আল জাজিরার এক্সপ্লেইনার

কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ২২:১৭:০৩
কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?
ছবি: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক স্থানে সামরিক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানোকে “বড় ধরনের যুদ্ধ কার্যক্রম” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান আলোচনার মধ্যেই এই হামলা হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। উল্লেখ্য, আট মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের একটি যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল।

ইরানে কী ঘটেছে?

ইরানের ফারস বার্তা সংস্থা স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টা ২৭ মিনিটে (০৬:২৭ জিএমটি) তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর জানায়। পশ্চিম তেহরানে অবস্থানরত আল জাজিরার প্রতিবেদক অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

ইসরাইল প্রথম ঘোষণা দেয় যে তারা ইরানের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পরবর্তীতে এক মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানান, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও রণতরী মোতায়েন করেছে, যা ইরাক যুদ্ধের পর এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পরে জানায়, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “অপারেশন এপিক ফিউরি”।

ইরানের কোথায় কোথায় হামলা হয়েছে?

ফারসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট, জোমহুরি এলাকা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদর দপ্তরের নিকটে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, একটি হামলা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি হয়েছে। তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায়, তেহরানের সাইয়্যেদ খন্দান এলাকাতেও বিস্ফোরণ ঘটেছে।

এ ছাড়া কেরমানশাহ, কোম, তাবরিজ, ইসফাহান, ইলাম, কারাজ এবং লোরেস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ট্রাম্প কী বলেছেন?

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই অভিযান “ব্যাপক ও চলমান” এবং এর লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করবে।

তার বক্তব্যের মূল দিকগুলো হলো:

ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।

লক্ষ্য, ইরানের কথিত আসন্ন হুমকি নির্মূল করা।

ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা।

ইরানের নৌ সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া।

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করা।

ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

ট্রাম্প ইরানের সেনাসদস্যদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তারা অস্ত্র সমর্পণ করলে সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হতে পারে; অন্যথায় “নিশ্চিত মৃত্যুর” মুখোমুখি হতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, মার্কিন বাহিনীর হতাহতের আশঙ্কাও রয়েছে। রয়টার্স জানায়, এটি বহুদিনব্যাপী সামরিক অভিযান হতে পারে।

ওয়াশিংটনে আল জাজিরার প্রতিবেদক অ্যালান ফিশার বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি ১৯৫৩ সালে সিআইএ-সমর্থিত অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এবার তা গোপনে নয়, সরাসরি সামরিক শক্তি দিয়ে করা হচ্ছে।

হামলার যৌক্তিকতা কী?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তবে ইরান বারবার বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো পরিকল্পনা করছে না। ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ যার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।

গত বছর জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় এবং কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হন। সাম্প্রতিক উত্তেজনা বেড়ে যায় যখন ওমানি মধ্যস্থতায় জেনেভায় আলোচনায় অগ্রগতির ঘোষণা আসে। সেখানে ইরান শূন্য ইউরেনিয়াম মজুত এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার পূর্ণ যাচাইয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানা যায়।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রথমে উত্তর ইসরাইল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বেজে ওঠে এবং বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

এরপর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-সম্পৃক্ত একাধিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার মধ্যে রয়েছে কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। সৌদি আরবের রিয়াদ ও জর্ডানেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পথে পা দিয়েছে যার পরিণতি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।

ইসরাইলের অবস্থান

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, সামরিক অভিযান “যতদিন প্রয়োজন ততদিন চলবে”। ইসরাইল তাদের অভিযানের নাম দিয়েছে “লায়নের গর্জন”।

ইরানের নেতৃত্ব কোথায়?

৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কোথায় আছেন তা স্পষ্ট নয়। রাজধানীতে বিস্ফোরণের সময় তার আবাসিক এলাকার সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অক্ষত রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ওমান জানিয়েছে, তাদের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা এই হামলায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কাতার তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে প্রতিক্রিয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সতর্ক করেছে, এমন হামলা অব্যাহত থাকলে গুরুতর পরিণতি হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক” বলে মন্তব্য করেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর প্রভাবের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার দিমিত্রি মেদভেদেভ ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, আলোচনা ছিল কেবল আড়াল। যুক্তরাজ্য ও কানাডা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে।

পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং আঞ্চলিক সংঘাত বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর মুহূর্মুহু রকেট হামলা: কাঁপছে উত্তরাঞ্চল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ২১:২৫:২৮
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর মুহূর্মুহু রকেট হামলা: কাঁপছে উত্তরাঞ্চল
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান ও উত্তরাঞ্চলের শহরগুলো লক্ষ্য করে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মুহূর্মুহু হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহর সামরিক মিডিয়া শাখার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা ও মিসগাভ আম এলাকা লক্ষ্য করে এই রকেট হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ আরও জানায়, গতকাল সোমবার তারা পশ্চিম বেকা উপত্যকার আকাশে একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করেছে। এই আক্রমণকে তারা চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দাঁতভাঙা জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছে। মূলত গত কয়েক দিনের উত্তেজনার রেশ ধরে হিজবুল্লাহর এই পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও অস্থির করে তুলেছে।

সূত্র: আল জাজিরা


সেরেনা হোটেলের ২০ ঘণ্টা: ৮০% সফল হয়েও কেন ফিরল না শান্তি?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১৮:০১:১৩
সেরেনা হোটেলের ২০ ঘণ্টা: ৮০% সফল হয়েও কেন ফিরল না শান্তি?
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলে গত শনিবারের রাতটি ছিল এক চরম উত্তেজনা ও নাটকীয়তায় ভরা। স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও একটি ঐতিহাসিক চুক্তির লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা দীর্ঘ ২০ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসলেও, শেষ পর্যন্ত তা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, দুই দেশ চুক্তির ‘খুবই কাছাকাছি’ অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ করেও কেন শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে এল, তার চাঞ্চল্যকর নেপথ্য কাহিনী এখন প্রকাশ্যে আসছে।

সেরেনা হোটেলের কার্যক্রম পরিচালনার সাথে জড়িত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোটেলের দুটি আলাদা উইংয়ে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধি দল অবস্থান করছিল এবং মাঝখানের একটি কমন এরিয়াতে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনার মূল কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফকে বিরতির সময় বারবার কক্ষের বাইরে গিয়ে নিজ দেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করতে হয়েছে।

পাকিস্তান সরকারের সূত্রমতে, বৈঠকের মাঝামাঝি সময়ে একটি বড় সাফল্যের আশা তৈরি হলেও মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠকের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ‘গুরুগম্ভীর এবং অবন্ধুসুলভ’, যা শান্ত করতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারকে সারারাত আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়েছে।

আলোচনার এক পর্যায়ে যখন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বা ভবিষ্যতে ইরানে হামলা না করার প্রসঙ্গ ওঠে, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে বেশ উত্তেজিত দেখা যায়। সাধারণত শান্ত স্বভাবের আরাগচি তখন কঠোর স্বরে মার্কিন প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কূটনৈতিক আলোচনা চলার সময় হামলা না করার কথা বলে পরে যদি তা ভঙ্গ করেন, তাহলে আমরা আপনাদের বিশ্বাস করব কীভাবে?’ আরাগচির এই বক্তব্যের পেছনে ছিল গত ফেব্রুয়ারির জেনেভা বৈঠকের তিক্ত স্মৃতি, যা শেষ হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় ইরানে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

উত্তেজনা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, কক্ষের বন্ধ দরজার বাইরে থেকেও প্রতিনিধিদের উচ্চস্বরের কথা শোনা যাচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান চা-বিরতির ডাক দিয়ে দুই পক্ষকে পৃথক কক্ষে নিয়ে যান।

রোববার ভোরের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আলোচনার মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও মার্কিন প্রশাসনের অনড় অবস্থানের কারণে তা সম্ভব হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের নিশ্চয়তা পাওয়া, যা তেহরান হয়তো সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেনি। আলোচনার শেষে জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের সামনে এসে ঘোষণা দেন, ‘আমরা এখানে একটি খুবই সরল প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি।

এটিই আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। এখন দেখা যাক ইরান সেটি গ্রহণ করে কি না।’ যদিও ইসলামাবাদ বৈঠকটি চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে, তবুও ভ্যান্সের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় দফা সরাসরি সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র আভাস দিচ্ছে।

/আশিক


ইসরায়েলকে ইতালির বড় ঝটকা! বাতিল হলো ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১৭:৫২:১৭
ইসরায়েলকে ইতালির বড় ঝটকা! বাতিল হলো ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইসরায়েলের একগুঁয়েমির ফল হিসেবে এবার ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইতালির বড় ধাক্কা খেল তেল আবিব। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সরাসরি ঘোষণা করেছেন যে, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এনডিটিভির বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০০৬ সাল থেকে চলমান এই চুক্তির আওতায় সামরিক সরঞ্জাম ও উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়ের যে সুযোগ ছিল, তা বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বন্ধ করে দিল ইতালি।

মূলত লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে তিক্ততা শুরু হয়। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি লেবানন সফরকালে ইসরায়েলের এই আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। ইতিমধ্যে দুই দেশ একে অপরের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। জর্জিয়া মেলোনির এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের একাকীত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না করার জেদকে দায়ী করা হচ্ছে। ৭ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির আর মাত্র ৭ দিন বাকি আছে। এর মধ্যেই ইতালির মতো দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রত্যাহার ইসরায়েলের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলের জন্য বড় এক বিপর্যয়।

/আশিক


ইরানের পর এবার তুরস্ক? কাকে ‘নতুন শত্রু’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইসরায়েল?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১৭:৩৫:৩০
ইরানের পর এবার তুরস্ক? কাকে ‘নতুন শত্রু’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইসরায়েল?
ছবি : সংগৃহীত

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক বিস্ফোরক সতর্কবাণী দিয়েছেন। আনাদোলু এজেন্সির ‘এডিটর’স ডেস্ক’ অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের পর ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে তুরস্ক। তাঁর মতে, ইসরায়েল এমন একটি রাষ্ট্র যা ‘শত্রু’ ছাড়া টিকে থাকতে পারে না, তাই ইরান সংঘাতের পর তারা তুরস্ককে নতুন প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করবে।

হাকান ফিদান হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট নিয়ে সামরিক পন্থার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ সুরক্ষিত করতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা অত্যন্ত জটিল এবং হিতে বিপরীত হতে পারে।

এর পরিবর্তে কূটনৈতিক পন্থায় নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। ফিদান স্পষ্টভাবে জানান, বলপ্রয়োগ করে এই জলপথে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয় এবং কোনো আন্তর্জাতিক সশস্ত্র শান্তি বাহিনী দিয়ে এখানে হস্তক্ষেপ করার ক্ষেত্রেও অনেক আইনি ও কৌশলগত অসুবিধা রয়েছে।

সিরিয়া পরিস্থিতিকে তুরস্কের জন্য বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখ করে ফিদান বলেন, বর্তমানে ইসরায়েলের সব মনোযোগ ইরানের ওপর থাকায় সিরিয়া নিয়ে তাদের পদক্ষেপ হয়তো কিছুটা পিছিয়ে গেছে, কিন্তু তারা তাদের পরিকল্পনা বাতিল করেনি। সময় সুযোগ পেলেই তারা সিরিয়ায় বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইবে।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ফেরাতে তিনি একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের আহ্বান জানান, যেখানে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকবে।

/আশিক


ট্রাম্পকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, নজরদারি এড়িয়ে হরমুজ পার হলো ৩টি জাহাজ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১৭:২৪:০৩
ট্রাম্পকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, নজরদারি এড়িয়ে হরমুজ পার হলো ৩টি জাহাজ
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রথম পূর্ণ দিনেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আনাদোলুর প্রতিবেদনে জানানো হয়, অবরোধের কড়াকড়ির মধ্যেও 'পিস গালফ', 'মুরলিকিশান' ও 'রিচ স্টারি' নামের তিনটি ট্যাংকার সফলভাবে এই জলপথ অতিক্রম করেছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এর মধ্যে দুটি জাহাজ আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।

অবরোধের পর পানামা পতাকাবাহী ‘পিস গালফ’ প্রথম জাহাজ হিসেবে ওমান সাগর থেকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরের দিকে রওনা হয়েছে। এটি সাধারণত ইরানের ন্যাফথা পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে, চীনা মালিকানাধীন ‘রিচ স্টারি’ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল নিয়ে এবং ‘মুরলিকিশান’ ইরাক থেকে তেল লোড করার উদ্দেশ্যে এই স্পর্শকাতর রুটটি পাড়ি দেয়। যেহেতু এই জাহাজগুলো সরাসরি ইরানের কোনো বন্দরের দিকে যাচ্ছিল না, তাই কারিগরিভাবে এগুলোকে সরাসরি অবরোধের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিও জিয়াকুন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই অবরোধ আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলবে।

এদিকে কুয়েত সিটি থেকে আলজাজিরা জানিয়েছে, উপসাগরে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন উভয় সংকটে পড়েছে—তাদের এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই পক্ষেরই অনুমতি নিতে হচ্ছে। ট্রাম্প সমঝোতার আশা জিইয়ে রাখলেও, ইরানের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিতে হরমুজ প্রণালি এখন এক বিশাল রণক্ষেত্রে রূপ নেওয়ার অপেক্ষায়।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলল চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১৩:৪২:২০
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলল চীন
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে চীন। বেইজিংয়ের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে এবং লক্ষ্যভিত্তিক অবরোধ আরোপ করে উত্তেজনা প্রশমনের বদলে তা আরও বাড়িয়ে তুলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপগুলো অঞ্চলের নাজুক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

তিনি সতর্ক করে জানান, এমন কার্যক্রম ইতোমধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চীনা কর্মকর্তার মতে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে এই ধরনের সামরিক উপস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ সমুদ্রপথে নিরাপদ যাতায়াতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

গুও জিয়াকুন যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে ‘বিপজ্জনক’ এবং ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আচরণ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সূত্র: আল জাজিরা


আমেরিকার অন্দরেই বিদ্রোহ! ট্রাম্পের ‘ইরান যুদ্ধ’ নীতির বিরুদ্ধে ফুঁসছে খোদ নিউ ইয়র্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১১:৪৮:৫৮
আমেরিকার অন্দরেই বিদ্রোহ! ট্রাম্পের ‘ইরান যুদ্ধ’ নীতির বিরুদ্ধে ফুঁসছে খোদ নিউ ইয়র্ক
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নীতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ম্যানহাটনে যান চলাচল বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক চেলসি ম্যানিং এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী হারি নেফসহ অন্তত ৯০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

ম্যানহাটনে ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ সংগঠনের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ থেকে সিনেটর চাক শুমার ও কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডের অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভকারীরা ‘বোমায় নয়, মানুষের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করো’ স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তেলের দাম আরও বাড়ার সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন জ্বালানি দপ্তর। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার প্রভাবে ব্রিটিশ প্রতিটি পরিবার গড়ে ৪৮০ পাউন্ডের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একটি সরকারি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেও ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে গাজায় খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দিতে মেলবোর্ন থেকে একটি বিশাল ত্রাণবাহী বহর বা ফ্লোটিলা রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাজপথের বিক্ষোভ থেকে শুরু করে সমুদ্রপথের অবরোধ—সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।

সূত্র: আল জাজিরা


মার্কিন অবরোধ ভেঙে হরমুজ পার হলো চীনা ট্যাংকার!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১১:৪৬:১৫
মার্কিন অবরোধ ভেঙে হরমুজ পার হলো চীনা ট্যাংকার!
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নৌ-অবরোধ এবং আকাশছোঁয়া উত্তেজনার মাঝেই একটি দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা একটি চীনা তেলবাহী ট্যাংকার মার্কিন নৌবাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, 'রিচ স্টারি' নামের এই জাহাজটি অবরোধ শুরু হওয়ার পর প্রথম ট্যাংকার হিসেবে প্রণালিটি পার হয়ে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করল। এলএসইজি, মেরিনট্রাফিক ও কেপলারের মতো আন্তর্জাতিক শিপিং ডেটা সংস্থাগুলো এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান সাংহাই জুয়ানরুন শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের ওপর ইরানের সঙ্গে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মাঝারি আকারের এই ট্যাংকারটি প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল বহন করছে, যা সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দর থেকে লোড করা হয়েছিল।

জাহাজটিতে চীনা মালিকানার পাশাপাশি সব নাবিকই চীনা নাগরিক বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের অবরোধের মুখে এই চীনা জাহাজের পার হয়ে যাওয়া ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক


সময়ের কাঁটায় বন্দি শান্তি চুক্তি: ২০ বছর বনাম ৫ বছরের লড়াইয়ে উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১১:৩৯:৪৬
সময়ের কাঁটায় বন্দি শান্তি চুক্তি: ২০ বছর বনাম ৫ বছরের লড়াইয়ে উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক বৈঠকটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে, যার মূলে রয়েছে পারমাণবিক কার্যক্রমের সময়সীমা নিয়ে দুই দেশের আকাশপাতাল ব্যবধান।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন যেখানে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে তেহরান মাত্র ৫ বছরের সীমাবদ্ধতার কথা বলছে। সময়ের এই বিশাল ফারাক এবং একে অপরের প্রতি তীব্র আস্থাহীনতাই মূলত ৮০ শতাংশ অগ্রগতি হওয়ার পরও আলোচনাকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পায়। পাকিস্তানের ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই বৈঠক পরিচালিত হয়, যেখানে প্রতিনিধিদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা ছিল।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থাহীনতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেই হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বিশ্বাসের পরিবেশ আশা করে? জেনেভা বৈঠকের পর ইরানের ওপর হামলার ঘটনাটি তেহরানের সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।

যদিও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া হবে না, তবুও দুই পক্ষই আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, একটি মধ্যপন্থা হিসেবে ১২ বছরের একটি সমঝোতায় আসার সুযোগ রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান আবারও যোগাযোগ করেছে এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফা সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা নিরসনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

পাঠকের মতামত:

১৪ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

১৪ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

দেশের শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনে নির্বাচিত কিছু কোম্পানি উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নতুন করে বাড়িয়েছে। দিন শেষে প্রকাশিত... বিস্তারিত