হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘মহামন্দা’ ও মুদ্রাস্ফীতির কালো মেঘ

চলতি বছরের শুরু থেকেই বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি যে দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা রীতিমতো নজিরবিহীন। গত কয়েক দশকে বিশ্বায়ন যেভাবে দেশগুলোর অর্থনীতিকে একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট সেই ভিত্তিমূল্যেই আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক মহাবিপর্যয়ের সংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট যে, যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ কতটা সচল থাকে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের মানুষের জীবনযাত্রার মান।
এই সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের আকাশচুম্বী দাম। ইরান সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ এবং এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহের একটি বড় অংশ এই সরু পথটি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের প্রভাবে গত কয়েক দিনে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৮৩-৮৪ ডলারে উঠে গেছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবিরতা ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়বে। ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ব যখন মাত্র ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই এই নতুন সংকট সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো, যারা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তারা এখন থেকেই জরুরি অবস্থা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা যদি অবিলম্বে প্রশমিত না হয়, তবে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১৫০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল ও গ্যাস যাতায়াত করে, তার বিকল্প কোনো পথ নেই। ইরানের পক্ষ থেকে এই নৌপথটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির পর আন্তর্জাতিক বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা ঝুঁকি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছানো মানে হলো বিশ্বজুড়ে পরিবহন খরচ, কৃষি উৎপাদন এবং শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়া। ব্লুমবার্গের এক অর্থনৈতিক মডেলে দেখা গেছে, তেলের সরবরাহ মাত্র ১ শতাংশ কমলেই দাম ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সেই হিসাবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হলে তেলের দাম বর্তমানের তুলনায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এটি শুধু তেলের দামেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্লাস্টিক, সার এবং গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়বে। উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে এক গভীর অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ধাবিত করতে পারে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এর মাধ্যমেই বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। বর্তমান যুদ্ধে শুধু ইরান নয়, সৌদি আরব ও কাতারও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার এবং কাতারের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কাতার থেকে আসা এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলো যেমন ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়া চরম জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে।
২০২২ সালের মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এই নতুন যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে দাম বৃদ্ধির এক নতুন ঢেউ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দাম চড়া ছিল, এখন যুদ্ধের প্রভাবে তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো, যারা রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের সন্ধানে ছিল, তারা এখন নতুন করে জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন এক কঠিন দ্বিধায়— মুদ্রাস্ফীতি কমাতে সুদের হার বাড়াবে নাকি অর্থনীতিকে মন্দা থেকে বাঁচাতে সুদের হার কমাবে?
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের দেশগুলো এই সংকটে বিশেষভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ব্রিটেনের মতো দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও জ্বালানির একটি বড় অংশ আমদানি করে। হরমুজ প্রণালি এবং বাব-আল-মান্দেব প্রণালির অস্থিরতা সরাসরি তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। স্পট মার্কেটে গ্যাসের দাম গত কয়েক দিনে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের হিটিং খরচ এবং বিদ্যুতের বিল জুলাই নাগাদ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রেও এই দেশগুলো এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, যা বর্তমানে সংকটের মুখে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ বিশ্বকে একটি কঠোর বার্তা দিয়েছে—শুধু খনিজ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা যে কোনো সময় জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে পারে। গ্রিনপিসসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন এখন দেশগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আরও দ্রুত ঝুঁকে পড়ার আহ্বান জানাচ্ছে। ইউরোপ এরই মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে ১০ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করছে ক্লিন এনার্জি খাতে। দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ হয়তো বিশ্বকে সৌর ও বায়ু শক্তির মতো বিকল্প উৎসের দিকে ঠেলে দেবে, কিন্তু স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষকে এক কঠিন অর্থনৈতিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
পরিশেষে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ না হয়ে কয়েক মাস দীর্ঘায়িত হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি যে গভীর খাদে পড়বে, তা থেকে উত্তরণ সহজ হবে না। এমন পরিস্থিতিতে শান্তি স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বিশ্বনেতাদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। সূত্র: ব্লুমবার্গ, টাইম ও গার্ডিয়ান।
/আশিক
ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে ইরানের বের হয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকে মোটেও আমল বা পাত্তা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থানের জবাবে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরানের এমন একপাক্ষিক ঘোষণায় ওয়াশিংটনের ‘কিছুই যায় আসে না’। তবে সমঝোতা চুক্তিটি ভেঙে গেলেও ইরান যাতে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক মারণাস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সব মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক এবং পরবর্তীতে সেটি আর কার্যকর না রাখার বিষয়ে তেহরানের সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া সাম্প্রতিক ঘোষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, এতে আমার বিন্দুমাত্র কিছু যায় আসে না।
হোয়াইট হাউজের এই প্রধান নীতি নির্ধারক দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের চেয়ে ওয়াশিংটনের মূল কৌশলগত লক্ষ্য একটাই—আর তা হলো ইরান যেন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে এবং মার্কিন প্রশাসন সেই লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এখানে উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী কর্তৃক শুরু করা দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ওই বিশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে অতি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে বিরোধের জেরে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে আবারও উত্তেজনার পারদ হু হু করে বেড়েছে এবং দুই পক্ষই বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
এদিকে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা একটি মার্কিন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোন নিখুঁতভাবে ভূপাতিত করেছে। ইরানের স্বনামধন্য রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ড্রোন ধ্বংসের সামরিক তথ্যটি প্রকাশ করেছে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর অফিশিয়াল টেকনিক্যাল তথ্য ও বিবরণী অনুযায়ী, এমকিউ-৯ রিপার হলো অত্যন্ত আধুনিক ও দূরনিয়ন্ত্রিত একটি চালকবিহীন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান (ড্রোন)। এটি মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে অতি গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা, শত্রুর গতিবিধি নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ করা এবং সুনির্দিষ্ট নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার গাইডেড মিসাইল হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বজুড়ে ব্যবহার করে থাকে।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস
ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং বর্তমানে নির্মাণাধীন কৌশলগত ‘ডারখোভিন’ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিয়ম ও সমস্ত রক্ষাকবচের অধীনে থাকা সম্পূর্ণ বেসামরিক ও একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর এই আগ্রাসী হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম ও নজিরবিহীন লঙ্ঘন বলে কড়া ক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা স্পষ্ট করে জানায়, ডারখোভিন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখনো প্রাথমিক ও নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। তবে মার্কিন যুদ্ধবিমানের এই আকস্মিক হামলায় পারমাণবিক স্থাপনাটির ঠিক কী ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে কিংবা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কতটুকু, সে বিষয়ে তেহরান প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য বা পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান চরম বৈরিতার পারদ যখন দিন দিন আকাশচুম্বী হচ্ছে, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটল। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন। আর মার্কিন এই আগ্রাসনের কড়া জবাবে তেহরানের সশস্ত্র বাহিনীও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।
এখানে উল্লেখ্য যে, গত জুন মাসে প্রতিবেশী পাকিস্তানের সরাসরি মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির রূপরেখা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া মাঠপর্যায়ে চলমান থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের সামরিক বাহিনী কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না এবং দফায় দফায় এই ভয়াবহ গোলাগুলি ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক কেন্দ্রে সর্বশেষ এই মার্কিন হামলা দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে আরও বেশি সংঘাতময় ও সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।
/আশিক
আইএইএ-র চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়াদ-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক পরমাণু চালের নেপথ্যে
সৌদি আরবকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ও অনুমতি দিয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত অনুমোদন না মেলায় অত্যন্ত সংবেদনশীল এই চুক্তিটি এখন আইনি টেবিলে আটকে রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসেই এই সম্ভাব্য চুক্তির যাবতীয় কূটনৈতিক ও কারিগরি আলোচনা সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নথিতে সই করতে বিলম্ব করছেন। এ ছাড়া খসড়াটি মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত হলে সেখানে দেশটির প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে—এমন একটি প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক আশঙ্কাও এই বিলম্বের অন্যতম বড় কারণ।
পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নিয়মানুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটিই হলো মূলত পারমাণবিক বোমা বা মারণাস্ত্র তৈরির মূল ও প্রাথমিক অনুষঙ্গ। এই কারণে বিশ্বজুড়ে সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো দেশ যদি সম্পূর্ণ বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে চায়, তবে তারা নিজেরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তা প্রক্রিয়াজাত অবস্থায় আমদানি করে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, কঠোর বিধিনিষেধ বা আন্তর্জাতিক তদারকি না থাকলে এই শিথিল চুক্তির সুযোগ নিয়ে সৌদি আরব খুব সহজেই ভবিষ্যতে নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ও পথ পেয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে খোদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, তাদের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যদি কখনো পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তবে নিজেদের সুরক্ষায় সৌদি আরবও পরমাণু বোমা বানাতে বাধ্য হবে।
এই চুক্তির খসড়ায় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা হলো, এতে জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা বা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র চিরাচরিত কঠোর তদারকি ও জবাবদিহির নিয়মটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে, জাতিসংঘের এই স্বাধীন সংস্থাটি চাইলেই যখন-তখন সৌদির যেকোনো সন্দেহভাজন পরমাণু কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বা সেখানে আকস্মিক পরিদর্শন চালাতে পারবে না। পুরো পারমাণবিক কর্মসূচির দেখভাল ও নিয়ন্ত্রণ কেবল ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তানুযায়ী পরিচালিত হবে। অথচ ইতিপূর্বে ২০০৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যেরই আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের লোভ ত্যাগ করে সম্পূর্ণ কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ম ও জাতিসংঘের কড়া নজরদারি মেনে আমেরিকার সাথে চুক্তি সই করেছিল, যা বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক সুরক্ষার ইতিহাসে আজ অবধি আদর্শ নিয়ম বা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সৌদির মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মতো স্পর্শকাতর প্রযুক্তি হস্তান্তর করা চরম বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ রিয়াদ প্রশাসন যেকোনো সংকটের মুহূর্তে আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে এই পরমাণু কেন্দ্রগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাতারাতি নিজেদের একক সামরিক কর্তৃত্বে নিয়ে নিতে পারে। অন্যদিকে, এই চুক্তির পক্ষে ও মার্কিন প্রশাসনের যারা ওকালতি করছেন, তাদের প্রধান অর্থনৈতিক যুক্তি হলো—এই বিশাল চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকার নিজস্ব পরমাণু ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল অংকের মুনাফা অর্জনের বড় সুযোগ পাবে।
এ ছাড়া মার্কিন লবিস্টদের আরও দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি এখন সৌদিকে এই প্রযুক্তি না দেয়, তবে রিয়াদ হয়তো বিকল্প পথ হিসেবে রাশিয়া কিংবা চীনের কাছে হাত বাড়াবে; যারা কোনো কঠোর আন্তর্জাতিক শর্ত ছাড়াই আরও সহজে সৌদিকে এই পরমাণু প্রযুক্তি সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে চুক্তির ঘোর বিরোধীদের স্পষ্ট কথা, ওয়াশিংটন যদি বাণিজ্যিক লাভের আশায় এভাবে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিয়ম শিথিল করে সৌদির সাথে পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করে, তবে তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে মারাত্মক নজির হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সূত্র: সিএনএন।
ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেছেন, এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে আনাদোলু।
খামেনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার শর্ত যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ভঙ্গ করেছে। তার ভাষায়, এই পুনরাবৃত্ত ঘটনাই দেখিয়ে দিয়েছে যে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর নির্ভরযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করে দাবি করেন, জবরদস্তি, একচ্ছত্র আধিপত্য এবং কঠোর শক্তি প্রয়োগের নীতি দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অংশ হয়ে আছে।
নিজের বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বর্তমান উত্তেজনা আরও বাড়ানোর পথে এগোয়, তাহলে তাদের আরও বড় মূল্য দিতে হবে এবং আরও অপমানের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ এবং তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ (Resistance Front) যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা দীর্ঘদিন মনে রাখবে।
খামেনি জাতীয় ঐক্যের ওপরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সব স্তরের মধ্যে সংহতি বজায় রাখা। তার মতে, জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যোদ্ধাদের তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের দৃঢ় অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই দিনে দেওয়া এক পৃথক বার্তায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। এক্সে প্রকাশিত পোস্টে তিনি বলেন, বর্তমান ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে দেশের সাফল্যের প্রধান শর্ত হলো অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক বিভাজন ও মতবিরোধ থেকে দূরে থাকা।
এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করায় তেহরানও ওই সমঝোতার আওতায় নিজেদের অঙ্গীকার স্থগিত করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
-রফিক
সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য মিত্রদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিল ইরান
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য একটি বড় ধরনের ও বিস্তৃত সংঘাতের জন্য নিজেদের আঞ্চলিক সব মিত্র শক্তিকে আগাম প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইরান। লেবানন থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘নিদা আল-ওয়াতান’-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তেহরানের পক্ষ থেকে বিশেষ করে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহসহ পুরো ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষের শরিক দলগুলোকে যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। এরপর তেহরানে তার জানাজা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকগুলোতে মিত্রদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, শত্রুর বিরুদ্ধে ‘অপেক্ষার সময় এখন শেষের পথে’ এবং এই মুহূর্তে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করাই জোটের প্রধান ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংকট এমন এক সময়ে তৈরি হলো, যখন দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, সেই সমঝোতার মাত্র এক মাস পার হতে না হতেই আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ ও সংঘাত শুরু হয়ে গেছে।
চলমান এই নতুন দফার সামরিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরাসরি লিপ্ত হয়নি এবং তেহরানের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কোনো পাল্টা হামলা চালানো হয়নি। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লেবাননের হিজবুল্লাহ যদি এই পরিস্থিতিতে আবারও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে এই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত ও বিপজ্জনকভাবে পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে।
লেবানিজ ওই পত্রিকার প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহকে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার জন্য নিজেদের সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখার তাগিদ দিয়েছেন। ইরানি নীতি নির্ধারকদের মতে, সামনে যদি কোনো নতুন সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে, তবে তা পূর্বের যেকোনো লড়াইয়ের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত, ভয়াবহ ও মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন সংঘাত ও হামলায় ইরান-সমর্থিত বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক গোষ্ঠী বড় ধরনের সামরিক ও সাংগঠনিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তা সত্ত্বেও তেহরান প্রশাসন এখনো লেবাননের হিজবুল্লাহকেই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাদের ওপরই মূল ভরসা রাখছে।
প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আকস্মিক হামলা চালিয়ে এই অঞ্চলের একটি বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছিল। এর জবাবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী লেবানন জুড়ে ব্যাপক ও বিধ্বংসী বিমান হামলা চালায় এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে একটি বাফার জোন বা নিরাপত্তা বলয়ের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। এর আগে ২০২৪ সালের সংঘাত চলাকালেও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশকে সুনির্দিষ্টTarget করে হত্যা করেছিল ইসরায়েল।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আরেক অন্যতম শরিক ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহীরাও এই আঞ্চলিক সংকটের শুরু থেকে একাধিকবার ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনী টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন অভ্যন্তরীন অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানকে দেওয়া এক কঠোর হুঁশিয়ারির পর মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের হামলার পরিধি ও তীব্রতা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তারা ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতুসহ কৌশলগত অবকাঠামোগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল রুট হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে তাদের একচ্ছত্র চাপ ও নিয়ন্ত্রণ কমাতে বাধ্য করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মার্কিন এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও বসে নেই; তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মিত্র দেশগুলোর সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানের দিকে নতুন করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে সামনে আরও বড় ধরনের ও বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, আগের রাতে তাদের চালানো বিশেষ বিমান হামলায় ওমান উপসাগরের চাবাহার বন্দরে অবস্থিত ইরানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নজরদারি টাওয়ার সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দীর্ঘদিন ধরে চাবাহার বন্দরের এই বিশেষ টাওয়ারটি ব্যবহার করে আসছিল। এই টাওয়ারের মাধ্যমে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন বাণিজ্যিক মাদার ভেসেল ও সাধারণ জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত এবং হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করত।
মার্কিন সামরিক কমান্ডের ভাষ্য, এই কৌশলগত টাওয়ারটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ফলে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা সমন্বয় করার ক্ষেত্রে আইআরজিসির সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই পদক্ষেপটি আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে। নিজেদের দাবির সপক্ষে সেন্টকম ওই সামরিক হামলার একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ফুটেজও গণমাধ্যমের জন্য প্রকাশ করেছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ইরানে হামলার পরিধি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প, ইসরায়েলে ধেয়ে আসছে আরও ডজনখানেক মার্কিন যুদ্ধবিমান
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের পরিধি আরও ব্যাপক আকারে বিস্তৃত করার জন্য এক রক্তক্ষয়ী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই লক্ষ্য অর্জনে ইসরায়েলের মাটিতে আরও কয়েক ডজন অত্যাধুনিক আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) যুদ্ধবিমান পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে নতুন কয়েকটি কঠোর সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করার পর হোয়াইট হাউস ইরানে বিমান হামলার পরিধি বহুগুণ বাড়ানোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকাগুলোতে যে ধরনের হামলা চলছে, নতুন এই পরিকল্পনায় তার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত ও বিধ্বংসী অভিযান চালানোর কথা রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য নতুন লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের প্রধান প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো এবং দেশটির বিতর্কিত পারমাণবিক স্থাপনাসমূহ। এ ছাড়া ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেইন’-এর গভীরে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনাতেও হামলার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে, যেখানে ইরান নতুন ও অত্যাধুনিক সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলছে বলে ওয়াশিংটনের জোরালো ধারণা।
অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এই প্রস্তাবিত বিস্তৃত হামলার বিষয়ে তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সবুজ সংকেত দেননি। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সংকটে ফেলতে তিনি চলমান হামলার তীব্রতা ও পরিধি বাড়ানোর পক্ষেই অবস্থান করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো, যেকোনো মূল্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালির অবরুদ্ধ নৌপথ পুনরায় খুলে দিতে এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের দেওয়া সকল কঠোর শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা। মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই বর্ধিত হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করা হতে পারে।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে টানা পঞ্চম দিনের মতো হরমুজ প্রণালি ও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সামরিক স্থাপনাগুলোতে বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাসের আশপাশের অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই বন্দর আব্বাস শহরকে হরমুজ প্রণালি এলাকায় ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অন্যতম প্রধান ও সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরান ও তাদের প্রতিরোধ যোদ্ধারাও পাল্টা প্রতিরোধ হামলা জোরদার করেছে। আইআরজিসির আনুষ্ঠানিক দাবি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে তারা নতুন করে সফল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া সিরিয়ায় অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান, যদিও মার্কিন সামরিক সূত্র দাবি করেছে যে কয়েক মাস আগেই ওই নির্দিষ্ট ঘাঁটি থেকে তাদের সকল সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০টি অত্যাধুনিক রিফুয়েলিং বিমান অবস্থান করছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমি সংলগ্ন রেমন বিমানঘাঁটিতেও প্রায় একই সংখ্যক মার্কিন সামরিক বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই পেন্টাগন আরও কয়েক ডজন রিফুয়েলিং বিমান পাঠাতে পারে, যার ফলে যুদ্ধ শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যে বিপুল পরিমাণ মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি ছিল, সেই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে দেশটি।
মার্কিন সামরিক কমাণ্ডাররা বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরকেই তাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করছেন, কারণ তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতে থাকা মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলো ইরানের দূরপাল্লার নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
তবে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সামরিক ও জ্বালানি বিমান বেন গুরিয়নের মতো একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে অবস্থান করায় খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান অনতিবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া বা তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই বেসামরিক প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছে, যুদ্ধের এই মোক্ষম সময়ে মার্কিন বিমানকে সরানোর কোনো সুযোগ নেই। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এই অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক বিমানগুলো ঠিক কোথায় সুরক্ষিত রাখা হবে, সেই বিকল্প ব্যবস্থার দায়িত্ব সম্পূর্ণ ইসরায়েল সরকারকেই নিতে হবে।
/আশিক
কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা: সীমান্তে জ্বলছে আগুন, নেপথ্যে কী?
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতের আঁচ এবার এসে লেগেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র কুয়েতেও। কুয়েত ও ইরাকের মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায় একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে আকাশের দিকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাতভর ইরানের পক্ষ থেকে চালানো একটি বড় ধরণের বিমান হামলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত ৩২টি বৈরী ও শত্রুতামূলক ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ইন্টারসেপ্ট করেছে। এই ড্রোনগুলো কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও তাদের সম্পদগুলোকে নিশানা করে পাঠানো হয়েছিল।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক মোতায়েন সাইট এবং লজিস্টিক সাপোর্ট বা রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি ও দায় স্বীকার করেছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি কর্তৃক প্রকাশিত এক সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ইতিহাস, জনগণের সমর্থন, অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধপ্রস্তুতির ওপর ভরসা রেখে আমরা যেকোনো ধরনের চাপ বা হুমকির বিরুদ্ধে পূর্ণ সতর্কতা ও কর্তৃত্বের সাথে দাঁড়িয়ে আছি।" কুয়েতের মাটিতে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের এই আকস্মিক ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলেছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
হরমুজের সেতু উড়িয়ে দিল মার্কিন মিসাইল: ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, কী ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যে?
হরমুজের সেতু উড়িয়ে দিল মার্কিন মিসাইল: ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, কী ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যে? আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এখন এক চরম ও বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহিনী, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে ইরানের ওপর টানা ষষ্ঠ রাতের মতো একযোগে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে মূলত ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটি, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য নিখুঁত নিশানা বা প্রিসিশন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের উপর্যুপরি হামলার জবাব দিতে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতাকে চূড়ান্তভাবে পঙ্গু করে দিতেই ওয়াশিংটন এই বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম। বর্তমানে এই অঞ্চলে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় প্রস্তুত রয়েছে।
এই উপর্যুপরি হামলায় ইরানের দক্ষিণ খাতের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ধসে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজগান প্রদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস বা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বন্দর আব্বাস থেকে খেমির ও লার শহরের সংযোগকারী ‘গারিভেহ সেতু’, লাতিদান গ্রামের নিকটবর্তী একটি সেতু, কাহুরেস্তান-লার রুটের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং বন্দর-ই খেমির, কেশার ও বন্দর আব্বাসের সংযোগস্থলে নির্মাণাধীন একটি সেতু ও খেমির জেলার মারু গ্রামের একটি সেতু রয়েছে। সেতুগুলো ধসে পড়ায় এই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন জরুরি উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে সাধারণ মানুষকে এই রুটগুলোতে যাতায়াত না করার এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।
সেতুগুলো ধ্বংস করার পাশাপাশি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বন্দর চাবাহারের মেরিটাইম কন্ট্রোল টাওয়ার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থাপনাটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলো। এর বাইরেও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ও দ্বীপগুলোতে উপর্যুপরি হামলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আহভাজ, কেশম, বুশেহর, দস্তি, বোস্তান, সিরিক এবং বন্দর-ই লেঙ্গাহর মতো প্রধান উপকূলীয় শহরগুলোতে বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে, যা বিগত রাতগুলোর তুলনায় অবকাঠামোগত অনেক বেশি ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে বন্দর আব্বাসের ‘তাপে আল্লাহ আকবর’ এলাকা এবং ইরানশাহর শহরের একটি বিমানবন্দরেও সফলভাবে আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী, যার ফলে পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং বিমানবন্দরটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া পর্যটন দ্বীপ কিশেও তীব্র বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
এই প্রলয়ঙ্করী সংঘাতের উত্তাপ এবার ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী কাতারেও। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, দেশের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা বেশ কয়েকটি বিমান হামলা প্রতিহত ও ইন্টারসেপ্ট করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এর আগে, কাতারকে লক্ষ্য করে চালানো একটি ইরানি হামলার পর আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের ফলে ওপর থেকে পড়া কামানের টুকরো বা শার্পনেলের আঘাতে কাতারে একজন শিশু আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার এই উন্মুক্ত যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্রে এর ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি বড় ধরণের আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবও অবরুদ্ধের ছক, বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হবে জ্বালানি সংকট
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে সামরিক হামলা চালায়, তবে তার পাল্টা জবাব হিসেবে লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক তেল ও জ্বালানি পরিবহনের প্রধান সমুদ্রপথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহীদের প্রস্তুত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই কৌশলগত পরিকল্পনার বিষয়ে সরাসরি অবগত কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই গোপন সামরিক চালটি বিশ্ববাজারের সামগ্রিক পণ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের চেইনে নতুন এবং অত্যন্ত মারাত্মক একটি হুমকি তৈরি করতে পারে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ইরানের শীর্ষস্থানীয় দুটি সূত্র জানিয়েছে, লোহিত সাগরে সম্ভাব্য এই নৌ অবরোধের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে নীতিগত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং তেহরানের সেই চূড়ান্ত বার্তাটি হুতি কমান্ডের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তবে এই স্পর্শকাতর রণকৌশলের বার্তাটি ঠিক কোন মাধ্যমে বা কীভাবে হুতিদের কাছে পাঠানো হয়েছে, সূত্রগুলো সেটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তারা শুধু এটুকু নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানের এই বিশেষ অনুরোধ বা নির্দেশের বিষয়ে হুতিরা সম্প্রতি সুনির্দিষ্টভাবে জানতে পেরেছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা ও বিস্তারিত জানতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুতিদের একজন শীর্ষ মুখপাত্রের সঙ্গে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষেরই আনুষ্ঠানিক সাড়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে হুতিদের নীতিনির্ধারণী মহলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করেছে, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং এডেন উপসাগরের নিকটবর্তী একটি কৌশলগত পার্বত্য অঞ্চলে ইতিমধ্যে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। এই সমরাস্ত্র মোতায়েনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রধান প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে চলাচলকারী যেকোনো আন্তর্জাতিক জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকারে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালানোর যাবতীয় সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে গোষ্ঠীটি। হুতি যোদ্ধারা এখন শুধু তেহরানের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের জেরে ইরান নিজেই তাদের সীমানায় অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে যে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা যদি বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের মাধ্যমে আরও প্রসারিত হয়, তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মুহূর্তের মধ্যে দ্বিগুণ আকার ধারণ করবে। হুতিদের ঘনিষ্ঠ ওই সূত্রটি আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, ইয়েমেনের মাটিতে অবস্থানরত ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিশেষ প্রতিনিধিরাই মূলত বাব আল-মান্দেব প্রণালি কখন এবং কীভাবে বন্ধ করা হবে—সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সার্বিক অপারেশনাল প্রক্রিয়াটি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ টেনিস কোর্টে, স্পেনের জয় নিয়ে আশাবাদী নাদাল
- ঘরে বসে যেভাবে সরাসরি স্মার্টফোনে দেখবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণ
- গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- ১৭ ফেব্রুয়ারির গণভোট সাংবিধানিক ছিল না, ওটা ছলচাতুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- আগাম ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশি পাসপোর্টে ঘোরা যাবে বিশ্বের ৩৬টি দেশ
- সংসদে দাবি আদায় না হলে রাজপথে সরকার ভাঙার আন্দোলন: ডা. শফিকুর রহমান
- যুক্তরাষ্ট্রকে কখনো ভুলতে না পারার মতো শিক্ষা দেওয়ার ঘোষণা মোজতবা খামেনির
- ঢাকাসহ ১৭ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
- ১৬ বছরের অপেক্ষা শেষ: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে স্পেন
- ১০৩ ম্যাচের গোলবন্যা ও লড়াকু ফুটবল: অনন্য এক বিশ্বকাপের রূপরেখা
- ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে মেসির আবেগঘন বার্তা: 'ট্রফি জেতাই সবকিছু নয়'
- ১৩ বছর পর আলোর মুখে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
- আইএইএ-র চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়াদ-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক পরমাণু চালের নেপথ্যে
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- বিশ্বকাপে ৬ গোল হজম, ফ্রান্সের দুঃস্বপ্নের রাত
- আজ বের হওয়ার আগে দেখে নিন কোন মার্কেট বন্ধ
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে দেখে নিন আজকের দাম
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- অন্তরালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে বড় বিভাজন
- কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক নির্মূলে ইমামদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনাসভা
- কুমিল্লার ৩ সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি, ৫ বছরেও নেই সংস্কার
- ফাইনালের আগে স্পেনকে সতর্ক করলেন বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি ভিসেন্তে দেল বস্ক
- ইয়ামালকে থামানোর উপায় কী? স্কালোনি বললেন ‘রুমে তালা মেরে রাখা’
- ৮ গোলে মেসি-এমবাপ্পের সমতা, গোল্ডেন বুটের ফয়সালা হবে যেভাবে
- সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য মিত্রদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিল ইরান
- কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বার্তা দিল ইরান
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিয়ে বিশ্লেষকদের রেকর্ড ভাঙা ভবিষ্যৎবাণী
- জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আইআরজিসির বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- প্রধানমন্ত্রী মুখে মধু আর অন্তরে ছলনা রাখছেন: নাহিদ ইসলাম
- তথ্য বিকৃত করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
- ১৫০ দিনেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছে সরকার: মাহদী আমিন
- ঢাকার দূষণ ও যানজট রোধে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ
- ইরানে হামলার পরিধি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প, ইসরায়েলে ধেয়ে আসছে আরও ডজনখানেক মার্কিন যুদ্ধবিমান
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- শনিবার বন্ধ রাজধানীর বহু মার্কেট, দেখুন তালিকা
- দেবিদ্বারে আ.লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?
- 'জুলাই সনদ' কি কেবলই ক্ষমতার হাতিয়ার? ফখরুলের বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা
- কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা: সীমান্তে জ্বলছে আগুন, নেপথ্যে কী?
- হরমুজের সেতু উড়িয়ে দিল মার্কিন মিসাইল: ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, কী ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যে?
- শহীদ আবু সাঈদ হলেন জুলাই বিপ্লবের ইমাম ও রূহানী নেতৃত্ব: নাহিদ ইসলাম
- ঢাকার দোরগোড়ায় ৭.৫ মাত্রার মহা-ভূমিকম্পের শঙ্কা, ৩-৫ শত বছরের চক্র এখন পূর্ণ
- হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবও অবরুদ্ধের ছক, বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হবে জ্বালানি সংকট
- জিয়া হত্যার খুনি মোজাফফরের ৪৫ বছরের অন্তরাল: বেশির ভাগ সময় কেটেছে ভারতের মাটিতে
- ম্যাচ হেরে মাঠেই মেজাজ হারালেন বেলিংহাম, আর্জেন্টিনার বারকোর মাথায় চড়!
- কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ৬৫% বেশি প্রাইজমানি নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি বিশ্বকাপ
- রাত ১টার মধ্যে ঢাকাসহ ১৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
- মার্কিন হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব বন্ধের ছক: হুতিদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল তেহরান
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- ওয়াল্ট রস্টোর আধুনিকীকরণ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- ট্যালকট পার্সন্সের Pattern Variable তত্ত্ব: আধুনিকতা ও উন্নয়ন ভাবনার রাজনীতি
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- সৌদি-হুথি সংঘাত ফের তীব্র, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি
- ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন
- যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
- ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, ‘আরও বড় হামলা আসছে’








