২৯ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১৫:১৯:৫৫
২৯ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের মাঝামাঝি লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আংশিক ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বুধবারের বাজারে দরবৃদ্ধি হয়েছে ১৭৯টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের, বিপরীতে দর কমেছে ১৬৭টির। অপরিবর্তিত ছিল ৫১টি প্রতিষ্ঠানের দর। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা ওঠানামার মধ্যেও নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগকারীদের নতুন আগ্রহ তৈরি হওয়ায় বাজারে ভারসাম্যপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার মোট ৩৯৭টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৮৮টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, যদিও ৯৯টির দর কমেছে। অন্যদিকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে উত্থান ছিল তুলনামূলক শক্তিশালী। এই ক্যাটাগরিতে ৪৪টি কোম্পানির দর বেড়েছে, যেখানে দর কমেছে ৩২টির। বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের শেয়ার এবং মাঝারি মূলধনী কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বাড়ছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। এ খাতের ১৪টি ফান্ডের ইউনিটদর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে মাত্র ৪টির। করপোরেট বন্ড খাতেও উত্থান ছিল লক্ষণীয়। তবে সরকারি সিকিউরিটিজ বা জি-সেক খাতে দরপতনের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৮৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকায়। মোট শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৭৯ লাখের বেশি। বাজারে মোট ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজারের বেশি। আগের দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমলেও নির্বাচিত কিছু শেয়ারে বড় অঙ্কের লেনদেন বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ব্লক মার্কেটে দিনজুড়ে সবচেয়ে বড় লেনদেন হয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে। কোম্পানিটির প্রায় ৮৫ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এছাড়া এনসিসি ব্যাংকের ব্লক মার্কেটে ৬১ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে, যা দিনটির অন্যতম আলোচিত ঘটনা। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্রয়চাপের কারণেই এসব কোম্পানিতে উচ্চমূল্যের লেনদেন হয়েছে।

রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সেও উল্লেখযোগ্য ব্লক ট্রেড হয়েছে। কোম্পানিটির প্রায় ৪৯ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। একইসঙ্গে ফাইন ফুডস, জিপি, এপেক্স স্পিনিং ও ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারেও বড় লেনদেন দেখা গেছে। ব্লক মার্কেটে মোট ৩৩টি কোম্পানির প্রায় ৪০২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

বাজার মূলধনের দিক থেকেও সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ডিএসইতে মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ইকুইটি সিকিউরিটিজের বাজারমূল্য ৩ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকার ওপরে রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ডিএসইতে মিশ্র প্রবণতা থাকলেও কিছু মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ার এবং আর্থিক ও বীমা খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক নীতির স্বচ্ছতা এবং ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাজারে আরও ইতিবাচক গতি ফিরতে পারে।

তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, স্বল্পমেয়াদি দরবৃদ্ধি দেখে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ না করে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, লভ্যাংশ ইতিহাস এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

-রাফসান


২৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১৫:০৮:২৭
২৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবারের লেনদেনে বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে বেশ কয়েকটি ব্যাংক, আর্থিক ও বীমা খাতের শেয়ার। বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ এবং মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় দিনের শেষে লুজার তালিকায় উঠে এসেছে বিভিন্ন খাতের ১০টি কোম্পানি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্থানের পর কিছু বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নেওয়ায় বাজারে নেতিবাচক চাপ তৈরি হয়েছে।

দিনের লেনদেন শেষে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে বিআইএফসি। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ২০ পয়সায়। দিনের শুরু থেকেই শেয়ারটিতে বিক্রির চাপ ছিল উল্লেখযোগ্য। একইসঙ্গে আইএসএন লিমিটেডের শেয়ারদর কমেছে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। কোম্পানিটির দর নেমে এসেছে ৬৩ টাকা ৫০ পয়সায়।

ব্যাংকিং খাতেও ছিল বড় ধরনের চাপ। প্রাইম ব্যাংকের শেয়ারদর ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ২৯ টাকা ৮০ পয়সায় নেমেছে। ব্যাংক এশিয়ার শেয়ারদরও ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে। এছাড়া সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এসবিএসি ব্যাংক) দরপতন হয়েছে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি ও স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং প্রবণতা এ ধরনের পতনের পেছনে ভূমিকা রাখছে।

টেক্সটাইল ও শিল্প খাতেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। আল-হাজ টেক্সটাইলসের শেয়ারদর ৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে ৯৮ টাকা ২০ পয়সায় নেমে এসেছে। জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেসের (জেএমআইএসএমডিএল) শেয়ারও ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ হারিয়েছে। একইসঙ্গে সাইফ পাওয়ারটেকের দর কমেছে ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

বীমা খাতের শেয়ারগুলোর মধ্যেও দুর্বলতা লক্ষ্য করা গেছে। ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ কমে ৮২ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে আসে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বীমা খাতে অতিরিক্ত উত্থানের পর স্বাভাবিক মূল্য সমন্বয়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে ফারইস্ট ফাইন্যান্সের শেয়ারদরও ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমেছে। আর্থিক খাতের দুর্বল কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা অব্যাহত থাকায় এ খাতের শেয়ারগুলোতে বিক্রির চাপ বেশি দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।

-রাফসান


২৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১৪:১৫:৩৮
২৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবারের লেনদেনে বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান, খাদ্য, টেক্সটাইল, অটোমোবাইল ও বীমা খাতের একাধিক কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহের কারণে দিনের গেইনার তালিকায় উঠে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত কিছু শেয়ারে নতুন বিনিয়োগ প্রবাহ এবং স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং কার্যক্রমের প্রভাবেই এ উত্থান হয়েছে।

দিনের সবচেয়ে বড় গেইনার ছিল ইউনাইটেড ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে ১৩ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছেছে। লেনদেন চলাকালে শেয়ারটির দর ১৩ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত ওঠে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর্থিক খাতের কিছু কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের নতুন আগ্রহ তৈরি হওয়ায় ইউনাইটেড ফাইন্যান্সে ক্রয়চাপ বেড়েছে।

খাদ্য খাতের কোম্পানি বিডি থাই ফুডের শেয়ারদরও ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ২০ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। দিনজুড়ে শেয়ারটিতে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। একইসঙ্গে টেক্সটাইল খাতের এসকোয়ার নিট কম্পোজিটসের শেয়ার ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ২১ টাকা ৭০ পয়সায় উঠে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সটাইল খাতে রপ্তানি প্রত্যাশা ও মৌলভিত্তিক আগ্রহের কারণে এ খাতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও উত্থান ছিল লক্ষণীয়। আইসিবিইপিএমএফ১এস১ ফান্ডের ইউনিটদর ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে প্রাইম ওয়ান আইসিবিএ মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটদর প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্পমূল্যের কিছু ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের ট্রেডিং আগ্রহ বাড়ছে।

শিল্প ও অবকাঠামো খাতের শেয়ারগুলোর মধ্যেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। মির আখতার হোসেনের শেয়ারদর ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৩৫ টাকায় পৌঁছেছে। একইসঙ্গে রানার অটোমোবাইলসের শেয়ার ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ৪০ টাকা ১০ পয়সায় উঠে এসেছে। অটোমোবাইল ও অবকাঠামো খাতে সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের প্রত্যাশায় এ খাতের কিছু শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সাইহাম কটন মিলসের শেয়ারদর ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকিং খাতে দরবৃদ্ধির এ প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আস্থার আংশিক প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।

বীমা খাতের জনপ্রিয় লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদরও ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ৫৫ টাকা ৭০ পয়সায় উঠেছে। দিনজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ারে সক্রিয় লেনদেন ছিল। বীমা খাতের কিছু কোম্পানিতে সাম্প্রতিক সময়ের ইতিবাচক প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।

-রাফসান


২৮ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৫:২৭:২২
২৮ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের পঞ্চম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাপক দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) বাজারে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা ও সতর্ক প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। দিনশেষে দর বেড়েছে মাত্র ৯০টি প্রতিষ্ঠানের, বিপরীতে কমেছে ২৫১টির শেয়ারদর। অপরিবর্তিত ছিল ৫৪টি কোম্পানির শেয়ার।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এদিন মোট ৩৯৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ২০৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৬টির দর কমেছে। একইভাবে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৮১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬০টির শেয়ারদর কমেছে। সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গেছে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে, যেখানে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৫টির দরপতন হয়েছে।

বাজারে নেতিবাচক ধারা থাকলেও লেনদেনের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। দিনশেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকায়। মোট শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ৬৫ লাখের বেশি। লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৮৩৯টি ট্রেডে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানি এবং স্বল্পদামের শেয়ারগুলোতে ব্যাপক দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া আর্থিক খাত, মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং কিছু শিল্পখাতেও নেতিবাচক প্রবণতা ছিল স্পষ্ট।

এদিন মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতেও চাপ ছিল লক্ষণীয়। ৩৪টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র ১টির দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৬টির। একইভাবে করপোরেট বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজ খাতেও দরপতনের প্রভাব দেখা গেছে।

অন্যদিকে ব্লক মার্কেটে বেশ কিছু কোম্পানির বড় অঙ্কের লেনদেন বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ারে। কোম্পানিটির ৩৪টি ব্লক ট্রেডে প্রায় ১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এছাড়া রানার অটোমোবাইলসের প্রায় ৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, ফাইন ফুডসের ৪ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং জিকিউ বলপেনের প্রায় ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

ব্লক মার্কেটে মোট ৪৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এসব কোম্পানির মোট ৫৭ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭টি শেয়ার হাতবদলের মাধ্যমে প্রায় ৩৭ কোটি ১৯ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।

দিনের বাজারে এনসিসি ব্যাংক, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, অ্যাপেক্স ট্যানারি, সাউথইস্ট ব্যাংক ও অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের মতো কিছু কোম্পানির শেয়ারদর বাড়লেও সামগ্রিক বাজারচিত্র ছিল নেতিবাচক। বাজার মূলধনেও সামান্য চাপ দেখা গেছে। দিনশেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮ লাখ ৫১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার জরুরি। একইসঙ্গে গুজবনির্ভর বিনিয়োগ থেকে দূরে থেকে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, আয় প্রবৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনায় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

-রাফসান


২৮ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৫:১৫:৪৪
২৮ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরপতনের শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ফার্মাসিউটিক্যাল, ফিড ও শিল্পখাতের একাধিক কোম্পানি। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) লেনদেন শেষে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের শেয়ার।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারদর ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ২ টাকা ১০ পয়সায় নেমে এসেছে। আগের কার্যদিবসে শেয়ারটির সমাপনী দর ছিল ২ টাকা ৩০ পয়সা। দিনের লেনদেনে সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ২ টাকা ৪০ পয়সা, আর সর্বনিম্ন দর ছিল ২ টাকা ১০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ফেয়ারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের শেয়ারদর কমেছে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার ২ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে ২ টাকা ২০ পয়সায় নেমে আসে। একইভাবে এফএএস ফাইন্যান্সের শেয়ারদরও ৮ শতাংশ কমে ২ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আর্থিক খাতের কিছু দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিতে বিক্রির চাপ বাড়ায় এসব শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। বিশেষ করে কমদামের শেয়ারগুলোতে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের দ্রুত মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।

লুজার তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে আইএসএন লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ কমে ৬৮ টাকা ৫০ পয়সায় নেমেছে। এছাড়া এইচএফএলের দর কমেছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে ১৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল ও কৃষিভিত্তিক খাতের শেয়ারেও দরপতন দেখা গেছে। অ্যাকমি পেস্টিসাইডসের শেয়ারদর কমেছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ। একই দিনে ফার কেমিক্যালের দর কমেছে ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং আমান ফিডের শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ।

এছাড়া বিআইএফসি ও ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ডও শীর্ষ লুজার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা ও স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং চাপের কারণে কিছু খাতে নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

-রাফসান


২৮ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৫:১১:০৩
২৮ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দরবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় ব্যাংক, বীমা, ট্যানারি ও টেক্সটাইল খাতের একাধিক কোম্পানি উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) লেনদেন শেষে সবচেয়ে বেশি দরবৃদ্ধি হয়েছে এনসিসি ব্যাংকের শেয়ারে। কোম্পানিটির শেয়ারদর ২০ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে ১৭ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

আগের কার্যদিবসে এনসিসি ব্যাংকের সমাপনী দর ছিল ১৪ টাকা ৩০ পয়সা। দিনের লেনদেনে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ওঠে ১৭ টাকা ৭০ পয়সায় এবং সর্বনিম্ন দর ছিল ১৫ টাকা ২০ পয়সা। ব্যাংক খাতের এই শেয়ারে বড় উত্থান বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে ৮৯ টাকা ৩০ পয়সায় পৌঁছেছে। আগের দিনও বীমা খাতের এই কোম্পানিটি গেইনার তালিকায় ছিল, ফলে টানা উত্থানে এটি বাজারে আলোচনায় এসেছে।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা এপেক্স ট্যানারির শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার ৯১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ৯৯ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একই দিনে এপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ারও ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ৩৬৯ টাকায় উঠেছে।

ব্যাংক খাতে এনসিসি ব্যাংকের পাশাপাশি সাউথইস্ট ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এবং ঢাকা ব্যাংকও উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখিয়েছে। সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ারদর ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ১০ টাকা ৬০ পয়সা হয়েছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ঢাকা ব্যাংকের দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ।

শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদরও দিনের গেইনার তালিকায় শক্ত অবস্থান নিয়েছে। কোম্পানিটির দর ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে ১৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সমতা লেদার ও ইনডেক্স অ্যাগ্রোও উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধির মাধ্যমে শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক ও বীমা খাতে নতুন করে ক্রয়চাপ তৈরি হওয়ায় গেইনার তালিকায় এসব খাতের উপস্থিতি বেড়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক দর সংশোধনের পর কিছু বিনিয়োগকারী তুলনামূলক কমদামের শেয়ারে অবস্থান নিচ্ছেন।

-রাফসান


২৭ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৫:০৬:০৩
২৭ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে Dhaka Stock Exchange-এ বড় ধরনের বিক্রিচাপের মুখে পড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) লেনদেন শেষে দেখা যায়, বাজারে দরপতনের তালিকায় রয়েছে ২২৩টি কোম্পানি, বিপরীতে দর বেড়েছে মাত্র ১০২টির। অপরিবর্তিত ছিল ৬৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। এতে দিনজুড়ে বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, এদিন মোট ৩৯২টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়। লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৯৫৬ কোটি টাকায়। মোট শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৫ লাখের বেশি। যদিও লেনদেনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে সক্রিয় ছিল, তবুও বিক্রির চাপ বাজারের সামগ্রিক মনোভাবকে দুর্বল করে দেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েকদিনের দরবৃদ্ধির পর অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে দ্রুত উত্থানের পর সংশোধনী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবেই বাজারে এক ধরনের একমুখী বিক্রিচাপ দেখা যায়।

এদিন ‘এ’ ক্যাটাগরির ২০৪টি কোম্পানির মধ্যে ১০৩টির দর কমেছে। অন্যদিকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতেও পতনের সংখ্যা ছিল বেশি। ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১০৭টি কোম্পানির মধ্যে ৫৯টির শেয়ারদর কমেছে, যা দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্লক মার্কেটেও বেশ সক্রিয় লেনদেন হয়েছে। মোট ৩১টি কোম্পানির প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকার ব্লক লেনদেন সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় লেনদেন হয়েছে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে। কোম্পানিটির ১ কোটি শেয়ার ব্লক মার্কেটে হাতবদল হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দিনের সবচেয়ে আলোচিত ব্লক ট্রেডগুলোর একটি।

এছাড়া ডমিনেজ স্টিল, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, ড্যাফোডিল কম্পিউটার, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং এপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য ব্লক লেনদেন হয়েছে। বিশেষ করে বীমা ও টেক্সটাইল খাতে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।

দিনের বাজারে ব্যাংক, বীমা, টেক্সটাইল ও আর্থিক খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যায়। যদিও কিছু কোম্পানির শেয়ারে ক্রয় আগ্রহ ছিল, তবে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে পারেনি। বাজার মূলধনও কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি ও স্বল্পমেয়াদি লেনদেন প্রবণতা বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। তারা দীর্ঘমেয়াদি ও মৌলভিত্তিক বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন তারা।

-রাফসান


২৭ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৫:০২:৫৪
২৭ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে Dhaka Stock Exchange-এ বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে তীব্র বিক্রিচাপ দেখা গেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) লেনদেন শেষে প্রকাশিত তালিকায় সিমেন্ট, টেক্সটাইল, খাদ্য ও শিল্প খাতের একাধিক কোম্পানি দরপতনের শীর্ষে উঠে এসেছে।

দিনের সবচেয়ে বেশি দর হারানো কোম্পানি ছিল মেঘনা সিমেন্ট। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ৩১ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে আসে। আগের কার্যদিবসে শেয়ারটির সমাপনী মূল্য ছিল ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা। দিনের লেনদেনে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৩১ টাকা ১০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইস্টার্ন কেবলসের শেয়ারদর কমেছে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার ১৩২ টাকা ৭০ পয়সা থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৭০ পয়সায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির পর কিছু কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়ায় দরপতন ত্বরান্বিত হয়েছে।

টপ লুজার তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে টুংহাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে। একইসঙ্গে জেএমআইএসএমডিএল, এইচএফএল ও এপেক্স ফুডসের শেয়ারেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।

এপেক্স ফুডসের শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অন্যদিকে এপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ার ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ কমে ৩৩৯ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে এসেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক কয়েকদিনে এই শেয়ারগুলোর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পর স্বাভাবিক সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মির আখতার, বেঙ্গল উইন্ডটেক এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ারেও বিক্রির চাপ ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে মাঝারি মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারে দিনভর অস্থিরতা দেখা গেছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা সতর্ক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

-রাফসান


২৭ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৪:৫৮:২৭
২৭ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে Dhaka Stock Exchange-এ বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে শক্তিশালী দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) লেনদেনের শেষভাগে বীমা, মিউচুয়াল ফান্ড ও বিদ্যুৎ খাতের কিছু কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

দিনের শীর্ষ গেইনার তালিকায় উঠে এসেছে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ টাকা ২০ পয়সায়। আগের কার্যদিবসে শেয়ারটির সমাপনী মূল্য ছিল ৭৩ টাকা ৯০ পয়সা। দিনের লেনদেনে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ৮১ টাকা ২০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ৭৩ টাকা ২০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিজিআইসি’র শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার ৩৫ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৯ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছেছে। বীমা খাতের একাধিক কোম্পানিতে একযোগে দরবৃদ্ধি হওয়ায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই খাতে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ প্রবণতা আবারও সক্রিয় হয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির ইউনিটদর ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে ৩ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে গ্রিন ডেল্টা, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে।

গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বেড়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ৬ দশমিক ১২ শতাংশ এবং প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নেয়। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বীমা খাতে পুনরায় লেনদেন বাড়া বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এছাড়া ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, এসপিসিএল, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ও ডরিন পাওয়ার কোম্পানির শেয়ারও দিনজুড়ে ইতিবাচক ধারায় ছিল। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সক্রিয়তা দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

-রাফসান


২৬ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১৪:৫৬:১৪
২৬ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মিশ্র প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। দিনের শুরুতে বাজারে ইতিবাচক ধারা থাকলেও শেষভাগে বিক্রির চাপ কিছুটা বাড়ে। ফলে একদিকে যেমন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, অন্যদিকে বড় অংশের শেয়ার দরপতনের মুখে পড়েছে। তবে সার্বিক লেনদেনের পরিমাণ ও বাজারের সক্রিয়তা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনও বজায় থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার মোট ৩৯১টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৭২টির দর কমেছে এবং ৬২টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এখনও স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা শক্তিশালী রয়েছে। ফলে কিছু শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়লেও অন্যদিকে বিক্রির চাপও সমানভাবে সক্রিয় রয়েছে।

‘এ’ ক্যাটাগরির মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এই ক্যাটাগরিতে ৯৯টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, যেখানে ৭৫টির দর কমেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা এখন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও ভালো আর্থিক ভিত্তির কোম্পানিগুলোর প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

অন্যদিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এই ক্যাটাগরির ৫৯টি কোম্পানির দর কমেছে, যেখানে বেড়েছে মাত্র ২৫টির। দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা এবং দুর্বল আর্থিক ভিত্তির কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগকারীদের অনীহা এখনও স্পষ্ট।

লেনদেনের দিক থেকেও দিনটি ছিল বেশ সক্রিয়। ডিএসইতে মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯৮টি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৩১ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৮২ কোটি ৪২ লাখ টাকায়। সাম্প্রতিক কার্যদিবসগুলোর তুলনায় এটি শক্তিশালী লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেনের এই উচ্চমাত্রা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। যদিও বাজারে এখনও পূর্ণাঙ্গ ইতিবাচক ধারার সৃষ্টি হয়নি, তবে নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগের চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যাংক, বীমা, টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস ও ভোগ্যপণ্য খাতে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রবিবার ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য সক্রিয়তা দেখা গেছে। মোট ৩৯টি কোম্পানির প্রায় ৯৩ লাখ ২৪ হাজার শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ব্লক মার্কেটের বড় অঙ্কের এই লেনদেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল অ্যাপেক্স স্পিনিং। কোম্পানিটির প্রায় ৫৩ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এছাড়া সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের প্রায় ২১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ওয়ালটন হাইটেক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বিএনআইসিএল, লাভেলো, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং টেকনোড্রাগের শেয়ারেও বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রায় ৬৮ লাখ শেয়ার ব্লক মার্কেটে হাতবদল হওয়ায় বাজারে বিশেষ আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে লাভেলো ও জিকিউ বলপেনের মতো ভোক্তা ও উৎপাদন খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা চোখে পড়েছে।

দিনশেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৭০৩ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ইকুইটি বা শেয়ারভিত্তিক বাজারের মূলধন ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় মূলধনী কিছু কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি বাজার মূলধন বাড়াতে সহায়তা করেছে।

বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমানে শেয়ারবাজারে খাতভিত্তিক রোটেশন প্রবণতা স্পষ্ট। কখনো বীমা খাতে ক্রয়চাপ বাড়ছে, আবার কখনো ব্যাংক বা শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। এই প্রবণতা বাজারে স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি বাজারের স্বাভাবিক গতিশীলতার অংশ বলে মনে করছেন তারা।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি দরবৃদ্ধি দেখে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তারা বিনিয়োগকারীদের কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, মুনাফা, লভ্যাংশ, ঋণ পরিস্থিতি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: