শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে গণমাধ্যমকে সতর্ক করল অন্তর্বর্তী সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২২ ১৯:২০:২৫
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে গণমাধ্যমকে সতর্ক করল অন্তর্বর্তী সরকার

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিয়ে গণমাধ্যমকে কড়া সতর্কতা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আইন ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার কিছু গণমাধ্যম ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার একটি ভাষণ প্রচার করেছে। ওই ভাষণে তিনি মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন, যা গণমাধ্যমে প্রচার করা সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং আরও জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং তিনি বর্তমানে বিচারের মুখোমুখি আসামি। আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুসারে, যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতার বক্তব্য, কার্যক্রম বা প্রচারণা প্রচার বা পুনঃপ্রচার করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার অডিও বা ভিডিও প্রচার ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বৈরশাসক কর্তৃক ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়ানোর বক্তব্য প্রচারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানায় যে, তারা যেন সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করে। শেখ হাসিনার যেকোনো বক্তব্য বা মন্তব্য প্রচার করা কেবল দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে হুমকি সৃষ্টি করবে না, বরং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে সহিংসতা ও অরাজকতাকে উসকে দিতে পারে।

বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়, ‘তার (শেখ হাসিনা) মন্তব্য, বক্তৃতা কিংবা উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার বা পুনঃপ্রচার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি তৈরি করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনসাধারণকে ভুল পথে পরিচালিত করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। সুতরাং এ বিষয়ে আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যেকোনো গণমাধ্যম বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কঠোর জবাবদিহির আওতায় আসবে।’


অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৯:২১:২৮
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারানোর মুখে পড়ায় দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন না করায় মোট ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময় জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি সরাসরি বিল হিসেবে সংসদে আনা হচ্ছে এবং আরও ১৫টি সংশোধন করে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। তবে বাকি ২০টির মধ্যে চারটি সরাসরি বাতিল এবং ১৬টি এখনই সংসদে উপস্থাপন না করায় নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলে সেগুলো সম্পূর্ণভাবে কার্যকারিতা হারাবে।

বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বিধান এবং বিচার বিভাগ-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাঠামোগত আইন অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব আইন বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট খাতে নীতিগত শূন্যতা তৈরি হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও সুশীল সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজধানীর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় ড. বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি।

একই আলোচনায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের কঠোর সমালোচনা করেন আইনজীবী শিশির মনির। তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে এবং এটি বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল এ বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ আইন বাতিলের পেছনের যুক্তি জনসম্মুখে তুলে ধরা উচিত, যাতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি না থাকে। একই সঙ্গে নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার প্রবণতারও সমালোচনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এনসিপির নেত্রী সামান্তা শারমিন বলেন, এসব সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। একই দলের আরেক নেতা সরোয়ার তুষার গণভোটের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য করে রাজনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে প্রভাবিত করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। অন্যদিকে এবি পার্টির নেতা ফুয়াদ মনে করেন, সংবিধানকে কেন্দ্র করে নতুন সংকট তৈরির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, অধ্যাদেশ বাতিলের এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত এই ইস্যুতে আলোচনা-সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত, এনসিপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির দূরত্বও বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

-রফিক


ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের ১০ বছরের সাজা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৩:২১:৩৭
ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের ১০ বছরের সাজা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বহুল আলোচিত অস্ত্র মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে, কারণ রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন। এই রায়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংগঠিত অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার ১৮তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর আদাবর থানায় দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দুপুরে র‌্যাব একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। সেখানে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যিনি পরে নিজের পরিচয় দেন ফয়সাল করিম মাসুদ হিসেবে।

পরবর্তীতে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি বিদেশি পিস্তল এবং চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। অস্ত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলাটি দায়ের করেন র‌্যাব-২ এর হাবিলদার মো. মশিউর রহমান।

অভিযোগে বলা হয়, ফয়সাল করিম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন বলে তদন্তে উঠে আসে। এসব অপরাধ সংঘটনে তিনি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাটি তদন্ত করে আদাবর থানার উপপরিদর্শক জাহিদ হাসান গত বছরের ২৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, এই আসামি গত বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। পরবর্তীতে তার জামিন বাতিল করা হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান, যার ফলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এদিকে, ফয়সাল করিম মাসুদের নাম আরেকটি আলোচিত মামলাতেও উঠে আসে। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তদের একজন হিসেবে ফয়সালের নাম তদন্তে উঠে আসে।

পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে ফয়সালসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়।

-রফিক


আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ডসহ ৩০ আসামির সাজা ঘোষণা 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৩:০৪:৩৩
আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ডসহ ৩০ আসামির সাজা ঘোষণা 
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুইজন পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে, যা রাষ্ট্রীয় সহিংসতার অভিযোগে একটি তাৎপর্যপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার বাকি ২৮ জন আসামিকে অপরাধের মাত্রা ও সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী-এর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় প্রদান করে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায় ঘোষণার আগে বেলা প্রায় সোয়া ১২টার দিকে আদালত কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে রায় পাঠ শুরু হয়। বিচারিক প্যানেল পর্যায়ক্রমে মামলার ঘটনা, সাক্ষ্যপ্রমাণ, তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিশ্লেষণ তুলে ধরে রায়ের ভিত্তি ব্যাখ্যা করেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হয়েছে এবং তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও দেশের প্রচলিত আইনের আলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

এই মামলাটি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার বিচারিক পরিণতির একটি প্রতীকী দৃষ্টান্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

আইন বিশ্লেষকদের অভিমত অনুযায়ী, আদালতের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডে আরও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভুক্তভোগী পরিবার ও আন্দোলনকারীদের জন্য ন্যায়বিচারের একটি প্রতীকী স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

-রফিক


তারেক রহমান ও কোকোকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবি: সংসদে আলোচনার ঝড়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ২০:৩৩:০৩
তারেক রহমান ও কোকোকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবি: সংসদে আলোচনার ঝড়
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুর-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান জাতীয় সংসদে এক আবেগঘন ও চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

একইসঙ্গে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবর্ণনীয় ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবিগুলো পেশ করেন।

সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে দীর্ঘ ৯ মাস কারাবন্দি থেকেও বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর দুই সন্তান যে অসীম ধৈর্য ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। তিনি বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক চাটুকারিতা নয়, বরং ইতিহাসের এক অমোঘ সত্য।

আমাদের নেত্রী তাঁর দুই সন্তানসহ বন্দিশালায় অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ৯ মাস পাকিস্তানি কারাগারে বন্দি জীবন কাটানোর কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর ভাইকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

মুজিবুর রহমান আরও দাবি করেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর এই ঐতিহাসিক ত্যাগের জন্য অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই পরিবারের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হলে তা নতুন প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সংসদের এই আলোচনায় বিএনপি ও সহযোগী দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁর এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। এই প্রস্তাবটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

/আশিক


১৮০ দিনে ১০ হাজার প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ধামাকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১৭:৪৯:২১
১৮০ দিনে ১০ হাজার প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ধামাকা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মেগা পরিকল্পনার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি এবং ৮ হাজার ২৩২টি মাদরাসাসহ মোট ১০ হাজার ৫৬৮টি প্রতিষ্ঠানে উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া দেশের দেড় হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদানের পাশাপাশি সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক করতে স্মার্ট ক্লাসরুম ও বিশেষ কারিগরি কোর্স চালু করা হচ্ছে। আইসিটি খাতের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিসিসি-র মাধ্যমে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), সাইবার সিকিউরিটি ও পাইথন প্রোগ্রামিংয়ের মতো আধুনিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া নারী শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বর্তমান সরকার।

/আশিক


হাসনাত আবদুল্লাহর কটাক্ষের জবাব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১৭:২৮:০৮
হাসনাত আবদুল্লাহর কটাক্ষের জবাব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন অ্যাডহক কমিটি নিয়ে চলমান বিতর্ক এখন রাজপথ ছাড়িয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গড়িয়েছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর করা ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘তামিম ইকবালের নেতৃত্বে যে কমিটি করা হয়েছে, সেখানে কোনো স্বজনপ্রীতি হয়নি। তিনি একজন দেশবরেণ্য খেলোয়াড়। এখানে আমরা কোনো বাপের দোয়া বা মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা দেশের বিভিন্ন ক্লাব ও ক্রিকেট বোর্ডে যে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সে বিষয়ে যথাযথ তদন্ত পরিচালনা করেছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই আগের বোর্ড ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তামিম ইকবালের হাতে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে।

মূলত কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বিসিবির বর্তমান অবস্থাকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন যে, বোর্ড এখন আর বিসিবি নেই, এটি “বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে” পরিণত হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের অনড় অবস্থান এবং মেধার ভিত্তিতে কমিটি গঠনের বিষয়টি সংসদের সামনে তুলে ধরেন। বিসিবির এই রদবদল এবং সংসদীয় বিতর্ক ক্রীড়াঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

/আশিক


সংসদে ঐতিহাসিক বিল পাস: আইনি সুরক্ষা ও পূর্ণ দায়মুক্তি পেলেন জুলাই যোদ্ধারা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১৭:০৮:০০
সংসদে ঐতিহাসিক বিল পাস: আইনি সুরক্ষা ও পূর্ণ দায়মুক্তি পেলেন জুলাই যোদ্ধারা
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’দের পূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা এবং দায়মুক্তি দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে একটি ঐতিহাসিক বিল সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ বিলটি উত্থাপন করেন।

বিলটি পাসের ফলে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি কার্যধারা চিরতরে প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত হলো। পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগ বাতিল করা হবে এবং ভবিষ্যতে এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আইনত নিষিদ্ধ বা বারিত হিসেবে গণ্য হবে।

একই দিনে জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ বিল-২০২৬’ পাস হওয়ার মাধ্যমে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই সংশোধনীর ফলে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হলো। নতুন এই আইন অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো ব্যক্তি বা সত্তার পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন যদি সন্ত্রাসে জড়িত থাকে, তবে সরকার সেই নির্দিষ্ট দলকে সরাসরি নিষিদ্ধ করার পূর্ণ ক্ষমতা লাভ করল।

মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নির্বিচারে মানুষ হত্যার দায়ে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দলটিকে সাংগঠনিকভাবে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়াটি এই আইনের মাধ্যমে আরও সুসংহত হলো। সংসদ অধিবেশনে এই বিলগুলো পাসের সময় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

/আশিক


শিক্ষাই জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর মেগা পরিকল্পনার ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১২:০০:৩৮
শিক্ষাই জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর মেগা পরিকল্পনার ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং সে লক্ষ্যে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে জানান, চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনা মূল্যে স্কুলড্রেস বিতরণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল চালু করা হবে।

এছাড়া নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে দেড় হাজার প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগসহ প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি সব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া আইসিটি বিভাগের মাধ্যমে আগামী ছয় মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), সাইবার সিকিউরিটি এবং পাইথন প্রোগ্রামিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ প্রদানের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

/আশিক


মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানালেন রুমিন ফারহানা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১৮:০২:০৩
মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানালেন রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এক নজিরবিহীন বক্তব্যে নিজের দল বিএনপির প্রতি ‘ধন্যবাদ’ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নির্ধারিত বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিশেষ করে দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়া এবং বহিষ্কৃত হওয়ার পরও দলের প্রতি তাঁর এই ইতিবাচক ভঙ্গি সংসদ সদস্যদের মাঝে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে মহান রাব্বুল আলামিন এবং নিজের নির্বাচনি এলাকার নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, "অসংখ্য নেতাকর্মী যারা নানাভাবে বঞ্চিত হয়ে, ভয়ভীতির মধ্যে দিয়ে আমার নির্বাচন করেছেন এবং দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, তারা আমাকে ছেড়ে যাননি। তাদের সবার কাছে আমি ঋণী।"

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি সরাসরি বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, "আমি ধন্যবাদ জানাই বিএনপিকে আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য। মনোনয়ন না পাওয়ার কারণেই আমি বুঝতে পেরেছি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত কত লক্ষ মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা আমার পাশে ছিল। একটি দলীয় গণ্ডির মধ্যে থেকে নির্বাচন করলে এই বিশাল জনসমর্থন বোঝার সৌভাগ্য আমার হতো না।"

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, "আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, যিনি আমাকে স্নেহ দিয়ে রাজনীতিতে এনেছিলেন। আমি বিশ্বাস করি, এই সংসদে তাঁর যে শূন্যতা, তা কোনোদিন পূরণ হবে না।"

উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়ে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তখন শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। আজ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি সেই পুরনো অভিমান ভুলে জনগণের ভালোবাসার জয়গান গাইলেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: