সুস্থ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে ৫টি মারাত্মক ভুল এড়িয়ে চলুন

গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল একটি সময়। এই পর্যায়টি যেমন আনন্দ ও উত্তেজনার বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি মা ও শিশু উভয়ের সুস্বাস্থ্যের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়। অনেক নারী এই সময়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকার চেষ্টা করলেও প্রায়ই ভুল তথ্য, অহেতুক ভয় কিংবা সামাজিক চাপের কারণে কিছু সাধারণ কিন্তু মারাত্মক ভুল করে ফেলেন। এই ভুল সিদ্ধান্তগুলো অনেক সময় মা ও গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গর্ভাবস্থায় সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অধিকাংশ জটিলতা এড়িয়ে একটি সুস্থ ও নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা সম্ভব।
গর্ভাবস্থায় অন্যতম প্রধান ভুল হলো প্রসবপূর্ব চেকআপ বা নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা এড়িয়ে চলা কিংবা এতে বিলম্ব করা। নিয়মিত চেকআপ মিস করলে শিশুর সঠিক বৃদ্ধি যেমন পর্যবেক্ষণ করা যায় না, তেমনি মায়ের রক্তচাপের ওঠানামা কিংবা রক্তে শর্করার মাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে এই পরীক্ষাগুলো করালে গর্ভাবস্থাকালীন যেকোনো জটিলতা প্রাথমিক পর্যায়েই নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। পুষ্টির বিষয়েও অনেক সময় অজ্ঞতা বা ভুল খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতে দেখা যায়। প্রচলিত একটি ধারণা হলো ‘দুজনের জন্য খেতে হবে’, যা আসলে বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। গর্ভাবস্থায় খাবারের পরিমাণের চেয়ে খাবারের গুণগত মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া বেশি জরুরি। প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং বিশেষ করে ফলিক অ্যাসিডের মতো পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করা আবশ্যক। যেকোনো নতুন ডায়েট শুরুর আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া তাই অপরিহার্য।
আরেকটি আশঙ্কাজনক ভুল হলো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার করা। গর্ভাবস্থায় সাধারণ ব্যথানাশক বা ঠান্ডা লাগার ওষুধও ভ্রূণের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এমনকি অনেক ভেষজ উপাদানও গর্ভাবস্থায় হিতে বিপরীত ফল দিতে পারে। তাই কোনো ওষুধ গ্রহণের আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ছাড়পত্র নেওয়া উচিত। পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম একদম বন্ধ করে দেওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মাঝারি মাত্রার শারীরিক সক্রিয়তা, যেমন নিয়মিত হাঁটাচলা, প্রসবপূর্ব যোগব্যায়াম বা হালকা স্ট্রেচিং গর্ভকালীন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকা বরং রক্তচাপ বৃদ্ধি বা প্রসবকালীন জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
পরিশেষে, মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য এবং চাপের বিষয়টি অনেক সময় গুরুত্ব পায় না, যা একটি বড় ধরণের অবহেলা। গর্ভাবস্থায় মানসিক চাপ বা উদ্বেগ স্বাভাবিক মনে হলেও এটি সরাসরি মায়ের ঘুম ও হরমোনের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর প্রভাব পড়তে পারে শিশুর বিকাশের ওপরও। তাই শারীরিক অসুস্থতার মতোই মানসিক অবস্থার বিষয়েও চিকিৎসকের সাথে খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন। সঠিক পুষ্টি, নিয়মিত চিকিৎসা সেবা, পরিমিত ব্যায়াম এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপনই পারে একজন মা ও তাঁর অনাগত শিশুর জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।
পিঠের ব্যথা কি সাধারণ নাকি কিডনি স্টোনের সংকেত? চিনে নিন লক্ষণগুলো
বর্তমান সময়ে কিডনিতে পাথর বা কিডনি স্টোন একটি অত্যন্ত পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করার অভ্যাসের কারণে বিশ্বজুড়ে এই রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাথরের আকার ছোট থাকলে তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না, যা রোগীকে অনেকটা নিশ্চিন্ত রাখে। তবে সমস্যাটি জটিল আকার ধারণ করে যখন পাথরটি কিডনি থেকে সরে মূত্রনালিতে চলে আসে। এই অবস্থায় শরীরে অসহ্য ব্যথা ও নানা ধরণের শারীরিক জটিলতা তৈরি হয় যা দ্রুত চিকিৎসার দাবি রাখে। সাধারণত কিডনি স্টোনের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো পিঠের দু’পাশে, পাঁজরের নিচে বা তলপেটে হঠাৎ করে শুরু হওয়া তীব্র ব্যথা। অনেক সময় এই ব্যথার উৎস কোমর হলেও তা দ্রুত কুঁচকির দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যথার মাত্রা ক্রমাগত ওঠানামা করতে থাকে যা রোগীর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যথার পাশাপাশি প্রস্রাবের রঙ ও গন্ধে পরিবর্তন আসা কিডনি স্টোনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সংকেত। যদি প্রস্রাবের রঙ লালচে, বাদামি বা ঘোলাটে হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে পাথরের ঘর্ষণে মূত্রনালিতে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে রক্তপাত হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রস্রাবে তীব্র দুর্গন্ধ থাকাও একটি বিপদ সংকেত হিসেবে গণ্য করা হয়। পাথর যখন মূত্রনালির কাছাকাছি চলে আসে, তখন রোগীর মধ্যে বারবার প্রস্রাবের চাপ বা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। অনেক সময় প্রস্রাব করার সময় তীব্র জ্বালাপোড়া বা ব্যথার সৃষ্টি হয় যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডিসইউরিয়া বলা হয়ে থাকে। কিডনি ও পাকস্থলির স্নায়ুর মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক থাকায় কিডনিতে পাথরের চাপ সৃষ্টি হলে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব বা সরাসরি বমি হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এটি মূলত ব্যথার প্রতি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
যদি ব্যথার সঙ্গে রোগীর জ্বর আসে এবং শরীর কাঁপতে থাকে, তবে ধরে নিতে হবে যে কিডনিতে সংক্রমণ বা ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে। এটি একটি জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা এই রোগের সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক, কারণ এটি প্রস্রাব পরিষ্কার রাখে এবং খনিজ উপাদানগুলোকে পাথর হিসেবে জমতে বাধা দেয়। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ এবং অক্সালেটজাত খাবার যেমন পালং শাক, বিট ও চকোলেট অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা এড়িয়ে চলতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লেবুর রস অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত উপকারী হতে পারে, কারণ লেবুতে থাকা সাইট্রেট কিডনিতে পাথর জমতে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে।
চিকিৎসকদের মতে, যদি ব্যথার তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে সোজা হয়ে বসা সম্ভব হচ্ছে না, কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে স্পষ্ট রক্ত দেখা দেয় অথবা প্রস্রাব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে এক মুহূর্তও দেরি না করে ইউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে খুব সহজেই কিডনিতে পাথরের উপস্থিতি ও অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে কিডনি স্টোনের মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা ও এর পরবর্তী জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
ওজন হাতের মুঠোয় রাখতে চান? ডিনার শেষে পান করুন এই পানীয়
অনেকেরই অভ্যাস আছে রাত-দুপুরে হুটহাট খিদে পাওয়া এবং হাতের কাছে যা পান তাই খেয়ে ফেলা। এই অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস মূলত ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যার একটি কার্যকর ও প্রাকৃতিক সমাধানের কথা বলছেন—আর তা হলো ‘জোয়ানের পানি’। রাতের খাবারের পর এই পানীয় পানের অভ্যাস অহেতুক খিদে কমানোর পাশাপাশি শরীরের আরও অনেক উপকারে আসে।
জোয়ানের পানি আসলে কী?
জোয়ানের পানি একটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত ভেষজ পানীয়। এটি মূলত হজমশক্তি বৃদ্ধি, গ্যাস-অম্বল, পেটফাঁপা এবং বদহজম কমানোর মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। তবে শুধু পেটের সমস্যা নয়, এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, সর্দি-কাশি উপশম এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
খিদে নিয়ন্ত্রণ ও ওজন কমানোর কৌশল
রাতের খাবারের পর জোয়ানের পানি পান করলে তা অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। এর মূল কারণ হলো জোয়ানের মধ্যে থাকা ‘থাইমল’ নামক একটি বিশেষ যৌগ। এটি বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। জোয়ানের পানি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে (ডিটক্স), যা মেদ ঝরানোর প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। তাই আজকাল যারা আধুনিক 'ডিটক্স ওয়াটার' পান করেন, তাদের কাছে প্রাচীন এই ঘরোয়া টোটকাটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার সেরা হাতিয়ার হতে পারে।
জোয়ানের পানি দুইভাবে তৈরি করা যায়
১. সকাল বেলার জন্য: এক চামচ জোয়ান সারারাত এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে পানিটি ছেঁকে পান করুন।
২. রাতের খাবারের পর: এক গ্লাস পানিতে এক চামচ জোয়ান দিয়ে ৫-৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। পানিটি কিছুটা ঠান্ডা হলে ডিনার শেষে পান করুন।
মনে রাখা জরুরি যে, জোয়ানের পানি কোনো ম্যাজিক নয় যা রাতারাতি ওজন কমিয়ে দেবে। এটি ওজন কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে ঠিকই, তবে এর পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বা হেলদি লাইফস্টাইল মেনে চলা আবশ্যক।
শরীরে ভিটামিন ডি কমে যাওয়ার লক্ষণ, বাড়াবেন যেভাবে
শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বসা থেকে উঠে দাঁড়ালে পেশিতে টান পড়া, কোমর বা হাঁটুতে অকারণে ব্যথা—এ ধরনের সমস্যাকে অনেকেই বয়স বা শীতকালজনিত বলে ধরে নেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপসর্গের পেছনে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির বড় ভূমিকা রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন ডি শরীরের হাড়, পেশি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন এই ভিটামিনের অভাব থাকলে শরীরে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে এবং হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়। হাড়ের সুস্থতার জন্য আমাদের শরীর যে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করে, সেটি হাড় পর্যন্ত পৌঁছাতে বা শরীরকে তা শোষণে সাহায্য করতে ভিটামিন ডি অপরিহার্য। এর অভাব হলে হাড় নরম হয়ে যায় এবং অস্টিওপরোসিসের মতো বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।
ভিটামিন ডি ঘাটতির অন্যতম লক্ষণ হলো অল্প কাজেই পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়া এবং পেশিতে টান ধরা। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সারাদিন শরীরে ঝিমুনি ও ক্লান্তি অনুভব করাও এই ঘাটতির সাধারণ লক্ষণ। এছাড়া ঘন ঘন সর্দি-কাশি, জ্বর বা সংক্রমণ হলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। অস্বাভাবিকভাবে চুল পড়া বেড়ে যাওয়া, ক্ষত সারতে দেরি হওয়া এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যাও এই ভিটামিনের অভাবের কারণে হতে পারে। এমনকি মানসিক দিক থেকেও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি প্রভাব ফেলে—মন খারাপ থাকা, হতাশা বা কাজে আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা এর সাথে সরাসরি যুক্ত।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোলেস্টেরলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে সূর্যের আলো সবচেয়ে কার্যকর। সপ্তাহে কয়েক দিন অন্তত ১০ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকলেই চাহিদা পূরণ হতে পারে। তবে যাদের গায়ের রঙ একটু চাপা, তাদের ভিটামিন ডি তৈরি হতে ফর্সা মানুষের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।
ভিটামিন ডি বাড়াতে তৈলাক্ত মাছ যেমন স্যামন, টুনা, সার্ডিন, ডিমের কুসুম, মাশরুম এবং গরুর কলিজা ভালো উৎস। পাশাপাশি কড লিভার অয়েলও এই ঘাটতি পূরণে জাদুর মতো কাজ করে। চিকিৎসকরা জানান, নিজে নিজে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা জেনে সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা জরুরি। ২০২৬ সালের এই ব্যস্ত সময়ে সুস্থ থাকতে সূর্যের সাথে বন্ধুত্ব করা এখন অনিবার্য।
স্তন ক্যানসার রুখতে আজই বদলে ফেলুন আপনার ৫টি ভুল অভ্যাস
স্তন ক্যানসার বর্তমানে নারীদের জন্য এক বিশাল স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। আধুনিক জীবনযাত্রার ধরন যেমন অনিয়মিত ঘুম এবং মানসিক চাপ এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন যে ঘুমের সময় শরীরে মেলাটোনিন নামক একটি বিশেষ হরমোন নিঃসৃত হয় যা ক্যানসার প্রতিরোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত ঘুমের অভাব হলে এই হরমোনের মাত্রা কমে যায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরে এস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় যা সরাসরি স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রাত জাগার অভ্যাস কেবল হরমোনের ক্ষতিই করে না বরং এটি শরীরের ডিএনএ মেরামতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করে।
শরীরের সামগ্রিক ওজনের চেয়েও পেটের চারপাশে জমে থাকা মেদ বা ভিসেরাল ফ্যাট স্তন ক্যানসারের জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক। এই বাড়তি মেদ থেকে এক ধরণের প্রদাহজনক রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয় যা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে। এছাড়া পেটের মেদ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণ হয়ে দাঁড়ায় যা হরমোনের ভারসাম্যকে আরও জটিল করে তোলে। বিশেষ করে মেনোপজ বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পর নারীদের শরীরে এই মেদ অতিরিক্ত এস্ট্রোজেন তৈরি করে যা ক্যানসার কোষ সৃষ্টির সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। তাই স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পেটের মেদ কমানোর ওপর বিশেষজ্ঞরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সুস্থ থাকতে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকরা নিয়মিত জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ও শান্তিপূর্ণ ঘুম নিশ্চিত করা শরীরের জন্য সবথেকে জরুরি। এছাড়া খাদ্যাভ্যাস থেকে অতিরিক্ত চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বিশেষ করে দ্রুত হাঁটা এবং পেটের মেদ কমানোর ব্যায়াম স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে জাদুর মতো কাজ করে। মানসিক চাপ কমাতে প্রতিদিন নিয়ম করে ধ্যান বা ইয়োগা করা যেতে পারে। এই সহজ অভ্যাসগুলো গড়ে তোলার মাধ্যমে নারীরা ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের ঝুঁকি থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।
স্বাস্থ্যকর মনে হলেও লিভার ধ্বংস করছে এই ৩টি খাবার
লিভারের সবথেকে বড় শত্রু হিসেবে বর্তমানে চিহ্নিত হয়েছে ফ্রুক্টোজ সমৃদ্ধ খাবার। ফ্রুক্টোজ হলো এক ধরণের চিনি যা সাধারণত ফল বা মধুতে থাকে। তবে সমস্যা তৈরি হয় যখন আমরা প্রক্রিয়াজাত খাবার বা মিষ্টি পানীয়র মাধ্যমে অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ গ্রহণ করি। আমাদের শরীরের গ্লুকোজ বিপাক প্রক্রিয়া ভিন্ন হলেও ফ্রুক্টোজ সরাসরি লিভারে গিয়ে জমা হয়। লিভার যখন এই বিশাল পরিমাণ চিনি ভাঙার চেষ্টা করে তখন সেটি দ্রুত চর্বিতে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে লিভারের কোষে চর্বি জমে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ তৈরি হয় যা দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সোডা ক্যান্ডি বা বাজারে পাওয়া বেকড পণ্যগুলো লিভারের এই স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
এরপরের বিপজ্জনক খাদ্য উপাদানটি হলো শিল্পজাত বীজ তেল। সূর্যমুখী সয়াবিন তুলা বীজ বা ভুট্টার মতো দানা থেকে যে তেল নিষ্কাশন করা হয় তাতে ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ থাকে অনেক বেশি। যদিও ওমেগা ৬ শরীরের জন্য সামান্য প্রয়োজন কিন্তু অতিরিক্ত গ্রহণে তা লিভারে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই তেলগুলো রান্নার সময় উত্তাপের সংস্পর্শে এলে দ্রুত জারিত হয়ে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে। ট্রান্স ফ্যাট বা লিপিড পারক্সাইড সরাসরি আমাদের ডিএনএ এবং প্রোটিনের ক্ষতি করে লিভার কোষকে অকেজো করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা রান্নার জন্য এই তেলের পরিবর্তে জলপাই তেল নারকেল তেল বা খাঁটি ঘি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন যা অনেক বেশি নিরাপদ ও স্থিতিশীল।
অনেকেই অবাক হতে পারেন যে ফলের রসও লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে তৈরি ফলের রসে প্রাকৃতিক ফাইবার বা আঁশ থাকে না বললেই চলে। ফাইবার ছাড়া এই রস সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং লিভারকে অতিরিক্ত চাপে ফেলে দেয়। পুরো আস্ত ফল খেলে তার ভেতরের ফাইবার চিনির শোষণকে ধীর করে দেয় কিন্তু জুস বা রস সেই সুযোগ দেয় না। ফলে লিভার দ্রুত সেই ফ্রুক্টোজকে চর্বিতে পরিণত করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে। লিভার সুস্থ রাখতে তাই ফলের রসের চেয়ে সরাসরি আস্ত ফল খাওয়ার অভ্যাস করা সবথেকে কার্যকর উপায়। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুস বা সোডা লিভারের প্রদাহ বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
নাসাল স্প্রে কি নাকের বারোটা বাজাচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের বড় সতর্কতা
শীতের এই সময়ে সর্দি বা নাক বন্ধ হওয়া এক সাধারণ সমস্যা। এই অস্বস্তি থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে আমরা অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নাসাল স্প্রে ব্যবহার করি। তবে ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এক চরম সতর্কতা জারি করেছেন। তাঁদের মতে, ডিকনজেস্ট্যান্ট নাসাল স্প্রেগুলো যদি ভুলভাবে বা একটানা অনেক দিন ব্যবহার করা হয়, তবে নাকের ভেতরের অংশে স্থায়ী এবং অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। দেখা গেছে যে, প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহারকারী এই স্প্রে ব্যবহারের সঠিক নিয়ম বা এর দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এই অজ্ঞতার কারণে অজান্তেই বহু মানুষ বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
চিকিৎসকদের মতে, এসব স্প্রেতে থাকা রাসায়নিক উপাদান নাকের ভেতরের সংবেদনশীল রক্তনালিগুলোতে তীব্র প্রভাব ফেলে। নিয়মবহির্ভূত ব্যবহারের ফলে ‘রিবাউন্ড কনজেশন’ নামের একটি জটিল সমস্যা দেখা দেয়। এতে স্প্রের প্রভাব শেষ হওয়ার সাথে সাথেই নাক বন্ধের সমস্যা আগের চেয়েও আরও ভয়াবহ আকারে ফিরে আসে। তখন রোগী বাধ্য হয়ে বার বার স্প্রে ব্যবহার করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে স্প্রের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ‘রাইনাইটিস মেডিকামেন্টোসা’। দীর্ঘদিন এমনটা চলতে থাকলে নাকের রক্তনালিগুলো ফুলে যায় এবং স্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তী সময়ে সাধারণ কোনো ওষুধে আর ভালো হয় না।
সবথেকে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই ধরণের সমস্যায় ভোগা অনেক রোগীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচারই একমাত্র সমাধান হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ ওষুধ হিসেবে পরিচিত এই স্প্রেগুলো ভুলভাবে ব্যবহার করলে নাকের ঘ্রাণশক্তি নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে শ্বাসনালির দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, যেকোনো নাসাল স্প্রে ব্যবহারের আগে তার নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়া এবং টানা তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি ব্যবহার না করা। নাক বন্ধের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে নিজে নিজে স্প্রে না কিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি যাতে কোনো বড় ধরণের বিপদ এড়ানো যায়।
ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস: মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশে পৌঁছানোয় রেড অ্যালার্ট
দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং এর বিস্তার ও সংক্রমণের ধরনে উদ্বেগজনক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) আয়োজিত এক সভায় জানিয়েছে, গত বছর (২০২৫) শনাক্ত হওয়া চারজন নিপাহ রোগীর প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। অর্থাৎ দেশে এখন এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড় মৃত্যুর হারের (৭২%) চেয়েও অনেক বেশি। বিশেষ করে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী জেলায় নিপাহর এই মরণকামড় লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবথেকে বড় উদ্বেগের কারণ হলো দেশে প্রথমবারের মতো ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’ শনাক্ত হওয়া। গত আগস্ট মাসে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশু নিপাহ আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, যা প্রচলিত শীতকালীন সংক্রমণের ধারণাকে বদলে দিয়েছে। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম ও আম), যা প্রমাণ করে যে নিপাহ ছড়ানোর জন্য শুধু খেজুরের রস দায়ী নয় বরং সারা বছরই যেকোনো দূষিত ফল থেকে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন এই পরিস্থিতিকে একটি বড় ‘ওয়ার্নিং সিগন্যাল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বর্তমানে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে নিপাহর প্রকোপ সবথেকে বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি তাঁর পরিবার বা স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। নিপাহর কোনো সুনির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। আইইডিসিআর-এর নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে কাঁচা খেজুরের রস ও পাখির আধা-খাওয়া ফল খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রস্রাবের রং কি বদলে যাচ্ছে? কিডনি বিকল হওয়ার আগাম লক্ষণ জানুন
প্রস্রাবকে অনেকেই কেবল বর্জ্য মনে করলেও চিকিৎসকদের মতে এটি কিডনি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। সুস্থ কিডনি রক্ত ছেঁকে যে প্রস্রাব তৈরি করে তার স্বাভাবিক রং হালকা হলুদ থেকে অ্যাম্বার বর্ণের হয়ে থাকে। এই রঙে কোনো দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে তা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ বা শরীরের অভ্যন্তরীণ গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রস্রাবের রঙের সাথে কিডনির সুস্থতার নিবিড় সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান যে ইউরোক্রোম নামের এক ধরণের রঞ্জক পদার্থ প্রস্রাবকে হলুদ রং দেয়। তবে প্রস্রাব যদি চা বা গাঢ় বাদামি রঙের হয়, তবে বুঝতে হবে কিডনি ঠিকমতো বর্জ্য ছেঁকে বের করতে পারছে না। পর্যাপ্ত পানি পান করার পরেও যদি এই রং না বদলায় এবং সাথে ক্লান্তি বা শরীর ফোলার মতো উপসর্গ থাকে, তবে এটি কিডনি বিকলের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। আবার লাল বা গোলাপি রঙের প্রস্রাব, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'হেমাটুরিয়া' বলা হয়, তা কিডনির ফিল্টার নষ্ট হওয়া, পাথর বা সংক্রমণের সংকেত দেয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখা দিলে তা 'প্রোটিনুরিয়া' বা প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন লিক হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের একটি প্রধান সংকেত হিসেবে ধরা হয়। অন্যদিকে গাঢ় হলুদ প্রস্রাব সাধারণত তীব্র পানিশূন্যতার ফল, যা দীর্ঘদিন বজায় থাকলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রঙ পরিবর্তনের সাথে সাথে যদি জ্বর, পিঠে ব্যথা বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।
সূত্র- টাইমস অব ইন্ডিয়া
শীতের সাধারণ সর্দি-কাশি কি বড় বিপদের সংকেত? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ একে ঋতু পরিবর্তনের সাধারণ সমস্যা ভেবে গুরুত্ব না দিলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে দেখছেন গভীর উদ্বেগের চোখে। চিকিৎসকদের মতে, শীতকালীন এই সংক্রমণগুলো সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে তা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে স্থায়ী ও গুরুতর ক্ষতি সাধন করতে পারে। বিশেষ করে সর্দি থেকে শুরু হওয়া সমস্যা কানের সংক্রমণ কিংবা হাঁপানির তীব্র আক্রমণে রূপ নিতে পারে।
গলা ব্যথার মতো সমস্যাকেও অনেকে ঠান্ডা বাতাসের ফল হিসেবে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এটি স্ট্রেপ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। যদি এর সঠিক চিকিৎসা না হয়, তবে উচ্চমাত্রার জ্বর ও জয়েন্টে ব্যথার পাশাপাশি বিরল ক্ষেত্রে বাতজ্বরের মতো জটিল হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কাশিকে অবহেলা করলে তা ব্রঙ্কাইটিস বা সরাসরি ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা পরবর্তীতে নিরাময় করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
শীতকালে আরেকটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হলো মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউটিআই (UTI)। ঠান্ডা আবহাওয়ায় তৃষ্ণা কম পাওয়ায় মানুষ পানি পান কমিয়ে দেয়, যার ফলে প্রস্রাবের সংক্রমণ দ্রুত কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এর পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক ফেটে গিয়ে সেখান দিয়ে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সামান্য ত্বকের সংক্রমণও শীতে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু সম্পর্কে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, শরীর ব্যথা ও ক্লান্তিকে কেবল সাধারণ জ্বর ভেবে বসে থাকা ঠিক হবে না। ফ্লু থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া ও পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেশি। তাই শীতকালীন যেকোনো অসুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা লক্ষণ বাড়তে থাকলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
পাঠকের মতামত:
- সুস্থ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে ৫টি মারাত্মক ভুল এড়িয়ে চলুন
- ইসবগুল না কি চিয়া সিড? ফাইবারের ঘাটতি মেটাতে কোনটি বেশি কার্যকর?
- উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন; পুড়ে ছাই তিন শতাধিক ঘর
- লিটন না কি ওকস? এলিমিনেটরের মহাযুদ্ধে শেষ হাসি হাসবে কে?
- কুচক্রী মহল থেকে সাবধান: ফেসবুক পোস্টে জরুরি বার্তা দিলেন আজহারি
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- নামাজের সময়সূচি: ২০ জানুয়ারি ২০২৬
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- চাকুরিজীবীদের জন্য সুখবর: বৈশাখী ভাতায় বড় চমক দিচ্ছে পে কমিশন
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে স্বর্ণের দাম: মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- নিরপেক্ষ সরকার কি ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে পারে? গণভোট ঘিরে আইনি জটিলতা
- পাহাড় খেকোদের প্রতিরোধে প্রাণ দিলেন র্যাব কর্মকর্তা
- ভোটে বাধা দিলে আপনি শেখ হাসিনা হয়ে যাবেন: আসিফ নজরুল
- এই প্রথম! উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া চর্মচক্ষে দেখল মানুষ
- এলপিজি সংকটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ; রান্নায় গ্যাস বাঁচানোর উপায়
- গুড়ে মিশছে চিনি ও ক্ষতিকর রং; ভেজাল এড়িয়ে চলবেন যেভাবে
- নদী ভাঙন ও মানুষের দুর্ভোগ; তিস্তা প্রকল্পে নতুন আশার আলো দেখছে চীন
- পে স্কেল নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা
- নতুন বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
- ড. ইউনূসের সঙ্গে নাহিদ-আসিফের সাক্ষাৎ; নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা
- নানিয়ারচরের শীতার্তদের পাশে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
- নলতায় পীরে কামেল আহ্ছানউল্লা (র.)- এর ৬২তম ওরছ শরীফ ২৬–২৮ মার্চ
- আগামীর রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণে: তারেক রহমান
- আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়, ওটা ছিল প্রতিবাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি: রুমিন ফারহানা
- এক ব্যক্তির শাসন রুখতে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন আলী রীয়াজ
- অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পথ বন্ধ; চালু হচ্ছে ই-টিকিট
- সেনাবাহিনী থেকে কোস্ট গার্ড: শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কড়া বার্তা
- প্রধান বোর্ডে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা, লেনদেনে নতুন গতি
- ১৯ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১৯ জানুয়ারি বাজারে দরপতনের ১০ শেয়ার
- শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব: শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- আমিরাতের আকাশে শাবান মাসের চাঁদ, রমজান শুরু হতে আর কত দিন
- বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে চাপ বাড়ছে আইসিসির ওপর
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা চলমান, তিন লক্ষ্য একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
- শহীদ জিয়ার ৯০তম জন্মদিনে সমাধিতে বিএনপির শ্রদ্ধা
- ২০২৬ হজে হজযাত্রী সেবায় নতুন নির্দেশনা
- নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতায় আস্থা রাখছে বিএনপি: ফখরুল
- মব সৃষ্টি ও ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি: রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
- রাজনৈতিক ডামাডোল ও অর্থনৈতিক ভীতি: বিশ্ববাজারে রেকর্ড গড়ল সোনা ও রুপা
- সাভার পাচ্ছে সিটি করপোরেশন, কেরানীগঞ্জ হচ্ছে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা
- সাভারে একের পর এক লাশ, সিরিয়াল কিলারের দাবি পুলিশের
- ১৯ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- ডেইলি এনএভিতে ধরা পড়ল মিউচুয়াল ফান্ড সংকেত
- খাঁটি না কি বিষ? সরিষার তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ৫টি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
- শীতের দুপুরে খাবারের স্বাদ বাড়াতে ‘আচারি ফুলকপি’; জেনে নিন বিশেষ রেসিপি
- বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- অবহেলিত মুলার আকাশচুম্বী গুণ: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় কেন এটি অপরিহার্য?
- শেখ হাসিনাসহ ১১ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু: ট্রাইব্যুনালে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- ওষুধের বাজারে উত্তাপ: কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণনে লাগাম টানছে সরকার
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আইবিপির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
- তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহী দমনে বড় জয়
- জেফার বললেন ‘জানি না’, অথচ আমিনবাজারে চলছে বিয়ের রাজকীয় প্রস্তুতি!








