যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত ও সঠিক হিসাব পদ্ধতি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৯:১৫:০০
যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত ও সঠিক হিসাব পদ্ধতি
ছবি: সংগৃহীত

যাকাত ইসলামের একটি মৌলিক অর্থনৈতিক বিধান, যা সমাজে সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করে এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। শরিয়ত অনুযায়ী, যিনি সাহেবে নিসাব অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দেওয়ার পর সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ কিংবা তার সমমূল্যের সম্পদের মালিক, তাঁর জন্য যাকাত আদায় করা ফরজ। নির্ধারিত এক চন্দ্রবছর শেষে সঞ্চিত যাকাতযোগ্য সম্পদের ওপর ২ দশমিক ৫ শতাংশ বা এক চল্লিশ ভাগ হারে যাকাত প্রদান করতে হয়।

যাকাতের আওতায় মূলত নগদ অর্থ, ব্যাংকে সঞ্চিত টাকা, স্বর্ণ ও রূপা, ব্যবসায়িক পণ্য, শেয়ার ও বিনিয়োগের সম্পদ অন্তর্ভুক্ত হয়। হিসাব করার সময় প্রথমে সব যাকাতযোগ্য সম্পদের মোট মূল্য নির্ধারণ করতে হয়। এরপর ওই সম্পদ থেকে চলতি দেনা বা ঋণের পরিমাণ বাদ দিতে হয়। দেনা বাদ দেওয়ার পর যে নিট সম্পদ থাকে, তার ওপর ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে যাকাত হিসাব করা হয়। ইসলামী অর্থনীতিবিদদের মতে, যাকাতের এই পদ্ধতি সম্পদকে স্থবির না রেখে সমাজের প্রবাহে যুক্ত রাখে।

যাকাত ফরজ হওয়ার মূল শর্ত হলো নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া। সাধারণভাবে নিসাব ধরা হয় ৫২ দশমিক ৫ তোলা বা প্রায় ৬১২ গ্রাম রূপা, কিংবা ৭ দশমিক ৫ তোলা বা প্রায় ৮৭ দশমিক ৫ গ্রাম স্বর্ণ। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ আলেম রূপার নিসাবকে ভিত্তি ধরে হিসাব করার পরামর্শ দেন, কারণ এতে দরিদ্র মানুষের উপকার বেশি হয়। যদি কারও কাছে এই নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর পূর্ণ থাকে, তবে তার ওপর যাকাত আদায় করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।

যাকাতযোগ্য সম্পদের মধ্যে নগদ টাকা, ব্যাংক হিসাবের অর্থ, ব্যবসার পণ্য ও পাওনা অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকে। স্বর্ণালংকার ব্যবহৃত হলেও অনেক আলেমের মতে তার ওপর যাকাত প্রযোজ্য, যদিও এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে সন্দেহ এড়াতে অলংকারের ওপরও যাকাত দেওয়া উত্তম বলে মনে করেন অনেক ফকিহ। অন্যদিকে বসবাসের বাড়ি, ব্যবহৃত গাড়ি, আসবাবপত্র বা দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী যাকাতের আওতায় পড়ে না।

সহজভাবে যাকাত হিসাব করতে হলে প্রথমে সব যাকাতযোগ্য সম্পদের বাজারমূল্য যোগ করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক দেনা বাদ দিতে হবে। অবশিষ্ট যে নিট সম্পদ থাকবে, তার এক চল্লিশ ভাগই হলো যাকাতের পরিমাণ। অর্থাৎ এক লাখ টাকার নিট সম্পদের জন্য যাকাত হবে ২ হাজার ৫০০ টাকা।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো ব্যক্তির কাছে যদি ১ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং ২ লাখ টাকার ব্যবসায়িক পণ্য থাকে, তাহলে মোট সম্পদ দাঁড়ায় ৩ লাখ টাকা। যদি তার ওপর ৫০ হাজার টাকা ঋণ থাকে, তবে নিট সম্পদ হবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই টাকার ২ দশমিক ৫ শতাংশ হিসাব করলে যাকাতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ হাজার ২৫০ টাকা, যা তাকে নির্ধারিত খাতে ব্যয় করতে হবে।


শনিবারের নামাজের সময়: কখন কোন ওয়াক্ত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৮:৪২:১১
শনিবারের নামাজের সময়: কখন কোন ওয়াক্ত
ছবি: সংগৃহীত

আজ শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আজ ২৪ মাঘ ১৪৩২ এবং হিজরি ক্যালেন্ডারে ১৮ শাবান ১৪৪৭। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নামাজের সময় নির্ধারিত হয়। সে অনুযায়ী আজ জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে। দিনের দ্বিতীয় ফরজ নামাজ আসরের সময় প্রবেশ করবে বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে।

সন্ধ্যার দিকে সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ আদায় করতে হবে। আজ ঢাকায় মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিটে। এরপর এশার নামাজের সময় শুরু হবে রাত ৭টা ০৭ মিনিটে।

আগামীকাল রোববারের ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে। নামাজের সময়সূচি অনুযায়ী আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ঘটবে সকাল ৬টা ৩৭ মিনিটে।

ইমাম ও ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত নামাজ আদায়ের জন্য স্থানীয় সময়সূচি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভৌগোলিক অবস্থানভেদে নামাজের সময় কয়েক মিনিট এদিক-সেদিক হতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


হজের ভিসা নিয়ে বড় ঘোষণা সৌদি কর্তৃপক্ষের

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১৩:৫০:১৬
হজের ভিসা নিয়ে বড় ঘোষণা সৌদি কর্তৃপক্ষের
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে হজযাত্রীদের জন্য ভিসা কার্যক্রমের সূচি ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম Geo News জানায়, হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর প্রায় চার মাস আগেই ভিসা প্রক্রিয়া চালু করার মাধ্যমে সৌদি কর্তৃপক্ষ আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছে। একই তথ্য নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম Saudi Gazette।

সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আগাম উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো হজ ব্যবস্থাপনার মান আরও উন্নত করা, যাত্রীদের ভিড় কমানো এবং সার্বিক সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা। এই পদক্ষেপ সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা Vision 2030–এর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

হজ ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি

হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় সব সেবার শতভাগ চুক্তি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল Nusuk Platform–এর মাধ্যমে মক্কার সব আবাসনসংক্রান্ত চুক্তিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত লাখ (৭৫০,০০০) হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার যাত্রী নিজ নিজ দেশ থেকে সরাসরি হজ প্যাকেজ বুক করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে ৪৮৫টি ক্যাম্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭৩টি হজবিষয়ক দপ্তর তাদের প্রাথমিক চুক্তি ও লজিস্টিক প্রস্তুতি শেষ করেছে, যা এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সংগঠিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য নির্দেশনা

এদিকে বাংলাদেশ থেকে ২০২৬ সালের হজে অংশগ্রহণে আগ্রহী সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমে নিবন্ধিত সব হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক হজযাত্রীকে সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নির্ধারিত টিকাকেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহণ করে ফিটনেস সনদ সংগ্রহ করতে হবে।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চের মধ্যে ভিসার জন্য আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিবন্ধিত দেশীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো হজযাত্রীকে হজে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। হজযাত্রী পরিবহনের জন্য বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে ১৮ এপ্রিল।

-রফিক


আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন কখন কোন ওয়াক্তের শুরু 

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ০৯:০৯:২৩
আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন কখন কোন ওয়াক্তের শুরু 
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের মৌলিক পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে ইমানের পরেই নামাজের অবস্থান। পরকালে মুক্তির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথা সময়ে আদায় করা প্রতিটি মুমিনের জন্য অপরিহার্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলনামার মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। তাই পার্থিব শত ব্যস্ততার মাঝেও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি ইসলামি বিধান অনুযায়ী আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে।

আসরের নামাজ আদায়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বিকেল ৪টা ১১ মিনিট।

সূর্যাস্তের পর মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে এবং এশার নামাজের সময় হবে রাত ৭টা ০৫ মিনিটে।

এ ছাড়া আগামীকাল শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র ফজর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে।

বিভিন্ন বিভাগের জন্য সময় সমন্বয় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগে ০৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগে ০৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে, খুলনা বিভাগে ০৩ মিনিট, রাজশাহী বিভাগে ০৭ মিনিট, রংপুর বিভাগে ০৮ মিনিট এবং বরিশাল বিভাগে ০১ মিনিট যোগ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। মুমিন মুসলমানের উচিত নিজ নিজ এলাকায় আজানের ধ্বনি শোনার সাথে সাথে মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা।


নবজাতকের চুল কবে কাটবেন? জেনে নিন ইসলামি বিধান ও হাদিসের নির্দেশনা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১১:৫০:৫১
নবজাতকের চুল কবে কাটবেন? জেনে নিন ইসলামি বিধান ও হাদিসের নির্দেশনা
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার সপ্তম দিনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুস্তাহাব আমল পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো শিশুর আকিকা করা, নাম রাখা এবং মাথার চুল মুণ্ডন করা। তবে শিশুর শারীরিক অবস্থা এবং অভিভাবকদের সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে এই বিধানগুলো পালনে নমনীয়তা রয়েছে। সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে তার মাথার চুল মুণ্ডন করা সুন্নত বা মুস্তাহাব আমল। এ প্রসঙ্গে সুনানে আবু দাউদের ২৮৩৮ নম্বর হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, "প্রতিটি শিশু আকিকার সাথে দায়বদ্ধ থাকে। তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু জবাই করবে, নাম রাখবে ও মাথা মুণ্ডন করে দিবে।" হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী সপ্তম দিনে চুল কাটা উত্তম। যদি কেউ আর্থিক কারণে আকিকা করতে বিলম্ব করেন, তবুও সপ্তম দিনে শিশুর নাম রাখা এবং মাথা মুণ্ডন করার আমলটি সম্পন্ন করা উচিত। তবে মনে রাখা জরুরি যে, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সপ্তম দিনের আগে মাথা মুণ্ডন না করাই শ্রেয়।

শিশুর প্রথম চুল কাটার পর সেই চুলের ওজনে সোনা বা রুপা সদকা করা একটি বিশেষ মুস্তাহাব আমল। সুনানে তিরমিজির ১৫১৯ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রিয় নাতি হাসান (রা.)-এর আকিকার সময় ফাতেমা (রা.)-কে বলেছিলেন, "তার মাথা মুণ্ডন করে দাও এবং চুলের ওজন পরিমাণ রূপা সদকা করে দাও।" আল মু’জামুল আওসাত (৫৫৮) কিতাবে রুপার পাশাপাশি সোনা সদকা করার কথাও বর্ণিত হয়েছে। এই আমলের নিগূঢ় রহস্য বা হেকমত সম্পর্কে প্রখ্যাত আলেম শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) তাঁর ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’ (২/১৪৫) গ্রন্থে লিখেছেন, শিশু যে চুল নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিল তা কেটে ফেলার মাধ্যমে সে একটি নতুন অবস্থানে পদার্পণ করে। এই পরিবর্তনের শুকরিয়াস্বরূপ ওই চুলের বিনিময়ে সদকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যদিও সপ্তম দিনে চুল কাটা সুন্নত, তবে এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। যদি অভিভাবকের সামর্থ্য না থাকে বা এটি কষ্টকর হয়, তবে তা না করলে কোনো গুনাহ হবে না। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুদের চামড়া অত্যন্ত পাতলা ও কোমল থাকে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা যদি ইনফেকশন বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় এক মাস বা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চুল কাটতে নিষেধ করেন, তবে সেই পরামর্শ মেনে চলা উচিত। এমন পরিস্থিতিতে সপ্তম দিনে চুল কাটা সম্ভব না হলে কেউ চাইলে চুলের সম্ভাব্য ওজন অনুমান করে সেই পরিমাণ সোনা বা রুপার মূল্য সদকা করে দিতে পারেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী এই বিষয়গুলো পালন করা উত্তম হলেও শিশুর নিরাপত্তা এবং শারীরিক সুস্থতাকে সর্বদা অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের ওয়াক্ত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ০৯:০৯:৫৯
আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের ওয়াক্ত
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে নামাজ অন্যতম। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কিয়ামতের দিন প্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজের। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরে ওয়াজিব, সুন্নত ও কিছু নফল নামাজ রয়েছে। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ২১ মাঘ ১৪৩২ বাংলা, ১৫ শাবান ১৪৪৭ হিজরি। আজ পবিত্র শবে বরাত।

ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো

জোহর: ১২টা ১৩ মিনিট

আসর: ৪টা ১১ মিনিট

মাগরিব: ৫টা ৫০ মিনিট

এশা: ৭টা ০৫ মিনিট

ফজর (আগামীকাল বৃহস্পতিবার): ৫টা ২০ মিনিট

উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে ভৌগোলিক অবস্থানভেদে বিভিন্ন বিভাগের সময়ের যে পরিবর্তন করতে হবে তা হলো

সময় বিয়োগ করতে হবে

চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট

সিলেট: ০৬ মিনিট

সময় যোগ করতে হবে

খুলনা: ০৩ মিনিট

রাজশাহী: ০৭ মিনিট

রংপুর: ০৮ মিনিট

বরিশাল: ০১ মিনিট


আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের ওয়াক্ত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ০৯:০৬:৫০
আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের ওয়াক্ত
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে দ্বিতীয় এবং ইমান বা বিশ্বাসের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। পরকালে হাশরের ময়দানে বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। তাই কর্মব্যস্ততার মাঝেও সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজের গুরুত্বও অপরিসীম।

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)

জোহর: ১২টা ১৫ মিনিট

আসর: ৪টা ১০ মিনিট

মাগরিব: ৫টা ৪৫ মিনিট

এশা: ৭টা ০৩ মিনিট

ফজর (আগামীকাল বুধবার): ৫টা ২২ মিনিট

বিভাগীয় সময়ের পার্থক্য: ঢাকার সময়ের সাথে দেশের বিভিন্ন জেলার সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সাথে নিম্নোক্ত সময়গুলো যোগ বা বিয়োগ করে অন্যান্য বিভাগের নামাজের সময় পাওয়া যাবে

বিয়োগ করতে হবে

সিলেট: ০৬ মিনিট

চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট

যোগ করতে হবে

রংপুর: ০৮ মিনিট

রাজশাহী: ০৭ মিনিট

খুলনা: ০৩ মিনিট

বরিশাল: ০১ মিনিট


শবে বরাতের রোজা ও তওবা-ইস্তিগফারের গুরুত্ব

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ০৭:২৯:৫০
শবে বরাতের রোজা ও তওবা-ইস্তিগফারের গুরুত্ব
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে যেসব রাত গভীর গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হয়, শবে বরাত তার অন্যতম। ‘শবে বরাত’ মূলত ফারসি শব্দসমষ্টি। এখানে ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ নাজাত বা মুক্তি। এই অর্থের দিক থেকে শবে বরাতকে বলা হয় মুক্তির রজনী। তবে হাদিসের পরিভাষায় এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’, অর্থাৎ শাবান মাসের মধ্যরাত বা ১৪ শাবান দিবাগত রাত।

পবিত্র কোরআনে সরাসরি শবে বরাতের নাম বা বিবরণ উল্লেখ না থাকলেও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসূত্রে একাধিক হাদিসে এই রাতের ফজিলত প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বহু আলেম এই রাতকে ফজিলতপূর্ণ হিসেবে স্বীকার করেছেন।

বিখ্যাত সাহাবি হজরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, অর্ধ শাবানের রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। হাদিসবিশারদদের মতে, এই বর্ণনাটি গ্রহণযোগ্য ও বিশুদ্ধ।

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়, শবে বরাত মূলত ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির রাত। তবে একই সঙ্গে এটি সতর্কবার্তাও বহন করে যাদের অন্তরে শিরক কিংবা হিংসা ও বিদ্বেষ রয়েছে, তারা এই বিশেষ রহমত থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

শবে বরাতের মর্যাদা কেবল হাদিসেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সালাফে সালেহিনদের কাছেও এই রাত ছিল বিশেষ গুরুত্বের। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, পাঁচটি রাতে দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না, যার একটি হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখের রাত।

ন্যায়পরায়ণ খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) এবং ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-ও এই রাতে দোয়া কবুল হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁরা একে মুস্তাহাব আমলের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন, অর্থাৎ এটি পালন করলে সওয়াব রয়েছে, তবে বাধ্যতামূলক নয়।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) তাঁর ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেন, শবে বরাতের ফজিলত অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অনেক সালাফ এই রাতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, সম্মিলিত ও নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত ইবাদত থেকে বিরত থাকা উচিত।

এই বক্তব্য শবে বরাত পালনে ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে না অতিরঞ্জন, না অবহেলা।

শবে বরাতের ইবাদত মূলত ব্যক্তিগত নফল আমলের অন্তর্ভুক্ত। তাই এ রাতে নির্দিষ্ট সংখ্যা বা নির্দিষ্ট পদ্ধতির নামাজ আবশ্যক মনে করা ঠিক নয়। বরং হাদিস ও সালাফদের বর্ণনা অনুযায়ী কিছু সাধারণ আমল গুরুত্ব পেতে পারে।

নফল নামাজ আদায় এই রাতের অন্যতম আমল। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে দেখা যায়, এই রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এত দীর্ঘ সেজদায় ছিলেন যে, তাঁর ইন্তেকাল হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

তাওবা ও ইস্তিগফার এই রাতের মূল শিক্ষা। ইমাম ইবনে রজব (রহ.) বলেন, যেহেতু এই রাতে আল্লাহ বান্দাদের ক্ষমা করেন, তাই মুমিনের উচিত আন্তরিকভাবে তাওবা করা এবং বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা।

নফল নামাজের পাশাপাশি কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারে মশগুল থাকাও এই রাতের উত্তম আমলের অন্তর্ভুক্ত। এসব আমলের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে।

১৫ শাবানের দিনে রোজা রাখার বিষয়ে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যদিও এর সনদ কিছুটা দুর্বল। তবে যেহেতু এটি ফজিলতপূর্ণ আমলের পর্যায়ে পড়ে এবং শাবান মাসে বেশি রোজা রাখার বিষয়ে সহিহ হাদিস রয়েছে, তাই অনেক আলেম এই রোজাকে অর্থবহ বলে মনে করেন। উত্তম হলো, একে আগের বা পরের দিনের রোজার সঙ্গে মিলিয়ে রাখা।

কবর যিয়ারতের বিষয়েও কিছু বর্ণনা পাওয়া যায় যে, এই রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃতদের জন্য দোয়া করেছেন। যদিও এসব বর্ণনার সনদ নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবু সাধারণভাবে কবর যিয়ারত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা ইসলামে অনুমোদিত আমল।

শবে বরাতের প্রকৃত শিক্ষা হলো অন্তরকে শিরক, হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত করা, অতীতের গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং ভবিষ্যতের জীবনকে তাকওয়ার আলোয় সাজানোর চেষ্টা করা।

মহান আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে এই মহিমান্বিত রাতের ফজিলত যথাযথভাবে অর্জনের তাওফিক দান করেন। আমিন।


আজ পবিত্র শবেবরাত, খুলেছে রহমতের দরজা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ০৭:২৫:৪৪
আজ পবিত্র শবেবরাত, খুলেছে রহমতের দরজা
ছবি: সংগৃহীত

আজ মঙ্গলবার পবিত্র শবেবরাত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মহিমান্বিত রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য অশেষ রহমত ও ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত করে দেন। হিজরি সনের শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত এই রাতটি মুসলমানদের কাছে সৌভাগ্যের রাত ও মুক্তির রাত হিসেবে সুপরিচিত।

শবেবরাত শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি বা সৌভাগ্য। আরবি ভাষায় এই রাতকে বলা হয় ‘লাইলাতুল বরাত’। এই রজনীকে কেন্দ্র করে মুসলমানরা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভের আশায় ইবাদত-বন্দেগিতে আত্মনিয়োগ করেন।

এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মগ্ন থাকেন। অতীত জীবনের গুনাহ ও ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ, শান্তি ও সফলতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন।

শবেবরাতের দোয়া শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণেই সীমাবদ্ধ থাকে না। মুসলমানরা এই রাতে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তি কামনার পাশাপাশি সমগ্র মানবজাতির মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য দোয়া করেন।

হাদিস শরিফে এই রাতের বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ রয়েছে। বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, মধ্য শাবানের রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং শিরিককারী ও হিংসা পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। এই হাদিস শবেবরাতের রাতকে ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ হিসেবে তুলে ধরে।

শবেবরাতের আগের দিন বা পরের দিন রোজা রাখা সুন্নত হিসেবে বিবেচিত। এ কারণে অনেক মুসলমান শবেবরাত উপলক্ষে দুই দিন রোজা পালন করেন। এতে আত্মসংযমের পাশাপাশি রমজানের প্রস্তুতির দিকটিও গুরুত্ব পায়।

পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এদিন সব সরকারি অফিস, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এতে মুসলমানরা স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারবেন।

শবেবরাতকে ঘিরে উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে কিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতিও প্রচলিত। বাড়িতে বাড়িতে হালুয়া, ফিরনি, রুটি ও বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রস্তুত করা হয়। এসব খাবার আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

অনেকে সন্ধ্যার পর কবরস্থানে যান এবং আত্মীয়স্বজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। যদিও ইসলামে নির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিকতা বাধ্যতামূলক নয়, তবে এই রাতকে আত্মসমালোচনা, ক্ষমা প্রার্থনা ও মানবিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ হিসেবে দেখা হয়।

পবিত্র শবেবরাত মুসলমানদের জন্য কেবল একটি ইবাদতের রাত নয়; এটি পবিত্র রমজান মাসের আগমনী বার্তাও বহন করে। শাবান মাসের পরই আসে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। তাই শবেবরাত থেকেই অনেক মুসলমান মানসিক ও আত্মিকভাবে রমজানের প্রস্তুতি শুরু করেন।

-রফিক


শবেবরাত পালনে কী করবেন, কী করবেন না

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১২:৫১:৫৪
শবেবরাত পালনে কী করবেন, কী করবেন না
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি সংস্কৃতিতে যেসব রাত বিশেষ মর্যাদা ও তাৎপর্য বহন করে, শবেবরাত তাদের অন্যতম। হিজরি বর্ষের শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানদের কাছে ‘শবেবরাত’ নামে পরিচিত। হাদিস শরিফে এই রাতকে ‘নিসফে শাবান’, অর্থাৎ শাবান মাসের মধ্যরাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বে এই রাত আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও আত্মশুদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি রাতে শবেবরাত পালিত হচ্ছে। একই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও এ রাত পালনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে সারাদেশে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, সোমবার দেশের কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় রজব মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হয় এবং ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে শাবান মাসের গণনা শুরু হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত, অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে শবেবরাত পালিত হবে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্পারসো থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

শবেবরাতের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে একাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, শবেবরাত আল্লাহর ক্ষমা ও অনুগ্রহ লাভের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের রাত।

আরেকটি দীর্ঘ বর্ণনায় হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে তিনি দেখেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ সময় সেজদায় মগ্ন আছেন। এত দীর্ঘ সেজদা দেখে তাঁর মনে আশঙ্কা জাগে, নবিজি হয়তো ইন্তেকাল করেছেন। পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানান, এটি শাবানের মধ্যরাত। তিনি বলেন, এই রাতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন, ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন, দয়া প্রার্থনাকারীদের ওপর রহমত নাজিল করেন এবং বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন।

উল্লিখিত হাদিসগুলো থেকে প্রতীয়মান হয়, শবেবরাতে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদতকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বরং এই রাতের মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা, নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহর রহমতের উপযুক্ত করে তোলা। বিশেষভাবে অন্তরের হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা পরিহার করার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে, কারণ এসব মানসিকতা এই রাতের মাগফিরাত থেকে মানুষকে বঞ্চিত করতে পারে।

শবেবরাত তাই কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, আত্মসমালোচনা এবং সম্পর্ক সংশোধনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এই রাত মুসলমানদের স্মরণ করিয়ে দেয়, আল্লাহর রহমতের দরজা সবসময় খোলা থাকে শর্ত শুধু একটাই, আন্তরিকভাবে তাঁর দিকে ফিরে আসা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা।

-রফিক

পাঠকের মতামত: