বিশেষ প্রতিবেদন

খামেনির কফিনের সামনে বদরের আয়াত: সৌদিকে কী বার্তা দিল ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১৪:৩৩:১৯
খামেনির কফিনের সামনে বদরের আয়াত: সৌদিকে কী বার্তা দিল ইরান?

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে যখন সৌদি আরবের প্রতিনিধিদল এগিয়ে যায়, তখন এরপর যে কোরআন তিলাওয়াত করা হয়, তা অনেকের নজর এড়ায়নি। তিলাওয়াত করা হয় সুরা আলে ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত, যেখানে বদরের যুদ্ধের প্রসঙ্গ এসেছে। ইসলামের ইতিহাসে বদর এমন এক যুদ্ধ, যেখানে সংখ্যায় ও সামরিক সরঞ্জামে অনেক দুর্বল মুসলিম বাহিনী আল্লাহর ইচ্ছায় অপেক্ষাকৃত বড় ও শক্তিশালী বাহিনীকে পরাজিত করেছিল।

প্রশ্ন উঠছে, সৌদি প্রতিনিধিদলের সামনে এই আয়াত তিলাওয়াত কি নিছক ধর্মীয় পাঠ ছিল, নাকি এর ভেতরে ছিল সূক্ষ্ম কূটনৈতিক বার্তা? এটি কি রিয়াদের প্রতি সৌজন্য, তিরস্কার, নাকি দুটোরই মিশ্রণ? মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাপূর্ণ বাস্তবতা বিবেচনায় অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এমন একটি রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির সময় নির্দিষ্ট আয়াতের নির্বাচনকে পুরোপুরি কাকতালীয় বলা কঠিন।

বদরের যুদ্ধ ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান সৌদি আরবের ভূখণ্ডেই সংঘটিত হয়েছিল। সে অর্থে আয়াতটি মুসলিম বিশ্বের একটি অভিন্ন ঐতিহাসিক ও সভ্যতাগত স্মৃতির দিকে ইঙ্গিত করে। উদারভাবে পড়লে বলা যায়, তেহরান হয়তো সৌদি আরবকে ইসলামের প্রথমদিককার বিজয়, বিশ্বাস ও ঐক্যের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছে। কিন্তু একই আয়াত সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভিন্ন অর্থও বহন করে। ইরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আঘাতের মুখে তারা শুধু টিকে থাকেনি; বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে আরও দৃঢ় অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। ফলে বদরের আয়াত তেহরানের নিজের বিজয়-আখ্যানের সঙ্গেও মিলে যায়।

ইরানপন্থী বিশ্লেষকদের একাংশ এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধকে ইরানের কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, ইরান সামরিকভাবে বিধ্বস্ত হয়নি, শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, মিত্র বলয় সক্রিয় রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের প্রভাব আরও দৃশ্যমান হয়েছে। সেই দৃষ্টিতে বদরের আয়াত যেন এই বার্তাই দেয়: সংখ্যায়, প্রযুক্তিতে বা জোটে দুর্বল মনে হলেও বিশ্বাস, কৌশল ও প্রতিরোধের শক্তি শেষ পর্যন্ত বড় শক্তিকে প্রতিহত করতে পারে।

অন্যদিকে সৌদি আরব যুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ্যে সতর্ক ও সংযত অবস্থান নিলেও, তেহরানের দৃষ্টিতে রিয়াদ পুরোপুরি নিরপেক্ষ ছিল না। সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। কিছু প্রতিবেদনে যুদ্ধের সময় সৌদি আরবের নীরব সামঞ্জস্য, এমনকি ইরানের বিরুদ্ধে পরোক্ষ ভূমিকার কথাও আলোচনায় এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি প্রতিনিধিদলের সামনে বদরের আয়াত তিলাওয়াতকে কেউ কেউ তেহরানের শীতল কূটনৈতিক স্মরণিকা হিসেবে দেখছেন। বার্তাটি হতে পারে, রিয়াদ পাশে ছিল না, কিংবা প্রতিপক্ষের খুব কাছে দাঁড়িয়েছিল; তবু আজ তাকে বিজয় ও শোকের মঞ্চে এসে শ্রদ্ধা জানাতে হচ্ছে।

সৌদি আরব অবশ্য একমাত্র দেশ ছিল না। ৩০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদল খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে উপস্থিত হয়। এই উপস্থিতি ইরানের জন্য নিজস্ব শক্তি প্রদর্শনের একটি সুযোগ হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন দেখাতে চাইলেও, এত সংখ্যক বিদেশি প্রতিনিধির উপস্থিতি তেহরানের পাল্টা বার্তা দেয়: ইরান এখনো একঘরে নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে তার নেটওয়ার্ক সক্রিয়।

৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তাঁর বাসভবনে ইসরায়েলি-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই হামলায় তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনি, জামাতা ও পুত্রবধূও নিহত হন। তাঁর মরদেহ তিন দিন ধরে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হয়। এই স্থাপনাটি ইরানের বৃহত্তম নামাজ ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের কেন্দ্রগুলোর একটি।

খামেনির জানাজা ছিল ধর্মীয় অনুষ্ঠান, কিন্তু একই সঙ্গে তা ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতীকী মঞ্চ। ইরান এই আয়োজনের মাধ্যমে নিজ জনগণকে জানাতে চেয়েছে যে রাষ্ট্র শোকাহত হলেও ভেঙে পড়েনি। মিত্রদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছে যে তেহরান এখনো দৃঢ়। বড় শক্তিগুলোকে দেখাতে চেয়েছে যে সামরিক হামলা ইরানি রাষ্ট্রকে অচল করতে পারেনি। আর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনে করিয়ে দিতে চেয়েছে, তেহরান কে কোথায় দাঁড়িয়েছিল, তা ভুলে যায়নি।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিনিধি বা সংগঠনের সামনে ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তিলাওয়াতের বিষয়টি তাই বিশেষ নজর কাড়ে। আয়াত নির্বাচনের ভেতর যেন তেহরানের কূটনৈতিক শ্রেণিবিন্যাস ফুটে ওঠে। কারও জন্য ছিল শাহাদাত, অঙ্গীকার ও বিজয়ের ভাষা; কারও জন্য ছিল ন্যায়পরায়ণতা, আশ্বাস ও পুরস্কারের ভাষা; আবার কারও জন্য ছিল সূক্ষ্ম তিরস্কার বা শীতল বার্তা।

হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি, ইরাকের হাশদ আল-শাবি এবং আফগানিস্তানের তালেবানের জন্য নির্বাচিত আয়াতগুলোতে ছিল প্রতিরোধ, শাহাদাত, অঙ্গীকার ও বিজয়ের সুর। এই সংগঠনগুলোকে তেহরান তার ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে দেখে। ফলে তাদের জন্য কোরআনিক বার্তাও ছিল আদর্শিক ঘনিষ্ঠতা ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতার ভাষায় সাজানো।

হামাসের জন্য এমন আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে, কিছু মানুষ আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার সত্য প্রমাণ করেছে। কেউ অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, কেউ অপেক্ষায় আছে, কিন্তু কেউ প্রতিশ্রুতি বদলায়নি। হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আয়াতে বিশ্বাসীদের উচ্চ অবস্থান, ধৈর্য এবং শহীদ নির্বাচনের ধারণা উঠে আসে। ইয়েমেনের হুতিদের জন্য সুরা আল-ফাতহের ২৯ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, যেখানে নবীর সঙ্গীদের দৃঢ়তা, পরস্পরের প্রতি মমতা এবং চাপের মধ্যেও বিকাশের চিত্র পাওয়া যায়।

ইরাকের হাশদ আল-শাবির জন্য তিলাওয়াত করা হয় শহীদদের জীবিত থাকার সুপরিচিত আয়াত। ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ ও তালেবানের জন্য ব্যবহৃত হয় সুরা আল-ফাতহের সূচনা অংশ, যেখানে ‘সুস্পষ্ট বিজয়’-এর কথা বলা হয়েছে। একদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন, অন্যদিকে আফগান তালেবান, দুই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের পক্ষের জন্য একই আয়াতের ব্যবহার ইঙ্গিত করে যে তেহরান তাদের একটি বৃহত্তর আদর্শিক আত্মীয়তার ভেতর দেখতে চায়। এর ভেতরে এমন বার্তাও থাকতে পারে যে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তালেবানের সাফল্য এবং এখন ইরানের টিকে থাকা, ফিলিস্তিনিদের জন্যও ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এক ধরনের অনুপ্রেরণার কাঠামো তৈরি করে।

অন্যদিকে রাশিয়া, চীন, ভারত ও মিসরের মতো রাষ্ট্রীয় অংশীদারদের ক্ষেত্রে আয়াতের ভাষা ছিল তুলনামূলকভাবে সংযত। সেখানে সরাসরি যুদ্ধ, শাহাদাত বা প্রতিরোধের বদলে ছিল ন্যায়পরায়ণতা, আশ্বাস, সৎকর্ম ও পুরস্কারের ইঙ্গিত। রাশিয়ার জন্য ব্যবহৃত আয়াতে বলা হয়, আখিরাতের আবাস তাদের জন্য, যারা পৃথিবীতে জুলুম বা বিপর্যয় চায় না। চীনের ক্ষেত্রে আয়াতটি ছিল আরও নরম, যেখানে বলা হয়েছে, আল্লাহ এই বার্তা দিয়েছেন সুসংবাদ ও হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য, আর বিজয় কেবল আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।

ভারতের ক্ষেত্রে হিজবুল্লাহর জন্য ব্যবহৃত বৃহত্তর আয়াতের একটি নরম অংশ নেওয়া হয়, যেখানে দুর্বল না হওয়া ও শোক না করার বার্তা আছে। মিসরের একটি তিলাওয়াতে সৎকর্মশীল বিশ্বাসীদের সর্বোত্তম সৃষ্টিরূপে উল্লেখ করা হয়। এসব রাষ্ট্র তেহরানের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তারা উপস্থিত হয়ে ইরানকে কূটনৈতিক বৈধতা দিয়েছে, কিন্তু তেহরান তাদের ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেনি। তাদের জন্য আয়াতগুলো ছিল কৃতজ্ঞতা, ভারসাম্য ও সম্পর্ক ধরে রাখার ভাষা।

কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসরের আরেকটি অবস্থান ছিল মাঝামাঝি। তারা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, আঞ্চলিক রাজনীতি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে যুক্ত, কিন্তু সরাসরি সশস্ত্র প্রতিরোধ বয়ানের অংশ নয়। কাতার, যে যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে, তার জন্য ‘সুস্পষ্ট বিজয়’-এর আয়াত ব্যবহৃত হলেও তা কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে নরম অর্থ বহন করে। এটি সমর্থনের স্বীকৃতি, সরাসরি যুদ্ধের ডাক নয়।

তুরস্কের জন্য ব্যবহৃত আয়াতে যারা সম্পদ ও জীবন দিয়ে সংগ্রাম করে, তাদের মর্যাদার কথা বলা হয়। আঙ্কারা যুদ্ধের বাইরে থাকলেও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইসরায়েলকে ‘যুদ্ধাসক্ত’ বলে আঞ্চলিক আধিপত্যের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে আয়াতটি ছিল ব্যক্তিগত প্রার্থনার মতো, যেখানে সম্মানের সঙ্গে প্রবেশ ও সম্মানের সঙ্গে প্রস্থানের কথা আছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসলামাবাদ ও দোহা কূটনৈতিক মধ্যস্থতার পথে সক্রিয় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবহার করে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করেছে বলে আলোচনায় এসেছে।

লেবানন সরকারের জন্য ব্যবহৃত আয়াতটি ছিল আরও তির্যক। হিজবুল্লাহর জন্য যেখানে প্রতিরোধ ও বিশ্বাসীদের উচ্চতার আয়াত ব্যবহৃত হয়েছে, সেখানে লেবাননের সরকারি প্রতিনিধিদের সামনে সুরা আন-নিসার ৬৬ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, যদি মানুষকে আত্মত্যাগ বা ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হতো, তবে অল্প কয়েকজন ছাড়া তা মানত না; অথচ তারা যদি উপদেশ অনুযায়ী চলত, তা তাদের জন্য উত্তম ও দৃঢ়তর হতো। এই আয়াতকে অনেকেই লেবানন সরকারের প্রতি তেহরানের সূক্ষ্ম ভর্ৎসনা হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের অভিযোগ, লেবাননের সরকার ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর নয়, বরং অনেক সময় হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলাকেই বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সব মিলিয়ে খামেনির জানাজা শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ছিল না। এটি ছিল ধর্মীয় আচার, রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রদর্শন, কূটনৈতিক বার্তা এবং আঞ্চলিক ক্ষমতা-রাজনীতির এক জটিল মঞ্চ। আয়াত নির্বাচনকে ঘিরে যে প্রতীকী ভাষা তৈরি হয়েছে, তা তেহরানের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা খুলে দেয়। ইরান তার মিত্রদের বলেছে, প্রতিরোধ সফল হয়েছে; অংশীদারদের বলেছে, তেহরান এখনো দৃঢ়; মধ্যস্থতাকারীদের বলেছে, তাদের ভূমিকা মনে রাখা হয়েছে; আর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বলেছে, তাদের অবস্থানও নথিভুক্ত আছে।

সৌদি প্রতিনিধিদলের সামনে বদরের আয়াত তিলাওয়াত সেই বৃহত্তর সংকেত-রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত। এটি একদিকে ইসলামের যৌথ স্মৃতি, অন্যদিকে সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের আত্মবিশ্বাসী রাজনৈতিক পাঠ। তেহরানের বার্তাটি সম্ভবত এমন: ইরান পরাজিত হয়নি; বরং পরীক্ষিত, ক্ষতবিক্ষত কিন্তু অটুট এক শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। যারা পাশে ছিল, তারা তার বিজয়-বয়ানের অংশ। যারা দূরে ছিল, তাদেরও ইতিহাসের আয়নায় নিজেদের অবস্থান দেখতে হবে।


পাঁচ দশকের সব রেকর্ড ভাঙল হরমুজ সংকট, জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ২০:০০:৫৫
পাঁচ দশকের সব রেকর্ড ভাঙল হরমুজ সংকট, জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের মার্চে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্ব তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কার সৃষ্টি হয়েছে। ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের প্রকাশিত তালিকার বরাতে ইরাকি বার্তা সংস্থা শাফাক নিউজ জানিয়েছে, এ সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হ্রাস পায়।

গত পাঁচ দশকের বড় বড় যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংকটের তুলনায় বর্তমান হরমুজ সংকটের মাত্রা অনেক বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৮-৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সময় দৈনিক সরবরাহ কমেছিল প্রায় ৫৬ লাখ ব্যারেল, যা তালিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম সংকট। এছাড়া ১৯৭৩ সালের আরব তেল অবরোধ ও ১৯৯০ সালে কুয়েতে ইরাকের হামলার সময় দৈনিক সরবরাহ কমেছিল ৪৩ লাখ ব্যারেল করে। ১৯৮০-৮১ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধে ৪১ লাখ, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধে ২৩ লাখ এবং ২০১১ সালের লিবিয়া গৃহযুদ্ধের সময় প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল দৈনিক তেল সরবরাহ হ্রাস পেয়েছিল।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর ইরানের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। মাঝে ১৮ জুন সাময়িক সমঝোতায় নৌপথটি কিছুটা সচল হলেও সামরিক উত্তেজনা পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। তেহরান অবশ্য জোর দিয়ে দাবি করেছে, কৌশলগত এ জলপথটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ


মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে কিম জং উনের প্রতি ট্রাম্পের বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৯:৩৭:৪০
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে কিম জং উনের প্রতি ট্রাম্পের বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার নতুন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক অবস্থানের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিমের প্রশংসা করার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নির্ধারিত ১১ দিনের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে সিউলের অস্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ঘোষিত ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একই সময়ে তিনি কিমের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে ফেরার স্পষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

তবে বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করছেন। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রবার্ট লিটওয়াক ও জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিক্টর চা উল্লেখ করেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দ্বারপ্রান্তে থাকা ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন যখন যুদ্ধে লিপ্ত, তখন সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়ার নেতাকে তোষণের চেষ্টা করা চরম বৈপরীত্য।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাবেক কূটনীতিকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সমর্থনে সেনা পাঠানো এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া বর্তমান কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নন। বরং ইরানের ওপর চলমান হামলা দেখে পিয়ংইয়ং এটিই বার্তা পাচ্ছে যে, আত্মরক্ষার জন্য পারমাণবিক শক্তি জোরদার করাই তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

/আশিক


নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ২১:৫০:৪৬
নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নেওয়া বৈরী নীতির আর্থিক বোঝা ও মার্কিন নেতাদের ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পরিবারগুলোকে দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির আন্তর্জাতিকবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে কথা বলেন ভেলায়াতি। তিনি উল্লেখ করেন, একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ নিয়ে গর্ব করছেন, অন্যদিকে স্বয়ং মার্কিন সিনেটর জন কর্নিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

১৯৫৩ সালের ১৯ আগস্ট (ইরানি ক্যালেন্ডারে ২৮ মোরদাদ) ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানের—যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল—৭৩তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে ভেলায়াতি এ মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, সাত দশকেরও বেশি সময় পর আজ আঞ্চলিক ক্ষমতার সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে এবং মার্কিন নেতাদের ঝুঁকিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির আর্থিক মাশুল সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদেরই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সরাসরি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

সুত্র : আইআরএনএ


অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করুক ইরান: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৯:৩৪:৩২
অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করুক ইরান: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে দেশটিকে কালবিলম্ব না করে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত না করে তেহরানের উচিত দ্রুত ‘আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা’ তুলে ধরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ভূরাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে ট্রাম্প জানান, বিদ্যমান বাস্তবতায় সংঘাত বাড়িয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং সংকট নিরসনে তেহরানের আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বার্তা বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা।


বরফ গলে নতুন রুট: সুয়েজ ও হরমুজকে কি টেক্কা দিতে পারবে চীন-রাশিয়া?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৮:২৪:৫৪
বরফ গলে নতুন রুট: সুয়েজ ও হরমুজকে কি টেক্কা দিতে পারবে চীন-রাশিয়া?
ছবি : সংগৃহীত

সুয়েজ খাল ও হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং দীর্ঘ দূরত্বের বিকল্প হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলের ‘নর্দার্ন সি রুট’ (এনএসআর) দিয়ে নিয়মিত বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনা শুরু করেছে চীন। বরফাচ্ছাদিত রাশিয়ার উত্তর উপকূল ঘেঁষা ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নৌপথটি চীন ও ইউরোপের মধ্যকার সমুদ্রযাত্রার সময় প্রায় অর্ধেকে কমিয়ে আনলেও এর বিপরীতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও নানামুখী পরিচালন ঝুঁকির প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনের শিপিং প্রতিষ্ঠান ‘সি লেজেন্ড’ সম্প্রতি এই পথে নিয়মিত কনটেইনার পরিবহন শুরু করেছে। প্রচলিত সুয়েজ খাল রুটে চীনের নিংবো-ঝৌশান বন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো পৌঁছাতে যেখানে ৪০ দিনের বেশি সময় লাগে, সেখানে এই আর্কটিক রুটে সময় লাগছে মাত্র ১৮ দিন। যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এটি বিশেষ করে চীনের প্রধান রপ্তানি পণ্য—যেমন বৈদ্যুতিক যান (ইভি), লিথিয়াম ব্যাটারি ও সৌর প্যানেলের মতো তাপমাত্রাসংবেদনশীল পণ্যের দ্রুত সরবরাহে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

২০১৭ সালে ঘোষিত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘পোলার সিল্ক রোড’ রূপরেখার অংশ হিসেবে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাশিয়ার সাথে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির ফলে রুটটির ব্যবহার গতি পেয়েছে। রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা 'রোসাটম' এই জলপথে জাহাজ চলাচলের অনুমতি ও পারমাণবিক শক্তিচালিত বরফভাঙা জাহাজের সহায়তা দিচ্ছে।

তবে সময় ও কার্বন নিঃসরণ কমার সুবিধার বিপরীতে পরিবেশবিদরা মারাত্মক আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। আর্কটিকের অতি সংবেদনশীল পরিবেশে কোনো জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তেল ছড়িয়ে পড়লে তা অপসারণ প্রায় অসম্ভব। ভারী জ্বালানি থেকে নির্গত কালো কার্বন বরফে জমে সূর্যের আলো শোষণ বাড়ায়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বরফ গলার গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

এছাড়া যথাযথ বিমা ও তদারকিহীন রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা নিষেধাজ্ঞা এড়ানো প্রায় ১০০টি জাহাজের এই রুটে চলাচল ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, উদ্ধারকাজে দীর্ঘসূত্রতা ও সীমিত মৌসুমের কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—সম্ভাবনা থাকলেও এই মুহূর্তে নর্দার্ন সি রুট সুয়েজ খাল বা হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ বিকল্প হতে পারছে না।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


ট্রাম্পের মেয়াদে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি: মার্কিন জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ২১:৪৩:১৮
ট্রাম্পের মেয়াদে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি: মার্কিন জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি নাগরিকের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সহায়তায় লন্ডনভিত্তিক অরাজনৈতিক গবেষণা সংস্থা ফোকালডাটা এই জরিপটি পরিচালনা করে।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার জানিয়েছেন যে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশ নির্দলীয় ভোটার এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ রিপাবলিকান সমর্থক রয়েছেন। এছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন মার্কিন অর্থনীতি বর্তমানে ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন এটি সঠিক পথে রয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মসংস্থান মোকাবিলার ক্ষেত্রে ভোটাররা ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকায় ৬৪ শতাংশ ভোটার সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সামগ্রিকভাবে প্রেসিডেন্টের কাজের প্রতি ৫৫ শতাংশ মানুষ অনাস্থা জানিয়েছেন এবং তাঁর নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ৮ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে কাকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে ৪৪ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৯ শতাংশ রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। জরিপের বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা দলটির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

মূল্যস্ফীতি ও প্রকৃত মজুরি হ্রাসের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই। তিনি দাবি করেন, সরকার প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানো, দেশে কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা এবং কর হ্রাসের মাধ্যমে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলেও তিনি জানান।

গত ৭ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৯১৩ জন নিবন্ধিত ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে এই জরিপটি পরিচালিত হয়।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।


ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন রাখতে বাড়তি তেলের দামও মেনে নেওয়া যায়: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ১৮:২৫:২৪
ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন রাখতে বাড়তি তেলের দামও মেনে নেওয়া যায়: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য মেনে নেওয়ার জন্য আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে ‘ভীষণ শয়তান’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নস্যাৎ করাই চলমান সামরিক অভিযানের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে ওয়াশিংটনকে পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার বার্তা দিয়েছে তেহরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং এই জলপথ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ইরানবিরোধী সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করলেও শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ এ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার কোনোটিতেই অপরিশোধিত তেল ছিল না।

নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় গ্যাসোলিনের জন্য কিছুটা বাড়তি ব্যয় করা অযৌক্তিক নয়। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ৪.০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। এই মূল্যবৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। একই সময়ে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক সপ্তাহে ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৫.৪ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানেও অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভ্যন্তরীণ উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য মার্কিন বন্দর অবরোধ ও তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছেন। বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আগামী সপ্তাহেই তেহরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সার্বিকভাবে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় জুনে যুদ্ধ বন্ধের যে আলোচনা চলছিল, তা এখন পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।

সূত্র : রয়টার্স।


১৯৫৩ সালের পর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি? উত্তর কোরিয়ার কোর্টে বল ঠেলল দক্ষিণ কোরিয়া

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৫ ২০:২৭:১১
১৯৫৩ সালের পর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি? উত্তর কোরিয়ার কোর্টে বল ঠেলল দক্ষিণ কোরিয়া
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বৈরিতা দূর করে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। ১৯৫৩ সালে একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধ থামলেও, কৌশলগত ও কাগজে-কলমে উভয় দেশ এখনও যুদ্ধরত অবস্থায় রয়েছে। জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি দিবসের ভাষণে এই ঐতিহাসিক আহ্বান জানান তিনি।

প্রেসিডেন্ট লি উল্লেখ করেন, দুই দেশের অসামরিকীকৃত সীমান্ত এলাকায় (ডিএমজেড) যেকোনো ধরনের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত রোধে নতুন নিরাপত্তা রূপরেখা প্রণয়ন করা আবশ্যক। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে সরাসরি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তার প্রশাসন চায় উভয় দেশই পারস্পরিক ক্ষতিসাধনের মনোভাব ত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে ফিরে আসুক।

গত বছর সিউলের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উত্তর কোরিয়া ও চীনের সাথে কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন লি জে-মিয়ং। ২০২২ সালে পিয়ংইয়ং নিজেদেরকে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং কোনো অবস্থাতেই নিরস্ত্রীকরণে যাবে না বলে কঠোর অবস্থানে থাকে। অবশ্য প্রেসিডেন্ট লি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার মতো বাস্তবসম্মত চুক্তিতে তার সরকার সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার এই শান্তি প্রস্তাবের ব্যাপারে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। বরং প্রস্তাবের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার সমুদ্র অভিমুখে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া, যা চলতি বছরে তাদের পরিচালিত ১১তম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

সূত্র: বিবিসি।


সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা: ক্ষোভে ফুঁসছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৫ ১৯:২৪:৫৯
সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা: ক্ষোভে ফুঁসছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকরা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর বেশ কয়েকজন নাবিক ও মেরিন সেনা সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে তথ্য সামনে এসেছে। এ ঘটনায় রণতরীটিতে অবস্থানরত প্রায় ৫ হাজার সামরিক সদস্যের মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নেভি টাইমস এবং স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক সদস্যের সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা আটকে দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের বন্দর বিরতি ছাড়াই সদস্যরা টানা ২৫০ দিন ধরে সাগরে অবস্থান করছেন, যা আধুনিক মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘতম একটানা মোতায়েন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সম্প্রতি সান দিয়েগোতে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রায় দুই শতাধিক নাবিকের স্বজনরা এই দীর্ঘমেয়াদী মিশন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক বিপর্যয় নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানান।

এক নাবিকের স্ত্রী জানান, মানসিক অবসাদে তার স্বামী তাকে বার্তা পাঠিয়ে লিখেছিলেন যে তিনি সম্ভবত পরদিন আর নাও বাঁচতে পারেন। আরেকজন পরিবার সদস্য নিশ্চিত করেছেন যে, চরম মানসিক চাপের মুখে তাঁর স্বামী সাগরে ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘ মোতায়েনের পাশাপাশি রণতরীর অভ্যন্তরীণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার আইনপ্রণেতা মাইক লেভিন। তিনি উল্লেখ করেন, রণতরীটিতে নষ্ট শৌচাগার, ছত্রাকযুক্ত গোসলখানা, দীর্ঘ সময় ধরে লন্ড্রি ব্যবস্থা অচল থাকা এবং পর্যাপ্ত গরম পানির তীব্র অভাব রয়েছে। এছাড়াও খাবারের মান ও সরবরাহে ঘাটতির বিষয়গুলোও সামনে এসেছে।

গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। শুরুর দিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও পরবর্তীতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাতের কারণে রণতরীটিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করা হয়। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত মে মাসে এই দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া হয়।

যদিও এর আগে জাহাজের সার্বিক দুরবস্থা সংক্রান্ত খবরগুলোকে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা দাবি করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে নতুন করে আত্মহত্যার চেষ্টার খবর সামনে আসায় মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের কাজের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আবারও জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্র: পার্সটুডে

পাঠকের মতামত: