মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসন ও ইরানি উত্তেজনার মাঝে রিয়াদে নতুন কূটনৈতিক সেশন

মধ্যপ্রাচ্যের চরম নিরাপত্তা সংকট ও ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সংঘাতের আবহে এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফরে সৌদি আরব পৌঁছেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও নিরাপত্তা বৈঠকে অংশ নিতেই সরকারি এই সফরে রিয়াদে উপস্থিত হয়েছেন তিনি।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা-র বরাতে জানা গেছে, রাজধানী রিয়াদে পৌঁছে প্রেসিডেন্ট আল-শারা সৌদি যুবরাজের সাথে আনুষ্ঠানিক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সিরিয়া-সৌদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আধুনিকায়ন এবং সার্বিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো এই বৈঠকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট আল-শারার এই সৌদি সফরের সময়কাল অত্যন্ত কৌশলগত ও তাৎপর্যপূর্ণ। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আগ্রাসন ও সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বিশেষ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত যৌথ সেনা মোতায়েনের বিষয়ে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশেষ করে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উদ্ভুত সংকটে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তার অক্ষ হিসেবে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’-এর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এই পরিবর্তিত ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে রিয়াদে দুই শীর্ষ নেতার বৈঠককে অত্র অঞ্চলের নতুন নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণের অন্যতম কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আল জাজিরা
তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ও গঙ্গা চুক্তি নিয়ে মোদিকে তথ্য দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এক জরুরি ও অনির্ধারিত সফরে নয়াদিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক একটার দিকে সাউথ ব্লকে দুই নেতার মাঝে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নতুন সরকারের রূপরেখা, আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ঢাকার সুনির্দিষ্ট অবস্থান ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বকে অবহিত করতেই হাইকমিশনারের এই হঠাৎ সফর। গত সোমবার রাতে ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইটে দিল্লি পৌঁছান তিনি। তবে কূটনৈতিক কৌশলগত কারণে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন কিংবা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
পেশাদার কূটনীতিকের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক নিয়োগ হিসেবে গত এপ্রিলে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন দেশটির সাবেক রেলমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঢাকার সাথে নয়াদিল্লির বাণিজ্যিক, সীমান্ত ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসনে কাজ করছেন তিনি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর বিষয়ে তিনি জানান, সফরটি অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে, তবে এর কার্যকর প্রস্তুতির জন্য উভয় পক্ষকে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া উচিত।
বৈঠক সূত্র আরও জানায়, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে ঢাকা-নয়াদিল্লির একাধিক অমীমাংসিত ইস্যু ঝুলে রয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া, দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য ঘাটতি এবং ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার ৩০ বছর মেয়াদী পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন প্রসঙ্গ এতে প্রধান হিসেবে উঠে এসেছে। এর আগে গত ৩ অক্টোবর ঢাকার এক অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার ত্রিবেদী মন্তব্য করেছিলেন, অমীমাংসিত সংবেদনশীল বিষয়গুলো রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়; বরং নিয়মিত খোলামেলা আলোচনা এবং পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ওপর ভিত্তি করেই এগোতে হবে।
/আশিক
আমরা আজ আরও শক্তিশালী: ভিডিও প্রকাশ করে মাখোঁর কড়া বার্তা
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহেই নিজেদের নতুন প্রজন্মের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র 'এম৫১.৩' (M51.3)-এর সফল প্রথম পরীক্ষা চালিয়েছে ফ্রান্স। পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অননাস্রিক বা অ-পারমাণবিক অস্ত্রবাহী এই এম৫১.৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি দেশের বির্টানি (Brittany) উপকূলীয় অঞ্চল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। সম্প্রতি বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়ন শেষে ফরাসি নৌবাহিনীর পারমাণবিক সাবমেরিন 'লে ভিজিলঁ' (Le Vigilant) সম্পূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের উপযোগী কি না, তা যাচাই করতেই এই সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে অনুসরণ করে চালোনো এই পরীক্ষায় কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ওয়ারহেড রাখা হয়নি।
বিবৃতিতে কৌশলগত কারণে রাশিয়ার নাম সরাসরি উল্লেখ করা না হলেও, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে এটি মস্কোর উদ্দেশ্যে এক স্পষ্ট বার্তা। সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী রুশ ছিটমহল 'কালিনিনগ্রাদ' নিয়ে পশ্চিমাদের সতর্ক করে দেন এবং প্রয়োজনে কালিনিনগ্রাদ রক্ষায় পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন। তবে ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কোনো সামরিক কার্যক্রমই রাশিয়ার ভূখণ্ডের জন্য হুমকি নয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক মাধ্যম এক্সে উৎক্ষেপণের ভিডিও প্রকাশ করে দৃঢ়ভাবে জানান, আজ ফ্রান্স সামরিকভাবে আরও শক্তিশালী এবং যার কাছে এই বার্তা পৌঁছানো প্রয়োজন, সেখানে তা স্পষ্ট ও জোরালোভাবে পৌঁছানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের অধিকারী ফ্রান্স বার্ষিক প্রায় ৫৬০ কোটি ইউরো ব্যয় করে তাদের ২৯০টি পারমাণবিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি আধুনিকায়ন করছে। ফ্রান্সের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি তাদের চারটি ব্যালিস্টিক সাবমেরিন। নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই এম৫১.৩ সংস্করণটির সুনির্দিষ্ট পাল্লা আনুষ্ঠানিকভাবে অপ্রকাশিত থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে এটি প্রায় ৯ হাজার কিলোমিটার বা তারও বেশি দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম।
সূত্র : রয়টার্স
ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সেনাবাহিনী: চিফ অব স্টাফ
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পরম দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনী চরম ব্যর্থ হয়েছিল বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন দেশটির চিফ অব স্টাফ এয়াল জামির। একই সাথে উক্ত নিরাপত্তা বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে বহুবিধ ফ্রন্ট থেকে একযোগে আসা আকস্মিক হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে পার্সটুডে জানায়, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকামীদের ‘আল-আকসা তুফান’ অভিযানের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সামরিক বহরে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে জামির এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দেন।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধান জামির স্পষ্ট মন্তব্য করেন যে, সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদানই ছিল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূল দায়িত্ব, যা ৭ অক্টোবরের আকস্মিক আক্রমণের মুখে সেনাবাহিনী পুরোপুরি পালনে ব্যর্থ হয়। এর আগে রোববার সামরিক ঘাঁটি গ্লিলটে জ্যেষ্ঠ সেনা কমান্ডারদের এক জরুরি বৈঠকে তিনি চলমান অভ্যন্তরীণ তদন্তের অগ্রগতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ওই ট্র্যাজেডির শিক্ষণীয় দিকগুলো বিশ্লেষণ ও সামরিক যুদ্ধের বিভিন্ন খুঁটিনাটি পর্যালোচনার জন্য ২০২৭ সালকে কেন্দ্র করে কৌশলগত পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সেনাপ্রধানের মতে, এই গভীর সামরিক বিপর্যয় থেকে প্রাপ্ত মূল শিক্ষা হলো—ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর ‘কৌশলগত গভীরতা’ বহুলাংশে বৃদ্ধি করা এবং একই সাথে একাধিক সামরিক ফ্রন্ট থেকে একযোগে আসা হামলা প্রতিহতের সক্ষমতা অর্জন করা। ফলে যেকোনো যুদ্ধক্ষেত্রে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপর তাগিদ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবরের ঘটনার পূর্বে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা অবকাঠামোকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষার অন্যতম সুরক্ষিত স্তম্ভ ধরা হতো। তবে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ওই রূঢ় আক্রমণ দেশটির গোয়েন্দা নজরদারি, কমান্ড স্ট্রাকচার ও কৌশলগত প্রস্তুতির কঙ্কালসার চিত্র উন্মোচন করে দেয়। হামলার পূর্বে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গোয়েন্দা তথ্যের অবমূল্যায়ন ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায়ভার কার ওপর বর্তায়—তা নিয়ে এখনো ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক বহাল রয়েছে।
পার্সটুডে
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ ও ইরানকে যুক্ত করার দাবি পাকিস্তান জামায়াতের
ফিলিস্তিন ইস্যুকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’-এ বাংলাদেশ ও ইরানসহ অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী।
সম্প্রতি করাচীতে অনুষ্ঠিত এক বিশাল গাজা পদযাত্রায় (গাজা মার্চ) অংশ নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় আমির হাফিজ নাঈম উর রহমান মুসলিম বিশ্বের বৃহৎ সার্বভৌম রাজনৈতিক ও সামরিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে এই দাবি জানান।
সমাবেশে প্রদত্ত বক্তব্যে হাফিজ নাঈম বলেন, উদীয়মান এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল ও প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত গাজাসহ সমগ্র ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বর্বর সামরিক আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। গত আগস্টে এই তিন পরাশক্তির মধ্যে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও, চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল আমেরিকার সহায়তায় ফিলিস্তিনে নির্বিচার গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
জামায়াত প্রধান তাঁর বক্তব্যে ভৌগোলিক ও ধর্মীয় মতপার্থক্য ভুলে এক ছাতার নিচে আসার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, কেবল ফিলিস্তিন বা গাজাই নয়, কাশ্মীরের নিপীড়িত জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পবিত্র আল-আকসা মসজিদকে দখলমুক্ত করতে সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে একাত্ম হতে হবে। তিনি শিয়া-সুন্নি ভেদাভেদ ও আঞ্চলিক দূরত্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের কালানুক্রমিক বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করেন।
একই সাথে বীর ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর অদম্য সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, পাকিস্তানের জনগণের বিপুল ভালোবাসায় পরিচালিত তাঁদের দল ও জনকল্যাণমূলক সংস্থা ‘আল-খিদমাত’-এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে গাজাবাসীর জন্য প্রায় ১০ বিলিয়ন রুপির (এক হাজার কোটি টাকা) বেশি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। গাজার নিপীড়িত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে অক্টোবরের পুরো প্রথম সপ্তাহজুড়ে বিশেষ বৈশ্বিক কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধি ও উচ্চ কর আরোপের প্রতিবাদে আগামী ৭ অক্টোবরের পর নতুন রাজনৈতিক কৌশল প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে নতুন মোড়, মার্কিন জবাবে ইরানের কড়া পর্যবেক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত গোপন কূটনৈতিক জবাব নিয়ে গভীর ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইরান। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে তেহরান।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) ইরানের এক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি পারমাণবিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আসা ফিরতি জবাবে ঠিক কী কী শর্ত বা বার্তা রয়েছে, সে বিষয়গুলোই এখন গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে ইরানি পররাষ্ট্র দপ্তর।
ইরানের উক্ত উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কূটনৈতিক সমাধানের পথ উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেও তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত। ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের পর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় আসবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক পাড়ায় পর্যবেক্ষণ জোরদার হয়েছে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ২০২৬: আলো দিয়ে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের আবিষ্কারে ৩ বিজ্ঞানীর বাজিমাত
মস্তিষ্ক কীভাবে মানুষের স্মৃতি, গভীর অনুভূতি ও সার্বিক আচরণকে প্রভাবিত করে—সে বিষয়ে যুগান্তকারী অনুসন্ধানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন তিন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী। তাঁরা হলেন মার্কিন বিজ্ঞানী কার্ল ডেইসেরথ এবং দুই জার্মান বিজ্ঞানী পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেল।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে অবস্থিত ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে এ বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলবিজয়ীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সূচনা হলো ২০২৬ সালের বিশ্বখ্যাত নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আনুষ্ঠানিক সপ্তাহ। বিজয়ী বিজ্ঞানীদের মধ্যে ডেইসেরথ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং হেগেমান ও নাগেল যথাক্রমে জার্মানির বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও ভুর্জবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।
নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিজ্ঞানী হেগেমান ও নাগেল যৌথভাবে প্রথম ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামক একটি বিশেষ আলোক-সংবেদনশীল প্রোটিন আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞানী ডেইসেরথ এই আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে প্রোটিনটিকে স্নায়ুকোষের ক্রিয়াকলাপ সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত একটি ‘আলোক-নিয়ন্ত্রিত স্যুইচ’-এ রূপান্তর করতে সক্ষম হন। আলো ব্যবহার করে স্নায়ুকোষের সংযোগ কীভাবে তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করা যায়—তা নিয়ে এই তিন বিজ্ঞানীর কাজই মূলতঃ ‘লাইট-গেটেড আয়ন চ্যানেল’ এবং আধুনিক ‘অপটোজেনেটিকস’ প্রযুক্তির গোড়াপত্তন করে স্নায়ুবিজ্ঞানের (নিউরোসায়েন্স) গবেষণায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলো দিয়ে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের এই বৈপ্লবিক অপটোজেনেটিকস পদ্ধতিটি এখন বিশ্বজুড়ে গবেষণাগারগুলোতে মানব মস্তিষ্কের জটিল রহস্য উন্মোচন ও নিউরোলজিক্যাল রোগের চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ বছর নোবেল পুরস্কারের মোট অর্থমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমতুল্য), যা যৌথভাবে বিজয়ী তিন বিজ্ঞানীর মধ্যে বণ্টন করা হবে। নোবেল জয়ের এই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান, বুধবার রসায়ন, বৃহস্পতিবার সাহিত্য, শুক্রবার বহুল কাঙ্ক্ষিত শান্তি এবং আগামী ১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
সূত্র : সিএনএন ও ফ্রান্স২৪
যুদ্ধ থামানোর নতুন কৌশল? মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ীদের নজর রাশিয়ার লুকঅয়েলে
ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান নেপথ্য আলোচনায় এবার স্থান পেয়েছে বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তেল চুক্তির পরিকল্পনা। প্রস্তাবিত এই সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় রাশিয়ার অন্যতম প্রধান জ্বালানি প্রতিষ্ঠান 'লুকঅয়েল'-এর মালিকানাধীন বিশ্বজুড়ে থাকা বিভিন্ন লাভজনক তেলক্ষেত্র, আন্তর্জাতিক শোধনাগার এবং পেট্রোল পাম্প নেটওয়ার্ক অধিগ্রহণের নতুন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুযোগ উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। এতে বিশেষ সুবিধা পেতে পারে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, যাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করা প্রধান দুই আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের পরিবারের সরাসরি ব্যবসায়িক লেনদেনের সম্পর্ক বিদ্যমান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিশেষ আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এনেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত অবকাঠামো অধিগ্রহণের আলোচনায় মার্কিন বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারী টড বোয়েলি, মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রভাবশালী ব্যবসায়িক বিনিয়োগ গোষ্ঠী এবং স্বয়ং মার্কিন সরকারের একটি বিশেষ সরকারি সংস্থার প্রত্যক্ষ যুক্ততার কথা বলা হয়েছে। তবে পুরো লেনদেন ও যৌথ অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটি আইনিভাবে কার্যকর হতে হোয়াইট হাউস তথা মার্কিন প্রশাসন ও ক্রেমলিনের চূড়ান্ত যৌথ অনুমোদনের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে।
উক্ত গোপন আলোচনার বিষয়ে ওয়াকিবহাল কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর মস্কোর ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পুতিন নিজেই স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের কাছে লুকঅয়েল সম্পর্কিত এই তেল চুক্তির রূপরেখাটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।
আলোচনার বিষয়ে অবগত এক সূত্র দাবি করেছে, এই ধরনের কৌশলগত তেল চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুদ্ধ সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈশ্বিক আর্থিক সমন্বয় ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইতিবাচক চিত্র নিজ দেশের নাগরিকদের সামনে তুলে ধরতে চান পুতিন।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে লুকঅয়েল এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার অধীনে বিশ্বের বহু দেশে বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিপুল প্রাকৃতিক জ্বালানি সম্পদ ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক বিদ্যমান। তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটির বিষয়ে হোয়াইট হাউস, মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এবং রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে লুকঅয়েল কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থেকেছে।
/আশিক
ওয়াশিংটনের খবরকে মিথ্যা আখ্যা দিল তেহরান, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন আরাগচির
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরানি কূটনীতিকদের বের করে দেওয়া বা বহিষ্কারের দাবিকে ভিত্তিহীন ও ভুয়া খবর বলে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অধিবেশনে যোগ দেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা স্বদেশে ফিরে গেছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই পোস্টে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরাগচি স্পষ্ট করেন যে, আগের দিন আগেই চলে যাওয়া একজন সদস্য ছাড়া জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নেওয়া দলের সব ইরানি কূটনীতিক তাদের পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট সূচি মেরেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন। ফলে কাউকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া কিংবা সময়সীমা অমান্য করে অবস্থান করার যেসব সংবাদ রটানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবাস্তব। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছিল যে, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী মিশন ও সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আসা দুই প্রতিনিধিকে দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ প্রদান করা সত্ত্বেও তারা মার্কিন আদেশ অমান্য করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা বের করে দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ও প্রচারণাকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে আরাগচি বলেন, এ ধরনের কাল্পনিক বহিষ্কারের ঘটনা সাজিয়ে গৌরব অনুভব করা কোনো দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রধানের জন্য অনুচিত। এটিকে ওয়াশিংটনের ‘হতাশা ও কূটনৈতিক পরাভব’-এর স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, জাতিসংঘের স্বাগতিক দেশ (হোস্ট কান্ট্রি) হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি নীতি মেনে চলা উচিত। ভুয়া তথ্যের আশ্রয় নিয়ে এমন প্রচারণা জাতিসংঘের স্বাগতিক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব ও বৈশ্বিক নিয়মনীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে তেহরান।
সূত্র: আল-জাজিরা
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি তে যোগ দিতে চায় ৬টিরও বেশি দেশ, জানালেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
চলতি বছরের আগস্টে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সদস্যপদ গ্রহণে ইতোমধ্যে ছয়টির বেশি রাষ্ট্র তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ রূপেই একটি আত্মরক্ষামূলক প্রতিরক্ষা কাঠামো। তবে চুক্তির অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন কোনো দেশকে এই সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে জোটভুক্ত মূল তিন দেশ—তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সর্বসম্মত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
উল্লেখ্য, গত আগস্টে পবিত্র মক্কা নগরীতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে এক ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল নীতি অনুযায়ী, জোটভুক্ত তিন দেশের যেকোনো একটির আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব বা ভূখণ্ডের ওপর হামলা চালানো হলে তা সমগ্র জোটের ওপর যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
একই সাথে খুব দ্রুতই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এই যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উক্ত বৈঠকে সদস্য তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানেরা সার্বিক কৌশলগত সামরিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবেন। সম্প্রতি সৌদি ভূখণ্ডে ইয়ামানের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তারা সৌদি আরবের সাথে হুথিদের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাতের স্থায়ী রাজনৈতিক নিষ্পত্তি দেখতে আগ্রহী। জবাবে ইসহাক দার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মুসলিম উম্মাহর সুরক্ষায় গঠিত এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি রক্ষায় ইসলামাবাদ পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি ওই বৈঠকে হুথি কিংবা ইরাকের স্থানীয় শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তাদের নিজস্ব কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই বলে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে ইরান।
সূত্র: তুর্কিয়ে টুডে।
পাঠকের মতামত:
- মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসন ও ইরানি উত্তেজনার মাঝে রিয়াদে নতুন কূটনৈতিক সেশন
- ছাত্রদলে ছাত্র নেই: সালমান মুক্তাদিরের মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন নাছির উদ্দীন নাছির
- ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্তিম পর্বে মেসি, প্রস্তুত ফুটবল বিশ্ব
- পাঁচ দিনের নতুন আবহাওয়া বুলেটিন প্রকাশ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ষণের আভাস
- তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ও গঙ্গা চুক্তি নিয়ে মোদিকে তথ্য দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী
- সরকারি ঋণ বৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণের প্রভাবে ব্যাংক খাতে বড় ঝুঁকি
- আমরা আজ আরও শক্তিশালী: ভিডিও প্রকাশ করে মাখোঁর কড়া বার্তা
- আবহাওয়া দপ্তরের চারদিনের নতুন পূর্বাভাস জারি, বদলাচ্ছে আবহাওয়ার রূপ
- ভারতের সাথে গঙ্গার পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে, সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা
- কেনাকাটার সময় বাড়ল দুই ঘণ্টা, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত বহাল ২২ অক্টোবর পর্যন্ত
- প্রথম আরব স্বীকৃতিদানকারী দেশের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগ
- ষড় ঋতুর পালাক্রমের ছোঁয়ায় কুবিতে শীতের আগমনী বার্তা
- 'নকল ভিনিসিয়ুস খেলছেন মাঠে!' রিয়াল তারকাকে ঘিরে ব্রাজিলে উদ্ভট ষড়যন্ত্র তত্ত্ব
- বিশ্বজুড়ে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের জরুরি বার্তা
- ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সেনাবাহিনী: চিফ অব স্টাফ
- ৫২ বছর পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মাননা পেলেন গাইবান্ধার 'এক টাকার শিক্ষক' লুৎফুর রহমান
- মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ ও ইরানকে যুক্ত করার দাবি পাকিস্তান জামায়াতের
- মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে নতুন মোড়, মার্কিন জবাবে ইরানের কড়া পর্যবেক্ষণ
- কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, থানায় এজাহার দিতে গিয়ে অবরুদ্ধ এনসিপি
- বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আসছে পবিত্র রমজানের নতুন সময়সূচি
- প্রযুক্তিমুখী শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের সম্মানি নিয়ে সরকার প্রধানের বড় ঘোষণা
- চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ২০২৬: আলো দিয়ে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের আবিষ্কারে ৩ বিজ্ঞানীর বাজিমাত
- বয়স বাড়ার সাথে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন হ্রাস: চেনার ৯টি লক্ষণ
- যুদ্ধ থামানোর নতুন কৌশল? মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ীদের নজর রাশিয়ার লুকঅয়েলে
- দক্ষতা উন্নয়নে সেনাবাহিনী কর্তৃক নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে দর্জি প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন
- বিইআরসির নতুন দর: আজ সন্ধ্যা থেকেই অটোগ্যাস ও এলপিজি সিলিন্ডারের দামে বড় লাফ
- ওয়াশিংটনের খবরকে মিথ্যা আখ্যা দিল তেহরান, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন আরাগচির
- কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা
- বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার
- সপ্তাহজুড়ে ধারাবাহিক ওঠানামার পর স্বর্ণের বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী
- মোস্তাফিজের বাজে ওভার ও অদ্ভুত কৌশলগত ভুলে ক্ষুব্ধ ক্রিকেট অঙ্গন
- প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে ফেরানো সম্ভব, আশাবাদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আশ্বিনের আবহাওয়ায় নতুন বদল, চার দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জারি
- মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি তে যোগ দিতে চায় ৬টিরও বেশি দেশ, জানালেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- নতুন স্যাটেলাইটের নির্মাণ শেষ করে মহাকাশ বিজ্ঞানে তেহরানের বড় সাফল্য
- প্রতিটি জেলা ও সিটি কর্পোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী মেগা প্রকল্পের সিদ্ধান্ত
- শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া বার্তা
- আবারও বাড়ল এলপিজির দাম, নতুন দর ঘোষণা করল বিইআরসি
- পূর্ণ ক্ষমতায় রামপালের দুই ইউনিট, জাতীয় গ্রিডে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ
- ডিজিটাল হচ্ছে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন
- দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দুই সামরিক যানের সংঘর্ষ
- মহাকাশ থেকে ভেসে এলো নতুন সংকেত: বহির্বিশ্বের গ্রহ থেকে প্রথম রেডিও তরঙ্গ শনাক্ত
- দক্ষিণ এশিয়ার মাটিতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা
- বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
- ইসলামাবাদ লং মার্চ বাতিল ও ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সরগরম পাকিস্তান রাজনীতি
- দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত
- শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া প্রকাশ
- বয়স কেবল সংখ্যা মাত্র, বৈশ্বিক মঞ্চে ফের চমক প্রবীণ অভিনেত্রীর
- আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারেরই গোপন যোগাযোগ রয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
- জনপ্রীয়তায় শীর্ষে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ও মামলা নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক পোস্ট
- প্রবীণদের বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি ও ফ্যামিলি কার্ডে সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- এশিয়ান গেমসে বৃষ্টির থাবা, সেমিফাইনালের আগে নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ
- দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত
- এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু ১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৯০০: গ্যাস গেল কোথায়?
- ৩ মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির
- আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় নতুন মোড়, আদালতে বাদীর বিশেষ আবেদন
- স্কুল ভর্তি থেকে জমি কেনাবেচা: রাজ্যগুলোর কাছে ধর্মভিত্তিক হিসাব তলব ভারতের কমিটির
- ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের চাপ, বাণিজ্যমন্ত্রীর অবস্থান পরিষ্কার
- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের দিনেও ব্রাজিল শিবিরে নতুন অস্বস্তি
- এক দশক পর চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর ও গদর বন্দর ঘিরে নতুন সমীকরণ
- কলকাতায় ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিটে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ধামাকা অফার
- জ্বালানি তেলের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি: অক্টোবর মাসের দর ঘোষণা
- উচ্ছেদের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের টেকসই ব্যবস্থার তাগিদ আমীরে জামায়াতের








