ওজন কমাতে চিয়া বীজ: যেভাবে খেলে মিলবে সর্বোচ্চ ফল, কখন পান করবেন চিয়া ওয়াটার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ২৪ ১৪:৪৭:৪৩
ওজন কমাতে চিয়া বীজ: যেভাবে খেলে মিলবে সর্বোচ্চ ফল, কখন পান করবেন চিয়া ওয়াটার?
ছবিঃ সংগৃহীত

ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবে ওজন কমানোর হ্যাক খুঁজতে গিয়ে আপনি নিশ্চয়ই চিয়া বীজ দেখেছেন। এই ছোট কালো বীজগুলো এখন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে জনপ্রিয়। প্রশ্ন হলো, চিয়া বীজ কি সত্যিই ওজন কমাতে কার্যকর? ভালো খবর হলো, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে চিয়া বীজ সত্যিই কাজ করে। ভারত বা আমেরিকায়, এটি ওজন কমানোর একটি সহজ, স্বাস্থ্যকর এবং প্রাকৃতিক উপায়, যেখানে কোনো কঠোর ডায়েটের প্রয়োজন নেই।

চিয়া বীজ কেন ওজন কমাতে সাহায্য করে?

চিয়া বীজ ছোট হলেও অত্যন্ত শক্তিশালী। এগুলো ফাইবার, প্রোটিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটে সমৃদ্ধ, যা ক্ষুধা কমাতে এবং মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে।

১. পেট ভরা রাখা: ভেজালে চিয়া বীজ পানি শোষণ করে জেল-এর মতো ঘন হয়ে যায়, পেটে প্রসারিত হয় এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য ভরা থাকার অনুভূতি দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যালোরি গ্রহণ কমে যায়।

২. রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ: মাত্র দুই চামচ চিয়া বীজে প্রায় ১০ গ্রাম ফাইবার থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং অতিরিক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমায়।

৩. পুষ্টি: এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা হজমে সহায়ক এবং শক্তি বাড়ায়।

চিয়া বীজ খাওয়ার ৩টি কার্যকরী উপায়

১. চিয়া ওয়াটার (Chia Water): এটি চিয়া বীজের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং কার্যকরী ব্যবহার।

তৈরির নিয়ম:

১ চামচ চিয়া বীজ ২৫০–৩০০ মিলিলিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫–৩০ মিনিট রাখুন, যাতে জেল-এর মতো ঘন হয়ে যায়। স্বাদ বৃদ্ধির জন্য লেবুর রস বা কয়েকটি পুদিনা পাতা যোগ করতে পারেন।

সেরা সময়: খালি পেটে সকালে বা খাবারের ৩০ মিনিট আগে পান করুন।

২. চিয়া পুডিং: সকালের নাশতা বা হালকা ডেজার্ট হিসেবে চিয়া পুডিং খুবই স্বাস্থ্যকর।

তৈরির নিয়ম: ২ চামচ ভেজানো চিয়া বীজ ১ কাপ দুধ বা বাদামের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। দারুচিনি, মধু বা ভ্যানিলা এসেন্স যোগ করে ৪–৬ ঘণ্টা বা রাতে ফ্রিজে রাখুন।

৩. চিয়া স্মুদি ও দই বোল: সকালের স্মুদি বা দই-ওটস বোলের সাথে ১–২ চামচ চিয়া বীজ মিশিয়ে খেতে পারেন। সালাদ, সূপ বা স্মুদি বোলের উপরে চিয়া বীজ ছিটিয়ে দিলে ফাইবার এবং পুষ্টি বৃদ্ধি পায়।

সঠিক পরিমাণ ও সতর্কতা

আদর্শ পরিমাণ: দিনে ১–২ চামচ চিয়া বীজ যথেষ্ট।

নিরাপত্তা পরামর্শ: খাওয়ার আগে চিয়া বীজ অবশ্যই ভিজিয়ে নিন, যাতে গলার সমস্যার ঝুঁকি কমে। শুকনো চিয়া ব্যবহার করলে পর্যাপ্ত পানি পান করুন, কারণ ফাইবার কার্যকর হতে পানি প্রয়োজন।

মিথ ভাঙা: চিয়া বীজ একা রাতারাতি ওজন কমাবে না। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি এবং নিয়মিত ব্যায়ামের সঙ্গেই এটি কার্যকর।


পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও পুরুষ বন্ধ্যত্ব: গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১১:২৪:০৫
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও পুরুষ বন্ধ্যত্ব: গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

অফিসের কাজের চাপ, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের আসক্তি কিংবা দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে আধুনিক জীবনে মানুষের ঘুমের সময় আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে। অনেকেই নিয়মিত রাত জাগছেন এবং গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ঘুমের এই অভাব কেবল ক্লান্তি নয়, বরং পুরুষের প্রজনন ক্ষমতায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের শরীরের ভেতরে একটি নিজস্ব ‘জৈবিক ঘড়ি’ বা সার্কাডিয়ান রিদম থাকে। এই ছন্দ ঠিক থাকলেই শরীরের হরমোন ক্ষরণসহ যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা বলছে, মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে থাকা ‘সুপ্রাকিয়াসম্যাটিক নিউক্লিয়াস’ এই কেন্দ্রীয় ঘড়িটি নিয়ন্ত্রণ করে। যখনই ঘুমের এই চক্রটি বারবার বাধাগ্রস্ত হয়, তখনই শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে।

গবেষকেরা জানান, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুস্থ থাকার জন্য রাতে গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। কিন্তু কেউ যদি নিয়মিত মাত্র ৪ ঘণ্টা বা তার কম সময় ঘুমান, তবে তাঁর শরীরে পুরুষের প্রধান হরমোন ‘টেস্টোস্টেরন’-এর মাত্রা দ্রুত কমতে থাকে। এই হরমোনের ঘাটতি সরাসরি শুক্রাণু উৎপাদন ও এর গুণমান কমিয়ে দেয়, যা পরবর্তীকালে পুরুষের বন্ধ্যত্বের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ঘুমের অভাব কেবল হরমোন কমিয়েই ক্ষান্ত হয় না, এটি শরীরে ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত কর্টিসল টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণকে আরও বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’, ইনসোমনিয়া, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো জটিল সমস্যা তৈরির পথ প্রশস্ত হয়।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রজনন স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে রাতে টানা ঘুমের বিকল্প নেই। যাঁদের সহজে ঘুম আসতে চায় না, তাঁরা শোয়ার আগে স্ক্রিন টাইম বা মোবাইল ব্যবহার কমানো, নিয়মিত মেডিটেশন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। সুস্থ জীবনের জন্য জৈবিক ঘড়ির ছন্দে ঘুমানো এখন বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য প্রয়োজন।


যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন আপনার শরীরে কৃমি রয়েছে

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১১:৩৬:১১
যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন আপনার শরীরে কৃমি রয়েছে
ছবি : সংগৃহীত

প্রাপ্তবয়স্ক কিংবা শিশু—যে কেউই কৃমির সংক্রমণের শিকার হতে পারেন। আমাদের চারপাশে থ্রেডওয়ার্ম, রাউন্ডওয়ার্ম, হুইপওয়ার্ম ও টেপওয়ার্মের মতো বিভিন্ন ধরনের কৃমি রয়েছে, যা মানবদেহের পুষ্টি শোষণ করে শরীরকে রোগাটে ও দুর্বল করে দেয়। অনেক সময় কৃমির ডিম এতটাই সূক্ষ্ম হয় যে, তা বাতাসের মাধ্যমেও শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

স্বাস্থ্য সচেতনতায় আজ কৃমির সংক্রমণের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

যেভাবে শরীরে কৃমি প্রবেশ করে অপরিষ্কার হাত, দূষিত খাবার ও পানি কৃমি সংক্রমণের প্রধান মাধ্যম। এছাড়া সবজি ভালোভাবে না ধুয়ে রান্না করা, খালি পায়ে মাটিতে হাঁটা, অপরিচ্ছন্ন সুইমিং পুলে গোসল এবং পোষ্য প্রাণীর সংস্পর্শ থেকেও কৃমির লার্ভা ত্বকের মাধ্যমে শরীরে ঢুকতে পারে।

শরীরে কৃমির ক্ষতিকর প্রভাব কৃমি অন্ত্রে অবস্থান করে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান খেয়ে ফেলে। এর ফলে রক্তশূন্যতা, ওজন কমে যাওয়া, হজমে সমস্যা ও বমিভাব দেখা দেয়। জটিল পর্যায়ে কৃমি যকৃত বা ফুসফুসে পৌঁছে সিস্ট তৈরি করতে পারে এবং এমনকি মস্তিষ্কে পৌঁছে স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন আপনার শরীরে কৃমি আছে

১. কৃমি শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দেয়। ফলে হঠাৎ ক্ষুধা কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

২. কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকা এবং সবসময় শরীরে অবসাদ বা ক্লান্তি অনুভব করা কৃমি সংক্রমণের অন্যতম লক্ষণ।

৩. মলত্যাগের সময় ছোট সাদা কৃমি দেখা দিলে বুঝতে হবে অন্ত্রে কৃমির বিস্তার ঘটেছে। অনেক সময় এগুলো সূক্ষ্ম হওয়ায় চোখে না-ও পড়তে পারে।

৪. পেটে প্রায়ই মোচড় দেওয়া বা খিঁচুনির মতো ব্যথা হওয়া কৃমির সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে খাবার খাওয়ার পরপরই ব্যথা অনুভূত হলে সতর্ক হতে হবে।

৫. কৃমি থেকে নির্গত বিষাক্ত উপাদান রক্তে মিশে গেলে ত্বকে ফুসকুড়ি বা চুলকানি দেখা দেয়। বিশেষ করে রাতে পায়ুপথে চুলকানি হওয়া কৃমি সংক্রমণের একটি বড় লক্ষণ।

সুস্থ থাকতে নিয়মিত হাত ধোয়া, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করা জরুরি।


সুস্থ থাকতে প্রতিদিন কতবার প্রস্রাব স্বাভাবিক? জেনে নিন সঠিক তথ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৯ ১৯:২৬:২৯
সুস্থ থাকতে প্রতিদিন কতবার প্রস্রাব স্বাভাবিক? জেনে নিন সঠিক তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাবাহক হলো প্রস্রাব। কিডনির মাধ্যমে রক্ত ফিল্টার হয়ে ইউরিয়া, টক্সিন ও অতিরিক্ত লবণ প্রস্রাবের মাধ্যমেই শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। সাধারণত প্রস্রাবের গন্ধ হালকা হলেও হঠাৎ তীব্র বা অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ অনেক ক্ষেত্রে বড় কোনো শারীরিক সমস্যার সংকেত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবের গন্ধ পরিবর্তনের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো পানিশূন্যতা। শরীরে পানির অভাব হলে প্রস্রাব ঘনীভূত হয় এবং অ্যামোনিয়ার মতো তীব্র গন্ধ তৈরি করে।

খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের ধরনও প্রস্রাবের গন্ধে প্রভাব ফেলে। রসুন, পেঁয়াজ, অতিরিক্ত কফি বা অ্যালকোহল গ্রহণ করলে প্রস্রাবে সাময়িক দুর্গন্ধ হতে পারে। এছাড়া ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সাপ্লিমেন্ট বা নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে প্রস্রাবের রঙ উজ্জ্বল এবং গন্ধ তীব্র হতে পারে, যা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে দুর্গন্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাবের দুর্গন্ধের সঙ্গে যদি জ্বালাপোড়া, তলপেটে ব্যথা বা জ্বর থাকে, তবে তা ‘ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন’ (ইউটিআই) বা মূত্রনালির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে প্রস্রাবে গ্লুকোজ বা কিটোনের উপস্থিতির কারণে মিষ্টি বা অ্যাসিডিক গন্ধ হতে পারে। অনেক সময় প্রস্রাবের গন্ধ থেকেই রক্তে শর্করা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে। লিভারের সমস্যা বা গর্ভাবস্থাতেও এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দিনে ৪ থেকে ৮ বার প্রস্রাব করা স্বাভাবিক। এর চেয়ে কম বা বেশি হওয়া এবং সঙ্গে রঙ পরিবর্তন কিংবা কোমরের পাশে ব্যথা থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিডনির কার্যকারিতা বা ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা সাধারণত প্রস্রাব পরীক্ষা ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।


ব্যথানাশক ওষুধকে ‘না’ বলুন: প্রাকৃতিকভাবে পিরিয়ড পেইন ও মুড সুইং কমানোর উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ১১:৫৮:৩৬
ব্যথানাশক ওষুধকে ‘না’ বলুন: প্রাকৃতিকভাবে পিরিয়ড পেইন ও মুড সুইং কমানোর উপায়
ছবি : সংগৃহীত

পিরিয়ডের ব্যথা অনেকের জন্যই মাসের এক দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা। ক্র্যাম্প, পেট ফাঁপা এবং অস্বস্তির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এই সমস্যা সমাধানে সাধারণত আমরা ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর করি, তবে ঘরোয়া উপায়ে শরীরকে ভেতর থেকে প্রস্তুত করা গেলে এই যন্ত্রণা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। পুষ্টিবিদদের মতে, বার্লি ও আদার তৈরি একটি বিশেষ উষ্ণ পানীয় এক্ষেত্রে ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে। এটি কেবল হজমে সহায়তা করে না, বরং শরীরের প্রদাহ কমিয়ে পিরিয়ড পূর্ববর্তী অস্বস্তি মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।

কী কী লাগবে এই পানীয় তৈরিতে? এই জাদুকরী পানীয় তৈরি করতে আপনার হাতের কাছে মাত্র তিনটি উপকরণ থাকলেই চলবে

বার্লি: ১ টেবিল চামচ।

আদা: ১ ইঞ্চি পরিমাণ (কুচি করা)।

পানি: ২ কাপ।

এই পানীয়টি তৈরির ক্ষেত্রে একটি ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—তা হলো বার্লি ভিজিয়ে রাখা। বার্লি দানাগুলো অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা বা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর সকালে ভেজানো বার্লির সঙ্গে ১ ইঞ্চি আদা কুচি যোগ করে ২ কাপ পানিতে দিয়ে দিন। মিশ্রণটি মাঝারি আঁচে ১০ থেকে ১২ মিনিট ফুটিয়ে নিন যাতে আদা ও বার্লির গুণাগুণ পানিতে মিশে যায়। সবশেষে ছেঁকে নিয়ে হালকা উষ্ণ অবস্থায় পান করুন।

কখন এবং কেন এটি পান করবেন? ঋতুস্রাবের ব্যথার ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে পানীয়টি গ্রহণ করা জরুরি। এটি কোনো তাৎক্ষণিক ম্যাজিক নয় যে ব্যথা শুরু হলে সাথে সাথে কাজ করবে। এটি শরীরকে ভেতর থেকে প্রস্তুত করার একটি প্রক্রিয়া। আপনার মাসিক শুরু হওয়ার অন্তত ১০ থেকে ১৪ দিন আগে থেকে প্রতিদিন ১ কাপ করে এই পানীয় পান করা শুরু করুন। সকালে বা সন্ধ্যায় যেকোনো এক সময় এটি খাওয়া সবচেয়ে ভালো।

বার্লি মূলত অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং ইস্ট্রোজেন হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণ বা ডিটক্সে সহায়তা করে, যা হরমোনের ভারসাম্য রক্ষার জন্য খুবই জরুরি। অন্যদিকে, আদা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি হিসেবে কাজ করে যা পেট ফাঁপা, প্রদাহ এবং অলস অনুভূতি কমাতে দারুণ কার্যকর। একসঙ্গে এই দুই উপাদানের মিশ্রণ পিরিয়ডের আগের সেই অস্বস্তিকর সময়টিকে অনেক বেশি সহনীয় করে তোলে। এটি কোনো রাসায়নিক ছাড়াই শরীরকে দেয় ধারাবাহিক ও মৃদু সুরক্ষা।


নীরব ঘাতক ফুসফুস ক্যানসার: প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তের ৫টি উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৮:৪৩:০৮
নীরব ঘাতক ফুসফুস ক্যানসার: প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তের ৫টি উপায়
ছবি : সংগৃহীত

ফুসফুসের ক্যানসার আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে অন্যতম বড় এক চ্যালেঞ্জ, যার প্রধান কারণ হলো এর অত্যন্ত ধীর ও নিভৃত প্রকৃতি। শরীরের ভেতরে এই মরণব্যাধি যখন ডালপালা মেলতে শুরু করে, তখন প্রাথমিক পর্যায়ে এটি প্রায় কোনো জানানই দেয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীরা একে সাধারণ সর্দি-কাশি, সিজনাল অ্যালার্জি কিংবা স্রেফ বার্ধক্যের লক্ষণ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এই ‘সাধারণ’ আড়ালেই লুকিয়ে থাকে এক প্রাণঘাতী সত্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুসের ক্যানসার যখন ধরা পড়ে, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়, কারণ মানুষ এর সূক্ষ্ম সংকেতগুলো চিনতে ব্যর্থ হয়। তাই শরীরের ভেতরে চলমান কোনো পরিবর্তন যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তাকে অবহেলা করা মানেই হলো জীবনের বড় ঝুঁকি নেওয়া। সচেতনতাই হতে পারে এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে বাঁচার প্রথম এবং প্রধান প্রতিরক্ষা।

ফুসফুসের ক্যানসারের লক্ষণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকলে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা এবং সঠিক চিকিৎসা নেওয়া অনেক বেশি সহজ হয়। নিচে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দেওয়া হলো যা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত

সচরাচর সর্দি বা কাশির সমস্যা দুই সপ্তাহের মধ্যে সেরে যাওয়ার কথা। কিন্তু যদি কোনো কাশি টানা তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে এবং প্রচলিত ওষুধে উপশম না হয়, তবে সেটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ফুসফুসে ক্রমবর্ধমান টিউমার শ্বাসনালিতে অনবরত জ্বালা ও অস্বস্তি সৃষ্টি করে, যা শরীরকে অনবরত কাশির মাধ্যমে প্রতিক্রয়া দেখাতে বাধ্য করে। কাশির তীব্রতা যদি ক্রমশ বাড়তে থাকে কিংবা কাশির ধরণে কোনো পরিবর্তন আসে, তবে কোনোভাবেই বিলম্ব করা উচিত নয়।

কোনো ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই যদি হঠাৎ শরীর থেকে ওজন ঝরতে শুরু করে, তবে তা বিপদের সংকেত। যখন শরীরে ক্যানসার কোষ বৃদ্ধি পায়, তখন সেই কোষগুলো বিভাজিত হওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ শক্তি ব্যয় করে। এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি প্রচণ্ড ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত বোধ করেন। ক্যানসার কোষ শরীরের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভাণ্ডার নিঃশেষ করে দেয় বলে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি কাটে না।

অনেক সময় ঠান্ডা লাগলে গলা ভেঙে যাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই যদি দীর্ঘ সময় ধরে কণ্ঠস্বর কর্কশ বা মোটা হয়ে থাকে, তবে তা ফুসফুসের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। ফুসফুসের টিউমার যদি এমন কোনো স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে যা আমাদের ভোকাল কর্ড নিয়ন্ত্রণ করে, তবে কণ্ঠস্বরে স্থায়ী পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে গলার কর্কশতার সঙ্গে যদি নিয়মিত কাশি লেগে থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

সাধারণ কায়িক পরিশ্রম কিংবা অল্প হাঁটাচলার সময় যদি বুক ধড়ফড় করা বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার মতো অনুভূতি হয়, তবে তা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। টিউমার যখন শ্বাসনালিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কিংবা ফুসফুসের চারপাশে তরল জমতে শুরু করে, তখন বায়ু চলাচলের পথ সংকীর্ণ হয়ে আসে। একে স্থূলতা বা বয়সের দোষ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া অনেক সময় মারাত্মক ভুল বলে প্রমাণিত হতে পারে।

অনেক রোগীই বুক বা কাঁধের ব্যথাকে মাংসপেশির সাধারণ টান মনে করে ভুল করেন। কিন্তু ফুসফুসের টিউমার যদি পার্শ্ববর্তী স্নায়ু বা হাড়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে গভীর শ্বাস নেওয়ার সময় কিংবা হাসার সময় বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই ব্যথা কাঁধ বা পিঠের দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে যদি পূর্বোক্ত উপসর্গগুলোর কোনোটি লক্ষ্য করা যায়, তবে দেরি না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চিকিৎসকদের মতে, উপরের উপসর্গগুলো থাকা মানেই যে ক্যানসার হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। তবে এগুলো শরীরের অস্বাভাবিকতার লক্ষণ। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া


নীরবে রক্তপাত? পাইলসের  লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ জানুন

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১০:৫১:২১
নীরবে রক্তপাত? পাইলসের  লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ জানুন
ছবি: সংগৃহীত

সময়মতো রোগ শনাক্ত না হলে ছোট একটি উপসর্গও বড় জটিলতায় রূপ নিতে পারে। অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শরীর আগেভাগেই সতর্ক সংকেত দেয়। সমস্যাটি হলো, আমরা অনেক সময় সেই সংকেতকে গুরুত্ব দিই না বা লজ্জা, ভয় ও ভ্রান্ত ধারণার কারণে এড়িয়ে যাই। পাইলস বা হেমোরয়েড তেমনই একটি নীরব কিন্তু মারাত্মকভাবে অবহেলিত রোগ, যার প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে জটিল ও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠতে পারে।

পাইলস মূলত মলদ্বার বা নিুচের রেকটামের ভেতরে বা আশপাশে রক্তনালীর অস্বাভাবিক ফোলা অবস্থা। এটি দেখতে অনেকটা ভ্যারিকোজ ভেইনের মতো এবং চাপ পড়লে মলদ্বারের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের ঝুঁকি বাড়লেও বর্তমানে তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সীদের মধ্যেও পাইলসের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, স্থূলতা, কম আঁশযুক্ত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগ এবং ভারী ওজন তোলা এই রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

পাইলসের ধরন ও বৈশিষ্ট্য

পাইলস প্রধানত তিন ধরনের হয়ে থাকে ইন্টারনাল, এক্সটারনাল এবং থ্রম্বোজড পাইলস।ইন্টারনাল পাইলস মলদ্বারের ভেতরে অবস্থান করে এবং শুরুতে দেখা যায় না বা অনুভূত হয় না। রোগ বাড়লে এগুলো বাইরে বেরিয়ে আসে, যাকে প্রোল্যাপ্সড পাইলস বলা হয়। প্রোল্যাপ্সের মাত্রা অনুযায়ী ইন্টারনাল পাইলস চারটি গ্রেডে ভাগ করা হয়, যেখানে শেষ গ্রেডে এটি স্থায়ীভাবে বাইরে বেরিয়ে থাকে এবং তীব্র ব্যথার কারণ হয়।এক্সটারনাল পাইলস মলদ্বারের বাইরে দৃশ্যমান হয় এবং সাধারণত ছোট গাঁটের মতো অনুভূত হয়। এতে ব্যথা, জ্বালা ও অস্বস্তি বেশি হয়।থ্রম্বোজড পাইলসে রক্ত জমাট বাঁধে, যা নীলচে রঙের শক্ত গাঁট তৈরি করে এবং তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি করতে পারে।

লক্ষণ যা কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়

পাইলসের লক্ষণ ধরনভেদে ভিন্ন হতে পারে। ইন্টারনাল পাইলসের ক্ষেত্রে ব্যথাহীন উজ্জ্বল লাল রক্তপাত, মলত্যাগের পর জ্বালাপোড়া, মিউকাস নিঃসরণ ও চুলকানি দেখা যায়। এক্সটারনাল পাইলসে মলদ্বারের চারপাশে গাঁট, ব্যথা, অস্বস্তি ও রক্তপাত হয়। দীর্ঘদিন রক্তপাত চলতে থাকলে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রোল্যাপ্সড পাইলস রক্তসরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে ভয়াবহ ব্যথার সৃষ্টি করে।

প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা

পাইলস প্রতিরোধের মূল কৌশল হলো মল নরম রাখা এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ এড়ানো। এজন্য দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, দীর্ঘ সময় বসে না থাকা, নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা জরুরি। প্রয়োজনে ফাইবার সাপ্লিমেন্ট, সিটজ বাথ, টপিক্যাল ক্রিম ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

কখন চিকিৎসা প্রয়োজন হয়

ঘরোয়া পদ্ধতি ও ওষুধে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে না এলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অপরিহার্য। প্রাথমিক পর্যায়ে নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে। এর মধ্যে রাবার ব্যান্ড লিগেশন, স্ক্লেরোথেরাপি, ইনফ্রারেড কোয়াগুলেশন, লেজার থেরাপি ও ইলেকট্রোকোয়াগুলেশন উল্লেখযোগ্য। এগুলো তুলনামূলক কম ব্যথাযুক্ত এবং দ্রুত সুস্থতার সুযোগ দেয়।

অস্ত্রোপচার কখন প্রয়োজন

যেসব ক্ষেত্রে পাইলস অত্যন্ত জটিল বা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান থাকে, সেখানে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। হেমোরয়েডেক্টমিতে সম্পূর্ণ পাইলস অপসারণ করা হয়, আর স্ট্যাপলড হেমোরয়েডোপেক্সি পদ্ধতিতে প্রোল্যাপ্সড পাইলস ভেতরে তুলে রক্তসরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। উভয় ক্ষেত্রেই সঠিক চিকিৎসা ও পরবর্তী যত্ন সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বিকভাবে বলা যায়, পাইলস কোনো লজ্জার রোগ নয়, বরং অবহেলা করলে এটি জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শরীরের সংকেত বুঝে সময়মতো চিকিৎসা নিলেই এই সমস্যাকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সূত্র: Meril


নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ: জানুন ঝুঁকি ও সমাধান

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১১:৩৮:৪০
নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ: জানুন ঝুঁকি ও সমাধান
ছবি: সংগৃহীত

হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। উপসর্গহীন এই রোগ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকলসহ প্রাণঘাতী জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন কোনো না কোনো মাত্রার উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, যার একটি বড় অংশ এখনও শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে।

উচ্চ রক্তচাপ কী এবং কেন এটি বিপজ্জনক

রক্ত যখন ধমনীর ভেতর দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ নিয়ে প্রবাহিত হয় এবং সেই অবস্থা দীর্ঘ সময় স্থায়ী থাকে, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলা হয়। এতে হৃদপিণ্ডকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে সারা শরীরে রক্ত সরবরাহ করতে হয়, ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে।

রক্তচাপ সাধারণত দুটি মানে প্রকাশ করা হয়। একটি হলো সিস্টোলিক চাপ, যা হৃদপিণ্ড সংকুচিত হওয়ার সময় সৃষ্টি হয়, আর অন্যটি ডায়াস্টোলিক চাপ, যা হৃদপিণ্ড বিশ্রামে থাকাকালীন ধমনীর চাপ নির্দেশ করে। সাধারণভাবে ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদ চাপকে স্বাভাবিক ধরা হলেও, নিয়মিতভাবে ১৪০/৯০ বা তার বেশি হলে সেটিকে চিকিৎসাগতভাবে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ কেন বাড়ছে

বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ২০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৪০ থেকে ৬৫ শতাংশ প্রবীণ জনগোষ্ঠী উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো অধিকাংশ মানুষ উপসর্গ না থাকায় নিজেদের রোগী হিসেবে ভাবেন না। ফলে রোগ শনাক্ত হয় দেরিতে, যখন ইতোমধ্যে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

উচ্চ রক্তচাপের ধরন

চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চ রক্তচাপকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

প্রথমটি হলো প্রাইমারি বা এসেনশিয়াল হাইপারটেনশন, যা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এবং এর পেছনে একক কোনো কারণ থাকে না। বংশগত প্রবণতা, বয়স বৃদ্ধি, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, স্থূলতা, কম শারীরিক কর্মকাণ্ড ও দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস একসঙ্গে কাজ করে এই ধরনের উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয়টি হলো সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন, যা হঠাৎ শুরু হয় এবং সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট রোগের ফল। কিডনি সমস্যা, হরমোনজনিত জটিলতা, স্লিপ অ্যাপনিয়া, জন্মগত হৃদরোগ বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এই ধরনের রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

যদিও যেকোনো বয়সে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, তবে কিছু গোষ্ঠীর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। বয়স ৪০ পেরোলেই ধমনীর স্থিতিস্থাপকতা কমতে শুরু করে, যা রক্তচাপ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

যাদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস রয়েছে, ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগে ভুগছেন, ধূমপান করেন বা অতিরিক্ত ওজন বহন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকি বাড়ে, আর পুরুষদের মধ্যে তুলনামূলক কম বয়সেই উচ্চ রক্তচাপ দেখা যায়।

উপসর্গ না থাকাই সবচেয়ে বড় বিপদ

উচ্চ রক্তচাপকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি কোনো স্পষ্ট লক্ষণ সৃষ্টি করে না। তবে রক্তচাপ অত্যধিক বেড়ে গেলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বুকে চাপ, শ্বাসকষ্ট, দৃষ্টির সমস্যা বা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

হঠাৎ করে রক্তচাপ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছালে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মতো জরুরি পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে কী ক্ষতি হতে পারে

চিকিৎসাহীন উচ্চ রক্তচাপ ধীরে ধীরে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনি ও চোখের রক্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয় বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

কীভাবে উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়

উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয়ের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিয়মিত ব্লাড প্রেসার মাপা। একবার বেশি আসলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। সাধারণত কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিক রিডিং নেওয়া হয়।

প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, ইউরিন টেস্ট, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম কিংবা ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেটরি মনিটরিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রার পরিবর্তন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্য তালিকায় লবণ কমানো, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার এবং মানসিক চাপ কমানো রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়ুরেটিকস, এসিই ইনহিবিটর, বেটা ব্লকার বা ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়। তবে নিজে নিজে ওষুধ গ্রহণ বিপজ্জনক হতে পারে।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন

রক্তচাপ বারবার ১৪০/৯০ এর বেশি এলে, বুকে ব্যথা বা তীব্র মাথাব্যথা হলে, চোখে ঝাপসা দেখলে কিংবা আগে থেকেই ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে এই নীরব ঘাতককে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সূত্র: PRAAVA HEALTH


নীরব ঘাতক কোলেস্টেরল; শরীরে যে ৫টি সংকেত দেখলে দ্রুত সতর্ক হবেন

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ২০:৪৮:২২
নীরব ঘাতক কোলেস্টেরল; শরীরে যে ৫টি সংকেত দেখলে দ্রুত সতর্ক হবেন
ছবি : সংগৃহীত

মানুষের শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক কার্যক্রম সচল রাখতে কোলেস্টেরল একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান হলেও, এর মাত্রার সামান্যতম তারতম্য জীবনঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রক্তে যখন 'লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন' বা এলডিএল (LDL)—যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়—তার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়, তখন তা ধমনীতে ব্লকেজ তৈরির পাশাপাশি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, উচ্চ কোলেস্টেরল প্রায়ই কোনো প্রাথমিক উপসর্গ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে, যা একে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে। তবে শরীর কিছু সূক্ষ্ম সংকেতের মাধ্যমে এই বিপদের ইঙ্গিত দেয়, যা সঠিক সময়ে শনাক্ত করা গেলে বড় ধরণের স্বাস্থ্য বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।

উচ্চ কোলেস্টেরলের অন্যতম প্রধান শারীরিক লক্ষণ প্রকাশ পায় মানুষের পায়ের কার্যকলাপে। রক্তে চর্বির পরিমাণ বেড়ে গেলে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়, যার ফলে হাঁটার সময় বা এমনকি বিশ্রামের সময়ও পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা ও খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় পা ভারী হয়ে আসা বা হঠাৎ পেশিতে টান লাগার মতো সমস্যাগুলো রক্ত সঞ্চালন বিঘ্নিত হওয়ারই প্রমাণ দেয়। এছাড়াও হাত ও পা মাঝে মাঝে অসাড় হয়ে যাওয়া কিংবা ঝিনঝিন করার মতো অনুভূতিও উচ্চ কোলেস্টেরলের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে যদি কারও হাত-পা প্রায়ই ঠান্ডা হয়ে থাকে কিংবা ত্বকে নীলচে আভা দেখা যায়, তবে তা ধমনীতে প্রতিবন্ধকতার সংকেত হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।

শরীরের ঊর্ধ্বাংশের কিছু ব্যথাও কোলেস্টেরল বাড়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বুকের মধ্যে জ্বালাপোড়া, ভারী চাপ অনুভূত হওয়া কিংবা তীব্র টান ধরা মূলত হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে, যা সরাসরি কোলেস্টেরলজনিত ব্লকেজের সাথে যুক্ত। রক্ত সঞ্চালন সঠিকভাবে না হওয়ার কারণে এই ব্যথা কেবল বুকেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা অনেক সময় ঘাড়, চোয়াল এবং কাঁধেও ছড়িয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি শরীরের বাহ্যিক কিছু পরিবর্তনও এই রোগের জানান দেয়। চিকিৎসকদের মতে, চোখের পাতা বা এর চারপাশে হালকা হলুদ রঙের বলয় বা দাগ দেখা দেওয়া উচ্চ কোলেস্টেরলের একটি বিশেষ লক্ষণ, যা দেখলে দেরি না করে রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।

শারীরিক সামর্থ্যের দ্রুত অবনতিও উচ্চ কোলেস্টেরলের একটি অন্যতম উপসর্গ। সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠা, সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে শ্বাসকষ্ট হওয়া কিংবা সারাক্ষণ মাথা ভারী ও অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ করা এই রোগের সাধারণ চিত্র। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন যে, শরীরে এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তাকে সাধারণ ক্লান্তি বা সামান্য পেশিব্যথা বলে অবহেলা করা ঠিক নয়। সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ভারসাম্য বজায় রেখে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো গুরুতর জটিলতা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।


সুস্থ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে ৫টি মারাত্মক ভুল এড়িয়ে চলুন

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১১:১৩:০৩
সুস্থ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে ৫টি মারাত্মক ভুল এড়িয়ে চলুন
ছবি : সংগৃহীত

গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল একটি সময়। এই পর্যায়টি যেমন আনন্দ ও উত্তেজনার বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি মা ও শিশু উভয়ের সুস্বাস্থ্যের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়। অনেক নারী এই সময়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকার চেষ্টা করলেও প্রায়ই ভুল তথ্য, অহেতুক ভয় কিংবা সামাজিক চাপের কারণে কিছু সাধারণ কিন্তু মারাত্মক ভুল করে ফেলেন। এই ভুল সিদ্ধান্তগুলো অনেক সময় মা ও গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গর্ভাবস্থায় সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অধিকাংশ জটিলতা এড়িয়ে একটি সুস্থ ও নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা সম্ভব।

গর্ভাবস্থায় অন্যতম প্রধান ভুল হলো প্রসবপূর্ব চেকআপ বা নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা এড়িয়ে চলা কিংবা এতে বিলম্ব করা। নিয়মিত চেকআপ মিস করলে শিশুর সঠিক বৃদ্ধি যেমন পর্যবেক্ষণ করা যায় না, তেমনি মায়ের রক্তচাপের ওঠানামা কিংবা রক্তে শর্করার মাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে এই পরীক্ষাগুলো করালে গর্ভাবস্থাকালীন যেকোনো জটিলতা প্রাথমিক পর্যায়েই নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। পুষ্টির বিষয়েও অনেক সময় অজ্ঞতা বা ভুল খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতে দেখা যায়। প্রচলিত একটি ধারণা হলো ‘দুজনের জন্য খেতে হবে’, যা আসলে বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। গর্ভাবস্থায় খাবারের পরিমাণের চেয়ে খাবারের গুণগত মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া বেশি জরুরি। প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং বিশেষ করে ফলিক অ্যাসিডের মতো পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করা আবশ্যক। যেকোনো নতুন ডায়েট শুরুর আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া তাই অপরিহার্য।

আরেকটি আশঙ্কাজনক ভুল হলো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার করা। গর্ভাবস্থায় সাধারণ ব্যথানাশক বা ঠান্ডা লাগার ওষুধও ভ্রূণের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এমনকি অনেক ভেষজ উপাদানও গর্ভাবস্থায় হিতে বিপরীত ফল দিতে পারে। তাই কোনো ওষুধ গ্রহণের আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ছাড়পত্র নেওয়া উচিত। পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম একদম বন্ধ করে দেওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মাঝারি মাত্রার শারীরিক সক্রিয়তা, যেমন নিয়মিত হাঁটাচলা, প্রসবপূর্ব যোগব্যায়াম বা হালকা স্ট্রেচিং গর্ভকালীন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকা বরং রক্তচাপ বৃদ্ধি বা প্রসবকালীন জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

পরিশেষে, মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য এবং চাপের বিষয়টি অনেক সময় গুরুত্ব পায় না, যা একটি বড় ধরণের অবহেলা। গর্ভাবস্থায় মানসিক চাপ বা উদ্বেগ স্বাভাবিক মনে হলেও এটি সরাসরি মায়ের ঘুম ও হরমোনের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর প্রভাব পড়তে পারে শিশুর বিকাশের ওপরও। তাই শারীরিক অসুস্থতার মতোই মানসিক অবস্থার বিষয়েও চিকিৎসকের সাথে খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন। সঠিক পুষ্টি, নিয়মিত চিকিৎসা সেবা, পরিমিত ব্যায়াম এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপনই পারে একজন মা ও তাঁর অনাগত শিশুর জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।

পাঠকের মতামত: