৬ বছর ধরে চুল খেয়ে পাকস্থলীতে ২ কেজির চুলের গোলা

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চুল খাওয়ার অদ্ভুত অভ্যাসের কারণে এক কিশোরীর পাকস্থলীতে প্রায় ২ কেজি ওজনের বিশাল একটি চুলের পিণ্ড জমেছিল, যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। চীনের হুবেই প্রদেশে সম্প্রতি এ বিরল ঘটনাটি ঘটে।
সাউথ মর্নিং চায়না পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য চীনের হেনান প্রদেশের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী তীব্র পেট ব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তার মায়ের সঙ্গে হুবেই প্রদেশের উহান শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হুবেই ডেইলি জানিয়েছে, ১.৬ মিটার উচ্চতার ওই কিশোরীর ওজন ছিল মাত্র ৩৫ কেজি, যা তার মারাত্মক অপুষ্টির ইঙ্গিত দেয়। গত ছয় মাস ধরে তার ঋতুস্রাবও বন্ধ ছিল এবং সে তীব্র রক্তাল্পতায় ভুগছিল।
চিকিৎসকদের প্রশ্নের উত্তরে মেয়েটির মা জানান, তার মেয়ে প্রায় ছয় বছর ধরে নিজের চুল খাওয়ার অস্বাভাবিক অভ্যাসে আসক্ত। পরে পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা দেখতে পান, কিশোরীর পাকস্থলির ভেতরে চুল ও খাবারের অবশিষ্টাংশে তৈরি এক বিশাল চুলের দলা জমাট বেঁধে আছে। এই চুলের গোলা পুরো পাকস্থলিকে ঢেকে ফেলেছিল এবং স্বাভাবিক আকারের প্রায় দ্বিগুণ করে ফুলিয়ে তুলেছিল।
গত ১৪ জুলাই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই ২ কেজি ওজনের চুলের পিণ্ডটি সফলভাবে অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পাঁচ দিন পর কিশোরীটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে খাবার খাওয়া শুরু করে। এরপর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ৫ আগস্ট ফলোআপ পরীক্ষার জন্য পুনরায় হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকেরা জানান, সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।
একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যদি কোনো শিশু এক মাসের বেশি সময় ধরে চুল বা কাঁচের মতো অখাদ্য জিনিস খাওয়ার অভ্যাস করে এবং তা থামাতে না পারে, তবে অভিভাবকদের অবশ্যই 'ট্রাইকোফ্যাগিয়া' নামক মানসিক সমস্যা সম্পর্কে সতর্ক হতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।
/আশিক
স্ট্রোক হওয়ার কয়েক দিন আগেই পাওয়া যায় সিগন্যাল: ৫টি লক্ষণ চিনুন
আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে স্ট্রোক এখন একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে মনে হয় স্ট্রোক হঠাৎ করেই হয়েছে, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন ভিন্ন কথা। নিউরোলজিস্টদের মতে, বড় ধরনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার বেশ কিছু সময় আগেই মানুষের শরীর কিছু সুনির্দিষ্ট সতর্ক সংকেত দেয়। যদি সময়মতো এই লক্ষণগুলো চিনে চিকিৎসা নেওয়া যায়, তবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো হঠাৎ করে শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা ঝিনঝিনি অনুভব করা। অনেক সময় রোগীর মুখ একদিকে বেঁকে যেতে পারে এবং হাসতে গেলে অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়ে। এছাড়া কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ জড়িয়ে যাওয়া বা শব্দ খুঁজে না পাওয়া এবং অন্যের সহজ কথা বুঝতে সমস্যা হওয়াও স্ট্রোকের অন্যতম বড় ইঙ্গিত। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
অস্বাভাবিক ও তীব্র মাথাব্যথা, যার কোনো স্পষ্ট কারণ নেই, সেটিও হতে পারে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্তপ্রবাহে বাধার লক্ষণ। এর পাশাপাশি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাওয়া কিংবা চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের আগাম পূর্বাভাস হিসেবে গণ্য হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী প্রচণ্ড ক্লান্তি ও মানসিক বিভ্রান্তি অনুভব করতে পারেন, যা রক্ত সঞ্চালনের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে।
স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়মিত নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। ধূমপান বর্জন, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। শরীরের দেওয়া এই ছোট ছোট সিগন্যালগুলোকে গুরুত্ব দিলে জীবন বাঁচানো অনেক সহজ হয়। মনে রাখবেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ‘প্রতিটি সেকেন্ড মূল্যবান’; তাই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করা জরুরি।
মাত্র ৩০ দিনে কোলেস্টেরল কমানোর জাদুকরী উপায়
আধুনিক যুগের ব্যস্ত জীবনযাত্রা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে উচ্চ কোলেস্টেরল এখন একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি। আগে মনে করা হতো এটি কেবল বার্ধক্যজনিত সমস্যা, তবে বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যেও এই সমস্যা প্রকট হচ্ছে। মূলত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ভাজাভুজি, ধূমপান এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবই এর প্রধান কারণ। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো সতর্কতা অবলম্বন না করলে এটি হৃদরোগের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক পরিকল্পনা মেনে চললে মাত্র এক মাসেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা কোলেস্টেরল কমাতে চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রথমত, সুষম আহার নিশ্চিত করতে হবে। দৈনন্দিন তালিকায় ওটস বা লাল চালের মতো গোটা শস্য, সবুজ শাকসবজি এবং প্রচুর ফলমূল যেমন—আপেল, পেয়ারা, কমলা ও পেঁপে রাখতে হবে।
দ্বিতীয়ত, অবিলম্বে ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা জরুরি, কারণ এগুলো সরাসরি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
তৃতীয়ত, নিয়মিত শরীরচর্চার বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে। চতুর্থ এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা শরীরের হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়। তাই পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধ্যানের মাধ্যমে মন শান্ত রাখা প্রয়োজন। এই নিয়মগুলো একটানা ৩০ দিন মেনে চললে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
কেন শীতেই কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং বাঁচার উপায় কী?
শীতের মৌসুমে সাধারণ সর্দি-কাশির আড়ালে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কিডনির জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে রক্তসঞ্চালন ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। ভারতের বিখ্যাত নেফ্রোলজিস্ট ডা. আদিত্য নায়ক ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, শীতে মানুষের কম পানি পান করা এবং দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকার প্রবণতা মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউটিআইয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে শেষ পর্যন্ত কিডনি বিকল হতে পারে।
২০২৩ সালে ‘বিএমসি নেফ্রোলজি’ সাময়িকায় প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, শীতকালীন ঠান্ডা আবহাওয়ায় মানুষের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে কিডনিতে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। যাদের আগে থেকেই কিডনির কার্যক্ষমতা কিছুটা কম, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এছাড়া শীতকালে নিউমোনিয়ার মতো বক্ষসংক্রমণও বাড়ে, যা পরোক্ষভাবে কিডনিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। গবেষকদের মতে, পানিশূন্যতা এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শীতকালে ‘আকস্মিক কিডনি বিকল’ বা ‘একিউট কিডনি ইনজুরি’র প্রধান কারণ।
কিডনি সুস্থ রাখতে চিকিৎসকরা কিছু বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। শরীর গরম রাখতে স্তরে স্তরে পোশাক পরার পাশাপাশি তৃষ্ণা না পেলেও পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। সুষম খাদ্য হিসেবে ফল ও সবজি গ্রহণ করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী এবং যারা আগে থেকেই কিডনি রোগে আক্রান্ত, তাদের ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে আগাম টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. আদিত্য নায়ক। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা কিডনি সুরক্ষায় অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন যে, প্রস্রাবে জ্বালা, জ্বর, তলপেটে ব্যথা কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে কোনোভাবেই দেরি করা যাবে না। শীতকালে রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি অনেকখানি কমে যায়। সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই পারে হাড়কাঁপানো শীতে আপনার গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটিকে নিরাপদ রাখতে।
স্ট্রেস থেকে উচ্চ রক্তচাপ: হার্ট অ্যাটাক রুখতে মেনে চলুন ৫ নিয়ম
আধুনিক যুগের ব্যস্ততম জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ বা স্ট্রেস এখন নিত্যসঙ্গী। তবে এই চাপ যখন দীর্ঘমেয়াদি হয়, তখন তা কেবল মনের ওপর নয়, সরাসরি হৃদযন্ত্রের ওপর মরণ কামড় বসায়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের ফলে শরীরে 'কর্টিসল' নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই হরমোনের আধিক্য রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ধমনীতে চর্বি জমায় এবং রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত চাপ, পারিবারিক কলহ, আর্থিক অনটন এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতা ও উদ্বেগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই মানসিক অস্থিরতা সরাসরি হৃদস্পন্দনকে অনিয়মিত করে তোলে এবং হৃদপিণ্ডের পেশিকে দুর্বল করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো আগাম উপসর্গ ছাড়াই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এক ধরনের 'সাইলেন্ট কিলার' বা নীরব ঘাতক বলা হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও লক্ষ্য করেছেন যে, মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তিরা প্রায়ই অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান, জাঙ্ক ফুড গ্রহণ এবং কায়িক শ্রম কমিয়ে দেওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি আরও প্রকট হয়। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা এবং ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই মরণব্যাধি থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত শরীরচর্চা ও সুষম খাবারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি, পর্যাপ্ত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম এবং যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, জীবনের ছোটখাটো সমস্যাগুলোকে বড় করে না দেখে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করতে হবে। যদি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে লজ্জা না পেয়ে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সচেতন জীবনযাপনই পারে আপনার হৃদযন্ত্রকে দীর্ঘকাল সচল ও প্রাণবন্ত রাখতে।
অজান্তেই পিত্তথলিতে পাথর জমাচ্ছে আপনার এই ৫টি ভুল অভ্যাস
পিত্তথলিতে পাথর বা গলস্টোন বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রেই এটি শুরুতে কোনো উপসর্গ প্রকাশ করে না, কিন্তু যখন পাথর পিত্তনালিতে আটকে যায়, তখন শুরু হয় অসহ্য ব্যথা, বমি এবং বদহজম। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের প্রতিদিনের কিছু ভুল অভ্যাসই লিভারে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমিয়ে পাথর তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ম্যানিপাল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডা. অনিকেত পায়াগুডে সতর্ক করেছেন যে ৫টি অভ্যাস পিত্তথলির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
প্রথমত, নিয়মিত সময় মেনে খাবার না খাওয়া পিত্তথলির বড় শত্রু। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে পিত্তথলিতে পিত্ত জমে ঘন হয়ে যায় এবং সেখান থেকেই কোলেস্টেরল জমে পাথর তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার পিত্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তৃতীয়ত, শারীরিক পরিশ্রমহীন অলস জীবনযাপন বিপাক প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যা স্থূলতা ও গলস্টোনের ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া দ্রুত ওজন কমানোর জন্য 'ক্র্যাশ ডায়েট' করলে লিভার অতিরিক্ত কোলেস্টেরল নিঃসরণ করে, যা পিত্তথলির ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে। সবশেষে, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পানি ও আঁশযুক্ত খাবারের অভাব হজম প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন যে সব ধরনের গলস্টোনের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। তবে যদি পিত্তথলিতে সংক্রমণ, প্যানক্রিয়াটাইটিস বা পিত্তনালিতে বাধা সৃষ্টি হয়, তবে 'ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি' বা আধুনিক ফুটো করে অস্ত্রোপচারই সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান। জটিল ক্ষেত্রে অনেক সময় ওপেন সার্জারিরও প্রয়োজন হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের পেটব্যথা বা হজমের সমস্যাকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক মনে করে অবহেলা করা ঠিক নয়।
পিত্তথলির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে শাকসবজি, ফলমূল এবং হোলগ্রেন খাবার পিত্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে আপনিও এড়িয়ে যেতে পারেন পিত্তথলিতে পাথরের মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। সুস্থ থাকতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শীতে বাড়ে কর্নিয়ার আলসার: চোখের যত্নে করণীয়
গ্রীষ্মের প্রখর রোদে আমরা চোখের সুরক্ষায় সচেতন থাকলেও শীতকালে বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করা হয়। তবে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে বছরের এই সময়ে চোখের স্বাস্থ্যঝুঁকি গ্রীষ্মের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়। এর প্রধান কারণ হলো শীতের শুষ্ক বাতাস এবং আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া বায়ুদূষণ। বাতাসে ভেসে থাকা বিষাক্ত ধূলিকণা আর ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান সরাসরি চোখের সংস্পর্শে এসে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। শহর ও শিল্পাঞ্চলের ধোঁয়াশা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে যার ফলে চোখের কর্নিয়ায় সূক্ষ্ম ক্ষত তৈরি হতে পারে। এই ক্ষতস্থানে ধূলিকণা বা জীবাণুর সংক্রমণ ঘটলে তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘কর্নিয়ার আলসার’ বলা হয়।
কর্নিয়া হলো আমাদের চোখের আলোক প্রবেশের স্বচ্ছ লেন্স বা প্রবেশদ্বার। কর্নিয়ার আলসারকে একটি ‘মেডিকেল এমার্জেন্সি’ হিসেবে গণ্য করা হয় কারণ এটি চোখের স্থায়ী অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। সংক্রমণের ফলে কর্নিয়ায় যে সাদাটে দাগ তৈরি হয় তা আলোক রশ্মি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ঝাপসা করে দেয়। সংক্রমণের মাত্রা গভীর হলে কর্নিয়া ফুটো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা চোখের অভ্যন্তরীণ অংশকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে। বিশেষ করে ছত্রাক বা বিশেষ কিছু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এতটাই দ্রুত ছড়ায় যে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যথাযথ চিকিৎসা না করালে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করে চোখ বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
কর্নিয়ার আলসারের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে চোখ প্রচণ্ড লাল হয়ে যাওয়া এবং অনবরত পানি পড়া। এর পাশাপাশি চোখে তীব্র ব্যথা বা খচখচানি ভাব অনুভব করা এবং আলোর দিকে তাকাতে সমস্যা হওয়া অন্যতম লক্ষণ। অনেক সময় চোখের মণির ওপর স্পষ্ট সাদা দাগ লক্ষ্য করা যায় যা সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায় নির্দেশ করে। বিশেষ করে যারা পেশাগত কারণে বাইরে কাজ করেন কিংবা ধুলোবালির মধ্যে বেশি যাতায়াত করেন তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত রাখতে হলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বাইরে বের হওয়ার সময় সানগ্লাস বা প্রোটেক্টিভ চশমা ব্যবহার করা উচিত যা সরাসরি বাতাস ও ধূলিকণা থেকে চোখকে রক্ষা করবে। চোখে বারবার হাত দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করার পাশাপাশি প্রতিদিন পরিষ্কার ও ঠান্ডা পানি দিয়ে চোখ ধোয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। যদি চোখে কোনো ধরণের অস্বস্তি বা লাল ভাব দেখা দেয় তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কোনো ড্রপ ব্যবহার করা একদমই উচিত নয়। সামান্য সচেতনতাই পারে শীতের এই বৈরি পরিবেশে আপনার মূল্যবান দৃষ্টিশক্তিকে সুরক্ষিত রাখতে।
পাকস্থলীর ধ্বংস করছে আপনার এই ৩টি সাধারণ অভ্যাস
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু কাজ রয়েছে যেগুলোকে আমরা আপাতদৃষ্টিতে খুব একটা ক্ষতিকর মনে করি না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই অভ্যাসগুলোই নীরবে আমাদের পাকস্থলীর অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে। ফ্লোরিডার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট এবং প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. জোসেফ সালহাব সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় পাকস্থলীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তিনটি ‘গাট টক্সিন’ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে ধূমপান, অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধের ব্যবহার এবং নিয়মিত মদ্যপান—এই তিনটি অভ্যাসই গ্যাস্ট্রাইটিস ও রক্তক্ষরণজনিত আলসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ডা. সালহাবের বিশ্লেষণ অনুযায়ী ধূমপান বা ভেপিং কেবল ফুসফুসেরই ক্ষতি করে না বরং এটি সরাসরি খাদ্যনালি ও পাকস্থলীতে আঘাত হানে। সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা রাসায়নিক উপাদান পাকস্থলীর নরম আস্তরণে ক্ষত সৃষ্টি করে যা দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ ও তীব্র গ্যাস্ট্রাইটিসের কারণ হয়। এছাড়া নিকোটিনের প্রভাবে পাকস্থলীতে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ কমে যায় যার ফলে কোনো ক্ষত তৈরি হলে তা সহজে সারতে চায় না। এটি ক্রমান্বয়ে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে।
অনেকেই সামান্য শরীর ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই আইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেনের মতো ব্যথানাশক ওষুধ বা এনএসএআইডিএস (NSAIDs) গ্রহণ করেন। ডা. সালহাব জানান যে এই ধরণের ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার পাকস্থলীর আস্তরণে তীব্র জ্বালা এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যথানাশক ব্যবহারের ফলে পেপটিক আলসারের সম্ভাবনা তৈরি হয় যা প্রাণঘাতী হতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের ক্ষতির পাশাপাশি পাকস্থলীর আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যালকোহল গ্যাস্ট্রাইটিস’ বলা হয়। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা, বমি ও বুকজ্বালার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
পাকস্থলী ও হজমতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ডা. সালহাব কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি ধূমপান ও ভেপিং সম্পূর্ণ বর্জন করার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ধরণের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহণ এবং দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি। পেটের কোনো সমস্যা বা আলসারের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট। ছোট কিছু সচেতন সিদ্ধান্তই দীর্ঘমেয়াদে আপনার পাকস্থলীকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে পারে।
ঠোঁট ফাটা কেবল শীতের দোষ নয় বরং আসল অপরাধী অন্য কেউ
শীতের আগমনে প্রকৃতির রুক্ষতার প্রথম প্রভাব পড়ে মানুষের ঠোঁটের ওপর। বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ার ফলে গায়ের চামড়ার পাশাপাশি অনেকের ঠোঁট ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং ক্ষেত্রবিশেষে রক্তক্ষরণের মতো যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ একে কেবল ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব মনে করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। ঠোঁট ফাটার নেপথ্যে কেবল আবহাওয়া নয় বরং শরীরে বিশেষ একটি পুষ্টি উপাদানের অভাব বড় ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে ভিটামিন বি২ বা রিবোফ্লাভিনের ঘাটতি থাকলে শীতের প্রকোপ ছাড়াও সারা বছর ঠোঁট শুষ্ক ও খসখসে থাকতে পারে।
প্রাকৃতিকভাবে শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অন্য যেকোনো ঋতুর তুলনায় অনেক কম থাকে যার ফলে আমাদের শরীর থেকে ঘাম নিঃসরণ কমে যায়। এর ফলে ত্বকের গভীরে থাকা সিবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে যে তৈলাক্ত পদার্থ বা সিবাম নির্গত হয় তা পুরো ত্বকে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। লুব্রিকেন্টের এই অভাবের কারণেই ত্বক কুঁচকে যায় এবং ঠোঁটের সূক্ষ্ম চামড়া ফাটতে শুরু করে। তবে যাদের শরীরে ভিটামিন বি২ পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই ভিটামিনের অভাবে কেবল ঠোঁট ফাটা নয় বরং মুখে আলসার বা ঘায়ের মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন বি২ মূলত ত্বকের কোষ পুনর্গঠন এবং এর নমনীয়তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। তাই চিকিৎসকদের মতে কেবল বাহ্যিক প্রসাধনী ব্যবহার করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ঠোঁটের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে সবার আগে খাদ্যতালিকায় ভিটামিন বি২ যুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। দুগ্ধজাত পণ্য, ডিম, সবুজ শাকসবজি এবং কলিজার মতো খাবারগুলো এই ভিটামিনের চমৎকার উৎস। এছাড়া শীতে তৃষ্ণা কম পেলেও পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি কারণ অভ্যন্তরীণ পানিশূন্যতা ঠোঁট ফাটার অন্যতম প্রধান কারণ।
ঘরোয়া উপায়ে ঠোঁটের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক স্ক্রাব ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন রূপ বিশেষজ্ঞরা। সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চারবার হলুদ এবং মধুর মিশ্রণ দিয়ে ঠোঁট স্ক্রাব করলে মৃত কোষ দূর হয়ে ঠোঁট সজীব হয়ে ওঠে। বাজারে থাকা রাসায়নিকযুক্ত লিপবামের বদলে খাঁটি নারিকেল তেল বা অর্গানিক লিপবাম ব্যবহার করা অধিকতর নিরাপদ। চিকিৎসকদের মতে শীতের শুরু থেকেই খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক পরিচর্যার দিকে নজর দিলে ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হওয়া বা ব্যথার মতো কষ্টদায়ক পরিস্থিতি অনায়াসেই এড়ানো সম্ভব।
শীতে জয়েন্টে তীব্র ব্যথা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের কার্যকরী টিপস
সারাদেশে জেঁকে বসা শীতের প্রকোপে জনজীবনে যেমন স্থবিরতা নেমে এসেছে তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ও জয়েন্টে ব্যথার মতো শারীরিক সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে। এই তীব্র ঠান্ডায় অনেকেই পেশিতে টান পড়া বা হাড়ের সংযোগস্থলে শক্তভাব অনুভব করছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে যে এটি মূলত শরীরের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া তবে যাদের আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস বা স্নায়ুর সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এই পরিস্থিতি বেশ যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে শীতকালে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ ধরে রাখার জন্য রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ে যার ফলে হাত ও পায়ের প্রান্তে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়ার কারণেই মূলত পেশিগুলো শক্ত হয়ে ব্যথার সৃষ্টি করে। এছাড়া হাড়ের জয়েন্টের ভেতরে থাকা লুব্রিকেন্ট বা সিনোভিয়াল ফ্লুইড ঠান্ডায় ঘন হয়ে যাওয়ায় জয়েন্টের নড়াচড়া কঠিন হয়ে পড়ে। ঠান্ডার সময় মানুষের স্নায়ুগুলো ব্যথার সংকেত অনেক বেশি তীব্রভাবে মস্তিষ্কে পাঠায় যার ফলে পুরনো চোট বা বাতের ব্যথা কয়েক গুণ বেশি অনুভূত হয়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকেরা শরীর সবসময় গরম রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। উলের মোজা, গ্লাভস এবং পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি কুসুম গরম পানি দিয়ে সেঁক নেওয়া বা নিরাপদ দূরত্বে হিটার ব্যবহার করা বেশ কার্যকর হতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ২০ মিনিট হালকা স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম করলে শরীরে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং জয়েন্টের জড়তা কেটে যায়। এছাড়া শীতে তৃষ্ণা কম পেলেও পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি কারণ পানিশূন্যতা পেশিকে আরও শক্ত করে তোলে যা ব্যথার তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেও এই সমস্যা থেকে অনেকটা মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সামুদ্রিক মাছ, ডিম, কলা, বাদাম এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ফ্ল্যাক্সসিড শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে হুটহাট ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া কিডনি বা পাকস্থলীর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। যদি ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় কিংবা জয়েন্ট ফুলে লাল হয়ে যায় তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শীতকালীন এই ব্যথা নিয়ে সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার বা ঝাড়ফুঁকের বদলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলেই সুস্থ থাকা সম্ভব বলে মনে করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।
পাঠকের মতামত:
- আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে এলে সব দায়িত্ব নেব: জামায়াত নেতা
- নরম নীতি’র যুগ শেষ, অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে কঠোর আসামের মুখ্যমন্ত্রী
- সম্পদের পাহাড়ে ছাত্রনেতা মাসউদ: বাবার চেয়ে ৫ গুণ বিত্তবান ছেলে
- ইসলামী দলকে ভোট দিতে জনগণ এখন প্রস্তুত: ডা. সৈয়দ তাহের
- রণক্ষেত্র আগারগাঁও, বিটিআরসি কার্যালয় লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইট
- নতুন বছরে যেসব মাসে টানা ৪ থেকে ১০ দিন ছুটির সুযোগ জানুন
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০টি শেয়ার
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০টি শেয়ার
- একীভূত ব্যাংকে কত টাকা তুলবেন, জানুন নিয়ম
- সঞ্চয়পত্রে মুনাফা আরও কমলো, জানুন নতুন হার
- প্রকাশ হলো ২০২৬ সালের ব্যাংক ছুটির পূর্ণ তালিকা
- ওরিয়ন ফার্মা ও ইনফিউশনের নতুন ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ
- এক ধাপে বড় কমতি স্বর্ণের দামে
- বৃহস্পতিবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে জেনে নিন আগেই
- পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের দৈনিক এনএভি প্রকাশ
- রেকর্ড ডেটের আগে দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে বিধিনিষেধ
- নতুন বছরের প্রথম দিনেই শেয়ারবাজারে শক্ত উত্থান
- ০১ জানুয়ারি ২০২৬ হালনাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার দর
- ১৭ জেলায় শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি
- ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের বিষয়ে যা বললেন ডা. শফিক
- শীতে শখের রঙিন মাছ মরে যাচ্ছে? মাছ বাঁচাতে ৪টি বিশেষ টিপস
- শীতে হাত পা ফাটলে কী করবেন? ৫টি ঘরোয়া টোটকা জানুন আজই
- শীতে ফুসফুস সুরক্ষিত রাখার ৫ উপায়
- পুরো বাংলাদেশই আজ আমার পরিবার: তারেক রহমান
- শীতে টনসিল থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘরোয়া উপায় ও চিকিৎসকের টিপস
- স্বর্ণের দামে নতুন বছরের শুরুতেই স্বস্তি: আজ থেকে কার্যকর নতুন দর
- এর চেয়েও বহুগুণ বিকট আওয়াজ তোমাকে দিশেহারা করার অপেক্ষায়: আজহারী
- আজ ০১ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- নতুন বছরে কমল জ্বালানি তেলের দাম: আজ থেকে কার্যকর নতুন মূল্য
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- উৎসবহীন ২০২৬-এর পথচলা: হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর শোকের চাদরে ঢাকা দেশ
- নিষেধাজ্ঞা ভেঙে মধ্যরাতে পটকার বিকট শব্দে কাঁপল ঢাকা
- নতুন বছরের শুরুতেই শীতে কাঁপছে পঞ্চগড়, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ
- সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমানের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট
- আয়ের দৌড়ে শীর্ষ নেতাদের পেছনে ফেললেন নুর, হলফনামায় নতুন চমক
- কেন ১ জানুয়ারি নতুন বছর? জানুন এর পেছনের রোমাঞ্চকর ইতিহাস
- প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তান ও নেপালের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ
- হাড়কাঁপানো শীতের ইতিহাস, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কবে কত ছিল?
- ভারসাম্য হারাচ্ছে জলবায়ু তবে কি ধেয়ে আসছে পরবর্তী তুষারযুগ?
- শীতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সেরা ৫ টিপস
- বছর শেষে স্বর্ণের দামে বড় ধস, কাল থেকে কার্যকর নতুন রেট
- ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের সম্পদের পাহাড়? হলফনামায় মিলল বড় তথ্য
- টাঙ্গাইলে খোলস পাল্টে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের তিন নেতা
- খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে হাসিনা মুক্তি পাবেন না: নজরুল
- কবে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাওয়া যাবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- দেশজুড়ে খালেদা জিয়ার গায়িবানা জানাজা
- কেন তিনি ‘আপসহীন’? খালেদা জিয়ার জীবনের অজানা অধ্যায়
- জনসেবা ত্যাগ ও সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস রেখে গেলেন তিনি
- আজ ঢাবির ভর্তি যুদ্ধ: আছে এমআইএসটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খবর
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন মূল্য
- পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর
- আজ থেকে শুরু বিপিএলের দ্বাদশ আসর, জানুন পূর্ণাঙ্গ সময়সূচী
- সাধারণের নাগালের বাইরে সোনার বাজার: মধ্যবিত্তের সোনা কেনার স্বপ্ন কি তবে শেষ
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পিছাল, নতুন তারিখ ঘোষণা
- সোনার বাজারে সুখবর! কমল দাম যত
- ঢাকা-১৫ জামায়াত আমিরের বিপক্ষে নামলেন যে বিএনপি প্রার্থী
- ২০২৬ সালে স্কুলে ছুটি কমলো ১২ দিন, দেখে নিন তালিকা
- বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে নীরবে কেঁদেছেন তারেক রহমান
- ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা: আজই দেখে নিন রুটিন
- হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা থেকে মুক্তি কবে? যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- ই-রিটার্ন দাখিলে আর বাধা নেই: বড় সুখবর দিল রাজস্ব বোর্ড আজ








