলোকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক সম্মান এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। সংবিধানে ঘোষিত বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার আদর্শ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সবসময় বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক সমাধান এবং জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে এসেছে।
অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষভাবে ২০২৫ সালে সুদানে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ উৎসর্গকারী ছয়জন সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালনকালে আহত সদস্যদেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সাহস, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বশান্তির প্রতিটি অভিযানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কেবল একটি দায়িত্ব নয়, বরং মানবতার প্রতি দেশের প্রতিশ্রুতির প্রতীক।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের শীর্ষ নেতৃত্ব, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা ইতিহাসের গৌরবময় সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ অঙ্গীকারকে নতুন করে তুলে ধরেছে।
-রফিক
পুরান ঢাকার পুনর্জাগরণে সরকারের মেগা পরিকল্পনা
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং বস্তি নির্ভর বসবাস ব্যবস্থার পরিবর্তনে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। জাপানের বস্তি উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করে রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক এলাকার বিদ্যমান বস্তিগুলোকে আধুনিক ‘স্যাটেলাইট টাইপের সিটি’তে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুরান ঢাকাকে আন্তর্জাতিক মানের ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক নগর এলাকায় পরিণত করতে চীনের সাংহাই শহরের আদলে একটি ব্যাপক পুনর্গঠন বা ‘রি-জেনারেশন’ কর্মসূচিও বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনা সভায় রাজধানীর ভবিষ্যৎ নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়, রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ বস্তি কড়াইল এলাকায় আধুনিক আবাসনভিত্তিক নগর উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেই জরিপের ভিত্তিতে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনাও প্রস্তুত করা হয়েছে, যা দ্রুত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, শুধু কড়াইল নয়, সাততলা ও ভাষানটেক এলাকাকেও একই পরিকল্পনার আওতায় এনে আধুনিক নগর সুবিধাসম্পন্ন আবাসিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তা করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। খুব শিগগিরই গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপনা করা হবে।
এদিকে পুরান ঢাকাকে আধুনিক বিশ্বের ঐতিহাসিক নগর পুনর্জাগরণ মডেলের আলোকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে পুরান ঢাকার জন্য ‘রি-জেনারেশন’ বা পুনরুজ্জীবন ধারণা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার আওতায় ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত সড়কব্যবস্থা, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাংহাই শহরের পরিকল্পিত নগরায়ন, নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন এবং ঐতিহাসিক অঞ্চল সংরক্ষণের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে পুরান ঢাকার জন্য নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ‘ঢাকা রি-জেনারেশন প্রজেক্ট’ নামে একটি কারিগরি প্রস্তাবনা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং বিদেশি অর্থায়ন পাওয়ার লক্ষ্যে পৃথক উন্নয়ন উদ্যোগও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানী উন্নয়নের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবকাঠামো প্রকল্পের কাজও দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল ঘিরে জিয়া উদ্যানের সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়ন প্রকল্প। মূল সমাধি এলাকার উন্নয়নকাজ শেষ হলেও পার্কের বাকি অংশের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরো প্রকল্প সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জিপিও এবং সচিবালয় এলাকা সমন্বিত করে নতুন মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দক্ষ ও আধুনিক করতে সচিবালয় এলাকায় ধাপে ধাপে অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনা হবে। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে চূড়ান্ত মাস্টারপ্ল্যান জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে।
অন্যদিকে রাজধানীর মিন্টো রোড এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন সরকারি বাসভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। এ লক্ষ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর একটি পূর্ণাঙ্গ নকশা প্রস্তুত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নকশাটি অনুমোদনের জন্য দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, এসব প্রকল্প শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং রাজধানী ঢাকাকে দীর্ঘমেয়াদে আরও বাসযোগ্য, পরিকল্পিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নগরীতে রূপান্তরের বৃহৎ কর্মপরিকল্পনার অংশ। বস্তি উন্নয়ন, পুরান ঢাকার পুনর্জাগরণ, প্রশাসনিক আধুনিকায়ন এবং নতুন আবাসন ব্যবস্থার সমন্বয়ে রাজধানীর সামগ্রিক চেহারা বদলে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
-রফিক
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে হট্টগোল: জামায়াতের তোপের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’-এর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং ব্যাংকটির বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতি নিয়ে আজ জাতীয় সংসদে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও বিতর্কের মুখে পড়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের পর্ষদে বসানো নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর তীব্র তোপের মুখে পড়েন মন্ত্রী।
জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের তোলা একাধিক গুরুতর অভিযোগের কড়া জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "ইসলামী ব্যাংক মানেই ইসলাম নয়, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, আবার জামায়াতে ইসলামীও কিন্তু ইসলাম নয়। সুতরাং, সব বিষয়ে বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এভাবে ইসলামের দোহাই দেওয়া মোটেও সমীচীন নয়।"
সংসদ অধিবেশনে ইসলামী ব্যাংকে চলমান গ্রাহক ও কর্মকর্তা আন্দোলন এবং বিশৃঙ্খলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, "ব্যাংকের কোনো বৈধ ও সাধারণ গ্রাহকের বিন্দুমাত্র সমস্যা হবে না এবং আইনি নিয়মানুযায়ী তাঁদের আমানত ও মালিকানা নিশ্চিত করা হবে।" তবে আন্দোলনের পেছনে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পর্দার আড়াল থেকে ব্যাংকটিতে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সাধারণ গ্রাহকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আন্দোলন চালাচ্ছে।
এসব কৃত্রিম আন্দোলন বা উসকানি দিয়ে বেশি দূর এগোনো যাবে না বলেও তিনি সংসদ থেকে সতর্কবার্তা দেন। ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তনের আইনি বৈধতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রচলিত 'ব্যাংক কোম্পানি আইন' অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক যেকোনো সময় যেকোনো ব্যাংকের পর্ষদকে ভেঙে দেওয়ার বা অব্যাহতি দেওয়ার পূর্ণ আইনি এখতিয়ার রাখে। যদি এই সরকারি বা আইনি প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের কোনো প্রশ্ন তুলতে হয়, তবে তাঁদের আগে সংসদে আইন পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক খসড়া বা প্রস্তাব নিয়ে আসতে হবে।
একই সাথে তিনি ব্যাংকটি থেকে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ নেওয়া বিতর্কিত ‘নাবিল গ্রুপ’সহ যারা জনগণের টাকা নিয়ে ফেরত দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যাংকটির প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার বিষয়েও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন।
এর আগে সংসদ অধিবেশনে জিরো আওয়ারে জামায়াতের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ইসলামী ব্যাংকের লুটপাট নিয়ে বর্তমান সরকারের ভূমিকাকে তীব্রভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে অভিযোগ করেন যে, বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ অতীতে ২৬টি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বেনামি কোম্পানি গঠন করে ইসলামী ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা পাচার ও লুটপাট করেছে।
পতিত সরকারের আমলে হওয়া সেই মহা-লুটপাটের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই বর্তমান সরকার আবারও ব্যাংকটির শীর্ষ পর্ষদে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বসিয়ে জনগণের আমানতের টাকা নতুন করে লুটপাটের একটি অলিখিত ব্যবস্থা করে দিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। উল্লেখ্য, গত ২৪ মে অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক বিতর্কিত ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
খুরশীদ আলমের এই বিতর্কিত নিয়োগের পর থেকেই ব্যাংকটির সাধারণ গ্রাহক, কর্মকর্তা ও শেয়ারহোল্ডাররা দেশজুড়ে বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন, যার আঁচ আজ সরাসরি গিয়ে লাগল জাতীয় সংসদে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- বাজেটে স্বস্তি ও চাপ দুটোই, কোন পণ্যে কী পরিবর্তন?
- মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন? জেনে নিন সেরা ৪ প্ল্যাটফর্ম, খরচ কত
- ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটে কী থাকছে সাধারণের জন্য
- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর আসছে
- প্রথম বাজেটেই বড় চমক দিতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার
- সোনার বাজারে রেকর্ড পতন, ১ লাখ ৮২ হাজারে মিলবে এক ভরি
- ৭ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা
- ফুটবল-ক্রিকেটে জমজমাট বৃহস্পতিবার, জানুন সূচী
- বিশ্বকাপ জিতলে চ্যাম্পিয়ন পাবে কত টাকা? জানুন প্রাইজমানির অঙ্ক
- আজ ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, জানুন কোথায়
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ফজর থেকে এশা একনজরে
- ইরানকে আবারও হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা
- নতুন বাজেটে কমতে পারে চাল-ডালসহ ৬০ পণ্যের দাম
- বিদেশি বিনিয়োগ ও বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সুযোগ বিষয়ক আলোচনা সভা এডিনবরায় অনুষ্ঠিত
- আগামী কয়েকদিন কেমন থাকবে আবহাওয়া? নতুন তথ্য দিল অধিদপ্তর
- কুমিল্লায় পুলিশের ওপর হামলা-গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ১৯ জন গ্রেপ্তার
- বৈঠাকাটা বাজারের রাস্তা সংস্কারে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে জনমনে স্বস্তি
- বর্তমান সংকটের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্র: ইরান
- ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, এবার কি পূরণ হবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন?
- নতুন মাইলফলক, দেশের মাথাপিছু আয় ও জিডিপিতে নতুন রেকর্ড
- লালন সাঁইয়ের মাজারে সংস্কৃতির নামে অনৈতিক কাজ চলে: আমির হামজা
- ধানমন্ডির বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস
- ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কি মুখোমুখি হবে? দেখে নিন দুই দলের বিশ্বকাপ সূচি
- প্রাথমিকের শিক্ষায় মেগা বদল,২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে আসছে নতুন কারিকুলাম
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: হরমুজ প্রণালির ইরানি কেশম দ্বীপে ফের বিকট বিস্ফোরণ
- ইরান আলোচনায় অনেক বেশি সময় নিয়েছে, এখন মূল্য চুকাতে হবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- ইশতেহার বাস্তবায়নে ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী
- দুর্নীতি ও অর্থপাচারের ক্ষত দূর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই নতুন বাজেটের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
- ১০ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১০ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১০ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে যে রায় দিল আদালত
- শান্তিরক্ষীদের সাফল্য বাংলাদেশের গর্ব: প্রধানমন্ত্রী
- যুদ্ধ উত্তেজনায় স্বর্ণের বাজারে ধস
- পুরান ঢাকার পুনর্জাগরণে সরকারের মেগা পরিকল্পনা
- উপকূলে ৫ নতুন পারমাণবিক কেন্দ্র গড়ছে ইরান
- ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, সতর্ক ১২ জেলা
- মার্কিন হামলার জবাবে একযোগে পাল্টা আঘাত ইরানের
- ৪৮ দলের বিশ্বকাপ, জেনে নিন বিশ্বকাপ ২০২৬ এর পুরো সূচি
- সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর
- বিশ্বকাপ ২০২৬: যা থাকছে উদ্বোধনী আয়োজনে
- একজন নারী কি একসঙ্গে দুই স্বামী রাখতে পারেন? জানুন ইসলামের নির্দেশনা
- ফুটবলপ্রেমীদের জমজমাট রাত, আজকের খেলার সূচি
- বুধবারের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- হরমুজে বিস্ফোরণ, ইরানে ফের মার্কিন হামলা
- মেসিকে নিয়ে কাল ভোরে নামছে আর্জেন্টিনা: খেলা দেখবেন যেভাবে
- রাডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ২১ লাখ ব্যারেল তেলের গোপন প্রবাহ সচল
- ইসলামী ব্যাংক ধসে পড়লে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে: শফিকুর রহমান
- ইয়াসের-তাবিথের মাস্টারস্ট্রোক: কাটল বিশ্বকাপ ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা
- রাত ১০টার মধ্যে বরিশালসহ ১০ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- সাহারার মৃত্যুফাঁদে ৪৯ প্রাণ: বিকল ট্রাক, ফুরিয়ে যায় পানি, মরুভূমিতেই শেষ যাত্রা
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে মিলবে রেকর্ড প্রাইজমানি, কত সেই টাকা
- টিভি ও মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখার পূর্ণ গাইড
- সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর
- ৪ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ
- মেগা করছাড়ের বাজেট, কমবে-বাড়বে যেসব পণ্যের দাম
- ৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ডলারের নতুন দর কত? আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- ইউরেনিয়াম কর্মসূচিতে ছাড় নয়, ট্রাম্প হলেন ‘অবিশ্বস্ত’- ইরান
- ৮ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ৭ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার








