মার্কিন গর্বের পতন: মধ্যপ্রাচ্যে ৭টি যুদ্ধঘাঁটি এখন ইরানি গোলার কবলে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ২১:৫০:২১
মার্কিন গর্বের পতন: মধ্যপ্রাচ্যে ৭টি যুদ্ধঘাঁটি এখন ইরানি গোলার কবলে
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন থেকে উড্ডয়ন করে ইএ-১৮জি গ্রাউলার যুদ্ধবিমান। গত সোমবার। ছবি: এএফপি

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরুর মাত্র চার দিনেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড কার্যত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এই স্বল্প সময়ে তেহরানের বিধ্বংসী পাল্টাহামলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার সমমূল্যের অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির এই বিশাল অংকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে, যেখানে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘এএন/এফপিএস-১৩২’ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার ব্যবস্থাটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে। কাতার সরকার ইতোমধ্যেই এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞের খবর নিশ্চিত করেছে।

আনাদোলু এজেন্সির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কুয়েতের আকাশসীমাতেও মার্কিন বাহিনী চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত রবিবার নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মারাত্মক ভুলে তিনটি ‘এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। যদিও ছয়জন ক্রু প্রাণে বেঁচে গেছেন, তবে এই তিনটি বিমান প্রতিস্থাপনেই পেন্টাগনকে গুনতে হবে প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে শনিবারের প্রথম দফার হামলায় দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভবন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার।

ইরান দাবি করেছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস শিল্পনগরে মোতায়েন করা মার্কিন ‘থাড’ (THAAD) অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থার অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এএন/টিপিওয়াই-২’ রাডারটি ধ্বংস করেছে। উন্মুক্ত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ছবিতেও সেখানে বিধ্বংসী আঘাতের প্রমাণ মিলেছে। উল্লেখ্য, এই একটি রাডার ব্যবস্থা তৈরি করতেই খরচ হয় প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সম্পদের ১ দশমিক ৯০২ বিলিয়ন ডলারের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করেছে তেহরান।

শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ইরান সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনের নৌ সদরদপ্তর, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, ইরাকের এরবিল ঘাঁটি এবং দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর অন্যতম। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে ইরানি হামলায় ছয় মার্কিন সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে, ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় সোমবার ভোর পর্যন্ত ভয়াবহ আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, সেখানে অন্তত চারটি বড় স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সৌদি আরব, কুয়েত ও আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোও আগুনের লেলিহান শিখা থেকে রেহাই পায়নি। রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হানার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়; ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি অনুযায়ী, কমপাউন্ডের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে নৃশংস ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সেটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুবাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের দপ্তরেও ড্রোন আঘাত হেনেছে। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন দাপটের এমন শোচনীয় পতন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

/আশিক


ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোখার সাধ্য শত্রুর নেই: স্পিকার গালিবাফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ২১:৪৩:৪৮
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোখার সাধ্য শত্রুর নেই: স্পিকার গালিবাফ
ছবি : সংগৃহীত

ইরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক দ্রুত গতিতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। শত্রুপক্ষের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার সামর্থ্য এখন আর কোনো প্রতিপক্ষের নেই।

ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স-কে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতে প্রতিটি যুদ্ধ ও সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আরও নতুন শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠেছে এবং প্রতিবারই আগের চেয়ে উন্নত পারদর্শিতা দেখিয়েছে।

ভবিষ্যৎ সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে গালিবাফ আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তী যেকোনো লড়াইয়ে অস্ত্রের গুণগত মান এবং পরিমাণ—উভয় দিক থেকেই ইরান শত্রুপক্ষের চেয়ে বহুলাংশে এগিয়ে থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রকৃত সামরিক শক্তি উপলব্ধি করতে পেরে শত্রুরাও এখন এটি স্বীকার করে নিতে বাধ্য হচ্ছে যে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ ঠেকানোর সক্ষমতা তাদের নেই।

সূত্র: আল-জাজিরা।


বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ২১:১১:৫৯
বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় প্রতিরক্ষা আইনে যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী সংশোধন এনেছে চীন। সংশোধিত এই আইনের ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি বা জাতীয় জরুরি সংকটে বেইজিং প্রশাসনকে আর কেবল নিয়মিত সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হবে না। নতুন বিধিমালার আওতায় রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সাধারণ নাগরিক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য জাতীয় সম্পদ ব্যবহারের পূর্ণ কর্তৃত্ব পেল দেশটির সরকার। গত ২৮ আগস্ট চীনের সংসদ এই আইনি সংশোধনী অনুমোদন করে এবং ১ অক্টোবর থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন আইনি কাঠামো অনুযায়ী, সংকটকালে সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ ব্যবহার করার পাশাপাশি প্রয়োজনে তা সরাসরি বাজেয়াপ্তও করতে পারবে। সরকারের এই পদক্ষেপে কেউ যদি কোনো ধরনের বাধা তৈরি করে বা কার্যক্রমে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব ঘটায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। ২০১০ সালের পর চীনের প্রতিরক্ষা নীতিতে এটিই সবচেয়ে বড় কাঠামোগত পরিবর্তন, যেখানে ১৪টি অধ্যায় ও ৮২টি স্বতন্ত্র ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

আইনটির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বেইজিং উল্লেখ করেছে, যেকোনো বহিরাগত বা অভ্যন্তরীণ হুমকি দেখা দিলে যেন অত্যন্ত দ্রুত দেশকে যুদ্ধাবস্থায় রূপান্তর করা যায়। এর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে সরাসরি জাতীয় প্রতিরক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সুরক্ষার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, ঐক্য ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখার বিষয়টিকেও এই আইনে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

সংকটকালীন সময়ে বেসামরিক খাতের ওপর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে নতুন এই আইনে। পরিবহন ব্যবস্থা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, সাইবার নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা, ওষুধ এবং খাদ্যশস্য সরবরাহ থেকে শুরু করে প্রকৌশল খাতকে যেকোনো মুহূর্তে প্রতিরক্ষা দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট খাত ও আঞ্চলিক ইউনিটগুলোকে বিশেষ দল গঠন করে জরুরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাইবার সক্ষমতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে চীন সরকার।

এমনকি চীনের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে বসবাসরত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এই প্রতিরক্ষা আইনের নির্দিষ্ট কিছু ধারা কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে। এর ফলে বিদেশে অবস্থানকালীন গৃহীত পদক্ষেপও চীনা আইনের আওতাভুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেইজিংয়ের এই নতুন আইনকে তাদের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রাসেলস-ভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর রাশিয়া ইউরোপ এশিয়া স্টাডিজ’-এর পরিচালক থেরেসা ফ্যালন এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের শঙ্কা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এমন সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।

/আশিক


থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা: যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া সতর্কতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ২১:৩৮:৪৬
থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা: যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

টানা দুই শতাধিক দিন সমুদ্রে দায়িত্ব পালন শেষে মার্কিন নৌবাহিনীর পারমাণবিক শক্তিচালিত বিশাল যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ প্রায় পাঁচ হাজার সেনাসদস্য নিয়ে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন শহর পাতায়ায় নোঙর করতে আসছে। দীর্ঘ সময় পর নাবিক ও সেনাদের অবকাশ ও মানসিক ক্লান্তি দূর করতেই পাতায়ার উপকূলে এই যাত্রাবিরতি দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক মন্দার কারণে স্থানীয় পর্যটন ও বাণিজ্যিক খাতে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, মার্কিন সেনাদের আগমনে তাতে সাময়িক চাঙ্গাভাব আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পাতায়ার মেয়রের হিসাব অনুযায়ী, সফরে আসা প্রতিটি মার্কিন সেনা প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৯১ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে পারেন, যা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তবে বিপুলসংখ্যক সেনার একসঙ্গে শহরে প্রবেশের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও সামাজিক শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যৌন নিপীড়ন, বিশৃঙ্খলা ও রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। থাইল্যান্ডের আইনে পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও পাতায়ায় এর প্রভাব থাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সৈকত ও নাইটলাইফ এলাকাগুলোতে পুলিশি নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এমনকি সেনাদের নামার আগেই পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করা এই বিমানবাহী রণতরীটিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ সময় সাগরে যুদ্ধপ্রস্তুতিতে অবস্থান করতে হয়েছিল। ফলে একটানা দায়িত্ব পালনের মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে সেনাদের জন্য পাতায়ার এই যাত্রাবিরতি বেশ স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

/আশিক


ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ২০:১২:৩৭
ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ‘আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যর্থ’ ও একটি ‘মৃত রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে বিক্ষোভ দমনে গণহত্যার অভিযোগ এনে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব কড়া মন্তব্য করেন।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ১ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প লেখেন, নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতার দায়ে ইরানের নেতৃত্বকে মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি করা উচিত।

ইরানকে একটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটির শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছে এবং তারা আন্তর্জাতিকভাবে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করার সমস্ত বৈধতা ও সক্ষমতা হারিয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের কাছে বর্তমানে কার্যকর কোনো নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী নেই এবং দেশটির নিজস্ব মুদ্রা সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। এমনকি দেশটির সেনা ও পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পর্যন্ত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানে মূল্যস্ফীতি বর্তমানে প্রায় ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে সার্বিক পতনের মুখে ইরানের নেতৃত্বের কাছে এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো এবং নিজ দেশের নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

সূত্র : আল জাজিরা


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৯:৪০:৪৪
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান
ছবি : সংগৃহীত

ঐতিহাসিক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বা ত্রিপক্ষীয় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে আরও অন্তত ছয় থেকে সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। বর্তমানে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দেশ তিনটির শীর্ষ কূটনীতিকদের বৈঠকের প্রাক্কালে এ তথ্য জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যে দেওয়া এক বক্তব্যে ইসহাক দার উল্লেখ করেন, নতুন আগ্রহী দেশগুলোর অন্তর্ভুক্তি সহজ ও নিয়মতান্ত্রিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে একটি খসড়া চুক্তি কাঠামো (অ্যাগ্রিমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক) তৈরির কাজ করছেন; যদিও তিনি এখনই সম্ভাব্য দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মূল ধারা অনুযায়ী—জোটভুক্ত তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর কোনো সশস্ত্র বা সামরিক আক্রমণ চালানো হলে তা বাকি দুই দেশের ওপরও আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং যৌথভাবে তা প্রতিহত করা হবে। এই কৌশলগত চুক্তিতে যোগদানে আগ্রহ দেখানো সর্বশেষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশ। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও জানিয়েছিলেন, মিসরসহ আঞ্চলিক অন্যান্য দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে এই পারস্পরিক সামরিক ও প্রতিরক্ষা জোট আরও সম্প্রসারিত করা হতে পারে।

ব্লুমবার্গ আরও জানায়, মক্কা চুক্তির আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে যোগ দিতে বর্তমানে ইস্তাম্বুলে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানেরা এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যৌথ সামরিক মহড়া ও বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে; পাশাপাশি নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী সচিবালয়ের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে মুসলিম দেশগুলোর আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বহুমুখী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত প্রশমনে পাকিস্তান সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

/আশিক


আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ড্রোন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৯:১১:৪৯
আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ড্রোন হামলা
ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে একযোগে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোররাতে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ।

ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি কৌশলগত লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসনে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্যসহ সাধারণ ইরানি নাগরিকদের প্রাণহানির প্রতিশোধ হিসেবেই এই সমন্বিত ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিটি এই অঞ্চলে বিদেশি বাহিনীর অন্যতম প্রধান লজিস্টিক ও বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও অবস্থানগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যেই সুনির্দিষ্টভাবে এই ড্রোনগুলো দিয়ে আঘাত হানা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয়, অঞ্চলের সামগ্রিক সামরিক হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া এবং ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান তাদের সামরিক অবস্থান থেকে পিছু হটবে না। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর চাপিয়ে দেওয়া যেকোনো আগ্রাসনের বিপরীতে প্রতিটি নিহতের রক্তের বদলা নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরানি সেনাবাহিনী।

সূত্র: মেহের নিউজ


মোদির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান: যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী একটি পক্ষ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৯:০৪:১৫
মোদির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান: যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী একটি পক্ষ
ছবি : সংগৃহীত

সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট পক্ষ অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাত জিইয়ে রাখতে গভীরভাবে আগ্রহী। সোমবার (৩১ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈঠকে মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কখনোই যুদ্ধ চায়নি এবং কোনো ধরনের যুদ্ধ বা সংঘাতকে স্বাগতও জানায় না। তবে ওয়াশিংটন তাদের পূর্বের প্রতিশ্রুতি ও বিভিন্ন চুক্তি বাস্তবায়নে চরমভাবে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে সামগ্রিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উভয় নেতার এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক রুটে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত রাখা এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইরানে অবস্থিত চাবাহার বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সার্বিক অগ্রগতির বিষয়গুলো আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ চাবাহার বন্দরের একটি বিশেষ টার্মিনালে ভারতের প্রায় ১২ কোটি মার্কিন ডলারের বৃহৎ বিনিয়োগ রয়েছে। তবে প্রকল্পটিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ওপর থাকা বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ গত রোববারই শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে বিষয়টি বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।


ভূগর্ভস্থ টানেলে আটকা শত শত প্রাণ, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৮:০২:৫৩
ভূগর্ভস্থ টানেলে আটকা শত শত প্রাণ, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান
ছবি : সংগৃহীত

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে প্রলয়ংকরী আকস্মিক বন্যার পর হিমালয়ের ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ টানেল ও স্থাপনায় ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন বলে গভীর আশঙ্কা করা হচ্ছে। টানেলের মুখ থেকে ভারী কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। সোমবার (৩১ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকেই ৯৩৩ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। গত বুধবার হিমালয় থেকে নেমে আসা কাদা, বরফ ও ধ্বংসাবশেষের তীব্র স্রোতে নেপালজুড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সীমান্তের তিব্বত অংশে আরও ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নেপালে বর্তমানে ৫৯২ জন বিদেশি পর্যটকসহ মোট ৪ হাজার ২৪৭ জন এবং তিব্বত অংশে আরও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেত জানিয়েছেন, টানেলের মুখে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। উদ্ধারকারী দলের সদস্য আশিস গুরুং জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়ার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের অভ্যন্তরে বুকসমান কাদা জমে রয়েছে। কাঠ ও দড়ির অস্থায়ী কাঠামো বানিয়ে প্রায় ১৩০ মিটার পর্যন্ত ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়েছে। তবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী ভূগর্ভস্থ কিছু নিরাপদ কক্ষ বা জোনে আটকা পড়া মানুষদের কেউ কেউ এখনও জীবিত বেঁচে থাকতে পারেন বলে জোরালো আশা করা হচ্ছে।

খারাপ আবহাওয়া ও বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট অস্থায়ী হ্রদ উপচে পড়ার ঝুঁকির কারণে মাঝে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হলেও সোমবার থেকে তা পুনরায় পূর্ণ গতি পেয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই বন্যাকে নজিরবিহীন বিপর্যয় আখ্যা দিয়ে জানান, ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মীর পাশাপাশি ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে টানেলে আটকে পড়াদের উদ্ধারে যৌথভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে চীন সরকার দুর্গত অঞ্চলে ২ হাজার ১০০ উদ্ধারকর্মী, বিশেষ লাইফ ডিটেক্টর সরঞ্জাম এবং ২২ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করেছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এই আকস্মিক দুর্যোগে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তিব্বত মালভূমির হিমবাহের অস্বাভাবিক গলনকে এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখা হলেও, দুর্যোগ সংক্রান্ত যৌথ তথ্য ভাগাভাগিতে ঘাটতি নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান


নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি পরিসংখ্যানে ভিন্নতা, নিখোঁজ বাড়ছে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ২১:৪৫:২১
নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি পরিসংখ্যানে ভিন্নতা, নিখোঁজ বাড়ছে
ছবি : সংগৃহীত

নেপালে পাহাড়ি ঢল ও প্রলয়ংকরী আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া উদ্ধার তৎপরতায় এ পর্যন্ত ৭৯৪টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া দুর্গত অঞ্চলগুলোতে এখনো আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মোট ৭৯৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) দেওয়া পৃথক পরিসংখ্যান অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৭৮১ জন এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২ হাজার ৫০২ জন। গত কয়েক দিন ধরে নেপালের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার দেওয়া তথ্যের মধ্যে কিছুটা গরমিল থাকায় হতাহতের মোট সংখ্যা নিয়ে পরিসংখ্যানে কিছুটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

হিমালয়কন্যা খ্যাত নেপালে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী ভ্রমণ করতে যান। ফলে পাহাড়ি নদীগুলোর অববাহিকা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকও নিখোঁজের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ভারতীয় নাগরিক, যার সংখ্যা অন্তত ৩২০ জন। এছাড়া চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় ১০০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৯০ জন নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে।

নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, বন্যার পর থেকে ৬২ জন ইউক্রেনীয় নাগরিকের কোনো সন্ধান মেলেনি। একটি স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ভ্রমণে যাওয়া ৫১ জন মালয়েশীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার সহকারী অভিবাসনমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী দেশটির ৪১ জন এবং নেপাল পুলিশের হিসাবে ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন; পাশাপাশি চীনের সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী তিব্বত সীমান্তে আরও ১৫ জন ব্রিটিশ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কানাডার ৩০ জন নাগরিকসহ দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের বেশ কয়েকজন পর্যটকও এই দুর্যোগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালের সড়ক, সেতু ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে বহু এলাকা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে উদ্ধারকারী দলগুলোর তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার গভীর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি

পাঠকের মতামত: