ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটে কী থাকছে সাধারণের জন্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ০৯:৩৯:৪৯
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটে কী থাকছে সাধারণের জন্য
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগ পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষার নতুন দিকনির্দেশনা নিয়ে আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। দুপুর ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন। সম্ভাব্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট শুধু দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটই নয়, বরং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা হিসেবেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার কৌশলগত ভিত্তি তৈরির উদ্যোগও এতে প্রতিফলিত হতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকা মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা সরকারের জন্য বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের ধীরগতির মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে না। ফলে বাজেটে শুধু লক্ষ্য নির্ধারণ নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

রাজস্ব আহরণেও রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, এনবিআর বহির্ভূত উৎস থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর-বহির্ভূত খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে এই উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং করজাল সম্প্রসারণ ছাড়া রাজস্ব প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ২২৫ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার পৃথক তহবিল বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ খাত, ফলে এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানো অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও এবারের বাজেট গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের আলোচিত নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা আসতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন পে-স্কেল নিয়ে তাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান ভাতা ও সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির আওতা এবং বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ বাজেটের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করাও এবারের বাজেটের অন্যতম অগ্রাধিকার। লাইসেন্স, অনুমোদন, নিবন্ধন ও করসংক্রান্ত জটিলতা কমাতে ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা একটি একক অনলাইন সেবা কেন্দ্র থেকে ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কার্যক্রম আরও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনলাইনে কর রিটার্ন দাখিল, সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত এবং কর বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির মতো আধুনিক সেবা চালুর প্রস্তাবও বাজেটে থাকতে পারে।

তবে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা। জ্বালানি, বিদ্যুৎ, সার এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী অর্থবছরের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধও সরকারের জন্য বড় চাপ হয়ে উঠছে। বাজেটে সম্ভাব্য ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং খাত, সঞ্চয়পত্র এবং বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকেই ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, বিনিয়োগের স্থবিরতা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, শিল্প খাতে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ সব মিলিয়ে জটিল বাস্তবতায় এবারের বাজেট ঘোষণা হচ্ছে। ফলে সরকারের জন্য একদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, অন্যদিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দুই লক্ষ্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি মনে করেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তাদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে না পারলে বাজেটের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলো অর্জন কঠিন হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


মহানগরের উড়াল সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার টেকসই সমাধানের রূপরেখা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৯:৫০:১২
মহানগরের উড়াল সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার টেকসই সমাধানের রূপরেখা
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপন সম্পন্ন হলে তেজগাঁও টোল প্লাজাসহ পুরো এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের তীব্র চাপ লক্ষণীয় মাত্রায় কমে আসবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে ধীরগতি ও কারিগরি জটিলতার কারণে সৃষ্ট যানজট ও জনভোগান্তি নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন সেতুমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে তিন ধাপে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাওলা থেকে বনানী এবং বনানী থেকে মগবাজার হয়ে কুতুবখালী পর্যন্ত বিস্তৃত রুটের মধ্যে বর্তমানে কাওলা থেকে এফডিসি ক্রসিং পর্যন্ত অংশটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এই চালু থাকা অংশে স্থাপিত বিমানবন্দর, কুড়িল, বনানী-১, বনানী-২, মহাখালী ও তেজগাঁও—এই পাঁচটি টোল প্লাজার মধ্যে বিমানবন্দর ও তেজগাঁওয়ে গাড়ির চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। মূলত তেজগাঁও ছাড়া বর্তমানে উত্তরমুখী হওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই জট তৈরি হচ্ছে। তবে এক্সপ্রেসওয়ের মূল নকশা অনুযায়ী সোনারগাঁও গোলচত্বর থেকে উত্তরমুখী আরও একটি প্রবেশ র‍্যাম্পের নির্মাণকাজ চলছে, যা চালু হলে চাপ বিভক্ত হয়ে যাবে।

এর পাশাপাশি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ এবং নির্মাণাধীন র‍্যাম্পগুলো পুরোপুরি চালু হলে তেজগাঁওসহ এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে বিদ্যমান ট্রাফিক চাপ অনেকটাই নিরসন হবে।

টোল প্লাজায় দীর্ঘসূত্রতা দূর করে টোল আদায় প্রক্রিয়া দ্রুত ও আধুনিক করতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) পদ্ধতি কার্যকর করার তথ্যও তুলে ধরেন শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, বর্তমানে চালু থাকা অংশের বিমানবন্দর প্লাজায় ৬টির মধ্যে ২টি লেন, কুড়িলে ৬টির মধ্যে ২টি লেন, বনানী-১ এ ৫টির মধ্যে ১টি লেন এবং তেজগাঁও টোল প্লাজায় ৪টির মধ্যে ২টি লেনসহ সর্বমোট ৭টি লেনে স্বয়ংক্রিয় ইটিসি ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এই ডিজিটাল টোল সিস্টেমে মোট ১ হাজার ৮৭৭টি গাড়ি সফলভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।

/আশিক


বাঁধনের ওপর হামলার জেরে ভিসায় প্রভাব পড়বে কি? যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৮:৫১:১১
বাঁধনের ওপর হামলার জেরে ভিসায় প্রভাব পড়বে কি? যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি ও লজিস্টিক সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, মিলানের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে বাঁধনের দায়ের করা মামলার কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তিনি যতদিন ইতালিতে অবস্থান করবেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁকে পূর্ণ নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ইতালি বা ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়ায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কি না—এমন আশঙ্কার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, প্রবাসে অবস্থানের ক্ষেত্রে স্বাগতিক দেশের প্রচলিত আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা মেনে চলা প্রত্যেক নাগরিকের আবশ্যিক দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী কিংবা চাকরিজীবীরা যখন যুক্তরাজ্য বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে যান, তখন স্থানীয় বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাটাই স্বাভাবিক সাধারণ রীতি। ভেনিসের ঘটনাকে অত্যন্ত জঘন্য হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মিলান কনস্যুলেটের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে বাঁধনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর করা ফৌজদারি মামলা পরিচালনা ও আইনি সুরক্ষায় রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা সর্বোচ্চ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

বিদেশের মাটিতে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে বলে মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করে। শুধু ভেনিসের এই ঘটনাই নয়, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই প্রবাসী কোনো নাগরিক হয়রানির শিকার হলে কিংবা দেশের অভ্যন্তরে এমন কোনো ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে সরকারপ্রধান অত্যন্ত কঠোর হাতে তা দমন ও নিয়ন্ত্রণ করবেন বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

/আশিক


ঐতিহাসিক দলিল ও আলোকচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৮:১৫:৩৩
ঐতিহাসিক দলিল ও আলোকচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র প্রত্যক্ষ করে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, ফ্যাসিবাদের নাগপাশ ছিন্ন করে জাতি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে বটে, তবে এর জন্য চুকানো মূল্য ছিল অপরিসীম।

রাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও পঙ্গুত্ববরণকারী আহতদের ত্যাগের ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হবে না। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি সচিব এবং জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা।

সাধারণ দর্শনার্থীর মতো প্রবেশ টিকিট কেটে জাদুঘরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর তিনি ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ নামের বিশেষ পদচারণ পথ ধরে মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের বিভিন্ন ঐতিহাসিক বাঁক প্রত্যক্ষ করেন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের দুঃশাসনের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে নির্মিত শহীদ স্মারক এবং কুখ্যাত ‘আয়নাঘর’-এর প্রতিরূপ ঘুরে দেখেন তিনি। অভ্যুত্থানের শহীদ ও ত্যাগীদের অমর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে জাদুঘর চত্বরে একটি বৃক্ষরোপণ করেন রাষ্ট্রপ্রধান। একই সাথে তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহের নারকীয় হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের নির্মম অভিযান, গুমের ঘটনা ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের নানাবিধ ঐতিহাসিক প্রমাণাদি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

প্রদর্শনীতে সংরক্ষিত শহীদদের ব্যক্তিগত চিঠি, স্মারক এবং আন্দোলন-সংগ্রামের উত্তাল মুহূর্তগুলোর চিত্র দেখার সময় তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হন। পরবর্তীতে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে জুলাই অভ্যুত্থানভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র চলাকালে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি। পরিদর্শন সমাপ্ত করে মন্তব্য বইয়ে স্বাক্ষরকালে রাষ্ট্রপতি লেখেন, এই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়পরায়ণ, শোষণহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই সমকালীন প্রধান কর্তব্য। আগামী প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এই জাদুঘরের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি দেশে আর কোনোদিন যেন এমন বর্বর হত্যাযজ্ঞ ফিরে না আসে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার তাগিদ দেন।

শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ছাত্র-জনতার নিঃস্বার্থ রক্তদান বাংলাদেশের ন্যায়বিচার ও মুক্তির ইতিহাসে এক অবিনাশী অধ্যায় হয়ে থাকবে। শহীদ ও আহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি জাতি এই বীরত্বকে আজীবন কৃতজ্ঞতায় স্মরণে রাখবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতির সামনে প্রদর্শনী ও ঐতিহাসিক নথির বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

/আশিক


প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির ৯টি মূল কারণ জাতীয় সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৮:০৯:৪৯
প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির ৯টি মূল কারণ জাতীয় সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বারবার বৃদ্ধির পেছনে সুনির্দিষ্ট একাধিক কাঠামোগত কারণ রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে অবহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্প অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং কেনাকাটা বা ক্রয় প্রক্রিয়ার ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান নানা দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী জটিলতার জন্ম দেয়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের সময়সীমা ও আর্থিক ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বর্তমান সরকারের নজরে আসার পরই তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ও বাড়তি ব্যয়ের পেছনে থাকা মূল কারণগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চিহ্নিত সমস্যাগুলোর বিশদ বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্বল সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি, শুরুতেই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের সঠিক হিসাব না থাকা, অনুপযুক্ত প্রকল্প এলাকা নির্বাচন, জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং সেবা সংযোগ বা ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

এছাড়া সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় নেওয়া, যথাসময়ে প্রকল্প পরিচালক বা পিডি নিয়োগ না দেওয়া, তদারকি ও নজরদারির ঘাটতি এবং অর্থায়ন পরিকল্পনা ও বাজেটের মধ্যে সামঞ্জস্যের অভাবকেও প্রধান নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জটিল এই সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু আধুনিক ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

/আশিক


ব্যাংক খাতের সাবেক শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৮:০৫:২৬
ব্যাংক খাতের সাবেক শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধান
ছবি : সংগৃহীত

নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের আর্থিক খাতের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রকে পরিণত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ মেয়াদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গভীর যোগাযোগ ও শীর্ষ পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে তিনি বছরের পর বছর ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) শীর্ষ পদটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

এই প্রভাবকে ব্যবহার করে তিনি দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এক ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও তহবিলের নামে অন্যান্য ব্যাংকের ওপর চাঁদা আদায়ের চাপ তৈরির অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে, যার কারণে সংশ্লিষ্ট মহলে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে। এই অঘোষিত ক্ষমতার জোরেই তিনি দেশের ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণের জালে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন, যার সিংহভাগ দেশে উৎপাদনশীল খাতে না রেখে অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে পাচার করে গড়ে তুলেছেন আন্তর্জাতিক সম্পদের সাম্রাজ্য।

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের এই বিপুল বিস্তার খতিয়ে দেখতে গিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যুক্তরাজ্য, হংকং এবং ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত স্বায়ত্তশাসিত আইল অব ম্যান ও জার্সি দ্বীপপুঞ্জে নজরুলের বিপুল আর্থিক সাম্রাজ্যের সুনির্দিষ্ট সন্ধান পেয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাটির অনুসন্ধান অনুযায়ী, আমদানি-রপ্তানির ভুয়া লেনদেন, ওভার-ইনভয়েসিং ও আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বাণিজ্যের আড়ালে এবং বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে এই অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়।

টাকা সরানোর এই অবিশ্বাস্য কৌশলের কারণে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের চোখে তিনি ছিলেন এক 'ম্যাজিক মাস্টার'। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জার্সি দ্বীপের বিখ্যাত ইউবিএস ব্যাংকে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলামের প্রকৃত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড'-এর হিসাবে থাকা প্রায় ৫৩ লাখ পাউন্ড (৫ দশমিক ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড) আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অর্থ যাতে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া না যায়, সে লক্ষ্যে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এই অ্যাকাউন্ট ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ জব্দের আনুষ্ঠানিক আদেশ দেন।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০১৯ সালের মে মাসে আইল অব ম্যানের ঠিকানায় 'ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড' প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং একই বছরের অক্টোবরে জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে হিসাব খুলে পাচার করা বিপুল অর্থ জমা রাখা শুরু হয়। ব্যাংকঋণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এই অর্থ সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছিল। অন্যদিকে দেশের ব্যাংকগুলোতে নজরুলের প্রতারণার জাল ছিল সমান বিস্তৃত। নাসা গ্রুপের বিভিন্ন পোশাক কারখানা ও সুতা তৈরির প্রতিষ্ঠানের নামে এক ব্যাংকের ঋণ দিয়ে আরেক ব্যাংকের দায় শোধ এবং বিশেষ বিবেচনায় নিয়মবহির্ভূত ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিলের কৌশল চালিয়ে গেছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনেও এসব অনিয়মের সত্যতা মেলে, যার মধ্যে শুধু একটি ব্যাংক থেকেই নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার প্রমাণ রয়েছে, যার প্রায় ৯৯৮ কোটি টাকাই দেওয়া হয়েছিল অনৈতিক বিশেষ সুবিধায়। দেশীয় ব্যাংকগুলোকে ফাঁকা করে বিদেশে একাধিক কাগুজে কোম্পানি খুলে ব্যবসা পরিচালনা, রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ এবং সম্পদ অর্জনের এই পুরো নেটওয়ার্ক এখন দুদকের আইনি জালে আটকা পড়তে শুরু করেছে।

/আশিক


প্রত্যর্পণে দেশে ফেরা মাত্রই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে: শামা ওবায়েদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ২১:৪০:৩১
প্রত্যর্পণে দেশে ফেরা মাত্রই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে: শামা ওবায়েদ
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ভারত থেকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো মাত্রই বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের আওতায় তাঁকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হবে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ দলটির বহু নেতাকর্মী, যাঁদের অনেকেই ইতোমধ্যে দেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত, বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করে তাঁদের ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে এবং নয়াদিল্লির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে এটি একটি সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়া, যা তাদের বিচার বিভাগীয় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যকে গুরুত্বহীন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিদেশে বসে কী বলছেন তা সরকারের কাছে কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ামাত্রই তাঁকে সরাসরি গ্রেফতার করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় কারাবন্দি করা হবে, যা স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় থেকেও ইতোমধ্যে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এদিকে ‘মক্কা প্যাক্ট’ নামের বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এটি মূলত একটি নিরাপত্তাকেন্দ্রিক বহুপাক্ষিক ফোরাম। বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ফলে যেকোনো নতুন বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক জোটে যুক্ত হওয়ার পূর্বে তা দেশের জনগণের স্বার্থরক্ষা এবং জাতীয় কল্যাণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। এই মূল্যায়ন সম্পন্ন করার উপযুক্ত সময় এলে সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাসময়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরবে।

পাশাপাশি মানবপাচার রোধে নেওয়া সরকারের প্রশাসনিক তৎপরতা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি স্বতন্ত্র ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করা হয়েছে। বিদেশগামী কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং অভিবাসন খাতের নানামুখী সংকট নিরসনে এই শাখা নিবিড়ভাবে কাজ করবে। অতি সম্প্রতি মানবপাচারের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা মাদারীপুরসহ দেশের ১৪টি জেলাকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাচারকারী ও মানবপাচার চক্রের নেটওয়ার্ক কেবল দেশে নয় বরং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

/আশিক


র‌্যাব অতীত, নতুন স্বচ্ছতায় আসছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ২০:৫৬:১৪
র‌্যাব অতীত, নতুন স্বচ্ছতায় আসছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি
ছবি : সংগৃহীত

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে নতুন বাহিনী হিসেবে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। প্রয়োজনীয় সংশোধনী যুক্ত করে বিলটি দ্রুততম সময়ে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, প্রস্তাবিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’-এর প্রতিটি ধারা ও উপধারা নিয়ে বৈঠকে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করা হয়। বিস্তারিত আলোচনার পর প্রয়োজনীয় পরিমার্জন সাপেক্ষে খসড়া বিলটি জাতীয় সংসদে তোলার বিষয়ে কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠকে অতীতের বিভিন্ন বাস্তবতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উল্লেখ করা হয়, অতীতে র‌্যাবসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থে ব্যাপকভাবে অপব্যবহারের শিকার হতে হয়েছে।

তবে কমিটির সদস্যরা অভিমত প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত অপব্যবহারের কারণে কোনো কাঠামোগত বাহিনীকে পুরোপুরি অবলুপ্ত করে দেওয়া সঠিক বা স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। এর পরিবর্তে বাহিনীর বিদ্যমান অবকাঠামো, আধুনিক সাজসরঞ্জাম এবং দক্ষ জনবলের অভিজ্ঞতাকে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানোই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। একই সঙ্গে নতুন করে গঠিত বা পুনর্গঠিত এই বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে কঠোর পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং বাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও আইনি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলের ডাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লংমার্চ কর্মসূচি চলাকালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হয় বৈঠকে। দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে কর্মসূচি নির্বিঘ্ন রাখায় সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ জানায় সংসদীয় কমিটি। দেশে একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আবহ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন ইতিবাচক ভূমিকার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানানো হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত উক্ত বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল বাতেন। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সেবা সংস্থাগুলোর প্রধান এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


হয়রানি করে কোনো কর আদায় নয়, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা অর্থমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১৯:৪৮:১৫
হয়রানি করে কোনো কর আদায় নয়, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা অর্থমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

ব্যবসায়ীদের কোনো প্রকার হয়রানি বা অসুবিধায় না ফেলে করদাতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করেছেন, স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন কোনো কর আরোপ কিংবা রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া সরকার চাপিয়ে দেবে না। করদাতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু, কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব করব্যবস্থা গড়ে তোলাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে এনবিআর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক যৌথ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভ্যাট রিটার্ন প্রতি মাসের পরিবর্তে দ্বিমাসিক বা এক মাস অন্তর দাখিলের পূর্বের নিয়ম ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে অর্থমন্ত্রী জানান, রাজস্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে সব অংশীজনের সঙ্গেই আলোচনা চলছে। এর পাশাপাশি করদাতাদের অনিষ্পন্ন রাজস্ব বিরোধ ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আলোচনা চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই মাসের রাজস্ব আহরণ এবং টানা তিন মাসের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল নিয়ে যে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে দ্রুত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ী মহলের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি অনেকটাই ব্যবসায়ীদের দেওয়া করের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাঁদের বৈধ ও স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা তৈরি করা হবে না। ব্যবসায়ীদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হয়রানিমুক্ত ও আস্থার পরিবেশ বজায় রেখে রাজস্ব আহরণ পরিচালনা করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায় ২২ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে সংবাদকর্মীরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অর্থমন্ত্রী সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।

/আশিক


ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তৎপর দূতাবাস, সংসদে জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১৮:০১:৪০
ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তৎপর দূতাবাস, সংসদে জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাস প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জাতীয় সংসদকে অবহিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই কূটনৈতিক তৎপরতার কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংসদে উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের একজন যোদ্ধার ওপর আঘাত মূলত দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপরই আঘাতের শামিল। তিনি জানান, গত সোমবার ইতালির ভেনিস শহরে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, তাঁর ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও তাঁদের সন্তানের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও বিতাড়িত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আকস্মিক হামলা চালায়।

ঘটনার পরপরই নেওয়া প্রশাসনিক উদ্যোগ তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার সকালেই পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে বিশদ কথা হয়েছে। ইতালির স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে এবং ভুক্তভোগী বাঁধনকে সর্বোচ্চ আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ইতালির স্থানীয় পুলিশ এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সার্বক্ষণিকভাবে অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তাঁকে যাবতীয় সহায়তা দিচ্ছে। অভিনেত্রী বাঁধন স্থানীয় পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এই অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ দূতাবাস অত্যন্ত গুরুত্ব ও কঠোরতার সঙ্গে পুরো বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে উপস্থাপন করবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশের প্রাক্কালে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর)... বিস্তারিত