জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ‘বড় ভুল’, কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১৭:১২:৩১
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ‘বড় ভুল’, কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান তার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক হামলাকে একটি গুরুতর কৌশলগত ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের এক মুখপাত্র এই বিষয়ে সরাসরি সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন।

আইএসএনএ বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার প্রতিক্রিয়া এখনও চলমান এবং এটি শেষ হয়ে যায়নি। তার ভাষ্যমতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের আক্রমণ পুনরায় সংঘটিত হলে প্রতিক্রিয়ার মাত্রা হবে আরও ব্যাপক ও কঠোর।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষ একটি ‘বড় ভুল’ করেছে, যার কৌশলগত পরিণতি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে যেকোনো আঘাতকে তারা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করছে।

মুখপাত্র আরও বলেন, যদি এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে ইরান কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকবে না; বরং প্রতিপক্ষ এবং তাদের মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও পাল্টা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, এই পাল্টা আঘাত অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না প্রতিপক্ষের সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে সংঘাতের একটি নতুন মাত্রার ইঙ্গিত বহন করছে। কারণ, জ্বালানি খাত শুধু আঞ্চলিক অর্থনীতির নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফলে এ ধরনের হুমকি আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ইরানের এই কঠোর বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যতে সংঘাতের পরিধি শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, বরং জ্বালানি অবকাঠামোকেও ঘিরে বিস্তৃত হতে পারে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

-রফিক


ইরানকে ঘিরে নতুন করে সমর্থনের বার্তা চীনের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১৫:০৯:৪৩
ইরানকে ঘিরে নতুন করে সমর্থনের বার্তা চীনের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আলি লারিজানির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় চীন তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে এটিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে।

বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ কখনো টেকসই নয় এবং এটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ একাধিক উচ্চপদস্থ নেতা নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আলি লারিজানির মৃত্যু বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুকে দুর্বল করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চীন এ পরিস্থিতিতে সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং দ্রুত সামরিক অভিযান বন্ধ করে কূটনৈতিক সংলাপের পথে ফিরে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বেইজিংয়ের মতে, চলমান উত্তেজনা যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও চীন অতীতে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিসংবলিত দেশগুলোর ওপর তেহরানের হামলারও সমালোচনা করেছে। অর্থাৎ, বেইজিং একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চাচ্ছে।

এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি মাসে চীনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন বেসামরিক জনগণ এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর।

এদিকে মানবিক সংকট মোকাবিলায় চীন ইতোমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত মঙ্গলবার বেইজিং ইরান, লেবানন, জর্ডান ও ইরাকের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দেয়, যা সংকট প্রশমনে তাদের সক্রিয় ভূমিকারই প্রতিফলন।

-রাফসান


আর হামলা চান না ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১৪:২৬:৩৬
আর হামলা চান না ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে আপাতত অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র ‘সাউথ পার্স’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

বুধবার, ১৮ মার্চ মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য নৌ চলাচল বিঘ্নিত করার প্রচেষ্টার জবাবে তেহরানকে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ওই ইসরায়েলি হামলাকে নীরব সমর্থন দিয়েছিল। মূলত এটি ছিল একটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের অংশ, যার লক্ষ্য ছিল ইরানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রাখা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এখন মনে করছে যে এই বার্তা আংশিকভাবে কার্যকর হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করে আপাতত সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি একটি স্থায়ী নীতি নয় বরং পরিস্থিতিভিত্তিক সাময়িক কৌশলগত বিরতি।

মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদি ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও দেশটির জ্বালানি স্থাপনায় হামলার অনুমোদন দিতে পারে। অর্থাৎ, সামরিক বিকল্প সম্পূর্ণভাবে টেবিল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট, যেখানে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের বড় অংশ সম্পন্ন হয়। এই রুটে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্ক অবস্থান মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার কৌশলের সঙ্গেও যুক্ত।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি সামরিক সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে কৌশলগত চাপ ও নিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিচালনার চেষ্টা করছে। তবে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ভর করছে ইরানের আচরণ এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।

সূত্র:দ্য গার্ডিয়ান


ইরানে নেতৃত্বে ধস, হামলায় যেসব শীর্ষ নেতারা নিহত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১২:৩০:৪৯
ইরানে নেতৃত্বে ধস, হামলায় যেসব শীর্ষ নেতারা নিহত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত সামরিক অভিযানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোতে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এই ধারাবাহিক হামলা শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যকেই নড়বড়ে করেনি, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু। ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর বাসভবনে সংঘটিত বিমান হামলায় তিনি নিহত হন বলে জানা গেছে। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থাকা এই নেতা দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতি ইরানের শাসনব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যৎ ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

একই দিনে তেহরানে নিহত হন আলি শামখানি, যিনি খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা ও পারমাণবিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। একই হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হন, যা ইরানের সামরিক নেতৃত্বে একযোগে বড় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।

পরবর্তী সময়েও হামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। ১৭ মার্চ পারদিস এলাকায় হামলায় নিহত হন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রভাবশালী নেতা আলি লারিজানি। তাঁর সঙ্গে তাঁর ছেলে ও একজন সহযোগীও নিহত হন। লারিজানি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের কৌশলগত নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন এবং তিনি খামেনির অন্যতম বিশ্বস্ত উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

১৮ মার্চ ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব, যিনি দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতার কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। একইসঙ্গে ১৭ মার্চের আরেক হামলায় বাসিজ প্যারামিলিটারি বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হন, যার নেতৃত্বে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হতো।

এছাড়া, তেহরানে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সময় হামলায় নিহত হন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদোলরহিম মুসাভি। তাঁর মৃত্যু ইরানের সামগ্রিক সামরিক কমান্ড কাঠামোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

-রফিক


ইরান যুদ্ধে ২০০ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাবে আপত্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১১:৩৯:২৪
ইরান যুদ্ধে ২০০ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাবে আপত্তি
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য যুদ্ধ তহবিল বরাদ্দের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন, যেখানে বলা হয় পেন্টাগন ইরান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তহবিল চাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান হলেন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এমন একটি যুদ্ধের জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়, যা মার্কিন জনগণের সমর্থন পায় না এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতেও কার্যকর নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের ব্যয় দেশের সামগ্রিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করে তা বন্ধ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। তার মতে, তহবিল বন্ধ করে দেওয়াই হবে সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বেসামরিক প্রাণহানি কমানো এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কার্যকর উপায়। এ প্রসঙ্গে তিনি নিজের অবস্থানকে ‘কঠোর না’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউসের কাছে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যাতে কংগ্রেসে উপস্থাপনের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ অনুমোদনের অনুরোধ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে কত অর্থ চাওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

-রফিক


 ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর মহাপ্রলয়ের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১০:৫৭:৩৭
 ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর মহাপ্রলয়ের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের 
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক চূড়ান্ত সংঘাতের রূপ নিয়েছে। কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) স্থাপনায় ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার প্রেক্ষিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি কাতারের ওপর আর কোনো হামলা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের একক সামরিক শক্তিতে ইরানের পুরো 'দক্ষিণ পার্স' (South Pars) গ্যাস ফিল্ড ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে।

ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরায়েলের চালানো আগের হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কাতার কিছুই জানত না। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, ইরান যদি 'সম্পূর্ণ নির্দোষ' কাতারের ওপর হামলা বন্ধ রাখে, তবে ইসরায়েলও ওই গ্যাস ফিল্ডে আর নতুন কোনো আক্রমণ করবে না। কিন্তু কাতার যদি আবারও আক্রান্ত হয়, তবে ইসরায়েলের কোনো সাহায্য ছাড়াই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন প্রচণ্ড ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে যা ইরান আগে কখনো দেখেনি।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান 'কাতার এনার্জি'র রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। দক্ষিণ পার্স গ্যাস ফিল্ডটি ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন এবং এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির প্রধান উৎস হওয়ায় ট্রাম্পের এই হুমকি তেহরানের জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।


তেল নয়, এবার সারের সংকটে কাঁপছে বিশ্ব; হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের চরম মূল্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১০:৩১:০৫
তেল নয়, এবার সারের সংকটে কাঁপছে বিশ্ব; হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের চরম মূল্য
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্ব এখন এক ভয়াবহ খাদ্য সংকটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ 'হরমুজ প্রণালি' ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কেবল জ্বালানি তেলের দামই বাড়াচ্ছে না, বরং এটি বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহে বড় ধরনের ধস নামিয়ে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনকে চরম হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এর সমান্তরালে আরও একটি গভীর ও ভয়াবহ সংকট ঘনীভূত হচ্ছে, যা সরাসরি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার সাথে জড়িত। আধুনিক কৃষিকাজে অপরিহার্য উপাদান হলো 'ইউরিয়া' সার। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ইউরিয়া বাণিজ্যের প্রায় অর্ধেক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সারের একটি বিশাল অংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এই হরমুজ প্রণালি হয়েই সারা বিশ্বে রপ্তানি করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক কৃষি ব্যবস্থা এই একটি মাত্র নৌপথের ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে, এখানে সামান্যতম বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বজুড়ে সারের তীব্র হাহাকার দেখা দেবে। সারের এই ঘাটতি সরাসরি খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমিয়ে দেবে, যার চূড়ান্ত পরিণতি হবে একটি বড় মাপের বৈশ্বিক দুর্ভিক্ষ বা খাদ্য বিপর্যয়। ফলে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি সারের এই অপ্রাপ্যতা সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও পঙ্গু করে দিতে পারে।

/আশিক


ইরানকে সৌদি আরবের শেষ হুঁশিয়ারি: এবার কি শুরু হচ্ছে সরাসরি যুদ্ধ?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ০৯:৪৭:৪৩
ইরানকে সৌদি আরবের শেষ হুঁশিয়ারি: এবার কি শুরু হচ্ছে সরাসরি যুদ্ধ?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্ক এখন খাদের কিনারে। সৌদি আরবের ওপর তেহরানের সাম্প্রতিক হামলাকে 'ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত' আখ্যা দিয়ে চ চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।

রিয়াদে আরব রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক জরুরি বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি তাদের আঞ্চলিক যুদ্ধের কৌশল অবিলম্বে পরিবর্তন না করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে 'সম্মিলিত বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ' নেওয়া হবে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমাদের ধৈর্যের সীমা আছে, কিন্তু তা অসীম নয়।" তিনি দাবি করেন, ইরানি কূটনীতিকরা হামলার কথা অস্বীকার করলেও ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত লক্ষ্যবস্তু প্রমাণ করে যে এগুলো অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এবং পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে।

রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিহত করার পর এই উত্তেজনা আরও বাড়ে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একাধিক ড্রোন ও মিসাইল ভূপাতিত করার খবর নিশ্চিত করেছে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধের এই দামামার ফলে তেহরানের ওপর থেকে রিয়াদের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে পুনরুদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


জ্বলছে কাতার: ইরানি হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি কেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ০৯:৩৬:৫৪
জ্বলছে কাতার: ইরানি হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি কেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের গুরুত্বপূর্ণ রাস লাফফান (Ras Laffan) শিল্পাঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৭টার দিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতির মাধ্যমে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই এলএনজি (LNG) হাব লক্ষ্য করে চালানো ইরানি হামলায় ওই অঞ্চলের গ্যাস অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলার পরপরই রাস লাফফান শিল্পাঞ্চলে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়, যা নেভাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে লড়াই করতে হয়েছে জরুরি পরিষেবা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। কাতার এনার্জি (QatarEnergy) জানিয়েছে, এই হামলায় স্থাপনাগুলোর 'মারাত্মক ক্ষতি' হলেও সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরাপদ রয়েছেন।

এর আগে গতকাল বুধবারও কাতার জানিয়েছিল যে লস রাফফানের গ্যাস অবকাঠামোতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরান পুনরায় হামলা চালালে নতুন করে আগুনের সূত্রপাত হয়।

সূত্র: আল-জাজিরা


ইসরায়েলের গভীরে নজিরবিহীন হামলা: পাল্টাঘাতে ইরানের বার্তা, যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ০৫:১৬:৩২
ইসরায়েলের গভীরে নজিরবিহীন হামলা: পাল্টাঘাতে ইরানের বার্তা, যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা

ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে, যেখানে ঘটনাগুলোকে কেবল বিচ্ছিন্ন আক্রমণ হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে পাল্টাঘাতের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজধানী তেল আবিবসহ মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণ, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এবং অবিস্ফোরিত অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধ এখন গভীরতর পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তেল আবিব অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দমকল ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট একযোগে কাজ করছে, যা হামলার তীব্রতা ও বিস্তৃতির প্রতিফলন।

এই প্রেক্ষাপটে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরানের সাম্প্রতিক আক্রমণগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বোঝা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলিতে দেখা গেছে, ইসরায়েল ও তার মিত্রদের হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, এমনকি উচ্চপর্যায়ের নেতাদেরও হত্যা করা হয়েছে । এই বাস্তবতায় ইরানের পাল্টা আঘাতকে অনেকেই প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

দক্ষিণ ইসরায়েল এবং নেগেভ অঞ্চলে হামলা পৌঁছানোকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ এই অঞ্চলগুলো আগে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের গভীরতায় আঘাত হানা ইরানের সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি তার কৌশলগত বার্তারও প্রতিফলন, যা প্রতিপক্ষকে দেখাতে চায় যে যুদ্ধের ভৌগোলিক সীমা আর আগের মতো সীমাবদ্ধ নেই।

হতাহতের ঘটনাও পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে। মধ্য ইসরায়েলের মোশাভ আদানিম এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এক বিদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে পশ্চিম তীরের হেবরন অঞ্চলে ধ্বংসাবশেষ পড়ে ফিলিস্তিনি নারীদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এই বাস্তবতা দেখায়, যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বেসামরিক জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

এদিকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক দেশগুলোও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরাকসহ কয়েকটি দেশ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলাকে অযৌক্তিক উত্তেজনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে সংঘাত কেবল দুই পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে ।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন অভিজ্ঞ নেতা ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধকে সামরিক সমাধানের মাধ্যমে শেষ করা সম্ভব নয়। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে আরও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন অতীতের মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতগুলোতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে তারা জোর দিচ্ছেন যে, যুদ্ধের সূচনা এবং তার বিস্তারকে বোঝার জন্য বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ইরান কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই, বরং কৌশলগতভাবে এমন এক অবস্থান নিয়েছে যেখানে সীমিত কিন্তু ধারাবাহিক আঘাতের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের নিরাপত্তা ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি একটি হিসাবকৃত প্রতিরোধ কৌশল, যেখানে প্রতিটি আঘাত শুধু সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বার্তাও বহন করে। এই বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ক্রমশ এক দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল ক্ষমতার লড়াইয়ে পরিণত হচ্ছে, যেখানে শক্তির পাশাপাশি স্থায়িত্ব ও কৌশলই হয়ে উঠছে নির্ধারক উপাদান।

পাঠকের মতামত: