ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা আদনানের বিরুদ্ধে স্ত্রীর নতুন বিস্ফোরক অভিযোগ

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ১৪ ১৪:২১:০১
ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা আদনানের বিরুদ্ধে স্ত্রীর নতুন বিস্ফোরক অভিযোগ
ছবিঃ সংগৃহীত

আলোচিত ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনানকে নিয়ে আবারও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারাহ। তিনি অভিযোগ করেছেন, ত্বহা একাধিক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, এমনকি তার বেবিসিটার ও এক কলেজ জীবনের প্রেমিকার (বর্তমানে এয়ার হোস্টেস) সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সাবিকুন নাহার সারাহ এই এয়ার হোস্টেজ নারীর ছবিও প্রকাশ করেছেন।

একাধিক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রেমিকা

সাবিকুন নাহার সারাহ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ভক্তরা যেখানে তাকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন, তিনি মনে করেন এটি ‘সত্যের ওপর মিথ্যা ঢাকার’ চেষ্টা। তিনি লেখেন:

“আপনাদের উস্তাদ Abu Taw Haa Muhammad Adnan প্রেমে মজেছেন জারিন জেবিন নামক তার ১৫ বছর আগের কলেজ লাইফের প্রিয়তমা বর্তমান এয়ার হোস্টেসের।”

সাবিকুন নাহার সারাহ অভিযোগ করেন, ত্বহা নিয়মিত এই এয়ার হোস্টেসের সঙ্গে চ্যাট বক্সে ফিলিং আদান-প্রদানসহ ঘণ্টার পর ঘণ্টা তার ‘যিন্নুরাঈন সেন্টারে’ বসে ফোনে কথা বলতেন এবং অফিসরুমে সাক্ষাৎও করতেন।

তিনি ত্বহার কর্মকাণ্ডকে ‘নারী-পুরুষ অবাধ মেলামেশার বিশাল আয়োজন’ এবং ‘মেয়েদের সাথে একান্তে মিট করার কারখানা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

অবিবাহিত ও কাজের মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক

সাবিকুন নাহার সারাহ অভিযোগ করেন, শুধু এয়ার হোস্টেস নন, ত্বহা অন্য আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন:

বেবিসিটারের সঙ্গে যোগাযোগ: ত্বহা তার বেবির দেখাশোনার নাম করে কাজের মেয়ের সঙ্গে ১৮ মিনিট পর্যন্ত কথা বলেছেন এবং তাকে টাকা দিতেন। এই মেয়েটিকে তিনি ‘আমার মোহাব্বত, আমার পুরো কলিজাটা’—বলে মেসেজও দিয়েছিলেন বলে সারাহ দাবি করেন।

অন্যান্য নারী: এক ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ, এক আলেমা মেয়েকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি এবং আরও একাধিক মেয়ের সঙ্গে সিরাত প্রতিযোগিতা বা শিক্ষক নিয়োগের নামে কথা বলতেন।

মানসিক নির্যাতন ও সমাধানের পথ

সাবিকুন নাহার সারাহ বলেন, “আমি তার জন্য কি করিনি! ৫ বছরের সংসার জীবনে আজও তাকে আমি নতুন বরের মতো ট্রিট করি... তার কেন কারো প্রেম লাগবে, প্রেমিকা লাগবে!” তিনি বলেন:

“যে পুরুষের চোখে নতুন নারীর লিপ্সা, তার জন্য নিজ স্ত্রীর অগাধ ভালোবাসাই যন্ত্রণা।”

তিনি জানান, তিনি দুই বছর ধরে সমাধানে আসার চেষ্টা করলেও তাকে সাহায্য করা হয়নি। তিনি এই প্ল্যাটফর্মে এসেছেন, কারণ এটি ছাড়া ত্বহা কখনো শোধরাবেন না এবং সমস্যাও সমাধান হবে না। তিনি আল্লাহর কাছে কেবল তার পরকালের মুক্তি কামনা করেছেন।


এআই ভুয়া আইডি ও গুজব রুখতে সাধারণদের জন্য বিনামূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ আনছে ফেসবুক

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ১৯:১৫:৩১
এআই ভুয়া আইডি ও গুজব রুখতে সাধারণদের জন্য বিনামূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ আনছে ফেসবুক
ছবি : সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রোফাইল, ছবি, ভিডিও এবং বিভিন্ন গুজবের ছড়াছড়ি রোধে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ফেসবুকের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান মেটা। অনলাইন প্রতারণা ও বিভ্রান্তি দূর করতে প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্তকরণের লক্ষ্যে ফেসবুক সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একটি নতুন ‘ভেরিফায়েড ব্যাজ’ সেবা চালু করতে যাচ্ছে। প্রযুক্তিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মেটা জানিয়েছে, নতুন এই ভেরিফায়েড ব্যাজটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মেটার টাকার বিনিময়ে পাওয়া ‘মেটা ভেরিফায়েড’ সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই বিনা মূল্যের ব্যাজটি পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে একটি বিশেষ ভিডিও সেলফি যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যা অ্যাকাউন্টের প্রকৃত ছবি ও পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করবে যে ব্যবহারকারী একজন সত্যিকারের মানুষ। নতুন এই ব্যাজটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল, ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, বিভিন্ন গ্রুপ এবং ডেটিং প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত হবে। তবে মেটা স্পষ্ট করেছে যে, এই ব্যাজটি কেবল পরিচয়ের সত্যতা নির্দেশ করে, কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার গ্যারান্টি দেয় না; ফলে লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই সুবিধা পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীর বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে এবং অ্যাকাউন্টটিকে ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে হবে। পেইজ মালিক, প্রফেশনাল মোড চালুকৃত আইডি এবং ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। প্রাথমিকভাবে বিশ্বের নির্বাচিত কিছু দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ার পর ধাপে ধাপে অন্যান্য সব দেশের সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই ফিচারটি উন্মুক্ত করা হবে।

/আশিক


আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট ভারতে ব্লক, সাইবার আক্রমণের অভিযোগ

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ২০:২৪:৩২
আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট ভারতে ব্লক, সাইবার আক্রমণের অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্ট ভারতে নিষিদ্ধ (জিও-ব্লক) করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি ভারতীয় রাজনৈতিক দলের বট বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রমাণ হিসেবে নিজের পোস্টের সঙ্গে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পাঠানো নোটিশের একটি স্ক্রিনশটও যুক্ত করে দেন তিনি।

নিজের পোস্টে আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন, ভারতে আন্দোলনকারীদের মুক্তির আহ্বান জানিয়ে দেওয়া একটি পোস্ট ভারতীয় সীমানার ভেতর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া এক্স প্ল্যাটফর্মে তাকে লক্ষ্য করে একটি নির্দিষ্ট দল সাইবার আক্রমণের পাশাপাশি অশালীন ভাষায় গালাগাল করছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরে লেখেন, ‘গণতন্ত্র দেশে দেশে!’

তার পোস্টকৃত স্ক্রিনশটের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৭৯(৩)(বি) ধারার আওতায় দেশটির সরকার কিংবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক নোটিশের ভিত্তিতে মেটা (ফেসবুক) ওই নির্দিষ্ট পোস্টটির প্রবেশাধিকার ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ বা জিও-ব্লক করে দিয়েছে।

/আশিক


পবিত্র ভূমির সম্মান ক্ষুণ্ণ করার পরিণতি ভয়ংকর: মিজানুর রহমান আজহারী

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৯:৩৫:০৫
পবিত্র ভূমির সম্মান ক্ষুণ্ণ করার পরিণতি ভয়ংকর: মিজানুর রহমান আজহারী
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনায় হামলা এবং সেখানে অবস্থানরত নিরপরাধ ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। একই সঙ্গে পবিত্র এই দুই নগরীকে সব ধরনের অনিষ্ট ও বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আকুল প্রার্থনা জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় মিজানুর রহমান আজহারী এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

ফেসবুক পোস্টে মক্কা ও মদিনার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি লেখেন, “মক্কা ও মদিনা স্রেফ ভৌগোলিক কোনো স্থান নয়—এই দুই নগরী সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের স্পন্দন। পবিত্র এই ভূমিতে হামলা এবং নিরপরাধ ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত গভীর উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক।”

পবিত্র এই দুই নগরীর মর্যাদা রক্ষার ওপর জোর দিয়ে এই ইসলামী বক্তা আরও বলেন, “নিশ্চয়ই, আল্লাহর কাছে যে ভূমি বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত, তার পবিত্রতা ও সম্মান ক্ষুণ্ণ করার পরিণতি অত্যন্ত ভয়ংকর।”

বার্তার শেষাংশে কাবা শরিফের রবের কাছে সার্বিক সুরক্ষা চেয়ে মুনাজাতের সুরে তিনি লেখেন, ‘হে কাবার মালিক! মক্কা-মদিনাকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করো।’

/আশিক


শপথ নেওয়ার পরের দিনগুলোর বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ড. আসিফ নজরুল

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২০:১০:৫৬
শপথ নেওয়ার পরের দিনগুলোর বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ড. আসিফ নজরুল
ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালনের আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিষদ পোস্ট দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। গণঅভ্যুত্থানের পর উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরবর্তী সময়ের নানা সামাজিক ও মানসিক বাস্তবতা এবং প্রত্যক্ষ করা বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার বিবরণ ফুটে উঠেছে তাঁর এই লেখনীতে।

আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে ড. আসিফ নজরুল জানান, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণের পরও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের পুরোনো বাসাতেই অবস্থান করতে চেয়েছিলেন। তবে শপথ নিয়ে বাসায় ফেরার পরই পরিস্থিতি বদলে যায়; ভবনের নিচে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের চরম আতঙ্ক ও মনমরা অবস্থা এবং বাসায় স্বজন-পরিচিতদের দাবির চাপে প্রথম রাত থেকেই তিনি এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। বিশেষ করে পরদিন সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া স্থানীয় এক জেন-জি তরুণের চরম ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা তুলে ধরেন তিনি। ওই তরুণ ভবন থেকে পুলিশ অপসারণের আকুল ও কঠোর দাবি জানিয়ে পুলিশি দমনপীড়নের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দেয়। আন্দোলনের বিপরীত রাজনৈতিক আদর্শের পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও উক্ত তরুণের জুলাই বিপ্লবে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পুলিশের ওপর তার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ড. আসিফ নজরুলকে গভীরভাবে আলোড়িত ও বাকরুদ্ধ করে।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল লিখেছেন, এই ঘটনার পর তিনি অনুধাবন করেন যে গণঅভ্যুত্থানের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ও পুলিশের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করলে ফুলার রোডের আবাসিক এলাকায় অবস্থান করা আর সম্ভব নয়। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা রক্ষা এবং পরিবারের সম্মতি অর্জনের পর অবশেষে তিনি ফুলার রোডের মায়া ত্যাগ করে মন্ত্রিপাড়ার সরকারি বাসভবনে স্থানান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

/আশিক


মেটার নতুন এআই অ্যাপে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন সুবিধা

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৫ ২১:৫৩:২০
মেটার নতুন এআই অ্যাপে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন সুবিধা
ছবি : সংগৃহীত

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অডিয়েন্স বৃদ্ধি এবং ফলোয়ারদের সাথে যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর করতে ‘ক্রিয়েটর স্টুডিও’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন স্বতন্ত্র অ্যাপ উন্মুক্ত করেছে ফেসবুক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত এই প্ল্যাটফর্মটি প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্ব শেষ করে আপাতত আইওএস (অ্যাপল) ব্যবহারকারীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।

টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্রতিযোগী প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমাতে এবং কনটেন্ট আইডিয়া বা পারফরম্যান্স বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটির মতো বাইরের এআই টুলের ওপর ক্রিয়েটরদের নির্ভরশীলতা দূর করতেই মেটা এই সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে।

নতুন এই অ্যাপটিতে ফেসবুক যুক্ত করেছে নিজস্ব ‘এআই ক্রিয়েটর অ্যাসিস্ট্যান্ট’। এই সুবিধাটি প্রতিটি ক্রিয়েটরের কাজের ধরণ, কনটেন্টের গতিপ্রকৃতি, লক্ষ্য ও দর্শকদের পছন্দ সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। কখন পোস্ট দিলে বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব, দর্শকরা মন্তব্যে কী প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন কিংবা কোন ভিডিওটি ভালো পারফর্ম করছে—এসব বিষয়ে সরাসরি এআইয়ের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর চালানো যাবে।

পাশাপাশি কমেন্ট ব্যবস্থাপনায় এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় সুবিধা। এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যগুলোকে বাছাই করে দেবে এবং ক্রিয়েটরের নিজস্ব লেখার স্টাইল অনুযায়ী খসড়া উত্তর তৈরি করে রাখবে। তবে মন্তব্যটি প্রকাশের আগে তা যাচাই, সম্পাদনা কিংবা বাতিল করার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ক্রিয়েটরের হাতেই থাকবে।

প্রতিদিন অ্যাপটিতে প্রবেশের পর ক্রিয়েটররা তাদের করণীয় জরুরি কাজের একটি তালিকা বা টু-ডু লিস্ট দেখতে পাবেন; যেখানে বিগত পোস্টের এনগেজমেন্ট, নির্ধারিত লক্ষ্যের অগ্রগতি এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যের তালিকা ক্রমানুসারে সাজানো থাকবে। প্রাথমিক ধাপে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ক্রিয়েটররা অ্যাপটি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।

সম্প্রতি মেটা কেবল এই অ্যাপই নয়, আরও বেশ কিছু স্বতন্ত্র অ্যাপ উন্মোচন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক গ্রুপের জন্য রেডিট আদলের অ্যাপ ‘ফোরাম’, বন্ধুদের মাঝে ছবি আদান-প্রদানের জন্য ‘ইনস্ট্যান্টস’, গেমিংভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘পকেট’ এবং শিশুদের জন্য এআই দিয়ে গল্প বানানোর অ্যাপ ‘স্টোরিকিট’।

সূত্র: টেক ক্রাঞ্চ


ডিজিটাল সেবা সত্ত্বেও কেন দালাল ধরে লাইসেন্স পেতে হয়, প্রশ্ন জাইমা রহমানের

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১৯:৩৬:২২
ডিজিটাল সেবা সত্ত্বেও কেন দালাল ধরে লাইসেন্স পেতে হয়, প্রশ্ন জাইমা রহমানের
ছবি : সংগৃহীত

বিআরটিএ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের সড়কব্যবস্থা ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার সার্বিক চিত্র তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। ডিজিটাল প্রক্রিয়া সত্ত্বেও কেন সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয় এবং সাধারণ মানুষ কেন দালালের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হন—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে শৈশবের খেলনা গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে থাকা একটি ছবি যুক্ত করে এই পোস্ট দেন জাইমা রহমান। এতে তিনি জানান, দশ বছর আগে লন্ডনে প্রথম ড্রাইভিং টেস্ট দেওয়ার পর সম্প্রতি বাংলাদেশে জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা পদ্ধতির পার্থক্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল লাইসেন্স পাওয়া নয়, বাংলাদেশের সড়ক ব্যবহারের সামগ্রিক পরিবেশ এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ঘাটতিগুলো তাঁকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে।

দেশের তরুণ ও সাধারণ চালকদের মৌলিক ক্ষোভের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে জাইমা রহমান লিখেন, নাগরিক হিসেবে সবাই নিয়ম মেনে চলতে চাইলেও সড়কব্যবস্থা নিরাপদ বা অনুমানযোগ্য নয়। পর্যাপ্ত পারাপারের সুবিধা ছাড়া দ্রুতগতির পথ পার হওয়া, হঠাৎ শেষ হয়ে যাওয়া ফুটপাত কিংবা অনিয়ন্ত্রিত গতিতে চলা বাস-রিকশা-মোটরসাইকেলের মাঝেই চালক ও পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। বাস বা গাড়ির ফিটনেস এবং চালকের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ আছে কি না, তা নিয়ে যাত্রী বা সাধারণ চালকদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

বিআরটিএর ডিজিটাল সেবা উদ্যোগের প্রশংসা করলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীকন্যা। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রক্রিয়া তখনই সার্থক হয়, যখন তা মানুষের ভোগান্তি কমায়। কিন্তু সেবা অনলাইনে শুরু হলেও সমাধানের জন্য যদি শেষ পর্যন্ত অফিসে যেতে হয়, তবে তা লেনদেন বা ঘুষের নতুন সুযোগ তৈরি করে। এ ছাড়া, জটিল প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ মানুষ দুর্নীতির পথ বেছে নিতে বাধ্য হন, যা বর্তমানে কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা না হয়ে একটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।

সড়কে আইন প্রয়োগের বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ম ভঙ্গ করা গাড়ি বা বেপরোয়া চালনা দেখে নতুন চালকরা হতাশ হন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলেন। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের তরুণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ইতিহাস টেনে জাইমা রহমান বলেন, প্রায় আট বছর পার হয়ে গেলেও আন্দোলনকারীদের তুলে ধরা উদ্বেগগুলো এখনও সমাধান হয়নি।

সড়ক নিরাপত্তাকে শুধু লাইসেন্স, ফিটনেস বা শাস্তির ফ্রেমে না দেখে সাধারণ মানুষ—যেমন শিক্ষার্থী, নারী, ডেলিভারি রাইডার বা বাসচালকের দৈনন্দিন চাহিদার আলোকে দেখার আহ্বান জানান তিনি। জাইমা রহমান জোর দিয়ে বলেন, আইন প্রয়োগকে ন্যায্য করা, হয়রানি ছাড়া অভিযোগ জানানোর পরিবেশ তৈরি করা এবং সংযোগ বা প্রভাব না থাকলেও সবার জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। সর্বোপরি, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পুরো ভাবনার কাঠামোটিকেই নতুন করে সাজাতে হবে।

/আশিক


১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ফেসবুকে নতুন অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন পদ্ধতি

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ২০:২৬:১৭
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ফেসবুকে নতুন অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন পদ্ধতি
ছবি : সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ার বর্তমান সময়ে নিজের আসল অস্তিত্ব প্রমাণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুক মার্কেটপ্লেস বা বিভিন্ন গ্রুপে এখন এমন অনেক অ্যাকাউন্ট দেখা যায়, যেগুলোর ছবি অস্বাভাবিক নিখুঁত এবং বিক্রেতার আচরণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাটবটের মতো। এই ধরনের ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও অনলাইনের প্রতারণা ঠেকাতে এবার নতুন ভিডিও সেলফি ভেরিফিকেশন প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে মেটা।

মেটার এই বিশেষ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো ফেসবুক ব্যবহারকারী সত্যি কোনো প্রকৃত মানুষ কি না, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা। এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্টটির পেছনে একজন জীবিত মানুষ আছেন কি না এবং তিনি কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে স্ক্যাম করছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই স্বয়ংক্রিয় পরিচয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ব্যবহারকারীকে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও সেলফি রেকর্ড করতে হয়। এরপর মেটার উন্নত এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই ভিডিওর মুখের অবয়ব প্রোফাইলের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে কোনো প্রতারণা বা জালিয়াতির রেকর্ড আছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হয়।

মেটা কর্তৃপক্ষের তৈরি এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি মূলত মার্কেটপ্লেস, ফেসবুক ডেটিং এবং বিভিন্ন গ্রুপে স্ক্যাম বা প্রতারণা কমানোর লক্ষ্যেই বিশেষভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। আপাতত ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাইয়ে এই সুবিধা বা নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।

অনলাইন প্রতারণা কমাতে এই উদ্যোগ সহায়ক হলেও অনেকের মনে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীকে তাদের সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে দিতে হচ্ছে। যদিও মেটা দাবি করেছে, যাচাইকরণ শেষে এসব ডেটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সুরক্ষিত রাখা বা মুছে ফেলা হয়।

পদ্ধতিটি আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন ধাপে রোলআউট করা হচ্ছে। মেটার মতে, এটি প্রযুক্তি বাজারের নিরাপত্তার মানদণ্ড বাড়াতে সাহায্য করবে, যার ফলে ভবিষ্যতে ফেসিয়াল ভেরিফিকেশনহীন বা ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে সহজেই শনাক্তযোগ্য ও সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হবে।

/আশিক


এমপি গাজী নজরুলকে আরও ২টি বিয়ে করার পরামর্শ দিলেন রফিক উল্লাহ আফসারী

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ২০:০১:৩০
এমপি গাজী নজরুলকে আরও ২টি বিয়ে করার পরামর্শ দিলেন রফিক উল্লাহ আফসারী
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ফাঁস হওয়া অন্তরঙ্গ ভিডিও এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ও সমালোচনা করেছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা রফিক উল্লাহ আফসারী। একই সঙ্গে তিনি এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও দুটি বিয়ে করার প্রকাশ্য পরামর্শ দিয়েছেন।

গত সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজস্ব এক ভিডিও বার্তায় এসব চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন এই ধর্মীয় বক্তা।

ভিডিও বার্তায় মাওলানা রফিক উল্লাহ আফসারী বলেন, "উচিত হচ্ছে আমার গাজী নজরুল ইসলাম ভাইয়ের আরও দুইটা বিয়ে করা। এটা হালাল জিনিস, এতে লজ্জার বা শরমের কিছু নেই। কিন্তু যারা স্বামী-স্ত্রীর এ ধরনের ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল করছেন, তাদের একদিন হাশরের ময়দানে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।"

বক্তব্যে ইসলামের সাহাবিদের বৈবাহিক জীবনের নানা ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক ভালোবাসা ও আন্তরিকতা ইসলামের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও পবিত্র শিক্ষা। বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার একদমই ব্যক্তিগত মুহূর্তের গোপন ভিডিও অন্যায়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা বা বিব্রত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বা নীতিসম্মত কাজ হতে পারে না বলে তিনি জোর দাবি করেন।

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করে মাওলানা আফসারী আরও বলেন, "গাজী নজরুল ইসলাম ভাই, সাতক্ষীরা শহরের সম্মানিত এমপি, একামতে দ্বিনের অতন্দ্র প্রহরী এবং কোটি কোটি তৌহিদী মুসলমানের কলিজার টুকরা। তাদের স্বামী-স্ত্রীর ভেতরের ভিডিও ভাইরাল করে আপনারা ঠিক কী ধরনের শান্তি পেলেন?"

একই সাথে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন এটি বিরাট কোনো অপরাধ। যারা এসব চরিত্রহননের অপকর্মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের আল্লাহর দরবারে কঠোর শান্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করে দেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তের মধ্যেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ: শফিকুল আলম

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ২১:৫৩:৪৪
শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ: শফিকুল আলম
ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতি ও গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারপোল তাকে সফলভাবে শনাক্ত করার পর এই পদক্ষেপ নেয়। ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ‘শাপলার কসাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ইংরেজিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘দ্য বুচার অব শাপলা ইজ ডান!! নেক্সট ইন লাইন...!!’ যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, ‘শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ!! এবার পরবর্তী জনের পালা...!’

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়েছিল। সেই আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইলের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন থাকা গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার সময় তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ও মূল কমান্ডিং দায়িত্বে ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় শাপলা চত্বরের ঘটনার জেরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে সর্বমোট ৫৮টি মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে, যার অন্যতম প্রধান হুকুমদাতা ও অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন বেনজীর আহমেদ।

এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের এবং পরিবারের নামে গড়ে তোলা তাঁর বিশাল অবৈধ সম্পদ ও নজিরবিহীন দুর্নীতির তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কর্তৃক ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। সাবেক এই প্রভাবশালী পুলিশ প্রধানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচারের পথ এখন আরও বেশি সুগম হলো বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী ও নিহতের পরিবারগুলো।

/আশিক

পাঠকের মতামত: