ইতিহাস, দর্শন ও ইসলাম
হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.): ন্যায়, প্রজ্ঞা ও বিশ্বনেতৃত্বের এক স্বর্ণযুগ

ইসলামের ইতিহাসে হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) এমন এক মহান ব্যক্তিত্ব যিনি শক্তি, সাহস, ন্যায়বিচার, প্রজ্ঞা এবং আল্লাহভীতি দ্বারা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা, নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সাহাবি, এবং এমন এক নেতা যাঁর শাসনকাল মুসলিম সভ্যতার সোনালি যুগ হিসেবে পরিচিত। তাঁর শাসনামলে শুধু ইসলামী সাম্রাজ্য ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হয়নি, বরং প্রশাসনিক কাঠামো, বিচারব্যবস্থা, করনীতি, সামাজিক কল্যাণ এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সংস্কার হয়েছে। পশ্চিমা ঐতিহাসিকরাও স্বীকার করেছেন, তাঁর শাসন ছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম সফল, সুশৃঙ্খল ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসনব্যবস্থার উদাহরণ।
প্রাথমিক জীবন ও পারিবারিক পটভূমি
হযরত ওমর (রা.) ৫৮৩ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় কুরাইশ গোত্রের বানু আদী শাখায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম ছিল খাত্তাব ইবনে নুফাইল এবং মাতার নাম হাতমা বিনতে হাশিম। তাঁর পরিবার কুরাইশদের মধ্যে সামাজিক মর্যাদার দিক থেকে সম্মানিত ছিল, তবে ধনী ছিল না। শৈশব থেকেই ওমর (রা.) ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, সাহসী এবং শারীরিকভাবে বলবান। তিনি তলোয়ার চালনা, ঘোড়সওয়ারি, উটপালন এবং ক্রীড়ায় পারদর্শী ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি আরবি সাহিত্য, কবিতা, বংশাবলি বিদ্যা এবং বক্তৃতাশৈলীতে দক্ষতা অর্জন করেন। সেই সময়ের মক্কার সমাজে বংশগৌরব, বাগ্মিতা এবং শারীরিক সক্ষমতা ছিল নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা—যা ওমর (রা.)-এর মধ্যে শৈশব থেকেই স্পষ্ট ছিল। ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি মক্কার বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং কুরাইশদের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।
ইসলাম গ্রহণের পূর্ববর্তী জীবন
ইসলাম আবির্ভাবের প্রথম দিকে ওমর (রা.) ছিলেন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কঠোর বিরোধীদের একজন। তিনি মুসলমানদের প্রতি শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব পোষণ করতেন এবং তাঁদের ওপর নির্যাতনে অংশ নিতেন। তাঁর কঠোর স্বভাব ও দৃঢ় বিশ্বাস তাঁকে ইসলামের অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ করে তুলেছিল। অনেক ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে যে, এক পর্যায়ে তিনি নবীজীকে হত্যা করার সংকল্প করেছিলেন, যাতে মুসলমানদের আন্দোলন পুরোপুরি দমন করা যায়।
ইসলাম গ্রহণের ঘটনা
তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায় এক ঐতিহাসিক ঘটনায়। নবীজীকে হত্যার উদ্দেশ্যে পথে বের হয়ে তিনি শুনলেন, তাঁর বোন ফাতিমা বিনতে খাত্তাব ও ভগ্নীপতি সাঈদ ইবনে যায়েদ ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তিনি কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পান। সুরা ত্বা-হা’র আয়াত শুনে তাঁর হৃদয় কেঁপে ওঠে। পবিত্র কুরআনের বাণী তাঁর অন্তরে গভীর প্রভাব ফেলে, এবং তিনি উপলব্ধি করেন যে, এটি মানুষের রচিত কোনো কথা নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সত্য।
এই অভিজ্ঞতার পর তিনি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। মুসলমানদের জন্য এটি ছিল এক বিশাল বিজয়, কারণ ওমর (রা.)-এর সাহস, প্রভাব এবং নেতৃত্বগুণ মুসলিম সমাজকে নতুন শক্তি যোগায়। তাঁর ইসলাম গ্রহণের পর থেকেই মুসলমানরা প্রকাশ্যে ইবাদত করতে শুরু করেন।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ভূমিকা
১. নবীজীর সহচর হিসেবে ভূমিকা: ইসলাম গ্রহণের পর হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) শুধুমাত্র একজন সাধারণ অনুসারী হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং তিনি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অন্যতম নিকটতম ও বিশ্বস্ত সহচরে পরিণত হন। বদর, উহুদ, খন্দক, খাইবার এবং হুনায়েনসহ প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ গাজওয়ায় তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং প্রতিটি যুদ্ধে তাঁর অসীম সাহস ও কৌশলগত দক্ষতা নবীজীর জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠে। বদরের যুদ্ধে তাঁর যুদ্ধদক্ষতা মুসলিম বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি করে এবং শত্রুপক্ষের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
ওমর (রা.)-এর চরিত্রে ছিল দৃঢ়তা ও নির্ভীকতা, যা মুসলিম বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলত। তিনি কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পরামর্শেও নবীজীর কাছে মূল্যবান ছিলেন। তাঁর কঠোর মনোভাব এবং সত্যের পক্ষে আপসহীন অবস্থান ইসলামের শত্রুদের মনে এক ধরনের ভয় এবং মুসলমানদের মনে নিরাপত্তার অনুভূতি সৃষ্টি করেছিল।
২. হিজরত: মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় অধিকাংশ মুসলমান গোপনে রাতের আঁধারে শহর ত্যাগ করেছিলেন, কারণ কুরাইশরা মুসলমানদের হিজরত ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছিল। কিন্তু ওমর (রা.)-এর সাহস ছিল অতুলনীয়। তিনি প্রকাশ্যে মক্কার কাবাঘরে গিয়ে কুরাইশদের নেতৃবৃন্দের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন,
“যে তার স্ত্রীকে বিধবা করতে চায়, সন্তানকে পিতৃহীন করতে চায়, সে যেন পথে এসে আমাকে বাধা দেয়।”
এই ঘোষণা শুধু ব্যক্তিগত সাহসিকতার প্রকাশই ছিল না, বরং এটি মুসলমানদের জন্য এক বিশাল প্রেরণা হয়ে ওঠে। তাঁর এই কর্মে মক্কার ইসলামের শত্রুরা বুঝে যায় যে মুসলমানরা আর ভীত-সন্ত্রস্ত জনগোষ্ঠী নয়; বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস ও আত্মত্যাগের মানসিকতা অর্জন করেছে। ইসলামী ইতিহাসে এ ঘটনা অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
৩. হুদায়বিয়ার সন্ধি ও পরবর্তী ঘটনা: হিজরতের ছয় বছর পর ৬ হিজরিতে (৬২৮ খ্রিঃ) নবী মুহাম্মদ (সা.) ও মুসলিম বাহিনী কাবা শরিফে ওমরাহ আদায়ের উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে অগ্রসর হন। কুরাইশদের বাধার কারণে মক্কার উপকণ্ঠে হুদায়বিয়া নামক স্থানে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা মুসলমানদের জন্য আপাতদৃষ্টিতে অসম এবং অপমানজনক মনে হয়েছিল। চুক্তির শর্তগুলোর মধ্যে ছিল—সেই বছর মুসলমানরা উমরাহ করতে পারবে না, এবং মক্কা থেকে কেউ মদিনায় গেলে তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে; তবে মদিনা থেকে কেউ মক্কায় গেলে তাকে ফেরত দিতে হবে না।
এই শর্তগুলো শুনে ওমর (রা.)-এর মন বিদীর্ণ হয়ে যায়। তিনি নবীজীর কাছে প্রশ্ন করেন, “আমরা কি সত্য ধর্মে নেই? আল্লাহ কি আমাদের সহায় নন?” নবীজী ধৈর্যের সাথে উত্তর দেন, “অবশ্যই।” তবুও তাঁর অন্তরে কষ্ট থেকে যায়। কিন্তু কয়েক মাস পর এই চুক্তির সুফল স্পষ্ট হয়—যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইসলাম দ্রুত প্রসার লাভ করে, বহু মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ইসলাম গ্রহণ করে এবং মুসলিম রাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়। তখন ওমর (রা.) স্বীকার করেন, নবীজীর দূরদর্শিতা সত্যিই অসাধারণ ছিল এবং এই চুক্তি ছিল কৌশলগত বিজয়ের এক মাইলফলক।
৪. নবীজীর ইন্তেকালের পর: ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ইন্তেকালের সংবাদ শোনার পর ওমর (রা.) গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তিনি প্রথমে বাস্তবতা মেনে নিতে অস্বীকার করেন এবং ক্রোধভরে বলেন, “যে বলবে মুহাম্মদ (সা.) ইন্তেকাল করেছেন, আমি তার মাথা উড়িয়ে দেব। বরং তিনি মূসা (আ.)-এর মতো আল্লাহর কাছে গেছেন এবং আবার ফিরে আসবেন।”
এই পরিস্থিতিতে আবু বকর সিদ্দিক (রা.) মসজিদে এসে কুরআনের আয়াত পাঠ করেন—
“মুহাম্মদ কেবল একজন রাসূল; তাঁর পূর্বে বহু রাসূল অতিবাহিত হয়েছেন। তিনি যদি মারা যান অথবা নিহত হন, তবে কি তোমরা পেছনে ফিরে যাবে?” (সূরা আলে ইমরান: ১৪৪)
এই আয়াত শোনার পর ওমর (রা.) যেন বাস্তবতায় ফিরে আসেন এবং তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রুধারা প্রবাহিত হয়। তিনি উপলব্ধি করেন, আল্লাহর রাসূলের ইন্তেকাল এক বাস্তবতা এবং উম্মাহকে এখন ঐক্যবদ্ধ থেকে নতুন নেতৃত্বের অধীনে অগ্রসর হতে হবে। এই ঘটনার মাধ্যমে তাঁর আন্তরিকতা, নবীজীর প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং সত্য মেনে নেওয়ার বিনয়ী মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
খেলাফতকাল (৬৩৪–৬৪৪ খ্রিঃ): হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর ইন্তেকালের পর ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর দশ বছরের শাসনকাল ইসলামী ইতিহাসের এক সুবর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত, কারণ এই সময়ে ইসলামী রাষ্ট্র অভূতপূর্ব ভূখণ্ড বিস্তার, প্রশাসনিক কাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে।
প্রশাসনিক সংস্কার
প্রদেশ ব্যবস্থা: ওমর (রা.)-এর শাসনামলে দ্রুত বিস্তৃত সাম্রাজ্যকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য তিনি একে বিভিন্ন প্রদেশ ও প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করেন। প্রতিটি প্রদেশে গভর্নর (আমির) নিয়োগ করা হতো, যাঁরা প্রশাসন, কর আদায়, আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের কল্যাণের দায়িত্ব পালন করতেন। বড় প্রদেশগুলো আবার জেলায় বিভক্ত ছিল, যাতে স্থানীয় পর্যায়ে শাসন কার্যক্রম দ্রুত ও দক্ষতার সাথে পরিচালিত হয়।
দায়িত্বরতদের জবাবদিহিতা: ওমর (রা.) কর্মকর্তাদের আর্থিক ও নৈতিক জবাবদিহিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। তিনি গভর্নর ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব রাখতে বাধ্য করতেন এবং দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরে তাঁদের সম্পদ তালিকা সংগ্রহ করতেন, যাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যায়। দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে তিনি বিনা দ্বিধায় তাঁদের অপসারণ করতেন।
দেওয়ান ব্যবস্থা: তাঁর আমলে প্রবর্তিত দেওয়ান ছিল প্রশাসনিক নথিপত্র সংরক্ষণ ও বেতন ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সুশৃঙ্খল রেজিস্ট্রি সিস্টেম। এতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের নাম, পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও বেতন নির্ধারণের রেকর্ড রাখা হতো। এটি ছিল মুসলিম রাষ্ট্রে প্রথম আধুনিক আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তি।
জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ: ওমর (রা.) মদিনার মসজিদে নিয়মিত বসে জনতার অভিযোগ ও পরামর্শ শুনতেন। এভাবে তিনি সাধারণ জনগণকে শাসকের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দেন, যা একাধারে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করত। তিনি রাত্রিকালীন টহলেও বের হতেন, যাতে নিজ চোখে জনগণের অবস্থা দেখতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা সমাধান করতে পারেন।
অর্থনৈতিক সংস্কার
বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা: ওমর (রা.) রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনার জন্য বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা করেন। এতে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, কর, খাজনা ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় আয় জমা রাখা হতো এবং তা জনকল্যাণে ব্যয় করা হতো। তিনি এই তহবিলের অপচয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন।
ভূমি কর ও খাজনা ব্যবস্থা: তিনি কৃষিজমি ও অন্যান্য উৎপাদনশীল সম্পদের ওপর ন্যায়সঙ্গত কর আরোপ করেন। মুসলিম ও অমুসলিম উভয়েই কর দিত, তবে করহার ছিল সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নির্ধারিত। যুদ্ধবন্দী ও চুক্তিভিত্তিক অমুসলিম প্রজারা জিজিয়া কর দিত, কিন্তু বিনিময়ে রাষ্ট্র তাঁদের জীবন, সম্পদ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করত।
গরিব ও এতিমদের জন্য ভাতা:তাঁর শাসনামলে দরিদ্র, এতিম, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য নিয়মিত ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা ছিল, যা ইতিহাসে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উদাহরণ। শিশুদের জন্য দুধ ও খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
বিচার ব্যবস্থা
কাজী নিয়োগ: তিনি প্রতিটি প্রদেশে স্বতন্ত্র বিচার বিভাগ গঠন করেন এবং সেখানকার জন্য ন্যায়পরায়ণ ও যোগ্য বিচারক (কাজী) নিয়োগ করেন। কাজীরা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন, এবং শাসক পর্যন্ত তাঁদের সিদ্ধান্ত মেনে চলতেন।
আইনের শাসন: ওমর (রা.) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, শাসকসহ সকলেই আইনের অধীন। একাধিক ঘটনায় দেখা যায়, তিনি সাধারণ নাগরিকের মতো আদালতে হাজির হয়েছেন এবং মামলার রায় নিজের বিপক্ষে গেলে তা বিনা আপত্তিতে মেনে নিয়েছেন। তাঁর এই নীতি আইনের শাসনের প্রকৃত রূপ তুলে ধরে, যা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সামরিক ও ভূখণ্ড বিস্তার: হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর খেলাফতকাল ইসলামী সাম্রাজ্যের ভূখণ্ড বিস্তারের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব সময় হিসেবে চিহ্নিত। মাত্র দশ বছরের শাসনামলে তিনি ইসলামী রাষ্ট্রকে আরব উপদ্বীপের বাইরে প্রসারিত করে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং পারস্যের বিশাল অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করেন। এই বিস্তার ছিল শুধু সামরিক শক্তির ফল নয়, বরং দক্ষ কৌশল, শৃঙ্খলাবদ্ধ সেনাবাহিনী, ন্যায়নিষ্ঠ শাসননীতি এবং বিজিত জনগণের সাথে মানবিক আচরণের সমন্বিত ফল।
পারস্য জয়: পারস্যের সাসানীয় সাম্রাজ্য তখনকার বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল। তবে ধারাবাহিক সংঘর্ষে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং ওমর (রা.)-এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী এই সুযোগকে কাজে লাগায়।
কাদিসিয়ার যুদ্ধ (৬৩৬ খ্রিঃ): এই ঐতিহাসিক যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী সাসানীয় সেনাদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে। যুদ্ধটি কয়েক দিন ধরে চলে এবং মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)।
নাহাওয়ান্দের যুদ্ধ (৬৪২ খ্রিঃ): “বিজয়ের বিজয়” নামে পরিচিত এই যুদ্ধের মাধ্যমে সাসানীয় সাম্রাজ্যের পতন সম্পূর্ণ হয়। পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যেই পারস্য সম্পূর্ণ মুসলিম শাসনের অধীনে আসে।এই বিজয় শুধু ভৌগোলিক বিস্তারই নয়, বরং ইসলামী সভ্যতার সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করে, কারণ পারস্যের উন্নত প্রশাসনিক পদ্ধতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ইসলামী রাষ্ট্রে যুক্ত হয়।
রোমান ভূখণ্ড জয়:পূর্ব রোমান বা বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যও তখন মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করছিল। তবে একাধিক যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে।
ইয়ামুকের যুদ্ধ (৬৩৬ খ্রিঃ): সিরিয়ার ইয়ামুক নদীর তীরে সংঘটিত এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিশাল বিজয় অর্জন করে, যার ফলে সিরিয়া এবং প্যালেস্টাইন মুসলিম শাসনের অধীনে আসে। এই যুদ্ধে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) অসামান্য নেতৃত্বের পরিচয় দেন।
মিশর বিজয় (৬৩৯–৬৪২ খ্রিঃ): আমর ইবনে আস (রা.)-এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী মিশর জয় করে। মিশরের কপটিক খ্রিস্টান জনগণ রোমান শাসনের নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেয়ে মুসলিম শাসনকে স্বাগত জানায়।
এই বিজয়গুলো মুসলিম রাষ্ট্রকে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও কৌশলগত অবস্থানে শক্তিশালী করে তোলে।
জেরুজালেম দখল:
জেরুজালেম ছিল খ্রিস্টান ও ইহুদিদের জন্য পবিত্র নগরী। ইয়ামুক যুদ্ধে বাইজান্টাইন বাহিনী পরাজিত হওয়ার পর নগরীর নেতারা আত্মসমর্পণের শর্তে ওমর (রা.)-এর কাছে চাবি হস্তান্তর করতে সম্মত হয়, তবে শর্ত ছিল যে, খলিফা নিজে এসে চাবি গ্রহণ করবেন।
ওমর (রা.) সাধারণ পোশাকে, এক উট ও একজন খাদেমসহ মদিনা থেকে জেরুজালেমে আসেন। তাঁর সরলতা, ন্যায়বিচার ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা খ্রিস্টান নেতাদের মুগ্ধ করে। তিনি শহরে প্রবেশ করে খ্রিস্টান ও ইহুদিদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেন এবং তাঁদের উপাসনালয় রক্ষা করার নির্দেশ দেন। এই ঘটনা ইসলামী শাসনের সহিষ্ণুতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
সাফল্য ও অবদান
ন্যায়বিচারের প্রতীক – “আল-ফারুক”: ওমর (রা.)-এর অটল ন্যায়পরায়ণতার কারণে তিনি “আল-ফারুক” উপাধি লাভ করেন, যার অর্থ সত্য ও মিথ্যার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্যকারী। তাঁর শাসনে ধনী-গরিব, মুসলিম-অমুসলিম—সকলের জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা হতো।
রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের আধুনিকীকরণ: তাঁর শাসনে প্রদেশভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো, কর ব্যবস্থা, সেনাবাহিনীর রেজিস্ট্রি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ডাক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। এটি ছিল মুসলিম বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক সংস্কার।
সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা: তিনি দরিদ্র, এতিম, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য নিয়মিত ভাতা চালু করেন। যুদ্ধাহত সৈনিকদের জন্যও রাষ্ট্রীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেন।
শিক্ষা ও জ্ঞান বিস্তার: নতুন অঞ্চলে মসজিদ ও মক্তব প্রতিষ্ঠা করে কুরআন শিক্ষা ও সাধারণ জ্ঞানচর্চার প্রসার ঘটান। বিজিত এলাকায় ইসলামী শিক্ষা ও স্থানীয় জ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটাতে সহায়তা করেন।
ধর্মীয় সহিষ্ণুতা: বিজিত অমুসলিম জনগণকে তাঁদের ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন এবং তাঁদের উপাসনালয় সংরক্ষণ করেন। তিনি চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তা ও কর ব্যবস্থার মাধ্যমে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করেন।
রাস্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন: তিনি সড়ক, সেতু, কূপ, খাল এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা উন্নত করেন। ডাক ব্যবস্থা ও সীমান্ত প্রতিরক্ষা জোরদার করেন, যা বাণিজ্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।
শহীদ হওয়া
৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে ফজরের নামাজ আদায়ের সময় এক অমুসলিম দাস আবু লুলু ফিরোজ তাঁকে ছুরিকাঘাত করে। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে তিনি শুরা কমিটি গঠন করে পরবর্তী খলিফা নির্বাচন করার নির্দেশ দেন। তাঁকে মদীনায় নবীজীর পাশে দাফন করা হয়।
ইতিহাসে স্থান ও প্রভাব
হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) কেবল ইসলামের দ্বিতীয় খলিফাই নন, তিনি ছিলেন এমন এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি নেতৃত্ব, প্রশাসনিক প্রজ্ঞা ও নৈতিক দৃঢ়তার মাধ্যমে বিশ্ব ইতিহাসে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন। তাঁর কঠোর ন্যায়বিচার, দৃঢ় প্রশাসন, স্বচ্ছ জবাবদিহিতা এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে অবিচল মনোভাব তাঁকে মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে।
তাঁর শাসনকাল প্রমাণ করেছে যে একটি রাষ্ট্র কেবল সামরিক শক্তি বা ভূখণ্ড বিস্তারের মাধ্যমে নয়, বরং সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং নৈতিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ হতে পারে। ওমর (রা.) এমন এক কাঠামোগত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে প্রদেশভিত্তিক শাসন, করনীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সামরিক সংগঠন এবং সামাজিক নিরাপত্তা একে অপরের সাথে সমন্বিত ছিল। এই মডেল পরবর্তী শতাব্দীগুলিতে মুসলিম সাম্রাজ্যের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
আধুনিক ঐতিহাসিক, বিশেষত পশ্চিমা গবেষকরাও তাঁকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ব্রিটিশ ঐতিহাসিক থমাস আর্নল্ড ও জর্জ সার্টন তাঁর শাসনকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নৈতিক নেতৃত্বের বিরল সমন্বয় বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি অমুসলিম গবেষকরাও স্বীকার করেছেন, তাঁর শাসনব্যবস্থা ছিল অগ্রসরমান রাষ্ট্র পরিচালনার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
তাঁর নেতৃত্বে ইসলামী রাষ্ট্র শুধু ভূখণ্ডগতভাবে নয়, বরং প্রশাসনিক ও নৈতিক ক্ষেত্রেও এক সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী রূপ লাভ করে। তিনি রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যেমন কঠোর ছিলেন, তেমনি দরিদ্র, এতিম, বিধবা ও অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় ছিলেন অসীম সহৃদয়। ফলে বিজিত অঞ্চলের অনেক জনগণ মুসলিম শাসনকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে, যা ইসলামের শান্তিপূর্ণ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ওমর (রা.)-এর মৃত্যুর পরও তাঁর প্রবর্তিত নীতি, আইন ও সংস্কার শতাব্দীর পর শতাব্দী মুসলিম শাসনব্যবস্থায় কার্যকর ছিল। তাঁর ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, এবং জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ পরবর্তী খলিফা, শাসক ও নেতাদের জন্য আদর্শ হয়ে থাকে।
হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) ছিলেন এমন এক বিরল চরিত্র, যাঁর জীবন মুসলিম উম্মাহর জন্য অনন্ত অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনার উৎস। ইসলাম গ্রহণের আগে একজন দৃঢ় প্রতিপক্ষ থেকে তিনি রূপান্তরিত হয়েছিলেন ইসলামের এক অকুতোভয় রক্ষক ও সংস্কারক নেতায়। তাঁর খেলাফতের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল ঈমান, সাহস, ন্যায়বিচার, বিনয় এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রতিফলন।
তিনি প্রমাণ করেছিলেন, একজন শাসকের শক্তি কেবল সামরিক ক্ষমতায় নয়, বরং ন্যায়পরায়ণতা, সততা, এবং প্রজাদের কল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্বে নিহিত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত নীতি ও দৃষ্টান্ত কেবল ইসলামী সভ্যতার সোনালি অধ্যায় রচনা করেনি, বরং মানব ইতিহাসেও আদর্শ রাষ্ট্রনায়কত্বের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তাঁর জীবন ও শাসন আজও আমাদের শেখায়—ন্যায় ও সত্যের পথে অবিচল থাকলে একটি জাতি শুধু টিকে থাকে না, বরং ইতিহাসে অমর হয়ে যায়।
জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের ওয়াক্ত
ইসলামের পাঁচটি মূল রুকন বা স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম এবং এটি পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। মুমিনের ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। পরকালে বা কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষের কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেবেন। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজ আদায়ের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে। তাই দৈনন্দিন জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজ মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বাংলা এবং ২১ শাবান ১৪৪৭ হিজরি।
ফজর: ৫টা ১৮ মিনিট (নামাজের শেষ সময় ৬টা ৩৫ মিনিট)
জোহর: ১২টা ১৩ মিনিট
আসর: ৪টা ১২ মিনিট
মাগরিব: ৫টা ৫১ মিনিট
এশা: ৭টা ০৬ মিনিট
উল্লেখ্য যে, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে নামাজের সময় কিছুটা পরিবর্তিত হয়। উপরোক্ত সময়সূচি মূলত ঢাকার সময়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় একইভাবে কার্যকর হবে। তবে এলাকাভেদে সময়ের ১ থেকে ১০ মিনিটের ব্যবধান হতে পারে।
জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের ওয়াক্ত
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে ইমান বা বিশ্বাসের পরপরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। পরকালে হাশরের ময়দানে বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করা মুমিন মুসলমানের জন্য অপরিহার্য।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সময়সূচি
জোহর: দুপুর ১২টা ১৩ মিনিট
আসর: বিকেল ৪টা ১৪ মিনিট
মাগরিব: সন্ধ্যা ৫টা ৫৪ মিনিট
এশা: রাত ৭টা ০৭ মিনিট
ফজর (আগামীকাল মঙ্গলবার): ভোর ৫টা ১৮ মিনিট
ঢাকার সময়ের সাথে নির্দিষ্ট কিছু সময়ের যোগ বা বিয়োগ করে আপনার এলাকার নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণ করে নিন
বিয়োগ করতে হবে
চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট
সিলেট: ০৬ মিনিট
যোগ করতে হবে
খুলনা: ০৩ মিনিট
রাজশাহী: ০৭ মিনিট
রংপুর: ০৮ মিনিট
বরিশাল: ০১ মিনিট
উল্লেখ্য যে, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অবস্থান ভেদে সময়ের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। মাগরিবের নামাজ সূর্যাস্তের পরপরই আদায় করা সুন্নত।
হজযাত্রীদের জন্য সুখবর:হজের অনেক আগেই ভিসা ইস্যু শুরু করছে সৌদি আরব
পবিত্র হজের প্রস্তুতি আরও সহজ ও নিখুঁত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) হজ মৌসুমের জন্য আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) থেকেই হজের ভিসা ইস্যু করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সাধারণত হজের কয়েক মাস আগে ভিসা দেওয়া হলেও এবার কয়েক মাস আগেই এই প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘গালফ নিউজ’ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজযাত্রীদের সৌদি আরবে আগমনের অনেক মাস আগেই যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং সেবার মান বিশ্বমানে উন্নীত করার লক্ষ্যেই এই আগাম ভিসা ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত একটি বিস্তারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের প্রাথমিক প্রস্তুতি মূলত শুরু হয়েছিল ৮ জুন ২০২৫ তারিখ থেকেই। ওই দিন বিশ্বব্যাপী হজ বিষয়ক অফিসগুলোর কাছে প্রাথমিক পরিকল্পনাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি পাঠানো হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘নুসুক মাসার’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোকে পবিত্র স্থানগুলোর (মিনা-আরাফাত) ক্যাম্পসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের অ্যাক্সেস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পরিকল্পনা, পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় পাচ্ছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, গত বছরের ১লা রবিউল আউয়াল থেকেই আবাসন ও মৌলিক সেবাসংক্রান্ত প্রাথমিক চুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের মধ্যেই সকল দেশের সাথে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক এবং হজযাত্রী নিবন্ধনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়াও চলতি জমাদিউল আউয়াল মাসে বড় পরিসরের সেবাচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে একটি বিশেষ হজ সেবা প্রদর্শনীরও আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষের। মূলত হজযাত্রীরা যাতে কোনো প্রকার বিড়ম্বনা ছাড়াই হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্যই কয়েক মাস হাতে রেখেই ভিসা কার্যক্রম শুরুর এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দিল সৌদি আরব।
রোববারের নামাজের সময়: কখন কোন ওয়াক্ত
ইসলামের পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম এবং এটি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে মানুষের কাছে প্রথম হিসাব নেওয়া হবে এই নামাজের। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরেও ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজ আদায়ের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। জীবনের শত ব্যস্ততা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত।
আজ রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ২৫ মাঘ ১৪৩২ এবং হিজরি ১৯ শাবান ১৪৪৭। ধর্মপ্রাণ পাঠকদের সুবিধার্থে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সঠিক সময়সূচি
আজ রোববার জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটে।
আসরের নামাজ আদায়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বিকেল ৪টা ১১ মিনিট।
সূর্যাস্তের পর মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৩ মিনিটে এবং এশার নামাজের সময় হবে রাত ৭টা ০৭ মিনিট।
এছাড়া আগামীকালের (সোমবার) ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫টা ২২ মিনিটে।
ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের অন্যান্য প্রধান বিভাগীয় শহরগুলোর সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সঙ্গে কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করে নিতে হয়।
যেমন—চট্টগ্রামে ৫ মিনিট এবং সিলেটে ৬ মিনিট বিয়োগ করে নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণ করতে হবে। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগে ১ মিনিট, খুলনায় ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট যোগ করে সঠিক সময় জেনে নিতে হবে।
যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত ও সঠিক হিসাব পদ্ধতি
যাকাত ইসলামের একটি মৌলিক অর্থনৈতিক বিধান, যা সমাজে সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করে এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। শরিয়ত অনুযায়ী, যিনি সাহেবে নিসাব অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দেওয়ার পর সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ কিংবা তার সমমূল্যের সম্পদের মালিক, তাঁর জন্য যাকাত আদায় করা ফরজ। নির্ধারিত এক চন্দ্রবছর শেষে সঞ্চিত যাকাতযোগ্য সম্পদের ওপর ২ দশমিক ৫ শতাংশ বা এক চল্লিশ ভাগ হারে যাকাত প্রদান করতে হয়।
যাকাতের আওতায় মূলত নগদ অর্থ, ব্যাংকে সঞ্চিত টাকা, স্বর্ণ ও রূপা, ব্যবসায়িক পণ্য, শেয়ার ও বিনিয়োগের সম্পদ অন্তর্ভুক্ত হয়। হিসাব করার সময় প্রথমে সব যাকাতযোগ্য সম্পদের মোট মূল্য নির্ধারণ করতে হয়। এরপর ওই সম্পদ থেকে চলতি দেনা বা ঋণের পরিমাণ বাদ দিতে হয়। দেনা বাদ দেওয়ার পর যে নিট সম্পদ থাকে, তার ওপর ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে যাকাত হিসাব করা হয়। ইসলামী অর্থনীতিবিদদের মতে, যাকাতের এই পদ্ধতি সম্পদকে স্থবির না রেখে সমাজের প্রবাহে যুক্ত রাখে।
যাকাত ফরজ হওয়ার মূল শর্ত হলো নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া। সাধারণভাবে নিসাব ধরা হয় ৫২ দশমিক ৫ তোলা বা প্রায় ৬১২ গ্রাম রূপা, কিংবা ৭ দশমিক ৫ তোলা বা প্রায় ৮৭ দশমিক ৫ গ্রাম স্বর্ণ। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ আলেম রূপার নিসাবকে ভিত্তি ধরে হিসাব করার পরামর্শ দেন, কারণ এতে দরিদ্র মানুষের উপকার বেশি হয়। যদি কারও কাছে এই নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর পূর্ণ থাকে, তবে তার ওপর যাকাত আদায় করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।
যাকাতযোগ্য সম্পদের মধ্যে নগদ টাকা, ব্যাংক হিসাবের অর্থ, ব্যবসার পণ্য ও পাওনা অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকে। স্বর্ণালংকার ব্যবহৃত হলেও অনেক আলেমের মতে তার ওপর যাকাত প্রযোজ্য, যদিও এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে সন্দেহ এড়াতে অলংকারের ওপরও যাকাত দেওয়া উত্তম বলে মনে করেন অনেক ফকিহ। অন্যদিকে বসবাসের বাড়ি, ব্যবহৃত গাড়ি, আসবাবপত্র বা দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী যাকাতের আওতায় পড়ে না।
সহজভাবে যাকাত হিসাব করতে হলে প্রথমে সব যাকাতযোগ্য সম্পদের বাজারমূল্য যোগ করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক দেনা বাদ দিতে হবে। অবশিষ্ট যে নিট সম্পদ থাকবে, তার এক চল্লিশ ভাগই হলো যাকাতের পরিমাণ। অর্থাৎ এক লাখ টাকার নিট সম্পদের জন্য যাকাত হবে ২ হাজার ৫০০ টাকা।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো ব্যক্তির কাছে যদি ১ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং ২ লাখ টাকার ব্যবসায়িক পণ্য থাকে, তাহলে মোট সম্পদ দাঁড়ায় ৩ লাখ টাকা। যদি তার ওপর ৫০ হাজার টাকা ঋণ থাকে, তবে নিট সম্পদ হবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই টাকার ২ দশমিক ৫ শতাংশ হিসাব করলে যাকাতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ হাজার ২৫০ টাকা, যা তাকে নির্ধারিত খাতে ব্যয় করতে হবে।
শনিবারের নামাজের সময়: কখন কোন ওয়াক্ত
আজ শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আজ ২৪ মাঘ ১৪৩২ এবং হিজরি ক্যালেন্ডারে ১৮ শাবান ১৪৪৭। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নামাজের সময় নির্ধারিত হয়। সে অনুযায়ী আজ জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে। দিনের দ্বিতীয় ফরজ নামাজ আসরের সময় প্রবেশ করবে বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে।
সন্ধ্যার দিকে সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ আদায় করতে হবে। আজ ঢাকায় মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিটে। এরপর এশার নামাজের সময় শুরু হবে রাত ৭টা ০৭ মিনিটে।
আগামীকাল রোববারের ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে। নামাজের সময়সূচি অনুযায়ী আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ঘটবে সকাল ৬টা ৩৭ মিনিটে।
ইমাম ও ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত নামাজ আদায়ের জন্য স্থানীয় সময়সূচি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভৌগোলিক অবস্থানভেদে নামাজের সময় কয়েক মিনিট এদিক-সেদিক হতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।
হজের ভিসা নিয়ে বড় ঘোষণা সৌদি কর্তৃপক্ষের
পবিত্র হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে হজযাত্রীদের জন্য ভিসা কার্যক্রমের সূচি ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম Geo News জানায়, হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর প্রায় চার মাস আগেই ভিসা প্রক্রিয়া চালু করার মাধ্যমে সৌদি কর্তৃপক্ষ আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছে। একই তথ্য নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম Saudi Gazette।
সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আগাম উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো হজ ব্যবস্থাপনার মান আরও উন্নত করা, যাত্রীদের ভিড় কমানো এবং সার্বিক সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা। এই পদক্ষেপ সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা Vision 2030–এর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হজ ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় সব সেবার শতভাগ চুক্তি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল Nusuk Platform–এর মাধ্যমে মক্কার সব আবাসনসংক্রান্ত চুক্তিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত লাখ (৭৫০,০০০) হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার যাত্রী নিজ নিজ দেশ থেকে সরাসরি হজ প্যাকেজ বুক করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে ৪৮৫টি ক্যাম্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭৩টি হজবিষয়ক দপ্তর তাদের প্রাথমিক চুক্তি ও লজিস্টিক প্রস্তুতি শেষ করেছে, যা এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সংগঠিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য নির্দেশনা
এদিকে বাংলাদেশ থেকে ২০২৬ সালের হজে অংশগ্রহণে আগ্রহী সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমে নিবন্ধিত সব হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক হজযাত্রীকে সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নির্ধারিত টিকাকেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহণ করে ফিটনেস সনদ সংগ্রহ করতে হবে।
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চের মধ্যে ভিসার জন্য আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিবন্ধিত দেশীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো হজযাত্রীকে হজে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। হজযাত্রী পরিবহনের জন্য বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে ১৮ এপ্রিল।
-রফিক
আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন কখন কোন ওয়াক্তের শুরু
ইসলামের মৌলিক পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে ইমানের পরেই নামাজের অবস্থান। পরকালে মুক্তির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথা সময়ে আদায় করা প্রতিটি মুমিনের জন্য অপরিহার্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলনামার মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। তাই পার্থিব শত ব্যস্ততার মাঝেও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি ইসলামি বিধান অনুযায়ী আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে।
আসরের নামাজ আদায়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বিকেল ৪টা ১১ মিনিট।
সূর্যাস্তের পর মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে এবং এশার নামাজের সময় হবে রাত ৭টা ০৫ মিনিটে।
এ ছাড়া আগামীকাল শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র ফজর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে।
বিভিন্ন বিভাগের জন্য সময় সমন্বয় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগে ০৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগে ০৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে।
অন্যদিকে, খুলনা বিভাগে ০৩ মিনিট, রাজশাহী বিভাগে ০৭ মিনিট, রংপুর বিভাগে ০৮ মিনিট এবং বরিশাল বিভাগে ০১ মিনিট যোগ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। মুমিন মুসলমানের উচিত নিজ নিজ এলাকায় আজানের ধ্বনি শোনার সাথে সাথে মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা।
নবজাতকের চুল কবে কাটবেন? জেনে নিন ইসলামি বিধান ও হাদিসের নির্দেশনা
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার সপ্তম দিনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুস্তাহাব আমল পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো শিশুর আকিকা করা, নাম রাখা এবং মাথার চুল মুণ্ডন করা। তবে শিশুর শারীরিক অবস্থা এবং অভিভাবকদের সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে এই বিধানগুলো পালনে নমনীয়তা রয়েছে। সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে তার মাথার চুল মুণ্ডন করা সুন্নত বা মুস্তাহাব আমল। এ প্রসঙ্গে সুনানে আবু দাউদের ২৮৩৮ নম্বর হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, "প্রতিটি শিশু আকিকার সাথে দায়বদ্ধ থাকে। তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু জবাই করবে, নাম রাখবে ও মাথা মুণ্ডন করে দিবে।" হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী সপ্তম দিনে চুল কাটা উত্তম। যদি কেউ আর্থিক কারণে আকিকা করতে বিলম্ব করেন, তবুও সপ্তম দিনে শিশুর নাম রাখা এবং মাথা মুণ্ডন করার আমলটি সম্পন্ন করা উচিত। তবে মনে রাখা জরুরি যে, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সপ্তম দিনের আগে মাথা মুণ্ডন না করাই শ্রেয়।
শিশুর প্রথম চুল কাটার পর সেই চুলের ওজনে সোনা বা রুপা সদকা করা একটি বিশেষ মুস্তাহাব আমল। সুনানে তিরমিজির ১৫১৯ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রিয় নাতি হাসান (রা.)-এর আকিকার সময় ফাতেমা (রা.)-কে বলেছিলেন, "তার মাথা মুণ্ডন করে দাও এবং চুলের ওজন পরিমাণ রূপা সদকা করে দাও।" আল মু’জামুল আওসাত (৫৫৮) কিতাবে রুপার পাশাপাশি সোনা সদকা করার কথাও বর্ণিত হয়েছে। এই আমলের নিগূঢ় রহস্য বা হেকমত সম্পর্কে প্রখ্যাত আলেম শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) তাঁর ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’ (২/১৪৫) গ্রন্থে লিখেছেন, শিশু যে চুল নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিল তা কেটে ফেলার মাধ্যমে সে একটি নতুন অবস্থানে পদার্পণ করে। এই পরিবর্তনের শুকরিয়াস্বরূপ ওই চুলের বিনিময়ে সদকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদিও সপ্তম দিনে চুল কাটা সুন্নত, তবে এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। যদি অভিভাবকের সামর্থ্য না থাকে বা এটি কষ্টকর হয়, তবে তা না করলে কোনো গুনাহ হবে না। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুদের চামড়া অত্যন্ত পাতলা ও কোমল থাকে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা যদি ইনফেকশন বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় এক মাস বা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চুল কাটতে নিষেধ করেন, তবে সেই পরামর্শ মেনে চলা উচিত। এমন পরিস্থিতিতে সপ্তম দিনে চুল কাটা সম্ভব না হলে কেউ চাইলে চুলের সম্ভাব্য ওজন অনুমান করে সেই পরিমাণ সোনা বা রুপার মূল্য সদকা করে দিতে পারেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী এই বিষয়গুলো পালন করা উত্তম হলেও শিশুর নিরাপত্তা এবং শারীরিক সুস্থতাকে সর্বদা অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাঠকের মতামত:
- নিরাপত্তা থেকে অর্থনীতি: ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানের সামনে কতটা কঠিন পথ?
- দুর্নীতির কাঠামো ভেঙে দিয়েছি: বিদ্যুৎ উপদেষ্টা
- অতীতের সব রেকর্ড ভাঙবে এবারের ভোট? বড় সম্ভাবনার কথা শোনালেন ইসি
- কার কেন্দ্র কোনটি? একনজরে এবি পার্টির ৫ শীর্ষ নেতার ভোটের তথ্য
- টয়লেটের পেস্ট ও টিস্যু খেয়ে বেঁচে ছিল শিশুটি
- বিজয়ীদের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়েই বিদায় নেব; পরবর্তী গন্তব্য জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
- হাসপাতালে ভর্তি রুহুল কবির রিজভী
- প্রকাশিত হলো প্রধান উপদেষ্টাসহ সকল উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব
- কালিগঞ্জে উন্নয়নের নামে লুটপাট প্রশাসনিক অবহেলায় প্রশ্নবিদ্ধ সড়ক নির্মাণ
- ব্যালট পেপার পৌঁছাবে আগামীকাল: ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসি
- ভোটের দ্বারপ্রান্তে কুমিল্লা, জমজমাট ১১ আসন
- সিলেটে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প: উৎপত্তিস্থল নিয়ে আবহাওয়া অফিসের তথ্য
- গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান ড. মিজানুর রহমান আজহারীর
- নির্বাসন থেকে বীরের বেশে ফেরা: দেশের নয়া কাণ্ডারি হওয়ার পথে তারেক রহমান
- অচেনা মুখ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে: ডা. শফিকুর রহমানের নাটকীয় উত্থান
- পাতানো নির্বাচন হলে মেনে নেবে না জামায়াত
- নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ: নজরে পুরো দেশ
- ১০ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১০ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ১০ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- ভোটের দিনে সারা দেশে পাঁচ ধরনের যান চলাচল বন্ধ
- এমপিও শিক্ষকদের অবসরে যুগান্তকারী আইন সংশোধন
- নতুন মন্ত্রিসভার প্রস্তুতি, ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত
- ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিতে যা জানা জরুরি
- রয়টার্স: বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান
- স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে? বন্ধ করুন এই ৫টি ফিচার
- ভোটের দুই দিন আগে সুসংবাদ: বিএনপির ৩ প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা শেষ
- পাকিস্তানের অনড় অবস্থানে লাভবান বাংলাদেশ: মিলল বড় টুর্নামেন্টের দায়িত্ব
- ফলের রস না কি গোটা ফল: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কোনটি নিরাপদ?
- গণসংযোগকালে পান বিক্রেতাকে টাকা: তোপের মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির
- ১২ কোটি ভোটারের মহোৎসব: এক নজরে নির্বাচনের নিয়ম ও প্রস্তুতি
- তরুণদের হাতেই নতুন বাংলাদেশ তুলে দিতে চাই: জামায়াত আমির
- অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন তারেক রহমান, চাইলেন দেশবাসীর দোয়া
- ভোটের দুই দিন আগে বড় চমক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সই
- ব্যয়ের ভারে ভারী নির্বাচন: বিগত সব রেকর্ড ভাঙল এবারের বাজেট
- স্বর্ণের বাজারে নতুন অস্থিরতা: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন চড়া দাম
- শেষ হলো ভোটযুদ্ধ: প্রচার শেষে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ মেলাচ্ছেন প্রার্থীরা
- ১০ ফেব্রুয়ারি: দেখে নিন বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ মঙ্গলবার: রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের ওয়াক্ত
- এক সপ্তাহে বড় লাফ! রিজার্ভে নতুন চমক দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
- আকাশে আসছে নতুন অতিথি: দেখা মিলবে ধূমকেতু ভিয়ারজোসের
- স্বনির্ভর বাংলাদেশের লক্ষ্যে বিটিভিতে তারেক রহমানের বিশেষ ভাষণ
- ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ লড়াই? লাহোরে আইসিসি ও বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- বাইরে থেকে কেউ দেশ গড়ে দেবে না, দায়িত্ব আমাদেরই: তারেক রহমান
- এপস্টেইন মারা যাননি, তিনি বেঁচে আছেন: সাবেক প্রেমিকার চাঞ্চল্যকর দাবি!
- দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় নেমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ডা. মিতু
- ক্ষমতায় গেলে প্রথম দিনেই সংস্কার শুরু হবে: ডা. শফিকুর রহমান
- স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা, ভরি মিলবে ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকাতে
- বাজুসের নতুন রেকর্ড: ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় বাড়ল স্বর্ণের দাম
- আবেগ নয়, অর্থনৈতিক বাস্তবতা: জামায়াতের নারী শ্রমনীতি কেন আত্মঘাতী
- আইনের রক্ষক পুলিশ কেন ভয়ের প্রতীকে পরিণত হয়?
- ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প: বড় কোনো বিপদের সংকেত দিচ্ছে প্রকৃতি?
- পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে কে এগিয়ে? সোচ্চারের জরিপে চমক!
- স্বর্ণের বাজারে বড় দরপতন: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন দাম
- আজ কোন কোন এলাকায় গ্যাস থাকবে না জেনে নিন
- কালিগঞ্জে ধানের শীষের জনসমুদ্র: সাতক্ষীরা-৩ আসনে কাজী আলাউদ্দীনের হুঙ্কার
- ১০ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- শীত নিয়ে বদলাচ্ছে পূর্বাভাস, জেনে নিন বিস্তারিত
- আজ টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- স্বর্ণের বাজারে নতুন অস্থিরতা: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন চড়া দাম
- ৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- আজ শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে








