ইতিহাস, দর্শন ও ইসলাম

হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.): ন্যায়, প্রজ্ঞা ও বিশ্বনেতৃত্বের এক স্বর্ণযুগ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ০৮ ১০:৫৬:৫৮
হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.): ন্যায়, প্রজ্ঞা ও বিশ্বনেতৃত্বের এক স্বর্ণযুগ

ইসলামের ইতিহাসে হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) এমন এক মহান ব্যক্তিত্ব যিনি শক্তি, সাহস, ন্যায়বিচার, প্রজ্ঞা এবং আল্লাহভীতি দ্বারা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা, নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সাহাবি, এবং এমন এক নেতা যাঁর শাসনকাল মুসলিম সভ্যতার সোনালি যুগ হিসেবে পরিচিত। তাঁর শাসনামলে শুধু ইসলামী সাম্রাজ্য ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হয়নি, বরং প্রশাসনিক কাঠামো, বিচারব্যবস্থা, করনীতি, সামাজিক কল্যাণ এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সংস্কার হয়েছে। পশ্চিমা ঐতিহাসিকরাও স্বীকার করেছেন, তাঁর শাসন ছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম সফল, সুশৃঙ্খল ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসনব্যবস্থার উদাহরণ।

প্রাথমিক জীবন ও পারিবারিক পটভূমি

হযরত ওমর (রা.) ৫৮৩ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় কুরাইশ গোত্রের বানু আদী শাখায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম ছিল খাত্তাব ইবনে নুফাইল এবং মাতার নাম হাতমা বিনতে হাশিম। তাঁর পরিবার কুরাইশদের মধ্যে সামাজিক মর্যাদার দিক থেকে সম্মানিত ছিল, তবে ধনী ছিল না। শৈশব থেকেই ওমর (রা.) ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, সাহসী এবং শারীরিকভাবে বলবান। তিনি তলোয়ার চালনা, ঘোড়সওয়ারি, উটপালন এবং ক্রীড়ায় পারদর্শী ছিলেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি আরবি সাহিত্য, কবিতা, বংশাবলি বিদ্যা এবং বক্তৃতাশৈলীতে দক্ষতা অর্জন করেন। সেই সময়ের মক্কার সমাজে বংশগৌরব, বাগ্মিতা এবং শারীরিক সক্ষমতা ছিল নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা—যা ওমর (রা.)-এর মধ্যে শৈশব থেকেই স্পষ্ট ছিল। ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি মক্কার বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং কুরাইশদের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।

ইসলাম গ্রহণের পূর্ববর্তী জীবন

ইসলাম আবির্ভাবের প্রথম দিকে ওমর (রা.) ছিলেন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কঠোর বিরোধীদের একজন। তিনি মুসলমানদের প্রতি শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব পোষণ করতেন এবং তাঁদের ওপর নির্যাতনে অংশ নিতেন। তাঁর কঠোর স্বভাব ও দৃঢ় বিশ্বাস তাঁকে ইসলামের অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ করে তুলেছিল। অনেক ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে যে, এক পর্যায়ে তিনি নবীজীকে হত্যা করার সংকল্প করেছিলেন, যাতে মুসলমানদের আন্দোলন পুরোপুরি দমন করা যায়।

ইসলাম গ্রহণের ঘটনা

তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায় এক ঐতিহাসিক ঘটনায়। নবীজীকে হত্যার উদ্দেশ্যে পথে বের হয়ে তিনি শুনলেন, তাঁর বোন ফাতিমা বিনতে খাত্তাব ও ভগ্নীপতি সাঈদ ইবনে যায়েদ ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তিনি কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পান। সুরা ত্বা-হা’র আয়াত শুনে তাঁর হৃদয় কেঁপে ওঠে। পবিত্র কুরআনের বাণী তাঁর অন্তরে গভীর প্রভাব ফেলে, এবং তিনি উপলব্ধি করেন যে, এটি মানুষের রচিত কোনো কথা নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সত্য।

এই অভিজ্ঞতার পর তিনি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। মুসলমানদের জন্য এটি ছিল এক বিশাল বিজয়, কারণ ওমর (রা.)-এর সাহস, প্রভাব এবং নেতৃত্বগুণ মুসলিম সমাজকে নতুন শক্তি যোগায়। তাঁর ইসলাম গ্রহণের পর থেকেই মুসলমানরা প্রকাশ্যে ইবাদত করতে শুরু করেন।

গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ভূমিকা

১. নবীজীর সহচর হিসেবে ভূমিকা: ইসলাম গ্রহণের পর হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) শুধুমাত্র একজন সাধারণ অনুসারী হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং তিনি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অন্যতম নিকটতম ও বিশ্বস্ত সহচরে পরিণত হন। বদর, উহুদ, খন্দক, খাইবার এবং হুনায়েনসহ প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ গাজওয়ায় তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং প্রতিটি যুদ্ধে তাঁর অসীম সাহস ও কৌশলগত দক্ষতা নবীজীর জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠে। বদরের যুদ্ধে তাঁর যুদ্ধদক্ষতা মুসলিম বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি করে এবং শত্রুপক্ষের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

ওমর (রা.)-এর চরিত্রে ছিল দৃঢ়তা ও নির্ভীকতা, যা মুসলিম বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলত। তিনি কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পরামর্শেও নবীজীর কাছে মূল্যবান ছিলেন। তাঁর কঠোর মনোভাব এবং সত্যের পক্ষে আপসহীন অবস্থান ইসলামের শত্রুদের মনে এক ধরনের ভয় এবং মুসলমানদের মনে নিরাপত্তার অনুভূতি সৃষ্টি করেছিল।

২. হিজরত: মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় অধিকাংশ মুসলমান গোপনে রাতের আঁধারে শহর ত্যাগ করেছিলেন, কারণ কুরাইশরা মুসলমানদের হিজরত ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছিল। কিন্তু ওমর (রা.)-এর সাহস ছিল অতুলনীয়। তিনি প্রকাশ্যে মক্কার কাবাঘরে গিয়ে কুরাইশদের নেতৃবৃন্দের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন,

“যে তার স্ত্রীকে বিধবা করতে চায়, সন্তানকে পিতৃহীন করতে চায়, সে যেন পথে এসে আমাকে বাধা দেয়।”

এই ঘোষণা শুধু ব্যক্তিগত সাহসিকতার প্রকাশই ছিল না, বরং এটি মুসলমানদের জন্য এক বিশাল প্রেরণা হয়ে ওঠে। তাঁর এই কর্মে মক্কার ইসলামের শত্রুরা বুঝে যায় যে মুসলমানরা আর ভীত-সন্ত্রস্ত জনগোষ্ঠী নয়; বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস ও আত্মত্যাগের মানসিকতা অর্জন করেছে। ইসলামী ইতিহাসে এ ঘটনা অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

৩. হুদায়বিয়ার সন্ধি ও পরবর্তী ঘটনা: হিজরতের ছয় বছর পর ৬ হিজরিতে (৬২৮ খ্রিঃ) নবী মুহাম্মদ (সা.) ও মুসলিম বাহিনী কাবা শরিফে ওমরাহ আদায়ের উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে অগ্রসর হন। কুরাইশদের বাধার কারণে মক্কার উপকণ্ঠে হুদায়বিয়া নামক স্থানে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা মুসলমানদের জন্য আপাতদৃষ্টিতে অসম এবং অপমানজনক মনে হয়েছিল। চুক্তির শর্তগুলোর মধ্যে ছিল—সেই বছর মুসলমানরা উমরাহ করতে পারবে না, এবং মক্কা থেকে কেউ মদিনায় গেলে তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে; তবে মদিনা থেকে কেউ মক্কায় গেলে তাকে ফেরত দিতে হবে না।

এই শর্তগুলো শুনে ওমর (রা.)-এর মন বিদীর্ণ হয়ে যায়। তিনি নবীজীর কাছে প্রশ্ন করেন, “আমরা কি সত্য ধর্মে নেই? আল্লাহ কি আমাদের সহায় নন?” নবীজী ধৈর্যের সাথে উত্তর দেন, “অবশ্যই।” তবুও তাঁর অন্তরে কষ্ট থেকে যায়। কিন্তু কয়েক মাস পর এই চুক্তির সুফল স্পষ্ট হয়—যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইসলাম দ্রুত প্রসার লাভ করে, বহু মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ইসলাম গ্রহণ করে এবং মুসলিম রাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়। তখন ওমর (রা.) স্বীকার করেন, নবীজীর দূরদর্শিতা সত্যিই অসাধারণ ছিল এবং এই চুক্তি ছিল কৌশলগত বিজয়ের এক মাইলফলক।

৪. নবীজীর ইন্তেকালের পর: ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ইন্তেকালের সংবাদ শোনার পর ওমর (রা.) গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তিনি প্রথমে বাস্তবতা মেনে নিতে অস্বীকার করেন এবং ক্রোধভরে বলেন, “যে বলবে মুহাম্মদ (সা.) ইন্তেকাল করেছেন, আমি তার মাথা উড়িয়ে দেব। বরং তিনি মূসা (আ.)-এর মতো আল্লাহর কাছে গেছেন এবং আবার ফিরে আসবেন।”

এই পরিস্থিতিতে আবু বকর সিদ্দিক (রা.) মসজিদে এসে কুরআনের আয়াত পাঠ করেন—

“মুহাম্মদ কেবল একজন রাসূল; তাঁর পূর্বে বহু রাসূল অতিবাহিত হয়েছেন। তিনি যদি মারা যান অথবা নিহত হন, তবে কি তোমরা পেছনে ফিরে যাবে?” (সূরা আলে ইমরান: ১৪৪)

এই আয়াত শোনার পর ওমর (রা.) যেন বাস্তবতায় ফিরে আসেন এবং তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রুধারা প্রবাহিত হয়। তিনি উপলব্ধি করেন, আল্লাহর রাসূলের ইন্তেকাল এক বাস্তবতা এবং উম্মাহকে এখন ঐক্যবদ্ধ থেকে নতুন নেতৃত্বের অধীনে অগ্রসর হতে হবে। এই ঘটনার মাধ্যমে তাঁর আন্তরিকতা, নবীজীর প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং সত্য মেনে নেওয়ার বিনয়ী মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

খেলাফতকাল (৬৩৪–৬৪৪ খ্রিঃ): হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর ইন্তেকালের পর ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর দশ বছরের শাসনকাল ইসলামী ইতিহাসের এক সুবর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত, কারণ এই সময়ে ইসলামী রাষ্ট্র অভূতপূর্ব ভূখণ্ড বিস্তার, প্রশাসনিক কাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে।

প্রশাসনিক সংস্কার

প্রদেশ ব্যবস্থা: ওমর (রা.)-এর শাসনামলে দ্রুত বিস্তৃত সাম্রাজ্যকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য তিনি একে বিভিন্ন প্রদেশ ও প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করেন। প্রতিটি প্রদেশে গভর্নর (আমির) নিয়োগ করা হতো, যাঁরা প্রশাসন, কর আদায়, আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের কল্যাণের দায়িত্ব পালন করতেন। বড় প্রদেশগুলো আবার জেলায় বিভক্ত ছিল, যাতে স্থানীয় পর্যায়ে শাসন কার্যক্রম দ্রুত ও দক্ষতার সাথে পরিচালিত হয়।

দায়িত্বরতদের জবাবদিহিতা: ওমর (রা.) কর্মকর্তাদের আর্থিক ও নৈতিক জবাবদিহিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। তিনি গভর্নর ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব রাখতে বাধ্য করতেন এবং দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরে তাঁদের সম্পদ তালিকা সংগ্রহ করতেন, যাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যায়। দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে তিনি বিনা দ্বিধায় তাঁদের অপসারণ করতেন।

দেওয়ান ব্যবস্থা: তাঁর আমলে প্রবর্তিত দেওয়ান ছিল প্রশাসনিক নথিপত্র সংরক্ষণ ও বেতন ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সুশৃঙ্খল রেজিস্ট্রি সিস্টেম। এতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের নাম, পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও বেতন নির্ধারণের রেকর্ড রাখা হতো। এটি ছিল মুসলিম রাষ্ট্রে প্রথম আধুনিক আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তি।

জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ: ওমর (রা.) মদিনার মসজিদে নিয়মিত বসে জনতার অভিযোগ ও পরামর্শ শুনতেন। এভাবে তিনি সাধারণ জনগণকে শাসকের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দেন, যা একাধারে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করত। তিনি রাত্রিকালীন টহলেও বের হতেন, যাতে নিজ চোখে জনগণের অবস্থা দেখতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা সমাধান করতে পারেন।

অর্থনৈতিক সংস্কার

বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা: ওমর (রা.) রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনার জন্য বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা করেন। এতে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, কর, খাজনা ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় আয় জমা রাখা হতো এবং তা জনকল্যাণে ব্যয় করা হতো। তিনি এই তহবিলের অপচয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন।

ভূমি কর ও খাজনা ব্যবস্থা: তিনি কৃষিজমি ও অন্যান্য উৎপাদনশীল সম্পদের ওপর ন্যায়সঙ্গত কর আরোপ করেন। মুসলিম ও অমুসলিম উভয়েই কর দিত, তবে করহার ছিল সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নির্ধারিত। যুদ্ধবন্দী ও চুক্তিভিত্তিক অমুসলিম প্রজারা জিজিয়া কর দিত, কিন্তু বিনিময়ে রাষ্ট্র তাঁদের জীবন, সম্পদ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করত।

গরিব ও এতিমদের জন্য ভাতা:তাঁর শাসনামলে দরিদ্র, এতিম, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য নিয়মিত ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা ছিল, যা ইতিহাসে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উদাহরণ। শিশুদের জন্য দুধ ও খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

বিচার ব্যবস্থা

কাজী নিয়োগ: তিনি প্রতিটি প্রদেশে স্বতন্ত্র বিচার বিভাগ গঠন করেন এবং সেখানকার জন্য ন্যায়পরায়ণ ও যোগ্য বিচারক (কাজী) নিয়োগ করেন। কাজীরা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন, এবং শাসক পর্যন্ত তাঁদের সিদ্ধান্ত মেনে চলতেন।

আইনের শাসন: ওমর (রা.) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, শাসকসহ সকলেই আইনের অধীন। একাধিক ঘটনায় দেখা যায়, তিনি সাধারণ নাগরিকের মতো আদালতে হাজির হয়েছেন এবং মামলার রায় নিজের বিপক্ষে গেলে তা বিনা আপত্তিতে মেনে নিয়েছেন। তাঁর এই নীতি আইনের শাসনের প্রকৃত রূপ তুলে ধরে, যা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সামরিক ও ভূখণ্ড বিস্তার: হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর খেলাফতকাল ইসলামী সাম্রাজ্যের ভূখণ্ড বিস্তারের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব সময় হিসেবে চিহ্নিত। মাত্র দশ বছরের শাসনামলে তিনি ইসলামী রাষ্ট্রকে আরব উপদ্বীপের বাইরে প্রসারিত করে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং পারস্যের বিশাল অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করেন। এই বিস্তার ছিল শুধু সামরিক শক্তির ফল নয়, বরং দক্ষ কৌশল, শৃঙ্খলাবদ্ধ সেনাবাহিনী, ন্যায়নিষ্ঠ শাসননীতি এবং বিজিত জনগণের সাথে মানবিক আচরণের সমন্বিত ফল।

পারস্য জয়: পারস্যের সাসানীয় সাম্রাজ্য তখনকার বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল। তবে ধারাবাহিক সংঘর্ষে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং ওমর (রা.)-এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী এই সুযোগকে কাজে লাগায়।

কাদিসিয়ার যুদ্ধ (৬৩৬ খ্রিঃ): এই ঐতিহাসিক যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী সাসানীয় সেনাদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে। যুদ্ধটি কয়েক দিন ধরে চলে এবং মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)।

নাহাওয়ান্দের যুদ্ধ (৬৪২ খ্রিঃ): “বিজয়ের বিজয়” নামে পরিচিত এই যুদ্ধের মাধ্যমে সাসানীয় সাম্রাজ্যের পতন সম্পূর্ণ হয়। পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যেই পারস্য সম্পূর্ণ মুসলিম শাসনের অধীনে আসে।এই বিজয় শুধু ভৌগোলিক বিস্তারই নয়, বরং ইসলামী সভ্যতার সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করে, কারণ পারস্যের উন্নত প্রশাসনিক পদ্ধতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ইসলামী রাষ্ট্রে যুক্ত হয়।

রোমান ভূখণ্ড জয়:পূর্ব রোমান বা বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যও তখন মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করছিল। তবে একাধিক যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে।

ইয়ামুকের যুদ্ধ (৬৩৬ খ্রিঃ): সিরিয়ার ইয়ামুক নদীর তীরে সংঘটিত এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিশাল বিজয় অর্জন করে, যার ফলে সিরিয়া এবং প্যালেস্টাইন মুসলিম শাসনের অধীনে আসে। এই যুদ্ধে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) অসামান্য নেতৃত্বের পরিচয় দেন।

মিশর বিজয় (৬৩৯–৬৪২ খ্রিঃ): আমর ইবনে আস (রা.)-এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী মিশর জয় করে। মিশরের কপটিক খ্রিস্টান জনগণ রোমান শাসনের নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেয়ে মুসলিম শাসনকে স্বাগত জানায়।

এই বিজয়গুলো মুসলিম রাষ্ট্রকে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও কৌশলগত অবস্থানে শক্তিশালী করে তোলে।

জেরুজালেম দখল:

জেরুজালেম ছিল খ্রিস্টান ও ইহুদিদের জন্য পবিত্র নগরী। ইয়ামুক যুদ্ধে বাইজান্টাইন বাহিনী পরাজিত হওয়ার পর নগরীর নেতারা আত্মসমর্পণের শর্তে ওমর (রা.)-এর কাছে চাবি হস্তান্তর করতে সম্মত হয়, তবে শর্ত ছিল যে, খলিফা নিজে এসে চাবি গ্রহণ করবেন।

ওমর (রা.) সাধারণ পোশাকে, এক উট ও একজন খাদেমসহ মদিনা থেকে জেরুজালেমে আসেন। তাঁর সরলতা, ন্যায়বিচার ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা খ্রিস্টান নেতাদের মুগ্ধ করে। তিনি শহরে প্রবেশ করে খ্রিস্টান ও ইহুদিদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেন এবং তাঁদের উপাসনালয় রক্ষা করার নির্দেশ দেন। এই ঘটনা ইসলামী শাসনের সহিষ্ণুতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

সাফল্য ও অবদান

ন্যায়বিচারের প্রতীক – “আল-ফারুক”: ওমর (রা.)-এর অটল ন্যায়পরায়ণতার কারণে তিনি “আল-ফারুক” উপাধি লাভ করেন, যার অর্থ সত্য ও মিথ্যার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্যকারী। তাঁর শাসনে ধনী-গরিব, মুসলিম-অমুসলিম—সকলের জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা হতো।

রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের আধুনিকীকরণ: তাঁর শাসনে প্রদেশভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো, কর ব্যবস্থা, সেনাবাহিনীর রেজিস্ট্রি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ডাক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। এটি ছিল মুসলিম বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক সংস্কার।

সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা: তিনি দরিদ্র, এতিম, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য নিয়মিত ভাতা চালু করেন। যুদ্ধাহত সৈনিকদের জন্যও রাষ্ট্রীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেন।

শিক্ষা ও জ্ঞান বিস্তার: নতুন অঞ্চলে মসজিদ ও মক্তব প্রতিষ্ঠা করে কুরআন শিক্ষা ও সাধারণ জ্ঞানচর্চার প্রসার ঘটান। বিজিত এলাকায় ইসলামী শিক্ষা ও স্থানীয় জ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটাতে সহায়তা করেন।

ধর্মীয় সহিষ্ণুতা: বিজিত অমুসলিম জনগণকে তাঁদের ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন এবং তাঁদের উপাসনালয় সংরক্ষণ করেন। তিনি চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তা ও কর ব্যবস্থার মাধ্যমে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করেন।

রাস্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন: তিনি সড়ক, সেতু, কূপ, খাল এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা উন্নত করেন। ডাক ব্যবস্থা ও সীমান্ত প্রতিরক্ষা জোরদার করেন, যা বাণিজ্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।

শহীদ হওয়া

৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে ফজরের নামাজ আদায়ের সময় এক অমুসলিম দাস আবু লুলু ফিরোজ তাঁকে ছুরিকাঘাত করে। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে তিনি শুরা কমিটি গঠন করে পরবর্তী খলিফা নির্বাচন করার নির্দেশ দেন। তাঁকে মদীনায় নবীজীর পাশে দাফন করা হয়।

ইতিহাসে স্থান ও প্রভাব

হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) কেবল ইসলামের দ্বিতীয় খলিফাই নন, তিনি ছিলেন এমন এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি নেতৃত্ব, প্রশাসনিক প্রজ্ঞা ও নৈতিক দৃঢ়তার মাধ্যমে বিশ্ব ইতিহাসে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন। তাঁর কঠোর ন্যায়বিচার, দৃঢ় প্রশাসন, স্বচ্ছ জবাবদিহিতা এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে অবিচল মনোভাব তাঁকে মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে।

তাঁর শাসনকাল প্রমাণ করেছে যে একটি রাষ্ট্র কেবল সামরিক শক্তি বা ভূখণ্ড বিস্তারের মাধ্যমে নয়, বরং সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং নৈতিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ হতে পারে। ওমর (রা.) এমন এক কাঠামোগত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে প্রদেশভিত্তিক শাসন, করনীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সামরিক সংগঠন এবং সামাজিক নিরাপত্তা একে অপরের সাথে সমন্বিত ছিল। এই মডেল পরবর্তী শতাব্দীগুলিতে মুসলিম সাম্রাজ্যের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

আধুনিক ঐতিহাসিক, বিশেষত পশ্চিমা গবেষকরাও তাঁকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ব্রিটিশ ঐতিহাসিক থমাস আর্নল্ড ও জর্জ সার্টন তাঁর শাসনকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নৈতিক নেতৃত্বের বিরল সমন্বয় বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি অমুসলিম গবেষকরাও স্বীকার করেছেন, তাঁর শাসনব্যবস্থা ছিল অগ্রসরমান রাষ্ট্র পরিচালনার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

তাঁর নেতৃত্বে ইসলামী রাষ্ট্র শুধু ভূখণ্ডগতভাবে নয়, বরং প্রশাসনিক ও নৈতিক ক্ষেত্রেও এক সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী রূপ লাভ করে। তিনি রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যেমন কঠোর ছিলেন, তেমনি দরিদ্র, এতিম, বিধবা ও অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় ছিলেন অসীম সহৃদয়। ফলে বিজিত অঞ্চলের অনেক জনগণ মুসলিম শাসনকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে, যা ইসলামের শান্তিপূর্ণ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ওমর (রা.)-এর মৃত্যুর পরও তাঁর প্রবর্তিত নীতি, আইন ও সংস্কার শতাব্দীর পর শতাব্দী মুসলিম শাসনব্যবস্থায় কার্যকর ছিল। তাঁর ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, এবং জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ পরবর্তী খলিফা, শাসক ও নেতাদের জন্য আদর্শ হয়ে থাকে।

হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) ছিলেন এমন এক বিরল চরিত্র, যাঁর জীবন মুসলিম উম্মাহর জন্য অনন্ত অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনার উৎস। ইসলাম গ্রহণের আগে একজন দৃঢ় প্রতিপক্ষ থেকে তিনি রূপান্তরিত হয়েছিলেন ইসলামের এক অকুতোভয় রক্ষক ও সংস্কারক নেতায়। তাঁর খেলাফতের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল ঈমান, সাহস, ন্যায়বিচার, বিনয় এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রতিফলন।

তিনি প্রমাণ করেছিলেন, একজন শাসকের শক্তি কেবল সামরিক ক্ষমতায় নয়, বরং ন্যায়পরায়ণতা, সততা, এবং প্রজাদের কল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্বে নিহিত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত নীতি ও দৃষ্টান্ত কেবল ইসলামী সভ্যতার সোনালি অধ্যায় রচনা করেনি, বরং মানব ইতিহাসেও আদর্শ রাষ্ট্রনায়কত্বের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তাঁর জীবন ও শাসন আজও আমাদের শেখায়—ন্যায় ও সত্যের পথে অবিচল থাকলে একটি জাতি শুধু টিকে থাকে না, বরং ইতিহাসে অমর হয়ে যায়।


চব্বিশ ঘণ্টার রুটিনেই মিলবে অশেষ সওয়াব, জেনে নিন ৫টি ছোট দোয়া

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৯:৪৮:৩১
চব্বিশ ঘণ্টার রুটিনেই মিলবে অশেষ সওয়াব, জেনে নিন ৫টি ছোট দোয়া
ছবি : সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজগুলোকে সহজেই পুণ্যে রূপান্তর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বেশ কিছু সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। ঘর থেকে বের হওয়া, মসজিদে প্রবেশ, কিংবা যানবাহনে আরোহণের মতো প্রাত্যহিক অভ্যাসে এসব দোয়ার নিয়মিত চর্চা একজন মুমিনের জীবনে আল্লাহর রহমত ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

দৈনন্দিন জীবনে আমল করার মতো পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়ার বিবরণ

যানবাহনে ওঠার দোয়া: সুরা যুখরুফের ১৩-১৪ নম্বর আয়াতের এই দোয়াটি বাহনে চড়ে আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া এবং তাঁর কাছে চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়—

আরবি: سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি সাখখারালানা হা-যা ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবুন।

অর্থ: তিনি পূতপবিত্র, যিনি এ বাহনকে আমাদের অধীন করে দিয়েছেন। অথচ এটি আয়ত্তে আনার ক্ষমতা আমাদের ছিল না। আর নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রবের কাছেই ফিরে যাব।

মসজিদে প্রবেশের দোয়া: আল্লাহর বিশেষ রহমত ও অনুগ্রহ কামনায় মসজিদে প্রবেশের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি পাঠ করতেন (আবু দাউদ: ৪৬৬)—

আরবি: اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রহমাতিক।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া: ইবাদত শেষে পার্থিব রিজিক ও জীবিকায় আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন (আবু দাউদ: ১২৬)—

আরবি: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদ্বলিক।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।

ঘরে প্রবেশের দোয়া: ঘরে কল্যাণ ও বরকত নিশ্চিত করতে এবং পরিবারের নিরাপত্তায় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল প্রকাশে এই দোয়াটি পাঠের বিধান রয়েছে (আবু দাউদ: ৫০৯৬)—

আরবি:اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ، بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا، وَبِسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا، وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাল মাউলাজি, ওয়া খাইরাল মাখরাজি; বিসমিল্লাহি ওয়ালাজনা, ওয়া বিসমিল্লাহি খারাজনা; ওয়া আলাল্লাহি রাব্বিনা তাওয়াক্কালনা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রবেশ ও প্রস্থানের কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আল্লাহর নামে আমরা প্রবেশ করলাম এবং আল্লাহর নামেই বের হলাম। আর আমাদের রব আল্লাহর ওপরই আমরা ভরসা করলাম।

ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া: ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার মুহূর্তে আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাজত পেতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া শিখিয়েছেন (তিরমিজি: ৩৪২৬)—

আরবি: بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ: আল্লাহর নামে বের হলাম। আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।

/আশিক


বাড়বে না হজের নিবন্ধনের সময়, চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৯:৩৩:৩৪
বাড়বে না হজের নিবন্ধনের সময়, চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের পবিত্র হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটার বিপরীতে এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৩ হাজার ৭৪১ জন যাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৬৭৬ জন নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন; ফলে নির্ধারিত জাতীয় কোটার একটি বড় অংশই এখনও ফাঁকা রয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হজ নিবন্ধনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে এবং এর পর আর কোনোভাবেই সময় বৃদ্ধি করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১। সার্কুলারে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সমস্ত নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ জুলাই শুরু হওয়া এই নিবন্ধনের সময়সীমা পার হওয়ার পর সৌদি সরকারের কাছে হজযাত্রীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রেরণ করা হবে এবং সেই তালিকার ভিত্তিতেই সৌদি পর্বের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের অর্থ স্থানান্তর করা হবে। একই সাথে চূড়ান্ত তালিকার ওপর ভিত্তি করে শুরু হবে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফিটনেস সনদ প্রদান, বাধ্যতামূলক টিকাদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত কোটা পূরণ হতে এখনও ৭৪ হাজার ৭৫৯ জনের নিবন্ধন বাকি রয়েছে।

/আশিক


২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৯:৩৩:৩৩
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সাল শুরু হতে আর মাত্র তিন মাস বাকি থাকতেই মুসলিম বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে আসন্ন বছরের পবিত্র রমজান মাসের সম্ভাব্য সময় নিয়ে গভীর কৌতূহল দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। তবে চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী মাসের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত সূচনা নির্ভর করবে সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর।

এরই মধ্যে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে ১৪৪৮ হিজরি সনের রবিউস সানি মাস। এর ফলে হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পবিত্র রমজান শুরুর অপেক্ষা এখন শেষ পাঁচটি চন্দ্রমাসে এসে ঠেকেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রবিউস সানি মাসের চতুর্থ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই সন্ধ্যায় যদি আকাশে একফালি চাঁদের দেখা মেলে, তবে ওই রাতেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আদায় করবেন প্রথম তারাবির নামাজ এবং পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি পালন করবেন প্রথম রোজা।

তবে নির্ধারিত সন্ধ্যায় যদি নতুন চাঁদ দৃশ্যমান না হয়, সে ক্ষেত্রে রমজান শুরুর সম্ভাব্য এই তারিখ এক দিন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ইসলামিক চান্দ্র ক্যালেন্ডারের প্রতিটি মাস যেহেতু কেবলই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের সঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সামান্য তারতম্য হওয়া স্বাভাবিক। একইভাবে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রমজান মাস ২৯ কিংবা ৩০ দিন স্থায়ী হতে পারে। সিয়াম সাধনার মাস শেষে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে উদযাপিত হবে মুসলিমদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য দিন হিসেবে আগামী ১০ মার্চকে ধারণা করা হলেও সেই তারিখটিও পুরোপুরি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করছে।

/আশিক


আগামী বছরের হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২১:৫৪:৩৬
আগামী বছরের হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের হজের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনপ্রক্রিয়া আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত এই সময়ের পর আর কোনোভাবেই সময় বাড়ানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার জরুরি তাগিদ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি সরকারের দেওয়া কঠোর দিকনির্দেশনার আলোকে নিবন্ধন সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এরপরই মূলত সৌদি পর্বের বাড়িভাড়া ও প্রয়োজনীয় অর্থ প্রেরণ, মেডিক্যাল চেকআপ, ফিটনেস সনদ ইস্যু, বাধ্যতামূলক টিকা প্রদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মতো সময়সাপেক্ষ কাজগুলো শুরু হবে। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশের মোট হজযাত্রী কোটা নির্ধারিত রয়েছে ৭৮ হাজার ৫০০ জন। গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি মাধ্যমে ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে ২ হাজার ৬৭৬ জনসহ সর্বমোট ৩ হাজার ৭৪১ জন হজযাত্রী নিবন্ধন চূড়ান্ত করেছেন।

/আশিক


২০২৭ সালের হজ প্যাকেজে বড় ছাড়: প্যাকেজ-১ ও ২-এ যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ২০:৪৮:৩৭
২০২৭ সালের হজ প্যাকেজে বড় ছাড়: প্যাকেজ-১ ও ২-এ যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে
ছবি : সংগৃহীত

হজযাত্রীদের সার্বিক অর্থনৈতিক বোঝা লাঘব করতে খাবারের ব্যয় যুক্ত করার পরও ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে অবহিত করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করে আগামী বছরের হজ প্যাকেজকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য অধিকতর সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্যাকেজভিত্তিক বিস্তারিত খরচের হিসাব দিয়ে তিনি জানান, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-১-এর মূল্য যেখানে ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৭ টাকা, ২০২৭ সালে তা ৭৫ হাজার ৩৫৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২২৩ টাকায়। বিশেষ বিষয় হলো, নতুন এই প্যাকেজের মধ্যেই খাবার বাবদ ৩৯ হাজার ১৩৬ টাকার খরচটি আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। একইভাবে হজ প্যাকেজ-২-এর ব্যয়ও ৫৩ হাজার ২৩৩ টাকা কমানো হয়েছে। পূর্ববর্তী বছরে এ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা থাকলেও আগামী বছরের জন্য তা ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে খাবার বাবদ ২৯ হাজার টাকার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্যাকেজের সামগ্রিক ব্যয়ের পাশাপাশি বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালে হজের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা, যা ২০২৭ সালের জন্য ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। সাধারণত সময়ের পরিক্রমায় নানা সেবামূলক খাতের ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী হলেও হাজিদের সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় সরকার বিমান ভাড়া ও প্যাকেজের মূল্য কমিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পূর্ববর্তী বছরের হিসাবের স্বচ্ছতা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বমোট ৪ হাজার ৩৮১ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে পবিত্র হজব্রত পালন করেছেন। বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত বাজেটের তুলনায় ব্যয় সাশ্রয় হওয়ায় চূড়ান্ত হিসাব শেষে সরকারের কাছে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবস্থার (বিএফটিএন) মাধ্যমে সেই বাড়তি অর্থ সরাসরি প্রত্যেক হাজির নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সরকারের কঠোর জবাবদিহিতা ও আর্থিক স্বচ্ছতার কারণেই এই পদক্ষেপ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

চলতি বছরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সফল ও নির্বিঘ্ন ছিল দাবি করে তিনি বলেন, সরকারপ্রধানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও নিবিড় তদারকির কারণে কোনো ধরনের সংকট ছাড়াই হাজিরা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছেন, যা খোদ সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানই প্রশাসনের মূল ব্রত উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে আগামী দিনগুলোতেও সততা, মানবিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই সেবামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

/আশিক


২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৯:৪৬:১১
২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের পবিত্র হজের প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান থাকলেও আগ্রহীদের সাড়া মিলছে তুলনামূলকভাবে কম। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৫১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৩৬৩ জনসহ সর্বমোট ২ হাজার ১১৪ জন হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, যার তুলনায় এখনো প্রায় সম্পূর্ণ কোটাই খালি পড়ে রয়েছে।

প্রাথমিক নিবন্ধনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত এই তারিখের পর আর সময় বাড়ানো হবে না। হজে গমনেচ্ছুকদের শুরুতে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন এবং পরবর্তীতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে; এরপর আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন করা যাচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিতে হবে।

নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট এবং স্বাস্থ্যগত যোগ্যতার ওপর বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। আবেদনকারীর পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে হবে এবং বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৫ বছর। এছাড়া গুরুতর হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনির জটিলতা, ডিমেনশিয়া, স্নায়বিক ও মানসিক রোগ, চলমান থেরাপিতে থাকা ক্যানসার রোগী এবং যক্ষ্মা বা হেমোরেজিক ফিভারের মতো সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজে যাওয়ার অনুমোদন পাবেন না। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বা শেষ দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রেও ফিটনেস সনদ প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

/আশিক


আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ০৮:৪৪:১৩
আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে
ছবি : সংগৃহীত

আজ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী দিনটি ৯ ভাদ্র এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১০ রবিউল আউয়াল। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মুসল্লিদের জন্য আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেওয়া সময় অনুযায়ী ওয়াক্তের শুরু বিবেচনায় নিয়ে মুসল্লিরা দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। তাই কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সঠিক সময়ে সালাত আদায়ের জন্য ওয়াক্ত সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফজর ও মাগরিবের সময় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় প্রতিদিন সময়ের কিছুটা পরিবর্তন ঘটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে। জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিট এবং মাগরিবের ওয়াক্তও শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ৪৩ মিনিটে।

পরবর্তী দিন মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ঢাকায় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে। ওই দিন সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ৩৭ মিনিটে। ফলে ফজরের নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সূর্যোদয়ের আগেই নামাজ সম্পন্ন করার বিষয়টি মুসল্লিদের খেয়াল রাখতে হবে।

ঢাকার বাইরে অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নামাজের ওয়াক্তে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই অন্য জেলা বা বিভাগে অবস্থানকারী মুসল্লিদের নিজ এলাকার জন্য প্রযোজ্য নির্ভরযোগ্য সময়সূচি অনুসরণ করা উচিত।

উল্লেখ্য, নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণে সূর্যের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বছরের বিভিন্ন সময়ে সময় পরিবর্তিত হয়। এ কারণে প্রতিদিনের হালনাগাদ সময়সূচি দেখে নামাজ আদায় করা সুবিধাজনক।

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন


২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১৯:২৪:৫৭
২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা এবং নতুন ইসলামি বর্ষ শুরুর সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র। তবে এসব ধর্মীয় উৎসবের চূড়ান্ত দিনক্ষণ সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈজ্ঞানিক গণনার সাথে বাস্তব ক্ষেত্রে এক-দুই দিনের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।

ইসলামি চন্দ্র বর্ষপঞ্জির প্রতিটি মাস সাধারণত ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়ে থাকে, যা সরাসরি নির্ভর করে নতুন চাঁদের দৃশ্যমানতার ওপর। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতি আরবি মাস শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে দেশটির জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এবং তাদের সিদ্ধান্তের আলোকেই যাবতীয় ধর্মীয় উৎসবের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রাথমিক হিসাব পর্যালোচনা করে জানানো হয়েছে, ২০২৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার অথবা ৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার রমজানের নতুন চাঁদ উদিত হতে পারে। তবে ৬ ফেব্রুয়ারি বা ২৯ শাবানের সন্ধ্যায় আরব আমিরাতসহ ভৌগোলিক অবস্থানভেদে চাঁদ স্পষ্ট দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, কারণ ওই সময়ে সূর্যাস্তের পূর্বেই চাঁদ অস্ত যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা বিবেচনায় দেশটিতে ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হতে পারে।

পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি এবং শাওয়াল মাসের শুরুর ওপর ভিত্তি করে ঈদুল ফিতরের সময় নির্ধারিত হবে। বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় শাওয়ালের নতুন চাঁদ আকাশে দেখা গেলে পরদিন ৯ মার্চ মঙ্গলবার ঈদ উদযাপিত হবে। আর যদি সেদিন চাঁদ দেখা না যায় এবং রমজান ৩০ দিন পূর্ণ করে, তবে ১০ মার্চ বুধবার ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে; অর্থাৎ ৯ বা ১০ মার্চের যেকোনো একদিন মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল ফিতর পালনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

পবিত্র হজের সঙ্গে সম্পর্কিত ঈদুল আজহা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়, যার আগের দিন ৯ জিলহজ পালিত হয় পবিত্র আরাফাহ দিবস। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুসারে, ২০২৭ সালের ৬ মে বৃহস্পতিবার বা ৭ মে শুক্রবার জিলহজের চাঁদের দেখা মিলতে পারে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৭ সালের ১৬ মে রবিবার কিংবা ১৭ মে সোমবার ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের মাধ্যমে নতুন বছরের সূচনা ঘটবে জুনের প্রথম সপ্তাহে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, জিলহজ মাসের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে ২০২৭ সালের ৫ জুন শনিবার থেকে ৭ জুন সোমবারের মধ্যে যেকোনো একদিন নতুন ইসলামি বর্ষের প্রথম দিন বা ১ মহররম সূচিত হতে পারে। তবে সমস্ত ধর্মীয় দিবসের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে।

/আশিক


মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন নিয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়ম

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ২০:২০:২৭
মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন নিয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে হজযাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা ও শ্রেণিবিন্যাসের মানদণ্ড অনুমোদন করেছে সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রণালয়। নতুন এই নীতিমালায় আবাসন সুবিধাকে ‘ইকোনমি’ ও ‘ফার্স্ট ক্লাস’—এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করার পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার আবাসন স্থাপনাগুলোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘনসংক্রান্ত তালিকাও প্রণয়ন করা হয়েছে।

সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসর আল-আনসারি জানান, সেবার নিয়ন্ত্রক ও পরিচালন কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মানদণ্ডে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনাগত প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, অতিথি কক্ষ ও অভ্যর্থনা এলাকার মান এবং জরুরি সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিতের ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

সেবার মান বজায় রাখতে লাইসেন্স অনুমোদনের আগে, কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে এবং পরিচালনাকালে—একাধিক ধাপে পরিদর্শন ও তদারকি চালানো হবে। ২০২৭ সালের হজে আবাসনসেবা দিতে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই যাবতীয় প্রস্তুতি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

/আশিক

পাঠকের মতামত: