কৃষি ঋন ও বীমা এখন আরও সহজ: কৃষক কার্ড নিয়ে সরকারের মাস্টারপ্ল্যান

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, কর্মসূচি তদারকির জন্য অর্থ সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেসসচিব বলেন, ‘কৃষক কার্ড কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি দেশের প্রতিটি কৃষকের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কৃষকদের বিভিন্ন সরকারি সেবা দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘কৃষক কার্ডের আওতায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমার সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার সংক্রান্ত তথ্য এবং ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে পরামর্শ পাবেন।’
এ সুবিধা শুধু শস্য উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; মৎস্য চাষী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধ খামারিরাও এই কার্ডের আওতায় আসবেন বলে জানান প্রেসসচিব।
সালেহ শিবলী বলেন, ‘প্রাক-পাইলট পর্যায়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সব শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর দেশের ৮ বিভাগের ৯টি উপজেলার ৯টি ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। নির্বাচিত উপজেলাগুলো হলো—টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর ও কক্সবাজারের টেকনাফ।’
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করবে।এ কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা গড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভর্তুকি বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন।এ ছাড়া খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত হারে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।
প্রেসসচিব জানান, প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায় শেষ করে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
/আশিক
ছয় মাসে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, লোডশেডিং ও বেকারত্ব বাড়ছে: চরমোনাই পীর
নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতৃত্ব এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার গঠনের ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও এর কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
তিনি বলেন, বিগত ছয় মাসে পরিস্থিতির উন্নয়ন তো দূরের কথা, বহু ক্ষেত্রে তা আরও অবনতিশীল হয়েছে। পোশাক শিল্পে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিকের বেকার হয়ে পড়া, গড়ে প্রতিদিন ১০টি হত্যাকাণ্ড, অসহনীয় লোডশেডিং এবং তীব্র জ্বালানি সংকট সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের আটক করলেও পরবর্তীতে প্রকৃত বিচার নিশ্চিত হয় না। এমন কি নিম্ন আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষণা হলেও তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে স্পষ্ট করে।
রেজাউল করীম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই পুলিশি তৎপরতার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে—এটাই ছিল সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। কিন্তু সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন তাদের বাহিনীকে কার্যকর ও সক্রিয় করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মানুষের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধান এবং দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান। অন্যথায় জনঅসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
রাষ্ট্র সংস্কারের গতিপ্রকৃতি প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারের ব্যাপারে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত হতাশাজনক। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে উঠলেও সর্বশেষ নির্বাচনে সেই সমঝোতার তোয়াক্কা করা হয়নি। সংস্কারের অন্যান্য মূল বিষয়েও সরকার কার্যত বিরোধী অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবিধানিক দুর্বলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটির সুযোগ নিয়েই অতীতে দেশে স্বৈরশাসনের পথ সুগম হয়েছিল। তাই জুলাই সনদের আলোকে মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করে স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে; অন্যথায় উদ্ভূত যেকোনো মারাত্মক পরিণতির দায়ভার বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে।
/আশিক
রয়্যাল রিসোর্টে আমাকে হত্যার নীলনকশা করেছিল আওয়ামী লীগ: মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেছেন, ২০২১ সালে সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার নীলনকশা করেছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। তবে সেই ষড়যন্ত্রে তারাই শেষ পর্যন্ত ফেঁসে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে মাওলানা ইকবাল হোসাইন স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই সভার আয়োজন করে।
মামুনুল হক বলেন, ঘটনার দিন সাধারণ জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে আওয়ামী লীগের লোকজন জীবন বাঁচাতে অনুনয়-বিনয় করেছিল। পরিস্থিতি এমন রূপ নেয় যে, ঘটনার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রয়্যাল রিসোর্ট এলাকায় দলটির কাউকে পাওয়া যায়নি এবং তারা বাড়িঘর ফেলে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।
বিগত সরকারের দায়ের করা বিভিন্ন মামলা ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ দমন করতেই ফ্যাসিবাদী সরকার সে সময় ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলার কৌশল নিয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসন সেই মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর ফলে ২০২১ সালের রয়্যাল রিসোর্টের ঘটনাসহ হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলা থেকেই অব্যাহতি মিলেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সে সময় রয়্যাল রিসোর্টের ঘটনায় হওয়া সাজানো মামলায় খেলাফত মজলিসের সোনারগাঁ থানা শাখার তৎকালীন সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসাইনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে নির্মম ও অমানবিক নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, যা একটি হত্যাকাণ্ড।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল কাদের নদভী কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং জেলা হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন খান।
সভায় খেলাফত মজলিস ও হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন স্তরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। স্মৃতিচারণা ও আলোচনা পর্ব শেষে মরহুম মাওলানা ইকবাল হোসাইনের মাগফিরাত ও রুহের শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
/আশিক
সংসদের অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা
বেসরকারি দিবসে সরকারি বিল উত্থাপন, সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রক্রিয়াগত ত্রুটি এবং সংস্কারের মূল দাবিকে পাশ কাটিয়ে একতরফা সংসদ পরিচালনার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টা ৭ মিনিটে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী জোটের সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়ন কার্যাবলির অংশ হিসেবে তিনটি সরকারি বিল উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিরোধীদলীয় নেতা ফ্লোর নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার, গণভোট ও বিল পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের একপেশে মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেন।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বেসরকারি দিবসে সরকারি বিল চাপিয়ে দিয়ে সংসদের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের মূল দাবিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনের আইনি ভিত্তি ও সংসদীয় বিধিবিধান মানা হয়নি দাবি করে তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও গণভোটের বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দল অনড়। কোনো নিয়মবহির্ভূত প্রক্রিয়ার অংশ না হওয়ার নীতিগত অবস্থান থেকেই তারা সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
বিরোধীদলীয় সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ছাড়ার সময় সভাপতিমণ্ডলীর আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁদের ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ওয়াকআউটের অধিকার থাকলেও সব বিষয়ে সংসদের ভেতর আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমেই জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। তবে বিরোধী দল অধিবেশন ত্যাগ করার পর স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
/আশিক
বিদ্যুৎ-গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়: রুমিন ফারহানা
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও কর্মসংস্থানের দুরবস্থা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষের ভাষায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—কখন আসে আর কখন যায় তা কেউ বুঝতে পারে না।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া এক জরুরি বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
জ্বালানি খাতের সংকট এবং অর্থনৈতিক অভিঘাতের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্যাস-বিদ্যুতের চরম সংকটের সময়ে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার থাকলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে প্রায় ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯ শতাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া তো দূরের কথা, যারা বর্তমানে কর্মরত আছেন তাঁদের জীবিকা কতদিন টিকে থাকবে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল মূল অগ্রাধিকার। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাস্তব সংকটকে ব্যঙ্গ ও বাকচাতুর্য দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা এতই প্রকট যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রীর মতো দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দিলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন।
বাজার পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য জানান, বর্তমানে বাজারে কোনো সাধারণ সবজি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। পাশাপাশি চাল ও ডিমের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে, বিশেষ করে মিনিকেট চালের অস্বাভাবিক দামে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে খোলাবাজারে স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইনের করুণ চিত্রও তিনি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।
/আশিক
এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চেয়েছেন, গত ছয় মাসে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কি না, নাকি ব্যর্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে সম্পূরক প্রশ্নে তিনি এই জবাব চান। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন যে এটি কোনো প্রশ্ন হলো নাকি পল্টনের বক্তৃতা, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে অভিহিত করলেও সেখানে গান-বাজনা, সিনেমা ও নৌকাবাইচ প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই বাস্তবতায় গত ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, নাকি ব্যর্থ হয়েছেন—তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা হল না থাকার বিষয়গুলো ভিন্ন। পাশাপাশি হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যে উল্লেখিত হত্যা ও আহতের পরিসংখ্যানের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কিসের ভিত্তিতে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে তা তাঁর জানা নেই। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীদের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যা দৃশ্যমান উন্নতির প্রমাণ।
রামিসা থেকে শুরু করে রংপুরের সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢালাওভাবে ব্যর্থতার অভিযোগ না তুলে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে কথা বলতে হবে। তিনি জানান, বিচারিক দায়িত্ব আদালতের হলেও সরকার দ্রুত তদন্ত ও বিচারে সার্বিক সহযোগিতা করছে। সংসদে ঢালাও বক্তব্যের বদলে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনায় ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলে বিধি অনুযায়ী নোটিশ দিলে সে বিষয়ে সংসদে বিতর্ক করা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
/আশিক
বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ
বাংলাদেশ একদিন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে পরিচালিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি মন্তব্য করেন যে, জনগণের বিপুল সমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে অতীতের মতোই একটি পক্ষ দলটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তবে কোনো অপচেষ্টাই জামায়াতের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করতে পারবে না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত ওয়ার্ড সভাপতি ও সেক্রেটারি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রেখে রাজপথ এবং সংসদে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয়ে জামায়াত কখনোই আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। সংসদে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সরকার জনদাবি উপেক্ষা করলে রাজপথের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তৃণমূল পর্যায়কে একটি আদর্শ সংগঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলে সংগঠনকে তৃণমূল থেকে সুসংগঠিত করা হচ্ছে। যাদের ভিত্তি জনগণের মাঝে প্রোথিত, তাদের রুখে দেওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। এ সময় তিনি শিক্ষাশিবিরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠাতব্য ঢাকা টু চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
/আশিক
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার
একটি প্রতারণা মামলায় আদালতের সাজা ও জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় আদালত বিদিশা এরশাদকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন। রায় ঘোষণার পর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই গুলশান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
/আশিক
প্রথম ছয় মাসেই সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ হয়েছে: নাহিদ
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ—সরকারের অগ্রাধিকার পাওয়া এই তিন ক্ষেত্রেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ১৮০ দিনের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে ব্যর্থতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। জাতীয় নাগরিক পার্টির পলিসি ও রিসার্চ বিষয়ক উপ-কমিটি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে সরকার আবারও ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোর দিকে ফিরে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, গত ১৮০ দিনে প্রমাণ হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই।
সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ মোট ২৯টি ক্ষেত্রে সরকার অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১৮০ দিনের জন্য একটি পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছিল। সেখানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস পর দেখা যাচ্ছে, অগ্রাধিকার দেওয়া তিনটি ক্ষেত্রেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
পুরোনো পরিকল্পনা ও নীতির পথেই সরকার দেশ পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, অপরিকল্পনা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়েছে। সরকার নিজেদের পরিকল্পনা থাকার কথা বললেও এখন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, পরিবর্তনের এই ধারা কোথায় গিয়ে শেষ হবে এবং একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকেও পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সারা দেশের মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। ক্ষমতায় আসার আগে সরকার যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়ে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছিল, তার কোনোটি বাস্তবে করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য এই সময় যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ছয় মাস পার হয়ে যাওয়ার পর সরকার আর এসব সমস্যার দায় অন্তর্বর্তী সরকার বা আগের সরকারের ওপর চাপাতে পারবে না। জনগণের কাছে এমন ব্যাখ্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকার যদি বিদ্যমান সংকটগুলোর সমাধান না করে এবং পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা থেকে সরে না আসে, তাহলে তাদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে পড়তে হবে।
তিনি বলেন, আরও ছয় মাস পার হলে সরকার আগের সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকারের দায় দেখানোর সুযোগ পাবে না। তখন জনগণ সরকারের কাছ থেকেই সব সমস্যার সমাধানের প্রত্যাশা করবে।
এনসিপির পক্ষ থেকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ওষুধনীতি, সার, মানবাধিকার এবং ভূমি কমিশন আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে দলটি।
/আশিক
নতুন দায়িত্বের পর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রথম দাপ্তরিক কাজ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।
রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তিনি নয়াপল্টনের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নিজের দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন। এ সময় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এর আগে সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
কার্যালয়ে আসার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, তিনি সবসময়ই নয়াপল্টনের কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরও এই কার্যালয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও কর্মকাণ্ড একইভাবে অব্যাহত রয়েছে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ড. মাওলানা মুফতি মহীউদ্দীন ইকরাম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ শামসুদ্দিন পারভেজ এবং ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামসহ দলীয় নেতারা।
দলের নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন নয়াপল্টন কার্যালয়ে থেকেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন রিজভী। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পরও কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ভারতের জন্য তৈরি হতে পারে অস্বস্তি
- বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোখার সাধ্য শত্রুর নেই: স্পিকার গালিবাফ
- দেবিদ্বারে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- ব্যবসায়ী সংগঠনের আপত্তিতে কর নীতিতে পিছু হটলো এনবিআর
- আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে পতন: রয়টার্স
- মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ আগের মতো থাকবে না: জোসে মরিনিও
- মধ্যরাত পর্যন্ত ১১ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- বিপিএলে দুর্নীতির থাবা, সাবেক পরিচালকসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বড় আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা সরকারের
- বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
- প্রধানমন্ত্রীর কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বার্তা, দ্রুতই সরাসরি বৈঠকের আভাস
- বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দুই বছর লাগবে না, সচিবালয়ে উপদেষ্টার বার্তা
- ভারত থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের ঢাকায় আশ্রয় হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ট্রেজারি বন্ড ও বৈশ্বিক প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা
- অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন হবে না, সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের বার্তা
- টুর্নামেন্টের মাঝপথে ক্যারিবীয় লিগে দল পেলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার
- দেশের ৬ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা: যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া সতর্কতা
- জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি, বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী
- এক ঐতিহাসিক যুগের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মহাতারকা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে টানাপোড়েন, সামনে বড় ওঠানামার আভাস
- ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
- পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান
- ৭ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ঝোড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে সতর্কতা
- সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- ভারত সিরিজ নিয়ে মুখ খুললেন বোর্ডপ্রধান, জানালেন সর্বশেষ পরিস্থিতি
- ২১ বছরের পুরোনো মায়া কাটিয়ে নতুন স্থায়ী ঠিকানায় বাংলাদেশি মিডফিল্ডার
- আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ড্রোন হামলা
- দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত
- মোদির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান: যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী একটি পক্ষ
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- ভূগর্ভস্থ টানেলে আটকা শত শত প্রাণ, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান
- নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি পরিসংখ্যানে ভিন্নতা, নিখোঁজ বাড়ছে
- ইরানে পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নিতে পারেন ট্রাম্প: জো কেন্ট
- নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শত শত শ্রমিক নিখোঁজ, ২৭৯ জন উদ্ধার
- কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ দ্রুত চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ-চীন ঐকমত্য
- রাজবাড়ীতে পুলিশের সামনে নারী উদ্যোক্তাকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল
- ইরানে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আফগান নাগরিকদের ফাঁসি: মানবাধিকার সংস্থা
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- তিস্তা পাড়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, স্থানীয় সংকট নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা
- সেবা শেষে এবার বকশিশও দাবি করছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি
- নতুন মৌসুমে স্থায়ী ঠিকানায় ফিরছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারকা
- দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য বদলেই কমবে মাসের বাড়তি বিদ্যুৎ বিল
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে চীন-বাংলাদেশ বৈঠক
- বিগত ১৬ বছরে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি চায় রাষ্ট্র
- ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়ছেন কারা, প্রকাশ পেল অযোগ্যতার তালিকা
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানে ভিডিও প্রকাশ
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- বিদ্যুৎ খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বড় চাপ: প্রতিমন্ত্রী
- নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে আবহাওয়ার নতুন পূর্বাভাস
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমা: যেসব বিষয়ে নির্ভরতা বিপজ্জনক
- গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষমাণদের জন্য এলো বড় সুখবর
- চার বছরের বিরতি ভেঙে বড় পর্দায় ফিরে বক্স অফিসে ঝড়
- বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ
- এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী








