বাঁকাপথে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখলে সেই সূর্য আর উঠবে না: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৬ ১৮:৩৯:৫২
বাঁকাপথে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখলে সেই সূর্য আর উঠবে না: জামায়াত আমির
সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। ছবি: সমকাল

গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে সিলেটে সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে নাম উল্লেখ না করে বিএনপিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন একদল অপকর্ম করে চলে গেছে আর আরেক দল বাংলাদেশে অপকর্মের দায়িত্ব নিয়েছে। একদল চাঁদাবাজি করে জনগণের ব্যানার পুড়িয়েছে আর আরেক দল আবার তার চাইতে পেশিশক্তিতে চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন একদল দখলদার বনতে গিয়ে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এখন আরেক দল বেপরোয়া দখলদার হয়ে পড়েছে। কেউ বাঁকাপথে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বলব সেই সূর্য আর উঠবে না।

শনিবার বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এই বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন ৫৪ বছরে দেশের মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি কারণ বর্গীরা চলে যাওয়ার পর দেশের ভেতরে যারা ছিল তারা জনগণের সম্পদ ছোঁ মেরে নিয়ে চলে গেছে এবং দেশে দেশে বেগমপাড়া তৈরি করেছে। তিনি বলেন এভাবে অপকর্মের দায় নিয়ে ফ্যাসিস্টরা পালিয়েছে কিন্তু ফ্যাসিজমের কালো ছায়া বাংলাদেশ থেকে এখনো যায়নি।

রাজনীতিবিদদের আচরণের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন দেশবাসী আশা করেছিল অতীতে অপকর্মের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনীতিবিদরা নতুন রাজনীতি শুরু করবেন। কিন্তু তারা পুরোনো ধারায় পড়ে আছে। তারা সংস্কারে রাজি না এবং তারা সনদ বাস্তবায়নেও রাজি না। এমনকি গণভোটেও রাজি ছিল না কিন্তু পরে ধাক্কাইয়া রাজি করানো হয়। আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন তারা নির্বাচন বলে চিৎকার করে জনগণকে বেহুঁশ করে ফেলেছিল। এখন ভিন্ন সুরে কেউ কেউ বলছেন যা ভালো নয়। তিনি সতর্ক করেন যে বাংলাদেশের জনগণ আগামীতে তাদের লাল কার্ড দেখাবে। এই লাল কার্ড থেকে বাঁচতে গিয়ে নির্বাচনে প্রহসন করলে তাদের সব ষড়যন্ত্র ভণ্ডুল করে দেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন কেউ যদি আবার চিন্তা করে বাঁকাপথে ক্যু করে ক্ষমতায় যাবে তবে তাদের বলব বন্ধু সেই সূর্য আর উঠবে না বরং নতুন সূর্য কোরআন হাতে নিয়ে উঠবে।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন যারা ৫৩ বছর আমাদের জিম্মি করে রেখেছিল তারাই আজ নিরাপদ নয়। আজ চাঁদাবাজদের পক্ষে জনগণ নেই এবং তারা যতই পরিকল্পনা করুক জনগণ থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হবেই। আগামীতে ইসলামী শক্তির উত্থান ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন যারা জুলাই যুদ্ধে রক্ত দিয়েছে তাদের রক্তের ওপর নতুন করে ফ্যাসিজম জন্ম দেওয়া যাবে না। তিনি অভিযোগ করেন জুলাই সনদ ও গণভোটে যাদের আপত্তি তারাই লুটপাটের পথ খুঁজছে। কিন্তু এ দেশে ইসলাম ও দেশপ্রেমিক জনতা তা কখনো হতে দেবে না। খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে যোগ দেন।


বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহীদের তালিকা প্রকাশ; তালিকায় শীর্ষ নেতারাও

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ২১:৩৬:৪৬
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহীদের তালিকা প্রকাশ; তালিকায় শীর্ষ নেতারাও
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও যারা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি, তাদের সবাইকে একযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই গণবহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নেতাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সারা দেশের বিভিন্ন বিভাগ অনুযায়ী বহিষ্কৃত নেতাদের একটি সুদীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নিচে বিভাগীয় ভিত্তিতে বহিষ্কৃত নেতাদের বিস্তারিত তালিকা তুলে ধরা হলো:

রংপুর বিভাগ

রংপুর বিভাগে বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন দিনাজপুর-২ আসনের আ ন ম বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৫ আসনের এ জেড এম রেজওয়ানুল হক এবং নীলফামারী-৪ আসনের রিয়াদ আরাফান সরকার রানা।

রাজশাহী বিভাগ

এই বিভাগে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন নওগাঁ-৩ এর পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি, নাটোর-১ এর তাইফুল ইসলাম টিপু ও ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, নাটোর-৩ এর দাউদার মাহমুদ, রাজশাহী-৫ এর ইসফা খাইরুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম। এছাড়াও পাবনা-৩ এর কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং পাবনা-৪ এর জাকারিয়া পিন্টুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, নাটোর-১ এর ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার মাত্র ১০ মিনিট পরে আবেদন করায় তা গৃহীত হয়নি।

খুলনা ও বরিশাল বিভাগ

খুলনা বিভাগে কুষ্টিয়া-১ এর নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, নড়াইল-২ এর মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫ এর অ্যাড. শহিদ ইকবাল, সাতক্ষীরা-৩ এর ডা. শহীদুল আলম এবং বাগেরহাটের ইঞ্জি. মাসুদ ও খায়রুজ্জামান শিপনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগে বহিষ্কৃত হয়েছেন বরিশাল-১ এর আব্দুস সোবহান এবং পিরোজপুর-২ এর মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন।

ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগ

ঢাকা বিভাগে নারায়ণগঞ্জের মোহাম্মাদ দুলাল হোসেন, মো. আতাউর রহমান খান আঙ্গুর ও অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম পদ হারিয়েছেন। টাঙ্গাইলের অ্যাড. মোহাম্মাদ আলী, লুৎফর রহমান খান আজাদ (চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা) এবং অ্যাড. ফরহাদ ইকবালকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জেরও একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফরিদপুর বিভাগে মাদারীপুরের লাভলু সিদ্দিকী, কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা ও মিল্টন বৈদ্যসহ রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জের প্রার্থীরা বহিষ্কৃত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ, সিলেট ও কুমিল্লা বিভাগ

ময়মনসিংহ বিভাগে কিশোরগঞ্জের রেজাউল করিম চুন্নু ও শেখ মজিবুর রহমান ইকবালসহ ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার একাধিক নেতা বহিষ্কৃত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সুনামগঞ্জের আনোয়ার হোসেন ও দেওয়ান জয়নুল জাকেরীনসহ সিলেট-৫ এর মামুনুর রশীদ (চাকসু) এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের প্রার্থীরা রয়েছেন। কুমিল্লা বিভাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অ্যাড. কামরুজ্জামান মামুন, কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ও কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামালসহ কুমিল্লা ও চাঁদপুরের প্রার্থীরা বহিষ্কৃত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগ

চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রামের অ্যাড. মিজানুল হক চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম রাহী ও লিয়াকত আলী চেয়ারম্যানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নোয়াখালীর কাজী মফিজুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল আজীম এবং ইঞ্জিনিয়ার তানবীর উদ্দীন রাজীব এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।


হাঁস চোরকে জেলেও ভরেছি, প্রতীক চোরকেও ছাড়ব না: রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৯:৩১:০৩
হাঁস চোরকে জেলেও ভরেছি, প্রতীক চোরকেও ছাড়ব না: রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে লড়াইয়ের জন্য তাঁকে ‘হাঁস’ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আজ জেলার মোট ছয়টি সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রতীক পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের কাছে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই ‘হাঁস’ প্রতীকটি কেবল তাঁর নয়, বরং এটি তাঁর এলাকার সাধারণ ভোটারদের প্রতীক। ভোটারদের সঙ্গে নিজের নিবিড় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি আমার ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। তাঁরাই আমাকে আজকের এই জায়গায় এনেছেন। ছোট ছোট বাচ্চারাও এখন চিৎকার করে আমাদের হাঁস মার্কার কথা বলছে।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সতর্ক করেন। তিনি জানান, আগে তিনি নিজে হাঁস পালন করতেন এবং সেই হাঁসগুলো চুরি হওয়ার পর তিনি চোরকে ক্ষমা করেননি। রুমিন বলেন, “আমি হাঁস পালতাম। আমার হাঁসগুলো যখন চুরি হয়েছিল, আমি চোরকে ছাড়িনি। মামলা করেছি, জেলেও ভরেছি। আমার এই হাঁস প্রতীক যদি এখন কেউ চুরি করার চিন্তাও করে, তবে আমি আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”

নিজেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সাধারণ মানুষের প্রার্থী হিসেবে দাবি করে রুমিন ফারহানা বলেন, ভোটাররা যদি তাঁকে নির্বাচিত করেন, তবে তিনি এলাকার মানুষের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করবেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ভোটাররা যেভাবে চাইবেন এবং যেভাবে এলাকাকে দেখতে চাইবেন, সেভাবেই তিনি কাজ করবেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য এখন নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন মোট ৪৮ জন প্রার্থী।

একই দিনে জেলার অন্যান্য আসনেও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন। এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিকে তাঁর দলীয় প্রতীক ‘মাথাল’ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাকির এই প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার মধ্য দিয়ে ওই এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে।


বিএনপিতে বড় চমক: আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৮:২৯:২৩
বিএনপিতে বড় চমক: আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বড় ধরণের চমক সৃষ্টি করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানী গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগদান করেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি তাঁর এই নতুন রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা করেন। দলটির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এই হেভিওয়েট নেতার যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

অধ্যাপক আবু সাইয়িদের এই যোগদানকে কেন্দ্র করে গুলশান কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান সাংবাদিকদের এই যোগদানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হলেন। বিএনপি মহাসচিব তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং দলের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরিচিত মুখ। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী পরিষদে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা নিভৃতে ছিলেন। ফলে হঠাৎ করে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিতে তাঁর এই যোগদানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিতে এই ধরণের অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিকের যোগদান দলের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অধ্যাপক আবু সাইয়িদ কেন বা কোন প্রেক্ষাপটে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, সে বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর এই দলবদল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা এই যোগদানকে দলের সাংগঠনিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন।


আওয়ামী লীগ কর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের: ফয়জুল করীম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৭:৩৭:৪৬
আওয়ামী লীগ কর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের: ফয়জুল করীম
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। ছবি: ইত্তেফাক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসন থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের নাগরিক অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেই দলের সাধারণ কর্মীদের নাগরিকত্ব সরকার বাতিল করেনি।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, “আওয়ামী লীগ যারা করেন, সরকার তাদের নাগরিকত্ব তো বাতিল করেনি। সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যদি আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি অন্যায় না করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে যদি কোনো মামলা না থাকে, তবে তাঁর জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি সরকারের।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে অপরাধী না হওয়া সত্ত্বেও কাউকে হয়রানি করা আইনত ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোট প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়জুল করীম একটি কৌশলগত বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাঁদের ভোটটি এমন ব্যক্তিদের দেবেন, যাঁদের মাধ্যমে তাঁদের জানমাল, ইজ্জত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে। মূলত ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রধান্য দেওয়ার পরামর্শ দেন।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোট বা সমঝোতা প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম এক নতুন তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জামায়াতের আমিরের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করে তাঁর নির্বাচনি আসনে ইসলামী আন্দোলন কোনো প্রার্থী দেয়নি। একইভাবে জামায়াতের আমিরও ইসলামী আন্দোলনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাঁদের প্রার্থী তুলে নিয়েছেন। এই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের রাজনীতির জন্য তিনি জামায়াত আমিরকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনো রাজনৈতিক জোটে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স তৈরি করা। এখন ইসলামের পক্ষে হাতপাখার বাক্স রয়েছে।” তবে ভবিষ্যতে যদি কেউ ইসলামী শরীয়াহর ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করতে চায়, তবে আবারও জোট গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

নির্বাচনের পরিবেশ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে ফয়জুল করীম বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর কোনো প্রার্থী বা কর্মীকে বিনা কারণে হয়রানি করা যাবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি হয়রানি অব্যাহত থাকে তবে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় থাকবে না। বরিশালের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আসনের প্রার্থী হিসেবে তিনি একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান, যেখানে সব দলের কর্মী ও সমর্থকরা নির্বিঘ্নে তাঁদের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার চর্চা করতে পারবেন।


নির্বাচনি প্রচারে ত্যাগী নেতাদের সফরসঙ্গী করবেন তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৪:৪৯:৫৯
নির্বাচনি প্রচারে ত্যাগী নেতাদের সফরসঙ্গী করবেন তারেক রহমান
নেতাদের সাথে তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাদের প্রতি সাংগঠনিক স্বীকৃতি দিতে নির্বাচনি প্রচারণায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নির্বাচনি প্রচারে তার সফরসঙ্গী হিসেবে পর্যায়ক্রমে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন।

এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় আজ বুধবার সকালে রাজধানীর গুলশান-এ অবস্থিত বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে দলের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা যে অনন্য ও অভূতপূর্ব অবদান রেখেছেন, তা বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাদের ত্যাগ ও ভূমিকার প্রতি সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ড. মাহদী আমিন জানান, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমানের প্রতিটি সফরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সংগঠনের অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতাদের সফরসঙ্গী করা হবে। এর মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে এবং নির্বাচনি প্রচারে সাংগঠনিক ঐক্য ও উদ্দীপনা বাড়বে বলে দলটি আশা করছে।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারেক রহমানের আসন্ন সিলেট সফরে কয়েকজন তরুণ ও তৃণমূল নেতা তার সঙ্গে থাকবেন। তারা হলেন—আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, মামুন হাসান, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ এবং রকিবুল ইসলাম রাকিব। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই তালিকা বাছাই করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী তারেক রহমানের সিলেট সফরের মধ্য দিয়েই বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে তিনি আকাশপথে সিলেটে পৌঁছাবেন। সেখানে পৌঁছে গভীর রাতে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন।

ড. মাহদী আমিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব রাজনৈতিক দল ইতিবাচক ও সহনশীল মনোভাব নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবে এবং আচরণবিধি মেনে চলার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে যে সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে এই নির্বাচন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। সে লক্ষ্যে দলটি শান্তিপূর্ণ প্রচারণা এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নির্বাচনি প্রচারণার সূচনালগ্নে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নির্বাচনি থিম সং উন্মোচন করা হবে। আজ রাত ১২টা ১ মিনিটে, অর্থাৎ ২২ জানুয়ারির প্রথম প্রহরে, ঢাকার লেকশোর হোটেলে থিম সংটি উদ্বোধন করবেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিউল্লাহসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

-রফিক


কোন আসনে কে, ইসলামী আন্দোলনের পূর্ণ তালিকা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৪:২১:২৫
কোন আসনে কে, ইসলামী আন্দোলনের পূর্ণ তালিকা
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ২৫৯টি সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি দলটির প্যাডে প্রকাশিত এই তালিকায় সারাদেশের প্রায় সব অঞ্চল থেকেই প্রার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসার পর এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে এই তালিকাকে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পঞ্চগড়-২ আসনে মো. কামরুল হাসান প্রধান, ঠাকুরগাঁও-১ মো. খাদেমুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-২ মো. রেজাউল করীম, ঠাকুরগাঁও-৩ মো. আল আমিন, দিনাজপুর-১ অ্যাডভোকেট মো. চাঁন মিঞা, দিনাজপুর-২ হা. মাও. মুহা. রেদওয়ানুল করীম রাবিদ, দিনাজপুর-৩ অধ্যক্ষ মুফতি মুহা. খাইরুজ্জামান, দিনাজপুর-৪ মাওলানা আনোয়ার হোসেন নদভী, দিনাজপুর-৬ ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী, নীলফামারী-১ মুহামাদ আব্দুল জলিল, নীলফামারী-২ অ্যাডভোকেট হা. মাও. হাছিবুল ইসলাম, নীলফামারী-৩ মো. আমজাদ হোসেন সরকার, নীলফামারী-৪ মো. শহিদুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ মুফতি মুহা. ফজলুল করীম শাহারিয়া, লালমনিরহাট-২ মুফতি মো. মাহফুজুর রহমান, লালমনিরহাট-৩ আমিনুল ইসলাম এবং রংপুর-১ আসনে এ টি এম গোলাম মোস্তফা।

রংপুর বিভাগের অন্যান্য আসনে প্রার্থী হিসেবে আছেন রংপুর-২ মাওলানা মো. আশরাফ আলী, রংপুর-৩ মো. আমিরুজ্জামান পিয়াল, রংপুর-৪ মুহাম্মদ জাহিদ হোসেন, রংপুর-৫ অধ্যক্ষ মো. গোলজার হোসেন, রংপুর-৬ মাওলানা সুলতান মাহমুদ, কুড়িগ্রাম-১ মুহাম্মদ হারিসুল বারী, কুড়িগ্রাম-২ মুহাম্মদ নুর বখত, কুড়িগ্রাম-৩ ডা. আক্কাছ আলী সরকার, কুড়িগ্রাম-৪ অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, গাইবান্ধা-১ মুহাম্মদ রমজান আলী, গাইবান্ধা-২ প্রভাষক মুহা. আব্দুল মাজেদ, গাইবান্ধা-৩ এ টি এম আওলাদ হোসেন, গাইবান্ধা-৪ সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন এবং গাইবান্ধা-৫ অ্যাডভোকেট মো. আজিজুল ইসলাম।

রাজশাহী ও বগুড়া অঞ্চলে প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বগুড়া-১ এ বি এ মোস্তফা কামাল পাশা, বগুড়া-২ অ্যাডভোকেট মো. জামাল উদ্দিন, বগুড়া-৩ মুহা. শাহজাহান আলী তালুকদার, বগুড়া-৪ মাওলানা মুহা. ইদ্রিস আলী, বগুড়া-৫ মীর মুহা. মাহমুদুর রহমান (চুন্নু), বগুড়া-৬ আ ন ম মামুনুর রশিদ, বগুড়া-৭ প্রভাষক মুহা. শফিকুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ মো. মনিরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ডা. মো. ইব্রাহীম খলীল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ ডা. মো. মনিরুল ইসলাম, নওগাঁ-১ মাওলানা আব্দুল হক শাহ, নওগাঁ-৩ মুফতি নাসির বিন আছগর, নওগাঁ-৪ মাওলানা সোহরাব হোসেন, নওগাঁ-৫ মাওলানা আব্দুর রহমান এবং নওগাঁ-৬ মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

খুলনা, বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের আসনগুলোতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে আছেন খুলনা-১ মাওলানা আবু সাঈদ, খুলনা-২ মুফতি আমানুল্লাহ, খুলনা-৩ মাওলানা আব্দুল আউয়াল, খুলনা-৪ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহম্মেদ শেখ, খুলনা-৬ হাফেজ মুহাম্মদ আছাদুল্লাহ আল-গালিব, সাতক্ষীরা-১ মাওলানা রেজাউল করীম, সাতক্ষীরা-২ মুফতি রবীউল ইসলাম, সাতক্ষীরা-৩ কাজী মো. ওয়েজ কুরনী, সাতক্ষীরা-৪ মোস্তফা আল মামুন মনির, বরগুনা-১ মাওলানা মাহমুদুল হাসান উলীউল্লাহ, বরগুনা-২ মুফতি মিজানুর রহমান, পটুয়াখালী-১ মো. ফিরোজ আলম, পটুয়াখালী-২ মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারী, পটুয়াখালী-৩ মু. আবু বক্কর ছিদ্দিকী, পটুয়াখালী-৪ ডা. অধ্যাপক মোস্তফিজুর রহমান, ভোলা-১ মাওলানা ওবায়দুর রহমান বিন মোস্তফা, ভোলা-৩ মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন এবং ভোলা-৪ আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দিন।

ঢাকা ও মধ্যাঞ্চলে দলটির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-২ হাফেজ মাও. মুফতি জহিরুল ইসলাম, ঢাকা-৩ সুলতান আহমদ খাঁন, ঢাকা-৪ মাও. সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আন মাদানী, ঢাকা-৫ মো. ইবরাহীম খলিল, ঢাকা-৭ আব্দুর রহমান, ঢাকা-৮ মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, ঢাকা-৯ শাহ ইফতেখার আহসান তারিক, ঢাকা-১০ আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ঢাকা-১১ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ঢাকা-১২ মাওলানা মাহমুদুল হাসান মোমতাজী, ঢাকা-১৪ মাওলানা নুরুল ইসলাম ও আবু ইউসুফ, ঢাকা-১৬ প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম, ঢাকা-১৭ মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ আনসারী, ঢাকা-১৮ আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা-১৯ মুহাম্মদ ফারুক খান।

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম-১ অ্যাডভোকেট ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ মোহাম্মদ জুলফিকার আলী মান্নান, চট্টগ্রাম-৩ প্রভাষক আমজাদ হোসেন, চট্টগ্রাম-৪ মো. দিদারুল মাওলা, চট্টগ্রাম-৫ মুফতি মতিউল্লাহ নূরী, চট্টগ্রাম-৭ অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল হারুন, চট্টগ্রাম-৮ মুহাম্মদ নুরুল আলম, চট্টগ্রাম-৯ অ্যাডভোকেট আব্দুস শুক্কর (মাহমুদ), চট্টগ্রাম-১০ জান্নাতুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১১ মুহাম্মদ নুর উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১২ এস এম বেলাল নুর আজিজী, চট্টগ্রাম-১৪ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, চট্টগ্রাম-১৫ শরীফুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ হাফেজ রুহুল্লাহ, কক্সবাজার-১ মাওলানা ছরওয়ার আলম কুতুবী, কক্সবাজার-২ মাওলানা জিয়াউল হক, কক্সবাজার-৩ মাওলানা আমিরুল ইসলাম মীর, কক্সবাজার-৪ হাফেজ নুরুল হক, খাগড়াছড়ি মাওলানা কাউসার আজিজী, রাঙ্গামাটি জসীম উদ্দিন এবং বান্দরবান মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

দলীয় সূত্র জানায়, এর আগে ১৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান ১১ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং সে সময় ২৬৮ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা বৈধতা এবং পারস্পরিক সম্মান ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কয়েকটি আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার করে শেষ পর্যন্ত ২৫৯ আসনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

-রফিক


জামায়াতের পলিসি সামিট ২০২৬, বড় অর্থনৈতিক ঘোষণা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১২:০৫:৪১
জামায়াতের পলিসি সামিট ২০২৬, বড় অর্থনৈতিক ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নীতিভিত্তিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি মঙ্গলবার তাদের বহুল আলোচিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’ আয়োজন করে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসংক্রান্ত নীতিগত রূপরেখা প্রকাশ করেছে। ঘোষিত কর্মপরিকল্পনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, কর ও ভ্যাট সংস্কার, সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা

পলিসি সামিটে দলটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে চায়। নেতারা বলেন, প্রশাসন, অর্থনীতি ও সেবাখাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই অবস্থানের অংশ হিসেবে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব কাঠামো সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান উচ্চ করহার বিনিয়োগ ও উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাই ধাপে ধাপে সংস্কারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে করহার ১৯ শতাংশ এবং ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দলটির মতে, এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং করজালের পরিধি বাড়বে।

সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তর

সামিটে একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তাকে একীভূত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। দলটির দাবি, এতে ভাতা ও সামাজিক সুবিধা বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অপচয় কমবে।

শিল্প ও শ্রমখাতে পরিকল্পনা

শিল্পখাত নিয়ে ঘোষিত নীতির মধ্যে অন্যতম হলো আগামী তিন বছরে শিল্পকারখানার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বৃদ্ধি না করার অঙ্গীকার। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কলকারখানা পুনরায় চালুর জন্য পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপের কথা বলা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী প্রস্তাব হলো, পুনরায় চালু হওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের জন্য ১০ শতাংশ মালিকানা নিশ্চিত করা। দলটির মতে, এতে শ্রমিকদের অংশীদারত্ব বাড়বে এবং শিল্পে উৎপাদনশীলতা ও দায়বদ্ধতা জোরদার হবে।

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুদমুক্ত ঋণ

কৃষিখাতে জামায়াতে ইসলামী সুদবিহীন অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ঘোষণায় বলা হয়, কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা চালু করা হবে, যাতে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং কৃষক ন্যায্য আয়ের সুযোগ পান। দলটির মতে, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী না হলে জাতীয় অর্থনীতিও স্থিতিশীল হবে না।

তরুণ ও শিক্ষাখাতে বড় অঙ্গীকার

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো সামিটের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে ওঠে। দলটি জানিয়েছে, স্নাতক সম্পন্ন করার পর চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্য পাঁচ লাখ গ্রাজুয়েটকে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদি মাসিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে, যা ‘কর্জে হাসানা’ নীতির আওতায় পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এক লাখ শিক্ষার্থীকে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে প্রতি বছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত ঋণ প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতা মেধাবী শিক্ষার্থীদের অগ্রযাত্রায় বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।

নারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামোগত পরিকল্পনা

নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইডেন কলেজ ও বদরুন্নেসা কলেজ একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়, যা উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে দাবি করা হয়।

স্বাস্থ্যখাতে দলটি জানিয়েছে, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক নাগরিক এবং পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ কর্মসূচি

ঘোষিত নীতিতে ‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। গর্ভধারণ থেকে শুরু করে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে মা ও শিশুর পুষ্টি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার অঙ্গীকার করা হয়।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘পলিসি সামিট ২০২৬’ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। আদর্শিক অবস্থানের পাশাপাশি দলটি অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে নির্দিষ্ট ও সংখ্যাভিত্তিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে নীতিভিত্তিক রাজনীতির ওপর জোর দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এসব প্রস্তাব কতটা কার্যকর হবে, তা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক বিতর্ক ও জনমতের ওপর নির্ভর করবে।

-রাফসান


ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ০৯:৫৯:৩৩
ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি: তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর রাজনৈতিক দর্শন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তিনি ক্ষমতার মোহে নয় বরং দেশের মানুষের সামগ্রিক কল্যাণের লক্ষ্যেই রাজনীতি করছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে আয়োজিত এক বিশেষ দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কড়াইল বস্তিবাসী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে তারেক রহমান নিজেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে পরিচয়ের চেয়ে ‘জনগণের সন্তান’ হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বলে উল্লেখ করেন।

কড়াইল বস্তিবাসীর আবাসন সংকট নিরসনে এক বৈপ্লবিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হলে কড়াইল বস্তির বর্তমান কাঁচা ঘরগুলোর পরিবর্তে সেখানে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। এই ভবনগুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সুপরিসর ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করা হবে এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রতিটি ফ্ল্যাট সংশ্লিষ্ট বাসিন্দার নামে রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়া হবে। বর্তমানে বস্তিবাসী যে মানবেতর কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন, তা পর্যায়ক্রমে দূর করার অঙ্গীকার করেন তিনি। রাজধানীর এই বৃহত্তম বস্তিতে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার পরিবার বসবাস করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান সেখানে একটি আধুনিক ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান।

শিক্ষার আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, "আমরা চাই আপনাদের সন্তানেরা বিদেশি ভাষায় কথা বলতে শিখুক এবং উন্নত চিকিৎসা সেবা পাক।" এ লক্ষ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ বিনিয়োগ ও উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলটি পরিচালনা করেন ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর গণআন্দোলনে শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

একই দিনে সন্ধ্যায় বনানীতে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আরেকটি দোয়া মাহফিলে অংশ নেন তারেক রহমান। গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন সোসাইটিসহ বিভিন্ন ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। সেখানে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক করুণ অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করেন তিনি। তারেক রহমান জানান, এক সময় তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় থাকতেন এবং সেই বাড়িটি যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি আজও ভুলতে পারেননি। নিজের ভিটেমাটি হারানোর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের গৃহহীন থাকার কষ্ট অনুভব করেন এবং সে কারণেই কড়াইলবাসীর জন্য স্থায়ী আবাসনের স্বপ্ন দেখছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারেক রহমান, যার মধ্যেই এই কড়াইল বস্তি এলাকাটি অন্তর্ভুক্ত। এই নির্বাচনি প্রচারণার সময় কোনো ধরণের ষড়যন্ত্র হতে পারে কি না, সে বিষয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

নির্বাচনি ব্যস্ততার মাঝেই মঙ্গলবার কূটনৈতিক তৎপরতায় সরব ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। রাজধানীর গুলশানে তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন এবং নর্ডিক অঞ্চলের দেশ সুইডেন, ডেনমার্ক ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতরা পৃথকভাবে তাঁর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান যে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং তাঁর ঘোষিত ‘৩১ দফা’ উন্নয়ন রূপরেখা নিয়ে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রদূতরা মনে করছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ‘ডেমোক্র্যাটিক ট্রানজেকশন’ বা গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার যে সুযোগ পেতে যাচ্ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও অত্যন্ত আশাবাদী বলে বৈঠকে উঠে আসে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।


ধানের শীষের ঘরে বিদ্রোহীদের হানা; প্রতীক বরাদ্দের দিনেই কি বদলে যাচ্ছে সমীকরণ?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ০৯:৪১:০৯
ধানের শীষের ঘরে বিদ্রোহীদের হানা; প্রতীক বরাদ্দের দিনেই কি বদলে যাচ্ছে সমীকরণ?
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত আমেজ আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠ পর্যায়ে শুরু হচ্ছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আজ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। প্রতীক পাওয়ার সাথে সাথেই প্রার্থীরা শুরু করবেন তাঁদের কাঙ্ক্ষিত প্রচারণা, যা ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত চলমান থাকবে। তবে প্রতীক বরাদ্দের এই দিনে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁদের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি উপেক্ষা করে এখনো প্রায় ৫০টি আসনে ৯১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় আছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় ঐক্যে বড় ধরণের ফাটল সৃষ্টি করেছে।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে সারা দেশে অসংখ্য প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও বিএনপির জন্য পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৯২টি আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের জন্য প্রার্থিতা দিলেও তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় বর্তমানে ২৮৯টি আসনে দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে দুশ্চিন্তার বড় কারণ হলো ৫০টি আসনে ঝুলে থাকা ৯১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী। এর মধ্যে ঢাকা-১২ আসনে জোটসঙ্গী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হককে সমর্থন দেওয়া হলেও সেখানে নির্বাচন করছেন যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। একইভাবে ঢাকা-৭ আসনে ইশহাক সরকার, ঝিনাইদহ-৪ আসনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়ে গেছেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে হাসান মামুন এবং সাতক্ষীরা-৩ আসনে ডা. শহিদুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মুন্সীগঞ্জ-১ ও ৩, চট্টগ্রাম-১৪ ও ১৬, সিলেট-৫, নাটোর-১ এবং ময়মনসিংহের একাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের এই উপস্থিতি নির্বাচনি ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এদিকে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে। ২১ জানুয়ারির আগে প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এই দলগুলো নিয়ম ভঙ্গ করায় গতকাল মঙ্গলবার দলগুলোর প্রধানদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে ইসি। পাশাপাশি, নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বিবেচনা করে বিএনপি মনোনীত এক প্রার্থী (গাজীপুর-১ আসনের মজিবুর রহমান) এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ পর্যায়ের সাতজন নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নিরাপত্তা তালিকায় থাকা অন্য জামায়াত নেতারা হলেন—ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগ ‘পোস্টাল ব্যালট’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। গতকাল মঙ্গলবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিফ্রিংকালে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালিয়ে কমিশনের "১২টা বাজিয়ে দেওয়া হচ্ছিল"। ১২২টি দেশের প্রবাসীদের জন্য এই পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালু করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঠিক তথ্য উপস্থাপনের কারণেই মানুষ সত্য জানতে পারছে। সিইসি’র মতে, বিদেশি বিভিন্ন কালচার ও পোস্টাল আইনের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আজ প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি লড়াই যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, তখন এই ধরণের ডিজিটাল অপপ্রচার রোধ করাই কমিশনের জন্য অন্যতম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাঠকের মতামত: