স্বাস্থ্য টিপস
মেথি পানির ম্যাজিক: নিয়মিত ১৫ দিন পান করলে শরীরে আসে যে ৬ পরিবর্তন

প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস মেথি ভেজানো পানি—শুনতে যতটা সাধারণ, এর উপকারিতা ততটাই গভীর। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ঘরোয়া পানীয়টি হজমশক্তি উন্নত করা, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শরীরকে ভেতর থেকে ডিটক্স করার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আধুনিক পুষ্টিবিদ্যার দৃষ্টিতেও এখন মেথির বীজকে ‘সুপারফুড’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিয়মিতভাবে ১৫ দিন মেথি পানি পান করলে শরীরে আসে কিছু ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
১৫ দিনে শরীরে যে ৬ পরিবর্তন আসে
১. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে আসে: মেথি দানায় রয়েছে গ্যালাক্টোম্যানান নামের দ্রবণীয় আঁশ, যা রক্তে গ্লুকোজ শোষণের গতি কমিয়ে দেয়। নিয়মিত ১৫ দিন মেথি পানি খেলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বেড়ে যায়, যা ডায়াবেটিসের প্রাথমিক ধাপে বিশেষ উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে।
২. বাড়ে বিপাকক্রিয়া, হজম হয় সহজ: মেথি পানি শরীরের বিপাকক্রিয়াকে সক্রিয় করে। এতে থাকা প্রাকৃতিক যৌগ হজম এনজাইমকে উত্তেজিত করে এবং চর্বি ভাঙার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এটি প্রাকৃতিকভাবে মেটাবলিজম ঠিক রাখে।
৩. পেট পরিষ্কার থাকে, সতেজ হয় হজমতন্ত্র: মেথি প্রাকৃতিক অন্ত্র পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। এর আঁশ শরীরে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়, মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখে এবং অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে। খালি পেটে পান করলে এটি পাকস্থলীর আবরণে সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে।
৪. ত্বকে দেখা দেয় দৃশ্যমান উন্নতি: মেথি পানির ডিটক্স ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ ত্বকেও প্রতিফলিত হয়। শরীর যখন ভেতর থেকে পরিষ্কার হয়, তখন ব্রণ বা ফুসকুড়ি কমে আসে, ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ও সতেজ। কয়েক সপ্তাহেই ত্বকের রঙে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আসতে পারে।
৫. হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভারসাম্য: মেথি দানায় এমন কিছু যৌগ থাকে, যা ইস্ট্রোজেন হরমোনের মতো কাজ করে। ফলে বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এটি হরমোনজনিত ওঠানামা কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত পান করলে মন-মেজাজ স্থির থাকে।
৬. শরীর থাকে আর্দ্র ও কর্মশক্তিতে ভরপুর: ভেজানো মেথি দানা থেকে বের হওয়া জেলি জাতীয় আঁশ শরীরকে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে। সকালে খালি পেটে পান করলে ত্বক ও শরীর দুই-ই আর্দ্র থাকে, ক্লান্তি ও শুষ্কতা কমে।
তৈরি ও সেবনের নিয়ম
রাতে এক চা চামচ মেথি দানা এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ছেঁকে সেই পানি খালি পেটে পান করুন। চাইলে হালকা গরম করে খাওয়া যায়, আবার ভেজানো দানাগুলোও চিবিয়ে খাওয়া যায়। নিয়মিত ১৫ দিন এভাবে খেলে এর সুফল স্পষ্ট অনুভব করা যায়।
ভুল থেকেই কি আসে সাফল্য? ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তরের ১২ উপায়
জীবনচলার পথে একই সমান্তরালে সবাই হাঁটলেও কেউ দ্রুত সফল হন, আবার কেউ বারবার হোঁচট খান। এই হোঁচট খাওয়া বা ব্যর্থতা অনেক সময় মানুষের মনে গভীর হতাশার জন্ম দেয়। তবে মনোবিজ্ঞানী ও সফল ব্যক্তিত্বদের মতে, ব্যর্থতা কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, বরং এটি নিজেকে আরও শাণিত করার একটি প্রক্রিয়া। যারা ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারেন, তাঁদের চিন্তাভাবনা ও অভ্যাসে সাধারণ মানুষের চেয়ে কিছু মৌলিক পার্থক্য থাকে। মানসিক স্থিতি বজায় রেখে কীভাবে ব্যর্থতাকে সাফল্যের সিঁড়িতে পরিণত করা যায়, সে বিষয়ে ১২টি বিশেষ অভ্যাসের কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
১. ভুলকে নিজের পরিচয় না বানানো
ব্যর্থতাকে সফল মানুষেরা স্রেফ একটি ঘটনা হিসেবে দেখেন, নিজের সত্তা বা পরিচয় হিসেবে নয়। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ র্যাশেল ক্যাসাডা লোহম্যানের মতে, প্রতিটি ভুলই একটি নতুন শেখার সুযোগ। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন বা ব্যক্তিগত ব্যর্থতা সাময়িক একটি নিম্নচক্র মাত্র। তারা বিশ্বাস করেন, ধৈর্য ধরলে এই পরিস্থিতি অবশ্যই বদলাবে।
২. সৃজনশীলতায় আনন্দ খুঁজে পাওয়া
যেকোনো ক্ষতির পর হাত গুটিয়ে বসে না থেকে তারা নতুন কিছু গড়ার চেষ্টা করেন। নিজের জন্য ভালো কিছু তৈরি করার এই যে আকুলতা, এটিই তাঁদের আত্মবিশ্বাসের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়ায়। ভুলের ধ্বংসস্তূপের ওপরই তারা ভবিষ্যতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
৩. পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়া
অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে তারা বর্তমানের সঙ্গে মানিয়ে নিতে জানেন। মনোবিজ্ঞানের শিক্ষাবিদ কেন্ড্রা চেরির মতে, মানসিকভাবে নমনীয় মানুষেরা নতুন পরিস্থিতিতে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। খোলা মনের কারণে তারা নেতিবাচক চিন্তা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
৪. বিরতি নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া
ব্যর্থতার পরপরই তারা নতুন কোনো লক্ষ্য অর্জনে অন্ধের মতো দৌড়াতে শুরু করেন না। বরং কিছুটা বিরতি নিয়ে নিজের মন ও পরিবেশ পরিষ্কার করেন। স্বল্প মেয়াদী ভ্রমণ বা একান্ত সময় কাটানো তাঁদের চিন্তাভাবনাকে স্বচ্ছ করে এবং পরবর্তী যুদ্ধের জন্য নতুন শক্তি জোগায়।
৫. ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে হাঁটা
ব্যর্থতা তাঁদের শেখায় পূর্বের ঝুঁকিটি কি বেশি ছিল না কি কম। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা লক্ষ্যগুলো নতুন করে সাজান। ছোট কিংবা বড়—যেকোনো পরিবর্তনই যেন জীবনের উন্নতির দিকে যায়, সেই লক্ষ্যেই তারা অবিচল থাকেন।
৬. বাস্তবতার নিরিখে নিজেকে বিশ্লেষণ করা
তারা নিজেদের ‘বাস্তবতার আয়নায়’ দেখেন। কেন ভুল হয়েছিল, কোথায় সাফল্যের সম্ভাবনা ছিল—এসব বিষয় তারা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন। নিজেদের দক্ষতা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে নতুন করে চিহ্নিত করে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
৭. অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও মেন্টরশিপ গ্রহণ
সাফল্যের পথে একাকী লড়াই না করে তারা এমন মানুষদের সাহায্য নেন যারা আগে একই ধরণের পথ পাড়ি দিয়েছেন। একজন অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ তাঁদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেতে সাহায্য করে এবং কার্যকর সমাধানের পথ দেখায়।
৮. প্রয়োজনীয় সম্পদের সমন্বয় ঘটানো
ব্যর্থতা অনেক সময় সম্পদের ঘাটতি বুঝিয়ে দেয়। তাই নতুন উদ্যোগ শুরুর আগে তারা প্রয়োজনীয় যোগাযোগ বৃদ্ধি করেন এবং নতুন উপকরণ বা পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। তারা জানেন, সঠিক প্রস্তুতিই অর্ধেক সাফল্য।
৯. অটল আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা
নিজের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস হারানো মানেই পরাজয় মেনে নেওয়া। লেখক লুইস হাউসের মতে, আত্মবিশ্বাসই সব কিছুর ভিত্তি। যারা ব্যর্থতাকে শক্তিতে বদলান, তারা নিজেদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন না, বরং প্রতিকূলতাকে জয়ের জেদ বাড়িয়ে দেন।
১০. অন্যের মতামতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দেওয়া
মানুষ কী ভাবছে বা সমাজ কী বলবে—এই চিন্তায় তারা নিজেদের আটকে রাখেন না। তারা জানেন ব্যর্থতা কোনো লজ্জার বিষয় নয়। এটি কেবল একটি সাময়িক অবস্থা, যা স্থায়ী কোনো পরিচয় বহন করে না।
১১. নতুন ও ইতিবাচক মানুষের সান্নিধ্য
ব্যর্থতার গ্লানি কাটাতে তারা নতুন বন্ধু বা ইতিবাচক দলের সাথে পরিচিত হন। ইতিবাচক মানুষের সঙ্গ মানসিক শক্তি বাড়ায় এবং সাফল্যের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। নতুন পরিবেশ তাঁদের নতুন করে ভাবতে শেখায়।
১২. গভীর আত্মবিশ্লেষণে সময় দেওয়া
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা থেকে শেখার জন্য নিজেকে প্রশ্ন করা অত্যন্ত জরুরি। সফল মানুষেরা আত্মবিশ্লেষণে সময় দেন এবং জীবনের বড় স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেন না। বরং নতুন ধারণা নিয়ে প্রতিবার আরও দৃঢ়ভাবে ফিরে আসেন।
ব্যর্থতাকে সাফল্যের সিঁড়িতে রূপান্তর করা সহজ কোনো কাজ নয়। তবে যারা লেগে থাকতে জানেন এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে নতুন করে ভাবতে পারেন, তাঁদের কাছে প্রতিটি ব্যর্থতাই হয়ে ওঠে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার একটি নতুন ধাপ।
গ্যাস সংকটে ত্রাতা ইলেকট্রিক চুলা; ইনডাকশন না ইনফ্রারেড, কোনটি সেরা?
দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও রান্নাবান্নার চিরচেনা দৃশ্য বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে গ্যাস সিলিন্ডার বা লাইনের গ্যাসের অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে গৃহিণীদের বড় ভরসা হয়ে উঠেছে আধুনিক ইলেকট্রিক চুলা। বর্তমানে বাজারে ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড—এই দুই ধরনের ইলেকট্রিক চুলার আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। যদিও দূর থেকে দেখতে এই দুই ধরনের চুলা প্রায় একই রকম মনে হয়, কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এদের তাপ উৎপাদনের প্রক্রিয়া, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার ক্ষমতা এবং ব্যবহারের সুবিধায় ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। সঠিক চুলাটি বেছে না নিতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিলের বোঝা ও ব্যবহারের অসুবিধায় পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা।
ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার প্রধান পার্থক্য মূলত এদের তাপ উৎপাদনের মূলনীতি বা বিজ্ঞানের মধ্যে নিহিত। ইনডাকশন চুলা কাজ করে মূলত ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইনডাকশন’ বা তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ প্রক্রিয়ায়। এই চুলার ভেতরে থাকা কপার কয়েল একটি উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, যা সরাসরি রান্নার পাত্রের ভেতরের অণুগুলোকে উত্তপ্ত করে তোলে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ায় চুলার ওপরের গ্লাসটি নিজে গরম হয় না, বরং সরাসরি পাত্রের তলা গরম হয়ে রান্না সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, ইনফ্রারেড চুলা কাজ করে ‘ইনফ্রারেড রেডিয়েশন’ বা অবলোহিত বিকিরণের মাধ্যমে। এর ভেতরে থাকা রেজিস্ট্যান্স কয়েল বা হ্যালোজেন ল্যাম্প প্রথমে নিজে অত্যন্ত উত্তপ্ত হয় এবং সেখান থেকে বিকিরিত রশ্মি গ্লাস টপ পেরিয়ে রান্নার পাত্রে তাপ সরবরাহ করে।
ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এই দুই চুলার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি হয় রান্নার পাত্র নির্বাচনের সময়। ইনডাকশন চুলা যেহেতু চৌম্বক ক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল, তাই এতে কেবল লোহা বা ফেরোম্যাগনেটিক স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। সাধারণ অ্যালুমিনিয়াম, তামা বা কাচের পাত্র এই চুলায় কাজ করবে না। তবে ইনফ্রারেড চুলার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা অনেকটা স্বাধীন। এটি তাপ বিকিরণের মাধ্যমে কাজ করায় এতে অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল, তামা, কাচ এমনকি মাটির পাত্রেও রান্না করা সম্ভব। যাদের বাড়িতে বৈচিত্র্যময় রান্নার পাত্রের সংগ্রহ রয়েছে, তাদের কাছে ইনফ্রারেড চুলা বেশি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও কার্যকারিতার প্রশ্নে আবার পাল্লা ভারি ইনডাকশন চুলার দিকেই। গবেষণায় দেখা গেছে, ইনডাকশন চুলার তাপীয় কার্যকারিতা প্রায় ৯০ শতাংশ। যেহেতু এখানে তাপ সরাসরি পাত্রের ভেতরে উৎপন্ন হয়, তাই পরিবেশে তাপ অপচয় হওয়ার সুযোগ খুবই কম থাকে। অন্যদিকে, ইনফ্রারেড চুলায় কয়েল থেকে গ্লাস এবং গ্লাস থেকে পাত্রে তাপ পৌঁছানোর সময় অনেকটা তাপ আশেপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে নষ্ট হয়। এর ফলে এর কার্যকারিতা গড়ে ৭০ শতাংশের আশেপাশে থাকে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিলের সাশ্রয় চিন্তা করলে ইনডাকশন চুলাই বিজ্ঞানসম্মতভাবে বেশি লাভজনক।
নিরাপত্তা ও বহুমুখী ব্যবহারের দিক থেকেও এই দুই চুলার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আলাদা। নিরাপত্তার দিক থেকে ইনডাকশন চুলা অনেক এগিয়ে, কারণ রান্না শেষ করার সাথে সাথেই এর উপরিভাগ দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়, ফলে দুর্ঘটনাবশত হাত পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। আবার ইনফ্রারেড চুলার গ্লাস টপ রান্নার পরও বেশ কিছুক্ষণ গরম থাকে, যা অনেক সময় বিপজ্জনক হতে পারে। তবে ইনফ্রারেড চুলার একটি বিশেষ সুবিধা হলো এতে সরাসরি রুটি সেঁকা বা মাংস ঝলসানোর মতো কাজ করা যায়, যা ইনডাকশন চুলায় সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা নিরাপত্তার সাথে বিদ্যুৎ সাশ্রয়কে অগ্রাধিকার দিতে চান, তাদের জন্য ইনডাকশন চুলা সেরা সমাধান। তবে যারা সব ধরনের পাত্রে রান্নার স্বাধীনতা চান, তাদের জন্য ইনফ্রারেড চুলাই হতে পারে কার্যকর বিকল্প।
ইসবগুল না কি চিয়া সিড? ফাইবারের ঘাটতি মেটাতে কোনটি বেশি কার্যকর?
আধুনিক জীবনযাত্রায় সুস্থ থাকার জন্য ডায়েটে ফাইবারের গুরুত্ব এখন সর্বজনস্বীকৃত। বিশেষ করে হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানে ইসবগুল (সাইলিয়াম হাস্ক) এবং চিয়া সিড বর্তমানে মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। যদিও এই দুটি উপাদানই প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত, তবে এদের কাজের ধরণ এবং পুষ্টিগত গঠনে রয়েছে এক বিশাল বৈচিত্র্য। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ইসবগুল মূলত দ্রবণীয় ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস। এটি পানির সংস্পর্শে আসা মাত্র তা শোষণ করে জেলির মতো আকার ধারণ করে এবং অন্ত্রের ভেতরে থাকা মলকে নরম করে দ্রুত শরীর থেকে বের করে দিতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, চিয়া সিডকে বলা হয় পুষ্টির পাওয়ার হাউস, যার প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ গ্রাম ফাইবার থাকলেও তার সিংহভাগই অর্থাৎ ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই হলো অদ্রবণীয় ফাইবার। এই অদ্রবণীয় ফাইবার মলের আকার বাড়াতে এবং মল নিষ্কাশন প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার ক্ষেত্রে এই দুটির প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন। ইসবগুল যেহেতু মলকে নরম করে, তাই এটি দ্রুত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে। অন্যদিকে, চিয়া সিড নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস বজায় রাখতে সাহায্য করলেও এটি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে কিংবা পর্যাপ্ত পানি পান না করলে উল্টো কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ইসবগুলের ভূমিকা অনবদ্য। এটি এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে এবং ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে কার্যকর। উচ্চ রক্তচাপে ভোগা ব্যক্তিদের জন্যও ইসবগুল একটি নিরাপদ এবং কার্যকরী বিকল্প। যদিও চিয়া সিড লিপিড প্রোফাইল উন্নত করতে এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক, তবে এর কার্যকারিতা অনেকাংশেই এটি খাওয়ার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ইসবগুল ও চিয়া সিড—উভয়ই বেশ জনপ্রিয়। এই দুটি উপাদানই পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়, যার ফলে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা কমে আসে এবং পরোক্ষভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে পুষ্টিগুণের সূক্ষ্ম বিচারে চিয়া সিড অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। ইসবগুল যেখানে মূলত ফাইবার এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের জন্য জনপ্রিয় এবং এতে ক্যালোরির পরিমাণও বেশ কম, সেখানে চিয়া সিড কেবল ফাইবারই দেয় না বরং এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ভাণ্ডার। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে চিয়া সিডের পুষ্টিগুণ অপরিহার্য।
একজন ব্যক্তির জন্য কোন ফাইবারটি সেরা হবে তা নির্ভর করে তাঁর শরীরের বর্তমান অবস্থা এবং লক্ষ্যের ওপর। যদি কারও প্রধান লক্ষ্য হয় রক্তচাপ ও শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত কোলেস্টেরল কমানো, তবে তাঁর জন্য ইসবগুল হবে সেরা পছন্দ। আবার কেউ যদি ওজন কমানোর পাশাপাশি ত্বক উজ্জ্বল রাখা, শরীরে ওমেগা-৩-এর যোগান দেওয়া এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চান, তবে তাঁর জন্য চিয়া সিড একটি উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে। পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দেন যে, যেকোনো ফাইবার জাতীয় খাবার গ্রহণের সময় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা আবশ্যক, অন্যথায় তা হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। সুতরাং, আপনার শরীরের সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ফাইবারের উৎস নির্বাচন করাই হবে সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ।
এলপিজি সংকটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ; রান্নায় গ্যাস বাঁচানোর উপায়
বর্তমানে দেশের জ্বালানি বাজারে বিশেষ করে এলপিজি বা সিলিন্ডার গ্যাসের দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। অনেক এলাকায় চাহিদামত গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি এই সংকটের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সিলিন্ডার প্রতি অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো আর্থিকভাবে নাজেহাল হয়ে পড়ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারের এই অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় কেবল প্রশাসনিক নজরদারি যথেষ্ট নয়, বরং ভোক্তাদের নিজেদের রান্নার প্রক্রিয়া এবং চুলা ব্যবহারের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি। কিছু সাধারণ নিয়ম ও বৈজ্ঞানিক কৌশল মেনে চললে রান্নার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব, যা বর্তমান বাজারে টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে।
সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সতর্কতার জায়গা হলো ক্রয়কালীন সজাগ দৃষ্টি রাখা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সিলিন্ডারে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম গ্যাস থাকে, যা একজন সাধারণ ভোক্তার জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই গ্যাস কেনার সময় অবশ্যই ওজন যাচাই করে নেওয়া উচিত। ডেলিভারি গ্রহণের সময় ওজন মাপার যন্ত্র ব্যবহার করে সঠিক মাত্রা নিশ্চিত না হয়ে সিলিন্ডার কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রান্নার সময় আগুনের তাপ বা আঁচে নিয়ন্ত্রণ রাখা গ্যাস সাশ্রয়ের অন্যতম প্রধান শর্ত। উচ্চ তাপে রান্না করলে গ্যাসের অপচয় যেমন বাড়ে, তেমনই খাবারের প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণও নষ্ট হয়ে যায়। তাই মাঝারি বা কম আঁচে রান্না করলে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি খাবারের মানও অটুট থাকে।
রান্নার সময় পাত্র ঢেকে রাখার অভ্যাসটিও অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে প্রমাণিত হয়েছে। ঢাকনা দিয়ে রান্না করলে ভেতরের বাষ্প আটকে থাকে এবং খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়, যা সরাসরি গ্যাসের খরচ কমিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ হাঁড়ির পরিবর্তে প্রেসার কুকার ব্যবহার করতে পারলে সময় ও জ্বালানি উভয়ই সাশ্রয় করা সম্ভব। এছাড়া রান্নার আগে প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে চাল, ডাল বা বিভিন্ন ধরণের দানাশস্য রান্নার কয়েক ঘণ্টা আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সেগুলো দ্রুত নরম হয় এবং সেদ্ধ হতে খুব কম সময় নেয়। এটি কেবল গ্যাসের খরচই কমায় না, বরং রান্নার সময়কেও সংক্ষিপ্ত করে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে চুলা বা বার্নারের সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণও গ্যাস সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা রাখে। বার্নারে ময়লা জমলে গ্যাসের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং আগুন নীল না হয়ে হলদেটে হয়ে যায়, যা অপচয়ের লক্ষণ। তাই নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার রাখা এবং সঠিক আকারের বার্নারে সঠিক পাত্র ব্যবহার করা জরুরি। রান্না শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে প্রয়োজনীয় সমস্ত উপকরণ হাতের কাছে গুছিয়ে রাখা এবং গ্যাস জ্বালিয়ে উপকরণ খোঁজার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভেজা পাত্র সরাসরি চুলায় না দেওয়া; কারণ পাত্রের পানি শুকাতে গিয়েও কিছুটা মূল্যবান গ্যাস নষ্ট হয়। শুকনো কড়াই বা হাঁড়ি চুলায় বসালে সময় ও গ্যাস উভয়ই বাঁচানো সম্ভব। এই ধরণের ছোট ছোট সচেতনতা বর্তমানের অস্থির বাজার পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোকে বড় ধরণের আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি দিতে পারে।
গুড়ে মিশছে চিনি ও ক্ষতিকর রং; ভেজাল এড়িয়ে চলবেন যেভাবে
শীতের আগমনের সাথে সাথেই গ্রামবাংলার জনপদে বয়ে চলে খেজুরের রসের এক মিষ্টি আমেজ এবং বাতাসে ভেসে আসে খেজুরের গুড়ের সেই চিরাচরিত সুগন্ধ। বাঙালি সংস্কৃতিতে শীতকালীন পিঠা, পায়েস কিংবা তালের পিঠার স্বাদ যেন এই গুড় ছাড়া অপূর্ণ থেকে যায়। তবে খেজুরের গুড় কেবল স্বাদের জন্যই নয়, বরং এর আকাশচুম্বী পুষ্টিগুণের কারণে এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত। পুষ্টিবিদদের মতে, এই গুড়ে প্রচুর পরিমাণে লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, সেলেনিয়াম এবং পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করে। সাধারণত শীতের সকালে সংগৃহীত খেজুর গাছের টাটকা রস বড় পাত্রে দীর্ঘ সময় জ্বাল দিয়ে ঘন করার মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী গুড় তৈরি করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে খাঁটি গুড়ের জায়গা দখল করে নিচ্ছে ক্ষতিকর ভেজাল মিশ্রিত গুড়।
এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে রসের সাথে প্রচুর পরিমাণে চিনি, ফিটকিরি এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে কৃত্রিম রাসায়নিক রং মিশিয়ে বাজারে ভেজাল গুড় সরবরাহ করছে। এই ধরণের কৃত্রিম গুড়ে প্রকৃত গুড়ের সেই স্বাভাবিক ঘ্রাণ বা স্বাদ থাকে না, বরং তা মানবদেহের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভেজাল গুড় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ভোক্তাদের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, খাঁটি খেজুরের গুড় সাধারণত গাঢ় বাদামি বা কালচে লালচে রঙের হয়ে থাকে। বিশেষ করে পাটালির ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, আসল গুড় কিছুটা নরম হয় এবং ভাঙলে এর ভেতরে এক ধরণের হালকা রসাল ভাব লক্ষ্য করা যায়। খাঁটি গুড় হাতে নিলে তা অতিরিক্ত চকচকে লাগে না এবং এর স্বাদ হয় একদম স্বাভাবিক মিষ্টি, যা মুখে দিলে শরীরে এক ধরণের প্রাকৃতিক উষ্ণতা তৈরি করে।
অন্যদিকে, বাজারে পাওয়া যাওয়া ভেজাল বা মিশ্রিত গুড় চেনার কিছু স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে যা সাধারণ চোখেই ধরা সম্ভব। এই ধরণের গুড় দেখতে অস্বাভাবিকভাবে চকচকে এবং এর পাটালি অত্যন্ত শক্ত থাকে। অনেক ক্ষেত্রে গুড়ের রং হয় ফ্যাকাশে বা সাদাটে ধরনের, যা কৃত্রিম রং ও ফিটকিরির ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। যদি গুড়ের স্বাদ নোনতা বা তিতা লাগে, তবে ধরে নিতে হবে এতে লবণ বা ফিটকিরি মেশানো হয়েছে। এছাড়া গুড়ের ভেতরে যদি স্ফটিকের মতো ছোট ছোট দানা দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে মিষ্টতা বাড়ানোর জন্য এতে প্রচুর পরিমাণে সাধারণ চিনি মেশানো হয়েছে। শীতের মৌসুমে সুস্থ থাকতে এবং পিঠা-পুলির আসল স্বাদ উপভোগ করতে ভোক্তাদের কেবল কম দাম বা উজ্জ্বল রঙের ওপর নির্ভর না করে গন্ধ, স্বাদ ও গঠন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে গুড় কেনা উচিত। সঠিক সচেতনতাই পারে এই ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উপাদানটিকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর রাখতে।
খাঁটি না কি বিষ? সরিষার তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ৫টি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
বাঙালি ভোজনরসিকদের রসনা বিলাসে সরিষার তেলের ঝাঁঝালো সুগন্ধ এবং স্বাদ এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। মাছ ভাজা থেকে শুরু করে আলু সেদ্ধ কিংবা শীতের দুপুরের ভর্তা—সবকিছুতেই সরিষার তেলের উপস্থিতি যেন খাবারের স্বাদকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারের এই অন্যতম প্রধান ভোজ্যতেলের বিশুদ্ধতা নিয়ে তৈরি হয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে সস্তা পাম তেল, মিনারেল অয়েল এমনকি মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর ‘আর্জিমন’ বা শিয়ালকাঁটার তেল মিশিয়ে বাজারে সরিষার তেলের সরবরাহ বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভেজাল তেল নিয়মিত গ্রহণের ফলে হৃদরোগ, স্থায়ী অন্ধত্ব এবং ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা ঘরে বসেই তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন যা অনুসরণ করলে বাজার থেকে কেনা তেলের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
সরিষার তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকরী একটি পদ্ধতি হলো ‘ফ্রিজিং টেস্ট’। একটি ছোট কাঁচের বাটি বা বোতলে সামান্য পরিমাণ তেল নিয়ে সেটি ফ্রিজারে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য রেখে দিলে তেলের গুণমান বোঝা যায়। খাঁটি সরিষার তেল কখনোই হিমাঙ্কের নিচে তরল অবস্থা হারায় না বা জমে যায় না; অন্যদিকে তেলের ওপরের অংশে যদি সাদা আস্তরণ দেখা যায় বা তেলটি ঘনীভূত হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে এতে পাম তেল বা অন্য কোনো সস্তা তেলের মিশ্রণ রয়েছে। এছাড়া হাতের তালুতে ঘষেও তেলের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। অল্প পরিমাণ তেল হাতের তালুতে নিয়ে ভালো করে ঘষলে যদি খাঁটি তেলের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ পাওয়া যায় এবং তালুতে কোনো কৃত্রিম রঙের দাগ না লাগে, তবে তা ব্যবহারের জন্য নিরাপদ। যদি ঘষার পর কোনো অপ্রাকৃতিক রাসায়নিক গন্ধ বা রঙের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তবে নিশ্চিত হতে হবে যে এতে কৃত্রিম সুগন্ধি বা বিষাক্ত রঙ মেশানো হয়েছে।
রাসায়নিক পরীক্ষার মধ্যে ‘নাইট্রিক এসিড পরীক্ষা’ সবচেয়ে নির্ভুল ফলাফল প্রদান করে। একটি কাঁচের পাত্রে সামান্য তেলের সাথে কয়েক ফোঁটা নাইট্রিক এসিড যোগ করলে যদি তেলের রঙের কোনো পরিবর্তন না হয়, তবে সেটি বিশুদ্ধ। কিন্তু মিশ্রণটি যদি লাল বা কমলা রঙ ধারণ করে, তবে তাতে বিষাক্ত আর্জিমন তেলের উপস্থিতি প্রমাণিত হয় যা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকিস্বরূপ। রান্নার সময় কড়াইতে তেলের আচরণের ওপর লক্ষ্য রাখলেও ভেজাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। খাঁটি সরিষার তেল কড়াইতে দেওয়ার সাথে সাথে ধোঁয়া ছাড়ে না এবং এর ঝাঁঝালো গন্ধ চোখ ও নাকে এক ধরণের জ্বালা ধরায়। যদি তেল গরম হতেই সাদাটে ধোঁয়া বের হয় এবং কোনো ঝাঁঝ অনুভূত না হয়, তবে সেই তেলে ভেজালের সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া তেলের রঙের গভীরতা দেখেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন; কারণ খাঁটি তেল সাধারণত গাঢ় সোনালি বা লালচে হলুদ হয়ে থাকে, যেখানে খুব হালকা হলুদ রঙের স্বচ্ছ তেল মিনারেল অয়েলের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। তাই সুস্থ থাকতে খোলা তেলের পরিবর্তে সর্বদা স্বীকৃত ‘অ্যাগমার্ক’ চিহ্নযুক্ত বোতলজাত তেল কেনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
অবহেলিত মুলার আকাশচুম্বী গুণ: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় কেন এটি অপরিহার্য?
শীতকালীন সবজির তালিকায় মুলার কদর অনেকের কাছে কিছুটা কম মনে হলেও এর স্বাস্থ্যগত উপযোগিতা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বিস্ময়কর অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বাদে কিছুটা তিতা বা ঝাঁঝালো হওয়ার কারণে অনেকে এটি এড়িয়ে চললেও রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে মুলা এক অনন্য প্রাকৃতিক দাওয়াই। হজমশক্তি বৃদ্ধি করা থেকে শুরু করে ত্বকের উজ্জ্বলতা রক্ষা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই সবজিটি জাদুর মতো কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে শীতের এই সময়ে যখন শরীরে রোগব্যাধির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, তখন সহজলভ্য এই সবজিটি কেন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি, তা নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক মতামত পাওয়া গেছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি হওয়ার কারণে মুলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে শরীরের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের তথ্য অনুযায়ী, খাবারের আগে মুলা গ্রহণ করলে শরীরে পিত্ত উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা গৃহীত খাদ্য দ্রুত হজমে সরাসরি সহায়তা করে। শুধু হজম নয়, প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং রাফানিন নামক উপাদানের উপস্থিতির কারণে এটি শরীরের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, যা সাধারণ ঠান্ডা এবং ফ্লু জাতীয় সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এছাড়া রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এর বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে; কারণ মুলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অত্যন্ত কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এক আদর্শ খাবার হিসেবে গণ্য হয়।
দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশেষ করে লিভার ও কিডনি পরিষ্কার রাখতে মুলার রস বা এর ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে প্রাকৃতিক ডিটক্স হিসেবে কাজ করে। মুলার উপকারিতা কেবল অভ্যন্তরীণ সুস্থতাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শরীরের বাহ্যিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতেও এটি সমানভাবে পারদর্শী। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে এবং ব্রণের সমস্যা কমিয়ে ত্বকে এক ধরণের প্রাকৃতিক আভা তৈরি করে। এছাড়া বর্তমান সময়ে অনেকের মধ্যে দেখা দেওয়া হাড়ের প্রদাহ বা বাতের ব্যথা কমাতেও মুলা সক্রিয় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
তবে সবকিছুর মতো মুলার ব্যবহারেও কিছু নির্দিষ্ট সতর্কতা মেনে চলা আবশ্যক। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা মুলা খেলে হজমে ব্যাঘাত ঘটে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মুলা গ্রহণ করা অনুচিত হতে পারে। এছাড়া খাদ্য সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলাও জরুরি; যেমন দুধ বা মাছের সাথে মুলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মূলত সঠিক নিয়ম ও পরিমিতিবোধ বজায় রেখে শীতকালীন এই সবজিটি খাদ্যতালিকায় যুক্ত করলে খুব সহজেই একটি নিরোগ ও সতেজ শরীর বজায় রাখা সম্ভব।
১৩ বছরের আগে হাতে ফোন? শৈশবেই বাড়ছে বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি
বর্তমান আধুনিক বিশ্বে স্মার্টফোন এখন কেবল বড়দের প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ নয়, বরং তা ছোটদের হাতেও অনায়াসেই পৌঁছে গেছে। পড়াশোনা, পারস্পরিক যোগাযোগ কিংবা স্রেফ বিনোদনের দোহাই দিয়ে অনেক শিশুই অত্যন্ত অল্প বয়সে তাদের নিজস্ব বা ব্যক্তিগত ফোন ব্যবহার শুরু করে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই প্রবণতা নিয়ে এক গভীর উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। গবেষকদের মতে, ১৩ বছর বয়সের আগেই যদি কোনো শিশুর হাতে ব্যক্তিগত ফোন তুলে দেওয়া হয়, তবে তা তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এই ঝুঁকির তালিকায় মূলত ঘুমের তীব্র সমস্যা, শরীরের অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা এবং দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতার মতো ভয়াবহ বিষয়গুলো যুক্ত রয়েছে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সংশ্লিষ্ট গবেষক র্যান বারজিলে এবং তাঁর একটি বিশেষ গবেষক দল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি ভিন্ন অঞ্চলের প্রায় সাড়ে দশ হাজার শিশুর জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যগত তথ্য নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করে তাঁরা দেখেছেন যে, যেসকল শিশু মাত্র ১২ বছর বয়সে ফোন হাতে পেয়েছে, তাদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা হওয়ার হার অন্য শিশুদের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। শুধু তাই নয়, এই শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকিও প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর বিপরীতে, যেসকল শিশু ১৩ বছর পূর্ণ হওয়ার পর স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করেছে, তাদের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক কম লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বয়ঃসন্ধির ঠিক শুরুর পর্যায়ে স্মার্টফোনের এই অবারিত ব্যবহার সরাসরি বিষণ্নতা, স্থূলতা এবং অনিদ্রার মতো সমস্যার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির হাত থেকে নতুন প্রজন্মকে সুরক্ষা দিতে তাঁরা দেশে দেশে কঠোর নীতিমালা বা সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের জোর সুপারিশ করেছেন। বিশ্বজুড়ে এই উদ্বেগের প্রতিফলন ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। যেমন, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামসহ সব ধরণের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যও শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক মাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নানাবিধ সীমাবদ্ধতা আরোপের পথে হাঁটছে। ঠিক এই সময়ের মধ্যেই ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও নতুন কিছু পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে বহুল আলোচিত ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক সম্প্রতি তাদের মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো কোম্পানিটির কার্যক্রম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অব্যাহত রাখা এবং আইনি জটিলতা নিরসন করা। বৈশ্বিক এই প্রেক্ষাপট এবং স্বাস্থ্য গবেষণার এই নতুন তথ্যগুলো এখন সম্মিলিতভাবে শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সঠিক বয়স এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে পুনরায় জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
ভালুকায় শিক্ষা বিপ্লব: রানার উদ্যোগে ঝরে পড়া শ্রমিকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ই-লার্নিং একাডেমি

ইমন সরকার
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
ভোরের আলো ফোটার আগেই ভালুকার শিল্পাঞ্চলে ভেসে আসে কারখানার সাইরেন। সেই শব্দে ঘুম ভাঙে হাজারো শ্রমজীবী মানুষের যাদের জীবনের বড় অংশ জুড়ে আছে দায়িত্ব, ক্লান্তি আর সময়ের সঙ্গে প্রতিদিনের নিরবচ্ছিন্ন লড়াই। এই লড়াইয়ের মাঝেই অনেকের জীবনে থেমে গেছে পড়াশোনার পথ। সংসারের দায়, পারিবারিক সংকট কিংবা বাস্তবতার চাপে কেউ দশ-পনেরো বছর আগেই স্কুল ছেড়েছিলেন। কিন্তু সেই থেমে যাওয়া জীবনগুলোকে আবার শিক্ষার মূল স্রোতে ফেরাতে ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নীরবে কাজ করে যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘ই-লার্নিং একাডেমি বাংলাদেশ’।
এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন তরুণ শিক্ষাউদ্যোক্তা এম এম রানা। তাঁর গড়ে তোলা এই একাডেমি কোনো প্রচলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক এক বাস্তবভিত্তিক ডিজিটাল শিক্ষাপ্ল্যাটফর্ম, যেখানে কর্মজীবী ও ঝরে পড়া মানুষরা বয়স, সময় কিংবা দীর্ঘ স্টাডি গ্যাপের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আবার পড়াশোনায় ফিরছেন।
ভালুকা একটি শ্রমঘন শিল্পাঞ্চল। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এখানে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষ বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত। এদের বড় একটি অংশ মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারেননি। বাস্তবতা হলো দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কেবল শিক্ষাগত সনদের অভাবে অনেকেই বছরের পর বছর একই পদে আটকে থাকেন। এই সামাজিক বাস্তবতাই এম এম রানাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
রানা বলেন, নিজের চারপাশে তিনি দেখেছেন এমন অসংখ্য মানুষ, যারা কাজে পারদর্শী হলেও এসএসসি বা এইচএসসি সনদ না থাকায় কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি কিংবা দায়িত্ব পাচ্ছেন না। বহু বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ায় তাদের পক্ষে আর নিয়মিত কোনো স্কুল বা কলেজে যাওয়া সম্ভব নয়। এই দীর্ঘ স্টাডি গ্যাপে আটকে থাকা মানুষগুলোর হতাশাই তাঁকে বিকল্প এক শিক্ষামডেল গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করে।
ই-লার্নিং একাডেমির শিক্ষাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে পুরোপুরি চাকরিজীবীদের বাস্তবতা মাথায় রেখে। দিনের কাজ শেষে রাতে অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হন শিক্ষার্থীরা। কেউ সরাসরি উপস্থিত থাকেন, কেউ আবার জুম বা গুগল মিটের মাধ্যমে যুক্ত হন। পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রয়েছে রেকর্ডেড ক্লাসের সুবিধা, যাতে কাজের চাপে কেউ পিছিয়ে না পড়েন। পাঠদানের ক্ষেত্রে জটিলতা এড়িয়ে সহজ ভাষা ও বাস্তব উদাহরণ ব্যবহার করা হয় যাতে দীর্ঘদিন পড়াশোনার বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরাও আত্মবিশ্বাস ফিরে পান।
বর্তমানে এই একাডেমিতে ত্রিশ কিংবা চল্লিশ পেরোনো বহু শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করছেন। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অষ্টম শ্রেণি পাস ছাড়াই এসএসসি (ভোকেশনাল), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ ও বিএসএস, পাশাপাশি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত ‘এক বছরে এইচএসসি’ প্রোগ্রাম ইতোমধ্যে শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি ধারার বিভিন্ন কোর্সে ভর্তির গাইডলাইন ও একাডেমিক সহায়তাও দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে এমনকি প্রবাসীরাও ঘরে বসে তাদের অসমাপ্ত পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে ভীতি ও সংশয় কাজ করে, সেই জায়গা থেকে ই-লার্নিং একাডেমি বাংলাদেশ কাজ করছে শতভাগ স্বচ্ছতা ও আস্থার সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে পরিচালিত। তাদের রয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিটিসিএল কর্তৃক ভেরিফায়েড সরকারি ডোমেইন (www.elearningacademy.org.bd), হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএন সনদ।
শিক্ষার্থীদের কাছে এম এম রানা পরিচিত ‘রানা স্যার’ নামে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গার্মেন্টস সুপারভাইজার জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ধারণা ছিল এই বয়সে পড়াশোনা আর সম্ভব নয়। কিন্তু রানার দিকনির্দেশনা ও নিয়মিত অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হয়ে সেই ভয় কেটে গেছে। এখন তিনি এইচএসসি শেষ করে ডিগ্রিতে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, দিনের বেলায় কারখানার কাজ আর রাতে পড়াশোনা এই দুইয়ের ভারসাম্য তাঁর জীবনে নতুন আত্মবিশ্বাস এনেছে। আগে যেখানে নিজেকে সীমাবদ্ধ মনে হতো, এখন সেখানে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।
প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও দর্শন সম্পর্কে এম এম রানা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার গণতান্ত্রিকায়ন। সার্টিফিকেটের অভাবে যেন কারো ক্যারিয়ার আটকে না থাকে। একজন মানুষ তার সুবিধামতো সময়ে পড়াশোনা করবে এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের যাত্রা। আমরা শুধু ভর্তি করাই না, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। আমাদের স্লোগান ‘যেখানে থেমেছে পথ, সেখান থেকেই হোক নতুন শুরু।’”
ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ির এই ছোট্ট অনলাইন ক্লাসরুম আজ প্রমাণ করছে শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের জীবনের সম্ভাবনাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। সেই সম্ভাবনার দরজাই খুলে দিচ্ছেন এম এম রানা ও তাঁর ই-লার্নিং একাডেমি বাংলাদেশ।
যোগাযোগ:
মোবাইল: ০১৭৮৫-৫৫৭৫৮৭
ওয়েবসাইট: www.elearningacademy.org.bd
ফেসবুক পেজ: E Learning Academy Bangladesh
অফিস: স্কয়ার মাস্টারবাড়ি, বিকাশ অফিসের বিপরীতে, ভালুকা, ময়মনসিংহ
পাঠকের মতামত:
- আওয়ামী লীগ কর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের: ফয়জুল করীম
- ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার: নতুন পে স্কেলে কার বেতন কত বাড়ছে?
- ৩০০ আসনেই ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি; আজ মধ্যরাত থেকেই ঘুরবে ব্যালট ছাপার চাকা
- বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ আজ: আইসিসি সভায় নতুন মোড়
- বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ আজ: আইসিসি সভায় নতুন মোড়
- ডিএসইতে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন
- দিনশেষে ডিএসইর বাজার বিশ্লেষণ, কে বাড়ল কে কমল
- লেনদেন শেষে শীর্ষ ১০ দরপতনকারী কারা
- বুধবারের লেনদেনে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- নির্বাচনি প্রচারে ত্যাগী নেতাদের সফরসঙ্গী করবেন তারেক রহমান
- কোরআনে বর্ণিত মৃত্যুর পর মানুষের ৯টি আফসোস
- কোন আসনে কে, ইসলামী আন্দোলনের পূর্ণ তালিকা
- প্রতীক পেলেই প্রচারের অনুমতি, কী বলছে ইসি
- নতুন পে স্কেল ২০২৬, আজ চূড়ান্ত সুপারিশ, সর্বশেষ যা জানা গেল
- ‘ডেডলাইন’ ট্যুরে জাপান জয় করল ব্ল্যাকপিংক: টোকিওতে ইতিহাস গড়লেন চার কন্যা
- জামায়াতের পলিসি সামিট ২০২৬, বড় অর্থনৈতিক ঘোষণা
- একদিনে ৫ কোম্পানির বোর্ড সভা, বাজারে সতর্ক নজর
- সাভারে ৬ খুনের নেপথ্যে ভয়ংকর সম্রাট: বেরিয়ে আসছে রোমহর্ষক সব তথ্য
- ডিএসই মিউচুয়াল ফান্ড বাজারচিত্র, কোথায় কত এনএভি
- বিপিএল মাতাতে ঢাকায় উইলিয়ামসন
- নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ: জানুন ঝুঁকি ও সমাধান
- বাংলাদেশের সমর্থনে আইসিসিকে পিসিবির চিঠি: নতুন মোড় ক্রিকেটের দ্বন্দ্বে
- শালীনতা ও নেয়ামতের চর্চা: ইসলামের বাস্তবমুখী জীবন দর্শনের রূপরেখা
- দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা গ্যাস বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- আজ ৫ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- ২১ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- ভুল থেকেই কি আসে সাফল্য? ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তরের ১২ উপায়
- দুনিয়ার সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম: ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় উত্তাল বিশ্ববাজার
- ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি: তারেক রহমান
- দুই বিশ্বনেতার ব্যক্তিগত মেসেজ প্রকাশ করলেন ট্রাম্প
- ধানের শীষের ঘরে বিদ্রোহীদের হানা; প্রতীক বরাদ্দের দিনেই কি বদলে যাচ্ছে সমীকরণ?
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- নামাজের সময়সূচি: ২১ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির
- প্রতীক বরাদ্দে চূড়ান্ত লড়াইয়ের আমেজ; কাল থেকেই শুরু নির্বাচনী প্রচার
- ভালুকায় পৌর বিএনপির ১নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদারে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত
- ছুটি বাড়ল মাদ্রাসায়, কমল স্কুলে: ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জিতে বড় পরিবর্তন
- গ্যাস সংকটে ত্রাতা ইলেকট্রিক চুলা; ইনডাকশন না ইনফ্রারেড, কোনটি সেরা?
- কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিউটি পার্লার থেকে যুবতীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
- মিরপুরে বিএনপি জামাত সংঘর্ষ
- নীরব ঘাতক কোলেস্টেরল; শরীরে যে ৫টি সংকেত দেখলে দ্রুত সতর্ক হবেন
- পুরো দেশই অনিশ্চয়তায়: বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে লিটনের বিস্ফোরক বয়ান
- রমজান ২০২৬: সেহরি ও ইফতারের চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করল ইফা
- আরেকবার যুবক হয়ে লড়তে হবে: জামায়াত আমির
- ২০২৬-এই গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার: ট্রাম্পের রহস্যময় ছবি ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে জল্পনা
- ৩৪ মিনিটে বিয়ে ও ৭৫ মিনিটে তালাক: সম্পদশালী দেশে পারিবারিক জীবনের অস্থির চিত্র
- বস্তিবাসীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ফ্ল্যাটের স্বপ্ন দেখালেন তারেক রহমান
- পে-স্কেল নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান: সরকারি চাকুরেদের ভাগ্যবদল কি আসন্ন?
- ফরাসি প্রেসিডেন্টের ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ: ২০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- দুনিয়ার সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম: ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় উত্তাল বিশ্ববাজার
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে স্বর্ণের দাম: মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- কুমিল্লা ৪ এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দরকার - নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আইবিপির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ








