২০ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৪:৫৯:৩০
২০ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকার শেয়ারবাজারে দিনের লেনদেন শেষে আবারও নেতিবাচক প্রবণতা প্রাধান্য পেয়েছে। সার্বিক বাজার চিত্রে দেখা গেছে, অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও বিক্রির চাপের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দিনের সারাংশ অনুযায়ী, মোট ৩৮৯টি কোম্পানির মধ্যে ১২০টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ২০৭টি কোম্পানি দরপতনের তালিকায় রয়েছে এবং ৬২টি অপরিবর্তিত অবস্থানে ছিল। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে বাজারে ক্রয়ের তুলনায় বিক্রির চাপ বেশি সক্রিয় ছিল।

ক্যাটাগরি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির ২০২টি শেয়ারের মধ্যে ১১৮টি দরপতনের মুখে পড়েছে, যেখানে মাত্র ৫৫টি শেয়ার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ৪৫টি শেয়ার বেড়েছে এবং ২৮টি কমেছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে আবারও দুর্বলতা প্রকট, ১০৭টির মধ্যে ৬১টি শেয়ার কমেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও চাপ অব্যাহত রয়েছে। মোট ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ১০টির দর কমেছে, ৫টি বেড়েছে এবং ১৯টি অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজেও খুব সীমিত লেনদেন হয়েছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো ইতিবাচক গতি দেখা যায়নি।

লেনদেনের দিক থেকে বাজারে কার্যক্রম ছিল সক্রিয়। মোট ২ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রায় ২৯৬ কোটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮২৪৭ কোটি টাকা, যা বাজারে তারল্য থাকলেও দিকনির্দেশনার অভাবের ইঙ্গিত দেয়।

বাজার মূলধন সামান্য কমে মোট প্রায় ৬৮১৬২২৪৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এর মধ্যে ইক্যুইটি, মিউচুয়াল ফান্ড ও ডেট সিকিউরিটিজ মিলিয়ে এই পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা নির্দেশ করে।

ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে, যেখানে ৪০টি কোম্পানির প্রায় ২৮ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে এবং মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১৭ কোটি টাকার বেশি। বিশেষ করে ‘এপেক্স স্পিনিং’, ‘লাভেলো’, ‘সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স’ এবং ‘ড্যাফোডিল কম্পিউটার’ শেয়ারে বড় অঙ্কের ব্লক ট্রেড লক্ষ্য করা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ধারাবাহিক দরপতন অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা উত্তোলন, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং সামগ্রিক বাজার আস্থার ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে। একইসঙ্গে কিছু খাতে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির পর স্বাভাবিক কারেকশনও এই পতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

-রাফসান


২০ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৪:৫৬:৩৪
২০ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকার শেয়ারবাজারে লেনদেন চলাকালে বেশ কয়েকটি শেয়ার উল্লেখযোগ্য দরপতনের মুখে পড়েছে, যা বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বিক্রির চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। দিনের মধ্যবর্তী সময়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, টপ লুজার তালিকায় মূলত নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান ও ফান্ডভিত্তিক শেয়ারগুলোর আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে।

দরপতনের শীর্ষে রয়েছে ‘এইচএফএল’, যার শেয়ারদর আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৭.৭৩ শতাংশ কমে ১৫.৫ টাকায় নেমে এসেছে। একইসঙ্গে আর্থিক খাতের দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে ‘ফারইস্ট ফাইন্যান্স’, ‘আইএলএফএসএল’ এবং ‘প্রিমিয়ার লিজিং’—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারই প্রায় ৭.১৪ শতাংশ করে কমে গেছে। এসব কোম্পানির শেয়ারে একযোগে পতন বাজারে এই খাতের প্রতি আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর পরেই রয়েছে ‘পিএলএফএসএল’, যা ৬.৪৫ শতাংশ কমে ২.৯ টাকায় নেমেছে। ‘প্রাইম ফাইন্যান্স’ ৫ শতাংশ দর হারিয়ে ৩.৮ টাকায় লেনদেন করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির প্রবণতা বাড়ার আরেকটি উদাহরণ।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও নেতিবাচক চাপ স্পষ্ট। ‘এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড’ প্রায় ৪.৮৭ শতাংশ কমে ৩.৯ টাকায় নেমেছে এবং ‘ক্যাপিএমবিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড’ ৩.৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগেও বিনিয়োগকারীরা এখন কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

অন্যদিকে ‘বিআইএফসি’ ও ‘ফাস ফাইন্যান্স’ যথাক্রমে ৩.৬৩ শতাংশ এবং ৩.৪৪ শতাংশ দর হারিয়ে তালিকার শেষদিকে অবস্থান করছে। আর্থিক খাতের এই ধারাবাহিক পতন বাজারে একটি সেক্টরাল চাপ তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দরপতন অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ, বিশেষ করে যখন কোনো খাত বা নির্দিষ্ট শেয়ার পূর্ববর্তী সময়ে দ্রুত বেড়ে যায়। পাশাপাশি, বিনিয়োগকারীদের মুনাফা উত্তোলন এবং স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং কৌশলও বাজারে বিক্রির চাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

তারা আরও বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে মৌলিক দুর্বলতা, ঋণখেলাপি সমস্যা, তারল্য সংকট কিংবা পরিচালনাগত অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত ঝুঁকি কমাতে শেয়ার বিক্রি করে থাকেন। ফলে এই খাতে দরপতন তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, শুধুমাত্র দৈনিক লুজার তালিকার ওপর নির্ভর না করে কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি, পরিচালন কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা জরুরি। বাজারের স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে, তাই তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

-রাফসান


২০ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৪:৫২:৪১
২০ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার শেয়ারবাজারে ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে বেশ কয়েকটি শেয়ার দামের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখিয়েছে, যা বাজারে নতুন করে ক্রয়চাপ এবং খাতভিত্তিক আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দিনের ট্রেডিং ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন খাতের শেয়ার মিলেই টপ গেইনার তালিকাটি গঠিত হয়েছে, যেখানে মিউচুয়াল ফান্ড, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফিড খাতের অংশগ্রহণ স্পষ্ট।

দিনের শীর্ষে উঠে এসেছে ‘নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল’, যার শেয়ারদর সরাসরি ১০ শতাংশ বেড়ে ২৪.২ টাকায় পৌঁছেছে। এর পরেই রয়েছে ‘ইস্টার্ন টিউবস লিমিটেড (ইটিএল)’, যা প্রায় ৯.৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১.১ টাকায় লেনদেন করছে। এই দুই শেয়ারের দ্রুত উত্থান বাজারে স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং প্রবণতা ও চাহিদা বৃদ্ধির একটি শক্ত ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ‘কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ’ ৮.৬৩ শতাংশ বেড়ে ২৩.৯ টাকায় উঠে এসেছে, আর ‘এপেক্স স্পিনিং’ ৮.৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৮৩.২ টাকায় লেনদেন করছে। টেক্সটাইল ও শিল্প খাতের এই অগ্রগতি বাজারে উৎপাদনমুখী কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে ‘বিডি অটোকারস’ আগের দিনের পতন কাটিয়ে প্রায় ৮.২২ শতাংশ বেড়ে ২৫২.৬ টাকায় উঠেছে, যা একটি শক্তিশালী রিবাউন্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইভাবে ফিড খাতের ‘আমান ফিড’ ৭.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৬.১ টাকায় অবস্থান করছে, যা কৃষি ও খাদ্য সংশ্লিষ্ট খাতে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ‘ফার্স্ট প্রাইম ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড’ ৭.২৫ শতাংশ বাড়ায় ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগেও সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের ‘এসিএমই পিএল’ ৬.৬৬ শতাংশ বেড়ে ২৭.২ টাকায় পৌঁছেছে, যা স্বাস্থ্যখাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন।

এছাড়া ‘দেশবন্ধু গ্রুপ’-এর শেয়ার ৬.২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৮.৮ টাকায় এবং বহুল আলোচিত ‘লাভেলো আইসক্রিম’ ৫.৪৪ শতাংশ বেড়ে ৭৭.৪ টাকায় লেনদেন করেছে, যা ভোক্তা পণ্য খাতেও নতুন গতি সৃষ্টির ইঙ্গিত দেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উত্থান সাধারণত কয়েকটি কারণে ঘটে থাকে—যেমন স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং, গুজবনির্ভর চাহিদা, কিংবা কোম্পানির আর্থিক পারফরম্যান্স বা লভ্যাংশ প্রত্যাশা। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র দৈনিক গেইনার তালিকার ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

-রাফসান


১৯ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৪:৫৫:৫৭
১৯ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকার শেয়ারবাজারে লেনদেনের সার্বিক চিত্রে স্পষ্টভাবে নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের শেষে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দরপতনের মুখে পড়ে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দিনের বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ৪০৪টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১২৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ২২৩টি কোম্পানি দরপতনের তালিকায় যুক্ত হয়েছে এবং ৫৬টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় যে বাজারে বিক্রির চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল, যা সূচকের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির ২১৭টি শেয়ারের মধ্যে ৭৮টি বেড়েছে এবং ১১১টি কমেছে। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৮০টি শেয়ারের মধ্যে ৪৮টি দরপতনের শিকার হয়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ১০৭টি কোম্পানির মধ্যে ৬৪টির শেয়ারদর কমেছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারগুলোর ওপর চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা ছিল। মোট ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ১২টির দর কমেছে, ৮টি বেড়েছে এবং ১৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজেও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে অধিকাংশ ইস্যু দরপতনের দিকে গেছে।

লেনদেনের পরিমাণ ও মূল্য বিবেচনায় বাজারে সক্রিয়তা কিছুটা বেড়েছে। মোট লেনদেনের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৪ হাজারের বেশি, যেখানে শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮৮ কোটি ইউনিটে। টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৮১৯২ কোটি টাকা, যা বাজারে উল্লেখযোগ্য তারল্যের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

বাজার মূলধনের দিক থেকে মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮৪৭২৩৩৯ কোটি টাকার বেশি, যেখানে ইক্যুইটি, মিউচুয়াল ফান্ড এবং ডেট সিকিউরিটিজ মিলিয়ে এই পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে। এটি সামগ্রিকভাবে বাজারের আকার ও বিনিয়োগের পরিধি তুলে ধরে।

ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। মোট ৪৫টি কোম্পানির শেয়ার ব্লক ট্রেডে লেনদেন হয়েছে, যেখানে প্রায় ১০৪ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়ে প্রায় ৩৯৩ কোটি টাকার বেশি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে পিটিএল, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, আল-আরাফাহ ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের মতো কোম্পানিগুলোতে বড় অঙ্কের ব্লক ট্রেড লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এই ধরনের দরপতন স্বাভাবিক কারেকশন হতে পারে, বিশেষ করে যখন আগের দিনগুলোতে কিছু শেয়ারের দ্রুত উত্থান ঘটে। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাও বাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে।

-রাফসান


১৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৪:৫১:৫২
১৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার শেয়ারবাজারে ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দিনের লেনদেনে যেমন কিছু কোম্পানি বড় উত্থান দেখিয়েছে, তেমনি বেশ কয়েকটি শেয়ার উল্লেখযোগ্য দরপতনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। দুপুর ২টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু মিউচুয়াল ফান্ড, ব্যাংকিং, ফার্মা ও শিল্পখাতের শেয়ারে চাপ তৈরি হয়েছে, যা বাজারের স্বল্পমেয়াদি দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দিনের সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে ‘পপুলার ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড’-এ, যার দাম আগের দিনের তুলনায় ৬.২৫ শতাংশ কমে ৩ টাকায় নেমে এসেছে। এর পরেই রয়েছে ‘বিডি অটোকারস’, যার শেয়ার ৫.৫৮ শতাংশ কমে ২৩৩.৪ টাকায় লেনদেন হয়েছে। উচ্চমূল্যের এই শেয়ারে দরপতন বিনিয়োগকারীদের লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের ‘সিলভা ফার্মা’ প্রায় ৫ শতাংশ কমে ১১.২ টাকায় নেমে এসেছে, যা স্বাস্থ্যখাতেও সাময়িক চাপের ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে সিমেন্ট খাতের ‘মেঘনা সিমেন্ট’ ৪.৭৪ শতাংশ কমে ৩২.১ টাকায় অবস্থান করছে, যা অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা সতর্কতার বার্তা বহন করছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ‘ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড’ ৪.০৮ শতাংশ কমে ৪.৭ টাকায় নেমেছে এবং ‘এসইএমএল এফবিএসএলজি ফান্ড’ও ৩.৬৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগেও কিছুটা বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।

খাদ্য ও শিল্পখাতের ‘বিডি থাই ফুড’ ৩.৫৮ শতাংশ কমে ১৮.৮ টাকায় লেনদেন করেছে, যা ভোক্তা খাতেও সামান্য দুর্বলতা নির্দেশ করে। একইসঙ্গে বহুল আলোচিত ‘কেবিপিপিডব্লিউবিল’ শেয়ার ৩.৫৬ শতাংশ কমে ৫১.৪ টাকায় নেমেছে, যা আগের দিনের তুলনায় একটি সংশোধনমূলক পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে ‘পিডিএল’ ও ‘আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক’ যথাক্রমে ৩.৫০ শতাংশ ও ৩.৪৪ শতাংশ কমে তালিকার শেষদিকে অবস্থান করছে। ব্যাংকিং খাতের এই পতন বাজারের সামগ্রিক আস্থার ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

-রাফসান


১৯ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৪:৪৮:০৫
১৯ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার শেয়ারবাজারে সপ্তাহের নতুন কার্যদিবসে সূচকের ওঠানামার মাঝেও কিছু কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য রিটার্ন এনে দিয়েছে। ১৯ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ২টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি শেয়ার দামের দিক থেকে শীর্ষ গেইনার তালিকায় উঠে এসেছে, যা বাজারে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ প্রবণতা ও সেক্টরভিত্তিক আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি দামে উত্থান দেখা গেছে ‘রানার অটো’-তে, যার শেয়ার মূল্য আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৯.৯৫ শতাংশ বেড়ে ৪৩ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছেছে। একইভাবে ‘জনতা ইন্স্যুরেন্স’ এবং ‘সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স’ প্রায় সমান হারে ৯ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৩৬.৫ টাকা এবং ৩১.৩ টাকায় লেনদেন হয়েছে। এই তিনটি কোম্পানির ধারাবাহিক উত্থান বাজারে ইন্স্যুরেন্স ও অটোমোবাইল খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

এর পাশাপাশি ‘পিএফ১এসটিএমএফ’ মিউচুয়াল ফান্ড ৮.৬৯ শতাংশ বেড়ে ৭.৫ টাকায় উঠে এসেছে, যা ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগেও সক্রিয়তা বাড়ার দিকটি তুলে ধরছে। ওষুধ ও কেমিক্যাল খাতের ‘এশিয়াটিক ল্যাব’ প্রায় ৮.৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬.২ টাকায় অবস্থান করছে, যা স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর প্রতি বাজারের আস্থা প্রতিফলিত করে।

ইন্স্যুরেন্স খাতের আরও কয়েকটি কোম্পানি যেমন ‘অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স’ ও ‘কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স’ যথাক্রমে ৭.৬১ শতাংশ এবং ৫.১৫ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি টেক্সটাইল খাতের ‘তামিজ টেক্সটাইল’ ৭ শতাংশের বেশি বাড়ায় এ খাতেও কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে প্রযুক্তি ও ওষুধ খাতের ‘টেকনো ড্রাগ’ ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮ টাকায় লেনদেন করেছে। একইসঙ্গে ‘আইসিবি ইপিএমএফ১এস১’ ফান্ডও ৭.৪০ শতাংশ বেড়ে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের শেয়ারদরের দ্রুত উত্থান অনেক সময় স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং বা বাজারে তারল্য প্রবাহের কারণে ঘটে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক পারফরম্যান্স, লভ্যাংশ প্রত্যাশা বা খাতভিত্তিক ইতিবাচক খবরও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ইন্স্যুরেন্স ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে সাম্প্রতিক সক্রিয়তা বাজারে একটি নির্দিষ্ট সেক্টরাল রোটেশনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে বলছেন, শুধুমাত্র দৈনিক গেইনার তালিকার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি, আয়-ব্যয়, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং সামগ্রিক বাজার প্রবণতা বিশ্লেষণ করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে টেকসই রিটার্ন পেতে হলে তথ্যভিত্তিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

-রাফসান


ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে উত্থান-পতনের লড়াই

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১০:৪৪:০২
ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে উত্থান-পতনের লড়াই
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শেয়ারবাজারে সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে এক ধরনের মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে লেনদেনের গতি বেড়েছে ঠিকই, তবে সূচকের দিক থেকে খুব একটা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যায়নি। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধান সূচকগুলোতে সামান্য ওঠানামার মধ্য দিয়ে সপ্তাহটি শেষ হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্বিধা ও সতর্কতার প্রতিফলন।

Dhaka Stock Exchange এর তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইএক্স সূচক সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৫,২৫৬.৮৪ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় খুবই ক্ষুদ্র পতন নির্দেশ করে। অন্যদিকে, ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস৩০ প্রায় ১২ পয়েন্ট হারিয়ে দুর্বলতা দেখিয়েছে। তবে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস কিছুটা বেড়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য আংশিক স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এসএমই খাতের সূচক, যা প্রায় ২.৬৬ শতাংশ কমে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। যদিও বছরের শুরু থেকে এই সূচকে এখনও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

লেনদেনের চিত্রে দেখা গেছে, দৈনিক গড় টার্নওভার ২২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে তারল্যের উন্নতি নির্দেশ করে। একই সঙ্গে দৈনিক গড় শেয়ার লেনদেনের পরিমাণও প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে বাজার মূলধন কিছুটা কমে গেছে, যা মূলত বড় কোম্পানির শেয়ারের দামে চাপের প্রতিফলন।

সাপ্তাহিক বাজার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট লেনদেন মূল্য আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমলেও, চার কার্যদিবসে এই পরিমাণ অর্জন করা হয়েছে, যা কার্যত বাজারে সক্রিয়তার প্রমাণ দেয়।

বাজারের প্রস্থ (Market Breadth) বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অগ্রগামী কোম্পানির সংখ্যা ছিল ২১৩টি, যেখানে পতন হয়েছে ১৪২টির। এই অনুপাত বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিলেও সূচকের পতন দেখায় যে বড় মূলধনী শেয়ারগুলোর ওপর চাপ বেশি ছিল।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি, জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং সিরামিক খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে লেনদেন ও মূল্য বৃদ্ধির হার ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। অপরদিকে টেলিকম, সার্ভিস ও রিয়েল এস্টেট এবং লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে দুর্বলতা স্পষ্ট ছিল।

সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্যাংকিং, ইন্স্যুরেন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে। পাশাপাশি ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে, যেখানে কয়েকটি বড় কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হয়েছে বড় অংকের মূল্যে।

শীর্ষ গেইনার তালিকায় মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও কিছু এ-শ্রেণির শেয়ার শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যেখানে কিছু কোম্পানির শেয়ার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে, লুজার তালিকায় কয়েকটি জেড-ক্যাটাগরির শেয়ার বড় ধরনের পতনের সম্মুখীন হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে তারল্য বৃদ্ধি এবং খাতভিত্তিক কিছু শক্তিশালী পারফরম্যান্স সত্ত্বেও সামগ্রিক সূচকের স্থবিরতা ইঙ্গিত দেয় যে বিনিয়োগকারীরা এখনও বড় বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সবমিলিয়ে, ডিএসইর এই সাপ্তাহিক চিত্রটি একটি ‘সিলেক্টিভ মার্কেট’ পরিস্থিতি তুলে ধরে, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু খাত ও শেয়ার ভালো পারফর্ম করছে, কিন্তু সামগ্রিক বাজার এখনো স্থিতিশীল শক্তিশালী প্রবণতায় প্রবেশ করতে পারেনি।

-রফিক


শেয়ারবাজারে সুবাতাস! শেষ কার্যদিবসে সাড়ে ৫ গুণ প্রতিষ্ঠানের দাম বৃদ্ধি

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১২:১৮:৪৯
শেয়ারবাজারে সুবাতাস! শেষ কার্যদিবসে সাড়ে ৫ গুণ প্রতিষ্ঠানের দাম বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বইছে সুবাতাস। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) লেনদেনের শুরু থেকেই বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক সক্রিয়তায় অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ছে। প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে দেখা গেছে, যে পরিমাণ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে, তার চেয়ে সাড়ে ৫ গুণ বেশি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে। বাজারের এমন চাঙ্গাভাবের কারণে ডিএসইর সবকটি সূচক এখন ঊর্ধ্বমুখী।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর থেকেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে। মাঝে সামান্য ওঠানামা করলেও বেলা ১১টা নাগাদ বাজার ফের শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসে। প্রথম ঘণ্টা শেষে ডিএসইতে ৩৯২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ২৮৭টির দাম বেড়েছে এবং কমেছে মাত্র ৫১টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর।

সূচকের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৯৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এ ছাড়া ভালো কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আলোচিত সময়ে ডিএসইতে মোট ২৬২ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা বাজারের গতিশীলতার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

/আশিক


১৫ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১৫:০৫:৫৭
১৫ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনে শক্তিশালী ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে অধিকাংশ শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার আংশিক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত মিলেছে।

আজকের বাজারে মোট ৩৯৩টি কোম্পানির মধ্যে ২৩৯টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে মাত্র ৯০টির দর কমেছে এবং ৬৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে বাজারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটায়।

‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর মধ্যেও একই ধারা দেখা গেছে, যেখানে ১২৩টি শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, আর ৫২টি কমেছে। ‘বি’ ক্যাটাগরিতেও উত্থান প্রাধান্য পেয়েছে, যা বাজারের সামগ্রিক ইতিবাচক মনোভাবকে নির্দেশ করে।

‘জেড’ ক্যাটাগরিতে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক শেয়ারের দর বেড়েছে, যা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট ছিল। এই খাতে ১৮টি ফান্ডের দর বেড়েছে, যেখানে মাত্র ২টি কমেছে। এটি তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগে আস্থার প্রতিফলন।

লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনশেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৩৬ কোটি টাকায়, যা বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রমাণ দেয়। মোট ট্রেডের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৪ হাজারের বেশি এবং প্রায় ৩১ কোটি ৭৬ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

বাজার মূলধন প্রায় ৬৮.৫৫ লাখ কোটি টাকায় অবস্থান করছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে পুঁজিবাজারের গুরুত্বকে তুলে ধরে।

ব্লক মার্কেটেও বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। এদিন ৩৮টি কোম্পানির শেয়ার ব্লক ট্রানজ্যাকশনে লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকার কাছাকাছি। বিশেষ করে রেনাটা, ডমিনেজ, আল-আরাফাহ ব্যাংক এবং এনবিএল-এর মতো কোম্পানিতে বড় লেনদেন লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা ফিরে আসার পেছনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট খাতে ক্রয়চাপ এবং সাম্প্রতিক মূল্যসংশোধনের প্রভাব রয়েছে।

তারা আরও বলেন, যদিও আজকের উত্থান আশাব্যঞ্জক, তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মৌলভিত্তিক শক্তিশালী কোম্পানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

সার্বিকভাবে, আজকের শেয়ারবাজার একটি ইতিবাচক ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

-রাফসান


ডিএসই আপডেট, শীর্ষ ১০ লুজার তালিকা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১৪:৫৫:৩৯
ডিএসই আপডেট, শীর্ষ ১০ লুজার তালিকা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনে কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে মিশ্র প্রবণতার মধ্যে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গেইনার তালিকায় উত্থান থাকলেও লুজার তালিকায় কয়েকটি খাতের উপস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে।

আজকের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে আরামিট সিমেন্টের শেয়ারে, যার মূল্য প্রায় ৪.৯১ শতাংশ কমে ১১.৬ টাকায় নেমে এসেছে। এটি দিনের লুজার তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।

ব্যাংকিং খাতেও কিছুটা চাপ দেখা গেছে। ব্যাংক এশিয়ার শেয়ারদর প্রায় ৩.১৮ শতাংশ কমে ২১.৩ টাকায় নেমেছে, যা এই খাতে আস্থার সাময়িক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ক্যাপএমবিডিবিএলএমএফ প্রায় ৩.০৩ শতাংশ দর হারিয়েছে, যা ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগেও কিছুটা মুনাফা উত্তোলনের প্রবণতা নির্দেশ করে।

এছাড়া এটলাস বাংলাদেশ, কেডিএস অ্যাকসেসরিজ এবং সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত পতন হয়েছে, যা শিল্প ও বীমা খাতে বিক্রির চাপের ইঙ্গিত বহন করে।

একইভাবে কেবিপিপিডব্লিউবিআইএল, জিল বাংলা সুগার, রহিম টেক্সটাইল এবং এনবিএলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও সামান্য দরপতনের মুখে পড়েছে। যদিও এই পতনের হার তুলনামূলকভাবে সীমিত, তবুও এটি বাজারে স্থিতিশীলতার অভাবকে তুলে ধরে।

বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ববর্তী দিনের উত্থানের পর বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ লাভ তুলে নেওয়ায় এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। একই সঙ্গে খাতভিত্তিক আস্থার পরিবর্তন এবং স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশলও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: