নির্বাচনের দিনই গণভোট: গণভোটের প্রশ্নে যা থাকছে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১৩ ১৫:১৬:১৯
নির্বাচনের দিনই গণভোট: গণভোটের প্রশ্নে যা থাকছে
ছবি: সংগৃহীত

জাতির উদ্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেল আড়াইটায় দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেনআসন্ন জাতীয় নির্বাচনের দিনই দেশজুড়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। জুলাই সনদের আলোকে প্রস্তাবিত চারটি মৌলিক বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে ব্যালটে থাকবে একটিমাত্র প্রশ্ন, যেখানে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হবে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ, যারা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই সনদে যে কাঠামোগত রাজনৈতিক সংস্কারের নকশা উপস্থাপিত হয়েছে, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সম্মতি দিলে সেই ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনর্গঠন করা হবে। তিনি জানান, গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনযোগ্য চারটি মূল বিষয়ের সারমর্ম হলো-

১. নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো

তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদের প্রক্রিয়া অনুযায়ী গঠিত হবে। লক্ষ্য নির্বাচনকে পুরোপুরি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা।

২. দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ

আগামী সংসদ দুই কক্ষ বিশিষ্ট হবে।

  • ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে।
  • সংবিধান সংশোধনে এই উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে।এটি ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় নতুন রাজনৈতিক স্থাপত্যের ইঙ্গিত দেয়।

৩. জুলাই সনদের ৩০ দফা রাজনৈতিক সংস্কার বাধ্যতামূলক বাস্তবায়ন

নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যকাল সীমাবদ্ধকরণ, রাষ্ট্রপতির কিছু ক্ষমতা পুনঃনির্ধারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ বিস্তৃত সংস্কারসমূহ বাস্তবায়ন করতে নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় থাকবে।

৪. জুলাই সনদের অন্যান্য সংস্কারসমূহ বাস্তবায়ন

রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার অনুযায়ী জুলাই সনদে উল্লেখিত বাকি সংস্কারসমূহ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের নির্দেশনা থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যেই তারা সংবিধান পুনঃগঠনের কাজ সম্পন্ন করবেন।


সরকারি কর্মচারীদের সঞ্চয় ও অনুদান তহবিলে নতুন অর্থবছরীয় নির্দেশনা জারি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৭:৫৪:৫২
সরকারি কর্মচারীদের সঞ্চয় ও অনুদান তহবিলে নতুন অর্থবছরীয় নির্দেশনা জারি
ছবি : সংগৃহীত

নবম পে স্কেল প্রজ্ঞাপন জারির ধারাবাহিকতায় সরকারি চাকরিজীবীদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ) এবং কনট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ডের (সিপিএফ) অর্থ জমার বিপরীতে নতুন মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি-১ শাখা থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তহবিলের মোট স্থিতির ওপর ভিত্তি করে সরকারি কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ হারে মুনাফা সুবিধা পাবেন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর জিপিএফের প্রারম্ভিক স্থিতি ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে তিনি সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। অর্থের পরিমাণ ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে শুরু করে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে সে ক্ষেত্রে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ শতাংশ। তবে তহবিলের স্থিতি ৩০ লাখ টাকা অতিক্রম করলে অতিরিক্ত অংশের জন্য মুনাফার হার কমে দাঁড়াবে ১১ শতাংশে। সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে কর্মচারীর বেতন থেকে কর্তনকৃত চাঁদার ওপরও সমহারে এই মুনাফা নীতি প্রযোজ্য হবে।

অন্যদিকে প্রজ্ঞাপনে সিপিএফের আওতাভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনগুলোর বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব সংস্থা বা করপোরেশন তাদের নিজস্ব বিদ্যমান আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের মুনাফা দিতে পারবে। তবে কোনো অবস্থাতেই সংস্থাগুলো সরকারের নির্ধারিত এই মুনাফার সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করতে পারবে না।

/আশিক


বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৭:৪৮:০৬
বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল ও আস্থাশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার শতভাগ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান বাংলাদেশ বিশ্বমানের ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে অবস্থিত জেপি মর্গানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সাথে এক বিশেষ প্রাতরাশ বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। রাজনীতিবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশের পূর্বে নিজের ব্যবসায়িক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সফল বিনিয়োগের জন্য বাজারের স্থায়িত্ব, নীতিগত পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক পরিবেশই মূল চাবিকাঠি।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়ীরা তাদের বিনিয়োগের স্বার্থ রক্ষা করেন, আর তিনি দেশের ১৮ কোটি মানুষের সার্বিক অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। উভয় পক্ষের দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূল লক্ষ্য এক ও অভিন্ন—তা হলো যৌথ সাফল্য অর্জন করা। তিনি আরও জানান, বিশ্ব এতদিন বাংলাদেশকে কেবল পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে চিনলেও বর্তমান বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী অর্থনীতিতে রূপান্তর করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি শক্তি ও জ্বালানি, আধুনিক অবকাঠামো, লজিস্টিকস, উচ্চ প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উন্নত কৃষি এবং স্বাস্থ্যখাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে। বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের সাথে বাংলাদেশের গভীর সংযোগ তৈরি করতে জেপি মর্গানের প্রথম সার্বভৌম বন্ড চালুর ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বিনিয়োগকারীদের প্রতিশ্রুতি দেন যে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, দ্রুত মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার সুবিধা, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগ সুরক্ষায় কার্যকর প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আমেরিকার সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারের পাশাপাশি চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে নতুন কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি সরাসরি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সাথে সমন্বয় করে প্রশাসনিক বাধাগুলো নিরসন করবেন। পরিশেষে, আমেরিকান ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্পমেয়াদী সুবিধার বদলে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

/আশিক


সাবেক ওসিকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য: আদালতের নতুন নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ২১:৫৬:১৫
সাবেক ওসিকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য: আদালতের নতুন নির্দেশনা
সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসান। সংগৃহীত ছবি

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে রাষ্ট্রদ্রোহের এই মামলায় তাঁর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম পাঁচ দিনের এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে জমা দেওয়া রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি আইডি থেকে ‘আ.লীগ নেতার সঙ্গে ওসির বৈঠক’ শিরোনামে একটি অডিও কল রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। মামলার বাদী ওই অডিও অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হন যে অডিওর বিতর্কিত বক্তব্য ও কণ্ঠস্বর মূলত বরখাস্তকৃত ওসি রাকিবুল হাসানের।

পুলিশের তদন্ত আবেদনে আরও বলা হয়, ফাঁস হওয়া ওই অডিও রেকর্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর ভূমিকা এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে স্পর্শকাতর বক্তব্য ছিল। সেখানে সেনাবাহিনীকে নিষ্ক্রিয় বা ‘নিউট্রাল’ থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের পদায়ন, বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং বাহিনীর বিভিন্ন তহবিল নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ আরও দাবি করে, অডিও বার্তাটিতে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষে উসকানি, অসন্তোষ তৈরি ও প্ররোচনার মাধ্যমে দেশে বড় ধরনের দাঙ্গা-হাঙ্গামা এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মচারী হয়েও তিনি সরকারের সমালোচনা, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনাশ, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ষড়যন্ত্র এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন।

উক্ত অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে রাকিবুলকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, রাষ্ট্রদ্রোহের এই ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন, অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জন সহযোগীকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার এবং বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে এই রিমান্ড আবশ্যক ছিল।

উল্লেখ্য, মামলাটিতে দণ্ডবিধির ১২৪-ক ও ১৫৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। রিমান্ড আবেদন অনুযায়ী, প্রচলিত আইন মেনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি সাপেক্ষেই এই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিও ছড়ানোর পরপরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, যদিও রাকিবুল এটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া কল রেকর্ড এটি।

/আশিক


বিশ্বমঞ্চে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ২১:৫০:৪৭
বিশ্বমঞ্চে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ পরিণতি মোকাবেলায় সমগ্র বিশ্বকে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর পক্ষে একা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষতিকর প্রভাব সামাল দেওয়া সম্ভব নয়; এজন্য বড় পরিসরে বৈশ্বিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৪-এ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের হুমকি মোকাবেলা সংক্রান্ত আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রাণবন্ত ও সক্রিয় বদ্বীপ, যেখানে শত শত নদী বহমান থেকে সাগরে গিয়ে মিশেছে। ফলে এ দেশের মানুষের জীবনধারা সরাসরি পানির সাথে যুক্ত এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ উপকূলীয় পরিবেশের ওপর ওতপ্রোতভাবে নির্ভরশীল।

বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যদি মাত্র ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়, তবে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমির তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে আনুমানিক এক কোটি মানুষের বাসস্থান, স্বাভাবিক জীবিকা ও মানবিক মর্যাদা চরম হুমকির মুখে পড়বে।

সীমিত আর্থিক ও বৈশ্বিক সম্পদ সত্ত্বেও বাংলাদেশ এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইতোমধ্যে সরকার আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় বিশেষ প্রস্তুতি ও উপকূল সুরক্ষায় নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে। জলবায়ু সহনশীলতা আরো জোরদার করতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন, পানি সংরক্ষণ প্রকল্প প্রসার, পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগ বাস্তবায়ন, আধুনিক মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে তিস্তা ব্যারাজ আধুনিকায়ন এবং দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর সাথে সবুজ শিল্পায়ন, আধুনিক পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা, জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় প্রতিবেশ ব্যবস্থার সুরক্ষায় ধারাবাহিক কাজ চলছে।

তবে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, শুধু খাপ খাইয়ে নেওয়া বা অভিযোজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সুবিশাল ক্ষতি এড়ানো যাবে না; বরং বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিশ্বের বর্তমান অপচয়মূলক ভোগের ধরন পরিবর্তন করতে হবে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট থেকে এ সময় তিনি ৪টি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান

১. দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গতভাবে বিশ্বজুড়ে ক্ষতিকারক কার্বন নিঃসরণ কমানো;

২. জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা;

৩. উপকূলীয় দেশগুলোতে জলবায়ু-বান্ধব প্রযুক্তি, সঠিক তথ্য-উপাত্ত ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সহজ প্রবেশাধিকার দেওয়া; এবং

৪. জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি ও সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

বাস্তুচ্যুত মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন ও পুনর্বাসন নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষ করেন এটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে যে—সমুদ্রের জলস্তর অতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই বিশ্বের মানুষের রাজনৈতিক ও সামাজিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেও আরও গতিশীল করতে হবে। আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সকল দেশকে সম্মিলিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, যাতে কোনো দেশকেই সমুদ্রের এই 'উত্থিত জোয়ারের' মুখে একা পড়তে না হয়।

/আশিক


জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে জাইমা রহমান: ৮১তম সাধারণ পরিষদের লিগ্যাল অফিসার তিনি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ২১:১৮:৩৪
জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে জাইমা রহমান: ৮১তম সাধারণ পরিষদের লিগ্যাল অফিসার তিনি
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে 'লিগ্যাল অফিসার' হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। সভাপতির এই বিশেষ কার্যালয়ে বিভিন্ন পদে যুক্ত মোট ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।

বাংলাদেশি অভিজ্ঞ কূটনীতিক আব্দুল আলিম সভাপতির কার্যালয়ের 'ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট' বা উপ-প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া এ কার্যালয়ে যুক্ত থাকা অন্য বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী পদে মোয়াজ্জেম হোসেন, তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাস বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে মাফিজুল ইসলাম, টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা পদে জাকির আহমেদ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলো বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. রফিকুল আলম মোল্লা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁরই সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জাতিসংঘের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, আইন কর্মকর্তা হিসেবে জাইমা রহমান মূলত সভাপতির কার্যালয়ের সার্বিক আইনি বিষয়াদি দেখভাল করবেন।

উল্লেখ্য, জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যাসন্তান এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি। তিনি যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। তিনি ২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায়ও কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন।

অন্যদিকে, সভাপতির কার্যালয়ে উপ-প্রধানের দায়িত্ব পাওয়া আব্দুল আলিম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ক্যাডারে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জাতিসংঘের প্রশাসনিক বিধান অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতি সংস্থাটির সরাসরি বেতনভুক্ত কর্মচারী নন। তাঁর বেতন-ভাতা, আবাসনসহ অপরাপর আনুষঙ্গিক খরচ সাধারণত তাঁর নিজস্ব দেশ বা নিজ দেশের সরকার থেকে বহন করা হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট এবং ট্রাস্ট ফান্ড থেকেও কিছু ব্যয় নির্বাহের সুযোগ রয়েছে।

/আশিক


জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চরম সংকট: কার্গো স্থানান্তর বন্ধে কমলো এলএনজি সরবরাহ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৯:৫০:০১
জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চরম সংকট: কার্গো স্থানান্তর বন্ধে কমলো এলএনজি সরবরাহ
এলএনজি সংকট ও রান্নার দুর্গতি ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি

বঙ্গোপসাগরে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাস প্রক্রিয়া চরমভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাবে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে পুনরায় সরবরাহ কমে গেছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোবাংলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সরকারি সংস্থাটি জানায়, মহেশখালী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ ও উত্তাল আবহাওয়ার দরুন সমুদ্রের ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি কার্গো থেকে গ্যাস স্থানান্তরের (ট্রান্সফার) সংবেদনশীল কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজির নিয়মিত সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে।

পেট্রোবাংলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল ২ হাজার ৫৯১ এমএমসিএফডি। ওই সরবরাহের মধ্যে দেশের ভেতরের প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে পাওয়া গিয়েছিল ১ হাজার ৫৮৮ এমএমসিএফডি এবং রূপান্তরিত এলএনজি (আরএলএনজি) ছিল ১ হাজার ৩ এমএমসিএফডি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৩০১ এমএমসিএফডিতে। এই সময়ে দেশীয় ক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১৫ এমএমসিএফডি হলেও এলএনজি সরবরাহ একলাফে কমে ৬৮৬ এমএমসিএফডিতে নেমে এসেছে।

হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিগত তিন দিনের ব্যবধানে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে ২৯০ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে আরএলএনজি সরবরাহেই ধস নেমেছে ৩১৭ এমএমসিএফডি, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ৩২ শতাংশ কম। তবে ইতিবাচক দিক হলো, একই সময়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন ২৭ এমএমসিএফডি বৃদ্ধি পাওয়ায় মোট ঘাটতি কিছুটা হলেও কমেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে সমুদ্র শান্ত হলে এলএনজি খালাস কার্যক্রম আবার চালু হবে এবং দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেছে পেট্রোবাংলা।

/আশিক


অতীত আর বর্তমানের মিল: দেশজুড়ে আবার কি এক-এগারোর ছায়া?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৯:১৫:২০
অতীত আর বর্তমানের মিল: দেশজুড়ে আবার কি এক-এগারোর ছায়া?
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন এক ধরনের দমবন্ধ করা বা গুমোট পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এক অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তবে দলটি এমন এক সময়ে ক্ষমতা লাভ করেছে, যখন সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল। এর পেছনে রয়েছে সদ্যবিদায়ী ইউনূস সরকারের নানা ধরনের অপশাসন, ভুল নীতি এবং দুর্নীতি, যা দেশের অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

বর্তমানে দেশের বেসরকারি খাত প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছেছে। অসংখ্য কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজ হারিয়েছেন লাখ লাখ শ্রমিক। অন্যদিকে ব্যবসায়ী সমাজের বিরুদ্ধে ক্রমাগত মামলা ও প্রশাসনিক হয়রানির কারণে নতুন কোনো বিনিয়োগ আসছে না। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও চরমভাবে ভেঙে পড়েছে; মব সন্ত্রাস এবং কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া তাণ্ডবে অতিষ্ঠ জনজীবন। অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। পাশাপাশি প্রশাসনে অস্থিরতা, শিক্ষাঙ্গনে বিশৃঙ্খলা এবং সামাজিক অস্থিতিশীলতা চরম রূপ ধারণ করেছে। ঠিক এমনই এক ভয়াবহ প্রেক্ষাপটে বিএনপি নতুন সরকার গঠন করে।

ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিন যেতে না যেতেই বৈশ্বিক অঙ্গনে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে তেলের দাম, যা পুরো বিশ্বজুড়ে তৈরি করে নতুন অর্থনৈতিক সংকট। ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর পাশাপাশি বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবেলা করা নতুন বিএনপি সরকারের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন নাগরিকরা খুব ভাল করেই বোঝেন যে, বিগত সময় থেকে চলে আসা এত গভীর সংকট থেকে রাতারাতি বেরিয়ে আসা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও মাত্র সাত মাস বয়সী এই সরকারের বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট মহল অযৌক্তিক সমালোচনা ও দোষারোপের রাজনীতি শুরু করেছে। এমনকি কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে ঘোষণা দিচ্ছে যে, তারা এই সরকারকে বেশি সময় দিতে রাজি নয়।

এর পাশাপাশি সুশীল সমাজের একটি অংশ অনির্বাচিত প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা দখলের পুরনো চক্রান্তে নতুন করে মেতে উঠেছে। যখন জাতীয় সংকট কাটিয়ে উঠতে রাজনৈতিক ঐক্য ও স্থিতিশীলতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, ঠিক তখনই কৃত্রিমভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। অতীতেও দেশে বিরাজনীতিকরণ ও গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করতে একইভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত সুশীল সরকার ক্ষমতায় এসেছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি হঠাৎ করেই তৈরি হয়নি, বরং এর পেছনে রয়েছে একটি গভীর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক চক্রান্ত। ২০০৬ সালের শেষভাগের পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, তখনকার রাজনৈতিক পেক্ষাপটের সঙ্গে আজকের পরিস্থিতির অদ্ভুত মিল রয়েছে। সে সময় ক্ষমতার লড়াইকে কেন্দ্র করে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল, যার পরিণতিতে দেশজুড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। টানা অবরোধের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়েছিল।

ওই সময় সুশীল সমাজের একটি অংশ উভয় পক্ষের মধ্যকার বিরোধ আরও উসকে দিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তাদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও মিডিয়া প্রচারণা পুরো জাতিকে বিভ্রান্ত করেছিল এবং দলগুলোকে সমঝোতার পথ থেকে সরিয়ে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল একটি চরম জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যার সুযোগ নিয়ে পরবর্তীতে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে এক-এগারোর সরকার ক্ষমতা দখল করে। ক্ষমতা গ্রহণের পর তাদের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দেয় যে, সেদিনের ঘটনাগুলো ছিল বিরাজনীতিকরণের এক নিখুঁত ও পরিকল্পিত নীলনকশা। বর্তমানের ঘটনাবলী দেখে প্রশ্ন উঠছে—দেশে আবারও সেই একই ইতিহাস পুনরাবৃত্তির চেষ্টা চলছে কি না।

বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একটি অংশ সুযোগ পেলেই রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করে অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় বসার চেষ্টা করে থাকে। তবে তাদের পরিচালিত অনির্বাচিত শাসনের অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের জন্য কখনোই ভালো কিছু আনেনি। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৭ সালের ফখরুদ্দীন সরকারের মূল এজেন্ডাই ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চিরধরে দেওয়া এবং সহিংসতা বাড়িয়ে রাজনীতির প্রতি জনগণের চরম অনীহা তৈরি করা। তাদের দ্বিতীয় লক্ষ্য ছিল দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীল এক পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা, যাতে দেশি ব্যবসায়ীদের মিথ্যা মামলা ও মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে ধ্বংস করা যায়। আর তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল একটি অনুগত সুশীল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যা জনগণের স্বার্থে না চলে বিদেশি প্রভাবশালীদের আদেশে পরিচালিত হবে।

বিদায়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতি বিশ্লেষণ করলেও ২০০৭ সালের সেই এক-এগারো সরকারের কাজের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়। ফখরুদ্দীন সরকারের মতোই ইউনূস সরকার বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছিল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে কৃত্রিম বিভেদ সৃষ্টি করেছিল। ইউনূস সরকারের গঠিত 'জাতীয় ঐকমত্য কমিশন' ঐক্যের পথ না খুঁজে উল্টো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করেছে। পাশাপাশি জুলাই সনদ নিয়ে প্রতারণা, এখতিয়ারবহির্ভূত গণভোট আয়োজন এবং সংসদে পাস না করেই সংবিধানের মৌলিক সংশোধনী প্রস্তাবের মাধ্যমে এমন কিছু অমীমাংসিত ইস্যু তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে আজ বিএনপি, এনসিপি এবং জামায়াত একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। সংসদীয় অনুমোদন ছাড়া সংবিধান পরিবর্তনের এই আইনি ভিত্তিহীন পদক্ষেপটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক ফাঁদ।

ড. ইউনূসের উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘকাল ক্ষমতায় টিকে থাকা, এমনকি তিনি নিজে ৫০ বছর ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু অপশাসন, সীমাহীন দুর্নীতি ও অযোগ্যতার কারণে তীব্র জনরোষ তৈরি হলে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন দিতে বাধ্য হন। তবে দেশে যেন স্থায়ী গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে না আসে, সেজন্য তিনি কিছু বিতর্কিত সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তাব রেখে যান। বর্তমানে বিরোধী দলগুলো সেই রাজনৈতিক কৌশলের গভীরতা না বুঝে আন্দোলনে নেমে পড়েছে, যার প্রত্যক্ষ সুবিধা নেবে ক্ষমতা লোভী সুশীল মহল। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বোঝা উচিত যে, মাত্র যাত্রা শুরু করা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, যারা আজ নতুন সরকারের সমালোচনায় মুখর, তারা প্রত্যেকেই বিগত ইউনূস সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন এবং দীর্ঘ দেড় বছর তারা নিশ্চুপ ছিলেন। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেবে দেখা প্রয়োজন, তারা কেন আবারও একটি অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় আনার চক্রান্তের হাতিয়ার হবে। একই সাথে বর্তমান নির্বাচিত সরকারকেও এ বিষয়ে চরম সতর্ক থাকতে হবে এবং জনগণকে সচেতন করতে হবে, কারণ যেকোনো অনির্বাচিত সরকারের চেয়ে একটি নির্বাচিত সরকার সর্বদা দেশের জন্য কল্যাণকর।

/আশিক


৯ তরুণকে জঙ্গি তকমা দিয়ে হত্যার অভিযোগ: মানবতাবিরোধী অপরাধের শুনানি আবার পেছাল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৮:৫২:৪৪
৯ তরুণকে জঙ্গি তকমা দিয়ে হত্যার অভিযোগ: মানবতাবিরোধী অপরাধের শুনানি আবার পেছাল
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর কল্যাণপুরের 'জাহাজবাড়ি' ভবনে কথিত জঙ্গি আস্তানা সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগ সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও স্থগিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শুনানির পরবর্তী তারিখ আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর (রোববার) নির্ধারণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। বিচারিক প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ ও জহিরুল আমিনসহ অন্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, মামলাটি পূর্বে ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারাধীন ছিল। গত ২১ আগস্ট ৮ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানায় প্রসিকিউশন। পরবর্তীতে আসামিপক্ষের অব্যাহতি (ডিসচার্জ) আবেদনের শুনানির প্রক্রিয়া চলাকালে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তরিত হয়। পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গঠন না থাকায় বৃহস্পতিবার আসামিপক্ষের শুনানির নির্ধারিত দিনটি পিছিয়ে দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণদের ধরে এনে জঙ্গি তকমা দিয়ে জাহাজবাড়িতে এনে হত্যা করা হতো বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জবানবন্দি দিয়েছে। ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে পুলিশ কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিচালিত ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামের অভিযানে ওই ৯ তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যা মূল তদন্তে পরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই মামলায় গ্রেপ্তার থাকা সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়াকে শুনানিকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় এবং তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে পলাতক আসামিদের জন্য স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

/আশিক


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইতিহাস গড়ে নতুন নেতৃত্বের আত্মপ্রকাশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৮:৪৭:৩২
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইতিহাস গড়ে নতুন নেতৃত্বের আত্মপ্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য রেখে নিজ পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ বিতর্কের এই বিশ্বমঞ্চে এটিই হতে যাচ্ছে তার জীবনের প্রথম ভাষণ।

নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ হলে এই ঐতিহাসিক বক্তব্য দেবেন তিনি। ওই বিকেলের অধিবেশনে নির্ধারিত ১৮ জন বিশ্বনেতার মধ্যে তারেক রহমান ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। বক্তব্য প্রদানের জন্য তার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ মিনিট।

রাষ্ট্রীয় প্রথা মেনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় তার মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের মূল দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হবে। তার ভাষণে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অর্থনৈতিক টেকসই অগ্রগতি, মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের মতো মৌলিক বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, ভাষণে বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও আমাদের সুস্পষ্ট দাবিগুলো স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির নিশ্চিত করেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের নতুন গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দরিদ্র বিমোচনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বিশ্বদরবারে পেশ করবেন।

জাতিসংঘের এই সফর তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গে বিশ্ব সংস্থার চার দশকের ধারাবাহিক সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম সদস্য হিসেবে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে ধনী ও দরিদ্র দেশের ব্যবধান কমানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার মা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মোট পাঁচবার ভাষণ দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। এর পাশাপাশি, সাধারণ পরিষদের বর্তমান ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় এই অধিবেশনটি দেশের জন্য বাড়তি ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করছে।

জাতিসংঘে মূল ভাষণের পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এ ছাড়া মা ও নবজাতকের মৃত্যু প্রতিরোধ বিষয়ক একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠান এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও তার পৃথক বৈঠকের সূচি রয়েছে। ভাষণ দান শেষে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সফরের অংশ হিসেবে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে তারেক রহমান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, বিশ্বব্যাংক সভাপতি অজয় বাঙ্গা, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনার ও অন্যান্য পরাশক্তি প্রতিনিধিদের সাথে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। সফর শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াল স্ট্রিট প্রতিনিধি ও কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠক করে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সূত্র: বাসস

পাঠকের মতামত: