স্বাস্থ্য সেবায় বিপ্লব আনতে ই-হেলথ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১৬:৩২:৫৫
স্বাস্থ্য সেবায় বিপ্লব আনতে ই-হেলথ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (সংগৃহীত ছবি)

সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও আধুনিক করতে সারা দেশে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে স্বাস্থ্য খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকের বিষয়ে জানান, ই-হেলথ কার্ড চালুর কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করতে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এই লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আগের চেয়ে আরও বেশি গতিশীল ও সক্রিয় হওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি উদ্ভাবনী প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অধীনে থাকা পরিত্যক্ত ভবনগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হাতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, এই ভবনগুলোকে সংস্কার করে দ্রুত সেগুলোতে ক্লিনিক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। উদাহরণ হিসেবে জানানো হয়, শুধুমাত্র এলজিইডি-র অধীনেই ১৭০টি এমন পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। এসব ভবনকে জনকল্যাণে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিও এবারের সভায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশে প্রায় ৩৪ লাখ নবজাতকের জন্ম হয়, যাকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই বিশাল জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকরী ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়ে ৮০ শতাংশ নারী ও ২০ শতাংশ পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান শূন্য পদগুলোতে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছে। একই সাথে দুর্গম ও প্রান্তিক অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কঠোর তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ দপ্তরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

/আশিক


৮ প্রতিমন্ত্রীর দফতর পুনরবণ্টন: প্রশাসনে বড় রদবদল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১৬:১৫:২৯
৮ প্রতিমন্ত্রীর দফতর পুনরবণ্টন: প্রশাসনে বড় রদবদল
ছবি : সংগৃহীত

প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনতে এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধি সুনির্দিষ্ট করতে বর্তমান সরকারের ৮ জন প্রতিমন্ত্রীর দফতর পুনরবণ্টন করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিমন্ত্রীদের একাধিক মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে নির্দিষ্ট একটি বা দুটি বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. শরীফুল আলম, যিনি ইতিপূর্বে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাকে এখন থেকে শুধুমাত্র বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে শুধুমাত্র মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রশিদকে এখন থেকে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মো. রাজিব আহসান, যিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, তাকে এখন থেকে শুধুমাত্র নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সেতু বিভাগ, অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে শুধুমাত্র পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ফারজানা শারমীনকে এখন থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকারী মো. নুরুল হককে এখন থেকে শুধুমাত্র প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ববি হাজ্জাজকে এখন থেকে শুধুমাত্র প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, মন্ত্রণালয়ের কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতেই এই রদবদল করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন বণ্টন আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে যা বললেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১২:২৮:২০
অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে যা বললেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

সদ্য গঠিত সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বুধবার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন, যারা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন যে, বিএনপি সরকার গঠনের পর গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তিনি একনেকের (ECNEC) বিকল্প সভাপতি হিসেবেও কাজ শুরু করেছেন। নিজের ওপর আস্থা রাখার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। গত কয়েকদিন রাষ্ট্রীয় কাজের ব্যস্ততা এবং নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁও সফরের কারণে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় দিতে পারেননি বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি তার নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা, দেশের সাধারণ ছাত্র-জনতা এবং দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। যারা অনলাইন ও অফলাইনে নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে দল ও দেশের জন্য অবদান রেখেছেন, তাদের সবার প্রতি তিনি শ্রদ্ধা ব্যক্ত করেন। এছাড়া একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং নতুন সরকার গঠনে সহযোগিতার জন্য নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।

বিশেষভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, তারা নিজ নীতিতে অটল থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর নিশ্চিত করেছেন। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের পেশাদারিত্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের ভূমিকা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের বিশৃঙ্খল শাসনের পর রাতারাতি সবকিছু বদলে ফেলা সম্ভব নয়। বর্তমান বৈশ্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। আল্লাহর রহমত ও জনগণের সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

/আশিক


ঢাকায় মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১০:১০:০৫
ঢাকায় মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-ওয়াশিংটন কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। আজ বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৯টায় তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে বসেন। গত অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এটিই বাংলাদেশে পল কাপুরের প্রথম সফর। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষ করে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

মার্কিন এই শীর্ষ কর্মকর্তার আজকের দিনটি বেশ ব্যস্ততায় কাটবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচনা শেষ করে পল কাপুর সচিবালয়ে যাবেন। সেখানে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হবেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে এই বৈঠকগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। সফর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যায় তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন।

পল কাপুরের এই সফরকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ নৈশভোজেও অংশ নেবেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই তাঁর এই সফর নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার এই সময়ে মার্কিন প্রতিনিধি দলের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক


গোপনে নিজেকে ভিভিআইপি ঘোষণা করে বিশেষ সুবিধা নিলেন ড. ইউনূস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১৬:১৭:৫৪
গোপনে নিজেকে ভিভিআইপি ঘোষণা করে বিশেষ সুবিধা নিলেন ড. ইউনূস
ড. মুহাম্মদ ইউনূস।/ছবি : সংগৃহীত

বিদায়ি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তার দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে দায়িত্ব ছাড়ার পরও তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকবেন। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা একটি প্রজ্ঞাপন গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হলেও বিষয়টি সম্প্রতি জনসমক্ষে আসে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে ড. ইউনূসকে এক বছরের জন্য এই বিশেষ মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপটি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা।

অভিযোগ উঠেছে যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রজ্ঞাপনটি জারির ক্ষেত্রে এক ধরণের গোপনীয়তা ও বিশেষ কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবরের একটি পুরোনো আদেশ (এসআরও নং ২৮৫) সংশোধন করে এই নতুন নিয়ম করা হয়েছে। আগের আইনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাদের পদত্যাগের পর সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করার বিধান ছিল। কিন্তু ড. ইউনূস সংশোধিত আদেশের মাধ্যমে শুধুমাত্র নিজের জন্য এই সময়সীমা তিন মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করেছেন। অথচ আইনের সুবিধাভোগী অন্যান্য পদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বাড়ানো হয়নি, যা নিয়ে আইনি মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে সংবিধানের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির স্বার্থে আইন পরিবর্তন বা বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করা নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। সমালোচকরা বলছেন, ড. ইউনূস যদি বিদায়ি রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর জন্যও এই সময়সীমা বাড়াতেন, তবে এর একটি যৌক্তিকতা থাকত; কিন্তু শুধু নিজের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা তার ব্যক্তিস্বার্থের বহিঃপ্রকাশ।

এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে নিজের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার, নিজের প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফ এবং নিজের নামে বিশ্ববিদ্যালয় ও রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে। বিদায়ের প্রাক্কালে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের এই প্রবণতা ড. ইউনূসের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

/আশিক


৫ বছরের জন্য এসে ৩ মাসেই বিদায়: দুদক কমিশনের নাটকীয় পদত্যাগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১৬:১০:৩৮
৫ বছরের জন্য এসে ৩ মাসেই বিদায়: দুদক কমিশনের নাটকীয় পদত্যাগ
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠছেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং অন্য দুই কমিশনার মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এদিন দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে তারা সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক নম্বর ভবনে প্রবেশ করেন এবং মাত্র ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে আসেন।

চেয়ারম্যানের সঙ্গে পদত্যাগকারী অন্য দুই কমিশনার হলেন মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহ্‌সান ফরিদ। হুট করে এই পদত্যাগের কারণ নিয়ে গুঞ্জন উঠলেও কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কোনো বিশেষ চাপের কারণে নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে পাঁচ বছরের জন্য দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নিয়োগের আগে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

একই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং হাফিজ আহসান ফরিদ। এর মধ্যে আলী আকবার আজিজী ১১ ডিসেম্বর এবং হাফিজ আহসান ফরিদ ১৫ ডিসেম্বর নিজ নিজ পদে যোগদান করেছিলেন। মাত্র তিন মাসের মাথায় এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দেশের দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমের প্রধান সংস্থায় এক ধরণের শূন্যতা তৈরি করল।

সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময় পরিবেশ ছিল বেশ থমথমে। দুদকের মতো একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের একসঙ্গে পদত্যাগ করার ঘটনা বেশ বিরল। এখন পরবর্তী চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের আগ পর্যন্ত দুদকের প্রশাসনিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আলোচনা চলছে।

ড. মোমেনের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদের শুরুতেই তাদের এই প্রস্থান জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


বিলবোর্ডে নিজের ছবি সরাতে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১৪:১২:০১
বিলবোর্ডে নিজের ছবি সরাতে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অভিনন্দন বার্তা সংবলিত বিলবোর্ড ও ব্যানারে নিজের ছবি ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এমন বিজ্ঞাপন দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে গুলশানের বাসা থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় হাতিরঝিল এলাকায় পুলিশ প্লাজার সামনে একটি ব্যানারে নিজের ছবি দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি লক্ষ্য করেই তিনি গাড়ি থামিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের ব্যানারটি অপসারণের নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পরপরই সেটি সরিয়ে ফেলা হয়।

আতিকুর রহমান রুমন আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন বিলবোর্ড ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনমাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে অভিনন্দন বার্তা প্রচার করছে। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন এ ধরনের সব বিজ্ঞাপন দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা বা অনুমোদনবিহীন ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি রাখার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে বিজয় সরণী এলাকায় একটি এলইডি স্ক্রিনে নিজের ছবি সম্বলিত অভিনন্দন বার্তা দেখতে পেয়ে সেখানেও তা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে পৌঁছে দিনের সরকারি কার্যক্রম শুরু করেন।

-রফিক


চাঁদ হবে লালচে তামাটে: বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১২:৪২:১২
চাঁদ হবে লালচে তামাটে: বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে প্রস্তুত বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

আজ আকাশে দেখা যাবে এক বিরল ও বিষ্ময়কর মহাজাগতিক দৃশ্য—২০২৬ সালের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। এই বিশেষ গ্রহণের সময় চাঁদ এক মায়াবী লালচে আভা ধারণ করবে, যা মহাকাশ বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত। এমন দৃশ্য দেখার সুযোগ সহজে আসে না; আজকের পর আবার পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখতে বিশ্ববাসীকে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে উপচ্ছায়ায় প্রবেশের মাধ্যমে এই গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড থেকে শুরু হবে মূল পূর্ণগ্রাস গ্রহণ এবং ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে এটি কেন্দ্রীয় অবস্থানে পৌঁছাবে।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ কেন লাল দেখায়, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহলের শেষ নেই। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এর পেছনে রয়েছে একটি চমৎকার বৈজ্ঞানিক কারণ। গ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে পারে না। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পড়ে। বায়ুমণ্ডলে থাকা ধূলিকণা ও গ্যাসের কারণে নীল আলোর মতো ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যগুলো বিচ্ছুরিত হয়ে যায় এবং লাল আলোর দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যগুলো চাঁদের দিকে পৌঁছে যায়। ঠিক যে কারণে সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ লাল দেখায়, একই কারণে গ্রহণের সময় চাঁদও তামাটে বা লালচে আভা ধারণ করে।

এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের কেন্দ্রীয় গতিপথ উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে থাকবে। এছাড়া কিংম্যান রিফ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মাইক্রোনেশিয়া এবং হাওল্যান্ড দ্বীপ এলাকা থেকে এটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।

বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের পর থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত গ্রহণের শেষ অংশ দেখা যাবে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরগুলোতে চন্দ্রগ্রহণ দেখার সময় কিছুটা ভিন্ন হবে;

যেমন ঢাকায় সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডে, চট্টগ্রামে বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে এবং সিলেটে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে গ্রহণ শুরু হবে। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুরেও সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে এই দৃশ্য দৃশ্যমান হবে।

রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে উপচ্ছায়া থেকে চাঁদের নির্গমনের মাধ্যমে গ্রহণটি পুরোপুরি শেষ হবে।

/আশিক


জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল জারি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১২:০৭:১৬
জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল জারি
হাইকোর্ট। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা পৃথক দুটি রিটের ওপর শুনানি সম্পন্ন হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি এবং অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম এই রিট আবেদনগুলো দায়ের করেছিলেন, যেখানে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাতিলসহ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথকে অবৈধ ঘোষণার নির্দেশনা চেয়েছেন।

অন্যদিকে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ বাতিল এবং এটিকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে আরও একটি রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে এই সনদের সামঞ্জস্যতা নিয়ে আইনি বিতর্ক এখন উচ্চ আদালত পর্যন্ত পৌঁছাল।

আদালতের এই রুল জারির ফলে জুলাই সনদ ও গণভোট সংক্রান্ত সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। রিটকারী আইনজীবীদের দাবি, এই সনদ ও অধ্যাদেশগুলো বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের এই আদেশের পর এখন বিবাদী পক্ষগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দিতে হবে। জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে গঠিত বিভিন্ন কমিশন ও পরিষদের বৈধতা নিয়ে চলমান এই আইনি বিতর্ক রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

/আশিক


১২ মার্চ কি নতুন ইতিহাস? প্রথম অভিশংসনের মুখে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১০:২৪:৩২
১২ মার্চ কি নতুন ইতিহাস? প্রথম অভিশংসনের মুখে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ ও অভিশংসন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই এই দাবি উচ্চারিত হলেও বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের মিত্র ১১ দলীয় জোট এই ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে একটি দৈনিক পত্রিকায় দেওয়া রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারকে 'শপথ ভঙ্গ' হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট আগামী ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের এই রাষ্ট্রপতিকে আর পদে রাখা নিরাপদ নয় এবং গণহত্যার সময় নীরব ভূমিকার কারণে তাকে অভিশংসন করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। সংবিধানের ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের সুযোগ থাকলেও, এই প্রক্রিয়া সফল করতে সরকারি দল বিএনপির সমর্থন অপরিহার্য। যদিও বিএনপি জনগণের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে বলে জোট নেতারা আশা করছেন, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন যে সংবিধান অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিই ভাষণ দেবেন।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন যে রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না এবং দলীয় ফোরামে আলোচনার মাধ্যমেই দেশের কল্যাণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সংসদকে 'ফ্যাসিবাদ মুক্ত' রাখতে প্রথম অধিবেশনেই অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর একটি চিঠি দিয়েছেন, যেখানে জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় রাষ্ট্রপতিকে সংসদে ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করার নজির নেই; এর আগে ২০০২ সালে বি. চৌধুরী অভিশংসন প্রক্রিয়ার মুখেই পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে ত্রয়োদশ সংসদের এই প্রথম অধিবেশনটি কেবল নতুন স্পিকার নির্বাচন নয়, বরং রাষ্ট্রপতির ভাগ্য নির্ধারণের প্রশ্নেও একটি ঐতিহাসিক ও নাটকীয় মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: