বিক্ষোভ দমন ও নিষেধাজ্ঞা: বিতর্ক সঙ্গী করেই ইরানের সামরিক কমান্ডে আহমদ বাহিদি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৬ ১০:৩৮:২৪
বিক্ষোভ দমন ও নিষেধাজ্ঞা: বিতর্ক সঙ্গী করেই ইরানের সামরিক কমান্ডে আহমদ বাহিদি
ছবি : সংগৃহীত

রানের সামরিক কাঠামোর অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী পদ হলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রধান। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ বাহিদি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্যেই তিনি এ দায়িত্ব নেন, যা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের শুরুতে হামলায় ইরানের অনেক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আইআরজিসির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরও রয়েছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই নিহত হন। তার আগে আইআরজিসি প্রধান ছিলেন হুসাইন সালামী, যিনি ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।

এর আগেও আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্ব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সংস্থাটির কুদস ফোর্সের দীর্ঘদিনের কমান্ডার কাশেম সুলেমানী ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন। ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গঠিত আইআরজিসির শুরুর দিক থেকেই যুক্ত ছিলেন আহমদ বাহিদি। ১৯৮০–এর দশকে তিনি গোয়েন্দা ও সামরিক দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি আইআরজিসির কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব দেন। পরে ওই দায়িত্ব পান সোলাইমানি।

যুদ্ধ শুরুর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনী তাকে আইআরজিসির উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। যুদ্ধের প্রথম দিন হামলায় খামেনি নিহত হন বলে জানা যায়। বাহিদি প্রকাশ্যেই ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইসলামী বিপ্লবকে রক্ষা করা বিশ্বের অন্যতম বড় গুণ।’

বাহিদি শুধু সামরিক কর্মকর্তা নন; তিনি রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আহমেদিনেজাদ সরকারের সময় তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। পরে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ও প্রশাসনিক উভয়ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ হওয়ায় যুদ্ধকালীন সময়ে আইআরজিসির নেতৃত্ব দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তবে বাহিদির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও রয়েছে। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ইন্টারপোল ‘রেড নোটিশ’ জারি করেছিল। ওই হামলায় ৮৫ জন নিহত হন। ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটি ভিত্তিহীন। এ ছাড়া ২০২২ সালে মাশা আমিনীর মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় বাহিদির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের মধ্যে ইরানের অনেক শীর্ষ নেতা ও অভিজ্ঞ কমান্ডার নিহত হওয়ায় আইআরজিসিকে নতুন করে সংগঠিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কিছু সামরিক ইউনিট এখন অনেকটাই স্বতন্ত্রভাবে কাজ করছে। ফলে সমন্বয় বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে আইআরজিসির বিকেন্দ্রীভূত কাঠামো সমন্বয় করে যুদ্ধ পরিচালনা করাই হবে আহমদ বাহিদির প্রধান দায়িত্ব। তারা বলছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা অনেকটাই নির্ভর করছে আইআরজিসির সক্ষমতার ওপর।

/আশিক


চীন থেকে আসা জাহাজ কেন আটকাল আমেরিকা? কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল বেইজিং

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৮:০০:৩৮
চীন থেকে আসা জাহাজ কেন আটকাল আমেরিকা? কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল বেইজিং
ছবি : সংগৃহীত

ওমান সাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘টোসকা’ জব্দের ঘটনায় এবার সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন বাহিনীর জাহাজ জব্দের পাল্টা জবাব হিসেবে সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে ড্রোন হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিকে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। সোমবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিও জিয়াকুন যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণকে ‘জোরপূর্বক আটক’ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি সাফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং এর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা সবার স্বার্থের বিষয়। চীন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা না বাড়িয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ওমান সাগরে নৌ-অবরোধ কার্যকর করার সময় ইরানি কার্গো জাহাজটিকে ছয় ঘণ্টা ধরে বারবার সতর্ক করা হলেও তারা তা মানেনি। ফলে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার থেকে ৫ ইঞ্চি এমকে ৪৫ গান দিয়ে গুলি চালিয়ে জাহাজের ইঞ্জিন রুম অচল করে দেওয়া হয় এবং পরে মেরিন সেনারা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

বর্তমানে জাহাজটি মার্কিন হেফাজতে রয়েছে। ইরান আগেই হুমকি দিয়েছিল যে, চীন থেকে আসা তাদের এই শান্তিপূর্ণ জাহাজে হামলার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

/আশিক


২১ ঘণ্টার ব্যর্থ মিশন কি এবার সফল হবে? ট্রাম্পের দূতদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১১:৩৩:৩৭
২১ ঘণ্টার ব্যর্থ মিশন কি এবার সফল হবে? ট্রাম্পের দূতদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ শান্তি আলোচনা। এ নিয়ে গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস এবং বিবিসি নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সই এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, তাঁর বিশেষ প্রতিনিধিরা আজ সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন, ভ্যান্সের সঙ্গে এই দলে থাকছেন ট্রাম্পের প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। উল্লেখ্য যে, কুশনার ও উইটকফ প্রথম দফার ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনাতেও অংশ নিয়েছিলেন।

তবে এই সফর ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ায় যখন ট্রাম্প এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, নিরাপত্তার কারণে জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে যাচ্ছেন না। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হোয়াইট হাউস ভ্যান্সের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করায় আলোচনার গুরুত্ব কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, তেহরান এখনো এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকলে তারা আলোচনার টেবিলে ফিরবে না। পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে দুই দেশের অনড় অবস্থানের কারণে এবারের বৈঠকটি বিশ্বশান্তির জন্য অত্যন্ত নির্ণায়ক হতে যাচ্ছে।

/আশিক


ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়া হবে: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১১:২৪:৩৭
ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়া হবে: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ইরানকে নিজের চিরচেনা ‘আগ্রাসী’ ভঙ্গিতে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকার প্রস্তাবিত নতুন শান্তিচুক্তিতে সই না করলে ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের করা পারমাণবিক চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “সেটি ছিল আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে চুক্তি। ওবামা ইরানের কাছে নতিস্বীকার করেছিলেন, কিন্তু আমি সেই ভুল দ্বিতীয়বার করব না।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, তেহরান যদি এই চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে পুরো দেশ ‘উড়িয়ে দেওয়া’ হবে। শুধু তাই নয়, ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

ট্রাম্পের মতে, এই স্থাপনাগুলো ধসিয়ে দেওয়া মার্কিন বাহিনীর জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক দশকে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা করতে সাহস পাননি, সেই ‘কঠিন পদক্ষেপ’ নেওয়াই এখন তাঁর লক্ষ্য। ট্রাম্পের এই ‘সব বা কিছুই না’ (All or Nothing) নীতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে এক অনিশ্চিত ধ্বংসের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

ফক্স নিউজ


ওমান সাগরে মার্কিন কমান্ডো হামলা! ইরানি জাহাজ দখল নিয়ে রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১১:১৯:১২
ওমান সাগরে মার্কিন কমান্ডো হামলা! ইরানি জাহাজ দখল নিয়ে রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য
ছবি : সংগৃহীত

ওমান সাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘টোসকা’র ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর কমান্ডো অভিযানের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) রাতে ইরানের “খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স”-এর মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে “সশস্ত্র জলদস্যুতা” ও “অপরাধমূলক অভিযান” হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

ইরানি সূত্রের খবর অনুযায়ী, চীন থেকে ইরানের উদ্দেশে আসা কন্টেইনার জাহাজ ‘টোসকা’ ওমান উপসাগর দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে চলার সময় মার্কিন সন্ত্রাসী নৌ-সেনারা হেলিকপ্টার থেকে জাহাজের ডেকে নামে। তারা জাহাজের নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দেয় এবং গুলিবর্ষণ করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে। এর তাৎক্ষণিক জবাবে ইরানি বাহিনী ড্রোন হামলার মাধ্যমে ওই এলাকায় থাকা মার্কিন সামরিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে মার্কিন সামরিক শক্তির বিজয় হিসেবে দাবি করলেও ইরান একে আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের “জলদস্যু চরিত্র” হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ইরান ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে এবং ঘোষণা করেছে যে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ বা ট্যাঙ্কার এই পথে প্রবেশ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এই আগ্রাসন শান্তি আলোচনাকে গভীর সংকটে ফেলেছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা শিগগিরই এই জলদস্যুতার প্রতিশোধ নেবে এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সূত্র: প্রেস টিভি


ভ্যান্সকে ছাড়াই ইরানের মুখোমুখি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র! প্রতিনিধিদলে থাকছেন যারা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১১:০৯:৪০
ভ্যান্সকে ছাড়াই ইরানের মুখোমুখি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র! প্রতিনিধিদলে থাকছেন যারা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনা নিরসনে আগামী কাল সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, প্রথম দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দিলেও এবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে যাচ্ছেন না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, একটি সম্মানজনক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য এটিই ইরানের ‘শেষ সুযোগ’। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ইরান যদি এই শান্তিচুক্তিতে সই না করে, তবে পুরো দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।” ট্রাম্পের এই চরম আল্টিমেটাম মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সফর বাতিলের বিষয়ে আলজাজিরা ও এবিসি নিউজকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, মূলত নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ এবং জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ভ্যান্সই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন, তবে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প নিজেই তাঁর সফর বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালিতে ব্রিটিশ ও ফরাসি জাহাজে (মতান্তরে ভারতীয় জাহাজ) গুলি চালিয়ে ইরান বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি তেহরান মেনে না নিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফলে রবিবারের এই আলোচনা বিশ্ব রাজনীতির জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি কি ভুল? তেলের বাজারে আগুনের সংকেত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ২২:০২:৩৬
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি কি ভুল? তেলের বাজারে আগুনের সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্টে দাবি করেছেন, এই পথ বন্ধ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না এবং ইরান অজান্তেই আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করছে। তবে বাজার বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য বলছে, ট্রাম্পের এই দাবি বাস্তবসম্মত নয়।

ট্রাম্পের পোস্টে অভিযোগ করা হয়, ইরান ফরাসি ও ব্রিটিশ জাহাজে গুলি চালিয়েছে। কিন্তু ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ‘রয়টার্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) হামলার শিকার হওয়া জাহাজ দুটি ছিল ভারতীয় পতাকাবাহী (এর মধ্যে একটির নাম ‘সানমার হ্যারাল্ড’)। এই ঘটনার পর ভারত সরকার ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এদিকে তেলের বাজারের অস্থিরতা ট্রাম্পের দাবির ঠিক উল্টো ইঙ্গিত দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ সরবরাহের রুট। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) যখন ইরান সাময়িকভাবে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, তখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল এবং ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। কিন্তু মাত্র একদিন পরই ইরান পুনরায় প্রণালি বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ায় বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তেল একটি বৈশ্বিক পণ্য হওয়ায় এর দাম বিশ্ব বাজারের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন থাকলেও তেলের বিশ্বব্যাপী সরবরাহ কমলে সেখানেও জ্বালানির দাম বাড়বে। ফলে সোমবার যখন মার্কিন বাজার খুলবে, তখন তেলের দাম বৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজারে ধস নামার বড় শঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত না হলে তেলের দাম কেন ওঠানামা করছে—সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


অবরোধ থাকলে আলোচনা নয়: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি না বলে দিল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ২১:৪৬:১৫
অবরোধ থাকলে আলোচনা নয়: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি না বলে দিল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, তখন আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিল ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বৈঠকের খবর চাউর হলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'তাসনিম নিউজ এজেন্সি' নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমানে ইরানি কোনো প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা নেই।

ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ অবরোধ কার্যকর থাকবে, ততক্ষণ কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না তেহরান। বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার টেবিলে বসার কোনো সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে দেশটি।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্টে দাবি করেছেন যে ইরান ফরাসি ও ব্রিটিশ জাহাজে গুলি চালিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র ট্রাম্পের এই তথ্যকে চ্যালেঞ্জ করে জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজ দুটি আসলে ছিল ভারতীয় পতাকাবাহী।

জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প দাবি করছেন হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না, যা আদতে বিভ্রান্তিকর। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের দাম সরাসরি এই রুটের ওপর নির্ভরশীল।

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন ইরান অজান্তেই যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—ইরান প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় সেখানে এখন কোনো দেশের জাহাজই চলাচল করতে পারছে না। ফলে সংঘাত নিরসনের বদলে পরিস্থিতি এখন আরও জটিল মোড় নিচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


চুক্তিতে না এলে ধ্বংস হবে ইরান: ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৯:২৪:৩৯
চুক্তিতে না এলে ধ্বংস হবে ইরান: ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন আর কেবল হুমকি-ধমকিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি ধ্বংসাত্মক রূপ নেওয়ার পথে। হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এবার ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার মতো কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান যদি আমেরিকার দেওয়া নতুন চুক্তির শর্তে রাজি না হয়, তবে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) হরমুজ প্রণালিতে ফরাসি ও ব্রিটিশ জাহাজে গুলিবর্ষণ করে ইরান বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। ইরানি স্পিকারের হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকির জবাবে ট্রাম্প বিদ্রূপ করে বলেন, "ইরান যে প্রণালি বন্ধের কথা বলছে, তা মার্কিন অবরোধের কারণেই আগে থেকে কার্যত অচল। তেহরান মূলত নিজেদের অজান্তেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য সফল করছে।"

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে একটি ‘ন্যায়সঙ্গত’ চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং তাদের উচিত দ্রুত তা গ্রহণ করা। অন্যথায় সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের সরাসরি হুমকি দিয়ে তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী অত্যন্ত দ্রুত ও অনায়াসেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম।

শান্তি স্থাপনে ইরান ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াকে নিজের ‘সম্মানজনক দায়িত্ব’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই চরম হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দামামা বাজছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আলজাজিরা।


শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়বে ইরান! সেনাপ্রধান আমির হাতামির রণহুঙ্কার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৮:০০:৫৯
শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়বে ইরান! সেনাপ্রধান আমির হাতামির রণহুঙ্কার
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার যুদ্ধবিরতি যখন খাদের কিনারায়, ঠিক সেই মুহূর্তে চরম যুদ্ধের প্রস্তুতি ঘোষণা করলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আমির হাতামি। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় ইরানের সেনারা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।

বিবৃতিতে আমির হাতামি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “শত্রুর যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় আমাদের প্রতিটি সেনার আঙুল এখন অস্ত্রের ট্রিগারে। কোনো আপস নয়, চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা সজাগ।” তিনি আরও জানান, ইরানি সেনারা উৎসর্গের মানসিকতা এবং জিহাদি চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মাতৃভূমির জন্য জীবন দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।

আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নিজেদের সামরিক শক্তি ও জাতীয় সংকল্পের জানান দিতেই ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেনাপ্রধানের এই ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বুধবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা।

পাঠকের মতামত: