খামেনিকে শেষ বিদায় দিতে প্রার্থনাকক্ষের বাইরে রাতভর অবস্থান হাজারো ইরানির

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যের প্রথম দিনেই রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল থেকেই কালো পোশাক পরিহিত লাখো শোকাহত মানুষ রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে তাঁদের প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেছেন। ইরান ও ইরাকজুড়ে এই শেষকৃত্য মেগা ইভেন্টে আগামী কয়েক দিনে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছে দেশটির রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ।
আনুষ্ঠানিকতা শুরুর বহু আগে থেকেই সাধারণ মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। এমনকি অনেকেই প্রার্থনাকক্ষের বাইরে রাতভর অবস্থান নিয়েছেন, যাতে গেট খোলার সাথে সাথেই ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহদি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘‘১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করা কোনো বিষয়ই নয়। মনে হচ্ছে যেন নিজের পরিবারের কোনো সদস্যের শোকানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি।’’ ৩৭ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রেজা জানান, শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতার পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি তাঁরা দিয়েছিলেন, আজ তা রক্ষা করতেই এখানে এসেছেন।
কয়েক মাস আগে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক যৌথ হামলায় খামেনি এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। ফলে শেষকৃত্যের এই শোকের আবহ মুহূর্তেই রূপ নিয়েছে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনায়। সকাল থেকেই মোসাল্লা প্রাঙ্গণে সমবেত জনতাকে তীব্র যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিতে এবং খামেনি হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যায়। আরাশ রাহিমি নামের এক ব্যক্তি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বলেন, ‘‘এখানে আসা প্রতিটি মানুষ সর্বোচ্চ নেতার রক্তের প্রতিশোধ চান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের এই বিরোধ আর কখনো শেষ হবে না।’’
ঐতিহাসিক এই জনসমাগম ও শেষকৃত্যের নিরাপত্তার স্বার্থে সপ্তাহান্তজুড়ে তেহরানের কেন্দ্রীয় এলাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, খামেনির মরদেহ প্রথম তিন দিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হবে। এরপর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র কোম শহরে, যেখানে জামকারান মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (৮ জুলাই) মরদেহ বিমানযোগে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং সবশেষে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের মাশহাদে তাঁর জন্মস্থান ‘ইমাম রেজা মাজার’ প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হবে।
এদিকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে নতুন পদে আসীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি একবারের জন্যও জনসমক্ষে আসেননি। ফলে দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় শোকের এই আনুষ্ঠানিকতায় নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সশরীরে উপস্থিত হন কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা ও বিবিসি
অসলো চুক্তি লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানচিত্র বদলে দেওয়ার গোপন ছক ফাঁস
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ) নিয়ন্ত্রিত অধিকৃত পশ্চিম তীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত ‘এ’ অঞ্চলের প্রায় ১০০টি স্থান একযোগে দখল করার এক ভয়াবহ ও বিপজ্জনক পরিকল্পনা ফেঁদেছে ইসরাইলি উগ্র বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো। মঙ্গলবার ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হাইয়োম’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্রপন্থী ‘সেটলার ফার্মস অ্যাসোসিয়েশন’ এবং ‘হাভাত (ফার্মস) ফোরাম’ যৌথভাবে এই ব্লুপ্রিন্ট বা পরিকল্পনাটি তৈরি করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানচিত্রকে সম্পূর্ণ ও মৌলিকভাবে বদলে দেওয়া।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, এই গোপন প্রস্তাবে একটি নির্দিষ্ট দিনকে ‘বাস্তবায়নের দিন’ (ডে অব ইমপ্লিমেন্টেশন) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সেই নির্ধারিত দিনে পশ্চিম তীরের প্রায় ১০০টি কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে উগ্র বসতি স্থাপনকারী সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করার একটি বিশদ রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, লক্ষ্যবস্তু করা এই স্থানগুলো সম্পূর্ণভাবে অসলো চুক্তির ‘এ’ অঞ্চলের (Area A) অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালের ঐতিহাসিক অসলো-২ চুক্তি অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রশাসনিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আইনিভাবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত রয়েছে।
ইসরাইলি পত্রিকাটির দাবি, এই ভয়াবহ দখলদারিত্বের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাটি ইতিমধ্যে ইসরাইলি সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই দখলের তালিকায় ফিলিস্তিনের প্রধান প্রধান প্রধান শহরগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে ফিলিস্তিনের পক্ষে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) অধিভুক্ত ‘অ্যান্টি-ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কমিটি’-এর সভাপতি মুয়াইয়াদ শাবান এই খসড়া প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এটিকে অধিকৃত সামগ্রিক পশ্চিম তীরকে সম্পূর্ণভাবে ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে তেল আবিবের একটি চরম বিপজ্জনক ও আগ্রাসী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জোরালো দাবি করেন, এটি অবৈধ ও উগ্র বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোর কোনো একক বা স্বাধীন উদ্যোগ নয়; বরং এর মধ্য দিয়ে বর্তমান উগ্র ডানপন্থি ইসরাইলি সরকারের পর্দার আড়ালে অনুসরণ করা বৃহত্তর ফিলিস্তিন উচ্ছেদ নীতিরই আসল ও নগ্ন প্রতিফলন ঘটেছে।
বাস্তব চিত্র অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করে প্রায় প্রতিদিনই পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও নগরগুলোতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। এসব নিয়মিত অভিযানে প্রায়ই নিরীহ ফিলিস্তিনিদের গণগ্রেফতার, মাঠপর্যায়ে অমানবিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং গভীর রাতে সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও তল্লাশি চালানো নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র দখলদারদের বর্বর হামলায় ১ হাজার ১৭৩ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, গুরুতর আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৬৬ জনেরও বেশি এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই প্রায় ২৩ হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করে ইসরাইলি কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
সূত্র: জিও নিউজ
শর্ত পূরণ আর তারিখ চূড়ান্ত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: তেহরান
চলতি সপ্তাহে কাতারের মাটিতে মার্কিন টেকনিক্যাল বা কারিগরি দলের সঙ্গে ইরানের কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। সোমবার (২৯ জুন) ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি আন্তর্জাতিক মহলের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আপাতত মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসার মতো কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় যে আলোচনা চলছে, তার মূল বিষয়বস্তু হলো অপর পক্ষের দেওয়া নিজেদের প্রতিশ্রুতিগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা। সেই প্রক্রিয়াটি বর্তমানে তার নিজস্ব নিয়ম ও গতিতেই সামনের দিকে এগোচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে, দুই দেশের ওয়ার্কিং গ্রুপগুলোর কারিগরি আলোচনা খুব শিগগিরই দোহায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঘারিবাবাদি এই ধরনের প্রচারণাকে নাকচ করে দিয়ে বলেন, এই খবরের কোনো সত্যতা বা নিশ্চয়তা এখনও নেই।
ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার সুনির্দিষ্ট শর্তের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ঘারিবাবাদি আরও বলেন, যখন আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্তাবলী পুরোপুরি পূরণ হবে এবং বৈঠকের তারিখ ও স্থান নিয়ে দুই পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে, ঠিক তখনই কেবল নির্ধারিত ওয়ার্কিং গ্রুপের নির্দিষ্ট কাঠামো অনুযায়ী প্রথম পর্বের কারিগরি আলোচনা শুরু করা সম্ভব হবে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে বর্তমানে কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাসহ বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, আগামী মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই নতুন বিবৃতির পর এটি এখন সম্পূর্ণ পরিষ্কার যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন কোনো সরাসরি বা কারিগরি বৈঠকে বসার জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইরানি জনগণের ‘বিশাল বিজয়’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটিকে দেশের সর্বস্তরের জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও ‘বিশাল বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার কোম সফরকালে দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শোবেইরি জানজানির সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাতকালে তিনি ঘোষণা করেন, এই নতুন চুক্তির সুবাদে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কাতারের ব্যাংকে জব্দ হয়ে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের ইরানি তহবিল অবমুক্ত করে তা দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমানে যে অর্থটি অবমুক্ত হচ্ছে তা কাতারে আটকে থাকা মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি অংশ মাত্র। তহবিলের বাকি অর্থও যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, সেজন্য ইতিমধ্যে পরবর্তী আইনি ও কূটনৈতিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিশাল তহবিল মুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের বিষয়টি মূলত সুইজারল্যান্ড আলোচনা এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে দুই পক্ষের সম্মত হওয়া দ্বিপক্ষীয় কাঠামোরই একটি সফল অংশ।
বিগত দিনের যুদ্ধ ও চরম বৈরী পরিস্থিতির মুখে ইরানি জনগণের অভূতপূর্ব সহনশীলতা ও দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, দেশের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, সামরিক কমান্ডার, সমাজের অভিজাত বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে কোমলমতি স্কুলছাত্রদের নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরও দেশের সাধারণ মানুষ, সশস্ত্র বাহিনী এবং সরকার রাষ্ট্র রক্ষায় ইস্পাতকঠিন ঐক্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানকে অভ্যন্তরীণভাবে অস্থিতিশীল করতে এবং একের পর এক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে দেশটির পতন ঘটাতে তাদের সমস্ত সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা ব্যবহার করেছিল। কিন্তু ইরানি জনগণের অদম্য শক্তি ও আত্মত্যাগের কারণে শত্রুপক্ষের সেই সব ষড়যন্ত্র ও হিসাব সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পরিষ্কার করে রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না এবং ভবিষ্যতেও এর কোনো পরিকল্পনা নেই। এটি তাদের পূর্ববর্তী শহীদ নেতার ঘোষিত একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী নীতি এবং বর্তমান সরকারও এই অবস্থানে পুরোপুরি অনড় রয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু ও প্রতিরক্ষা খাতের পরবর্তী সকল পদক্ষেপ কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ আত্মরক্ষা ও প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং তা পূর্বঘোষিত নীতিমালার কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
পেজেশকিয়ান আরও উল্লেখ করেন, চরম অনিচ্ছা ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকে এই আন্তর্জাতিক চুক্তিটি মেনে নিতে বাধ্য করেছে। অবশ্য ইসরায়েল প্রশাসন এবং কিছু চরমপন্থী বিরোধী গোষ্ঠী এখনো পর্দার আড়াল থেকে এই চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা ও বাধা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চুক্তি-পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সরকার ইতিমধ্যে বসে নেই। দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত শুরু করা হয়েছে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সাধারণ জনগণের স্বস্তির জন্য খাদ্য ভর্তুকির পরিধি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা পুরোদমে চালু করা হয়েছে।
মেহের নিউজ
ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের ধাক্কায় কাঁপছে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েল
লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং তার জবাবে ইরানের উপর্যুপরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন পুরোপুরি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আজ সোমবার (৮ দিন ২০২৬) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ছোঁড়া এক ঝাঁক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে রাজধানী তেল আবিব এবং পবিত্র জেরুজালেমসহ মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে উচ্চশব্দে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠেছে। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাডারে শনাক্ত করার পরপরই দেশের ‘অ্যারো’ ও ‘ডেভিডস স্লিং’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং সেগুলো মাঝআকাশেই ধ্বংস করার জোর চেষ্টা চলছে।
তেল আবিব ও জেরুজালেম ব্যুরো থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কেবল মূল ইসরায়েলই নয়, বরং অবরুদ্ধ পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়েও অনবরত বিপৎসংকেতের সাইরেন শোনা গেছে। ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধেয়ে আসা ইরানি মিসাইলগুলো আকাশে ধ্বংস করার চেষ্টা করার সময় বাতাসের উচ্চ স্তরে বেশ কয়েকটি বিকট ও কানফাটানো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যার ফলে পুরো উপত্যকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মূলত এর আগে কার্যকর থাকা একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দাহিয়েহ জেলায় বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ওই হামলার পর ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা কঠোর ও বিধ্বংসী প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং তারই প্রত্যক্ষ জের ধরে এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হলো।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, গতকাল রাত থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তিন দফায় ইরান থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রায় ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার কারণে উত্তর ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি শহরেও অনবরত সাইরেন বাজছিল। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের রামাট ডেভিড বিমানঘাঁটিসহ একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীও আজ সকাল থেকে ইরানের পশ্চিমা ও মধ্যাঞ্চলীয় সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে—বিশেষ করে তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। দুই দেশের এই মুখোমুখি ও সরাসরি যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ইরানের রাস্তায় গান কিওস্ক: নারীদের দেওয়া হচ্ছে একে-৪৭ রাইফেল চালনার ট্রেনিং
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে সামরিক হামলা ও চরম আলটিমেটামের পর ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির প্রধান প্রধান শহরগুলোতে যুদ্ধ উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে তেহরানের বিস্তৃত নগরজুড়ে এবং আলবোরজ পর্বতমালার বরফঢাকা চূড়াগুলোর পেছনে অন্ধকার নেমে এলে হাজার হাজার মানুষ নিয়মিতভাবে রাস্তায় নেমে আসছেন। দেশজুড়ে গত তিন মাস ধরে চলা রাষ্ট্রীয় সমর্থনের এই সমাবেশগুলোকে বলা হচ্ছে ‘নাইট গ্যাদারিংস’, যেখানে মূলত সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রবল যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব চাঙ্গা করার চেষ্টা চলছে।
তেহরানের অভিজাত এলাকা তাজরিশ স্কয়ারের কেন্দ্রস্থলে এখন প্রতিদিনের মতোই বজ্রকণ্ঠে শোনা যাচ্ছে ‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক’ স্লোগান। ইরানের জাতীয় পতাকার সমুদ্রে ভাসতে থাকা জনতার ভিড়ে উৎসাহী বিক্রেতারা চা, স্মারক সামগ্রী, দেশপ্রেমমূলক ক্যাপ ও ব্যাজ বিক্রি করছেন। ইরানের পতাকার রঙে সাজানো চশমা পরা তিয়ানা নামে এক ইরানি তরুণী রণহুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘আমি আমার দেশ ও জনগণের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। আমাদের সেনাবাহিনী ও সব কমান্ডার—সবাই নিজেদের জীবন দিতে এবং পূর্ণ মন-প্রাণ দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত।’
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর দেওয়া হুমকিকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তারা (আমেরিকা) দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তাদের জন্যই আসলে মধ্যপ্রাচ্যে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ উল্লেখ্য, ট্রাম্প তাঁর পোস্টে হুমকি দিয়েছিলেন যে—ইরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্যথায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যা চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
তাজরিশ স্কয়ারে উপস্থিত এক প্রবীণ ব্যক্তি হাতে লেখা একটি পোস্টার উঁচিয়ে ধরে বলেন, ‘পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি আমাদের সীমান্তের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, আমরা তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব। তবে আমাদের পারমাণবিক বোমা দরকার নেই, আমাদের দরকার পরিচ্ছন্ন শক্তি ও বিদ্যুৎ।’ তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পও জানেন ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা নেই, তবুও তিনি কেবল চাপের রাজনীতি করছেন।
তবে ইরানজুড়ে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে—এমন জল্পনা ও গভীর উদ্বেগ ক্রমশ সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে। লন্ডন ও দুবাইয়ে বড় হওয়া ফাতিমা নামের এক নারী বলেন, ‘আমরা জানি এই যুদ্ধ শেষ হয়নি। ট্রাম্প আসলে আলোচনা বা কূটনৈতিক উপায়ে বিশ্বাস করেন না। তিনি হয়তো বলবেন—তোমরা আমি যা বলি তাই করো, না হলে আমি তোমাদের হত্যা করব।’
উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়েছে যে, তেহরানের ভানাক স্কয়ারসহ বিভিন্ন জনাকীর্ণ স্থানে এখন ‘গান কিওস্ক’ বা অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সাধারণ নাগরিকদের, বিশেষ করে নারীদের একে-৪৭ (AK-47) রাইফেল সচল করা ও তা খুলে আবার জোড়া লাগানোর সামরিক শিক্ষা দিচ্ছেন মুখোশধারী ইরানি সেনারা। এমনকি ছোট শিশুদেরও খালি কালাশনিকভ হাতে মহড়া দিতে দেখা যাচ্ছে।
এই যুদ্ধংদেহী ভাব এখন গ্রাস করেছে দেশটির মিডিয়াকেও। ইরানের রাষ্ট্রীয় চ্যানেল ‘অফোগ’-এর পুরুষ উপস্থাপক হোসেইন হোসেইনি সরাসরি সম্প্রচার চলাকালীন স্টুডিওর ছাদের দিকে গুলি ছুঁড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। অন্যদিকে চ্যানেল-৩-এর নারী উপস্থাপক মোবিনা নাসিরিও লাইভ শো-তে রাইফেল হাতে দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভানাক স্কয়ার থেকে আমাকে একটি অস্ত্র পাঠানো হয়েছে, যাতে আমি আপনাদের মতোই এটি ব্যবহার শিখতে পারি এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে পারি।’
সূত্র: সিএনএন
আড়াই মাস পর খুলল হরমুজ প্রণালি
দীর্ঘ আড়াই মাস অবরুদ্ধ থাকার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালির দুয়ার খুলল ইরান। তবে কৌশলগত এই সিদ্ধান্তে আপাতত কেবল চীনের জাহাজগুলোই চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। বুধবার (১৩ মে) রাত থেকে ইরানি নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চীনা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর যাতায়াত শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান এই রুট দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল। দীর্ঘ উত্তেজনার পর বেইজিংয়ের বিশেষ অনুরোধে এবং একটি নির্দিষ্ট ‘ট্রানজিট প্রোটোকল’ চুক্তির অধীনে জাহাজ চলাচলের এই অনুমতি দেয় তেহরান। মূলত চীনের জ্বালানি চাহিদার একটি বিশাল অংশ এই রুট দিয়ে সরবরাহ করা হয় বলেই ইরানের এই নমনীয় অবস্থান।
এই সিদ্ধান্তের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ইরান এই ঘোষণা দিল। শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের আলোচনায় হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান এই অনুমতির মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে বার্তা দিতে চাইল যে, তেহরানের ওপর বেইজিংয়ের বিশেষ প্রভাব রয়েছে এবং জ্বালানি কূটনীতিতে ইরান এখনো চালকের আসনে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। গত আড়াই মাস এই রুট বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল। চীনের জন্য রুটটি আংশিক খুলে দেওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকটে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে অন্যান্য দেশের জাহাজের জন্য এই পথ কবে নাগাদ উন্মুক্ত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
/আশিক
আলোচনায় ফেরার জন্য মার্কিনীদের সামনে ইরানের ৫ শর্ত: তেহরানের অনড় অবস্থান
জেনেভা আলোচনা চলাকালে শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলা এবং শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরমে। যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের ১৪ দফা প্রস্তাবের বিপরীতে এবার শক্ত অবস্থান নিল তেহরান। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার জন্য পাঁচটি কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান।
ইরানের পাঁচ শর্ত
১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
২. ইরানের ওপর আরোপিত সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
৩. বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জব্দ করা ইরানি অর্থ ও সম্পদ অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।
৪. যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৫. হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক ও সার্বভৌম অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও আরব সাগর ও ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকায় তেহরানের মনে চরম অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান এই বার্তা দিয়েছে যে, অবরোধ বহাল রেখে আলোচনার পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহতের ঘটনার পর প্রতিশোধ হিসেবে ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৭ এপ্রিল ট্রাম্পের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এবং ১১ এপ্রিলের ইসলামাবাদ বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় নৌ-অবরোধ শুরু হয়। গত রোববার ইরান তাদের এই পাঁচ শর্ত পাঠালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে।
/আশিক
ইরানের ভেতরে সৌদির গোপন হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এবার সরাসরি সামরিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিজেদের ভূখণ্ডে হামলার প্রতিশোধ নিতে এবার ইরানের ভেতরে ঢুকে গোপনে একাধিক সামরিক অভিযান চালিয়েছে সৌদি আরব। পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত এই তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে এসব বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। দুইজন পশ্চিমা কর্মকর্তার দাবি, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জাবাবেই এই ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ বা পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরানের ঠিক কোন কোন স্থানে বা স্থাপনায় এই হামলা হয়েছে, তা কৌশলগত কারণেই এখনো গোপন রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি আরবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো স্বীকৃতি না দিলেও হামলা অস্বীকারও করেনি। অন্যদিকে, তেহরানও এই স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনো নিশ্চুপ রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই গোপন হামলা সৌদি আরবের কয়েক দশকের পুরনো নিরাপত্তানীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সংকেত। এতদিন রিয়াদ তাদের নিরাপত্তার জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ছাতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু গত ১০ সপ্তাহ ধরে চলা আঞ্চলিক যুদ্ধে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা বলয়ে সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হওয়ার পর, সৌদি আরব এখন ‘অফেন্সিভ’ বা আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নিয়েছে। অর্থাৎ, অন্যের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি শত্রুর ডেরায় আঘাত করার সক্ষমতা ও সদিচ্ছা প্রদর্শন করছে দেশটি।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই দুই আঞ্চলিক শক্তির প্রক্সি যুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতে রূপ নেওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এবং সরাসরি সীমান্ত লঙ্ঘনের এই ঘটনাগুলো কেবল বৈশ্বিক তেলের বাজারকেই অস্থিতিশীল করছে না, বরং একটি বৃহত্তর যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করছে। সৌদি আরবের এই সাহসী ও আক্রমণাত্মক অবস্থান তেহরানকে নতুন করে রণকৌশল সাজাতে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
/আশিক
বিশ্বের ২০% জ্বালানি এখন ইরানের কবজায়? হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন ‘যুদ্ধ’ শুরু
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের উত্তাপ এবার আছড়ে পড়ল বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে। সোমবার (১১ মে) শিপিং জার্নাল ‘লয়েডস লিস্ট’ জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিতে কঠোর বিধিনিষেধ ও নতুন ‘টোল’ বা ফি আরোপ করেছে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশই এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় তেহরানের এই সিদ্ধান্তে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানের নতুন গঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ (পিজিএসএ) জানিয়েছে, এখন থেকে এই প্রণালি অতিক্রম করতে হলে সব জাহাজকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। এজন্য ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ নামে একটি ফর্মে ৪০টিরও বেশি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে জাহাজের মালিকানা, বিমা, নাবিকদের বিস্তারিত তথ্য এমনকি কার্গোর ধরন ও রুট সম্পর্কেও নিখুঁত তথ্য তেহরানকে জানাতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সেনাবাহিনী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে, তারা এই পথ ব্যবহারে চরম সংকটে পড়বে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকাবাহী বা সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এই রুট ব্যবহারের অনুমতি পাবে না বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ ও ‘শক্তিশালী ইরান’ গড়তে তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে।
নতুন এই সংকটের মুখে ভারত ও পাকিস্তান তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন জাহাজগুলোকে এই ‘টোল’ না দেওয়ার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। বাহরাইনের সাথে মিলে জাতিসংঘে প্রস্তাব তোলার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন, তবে রাশিয়া তাতে ভেটো দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে বিশ্ববাজারকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি।
পাঠকের মতামত:
- খামেনিকে শেষ বিদায় দিতে প্রার্থনাকক্ষের বাইরে রাতভর অবস্থান হাজারো ইরানির
- মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের এক সিদ্ধান্তেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে বড় ধসের শঙ্কা
- ট্রাম্পের ‘বাস্তববাদী নেতৃত্ব’ ও দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
- নরওয়ে ম্যাচের আগে নেইমারের ফিটনেস নিয়ে কার্লো আনচেলত্তির মেগা আপডেট
- গোল উদযাপনে মাঠ ছেড়ে সোজা গ্যালারির দিকে দৌড়, কে এই নারী যাকে জড়িয়ে ধরলেন ক্যাব্রাল
- ৪০ বছরের বুড়ো হাড়ে মেসির আক্রমণ ঠেকিয়ে দেওয়া ভোজিনিয়ার অবিশ্বাস্য রূপকথা
- আমরা দয়ালু বলেই খামেনির দাফনের জন্য এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি: ট্রাম্প
- ভঙ্গুর অর্থনীতি মেরামতের মাঝেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মেগা লক্ষ্যের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- ঘণ্টায় ২৭৮ কিমি গতির সুপার টাইফুন ‘বাভি’ ধেয়ে আসার পূর্বাভাস
- স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির শাস্তি বদলি নয়, সরাসরি চাকরিচ্যুতির নতুন নিয়ম মন্ত্রীর
- বর্তমান সরকারকে বিগত ফ্যাসিবাদের আয়না বলে জি এম কাদেরের কড়া সমালোচনা
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- দেশে ৯০ দিনের তেল মজুত, বড় পরিকল্পনা সরকারের
- ডেঙ্গু শনাক্তে কোন পরীক্ষা কখন করবেন? পূর্ণ গাইড
- ৯ জেলায় সন্ধ্যার আগে ঝড়ের সতর্কতা, ১ নম্বর সংকেত
- ১ আগস্ট থেকে অনলাইনে বয়স্ক-প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন, জানুন নিয়ম
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- আজ দুই মহারণ, আজকের জমজমাট ক্রীড়া সূচি জেনে নিন
- নরওয়ের বিপক্ষে কি একাদশে ফিরছেন নেইমার?
- আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জেনে নিন
- শনিবারের মার্কেট বন্ধের তালিকা প্রকাশ
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- জীর্ণ ও ছেঁড়া আল-কোরআন অপসারণের শরিয়তসম্মত বিধান: অবমাননা রোধে কী করণীয়?
- জুলাই-আগস্টে বড় বন্যার শঙ্কা, সতর্ক এফএফডব্লিউসি
- খামেনির ৬ দিনের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে থাকছে যেসব আনুষ্ঠানিকতা
- ২০০৬ সালের ভিসানীতিতে বড় সংস্কার
- যে ৮ জেলায় সন্ধ্যার আগে ঝড়ের সতর্কবার্তা
- স্থানীয় নির্বাচনে একক পথে হাঁটতে চায় এনসিপি
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- পে স্কেলের গেজেট কবে? যা জানা গেল
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- আজকের খেলার সূচি, মাঠে নামছে মেসির আর্জেন্টিনা
- আজ শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ
- আজ শুক্রবারের নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন
- শীর্ষ দলগুলোর ওলটপালট, বিশ্বকাপের মাঝেই সিংহাসন হারাল আর্জেন্টিনা
- ২০০৬ সালের পুরোনো আইন ভেঙে নতুন ‘ভিসানীতি-২০২৬’ অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা
- ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় নানিয়ারচর সেনা জোনের আর্থিক সহায়তা প্রদান
- কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসি শুরু আজ: পরীক্ষার্থী ৯৫ হাজার ৭০২ জন
- দিবাগত রাত ১টার মধ্যেই ১৪ অঞ্চলে ঝড়ের তণ্ডব ও সতর্কসংকেত জারি
- নতুন নেতার অধীনেই ওয়াশিংটনকে রুখতে তেহরানের রণপ্রস্তুতি
- তীব্র লোডশেডিংয়ের মাঝেই বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন পদক্ষেপ
- সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে বড় ধাক্কা? জেনে নিন সঞ্চয়পত্রের নতুন নিয়ম
- আপনার বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম: মনিকে ট্যাগ করে ছাত্রদল সভাপতি
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু
- স্বপ্ন এবার সত্যি হলো: ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজস্ব স্টেডিয়াম উদ্বোধন করে শাহরুখের বার্তা
- ক্রোয়াট দেয়াল ভাঙার চ্যালেঞ্জ, সমালোচনার জবাব দিতে পারবেন কি রোনালদো?
- নরওয়ের বিপক্ষে এখনো জয়হীন ব্রাজিল! ৫ জুলাই কি ভাঙবে সেই রেকর্ড?
- এলপিজির নতুন দর নিয়ে বড় ঘোষণা আজ
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
- দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান
- ২০০৬ সালের ভিসানীতিতে বড় সংস্কার
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- স্বর্ণের পর এবার কমল রুপার দাম, প্রকাশ নতুন তালিকা








