জাতিসংঘের অকাট্য প্রমাণের পরও গাজা গণহত্যা আর কতদিন চেপে রাখবে পশ্চিমা বিশ্ব ?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ২১:২৯:৫১
জাতিসংঘের অকাট্য প্রমাণের পরও গাজা গণহত্যা আর কতদিন চেপে রাখবে পশ্চিমা বিশ্ব ?
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাধিক স্বাধীন তদন্তে গাজা উপত্যকায় ইসরাইল কর্তৃক পদ্ধতিগতভাবে গণহত্যা চালানোর অকাট্য প্রমাণ মিললেও, পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো এখনও এই নির্মম সত্যকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। অতি সম্প্রতি, গত ২৩ জুনে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের একটি নতুন প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি জনগণের—বিশেষ করে শিশুদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ অপরাধের বিশদ বিবরণ নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এর আগেও ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের পর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো গাজায় গণহত্যার অকাট্য প্রমাণ হাজির করেছিল। কিন্তু বিগত দুই বছর ধরে বিশ্বজুড়ে মানুষের মোবাইল স্ক্রিনে ২৪ ঘণ্টা ধরে লাইভ সম্প্রচারিত হওয়া ধ্বংসযজ্ঞ, জাতিগত নিধন ও চরম অনাহারের চিত্র দেখার পরও পশ্চিমা নীতিনির্ধারকেরা এই বাস্তবতার দিকে চোখ বন্ধ করে রেখেছেন।

বিশ্বের সবচেয়ে প্রখ্যাত মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মূল্যায়ন এবং খোদ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের নিজস্ব বক্তব্য যেখানে এই গণহত্যার উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে, সেখানে ইউরোপ ও পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো একটি কঠোর ও একঘেয়ে অবস্থান বজায় রাখছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত এই বিশেষ প্রতিবেদনগুলোর ওপর পশ্চিমা কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রায় অনুপস্থিত বললেই চলে, যা অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়।

রাজনৈতিক, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ক্ষেত্রে গণহত্যা শব্দটি ব্যবহার করা যেন এক অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বা ট্যাবুতে পরিণত হয়েছে। এই দ্বিচারিতা বিশ্ববাসীর মনে এই সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে যে, গণহত্যার স্বীকৃতি এখন নির্ভর করছে অপরাধীর পরিচয় এবং ভুক্তভোগীদের মর্যাদার ওপর।

পশ্চিমাদের এই পক্ষপাতমূলক আচরণের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো তাদের বহুল ব্যবহৃত কূটনৈতিক বাক্য—‘‘ইসরাইলের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে’’। এই শব্দবন্ধটিকে ইসরাইলি নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা ও সামগ্রিক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আগাম বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করছে।

অথচ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের আত্মরক্ষা বা তাদের ভূমিতে চেপে বসা সামরিক দখদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অধিকারের বিষয়টি এখানে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। যারা চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই গণহত্যাকে অস্বীকার বা আড়াল করছেন, তারা প্রকারান্তরে অপরাধীদের আরও বড় যুদ্ধাপরাধ করতে উৎসাহিত করছেন। স্পেন বাদে আর হাতেগোনা কয়েকজন পশ্চিমা নেতা ছাড়া কেউই ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ডকে প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধ বা গণহত্যা বলে আখ্যা দেওয়ার সাহস দেখাননি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো যেখানে ইউক্রেন ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও দ্বিচারিতাপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে, তা বিশ্বমঞ্চে তাদের নৈতিক দেউলিয়াত্বকেই প্রকাশ করে। ফিলিস্তিনিদের জীবন, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদাকে পশ্চিমাদের এই অবস্থান অন্য সবার চেয়ে নিচু স্তরে নামিয়ে দিয়েছে।

এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও পশ্চিমা সমালোচনা কেবল ইসরাইলি সরকারের কট্টরপন্থী দুই মন্ত্রী—ইটামার বেন গাভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচ এবং কতিপয় অবৈধ বসতি স্থাপনকারী উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। মূল হোতা হিসেবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এবং তাদের মূল রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সব ধরনের জবাবদিহিতা থেকে সুকৌশলে দূরে রাখা হচ্ছে।

পরিকল্পিত এই গণহত্যাকে তারা কেবল একটি মানবিক সংকট বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। তাছাড়া, দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃক আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) দায়ের করা জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের মামলাকে সমর্থন করার পরিবর্তে, আন্তর্জাতিক আদালতের প্রসিকিউটর ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের ওপর নানাভাবে চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের রাজনীতি চলছে।

পশ্চিমা বিশ্বের এই ক্রমাগত অস্বীকৃতি ও সহযোগিতা কেবল আন্তর্জাতিক আইনকেই ক্ষুণ্ন করছে না, বরং বৈশ্বিক বিচার ব্যবস্থার ভিত্তিকেও এক চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

/আশিক


পাঁচ দশকের সব রেকর্ড ভাঙল হরমুজ সংকট, জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ২০:০০:৫৫
পাঁচ দশকের সব রেকর্ড ভাঙল হরমুজ সংকট, জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের মার্চে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্ব তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কার সৃষ্টি হয়েছে। ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের প্রকাশিত তালিকার বরাতে ইরাকি বার্তা সংস্থা শাফাক নিউজ জানিয়েছে, এ সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হ্রাস পায়।

গত পাঁচ দশকের বড় বড় যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংকটের তুলনায় বর্তমান হরমুজ সংকটের মাত্রা অনেক বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৮-৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সময় দৈনিক সরবরাহ কমেছিল প্রায় ৫৬ লাখ ব্যারেল, যা তালিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম সংকট। এছাড়া ১৯৭৩ সালের আরব তেল অবরোধ ও ১৯৯০ সালে কুয়েতে ইরাকের হামলার সময় দৈনিক সরবরাহ কমেছিল ৪৩ লাখ ব্যারেল করে। ১৯৮০-৮১ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধে ৪১ লাখ, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধে ২৩ লাখ এবং ২০১১ সালের লিবিয়া গৃহযুদ্ধের সময় প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল দৈনিক তেল সরবরাহ হ্রাস পেয়েছিল।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর ইরানের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। মাঝে ১৮ জুন সাময়িক সমঝোতায় নৌপথটি কিছুটা সচল হলেও সামরিক উত্তেজনা পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। তেহরান অবশ্য জোর দিয়ে দাবি করেছে, কৌশলগত এ জলপথটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ


মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে কিম জং উনের প্রতি ট্রাম্পের বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৯:৩৭:৪০
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে কিম জং উনের প্রতি ট্রাম্পের বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার নতুন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক অবস্থানের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিমের প্রশংসা করার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নির্ধারিত ১১ দিনের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে সিউলের অস্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ঘোষিত ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একই সময়ে তিনি কিমের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে ফেরার স্পষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

তবে বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করছেন। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রবার্ট লিটওয়াক ও জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিক্টর চা উল্লেখ করেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দ্বারপ্রান্তে থাকা ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন যখন যুদ্ধে লিপ্ত, তখন সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়ার নেতাকে তোষণের চেষ্টা করা চরম বৈপরীত্য।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাবেক কূটনীতিকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সমর্থনে সেনা পাঠানো এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া বর্তমান কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নন। বরং ইরানের ওপর চলমান হামলা দেখে পিয়ংইয়ং এটিই বার্তা পাচ্ছে যে, আত্মরক্ষার জন্য পারমাণবিক শক্তি জোরদার করাই তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

/আশিক


নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ২১:৫০:৪৬
নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নেওয়া বৈরী নীতির আর্থিক বোঝা ও মার্কিন নেতাদের ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পরিবারগুলোকে দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির আন্তর্জাতিকবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে কথা বলেন ভেলায়াতি। তিনি উল্লেখ করেন, একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ নিয়ে গর্ব করছেন, অন্যদিকে স্বয়ং মার্কিন সিনেটর জন কর্নিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

১৯৫৩ সালের ১৯ আগস্ট (ইরানি ক্যালেন্ডারে ২৮ মোরদাদ) ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানের—যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল—৭৩তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে ভেলায়াতি এ মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, সাত দশকেরও বেশি সময় পর আজ আঞ্চলিক ক্ষমতার সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে এবং মার্কিন নেতাদের ঝুঁকিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির আর্থিক মাশুল সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদেরই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সরাসরি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

সুত্র : আইআরএনএ


অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করুক ইরান: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৯:৩৪:৩২
অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করুক ইরান: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে দেশটিকে কালবিলম্ব না করে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত না করে তেহরানের উচিত দ্রুত ‘আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা’ তুলে ধরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ভূরাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে ট্রাম্প জানান, বিদ্যমান বাস্তবতায় সংঘাত বাড়িয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং সংকট নিরসনে তেহরানের আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বার্তা বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা।


বরফ গলে নতুন রুট: সুয়েজ ও হরমুজকে কি টেক্কা দিতে পারবে চীন-রাশিয়া?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৮:২৪:৫৪
বরফ গলে নতুন রুট: সুয়েজ ও হরমুজকে কি টেক্কা দিতে পারবে চীন-রাশিয়া?
ছবি : সংগৃহীত

সুয়েজ খাল ও হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং দীর্ঘ দূরত্বের বিকল্প হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলের ‘নর্দার্ন সি রুট’ (এনএসআর) দিয়ে নিয়মিত বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনা শুরু করেছে চীন। বরফাচ্ছাদিত রাশিয়ার উত্তর উপকূল ঘেঁষা ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নৌপথটি চীন ও ইউরোপের মধ্যকার সমুদ্রযাত্রার সময় প্রায় অর্ধেকে কমিয়ে আনলেও এর বিপরীতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও নানামুখী পরিচালন ঝুঁকির প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনের শিপিং প্রতিষ্ঠান ‘সি লেজেন্ড’ সম্প্রতি এই পথে নিয়মিত কনটেইনার পরিবহন শুরু করেছে। প্রচলিত সুয়েজ খাল রুটে চীনের নিংবো-ঝৌশান বন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো পৌঁছাতে যেখানে ৪০ দিনের বেশি সময় লাগে, সেখানে এই আর্কটিক রুটে সময় লাগছে মাত্র ১৮ দিন। যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এটি বিশেষ করে চীনের প্রধান রপ্তানি পণ্য—যেমন বৈদ্যুতিক যান (ইভি), লিথিয়াম ব্যাটারি ও সৌর প্যানেলের মতো তাপমাত্রাসংবেদনশীল পণ্যের দ্রুত সরবরাহে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

২০১৭ সালে ঘোষিত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘পোলার সিল্ক রোড’ রূপরেখার অংশ হিসেবে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাশিয়ার সাথে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির ফলে রুটটির ব্যবহার গতি পেয়েছে। রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা 'রোসাটম' এই জলপথে জাহাজ চলাচলের অনুমতি ও পারমাণবিক শক্তিচালিত বরফভাঙা জাহাজের সহায়তা দিচ্ছে।

তবে সময় ও কার্বন নিঃসরণ কমার সুবিধার বিপরীতে পরিবেশবিদরা মারাত্মক আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। আর্কটিকের অতি সংবেদনশীল পরিবেশে কোনো জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তেল ছড়িয়ে পড়লে তা অপসারণ প্রায় অসম্ভব। ভারী জ্বালানি থেকে নির্গত কালো কার্বন বরফে জমে সূর্যের আলো শোষণ বাড়ায়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বরফ গলার গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

এছাড়া যথাযথ বিমা ও তদারকিহীন রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা নিষেধাজ্ঞা এড়ানো প্রায় ১০০টি জাহাজের এই রুটে চলাচল ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, উদ্ধারকাজে দীর্ঘসূত্রতা ও সীমিত মৌসুমের কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—সম্ভাবনা থাকলেও এই মুহূর্তে নর্দার্ন সি রুট সুয়েজ খাল বা হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ বিকল্প হতে পারছে না।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


ট্রাম্পের মেয়াদে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি: মার্কিন জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ২১:৪৩:১৮
ট্রাম্পের মেয়াদে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি: মার্কিন জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি নাগরিকের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সহায়তায় লন্ডনভিত্তিক অরাজনৈতিক গবেষণা সংস্থা ফোকালডাটা এই জরিপটি পরিচালনা করে।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার জানিয়েছেন যে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশ নির্দলীয় ভোটার এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ রিপাবলিকান সমর্থক রয়েছেন। এছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন মার্কিন অর্থনীতি বর্তমানে ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন এটি সঠিক পথে রয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মসংস্থান মোকাবিলার ক্ষেত্রে ভোটাররা ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকায় ৬৪ শতাংশ ভোটার সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সামগ্রিকভাবে প্রেসিডেন্টের কাজের প্রতি ৫৫ শতাংশ মানুষ অনাস্থা জানিয়েছেন এবং তাঁর নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ৮ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে কাকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে ৪৪ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৯ শতাংশ রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। জরিপের বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা দলটির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

মূল্যস্ফীতি ও প্রকৃত মজুরি হ্রাসের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই। তিনি দাবি করেন, সরকার প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানো, দেশে কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা এবং কর হ্রাসের মাধ্যমে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলেও তিনি জানান।

গত ৭ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৯১৩ জন নিবন্ধিত ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে এই জরিপটি পরিচালিত হয়।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।


ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন রাখতে বাড়তি তেলের দামও মেনে নেওয়া যায়: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ১৮:২৫:২৪
ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন রাখতে বাড়তি তেলের দামও মেনে নেওয়া যায়: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য মেনে নেওয়ার জন্য আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে ‘ভীষণ শয়তান’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নস্যাৎ করাই চলমান সামরিক অভিযানের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে ওয়াশিংটনকে পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার বার্তা দিয়েছে তেহরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং এই জলপথ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ইরানবিরোধী সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করলেও শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ এ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার কোনোটিতেই অপরিশোধিত তেল ছিল না।

নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় গ্যাসোলিনের জন্য কিছুটা বাড়তি ব্যয় করা অযৌক্তিক নয়। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ৪.০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। এই মূল্যবৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। একই সময়ে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক সপ্তাহে ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৫.৪ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানেও অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভ্যন্তরীণ উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য মার্কিন বন্দর অবরোধ ও তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছেন। বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আগামী সপ্তাহেই তেহরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সার্বিকভাবে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় জুনে যুদ্ধ বন্ধের যে আলোচনা চলছিল, তা এখন পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।

সূত্র : রয়টার্স।


১৯৫৩ সালের পর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি? উত্তর কোরিয়ার কোর্টে বল ঠেলল দক্ষিণ কোরিয়া

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৫ ২০:২৭:১১
১৯৫৩ সালের পর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি? উত্তর কোরিয়ার কোর্টে বল ঠেলল দক্ষিণ কোরিয়া
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বৈরিতা দূর করে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। ১৯৫৩ সালে একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধ থামলেও, কৌশলগত ও কাগজে-কলমে উভয় দেশ এখনও যুদ্ধরত অবস্থায় রয়েছে। জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি দিবসের ভাষণে এই ঐতিহাসিক আহ্বান জানান তিনি।

প্রেসিডেন্ট লি উল্লেখ করেন, দুই দেশের অসামরিকীকৃত সীমান্ত এলাকায় (ডিএমজেড) যেকোনো ধরনের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত রোধে নতুন নিরাপত্তা রূপরেখা প্রণয়ন করা আবশ্যক। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে সরাসরি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তার প্রশাসন চায় উভয় দেশই পারস্পরিক ক্ষতিসাধনের মনোভাব ত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে ফিরে আসুক।

গত বছর সিউলের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উত্তর কোরিয়া ও চীনের সাথে কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন লি জে-মিয়ং। ২০২২ সালে পিয়ংইয়ং নিজেদেরকে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং কোনো অবস্থাতেই নিরস্ত্রীকরণে যাবে না বলে কঠোর অবস্থানে থাকে। অবশ্য প্রেসিডেন্ট লি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার মতো বাস্তবসম্মত চুক্তিতে তার সরকার সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার এই শান্তি প্রস্তাবের ব্যাপারে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। বরং প্রস্তাবের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার সমুদ্র অভিমুখে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া, যা চলতি বছরে তাদের পরিচালিত ১১তম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

সূত্র: বিবিসি।


সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা: ক্ষোভে ফুঁসছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৫ ১৯:২৪:৫৯
সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা: ক্ষোভে ফুঁসছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকরা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর বেশ কয়েকজন নাবিক ও মেরিন সেনা সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে তথ্য সামনে এসেছে। এ ঘটনায় রণতরীটিতে অবস্থানরত প্রায় ৫ হাজার সামরিক সদস্যের মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নেভি টাইমস এবং স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক সদস্যের সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা আটকে দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের বন্দর বিরতি ছাড়াই সদস্যরা টানা ২৫০ দিন ধরে সাগরে অবস্থান করছেন, যা আধুনিক মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘতম একটানা মোতায়েন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সম্প্রতি সান দিয়েগোতে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রায় দুই শতাধিক নাবিকের স্বজনরা এই দীর্ঘমেয়াদী মিশন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক বিপর্যয় নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানান।

এক নাবিকের স্ত্রী জানান, মানসিক অবসাদে তার স্বামী তাকে বার্তা পাঠিয়ে লিখেছিলেন যে তিনি সম্ভবত পরদিন আর নাও বাঁচতে পারেন। আরেকজন পরিবার সদস্য নিশ্চিত করেছেন যে, চরম মানসিক চাপের মুখে তাঁর স্বামী সাগরে ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘ মোতায়েনের পাশাপাশি রণতরীর অভ্যন্তরীণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার আইনপ্রণেতা মাইক লেভিন। তিনি উল্লেখ করেন, রণতরীটিতে নষ্ট শৌচাগার, ছত্রাকযুক্ত গোসলখানা, দীর্ঘ সময় ধরে লন্ড্রি ব্যবস্থা অচল থাকা এবং পর্যাপ্ত গরম পানির তীব্র অভাব রয়েছে। এছাড়াও খাবারের মান ও সরবরাহে ঘাটতির বিষয়গুলোও সামনে এসেছে।

গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। শুরুর দিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও পরবর্তীতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাতের কারণে রণতরীটিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করা হয়। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত মে মাসে এই দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া হয়।

যদিও এর আগে জাহাজের সার্বিক দুরবস্থা সংক্রান্ত খবরগুলোকে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা দাবি করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে নতুন করে আত্মহত্যার চেষ্টার খবর সামনে আসায় মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের কাজের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আবারও জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্র: পার্সটুডে

পাঠকের মতামত: