কেন কাঁঠাল হল বাংলাদেশের জাতীয় ফল? জানুন ঐতিহ্য ও বিজ্ঞান

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০২ ১৭:৪৮:১৯
কেন কাঁঠাল হল বাংলাদেশের জাতীয় ফল? জানুন ঐতিহ্য ও বিজ্ঞান

বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় ফলজগতের মধ্যে শতাধিক ফলের বাহারে বিশেষভাবে একটিকে জাতীয় ফল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে কাঁঠাল। বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠাল নির্বাচনের পেছনে রয়েছে জটিল ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও পুষ্টি-সম্পর্কিত বিবেচনা, যা কেবল একটি ফলের মর্যাদা নয়, বরং দেশের প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক প্রতিফলিত করে।

বিশ্বব্যাপী জাতীয় ফলের প্রেক্ষাপট ও কাঁঠালের অবস্থান

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় ফলের নামকরণ তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও উৎপত্তির ইতিহাসের ওপর নির্ভরশীল। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা দু’দেশই কাঁঠালকে নিজেদের জাতীয় ফল হিসেবে ঘোষণা করেছে, যেখানে আমকে পাকিস্তান, ভারত ও ফিলিপাইন জাতীয় ফল হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক জ্ঞানভিত্তিক তথ্য অনুসারে, আমের আদি নিবাস বাংলাদেশ ও মায়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চল বলে বিবেচিত হলেও কাঁঠালের আদি নিবাস ভারতের পশ্চিম ঘাট বা ওয়েস্টার্ন ঘাট পর্বতমালা। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য, বিশেষ করে কেরালা ও তামিলনাড়ু, কাঁঠালকে তাদের রাজ্য ফল হিসেবে ঘোষণা করেছে, এবং ভারতের পক্ষ থেকে কাঁঠালের জাতীয় ফল হিসেবে দাবি এখনও পুরোদমে বহাল।

তবে কাঁঠালকে বাংলাদেশের জাতীয় ফল করার পেছনে দুই প্রধান কারণ বিশেষভাবে প্রাধান্য পায়। প্রথমত, কাঁঠাল বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চেনা ও পাওয়া যায়। এটি জনসাধারণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য ফল হিসেবে স্বীকৃত। দ্বিতীয়ত, কাঁঠাল বাংলাদেশের মানুষের সংস্কৃতি, জীবনধারা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, পূজা, সাহিত্য, প্রবাদ-প্রতিমত ও লোকজ সংস্কৃতিতে কাঁঠালের উল্লেখ পাওয়া যায় যা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।

কাঁঠালের কৃষি ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য

কাঁঠাল গাছ (উদ্ভিদতত্ত্বীয় নাম: Artocarpus heterophyllus) মোরেসি গোত্রভুক্ত একটি মাঝারি আকারের ফলদায়ী গাছ। এর ডালে সাদা, ঘন ও দুধের মতো আঠালো পদার্থ প্রবাহিত হয়, যা গাছের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। বসন্তকালে গাছের ডালে ‘মুছি’ বা পুষ্পমঞ্জরি ফোটে, যেখানে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদা মঞ্জরিতে থাকে। গাছের পাতা ও ডাল নানা ধরনের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যে ভরপুর, যা বনজগতের জন্য উপকারী। কাঁঠালের গায়ে যে কাঁটা থাকে তার সংখ্যার সমান সংখ্যক ফুলও থাকে, কিন্তু সব ফুল ফল হয়ে ওঠে না।

বাংলাদেশের গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা ‘কাঁঠালের রাজধানী’ নামে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন জাতের কাঁঠালের চাষ হয়, যেমন:

-গলা বা রসা কাঁঠাল: নরম ও রসালো কাঁঠাল, যা তাজা খেতে বিশেষ সুখাদ্য।

-রসখাজা: কিছুটা শক্ত হলেও রসযুক্ত।

-খাজা বা চাউলা: তুলনামূলক শক্ত ও কম রসযুক্ত।

পুষ্টিগুণ ও খাদ্যসংস্কৃতিতে কাঁঠালের স্থান

কাঁঠালকে ‘গরিবের মাংস’ বলা হয়। এর পুষ্টিমূল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা কাঁঠালের তরকারি যেমন সুস্বাদু, তেমনি পাকা ফলের সুগন্ধ ও স্বাদ দারুণ। অন্যান্য ফলের তুলনায় কাঁঠালে প্রোটিনের পরিমাণ অনেক বেশি, যা সাধারণত মাছ, মাংস বা ডিমে পাওয়া যায়। কাঁঠালের বিচি (বীজ) রান্না করে, ভাজা বা শুকিয়ে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং এগুলি শক্তি ও পুষ্টির অন্যতম উৎস।

কাঁঠালের বিচি থেকে বিভিন্ন খাদ্য যেমন বেজি, ভর্তা, বাদামের মতো স্ন্যাকস তৈরি করা হয়। এছাড়া কাঁঠালের কোষ থেকে আমসত্ত্বের মতো ‘কাঁঠালসত্ত্ব’ উৎপাদিত হয়, যা বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও পানীয় তৈরিতে ব্যবহার হয়। আধুনিক সময়ে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডের মতো দেশেও কাঁঠালের বিশেষ প্রজাতির চিপস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কাঁঠালের খোসা ও ভুতরো পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে ভুতরোতে পেকটিন থাকে, যা জেলি তৈরিতেও সহায়ক। কাঁঠালের গাছের পাতা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে বিখ্যাত, আর কাঠ দিয়ে আসবাবপত্র ও অন্যান্য বস্তু তৈরী করা হয়। গাছ থেকে বের হওয়া আঠালো কষ বিভিন্ন পাত্রের ছিদ্র বন্ধ করার কাজে ব্যবহৃত হয়, যা কাঁঠাল গাছকে বহুমুখী ও অর্থনৈতিকভাবে মূল্যবান করে তোলে।

সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতা

বাংলাদেশের মানুষ কাঁঠালের সঙ্গে দীর্ঘদিনের গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। কাঁঠালের উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীন সাহিত্য ও কবিতায়। যেমন, খনার বচনে ‘আমের বছর বান, কাঁঠালের বছর ধান’ এই প্রবাদ বহুল প্রচলিত। কবি নওয়াজেশ আহমদ তাঁর ‘মহাবনস্পতি’ গ্রন্থে কাঁঠালের গাছ ও ছায়ার বর্ণনা দিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। এছাড়াও জীবনানন্দ দাশের কবিতায় কাঁঠালের গাছের ছায়ায় ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা ফুটে ওঠে, যা বাংলার মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও আবেগীয় দিকের প্রতিফলন।

জাতীয় ফলের মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল হওয়ার মাধ্যমে শুধু একটি ফলের মর্যাদা পায়নি, বরং দেশের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার পরিবার কাঁঠালের চাষাবাদে জড়িত, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখে।

বর্তমানে কাঁঠালের চারা উৎপাদন আধুনিক কলমপদ্ধতি ও বীজপদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত ফলনশীল হচ্ছে। বিশেষ করে শাখাকলম, দাবাকলম, অঙ্কুর জোড়কলমের মাধ্যমে নতুন জাতের কাঁঠাল চাষাবাদে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে কাঁঠালকে কেন্দ্র করে কৃষি গবেষণা ও বাজারজাতকরণের উন্নতি ভবিষ্যতে দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁঠালের স্থানকে শক্তিশালী করবে। খাদ্যশিল্পে নতুন নতুন পণ্যের উদ্ভাবন কাঁঠালের জনপ্রিয়তা বাড়াবে এবং দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিক তৈরি করবে।

সার্বিকভাবে দেখা যায়, কাঁঠাল বাংলাদেশের মাত্র একটি ফল নয়, এটি দেশের মানুষের জীবনসংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও খাদ্যাভ্যাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর বহুমাত্রিক ব্যবহার ও পুষ্টিগুণ কাঁঠালকে করে তুলেছে ‘গরিবের মাংস’ ও জাতীয় ফল হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ। এ ফলের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক গভীরতা এবং বৈজ্ঞানিক পুষ্টিগুণ বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়, যা আগামীতেও দেশের কৃষি ও খাদ্যসুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


স্মার্টফোন চার্জে দেওয়ার সময় যেসব সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলবেন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ২০:২৯:১২
স্মার্টফোন চার্জে দেওয়ার সময় যেসব সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলবেন
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে যোগাযোগ, দাপ্তরিক কাজকর্ম, বিনোদন কিংবা আর্থিক লেনদেনের মতো দৈনন্দিন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আর এই অপরিহার্য ডিভাইসটি সচল রাখতে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেরই এমন কিছু অসচেতন অভ্যাস থাকে, যা ডিভাইসের নিরাপত্তা এবং ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি আয়ু ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ফোন চার্জিংয়ের সময় সচরাচর করা কয়েকটি ভুল ও সেগুলোর ক্ষতিকর দিক নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রথম ভুলটি হলো ডিভাইস দীর্ঘ সময় ধরে চার্জে লাগিয়ে রাখা। সাধারণত অনেকেই রাতে ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে দিয়ে সারারাত রেখে দেন। যদিও আধুনিক প্রযুক্তির স্মার্টফোনগুলোতে ব্যাটারি পূর্ণ হওয়ার পর চার্জিং নিয়ন্ত্রণের নিজস্ব ব্যবস্থা থাকে, তবুও দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ চার্জ অবস্থায় ফোন ফেলে রাখা এবং এর ফলে উৎপন্ন তাপ ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি ধারণক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই প্রয়োজনমাফিক চার্জ দেওয়া এবং ডিভাইস অতিরিক্ত গরম হলে সাময়িকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাই সঠিক পদ্ধতি।

এছাড়া বিছানা, বালিশ বা তোশকের মতো নরম স্থানে রেখে ফোন চার্জ দেওয়া আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস। চার্জিং চলাকালীন ফোন প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা উষ্ণ হয়। এমন অবস্থায় ডিভাইসটি যদি বালিশের নিচে বা কাপড়ের ওপর থাকে, তবে ভেতরের তাপ বাইরে নির্গত হওয়ার পথ পায় না, যা অতিরিক্ত গরম হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এ ঝুঁকি এড়াতে চার্জ দেওয়ার সময় সবসময় সমতল, শক্ত এবং উন্মুক্ত স্থান বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মূল চার্জার নষ্ট বা হারিয়ে গেলে কম দামের অচেনা ব্র্যান্ডের চার্জার ও কেবল ব্যবহার করাও ব্যাটারির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। নিম্নমানের এসব সামগ্রী ফোনে সঠিক মাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ফোনের অভ্যন্তরীণ চার্জিং ব্যবস্থা ও ব্যাটারির ওপর। ফলে ডিভাইস অস্বাভাবিক উত্তপ্ত হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য সর্বদা ফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত অথবা নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের সার্টিফায়েড অ্যাডাপ্টার ও কেবল ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অনেকেই আবার ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর আশায় বিভিন্ন থার্ড-পার্টি ‘ব্যাটারি-সেভিং’ অ্যাপ নামিয়ে নেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অ্যাপ কার্যক্ষেত্রে খুব একটা সুফল তো দেয়ই না, বরং অচেনা ও অনির্ভরযোগ্য অ্যাপগুলো নানা ধরনের সংবেদনশীল অনুমতির মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাড়তি কোনো অ্যাপের সাহায্য না নিয়ে ডিভাইসে থাকা নিজস্ব ‘ব্যাটারি সেভার’ বা ‘লো পাওয়ার মোড’ ব্যবহার করাই নিরাপদ ও কার্যকর।

চার্জে থাকা অবস্থায় ফোনে ভারী কাজকর্ম করাও ব্যাটারির কার্যক্ষমতা দ্রুত নষ্ট করে। চার্জিং চলাকালীন উচ্চমানের ভিডিও দেখা কিংবা ভারী গেম খেললে প্রসেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার কারণে ডিভাইস দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই অতিরিক্ত তাপ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্যের স্থায়ী ক্ষতি করে। তাই চার্জ দেওয়ার সময় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কাজ থেকে বিরত থাকা এবং ডিভাইস গরম হলে ব্যবহার থামিয়ে তা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরতে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

/আশিক


কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যেসব অভ্যাস বর্জনীয়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ১৯:৫৬:৩৭
কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যেসব অভ্যাস বর্জনীয়
ছবি : সংগৃহীত

শরীরে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই নীরব ঘাতক হিসেবে বাসা বাঁধতে পারে উচ্চ কোলেস্টেরল। রক্তে অতিরিক্ত এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল জমতে থাকলে রক্তনালীর পথ সরু হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বয়স কিংবা জিনগত কারণের বাইরে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের কিছু সাধারণ ভুল অভ্যাসও কোলেস্টেরলের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে তোলে।

সকালের নাশতায় পরোটা, মাখন, প্রক্রিয়াজাত মাংস বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে এলডিএল কোলেস্টেরল দ্রুত বাড়ে। মাখন, ঘি, পনির, ক্রিম ও প্যাকেটজাত খাবারে থাকা ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট মোট দৈনিক ক্যালরির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বাদাম বা বীজের মতো স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসও একবারে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়; প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত স্ন্যাকস বর্জন করে ফলমূল, শাকসবজি ও হোলগ্রেন জাতীয় খাবার খাওয়া হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনও কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট করে। দৈনিক কাজের ফাঁকে সচল থাকা, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম করা এবং একটানা বসে না থেকে হাঁটাচলার অভ্যাস ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়াতে ও খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া সফট ড্রিঙ্কস বা মিষ্টি পানীয় গ্রহণের ফলে ওজন বৃদ্ধি পেয়ে হৃদযন্ত্রে চাপ তৈরি হয়। সর্বোপরি, ধূমপান রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়, যা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।

/আশিক


সাধারণ পিঠে ব্যথা ও ক্যানসারের উপসর্গের পার্থক্য চেনার উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ২০:৩৯:৫২
সাধারণ পিঠে ব্যথা ও ক্যানসারের উপসর্গের পার্থক্য চেনার উপায়
ছবি : সংগৃহীত

কাজের অত্যধিক চাপ বা ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে পিঠে ব্যথা হওয়া অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, পিঠের দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক ব্যথার সঙ্গে শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ফুসফুসের সরাসরি সম্পর্ক থাকতে পারে, যা অনেক সময় ফুসফুসের ক্যানসারের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, ফুসফুসের নিজস্ব কোনো অনুভূতিগ্রাহক স্নায়ু না থাকায় এতে সরাসরি ব্যথা অনুভব করা যায় না। তবে ফুসফুসে কোনো জটিলতা তৈরি হলে বা টিউমার বাড়তে থাকলে তা আশপাশের স্নায়ু, হাড় ও টিস্যুতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে বুকের তীব্র যন্ত্রণা অনেক সময় পিঠ কিংবা কাঁধের অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর তীব্রতায় রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বিশেষ করে ফুসফুসের ওপরের অংশে 'প্যানকোস্ট টিউমার' নামের এক বিশেষ ধরনের টিউমার তৈরি হলে তা কাঁধ ও হাতের দিকে যাওয়া স্নায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে কাঁধে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় এবং হাতের আঙুল বা তালু অবশ হয়ে আসতে পারে। উপযুক্ত পরীক্ষার অভাবে রোগীরা প্রায়শই এটিকে সাধারণ ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’ বা স্পন্ডিলোসিস ভেবে মাসের পর মাস ভুল চিকিৎসা করিয়ে থাকেন। চিকিৎসকেরা এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অনতিবিলম্বে বুকের এক্স-রে করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

সাধারণ পেশির টান থেকে হওয়া ব্যথা বিশ্রামে কমে গেলেও কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকা ও ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া, বিশ্রাম বা মলম ব্যবহারে উপশম না হওয়া, রাতের বেলায় ব্যথার তীব্রতায় ঘুম ভেঙে যাওয়া, পিঠে ব্যথার সাথে অকারণে ওজন হ্রাস ও চরম ক্লান্তি এবং দীর্ঘদিনের কাশি, শ্বাসকষ্ট বা কাশির সঙ্গে রক্ত আসার মতো উপসর্গ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিঠে ব্যথা মানেই ক্যানসার ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে ব্যথার সঙ্গে এসব শারীরিক পরিবর্তন যুক্ত হলে দ্রুত পরীক্ষা করানোই শ্রেয়।

সূত্র : আনন্দবাজার


ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে ভাইরাল হওয়া ঘরোয়া টোটকার কার্যকারিতা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ২১:৪৯:১৯
ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে ভাইরাল হওয়া ঘরোয়া টোটকার কার্যকারিতা
ছবি : সংগৃহীত

উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় ত্বকের আশায় অনেকেই বাজারের দামি প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকেন। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'অ্যালোভেরা কোলাজেন জেল' নামের একটি ঘরোয়া রূপচর্চার পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ব্যবহারকারীদের দাবি, এই জেলের নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক আর্দ্র ও টানটান থাকার পাশাপাশি এর স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।

সামাজিক মাধ্যমে এটিকে 'কোলাজেন জেল' বলা হলেও বাস্তবে এতে সরাসরি কোনো কোলাজেন থাকে না। মূলত অ্যালোভেরা ও তিসির বীজে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ত্বককে আর্দ্র রাখার পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে কোলাজেন তৈরির প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি কোলাজেনের কোনো সরাসরি বিকল্প নয়, বরং ত্বকের সুরক্ষায় একটি কার্যকর ঘরোয়া মিশ্রণ হিসেবে কাজ করে।

এই জেলের অন্যতম উপাদান অ্যালোভেরায় প্রচুর পরিমাণে পানি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রদাহনাশক প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে। এগুলো ত্বককে ঠান্ডা রাখতে এবং শুষ্কতা ও সাময়িক জ্বালা ভাব দূর করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, মিশ্রণটির আরেক উপাদান তিসির বীজে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের সুরক্ষায় দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

এই মিশ্রণটি তৈরি করতে টাটকা অ্যালোভেরার রসের সঙ্গে পানিতে ফোটানো তিসির বীজের ঘন ও পিচ্ছিল জেল ব্যবহার করা হয়। তিসির বীজ ফুটিয়ে তৈরি করা জেল ছেঁকে ঠান্ডা করে অ্যালোভেরার সঙ্গে ভালোভাবে মেশাতে হয়। মিশ্রণটি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা আরও বাড়াতে অনেকেই এর সঙ্গে ভিটামিন-ই তেল যুক্ত করে থাকেন।

তবে ঘরোয়া উপাদান মানেই যে তা সবার ত্বকের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল বা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এটি সরাসরি ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নতুন এই জেল পুরো মুখে ব্যবহারের আগে হাত বা কানের পেছনে সামান্য লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। ব্যবহারের স্থানে কোনো রকম চুলকানি, লালচে দাগ বা জ্বালা ভাব দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে এর ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


সালমানের অবয়ব পরিবর্তনের আসল কারণ ও ষাটোর্ধ্বদের ওজন কমানোর সঠিক নিয়ম

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ২১:৫৯:৪৯
সালমানের অবয়ব পরিবর্তনের আসল কারণ ও ষাটোর্ধ্বদের ওজন কমানোর সঠিক নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

বলিউডের জনপ্রিয় সুপারস্টার সালমান খানকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। হঠাৎ করেই টুপি পরা তাঁর একটি ভিডিও এবং কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়লে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে ভক্তদের মনে নানান দুশ্চিন্তার জন্ম হয়। অনেকেরই মনে হয়েছিল তারকা হয়তো জটিল কোনো শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, কারণ ছবিগুলোতে তাঁকে অতীতের তুলনায় কিছুটা শীর্ণকায়, পরিশ্রান্ত ও অবসন্ন দেখাচ্ছিল।

তবে পরবর্তীতে এই সমস্ত আলোচনার বাস্তব চিত্র সামনে আসে। সালমান খান নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান যে, এটি কোনো শারীরিক অসুস্থতা নয়, বরং নতুন চলচ্চিত্রের চরিত্রের প্রস্তুতি ও নিজস্ব ফিটনেস লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবেই তিনি স্বউদ্যোগে প্রায় ১৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন। এর মাধ্যমেই তাঁর অবয়ব পরিবর্তন কেন্দ্র করে চলা যাবতীয় জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে।

তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে ভিন্ন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ষাটোর্ধ্ব বয়সে ওজন কমানোর প্রক্রিয়াটি তরুণ বয়সের মতো সহজ বা স্বাভাবিক নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়ে এবং প্রাকৃতিকভাবেই পেশির পরিমাণ হ্রাস পেতে থাকে। তদুপরি এই বয়সে হঠাৎ বেশি ওজন কমাতে গেলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা হৃদরোগের মতো শারীরিক ঝুঁকিগুলো নতুন করে দেখা দিতে পারে। তাই কোনো তাড়াহুড়ো না করে এই বয়সে চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরগতিতে ওজন নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে যৌক্তিক ও নিরাপদ।

খাদ্যাভ্যাসে প্রোটিনকে প্রাধান্য

নিজের দৈনন্দিন খাবারের তালিকা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে সালমান খান জানিয়েছিলেন, তিনি মূলত উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার পছন্দ করেন। তাঁর খাদ্যতালিকায় শর্করার পরিমাণ রাখা হয় একেবারেই নগণ্য। তিনি বেশ রসিকতা করেই বলেন যে, খাবার যতই সুস্বাদু হোক না কেন, তিনি দিনে মাত্র এক চামচের বেশি ভাত খান না। ভাতের শর্করা এড়িয়ে তিনি প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মাছ, মুরগির মাংস ও ডিমের ওপর নির্ভর করেন। যদিও মাঝে মাঝে প্রিয় খাবার খাওয়া তিনি পুরোপুরি বাদ দেন না, তবে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করলে তা ঝরিয়ে ফেলতে পরবর্তীতে বেশ পরিশ্রম করেন।

পছন্দের খাবার খেলেও অনুশীলনে কঠোরতা

সালমান খান এক রসাত্মক মন্তব্যে বলেছিলেন, তাঁর জন্য প্রায় প্রতিটি দিনই কিছুটা ‘চিট ডে’। পছন্দের খাবারের প্রতি অনুরাগ থাকলেও তার সমপরিমাণ শারীরিক কসরত তিনি সুনিশ্চিত করেন। খাবারের মাধ্যমে শরীরে অতিরিক্ত যে ক্যালরি প্রবেশ করে, তা নিয়মিত জিম বা শরীরচর্চার মাধ্যমে পুড়িয়ে ফেলাকেই তিনি নিজের মূল নীতি বানিয়ে নিয়েছেন।

নিয়মিত শরীরচর্চায় ফিটনেস ধরে রাখা

এই তারকার ফিটনেস ট্রেইনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সালমান সপ্তাহে টানা ছয় দিন শরীরচর্চা করেন এবং একদিন বিশ্রামে থাকেন। তাঁর দৈনন্দিন ফিটনেস রুটিনে থাকে ইনক্লাইন এক্সারসাইজ, পুশ-আপ, ফ্লাই, কার্ডিও, ওয়েট ট্রেনিং এবং হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিংয়ের মতো কঠিন সব ব্যায়াম। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই কার্ডিও করেন তিনি। শুটিংয়ের চরম ব্যস্ততার মধ্যেও সকালে বা রাতে নিয়মিত জিমে সময় দেওয়া তাঁর দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

ষাটোর্ধ্ব বয়সে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে করণীয়

বিশেষজ্ঞরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, একজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে সালমান খানের মতো তারকার জীবনযাত্রার তুলনার সুযোগ নেই। কারণ এসব তারকার পেছনে সার্বক্ষণিক পুষ্টিবিদ, ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক এবং চিকিৎসকদের নজরদারি থাকে। ষাট বছর বয়সের পর নিরাপদ উপায়ে আট থেকে দশ কেজি ওজন কমাতে অন্তত ছয় মাস বা তার বেশি সময়ের প্রয়োজন হওয়া স্বাভাবিক। কঠোর ডায়েট বা না খেয়ে থাকার ফলে শারীরিক দুর্বলতা, পেশি ক্ষয় এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, পরিমিত শর্করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করার মাধ্যমেই বয়স্কদের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

সালমান খানের ফিটনেস বজায় রাখার চর্চাটি প্রমাণ করে যে, সঠিক শৃঙ্খলা এবং অনুশীলনের মাধ্যমে বয়সকালেও কর্মক্ষম থাকা সম্ভব। তবে কোনো অলৌকিক বা দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় না গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা গড়ে তোলাই একমাত্র স্থায়ী সমাধান।

সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া


সমকামিতা কি মানসিক ব্যাধি? আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতামত

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ২০:৪৮:২৯
সমকামিতা কি মানসিক ব্যাধি? আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতামত
ছবি : সংগৃহীত

সমকামিতা ও সমলিঙ্গের মানুষের প্রতি আকর্ষণ নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ও আধুনিক সমাজবিজ্ঞানে দীর্ঘকাল ধরে গবেষণা পরিচালিত হয়ে আসছে। বিশ্বজুড়ে বিষয়টি নিয়ে নানা রূপ কুসংস্কার বা ভুল ধারণা প্রচলিত থাকলেও চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গবেষণা সংস্থাগুলো এ নিয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, সমকামিতা কোনো মানসিক রোগ, শারীরিক ব্যাধি বা মানসিক বিকৃতি নয়; বরং এটি মানবীয় যৌন অভিমুখিতার এক স্বাভাবিক বৈচিত্র্য। ১৯৭৩ সালে আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ) তাদের মনস্তাত্ত্বিক তালিকার মানসিক ব্যাধির অংশ থেকে এটিকে বাদ দেয়। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) আন্তর্জাতিক রোগ শ্রেণীকরণ (আইসিডি) তালিকা থেকে এটি অপসারণ করে সাধারণ বিষমকামিতার মতোই একটি জৈবিক ও মানসিক বৈচিত্র্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

কোনো ব্যক্তি সমকামী হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ বিজ্ঞান নিশ্চিত করতে না পারলেও জিনগত গঠন, গর্ভকালীন হরমোনের প্রভাব এবং স্নায়বিক ও পরিবেশগত উপাদান যৌথভাবে কাজ করে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের ডিএনএ বিশ্লেষণের এক গবেষণায় স্পষ্ট করা হয় যে, সমকামিতার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট 'গে জিন' বা একক উপাদান কাজ করে না। এছাড়া এটি কোনো সংক্রামক ব্যাধি নয় এবং কারোর সাথে চলাফেরা বা সান্নিধ্যের মাধ্যমে তা অর্জিত হয় না। অধিকাংশ মানুষ বয়ঃসন্ধি বা প্রাপ্তবয়স্ক পর্যায়ে তাদের প্রাকৃতিক যৌন অভিমুখিতা বুঝতে পারেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো জোরপূর্বক অভিমুখিতা বদলের তথাকথিত 'কনভার্সন থেরাপি'কে সম্পূর্ণ অকার্যকর ও বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা ব্যক্তির মাঝে চরম বিষণ্নতা, মানসিক উদ্বেগ ও আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেক দেশে এটি সামাজিক বা আইনি জটিলতার সৃষ্টি করলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ কাটাতে পরিবার ও সমাজের সংবেদনশীল আচরণ জরুরি। অননুমেয় ও অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পরিহার করে যেকোনো মানসিক জটিলতায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং তথ্যভিত্তিক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

/আশিক


কীভাবে এলো এই বিশেষ দিন: বন্ধু দিবসের অজানা কথা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ২০:২৮:৫১
কীভাবে এলো এই বিশেষ দিন: বন্ধু দিবসের অজানা কথা
ছবি : সংগৃহীত

জন্মের সময় থেকে মানুষ তার রক্ত ও পারিবারিক পরিচয়ের এক নির্দিষ্ট ভূগোলে বেড়ে ওঠে। তবে জীবনের চলার পথে এমন কিছু মানুষের পদচারণা ঘটে, যাদের সঙ্গে রক্তের কোনো বাঁধন না থাকলেও জীবনবোধ ও আবেগের সর্বাপেক্ষা গভীর আদান-প্রদান ঘটে। সমাজ স্বীকৃত কোনো বাধ্যবাধকতা বা আইনি দলিল ব্যতিরেকে গড়ে ওঠা এই স্বাধীন ও আন্তরিক সম্পর্কের নামই বন্ধুত্ব।

আজ আগস্ট মাসের প্রথম রবিবার, যা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ‘বন্ধু দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। যদিও প্রকৃত বন্ধুত্বকে কোনো সুনির্দিষ্ট দিনের ফ্রেমে সীমাবদ্ধ করা কঠিন, তবুও এই বিশেষ দিনটি পুরোনো বন্ধন সতেজ করা ও স্মৃতিরোমন্থনের একটি মাধ্যম হিসেবে গণ্য হয়। ইতিহাসের পাতায় মনীষীরা বন্ধুত্বকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। গল্পকার মারিও পুজো এটিকে পরিবারের সমতুল্য বলেছেন এবং আলবার্ট আইন্সটাইনের মতে খাঁটি বন্ধুত্ব ভালোবাসার চেয়েও বিরল। অন্যদিকে এরিস্টটল বন্ধুকে নিজেরই প্রতিচ্ছবি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং রবার্ট লুইস স্টিভেনসন বা আলবেয়ার কামুর দৃষ্টিতে কোনো শর্ত বা নেতৃত্ব ছাড়া পাশাপাশি চলাই আসল বন্ধুত্ব।

বন্ধু দিবস উদযাপনের গোড়াপত্তন নিয়ে নানা মত রয়েছে। ১৯৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হলমার্ক কার্ডের প্রতিষ্ঠাতা হাওয়ার্ড হল আগস্টের শুরুতেই শুভেচ্ছা বিনিময়ের বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ১৯৩৫ সালে মার্কিন কংগ্রেস কর্তৃক আগস্টের প্রথম রবিবারকে ‘জাতীয় বন্ধু দিবস’ হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় রূপ পায়। একটি প্রচলিত মতামত অনুযায়ী, ১৯৩৫ সালে মার্কিন সরকারের নীতিতে ক্ষুব্ধ এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার বন্ধুর আত্মহত্যার স্মৃতি রক্ষা করতেই এই দিনের সূচনা। এছাড়া ১৯৫৮ সালে প্যারাগুয়েতে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে দিনটি উদযাপন করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ২৭ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩০ জুলাইকে ‘আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস’ ঘোষণা করে। তবে ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশে আগস্টের প্রথম রবিবারেই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

সময়ের আবর্তে এই দিন উদযাপনের রূপ পরিবর্তিত হয়েছে; পূর্বে কার্ড বা উপহার আদান-প্রদান হলেও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও বার্তা শেয়ারের মাধ্যমে আড্ডা ও স্মৃতিচারণ বেশি দেখা যায়। মনোবিদদের মতে, একাকীত্ব দূর করতে ও মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব অত্যন্ত জরুরি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, মানসিক চাপমুক্ত থাকতে এবং নির্দ্বিধায় আবেগের প্রকাশ ঘটাতে জীবনে একজন বিশ্বাসযোগ্য বন্ধুর উপস্থিতি আবশ্যক, যা পরিবার ও বিবাহিত জীবনের সম্পর্কের ভিত্তিকেও দৃঢ় করে।

বন্ধুত্ব ধরে রাখতে হলে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, বন্ধুর বিশেষ দিনগুলো স্মরণে রাখা এবং কঠিন সময়ে পাশে থাকা প্রয়োজন। ছোট ছোট ভালোবাসার প্রকাশ, একে অপরের মতভিন্নতাকে সম্মান জানানো এবং কেবল সামাজিক মাধ্যমে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি সময় কাটানো এই সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে। সেই সাথে বন্ধুর গোপনীয়তা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা একটি সার্থক বন্ধুত্বের প্রধান শর্ত। প্রতিদিনের ছোট পরিচর্যা ও সম্মানের মাধ্যমেই বন্ধুত্বের এই অমলিন বন্ধন আজীবন টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

/আশিক


ইন্ডাকশন নাকি ইনফ্রারেড চুলা: কেনার আগে জেনে নিন কাজের পার্থক্য

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২০:১৯:০০
ইন্ডাকশন নাকি ইনফ্রারেড চুলা: কেনার আগে জেনে নিন কাজের পার্থক্য
ছবি : সংগৃহীত

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি, সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে রান্নাঘরে এখন বিকল্প সমাধান হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে বৈদ্যুতিক চুলা। বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই রূপ হলো—ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড কুকটপ। বাইরে থেকে দেখতে প্রায় একই রকম হলেও কাজের কৌশল, বিদ্যুৎ খরচ এবং উপযুক্ত বাসনের বিচারে এ দুটির মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।

ইন্ডাকশন চুলা: দ্রুত গতি ও উচ্চ দক্ষতা

ইন্ডাকশন প্রযুক্তি মূলত তাড়িতচুম্বকীয় (ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক) শক্তির মাধ্যমে সরাসরি পাত্রের তলা গরম করে। এতে চুলা নিজে গরম না হয়ে কেবল হাড়ি বা কড়াই গরম হয়, ফলে তাপের অপচয় হয় না বললেই চলে। এই প্রযুক্তিতে প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ শক্তি সরাসরি রান্নায় ব্যবহৃত হয়, যা সময় ও বিদ্যুৎ খরচ দুটোই বাঁচায়। উপরন্তু, পাত্র না থাকলে বা সরিয়ে নিলে চুলা গরম হয় না বলে শিশু রয়েছে এমন পরিবারের জন্য এটি তুলনামূলক বেশি নিরাপদ।

তবে ইন্ডাকশনের প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো এতে সাধারণ অলুমিনিয়াম, কাচ বা মাটির পাত্র ব্যবহার করা যায় না। কেবল লোহা বা চৌম্বকীয় তলদেশ বিশিষ্ট বিশেষ পাত্রেই এটি কাজ করে।

ইনফ্রারেড চুলা: সর্বজনীন ব্যবহারের সুবিধা

অন্যদিকে, ইনফ্রারেড চুলা হিটিং এলিমেন্ট বা রেডিয়েন্ট লাইটের মাধ্যমে তাপ রশ্মি তৈরি করে রান্না করে। গ্যাসের চুলার মতোই এতে তাপ ছড়িয়ে পড়ে কাজ সম্পন্ন হয়। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর জন্য বিশেষ কোনো পাতিল কেনার প্রয়োজন নেই; স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, কাচ কিংবা মাটির যেকোনো পুরোনো পাত্রই এতে ব্যবহার করা যায়।

তবে শক্তি দক্ষতার দিক থেকে ইনফ্রারেড কিছুটা পিছিয়ে (প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ)। এর কাচের উপরিভাগ অনেক সময় ধরে অত্যন্ত উত্তপ্ত থাকে, যা অসাবধানতায় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এছাড়া চারপাশে তাপ ছড়িয়ে পড়ায় রান্নাঘরও কিছুটা গরম হয়ে ওঠে।

পছন্দ করবেন কোনটি?

খাদ্যাভ্যাস, ঘরের বর্তমান বাসনপত্র এবং বাজেটের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। দীর্ঘমেয়াদে কম বিদ্যুৎ বিল ও দ্রুতগতির রান্না চাইলে ইন্ডাকশন চুলা উত্তম। আর যদি নতুন পাত্র না কিনে ঘরের সব ধরনের সাধারণ পাত্রে গ্যাসের মতো স্বাচ্ছন্দ্যে রান্না করতে চান, তবে ইনফ্রারেড কুকটপই বেশি কার্যকর।

/আশিক


আর্জেন্টিনার হারে ভেঙে পড়েছেন? কীভাবে সামলাবেন মন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ১১:১০:৪২
আর্জেন্টিনার হারে ভেঙে পড়েছেন? কীভাবে সামলাবেন মন
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে আর্জেন্টিনার বিদায়ের মধ্য দিয়ে কোটি সমর্থকের আরেকটি শিরোপা স্বপ্ন থেমে গেছে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুধু একটি ম্যাচের সমাপ্তিই হয়নি, বরং অসংখ্য ভক্তের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও ভেঙে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে ট্রল, ব্যঙ্গ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মন্তব্যের মধ্যে অনেকেই হতাশা, ক্ষোভ কিংবা মানসিক চাপ অনুভব করছেন। তবে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন আবেগ স্বাভাবিক হলেও সেটি যেন ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক কিংবা মানসিক সুস্থতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব না ফেলে, সেদিকে সচেতন থাকা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুটবল অনেক মানুষের কাছে কেবল একটি খেলা নয়; এটি ব্যক্তিগত পরিচয়, শৈশবের স্মৃতি, পরিবার, বন্ধুত্ব এবং আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। বছরের পর বছর একটি দলকে সমর্থন করতে করতে সেই দলের জয়-পরাজয় ব্যক্তিগত অনুভূতির অংশ হয়ে যায়। ফলে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রিয় দলের বিদায় অনেকের কাছে শুধুই একটি পরাজয় নয়, বরং আশা ও স্বপ্নের সাময়িক ভাঙন।

মনোবিজ্ঞানীরা প্রথমেই নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করার পরামর্শ দেন। মন খারাপ হলে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন এবং নিজেকে কিছুটা সময় দিন। মনে রাখা প্রয়োজন, একটি ফুটবল ম্যাচের ফলাফল কোনো ব্যক্তির আত্মসম্মান, সাফল্য কিংবা যোগ্যতার মাপকাঠি নয়। খেলাধুলার মূল উদ্দেশ্য আনন্দ, বিনোদন এবং প্রতিযোগিতার সৌন্দর্য উপভোগ করা। তাই কোনো দলের হারকে নিজের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণত ট্রল, ব্যঙ্গচিত্র, মিম এবং নানা ধরনের মন্তব্যের বন্যা দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক কনটেন্ট বারবার দেখলে হতাশা ও মানসিক চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন মনে হলে কয়েক ঘণ্টা বা এক দিনের জন্য ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি নেওয়া যেতে পারে। মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের নোটিফিকেশনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, প্রতিটি ট্রলের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অনেক সময় নীরব থাকা কিংবা হালকা হাসির মাধ্যমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়াই সবচেয়ে পরিণত প্রতিক্রিয়া। আবেগের মুহূর্তে পাল্টা মন্তব্য করলে তা পরবর্তীতে অনুশোচনার কারণ হতে পারে এবং বন্ধুত্ব বা পারিবারিক সম্পর্কেও অপ্রয়োজনীয় টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।

মন ভালো রাখতে দৈনন্দিন কিছু ইতিবাচক অভ্যাসও কার্যকর হতে পারে। যেমন—হাঁটাহাঁটি করা, হালকা ব্যায়াম, বই পড়া, সিনেমা বা সিরিজ দেখা, গান শোনা কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো। পছন্দের কোনো খাবার খাওয়া বা এক কাপ চা-কফির আড্ডাও মনকে স্বস্তি দিতে পারে। একই সঙ্গে ম্যাচের হাইলাইট বা বিশ্লেষণ বারবার না দেখে অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দিলে হতাশা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়।

শুধু নিজের নয়, আশপাশের মানুষদের অনুভূতির প্রতিও সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কোনো বন্ধু, সহকর্মী বা পরিবারের সদস্য যদি প্রিয় দলের হারে মন খারাপ করেন, তাহলে তাঁকে খোঁচা না দিয়ে পাশে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ‘আগেই বলেছিলাম’, ‘তোমাদের দল তো শেষ’, ‘এবার বুঝলে?’—এ ধরনের মন্তব্য সাময়িক হাসির জন্ম দিলেও অন্যের মানসিক কষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে।

বরং একটি আন্তরিক আলাপ, একসঙ্গে চা বা কফি পান, কিংবা খোঁচামুক্ত কোনো মজার ভিডিও বা হালকা মিম শেয়ার করা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল, স্পেন বা অন্য কোনো দলকে ঘিরে তুলনামূলক বিতর্কে না জড়ানোই সম্পর্কের জন্য ভালো।

ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানীরা মনে করিয়ে দেন, প্রকৃত সমর্থকের পরিচয় শুধু জয়ের মুহূর্তে উল্লাসে নয়, বরং কঠিন সময়েও নিজের দলের পাশে থাকার মধ্যেই নিহিত। একটি টুর্নামেন্টে বিদায় মানেই একটি দলের সম্ভাবনার শেষ নয়। সামনে নতুন প্রতিযোগিতা, নতুন প্রস্তুতি এবং ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন সুযোগ সবসময় থাকে।

একই সঙ্গে যারা সামাজিক মাধ্যমে ট্রল করেন, তাদের প্রতিও সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুত্বপূর্ণ ঠাট্টা-তামাশা ক্রীড়া সংস্কৃতির অংশ হতে পারে, তবে সেটি যেন কখনো ব্যক্তিগত অপমান, বিদ্বেষ, অনলাইন হয়রানি বা মানসিক আঘাতের পর্যায়ে না পৌঁছে। কারণ একটি মন্তব্য মুহূর্তের বিনোদন দিলেও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত ফুটবল শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়; এটি আবেগ, বন্ধুত্ব, সম্মান এবং পারস্পরিক ভালোবাসারও গল্প। তাই প্রিয় দলের হারে কষ্ট পাওয়া যেমন স্বাভাবিক, তেমনি সেই কষ্টকে স্বাস্থ্যকরভাবে সামলে নেওয়া এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোই একজন পরিণত ক্রীড়াপ্রেমীর সবচেয়ে বড় পরিচয়।

পাঠকের মতামত: