এর চেয়েও বহুগুণ বিকট আওয়াজ তোমাকে দিশেহারা করার অপেক্ষায়: আজহারী

রাষ্ট্রীয় শোক আর পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজধানীর আকাশ যখন আতশবাজির ঝলকানিতে রঙিন, ঠিক তখনই পরকালের ভয়ংকর আগুনের স্মারক মনে করিয়ে দিলেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি থার্টি ফার্স্ট নাইটের এই বিকট উল্লাস নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তাঁর এই পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ড. আজহারী তাঁর পোস্টে লিখেছেন—যে বিকট শব্দ আর আগুনের ঝলকানি মানুষকে আজ উল্লাসে মাতাচ্ছে, এর চেয়েও বহুগুণ বিকট আওয়াজ আর তীব্র আগুন পরকালে মানুষকে দিশেহারা করার অপেক্ষায় রয়েছে। মানুষের এই ক্ষণস্থায়ী উন্মাদনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “তবুও তুমি বুঝবে না?” তাঁর এই বার্তাটি এমন এক সময়ে এল যখন রাজধানীর অসুস্থ রোগী এবং ছোট শিশুরা পটকার বিকট শব্দে চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে সময় পার করছিল।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক অভিভাবক তাঁদের শিশু সন্তানদের কান্নাকাটি আর আতঙ্কের কথা শেয়ার করেছেন। বিশেষ করে হাসপাতালে থাকা হৃদরোগী ও বয়স্কদের জন্য এই উচ্চশব্দ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নিয়ে অনেক অসহায় মানুষ নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ডিএমপির পক্ষ থেকে ফানুস ও পটকা ফাটানোয় স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা কার্যকর না হওয়ায় অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ড. আজহারীর এই আধ্যাত্মিক সতর্কবার্তা ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিবেক জাগ্রত করার এক বিশেষ ডাক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কুচক্রী মহল থেকে সাবধান: ফেসবুক পোস্টে জরুরি বার্তা দিলেন আজহারি
বর্তমান সময়ের আলোচিত ও জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারি তাঁর নাম, ছবি এবং কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে চালানো সুসংগঠিত ডিজিটাল প্রতারণার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও জরুরি এক সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দেশের ভেতরে ও দেশের বাইরে থেকে সক্রিয় থাকা বিভিন্ন কুচক্রী প্রতারক মহলের বিরুদ্ধে এই ‘ফাইনাল ওয়ার্নিং’ বা চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আজহারি অভিযোগ করেছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর কণ্ঠস্বর বা ‘ভয়েস ক্লোন’ (AI Voice Cloning) করা হচ্ছে এবং তাঁর ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নানা ধরণের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে মূলত সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
ড. আজহারি তাঁর পোস্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই প্রতারক চক্রগুলো ওষুধি পণ্য এবং বিভিন্ন ধরণের ভুয়া বিউটি বা হেলথ প্রোডাক্ট প্রমোশনে তাঁর কৃত্রিমভাবে তৈরি কণ্ঠস্বর ও ছবি ব্যবহার করছে। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত অবৈজ্ঞানিক ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনে তাঁর সম্পৃক্ততা দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির এই অপব্যবহার সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন না, এমন অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষ এসব বিজ্ঞাপন দেখে আর্থিকভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। এর ফলে কেবল সাধারণ মানুষের ক্ষতিই হচ্ছে না, বরং এই ইসলামি বক্তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং তাঁর প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও আস্থাও চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, এ ধরণের কোনো বাণিজ্যিক পণ্য বা ওষুধের প্রচারণার সঙ্গে তাঁর বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই।
এই জালিয়াতির প্রভাব ড. আজহারির প্রতিষ্ঠিত ‘হাসানাহ ফাউন্ডেশন’ (Hasanah Foundation)-এর ওপরও পড়েছে বলে জানা গেছে। আজহারি উল্লেখ করেছেন যে, এসব ভুয়া পণ্য বা ওষুধের ব্যাপারে খোঁজ নিতে প্রতিদিন অগণিত মানুষ ফাউন্ডেশনের অফিশিয়াল নাম্বারে ফোন করছেন। এর ফলে ফাউন্ডেশনের দৈনন্দিন দাপ্তরিক ও সেবামূলক কার্যক্রমে চরম বিঘ্ন ঘটছে। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে কোনো পণ্য বিক্রির চেষ্টা করা হলে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং এটি জালিয়াতির অংশ। ইতোমধ্যে তাঁর টিম এই ধরণের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বিভিন্ন মিডিয়া ও ফেসবুক পেজগুলোর একটি বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করেছে। এই তালিকাটি অতি দ্রুত পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে পাঠানো হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশ বা বিদেশের যেকোনো স্থান থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
পরিশেষে, ড. মিজানুর রহমান আজহারি তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে তারা কোনো বিজ্ঞাপন দেখে সহজেই বিভ্রান্ত না হন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, যেকোনো প্রচারণার সত্যতা যাচাই করতে হলে যেন তাঁর অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া সোর্সগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রতারকদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যদি অনতিবিলম্বে এসব কন্টেন্ট রিমুভ না করা হয়, তবে তিনি আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বাধ্য হবেন। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, যারা এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন করছেন, আল্লাহ যেন তাদের মেধাকে হালাল ও পজিটিভ কাজে ব্যবহার করে রিজিক অন্বেষণের তাওফিক দান করেন। ভক্তদের সুবিধার্থে তিনি তাঁর পোস্টে সবকটি অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মের লিংকও সংযুক্ত করে দিয়েছেন।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা সংবাদপত্রের ওপর আঘাত: শশী থারুর
বাংলাদেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের লোকসভা সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শশী থারুর। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাকে বহুমাত্রিক সমাজের ভিত্তির ওপর চরম আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেন। বিশেষ করে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে পরিকল্পিত হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি তাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শশী থারুর তার পোস্টে সম্পাদক মাহ্ফুজ আনামসহ অন্যান্য সাহসী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন যে সংবাদকর্মীদের জীবন বাঁচাতে মরিয়া হয়ে বার্তা দিতে হবে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি মনে করেন যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরণের সংঘাত ও অসহিষ্ণুতার পরিবেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি অত্যন্ত অশুভ সংকেত। থারুর স্পষ্ট জানিয়েছেন যে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং উগ্র জনতার শাসনের বদলে গঠনমূলক সংলাপের পথ বেছে নিতে হবে।
বাংলাদেশের অরাজক পরিস্থিতির প্রভাবে খুলনা ও রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ভিসা পরিষেবা স্থগিত হওয়াকে তিনি একটি বড় বিপত্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর ফলে দুই দেশের সাধারণ শিক্ষার্থী, রোগী এবং যারা জরুরি প্রয়োজনে সীমান্ত পার হতে চেয়েছিলেন তারা চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। থারুরের মতে কূটনৈতিক মিশনগুলোকে অবশ্যই নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে সুরক্ষা দিতে হবে এবং আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা দূতাবাসগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা অন্তর্বর্তী সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে শশী থারুর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ব্যক্তিগতভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা কেবল দেশটির নিজস্ব বিষয় নয় বরং এটি পুরো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের কণ্ঠস্বর যেন কোনো সহিংসতা বা হুমকির মুখে চাপা না পড়ে এবং ব্যালটের মাধ্যমে প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরির প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তার বক্তব্য শেষ করেন এই জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতা।
হাদির মৃত্যুতে শায়খ আহমাদুল্লাহ ও আজহারীর আবেগঘন বার্তা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় দুই ইসলামী আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ ও মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা পৃথক শোকবার্তা প্রকাশ করেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
জনপ্রিয় আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ তার শোকবার্তায় হাদিকে ‘বিপ্লবী’ আখ্যা দিয়ে তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে হাদির যে অকুতোভয় সাহসিকতা ছিল, তা থেকে যেন তরুণ প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হতে পারে এবং আল্লাহ যেন সবাইকে সেই তৌফিক দান করেন।
অন্যদিকে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী তার প্রতিক্রিয়ায় হাদিকে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের দুই আইকন আবরার ফাহাদ ও আবু সাঈদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি আবেগঘন বার্তায় মন্তব্য করেন, আবরার ফাহাদ ও আবু সাঈদের কাতারে এবার যুক্ত হলেন ওসমান হাদি। আজহারী হাদির আত্মত্যাগ কবুল করে তাকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান এবং জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করার জন্য দোয়া করেন। উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হন এবং বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার এই অকাল মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোক ও প্রতিবাদের আবহ তৈরি হয়েছে।
"আইআরআই ঐতিহাসিকভাবে ভ্রান্ত ডাটা দিয়েছে"

জিয়া হাসান
অর্থনীতিবিদ ও লেখক
আইআরআই–এর সার্ভের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে—এই সার্ভেতে কোন দলকে ভোট দেবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্তহীন বা বলতে অনিচ্ছুক মানুষের সংখ্যা মাত্র ২২%। অন্যদিকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি/মার্চ ও জুলাই মাসে করা ইনোভিশন কনসাল্টিং–এর দুইটি সার্ভে এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ গভর্ন্যান্স–এর অক্টোবর ’২৪ ও ২০২৫-এর জুলাই মাসে করা মোট চারটি সার্ভেতে ‘বলতে অনিচ্ছুক’ ও ‘সিদ্ধান্ত নেয়নি’—এমন ব্যক্তির সংখ্যা ৫০%–এর উপরে ছিল। ইনোভিশন ও বিআইজিডি সার্ভের একটি শক্ত ভ্যালিডিটি হলো—দুইটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করা চারটি ভিন্ন সার্ভের মূল অনুসিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত কনসিস্টেন্ট।
কিন্তু এই বছর সেপ্টেম্বর–অক্টোবরের আইআরআই সার্ভের সিদ্ধান্তগুলো বিআইজিডি ও ইনোভিশনের ফলাফলের সাথে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাত্র তিন মাসের মধ্যে বলতে অনিচ্ছুক/সিদ্ধান্তহীন মানুষের সংখ্যা ৫০%–এর বেশি থেকে ২২%–এ নেমে এসেছে—এর সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত।আমি ও তৌকির ইনোভিশনের সর্বশেষ সার্ভেটি খুব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে কিছু সিরিয়াস ফাইন্ডিং পেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা সেটি প্রকাশ করিনি—কারণ সার্ভের উত্তরগুলো অনেক জায়গায় নিজেদের সাথে কনট্রাডিক্ট করছিল।
এক পর্যায়ে আমাদের মনে হয়েছে, এটি অত্যন্ত জটিল একটি সার্ভে, এবং এত বেশি প্রশ্ন করা হয়েছে যে উত্তরদাতাদের ফ্যাটিগ আসা একদম স্বাভাবিক। ফলে সার্ভেটি জেনারেলি কনসিস্টেন্ট হলেও, আমি ইনোভিশনের ফাইন্ডিংস থেকে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি। এবং যে সার্ভেতে ৫০% মানুষের সিদ্ধান্ত জানা নেই, এবং যার ডাটা–কালেকশনের ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগ–ওয়ারি, সেই সার্ভে থেকে ন্যাশনাল ইলেকশন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না—এটাই আমাদের অবস্থান।
তবে ইনোভিশন ও বিআইজিডির উভয়ের ডাটার কনসিস্টেন্সি দেখে আমরা বুঝতে পারি—তাদের ডাটা–কালেকশন ভালো এবং ডিরেকশনালি কারেক্ট, কিন্তু সেখান থেকে কোনোভাবেই কনস্টিটুয়েন্সি–লেভেলের রেজাল্ট অনুমান করা যায় না। অন্যদিকে আইআরআই–কে নিয়ে আমার সন্দেহ হচ্ছে ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক’ ও ‘সিদ্ধান্ত নেয়নি’—এই ক্যাটাগরির পরিমাণ নিয়ে। পরপর চারটি সার্ভের তুলনায় এই সংখ্যাটি এত বেশি ভিন্ন যে—এটা থেকে কোনো সিদ্ধান্তেই পৌঁছানো যাবে না।
দ্বিতীয়ত, আইআরআই ঐতিহাসিকভাবে ভ্রান্ত ডাটা দিয়েছে। মনে পড়ে, ২০১৩ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনের আগে আইআরআই শেখ হাসিনার ৭০% এপ্রুভাল রেটিং দেখিয়েছিল। উভয় সময়ই আওয়ামী লীগ আইআরআই–এর এই এপ্রুভাল রেটিং ব্যবহার করে ডিপ্লোম্যাটদের মধ্যে ক্যাম্পেইন চালিয়েছে—অবৈধ নির্বাচনের বৈধতা প্রতিষ্ঠার জন্য। আরাফাত রা টক শোতে টুইটারে আইআরএর সার্ভের রেজাল্ট দিয়ে দেখায় যে, নির্বাচন না হইলেও দেশের মানুষ হাসিনাকে চায়। ২০২৩ সালের সার্ভের পর আমরা কয়েকজন আইআরআই–কে যাতা দিয়ে ধরেছিলাম। আমার যতদূর মনে পড়ে, আইআরআই সার্ভে কারা করেছে—তাদের পরিচয় রিসার্চ করে দেখা যায়, তারা প্রচণ্ডভাবে আওয়ামী–ব্যাকড ইন্টেলিজেনসিয়া।
জুলকারনাইন সায়ের এ বিষয়ে বহু এভিডেন্স ছিল—যা নিয়ে টুইটারে বড় বিতর্ক হয়েছিল। জেফ্রি ম্যাকডোনাল্ডসকে একসময় বেশ ডিফেন্সিভ হতে হয়েছিল। বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে প্রফেশনাল সার্ভে হওয়া—এটা গণতন্ত্র ম্যাচিউর হওয়ার একটি ভালো লক্ষণ। কিন্তু এই সার্ভেগুলোর মেথডোলজি, আউটকাম, কনসিস্টেন্সি ও ভ্যালিডিটি নিয়ে আমাদের নিয়মিত প্রশ্ন করতে হবে।
কম্প্রোমাইজড হওয়ার ঐতিহাসিক এভিডেন্স এবং বিআইজিডি ও ইনোভিশন সার্ভের সাথে ইনকনসিস্টেন্সির কারণে আইআরআই সার্ভের উপর আমার আস্থা মাত্র ১১%। ১১% দিয়েছি শুধু কিছু দিতে হয় বলে। এনজিওগুলো বিদেশ থেকে টাকা আনছে, খরচ করছে—দেশের মন্দা অবস্থায় জিডিপিতে ব্যয় হচ্ছে—সেইটার একটু ক্রেডিট দিলাম।
আমরা কি ক্যাডারভিত্তিক সিস্টেম চাই, নাকি খোলা, প্রতিযোগিতামূলক গণতন্ত্র চাই?

আসিফ বিন আলী
শিক্ষক ও স্বাধীন সাংবাদিক
রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামি, ইসলামি ব্যাংক, ইবনে সিনা হাসপাতালসহ প্রায় ২০০-র বেশি ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে এবং নিয়ন্ত্রণ করছে। জামাত এটাকে তাদের বিশাল সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে। বাস্তবে বিষয়টা গণতন্ত্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি। কোনো রাজনৈতিক দল যখন ব্যাংক বা হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, “সেবা”র নামে সেখানে নিজের ক্যাডারদের চাকরি দেয়, আর নির্বাচনী রাজনীতিতে সেই নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করে, তখন তা আসলে গণতন্ত্র ও প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর হয়। জামাত মুখে “সৎ মানুষের রাজনীতি”র কথা বললেও, এই প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা ও লাভজনক করার জন্য ২০০১–২০০৬ সালে ক্ষমতায় থাকার সময় যে ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, এবং ৫ আগস্টের পরে যেভাবে আবার নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত করেছে, তা নিয়ে দুদকের তদন্ত হওয়া দরকার। কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা দেশের গণতন্ত্রের জন্য মোটেও শুভ নয়, যদিও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির জন্য এটি খুবই লাভজনক। প্রশ্নটা সোজা: আমরা কি ক্যাডারভিত্তিক সিস্টেম চাই, নাকি খোলা, প্রতিযোগিতামূলক গণতন্ত্র চাই, যেখানে ব্যাংক ও হাসপাতাল জনগণের, কোনো দলের নয়।
ঘন ঘন ভূমিকম্প নিয়ে আহমাদুল্লাহর জরুরি সতর্কবার্তা
জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন ঘন ঘন ভূমিকম্প শুধু ভূতাত্ত্বিক নড়াচড়ার ফল নয় বরং এটি আমাদের জন্য একটি গভীর সতর্কবার্তা। তিনি মন্তব্য করেন যে ভূমিকম্পের ঝুঁকির বিপরীতে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি একেবারেই অপ্রতুল। সোমবার ২৪ নভেম্বর ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমাদুল্লাহ বলেন বড় কোনো বিপদ আসন্ন থাকতে পারে যা আমরা এখনো জানি না। এই সময় তাওবার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবিক প্রস্তুতি গ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন যে আমরা এমন এক ভৌগোলিক এলাকায় বসবাস করি যেখানে জনঘনত্ব ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন এখানে প্রতিটি অট্টালিকা যেন একেকটি সম্ভাব্য সমাধিসৌধ। তিনি বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন যে ঢাকায় যদি ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে তাহলে এক লক্ষের বেশি ভবন ধসে যেতে পারে যা অত্যন্ত ভীতিজাগানিয়া।
রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন দুঃখজনক হলো এমন ভয়াবহ ঝুঁকির বিপরীতে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি একেবারেই অপ্রতুল। আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকর্মীর সংখ্যা নগণ্য এবং বড় ধরনের উদ্ধারযুদ্ধ চালানোর মতো ভারী যন্ত্রপাতিও অপর্যাপ্ত। তিনি আক্ষেপ করে বলেন অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সীমিত সক্ষমতা দিয়ে হাজার হাজার ভগ্ন স্থাপনা সামলানো কেবলই কল্পনা। অথচ বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তন ভাস্কর্য নির্মাণ বা অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্পেই নয় বরং নেতা নেত্রীদের জন্য তোরণ নির্মাণ রাজনৈতিক সভা সমাবেশ শোভাযাত্রা ও ক্ষমতার প্রদর্শনীতেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যে অপচয় ঘটে তা এই অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের কাঠামোকে আরও প্রসারিত করে তোলে। তাঁর মতে সেই অর্থের সামান্য অংশও যদি দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও উদ্ধার সরঞ্জামে ব্যয় করা হতো তবে সেটিই হতো সবচেয়ে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।
তবে কেবল রাষ্ট্রকে দায়ী না করে তিনি সাধারণ মানুষের দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন আমরা যারা বাড়ি নির্মাণ করি তারা সামান্য আর্থিক লাভ বা অদূরদর্শিতার বশবর্তী হয়ে নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করি। প্রকৌশলীদের পরামর্শকে তুচ্ছজ্ঞান করে আমরা নিজ হাতে তৈরি করি আমাদের প্রিয়জনদের জন্য মৃত্যুফাঁদ। তিনি প্রশ্ন রাখেন এটি কি একপ্রকার সামাজিক আত্মহত্যা নয়। বিপর্যয় পরবর্তী বিলাপের চেয়ে বিপর্যয়রোধী প্রস্তুতিই বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল মানুষের কাজ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রের করণীয় সম্পর্কে তিনি পরামর্শ দেন যে এখনই একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। উদ্ধারকাজ চিকিৎসা জরুরি আশ্রয় খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণসহ সবকিছু নিয়ে একটি সুস্পষ্ট জাতীয় রোডম্যাপ তৈরি করা জরুরি। শায়খ আহমাদুল্লাহ জাগতিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে বলেন আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তিনি বলেন প্রতিটি দুর্যোগ আমাদের প্রতি সতর্কবার্তা তাই আমাদের সমাজের বিস্তৃত দুর্নীতি জুলুম ও অশ্লীলতা থেকে গণতাওবা করা জরুরি।
শিক্ষক হয়ে গালিগালাজ করায় হাদির কড়া সমালোচনা করলেন নীলা
আগামী জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা ৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শরিফ ওসমান হাদি এবং তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি নিজের প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি ঘোষণা দেন যে তাঁর এলাকার ৫০০০ শিক্ষার্থীকে বিনা পয়সায় ইংরেজি শেখাবেন। তবে তাঁর এই জনহিতকর ঘোষণা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তুমুল সমালোচনাও শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে সাবেক এনসিপি নেত্রী নীলা ইসরাফিল এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন যে শিক্ষকের মুখের ভাষা এতো খারাপ সে জাতিকে কী শেখাবে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ফেসবুকে হাদির ফ্রিতে পড়ানোর ঘোষণার ভিডিওর একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে নীলা ইসরাফিল লিখেছেন যে শিক্ষকের মুখের ভাষাই এত নোংরা সে জাতিকে কী শেখাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে হাদির নিজে মানুষ হবার শিক্ষা নেই কিন্তু তিনি এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
নীলা ইসরাফিল দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন দেশের ট্র্যাজেডি এখানেই যে অশিক্ষিত আচরণই যেখানে যোগ্যতার মাপকাঠি সেখানেই ক্ষমতার চাবি সবচেয়ে নোংরা হাতে চলে যায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সংসদে বসে নীতি ঠিক করবেন এমন ব্যক্তি যিনি নিজের জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। তিনি আরও যোগ করেন যে শিক্ষকতার মতো পবিত্র জায়গায় দাঁড়িয়ে গালিগালাজকে পাঠ্যবই বানায় তার রাজনীতি যে কতটা নোংরা হবে তা হিসাব করার জন্য কারও গণিত জানার দরকার পড়ে না।
ঢাকায় লাশের মিছিল হতে পারত বলে ভূমিকম্প নিয়ে শঙ্কার কথা জানালেন আজহারী
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে শুক্রবার ২১ নভেম্বর সকালে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। নরসিংদীর মাধবদী থেকে উৎপত্তি হওয়া কয়েক সেকেন্ডের সেই কম্পনে দিশেহারা হয়ে পড়েন নগরবাসী। এমন পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন ও আত্মসমালোচনামূলক পোস্ট দিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী।
শুক্রবার রাতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন ভূমিকম্পের সময় বিল্ডিং দুলে ওঠায় কয়েক মুহূর্তের জন্য তিনি একেবারে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং আতঙ্কে তাঁর বুক কেঁপে উঠেছিল। তিনি মনে করেন যদি আরও কয়েক সেকেন্ড জোরে ঝাঁকুনি হতো তবে ঢাকায় হয়তো লাশের মিছিল হতে পারত। তাঁর মতে তখন নিমেষেই গোটা শহর পরিণত হতো নিস্তব্ধ এক গোরস্থানে কিন্তু দয়াময় আল্লাহ এই যাত্রায় সবাইকে রক্ষা করেছেন।
মিজানুর রহমান আজহারী ঢাকার বর্তমান অবস্থার সমালোচনা করে লেখেন এমন অপরিকল্পিত নগরী সারি সারি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং দুর্বল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আল্লাহর দয়া ছাড়া বাঁচার কোনো উপায় নেই। তিনি মন্তব্য করেন যে এই দুর্যোগগুলো মানুষের জন্য গভীর সতর্কবার্তা। গোটা জনপদবাসীকে সামান্য এক ঝাঁকুনি দিয়ে আল্লাহ রিমাইন্ডার বা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন এবং বোঝাতে চাচ্ছেন যে মানুষ যতই বাড়াবাড়ি বা সীমালঙ্ঘন করুক না কেন নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতেই। তিনি চাইলে যেকোনো মুহূর্তে সবাইকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারেন এবং তছনছ করে দিতে পারেন এই চোখ ধাঁধানো সভ্যতা।
কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। আসলে ভূমিকম্প মানুষের অহংকার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে আসে এবং মানুষের অক্ষমতা দেখিয়ে দিতে আসে। এটি প্রমাণ করে যে মহাশক্তিধর আল্লাহর সামনে মানুষ কতটা অসহায় ও নিরুপায়। জুমার দিনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন অনেকে অনেক পরিকল্পনা নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছিল কিন্তু এখন তারা না ফেরার দেশে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন মৃত্যু জীবনের পরিকল্পনায় থাকে না অথচ মৃত্যুর নির্ধারিত সময় আসলে সব ব্যস্ততা শেষ হয়ে যাবে।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি সবাইকে সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন কার মৃত্যু কখন কীভাবে আসবে সেটা কেউ জানে না তাই সবার উচিত তওবা করে রবের কাছে ফিরে আসা এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁর কাছে সমর্পিত হওয়া। সবশেষে তিনি সূরা আল ওয়াকিয়াহর ৪ থেকে ৬ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন আসল ভূমিকম্প তো সেটাই যখন জমিন প্রকম্পিত হবে প্রবল প্রকম্পনে আর পর্বতমালা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে।
এত অর্জন কোনো সরকার করতে পারেনি, অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য তুলে ধরলেন শফিকুল আলম
প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে কোনো সরকার এত বেশি অর্জন করতে পারেনি, যতটা অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৫ মাসে করেছে। আজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এই দাবি জানান।
শফিকুল আলম তার পোস্টে এই সরকারকে ঘিরে থাকা বিভিন্ন সমালোচনা ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, "অন্তর্বর্তী সরকার নামেই শুধু সরকার, আসলে এক প্রকার এনজিও-গ্রাম। অনেকের দৃষ্টিতে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল প্রশাসন—এতটাই দুর্বল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত এর সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি করতে আগ্রহী হয়নি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই সরকারের নেতাদের প্রায়ই 'ভীত বা অদক্ষ' বলে মনে করা হয় এবং ৫০০ দিনে ১,৭০০টির বেশি বিক্ষোভের সময়েও তারা রাস্তাঘাটে নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি লেখেন, "তারা যেন নতুন ও অদক্ষ, আইন পাস করতেও হিমশিম খাচ্ছেন, প্রয়োগ তো দূরের কথা। অন্তর্বর্তী সরকার বারবার তুলনামূলক ছোট বা অখ্যাত গোষ্ঠীর চাপের সামনে নতি স্বীকার করেছে।"
প্রেসসচিব আরও লেখেন, "গত ১৫ মাসে, এই সরকারকে অক্রিয়তা ও অযোগ্যতার অভিযোগে ঘিরে ফেলা হয়েছে। অনেকেই এটিকে ব্যঙ্গ করে বলেন, এটি এক ‘কিছু না করা, মাখন-খাওয়া দল’—যারা কাকতালীয়ভাবে ক্ষমতায় এসেছে, কিছুই করতে পারেনি, আর এখন অপমানজনক নিরাপদ প্রস্থানের পথ খুঁজছে।"
এসব সমালোচনার জবাবে শফিকুল আলম তার পোস্টে লেখেন, "তবুও, পেছনে তাকিয়ে আমি দৃঢ়ভাবে বলি—এটি গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সরকারগুলোর একটি। তারা তাদের প্রায় সব লক্ষ্যই অর্জন করেছে।"
এরপর তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বিপ্লব-পরবর্তী প্রতিশোধমূলক হামলা থামানো সম্ভব হয়েছে। এমনকি কোনো লবিং ফার্ম ভাড়া না করেই মার্কিন শুল্ক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
আইন পাসের বিষয়ে তিনি বলেন, মাত্র ১৫ মাসে রেকর্ড সংখ্যক আইন পাস হয়েছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শ্রম সংস্কার আইনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি 'জুলাই ঘোষণা'কে একটি ঐতিহাসিক নতুন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, 'জুলাই চার্টার' (July Charter) এমন এক রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি করেছে যা আগামী প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিকে পুনর্গঠন করতে পারে।
বিচার বিভাগের সাফল্য প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে কোনো সরকারের পক্ষে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামিন বা মামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা অনেক কঠিন হবে।
অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক অর্জনের বিষয়ে শফিকুল আলম জানান, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বন্দর অপারেটরের সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনাল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের শিল্প রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং এটি এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় বিনিয়োগ। নতুন পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে নিয়ে এসেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়েছে এবং পুনরায় প্রবৃদ্ধির পথে ফিরেছে। ব্যাংকিং খাতের লুটপাট রোধ করা হয়েছে, টাকার মান স্থিতিশীল এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিশেষ করে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
জবাবদিহিতার বিষয়ে প্রেসসচিব বলেন, আদালতের কার্যক্রম অনুযায়ী, অতীতের নিপীড়নের জন্য জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা শুরু হয়েছে এবং "শেখ হাসিনাকে তার অবস্থান দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, র্যাব এখন আইনের অধীনে পরিচালিত হয়, কোনো অনানুষ্ঠানিক মতবাদে নয় এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ভিন্নমতাবলম্বীদের হয়রানি করা থেকে সরে এসেছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, গত ১৬ মাসে একটিও সাজানো ‘ক্রসফায়ার’ ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
পোস্টের শেষে শফিকুল আলম লেখেন, "আমি আরো বলতে পারতাম... আমাদের ইতিহাসের এক আগ্রহী পাঠক হিসেবে আমার বিশ্বাস— বাংলাদেশের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে কোনো সরকার এত কিছু অর্জন করতে পারেনি, যতটা অন্তর্বর্তী সরকার (IG) এই ১৫ মাসে করেছে।"
পাঠকের মতামত:
- শীতের ভ্রমণে সতেজ ত্বক: মেনে চলুন সহজ কিছু জাদুকরী কৌশল
- ফ্যাসিবাদী লড়াইয়ের বীর সেনাপতি জামায়াত আমির: নাহিদ ইসলাম
- রাজনীতি থেকে কি স্থায়ী অবসরে শেখ হাসিনা? জয়ের বক্তব্যে নতুন রহস্য
- নীরব ঘাতক ফুসফুস ক্যানসার: প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তের ৫টি উপায়
- সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য খুশির খবর: ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ ছুটির হাতছানি
- ভারতের মাটিতে থেকে হাসিনার কোনো বার্তা কাম্য নয়: তৌহিদ হোসেনের কড়া বার্তা
- শহীদ হাদির কবরে শপথ নিয়ে এনসিপির ভোটের লড়াই শুরু
- জনগণের শক্তিই বিএনপির প্রাণ: মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের হুঙ্কার
- ২৪ ঘণ্টার রোমাঞ্চের অবসান; ভারতের মাটিতে পা রাখছে না টিম বাংলাদেশ
- নবম পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের বড় সুখবর
- শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনের চিত্র কী বলছে
- ২২ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ২২ জানুয়ারি বাজারে দরপতনের ১০ শেয়ার
- ২২ জানুয়ারি বাজারে দরবৃদ্ধির ১০ শেয়ার
- ২০২৬ সালে স্বর্ণের দাম কি ছুঁবে ৫৪০০ ডলার? গোল্ডম্যানের পূর্বাভাস জানুন
- ভালুকায় বাস–অটোরিকশা সংঘর্ষে উত্তাল মহাসড়ক
- সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, মৌখিক পরীক্ষা কবে
- নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য সমর্থকদের কাছে অনুদান চাইলেন এনসিপি নেতা
- পে স্কেলে ১৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, কতটা বিপদে পড়বে বেসরকারি খাত
- তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
- সিলেটে বিএনপির জনসভা, আজান শুনে বক্তব্য থামালেন তারেক রহমান
- শিশুদের সবজি খাওয়ানোর ৫টি জাদুকরী কৌশল
- ডিএসই পরিদর্শনে একাধিক তালিকাভুক্ত কারখানা বন্ধের চিত্র
- এডিএন টেলিকমের ২য় আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও ব্যাখ্যা
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বোর্ড সভার ঘোষণা, শেয়ার দামে প্রভাব পড়বে কি
- ইন্দোনেশিয়ার গুহায় মিলল বিশ্বের প্রাচীনতম শৈল্পিক স্বাক্ষর
- বাজারদর বনাম প্রকৃত মূল্য: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- পাকিস্তানে তেলের নতুন খনি: এক কূপেই মিলল বড় সাফল্য
- আইসিসির আল্টিমেটামের মাঝেও আশা দেখছেন বুলবুল
- জুট্রোপলিস ২-এর রেকর্ড: হলিউড অ্যানিমেশনের মুকুট এখন ডিজনির মাথায়
- প্রাক্তনের মায়া ও ভুলের চক্র: নতুন বছরে নিজেকে বদলানোর ৩টি চাবিকাঠি
- মোস্তাফিজ ইস্যুতে নীরবতা ভাঙল আইসিসি, কী বলল বিশ্ব সংস্থা
- ওজন কমাতে নাশতা বাদ? হিতে বিপরীত হওয়ার সতর্কতা
- নীরবে রক্তপাত? পাইলসের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ জানুন
- তারেক রহমানের সিলেট সফর, আজকের কর্মসূচি কী কী
- দুটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো একীভূত! কী হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার (২২ জানুয়ারি ২০২৫)
- যানজটমুক্ত ঢাকা ও স্যাটেলাইট সিটি; উন্নয়ন রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২২ জানুয়ারি ২০২৬
- গাজা শান্তি উদ্যোগে বড় মোড়; ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ ৯ মুসলিম দেশ
- জীবনের নিরাপত্তায় গানম্যান চাইলেন আব্দুল হান্নান মাসউদ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- নামাজের সময়সূচি: ২২ জানুয়ারি ২০২৬
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির
- আইসিসির কঠোর অবস্থানে বিপাকে বিসিবি
- শুরু হলো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা
- স্মার্টফোনেই দেশের ভাগ্য নির্ধারণ? শুরু হলো প্রবাসীদের ঐতিহাসিক পোস্টাল ভোট
- সোনা ও রুপার বাজারে ফের রেকর্ড; কাল থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দর
- বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহীদের তালিকা প্রকাশ; তালিকায় শীর্ষ নেতারাও
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- দুনিয়ার সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম: ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় উত্তাল বিশ্ববাজার
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে স্বর্ণের দাম: মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নতুন পে স্কেল ২০২৬, আজ চূড়ান্ত সুপারিশ, সর্বশেষ যা জানা গেল
- ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার: নতুন পে স্কেলে কার বেতন কত বাড়ছে?
- দুটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো একীভূত! কী হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে
- শাবান ও শবেবরাত ২০২৬: জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনায় সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
- সোনা ও রুপার বাজারে ফের রেকর্ড; কাল থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দর
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- কুমিল্লা ৪ এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দরকার - নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আইবিপির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ নির্দেশনা জারি
- মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের চার পাশে থম থমে পরিবেশ








