সোনার বাজারে খুশির আমেজ; বাজুসের নতুন মূল্যে বড় ছাড়

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১০:২৩:৪৯
সোনার বাজারে খুশির আমেজ; বাজুসের নতুন মূল্যে বড় ছাড়
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বিশ্ববাজারে দামের অস্থিরতা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি (বিশুদ্ধ) স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন দাম আজ রবিবারও (২৬ এপ্রিল) বহাল থাকছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২২ ক্যারেটই নয়, অন্য মানের স্বর্ণের দামও কমেছে। বর্তমানে প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণ ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার দাম ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মানভেদে ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৬৬৬ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৫৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস, যার মধ্যে ২৪ বার দাম কমানো হয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল দাম বাড়লেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই কমানোর সিদ্ধান্তে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

/আশিক


যুদ্ধ উত্তেজনায় স্বর্ণের বাজারে ধস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ১০:১১:২০
যুদ্ধ উত্তেজনায় স্বর্ণের বাজারে ধস
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের বাজারেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে।

বুধবার আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে স্পট গোল্ডের মূল্য এক ধাক্কায় প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৭ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করে, যা মার্চের শেষ সপ্তাহের পর সবচেয়ে নিম্নস্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার বাজারেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা স্বর্ণের জন্য স্বাভাবিকভাবে ইতিবাচক হওয়ার কথা থাকলেও এবার বাজারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডলারের উত্থান এবং সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশা।

বিশ্ববাজারে ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনার ব্যয় বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ পুনরায় জোরালো হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ হয়তো প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের নীতি বজায় রাখতে পারে। এই সম্ভাবনাই বর্তমানে স্বর্ণবাজারে সবচেয়ে বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

আর্থিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণ সাধারণত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হলেও সুদের হার বৃদ্ধি পেলে সুদবিহীন এই ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়। ফলে স্বর্ণের পরিবর্তে উচ্চ মুনাফা প্রদানকারী বন্ড ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা।

বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করা হয়েছে। এর জেরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি বাজারে আরও বড় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

এদিকে বাজারে ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণ নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। আর্থিক বাজারের তথ্য বিশ্লেষণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে এখন বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে স্বর্ণের ওপর বিক্রির চাপ আরও বাড়ছে।

শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রূপার দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পাশাপাশি প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারেও দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। শিল্পখাতে ব্যবহৃত এসব ধাতুর চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীরগতির আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সিদ্ধান্ত স্বর্ণবাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। যদি ভূরাজনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়, তাহলে স্বর্ণ আবারও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে চাহিদা ফিরে পেতে পারে। তবে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও উচ্চ সুদের পরিবেশ অব্যাহত থাকলে মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারে চাপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন অব্যাহত থাকলে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের মূল্য পুনরায় সমন্বয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিনিয়োগকারী ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা এখন বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখছেন।

-রাফসান


সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ০৮:৩৪:৪৮
সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয়ের পর ভালো মানের সোনার দাম এখনও ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার নিচেই রয়েছে। ঈদুল আজহার পর ধারাবাহিক মূল্যহ্রাসের ফলে গয়না ক্রেতা, বিনিয়োগকারী এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা, যা দেশের বাজারে সবচেয়ে মানসম্পন্ন স্বর্ণ হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে ৬ জুন সকাল ১০টা থেকে এই দর কার্যকর করেছে। নতুন কোনো মূল্য ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দরেই সোনা ও রুপা বিক্রি হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বাজুসের নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বর্তমানে ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনা কিনতে গুনতে হবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা। তুলনামূলক কম বিশুদ্ধতার সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকায়।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা সোনার মূল্য পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি দেশের স্বর্ণবাজারে প্রতিফলিত হয়। এ কারণে সময়ে সময়েই বাজুস মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

শুধু সোনা নয়, রুপার বাজারেও নির্ধারিত হয়েছে নতুন দর। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের রুপা কিনতে খরচ হবে ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভরি ৩ হাজার ২০৮ টাকায়।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং বিনিয়োগের জন্য সোনার চাহিদা বাংলাদেশে সবসময়ই শক্তিশালী। মূল্য কিছুটা কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা থাকায় ভবিষ্যতে দাম আবার বাড়তে পারে। ফলে অনেক ক্রেতাই বর্তমান মূল্যকে তুলনামূলক সুবিধাজনক মনে করে কেনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

-রাফসান


কম্পিউটার ও স্বর্ণালঙ্কারে সুখবর: বাজেটে দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ১৮:০৬:৩১
কম্পিউটার ও স্বর্ণালঙ্কারে সুখবর: বাজেটে দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সাধারণ গৃহিণী, মধ্যবিত্ত ও প্রযুক্তি খাতের ব্যবহারকারীদের জন্য একঝাঁক স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে নতুন বাজেট। আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট উত্থাপন করা হতে পারে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট পেশ করবেন।

বাজেটটি পাস হলে তা হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের ৫৫তম এবং বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। একই সাথে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও প্রথম বাজেট। ডলার সংকট ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির এই কঠিন সময়ে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেটে রান্নাঘরের নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী থেকে শুরু করে কম্পিউটার ও চিকিৎসা উপকরণের দাম কমানোর জন্য বড় ধরনের শুল্ক ও করছাড়ের মেগা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট বাজেট সূত্র অনুযায়ী, এবারের বাজেটে সবচেয়ে বড় সুখবর পাচ্ছেন দেশের গৃহিণীরা। রান্নাঘরের কাজ সহজ করার ইলেকট্রনিক কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সের ওপর বিদ্যমান করের বোঝা অনেকটাই কমানো হচ্ছে। ফলে আসন্ন নতুন অর্থবছর থেকে বাজারে ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলি, রাইস কুকার, মাল্টি কুকার, প্রেসার কুকার এবং সমজাতীয় ইলেকট্রিক কুকার, ইনফ্রারেড কুকার ও ইন্ডাকশন কুকারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে।

এ ছাড়া মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্য যেমন—কাপড় ইস্ত্রি করার আয়রন, নিরাপদ পানির জন্য ওয়াটার পিউরিফায়ার এবং শীতকালীন ব্যবহারের ওয়াটার হিটার বা গিজারের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিচেন পণ্যের পাশাপাশি বাজেটে বড় ধরনের সুখবর পাচ্ছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা। দেশের তরুণ প্রজন্মকে ফ্রিল্যান্সিং ও প্রযুক্তিতে উদ্বুদ্ধ করতে আসন্ন বাজেটে কম্পিউটার, প্রিন্টার এবং মনিটরের ওপর আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ফলে ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর দাম বেশ কমে আসবে।

স্বাস্থ্য ও মানবিক দিক বিবেচনা করে এবারের বাজেটে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) ব্যক্তিদের দৈনন্দিন ব্যবহারের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ১৫টি বিশেষ পণ্যের ওপর থেকে সব ধরনের কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার বা হ্রাস করার মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে চিকিৎসা ব্যয় কমাতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসা ‘কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার’-এর ওপর শুল্কছাড় দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে দেশের লাখ লাখ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত কিডনি রোগীর চিকিৎস খরচ অনেকাংশে কমে আসবে।

সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য আরেকটি বড় চমক থাকছে স্বর্ণালঙ্কারের বাজারে। দেশে বৈধ উপায়ে স্বর্ণের ব্যবসা চাঙ্গা করতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে আসন্ন বাজেটে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির ওপর বিদ্যমান উৎসে কর একলাফে ব্যাপক হারে কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানের ৫ শতাংশ উৎসে করের হার ৮ দশমাংশ কমিয়ে মাত্র দশমিক ৫ (০.৫) শতাংশ করার চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে বৈধ পথে সোনা আমদানির পরিমাণ বাড়বে এবং বাজারে আকর্ষণীয় স্বর্ণালঙ্কারের দাম সাধারণ ক্রেতাদের জন্য অনেকটাই সাশ্রয়ী হবে। দেশীয় উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের স্বস্তি—এই দুই মূল মন্ত্রকে সামনে রেখেই অর্থমন্ত্রী তাঁর প্রথম বাজেটের এই শুল্কছাড়ের খসড়া তৈরি করেছেন।

/আশিক


প্রত্যেক নাগরিককে বিবেচনায় রেখে নতুন বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ১৭:৪৪:৪১
প্রত্যেক নাগরিককে বিবেচনায় রেখে নতুন বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও স্বস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) দুপুরে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, "আমাদের সীমিত সম্পদের মধ্যেও দেশের প্রত্যেক নাগরিককে বিবেচনায় রাখা হয়েছে, কাউকে বাজেটের বাইরে রাখা হয়নি। সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেই এবারের বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।"

বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সংকট লাগামহীন মূল্যস্ফীতি বা বাজারের আগুন কীভাবে সামলানো হচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন যে সম্পদ সীমিত, তবে সেই সীমাবদ্ধতার মাঝেই বাজেটে সবার সুখ-দুঃখের কথা এবং মধ্য ও নিম্নবিত্তের স্বস্তির বিষয়টি মাথায় রাখা হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী পরশু বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় ও বহুল প্রতীক্ষিত এই প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করা হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে একদিকে যেমন দেশীয় শিল্প ও উৎপাদন খাতকে চাঙ্গা করতে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে ব্যাপক করছাড় (ট্যাক্স হলিডে) ও ভ্যাট অব্যাহতির মেগা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; অপরদিকে স্থানীয় শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে টিকিয়ে রাখতে এবং ডলার সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু আমদানিনির্ভর ও বিলাসবহুল পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক-কর বাড়ানোর কঠোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর ফলে নতুন অর্থবছরে বাজারে বেশ কিছু আমদানিকৃত পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

এনবিআরের নীতি নির্ধারণী সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, সরকারের নতুন এই করনীতির মূল লক্ষ্যই হলো দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী সামগ্রীর আমদানি নিরুৎসাহিত করে রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো।

এই কারণে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক অপরিবর্তিত বা হ্রাস করা হলেও, কয়েকটি বিলাসবহুল আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন করে ভ্যাট, কাস্টমস ডিউটি ও সম্পূরক শুল্ক আরোপ বা বিদ্যমান করের হার একলাফে অনেক বাড়ানোর চূড়ান্ত খসড়া করা হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার সংসদে উন্মোচন করা হবে।

/আশিক


ডলারের নতুন দর কত? আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ১১:২৪:৫৬
ডলারের নতুন দর কত? আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারের পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি এবং প্রবাসী আয় ব্যবস্থাপনায় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিও এখন বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আর্থিক প্রবাহের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত হওয়ায় প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময় হার ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন ডলার এখনও সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং রেমিট্যান্স লেনদেনে ডলারের এই মূল্য সরাসরি প্রভাব ফেলে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরোর দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪১ টাকা ৫৭ পয়সা। যুক্তরাজ্যের পাউন্ড স্টার্লিং আরও উচ্চ অবস্থানে রয়েছে, যার বিনিময় হার ১৬৩ টাকা ৭২ পয়সা।

প্রতিবেশী ভারতের রুপির মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২৮ পয়সা, যা দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্য ও ভ্রমণ ব্যয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি প্রবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার নির্ধারিত হয়েছে ৩২ টাকা ৬৭ পয়সা। একইভাবে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মুদ্রা কুয়েতি দিনারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৯৬ টাকা ৭৭ পয়সা, যা তালিকার সর্বোচ্চ বিনিময় হারগুলোর একটি।

এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত লেনদেন হচ্ছে ৩০ টাকা ১৮ পয়সা এবং সিঙ্গাপুরি ডলার বিনিময় হচ্ছে ৯৫ টাকা ২৫ পয়সা দরে।

অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রা অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৬ টাকা ৪৭ পয়সা।

মঙ্গলবারের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

মার্কিন ডলার ১২২.৭৫ টাকা

ইউরো ১৪১.৫৭ টাকা

পাউন্ড স্টার্লিং ১৬৩.৭২ টাকা

ভারতীয় রুপি ১.২৮ টাকা

মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৩০.১৮ টাকা

সিঙ্গাপুরি ডলার ৯৫.২৫ টাকা

সৌদি রিয়াল ৩২.৬৭ টাকা

কুয়েতি দিনার ৩৯৬.৭৭ টাকা

অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৬.৪৭ টাকা

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক সুদের হার, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর নির্ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার দর নিয়মিত ওঠানামা করে। ফলে ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ হাউস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেনে দৈনিক ভিত্তিতে কিছু পার্থক্য দেখা যেতে পারে।

-রাফসান


সোনার বড় মূল্যহ্রাস, জানুন আজকের দর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ০৮:৩৪:২৮
সোনার বড় মূল্যহ্রাস, জানুন আজকের দর
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহার পর দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যহ্রাস দেখা গেছে। স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় সোনার মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এক ধাক্কায় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়েছে।

বাজুসের সর্বশেষ ঘোষণার পর বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা। গত শনিবার সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে এবং নতুন কোনো পরিবর্তন না আসায় মঙ্গলবারও একই দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ায় বাজার পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে স্বর্ণ ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা। একই সময়ে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরিপ্রতি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের পরপরই ধারাবাহিকভাবে সোনার দাম কমার পেছনে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারের প্রভাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ওঠানামা এবং দেশীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় বাজারে মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, এটি ঈদের পর স্বর্ণের দামে দ্বিতীয় বড় সংশোধন। এর আগে ২ জুন বাজুস প্রথম দফায় মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তখন ২১ ক্যারেটের সোনার ভরিপ্রতি মূল্য ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।

সর্বশেষ দুই দফা মূল্যহ্রাসের ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম মোট ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা কমেছে। ফলে অলংকার ক্রেতা, বিনিয়োগকারী এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

-রাফসান


বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ১০:৩২:৪২
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
ছবি : সংগৃহীত

চলমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন ঘটেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর অবস্থানের আশঙ্কায় স্বর্ণের দাম কমলেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

আজ সোমবার (৮ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩১৩.১১ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে গত শুক্রবারও স্বর্ণের দাম একলাফে প্রায় ৩ শতাংশ কমে গত ২৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পাশাপাশি আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৩৬.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওয়ান্ডার (OANDA) জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কেলভিন ওং জানান, বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর বিষয়টিকে মাথায় রেখে হিসাব কষছেন। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন বা ইল্ড দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ও অনুরোধ উপেক্ষা করে আজ সোমবার পশ্চিম ও মধ্য ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি একলাফে ৩ ডলারের বেশি বেড়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বেথ হ্যাম্যাক জানিয়েছেন, মার্কিন শ্রমবাজার প্রায় পূর্ণ কর্মসংস্থানের অবস্থায় থাকলেও মূল্যস্ফীতি উচ্চ থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ (ডিসেম্বরের মধ্যে) ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৭২ শতাংশ। উচ্চ সুদের হারের এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো মূল্যবান ধাতুর বাজারে; আজ স্পট সিলভারের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭.৫৬ ডলার এবং প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১,৭৬৭.১৫ ডলারে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ১,২২৫.৬৬ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

/আশিক


বিবিএস-এর হালনাগাদ রিপোর্টে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চিত্র

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১৯:৪০:১৩
বিবিএস-এর হালনাগাদ রিপোর্টে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চিত্র
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতের পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় মে মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আজ রবিবার (৭ জুন) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মে মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত এপ্রিল মাসে ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। এর ফলে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকল।

বিবিএস-এর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ০ দশমিক ৩৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে এর চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করা হয়েছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে, যার পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সহজ কথায়, মে মাসের ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির অর্থ হলো—২০২৫ সালের মে মাসে দেশের সাধারণ মানুষ যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় কিনতে পেরেছেন, চলতি ২০২৬ সালের মে মাসে সেই একই পণ্য বা সেবা পেতে তাদের খরচ করতে হয়েছে ১০৯ টাকা ৪২ পয়সা। চলতি অর্থবছরের শুরুর দিকে টানা কয়েক মাস বৃদ্ধির পর গত ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ঘরে পৌঁছালেও মার্চে তা আবার ৮ শতাংশের ঘরে নেমেছিল; কিন্তু এপ্রিল ও মে মাসে তা আবারও টানা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

মূল্যস্ফীতির খাতভিত্তিক হালনাগাদ তথ্য বলছে, মে মাসে খাদ্যপণ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই বড় ব্যবধানে দাম বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মধ্য ও নিম্নবিত্তের পকেটে। মে মাসে কেবল খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশে, যা আগের মাস এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

অন্যদিকে, পরিবহন, চিকিৎসা ও পোশাকসহ খাদ্যবহির্ভূত খাতের মূল্যস্ফীতি এপ্রিলের ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে মে মাসে আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে ঠেকেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দামের প্রভাবই এই মূল্যস্ফীতির মূল চালিকাশক্তি।

/আশিক


বিশ্ব বাজারের প্রভাবে দেশে দুই দফায় কমল স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১১:৩১:০১
বিশ্ব বাজারের প্রভাবে দেশে দুই দফায় কমল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের বাজারে দুই দফায় কমলো স্বর্ণের দাম। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গতকাল শনিবার (৬ জুন) সকালে বাজুসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাম সমন্বয়ের কথা জানানো হয়, যা ওইদিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। আজ রবিবারও (৭ জুন) দেশের বাজারে এই নতুন ও হ্রাসকৃত দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের খরচ পড়বে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫২(৫২) হাজার ৮৫৭ টাকা।

এর আগে, মাত্র চার দিন আগে গত ২ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এক দফা কমিয়েছিল বাজুস। সে সময় প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল। পর পর দুই দফায় বড় অঙ্কের দরপতনের বিষয়ে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) সরবরাহ বৃদ্ধি ও মূল্য হ্রাস পাওয়ার কারণেই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি ২০২৬ সালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ওঠানামার ক্ষেত্রে এক রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বছরের এই পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৭১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। এর মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে ৩৭ বার, আর দাম কমানো হয়েছে ৩৪ বার। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে স্থানীয় বাজারেও দামের এমন ঘন ঘন পরিবর্তন হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: