বিশেষ প্রতিবেদন

খামেনির কফিনের সামনে বদরের আয়াত: সৌদিকে কী বার্তা দিল ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১৪:৩৩:১৯
খামেনির কফিনের সামনে বদরের আয়াত: সৌদিকে কী বার্তা দিল ইরান?

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে যখন সৌদি আরবের প্রতিনিধিদল এগিয়ে যায়, তখন এরপর যে কোরআন তিলাওয়াত করা হয়, তা অনেকের নজর এড়ায়নি। তিলাওয়াত করা হয় সুরা আলে ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত, যেখানে বদরের যুদ্ধের প্রসঙ্গ এসেছে। ইসলামের ইতিহাসে বদর এমন এক যুদ্ধ, যেখানে সংখ্যায় ও সামরিক সরঞ্জামে অনেক দুর্বল মুসলিম বাহিনী আল্লাহর ইচ্ছায় অপেক্ষাকৃত বড় ও শক্তিশালী বাহিনীকে পরাজিত করেছিল।

প্রশ্ন উঠছে, সৌদি প্রতিনিধিদলের সামনে এই আয়াত তিলাওয়াত কি নিছক ধর্মীয় পাঠ ছিল, নাকি এর ভেতরে ছিল সূক্ষ্ম কূটনৈতিক বার্তা? এটি কি রিয়াদের প্রতি সৌজন্য, তিরস্কার, নাকি দুটোরই মিশ্রণ? মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাপূর্ণ বাস্তবতা বিবেচনায় অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এমন একটি রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির সময় নির্দিষ্ট আয়াতের নির্বাচনকে পুরোপুরি কাকতালীয় বলা কঠিন।

বদরের যুদ্ধ ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান সৌদি আরবের ভূখণ্ডেই সংঘটিত হয়েছিল। সে অর্থে আয়াতটি মুসলিম বিশ্বের একটি অভিন্ন ঐতিহাসিক ও সভ্যতাগত স্মৃতির দিকে ইঙ্গিত করে। উদারভাবে পড়লে বলা যায়, তেহরান হয়তো সৌদি আরবকে ইসলামের প্রথমদিককার বিজয়, বিশ্বাস ও ঐক্যের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছে। কিন্তু একই আয়াত সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভিন্ন অর্থও বহন করে। ইরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আঘাতের মুখে তারা শুধু টিকে থাকেনি; বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে আরও দৃঢ় অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। ফলে বদরের আয়াত তেহরানের নিজের বিজয়-আখ্যানের সঙ্গেও মিলে যায়।

ইরানপন্থী বিশ্লেষকদের একাংশ এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধকে ইরানের কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, ইরান সামরিকভাবে বিধ্বস্ত হয়নি, শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, মিত্র বলয় সক্রিয় রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের প্রভাব আরও দৃশ্যমান হয়েছে। সেই দৃষ্টিতে বদরের আয়াত যেন এই বার্তাই দেয়: সংখ্যায়, প্রযুক্তিতে বা জোটে দুর্বল মনে হলেও বিশ্বাস, কৌশল ও প্রতিরোধের শক্তি শেষ পর্যন্ত বড় শক্তিকে প্রতিহত করতে পারে।

অন্যদিকে সৌদি আরব যুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ্যে সতর্ক ও সংযত অবস্থান নিলেও, তেহরানের দৃষ্টিতে রিয়াদ পুরোপুরি নিরপেক্ষ ছিল না। সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। কিছু প্রতিবেদনে যুদ্ধের সময় সৌদি আরবের নীরব সামঞ্জস্য, এমনকি ইরানের বিরুদ্ধে পরোক্ষ ভূমিকার কথাও আলোচনায় এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি প্রতিনিধিদলের সামনে বদরের আয়াত তিলাওয়াতকে কেউ কেউ তেহরানের শীতল কূটনৈতিক স্মরণিকা হিসেবে দেখছেন। বার্তাটি হতে পারে, রিয়াদ পাশে ছিল না, কিংবা প্রতিপক্ষের খুব কাছে দাঁড়িয়েছিল; তবু আজ তাকে বিজয় ও শোকের মঞ্চে এসে শ্রদ্ধা জানাতে হচ্ছে।

সৌদি আরব অবশ্য একমাত্র দেশ ছিল না। ৩০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদল খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে উপস্থিত হয়। এই উপস্থিতি ইরানের জন্য নিজস্ব শক্তি প্রদর্শনের একটি সুযোগ হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন দেখাতে চাইলেও, এত সংখ্যক বিদেশি প্রতিনিধির উপস্থিতি তেহরানের পাল্টা বার্তা দেয়: ইরান এখনো একঘরে নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে তার নেটওয়ার্ক সক্রিয়।

৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তাঁর বাসভবনে ইসরায়েলি-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই হামলায় তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনি, জামাতা ও পুত্রবধূও নিহত হন। তাঁর মরদেহ তিন দিন ধরে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হয়। এই স্থাপনাটি ইরানের বৃহত্তম নামাজ ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের কেন্দ্রগুলোর একটি।

খামেনির জানাজা ছিল ধর্মীয় অনুষ্ঠান, কিন্তু একই সঙ্গে তা ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতীকী মঞ্চ। ইরান এই আয়োজনের মাধ্যমে নিজ জনগণকে জানাতে চেয়েছে যে রাষ্ট্র শোকাহত হলেও ভেঙে পড়েনি। মিত্রদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছে যে তেহরান এখনো দৃঢ়। বড় শক্তিগুলোকে দেখাতে চেয়েছে যে সামরিক হামলা ইরানি রাষ্ট্রকে অচল করতে পারেনি। আর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনে করিয়ে দিতে চেয়েছে, তেহরান কে কোথায় দাঁড়িয়েছিল, তা ভুলে যায়নি।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিনিধি বা সংগঠনের সামনে ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তিলাওয়াতের বিষয়টি তাই বিশেষ নজর কাড়ে। আয়াত নির্বাচনের ভেতর যেন তেহরানের কূটনৈতিক শ্রেণিবিন্যাস ফুটে ওঠে। কারও জন্য ছিল শাহাদাত, অঙ্গীকার ও বিজয়ের ভাষা; কারও জন্য ছিল ন্যায়পরায়ণতা, আশ্বাস ও পুরস্কারের ভাষা; আবার কারও জন্য ছিল সূক্ষ্ম তিরস্কার বা শীতল বার্তা।

হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি, ইরাকের হাশদ আল-শাবি এবং আফগানিস্তানের তালেবানের জন্য নির্বাচিত আয়াতগুলোতে ছিল প্রতিরোধ, শাহাদাত, অঙ্গীকার ও বিজয়ের সুর। এই সংগঠনগুলোকে তেহরান তার ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে দেখে। ফলে তাদের জন্য কোরআনিক বার্তাও ছিল আদর্শিক ঘনিষ্ঠতা ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতার ভাষায় সাজানো।

হামাসের জন্য এমন আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে, কিছু মানুষ আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার সত্য প্রমাণ করেছে। কেউ অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, কেউ অপেক্ষায় আছে, কিন্তু কেউ প্রতিশ্রুতি বদলায়নি। হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আয়াতে বিশ্বাসীদের উচ্চ অবস্থান, ধৈর্য এবং শহীদ নির্বাচনের ধারণা উঠে আসে। ইয়েমেনের হুতিদের জন্য সুরা আল-ফাতহের ২৯ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, যেখানে নবীর সঙ্গীদের দৃঢ়তা, পরস্পরের প্রতি মমতা এবং চাপের মধ্যেও বিকাশের চিত্র পাওয়া যায়।

ইরাকের হাশদ আল-শাবির জন্য তিলাওয়াত করা হয় শহীদদের জীবিত থাকার সুপরিচিত আয়াত। ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ ও তালেবানের জন্য ব্যবহৃত হয় সুরা আল-ফাতহের সূচনা অংশ, যেখানে ‘সুস্পষ্ট বিজয়’-এর কথা বলা হয়েছে। একদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন, অন্যদিকে আফগান তালেবান, দুই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের পক্ষের জন্য একই আয়াতের ব্যবহার ইঙ্গিত করে যে তেহরান তাদের একটি বৃহত্তর আদর্শিক আত্মীয়তার ভেতর দেখতে চায়। এর ভেতরে এমন বার্তাও থাকতে পারে যে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তালেবানের সাফল্য এবং এখন ইরানের টিকে থাকা, ফিলিস্তিনিদের জন্যও ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এক ধরনের অনুপ্রেরণার কাঠামো তৈরি করে।

অন্যদিকে রাশিয়া, চীন, ভারত ও মিসরের মতো রাষ্ট্রীয় অংশীদারদের ক্ষেত্রে আয়াতের ভাষা ছিল তুলনামূলকভাবে সংযত। সেখানে সরাসরি যুদ্ধ, শাহাদাত বা প্রতিরোধের বদলে ছিল ন্যায়পরায়ণতা, আশ্বাস, সৎকর্ম ও পুরস্কারের ইঙ্গিত। রাশিয়ার জন্য ব্যবহৃত আয়াতে বলা হয়, আখিরাতের আবাস তাদের জন্য, যারা পৃথিবীতে জুলুম বা বিপর্যয় চায় না। চীনের ক্ষেত্রে আয়াতটি ছিল আরও নরম, যেখানে বলা হয়েছে, আল্লাহ এই বার্তা দিয়েছেন সুসংবাদ ও হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য, আর বিজয় কেবল আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।

ভারতের ক্ষেত্রে হিজবুল্লাহর জন্য ব্যবহৃত বৃহত্তর আয়াতের একটি নরম অংশ নেওয়া হয়, যেখানে দুর্বল না হওয়া ও শোক না করার বার্তা আছে। মিসরের একটি তিলাওয়াতে সৎকর্মশীল বিশ্বাসীদের সর্বোত্তম সৃষ্টিরূপে উল্লেখ করা হয়। এসব রাষ্ট্র তেহরানের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তারা উপস্থিত হয়ে ইরানকে কূটনৈতিক বৈধতা দিয়েছে, কিন্তু তেহরান তাদের ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেনি। তাদের জন্য আয়াতগুলো ছিল কৃতজ্ঞতা, ভারসাম্য ও সম্পর্ক ধরে রাখার ভাষা।

কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসরের আরেকটি অবস্থান ছিল মাঝামাঝি। তারা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, আঞ্চলিক রাজনীতি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে যুক্ত, কিন্তু সরাসরি সশস্ত্র প্রতিরোধ বয়ানের অংশ নয়। কাতার, যে যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে, তার জন্য ‘সুস্পষ্ট বিজয়’-এর আয়াত ব্যবহৃত হলেও তা কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে নরম অর্থ বহন করে। এটি সমর্থনের স্বীকৃতি, সরাসরি যুদ্ধের ডাক নয়।

তুরস্কের জন্য ব্যবহৃত আয়াতে যারা সম্পদ ও জীবন দিয়ে সংগ্রাম করে, তাদের মর্যাদার কথা বলা হয়। আঙ্কারা যুদ্ধের বাইরে থাকলেও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইসরায়েলকে ‘যুদ্ধাসক্ত’ বলে আঞ্চলিক আধিপত্যের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে আয়াতটি ছিল ব্যক্তিগত প্রার্থনার মতো, যেখানে সম্মানের সঙ্গে প্রবেশ ও সম্মানের সঙ্গে প্রস্থানের কথা আছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসলামাবাদ ও দোহা কূটনৈতিক মধ্যস্থতার পথে সক্রিয় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবহার করে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করেছে বলে আলোচনায় এসেছে।

লেবানন সরকারের জন্য ব্যবহৃত আয়াতটি ছিল আরও তির্যক। হিজবুল্লাহর জন্য যেখানে প্রতিরোধ ও বিশ্বাসীদের উচ্চতার আয়াত ব্যবহৃত হয়েছে, সেখানে লেবাননের সরকারি প্রতিনিধিদের সামনে সুরা আন-নিসার ৬৬ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, যদি মানুষকে আত্মত্যাগ বা ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হতো, তবে অল্প কয়েকজন ছাড়া তা মানত না; অথচ তারা যদি উপদেশ অনুযায়ী চলত, তা তাদের জন্য উত্তম ও দৃঢ়তর হতো। এই আয়াতকে অনেকেই লেবানন সরকারের প্রতি তেহরানের সূক্ষ্ম ভর্ৎসনা হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের অভিযোগ, লেবাননের সরকার ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর নয়, বরং অনেক সময় হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলাকেই বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সব মিলিয়ে খামেনির জানাজা শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ছিল না। এটি ছিল ধর্মীয় আচার, রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রদর্শন, কূটনৈতিক বার্তা এবং আঞ্চলিক ক্ষমতা-রাজনীতির এক জটিল মঞ্চ। আয়াত নির্বাচনকে ঘিরে যে প্রতীকী ভাষা তৈরি হয়েছে, তা তেহরানের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা খুলে দেয়। ইরান তার মিত্রদের বলেছে, প্রতিরোধ সফল হয়েছে; অংশীদারদের বলেছে, তেহরান এখনো দৃঢ়; মধ্যস্থতাকারীদের বলেছে, তাদের ভূমিকা মনে রাখা হয়েছে; আর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বলেছে, তাদের অবস্থানও নথিভুক্ত আছে।

সৌদি প্রতিনিধিদলের সামনে বদরের আয়াত তিলাওয়াত সেই বৃহত্তর সংকেত-রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত। এটি একদিকে ইসলামের যৌথ স্মৃতি, অন্যদিকে সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের আত্মবিশ্বাসী রাজনৈতিক পাঠ। তেহরানের বার্তাটি সম্ভবত এমন: ইরান পরাজিত হয়নি; বরং পরীক্ষিত, ক্ষতবিক্ষত কিন্তু অটুট এক শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। যারা পাশে ছিল, তারা তার বিজয়-বয়ানের অংশ। যারা দূরে ছিল, তাদেরও ইতিহাসের আয়নায় নিজেদের অবস্থান দেখতে হবে।


দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দুই সামরিক যানের সংঘর্ষ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ২১:৪১:৫৪
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দুই সামরিক যানের সংঘর্ষ
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে সামরিক কার্যক্রম চলাকালে দুটি সামরিক যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত আটজন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন। দখলদার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে আহতদের আঘাত গুরুতর নয় এবং তারা সবাই হালকা আঘাত পেয়েছেন। তবে প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা ও ব্যাপ্তি নিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী রাব আল-থালাথিন গ্রামের নিকটবর্তী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দুটি যান একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা তৎপরতা শুরু করা হয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আহত আট সেনার মধ্যে ছয়জনকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও তাদের চিকিৎসার হালনাগাদ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বাকি দুই সেনাকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সামরিক সূত্রে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে কীভাবে দুটি সামরিক যান মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হলো, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ঘটনার আসল কারণ খতিয়ে দেখতে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার সামরিক উপস্থিতি ও সীমান্ত চলাচলের মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটে। এর ফলে সামরিক বহরের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়, ড্রাইভিং নিরাপত্তা এবং সার্বিক চলাচলের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সামরিক বাহিনী অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছে যে ঘটনাটি সম্পূর্ণ একটি কারিগরি দুর্ঘটনা এবং এর সঙ্গে কোনো প্রতিপক্ষের হামলা বা প্রত্যক্ষ সামরিক লড়াইয়ের সম্পর্ক নেই। পরিস্থিতি পুরোপুরি খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

/আশিক


চ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৯:৪৬:০৬
চ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি
জাহাজটিতে কারা হামলা চালিয়েছে, তা জানা যায়নি। সংগৃহীত ছবি

স্ট্র্যাটেজিক জলপথ হরমুজ প্রণালির কাছে ওমানের উপকূল থেকে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল পূর্বে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লেগেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) শনিবার এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইউকেএমটিও সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারটির মাস্টার জানিয়েছেন যে প্রজেক্টাইলটি জাহাজটির বাম পাশে বা পোর্ট সাইডে এসে আঘাত হানে। হামলায় জাহাজের কোনো ক্রু হতাহত হননি এবং তারা সবাই নিরাপদে আছেন। তবে এই আকস্মিক ঘটনার পর পুরো প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার প্রভাবে সমুদ্রে কোনো তেল ক্ষরণ ঘটেনি এবং পরিবেশগত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আলামত পাওয়া যায়নি। তবে কোন উৎস থেকে এই প্রজেক্টাইলটি ছোঁড়া হয়েছিল বা কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনা হরমুজ প্রণালির সমুদ্রপথে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার ওপর নতুন করে গভীর আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। এর ঠিক আগের দিন শুক্রবারেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করার সময় আরও একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে ওই জাহাজে সাময়িকভাবে আগুন ধরে যায় ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে জাহাজের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন এবং ট্যাংকারটি তার নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে। শুক্রবারের সেই ঘটনাতেও কোনো হতাহত বা পরিবেশগত বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি।

ইউকেএমটিও জানিয়েছে যে পরপর দুটি হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী সমুদ্রসীমায় চলাচলকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জলযানকে চরম সতর্কতা অবলম্বন করার এবং কোনো ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


একদিনেই ৬১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি: ফের ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ইলন মাস্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৯:২২:৪৬
একদিনেই ৬১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি: ফের ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ইলন মাস্ক
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিবর্গকে পেছনে ফেলে ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ আবারও ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের অনন্য মাইফলকের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। শুক্রবার মাত্র একদিনের ব্যবধানে তার সম্পদ ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক সাময়িকী ফোর্বস-এর রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকার শুক্রবারের (২ অক্টোবর) তথ্য অনুযায়ী, তার বর্তমান নিট সম্পদের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৯৭ হাজার ৯৭০ কোটি ডলারে।

মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদে এই হঠাৎ বড় ধরনের লাফ দেওয়ার নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে তার মহাকাশ গবেষণা ও স্যাটেলাইট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানি টেসলার শেয়ারের চড়া মূল্যবৃদ্ধি।

শুক্রবার বাজারে লেনদেন চলাকালে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে গিয়ে পৌঁছে। মূলত বিগত ২৪ ঘণ্টায় সংস্থাটি বেশ কয়েকটি মহাকাশযান সফলভাবে কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই দিনে টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে উন্নীত হয়।

টেসলার শেয়ার দর বাড়ার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি সরবরাহের নতুন প্রান্তিক প্রতিবেদন। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা মোট ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বানুমানের চেয়ে অনেক বেশি। এর ফলে টানা তৃতীয় বছরের মতো বিশ্ববাজারে গাড়ি সরবরাহ কমে যাওয়ার যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বিনিয়োগকারীরা।

শুক্রবার একদিনে ইলন মাস্কের সম্পদে যে পরিমাণ আর্থিক সংযোজন ঘটেছে, বাংলাদেশী মুদ্রায় হিসেব করলে তার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঘোষিত বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের আকার হচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ কেবল একদিনে মাস্কের অর্জিত সম্পদের পরিমাণ বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৮০ শতাংশের সমতুল্য।

ফোর্বসের রিয়েলটাইম তথ্যমতে, শীর্ষ ধনীর তালিকায় ইলন মাস্ক নিজের এক নম্বর স্থানটি মজবুতভাবে ধরে রেখেছেন। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে অবস্থান করছেন ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, যার আনুমানিক নিট সম্পদের পরিমাণ ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৩৭ হাজার ৭০ কোটি ডলার।

এর আগেও একাধিকবার ১ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। চলতি বছরের গত ১২ জুন তিনি স্বল্প সময়ের জন্য বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন, যেদিন তার মোট সম্পদ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছেছিল।তখন মূলত স্পেসএক্সের পাবলিক শেয়ারের দরবৃদ্ধির ওপর ভর করেই মাস্কের সম্পদ লাফিয়ে বাড়ে।

গত জুন মাসে স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু হলে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার স্পর্শ করে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে মাস্ক ট্রিলিয়নিয়ারের ক্লাবে প্রবেশ করেন। তবে সেই স্থায়িত্ব বেশিদিন টেকেনি; জুনের শেষভাগে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৩১ শতাংশ কমে গেলে মাস্ক সেই অভিজাত খেতাব হারান। একই সময় টেসলার সাথে সম্পাদিত একটি চুক্তির কারণে ফোর্বস তার হিসাব থেকে মাস্কের ১১৬ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের শেয়ার সাময়িকভাবে বাদ দেয়।

পরবর্তীতে ২৯ জুন তিনি আবার স্বল্প সময়ের জন্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করলেও ১ জুলাই স্পেসএক্সের বাজারদর পুনরায় পড়ে যাায়। এমনকি জুলাই মাসে স্পেসএক্সের শেয়ার সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ নেমে এলে তার মোট সম্পদ কমে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে চলে গিয়েছিল।তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্পেসএক্স ও টেসলা—উভয় প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে পুনরায় চাঞ্চল্য ফেরায় মাস্কের সম্পদ আবারও দ্রুত গতিতে বাড়তে শুরু করেছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় তিনি আবারও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের দোরগোড়ায় উপনীত হয়েছেন।

/আশিক


আমি সবসময় এরদোয়ানকে খুশি রাখব: নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৭:৫৪:৩৯
আমি সবসময় এরদোয়ানকে খুশি রাখব: নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

তুরস্কের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তুরস্কের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে কেন বিলম্ব হচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি সবসময় প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে খুশি রাখার পক্ষপাতী। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে নিজের একজন ভালো বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান যে, তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও ঠিক কবে নাগাদ এই নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানাননি।

এর আগে গত জুলাইয়ে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের এক ফাঁকে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, 'কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট' বা সিএএটিএসএ-এর অধীনে তুরস্কের ওপর যে বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে, তা অপসারণ করা হবে। এর পাশাপাশি তুরস্কের কাছে উন্নতমানের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আশ্বাসও দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০১৯ সালে তুরস্ককে তাদের কাঙ্ক্ষিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান যৌথ উৎপাদন ও সরবরাহ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তখন যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, রাশিয়ান এই সামরিক প্রযুক্তি এফ-৩৫ এর মতো পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের জন্য নিরাপত্তাগত ঝুঁকি তৈরি করে এবং এটি ন্যাটোর সার্বিক সামরিক কাঠামোর সঙ্গে মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

পরবর্তীকালে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন প্রশাসন কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্টের আওতায় তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প খাত এবং বেশ কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশটির জন্য মার্কিন রপ্তানি লাইসেন্স লাভ এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে আঙ্কারার অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে, নিজস্ব জরুরি আকাশ প্রতিরক্ষা প্রয়োজনীয়তা মেটাতেই তারা বাধ্য হয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ব্যবস্থা সংগ্রহ করেছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এফ-৩৫ প্রকল্পে আঙ্কারার পুনর্বাসন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


বিশ্বজুড়ে ডিজেলের চরম সংকটের আশঙ্কা, বৈশ্বিক সরবরাহ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তড়িঘড়ি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২১:৪৮:০২
বিশ্বজুড়ে ডিজেলের চরম সংকটের আশঙ্কা, বৈশ্বিক সরবরাহ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তড়িঘড়ি
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে চরম সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানির মূল্য সাধারণ মূল্যস্ফীতির সাধ্যের মধ্যে রাখাটাই এখন হোয়াইট হাউসের জন্য সবচেয়ে বড় নীতিনির্ধারণী চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বিশ্ব ডিজেল বাজার সামাল দেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত কঠিন এক দ্বিধাদ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে বর্তমানে দুইমুখী বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একদিকে, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি তাদের জরুরি রিজার্ভে থাকা অতিরিক্ত ডিজেল বৈশ্বিক বাজারে উন্মুক্ত না করে, তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে ডিজেলের তীব্র অভাব দেখা দেবে এবং বাজারদর দীর্ঘমেয়াদে রেকর্ড উচ্চতায় আটকে থাকবে।

অন্যদিকে, নিজ দেশের বাজারের চাপ সামলাতে যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজস্ব ডিজেল রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইউরোপজুড়ে জ্বালানির মূল্যে চরম মন্দা ও সংকট তৈরি হবে, যা পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক কাঠামোগুলোকে ওলটপালট করে দিতে পারে। এই উভয়সংকট কাটিয়ে উঠতে মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সমন্বিত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যাতে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সার্বিক ঘাটতি দেখা না দেয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিতে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

সূত্র: আল-জাজিরা।


প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড় দিল্লি, যন্তর মন্তরে বন্ধ ইন্টারনেট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২১:৪৩:৫০
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড় দিল্লি, যন্তর মন্তরে বন্ধ ইন্টারনেট
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও গণহারে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লি। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল বিক্ষোভ প্রতিহত করতে যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের ১.৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় টানা ১২ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন দমন ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এয়ারটেল, রিল্যায়েন্স জিও এবং ভোডাফোন আইডিয়ার মতো প্রথম সারির টেলিকম অপারেটরগুলোকে সেবা বন্ধ রাখার সরকারি আদেশ দেওয়া হয়। বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) এবং ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠিত এই আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনকারী ছাত্রসহ প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে জুলাই মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে সিজিপি আন্দোলনের সময় একইভাবে মধ্য দিল্লিতে ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছিল, যা তিন মাসের মাথায় আবারও পুনর্ব্যক্ত হলো।

/আশিক


পরমাণু অস্ত্রসহ সব ধরণের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২১:৩৮:২৫
পরমাণু অস্ত্রসহ সব ধরণের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন বাল্টিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদে সরাসরি হামলা চালানো হলে পারমাণবিক অস্ত্রসহ মস্কোর সামরিক তহবিলে থাকা ‘সব ধরনের অস্ত্র’ ব্যবহারের সুস্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউরোপ আক্রমণ বা কোনো দেশে সামরিক আগ্রাসনের পরিকল্পনা মস্কোর নেই দাবি করে তিনি জানান, রাশিয়ার সার্বভৌম ভূখণ্ডে আঘাত এলে তার দাঁতভাঙা ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোয় বিখ্যাত ভালদাই আলোচনা ক্লাবের বার্ষিক বৈঠকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে কথা বলার সময় পুতিন এই চরম সতর্কবার্তা দেন।

পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে বাল্টিক সাগরের উপকূলে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটো জোটের একের পর এক সামরিক মহড়া ও রুশ জাহাজ আটকের চেষ্টাকে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য দায়ী করেন পুতিন। তিনি স্পষ্ট করেন যে কালিনিনগ্রাদ বা রাশিয়ার যেকোনো ভূমিতে সরাসরি হামলা চালানো হলে তার সুরক্ষায় পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার অনিবার্য হয়ে উঠবে।

যদিও ন্যাটোর পক্ষ থেকে রাশিয়ার এই বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক হুমকি’ বলে নিন্দা জানানো হয়েছে এবং ন্যাটোকে কেবল প্রতিরক্ষামূলক একটি জোট হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে পশ্চিমাদের সংঘাত উসকে দেওয়ার পরিণতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে উল্লেখ করে পুতিন সতর্ক করেন যে, বিশ্ব এখন এক ভয়াবহ স্পর্শকাতর সময় অতিক্রম করছে যেখানে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার কখনোই অসম্ভব নয়।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে ইয়েমেনে নতুন করে বিমান হামলা শুরু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২০:৩১:০৮
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে ইয়েমেনে নতুন করে বিমান হামলা শুরু
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাইজ প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক অবস্থান ও রসদ সরবরাহ লক্ষ্য করে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ২০টি শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সশস্ত্র বাহিনী। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় টানা বিমান হামলার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানান, হুথিদের সৈন্য সমাবেশ, সামরিক যানবাহন, অস্ত্রাগার ও যোগাযোগের পথগুলো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে এই সমন্বিত বিমান হামলাগুলো চালানো হয়। এতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের পাশাপাশি একাধিক সদস্য হতাহত হয়েছে বলে দাবি করে সেনাবাহিনী।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও রাজধানী সানা, সা’দা ও তাইজে হুথিদের একাধিক নিয়ন্ত্রিত ঘাঁটিতে ধারাবাহিক হামলা চালায় ইয়েমেনি বাহিনী। নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আগে সৌদি আরবের মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে একটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যার পেছনে হুথিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে হুথিরা অভিযোগটি পুরোপুরি অস্বীকার করে একে রিয়াদের ‘মিথ্যা প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাইজ অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি সংঘাত ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় নতুন করে বহু বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে মানবিক সংকট ও লোহিত সাগরের নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

/আশিক


জলপথ থেকে আকাশসীমা: ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৯:৩৩:৩৩
জলপথ থেকে আকাশসীমা: ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিধ্বংসী সামরিক অভিযানের সাত মাস অতিক্রান্ত হলেও সংঘাত নিরসনে কোনো রূপরেখা দেখা যাচ্ছে না। বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে কোণঠাসা করতে ওই অঞ্চলের আশপাশের কৌশলগত জলসীমায় বিপুল পরিমাণ সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করছে ওয়াশিংটন। সম্প্রতি ওই অঞ্চলের জলসীমায় ২ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের উদ্যোগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নতুন করে আরও তীব্র রূপ নেওয়ার বড় আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ সান দিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে এবং এর পরপরই দুই হাজার মেরিন সেনা নিয়ে ম্যাকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও যাত্রা করেছে। পেন্টাগনের সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের চারপাশের কৌশলগত জলসীমায় তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী, দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যান্ডিং গ্রুপ এবং একাধিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে সামরিক সব বিকল্প কার্যকর রাখতেই এই কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অধীনে ইরানের বৃহত্তম অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইরান খোদ্রো ও সাইপাসহ দেশটির রেলওয়ে, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ইস্পাত খাতের ওপর নতুন অর্থসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে একটি সুপারট্যাঙ্কারে আগুন লাগার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। কাতারের মধ্যস্থতায় দুদেশের পরোক্ষ যোগাযোগের পথ খোলা রাখার জোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তেহরান সংলাপের পথ থেকে পিছিয়ে আসবে না এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের পৌঁছানো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: